
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ‘সুপার এইটে’ যাওয়া নিশ্চিতই ছিল ভারতের। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতার। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজেই জিতল ভারত।
আহমেদাবাদে নরেদ্রো মোদি স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আজ ১৭ রানে জিতেছে ভারত। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান করে ভারত। জবাবে সব ওভার খেলে ৭ উইকেটে ১৭৬ রানে থামে ডাচরা। ম্যাচসেরা হন ৪ চার ও ৬টি ছক্কায় ৩১ বলে ৬৬ করা শিবাম দুবে।
গ্রুপ ‘এ’ থেকে চার ম্যাচের চারটিতেই জেতা ভারতের সুপার এইটে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোববার গ্রুপ ‘ওয়ান’-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচে সূর্যকুমার যাদবের দল মুখোমুখি হবে প্রোটিয়াদের।
রান তাড়ায় নেদারল্যান্ডসের টপ অর্ডারের ব্যাটাররা থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। দুই ওপেনার মাইকেল লেভিট ও ম্যাক্স ও’দৌদ করেন যথাক্রমে ২৪ ও ২০ রান। এরপর তৃতীয় উইকেট কলিন আকারম্যান ও আরিয়ান দত্তের ব্যাটে সাবলীল গতিতেই এগোচ্ছিল ডাচরা। তবে তাদের ৪৩ রানের জুটি শেষ হতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে নেদারল্যান্ডস।
১৩তম ওভারে বরুণ চক্রবর্তী টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন। আকারম্যানকে রিংকু সিংয়ের ক্যাচ বানানোর পর আরিয়ানকে বোল্ড করেন এই রহস্য স্পিনার। ১৪তম ওভারে বাস ডি লিডকে ফেরান দুবে। ২৩ বলে ৩৩ করা ২৬ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটারই ছিলেন ডাচদের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। শেষ দিকে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন বরুণ চক্রবর্তী। শিবার দুবের শিকার দুটি।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত আরও একবার নিজেদের সেরা ব্যাটারের ‘ব্যাটিং শো’ থেকে বঞ্চিত হয়। আরিয়ান দত্তের প্রথম দুটি বল থেকে ডট দেওয়া পর তৃতীয়টিতে আউটই হয়ে যান অভিষেক শর্মা। দুর্দান্ত ছন্দে থেকে বিশ্বকাপ খেলতে আসা মারকুটে এই ব্যাটার মুদ্রার উল্টো পিটও দেখলেন।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে কোনো রান না নিয়েই বাইশগজ ছাড়লেন ভারতের ২৫ বছর বয়সী ওপেনার। বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার বিরল বিব্রতকর রেকর্ড গড়েন অভিষেক।
শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর পাওয়ার প্লেতে আরেকটি উইকেট হারায় ভারত। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হওয়া ইশান কিষাণ ২ চার ও এক ছক্কায় ৭ বলে ১৮ রান করে ফিরেন। পাওয়ার প্লে শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৫১/২।
তৃতীয় উইকেটে সূর্যকুমার যাদব-তিলক ভার্মার জুটি থেকে আসে ৩০ রান। ২৭ বলে ৩১ করা তিলক ফন বিকের শিকার হলে শেষ হয় এই জুটি। ১৩.৩ ওভারে অধিনায়ক সূর্যকুমার যখন কাইল ক্লেইনের বলে ক্যাচ আউট হন, ভারতের রান তখন ১১০। তারপর শিবাম দুবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মনে হচ্ছিল দুইশো স্পর্শ করবে ভারতের সংগ্রহ।
পঞ্চম উইকেটে হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে ৪১ বলে ৭৬ রানের জুটি গড়া দুবে ফন বিকের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে খেলেন ৩১ বলে ৬৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। অপরপ্রান্তে পান্ডিয়ার ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ৩০ রান।
নেদারল্যান্ডসের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে খরুচে লগান ফন বেকই নেন সর্বোচ্চ উইকেট। ৪ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার ডানহাতি পেসারের। কিপটে ছিলেন ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে দুটি নেওয়া আরিয়ান দত্ত।
No posts available.
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:০০ পিএম
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:২৭ পিএম
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:০৮ পিএম
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:০১ পিএম
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫২ পিএম

এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপপর্বে অজিদের শেষ ম্যাচটি হয়ে থাকল কেবল নিয়ম রক্ষার। হতাশার বিশ্বকাপ শেষে আরও একটি বড় দুঃসংবাদের শঙ্কায় আছে তারা।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে জায়গা অনিশ্চিত হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার। অলিম্পিক গেমসের সর্বোচ্চ সংস্থা এখনও এই টুর্নামেন্টে যোগ্যতার শর্তাবলী করেনি। যদি আইসিসি টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংকে যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে অস্ট্রেলিয়াকে টপকে অলিম্পিক খেলবে নিউ জিল্যান্ড।
শেষবার ১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকে ছিল ক্রিকেট। ১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফেরার আসরে আইসিসি জানিয়েছে, প্রতিটি বিভাগে ছয়টি দল থাকবে—পাঁচটি মহাদেশীয় অঞ্চলের (এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউরোপ ও ওশেনিয়া) শীর্ষস্থানীয় দেশ এবং আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে খেলবে। ষষ্ঠ দলটি নির্ধারিত হবে অলিম্পিক বাছাইপর্ব টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। বাছাইপর্বের ফরম্যাট এবং সরাসরি কোয়ালিফিকেশনের কাট–অফ তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
প্রায় নিশ্চিতভাবেই ওশেনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই ছিটকে যাওয়ায় এখন তাদের অবস্থান অনিশ্চিত। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর র্যাঙ্কিং অজিদের নিচে নেমে যাওয়া নিশ্চিতই। বিপরীতে সুপার এইটে ওঠা নিউ জিল্যান্ড বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ে চারে আছে, কিউদের সেরা পাঁচে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত।
২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ১৩টি টি–টোয়েন্টি খেলবে। ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত—বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে তারা। চোট, ছন্দহীনতার সঙ্গে পরবর্তী চক্রে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে মনোযোগের কারণে মিচেল মার্শ ও তার দল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকবে।
অলিম্পিক ক্রিকেটে ছয় দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হবে, প্রতিটিতে থাকবে তিনটি দল। প্রতিটি দল গ্রুপের অন্য দুই দলের সঙ্গে একবার করে খেলে। তারপর প্রতিটি দল অন্য গ্রুপের দুটি দলের সঙ্গে খেলে, তবে পয়েন্ট টেবিলে একই অবস্থানে থাকা দলের বিপক্ষে খেলবে না দলগুলোর। প্রতিটি দলের চারটি ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং নির্ধারণ হয়। শীর্ষ দুই দল সোনা ও রূপের জন্য ফাইনালে খেলে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারী দল ব্রোঞ্জ পদকের জন্য খেলবে।

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া ও এর জের ধরে নিরাপত্তা শঙ্কায় চলতি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ। তাই আশঙ্কা ছিল, এই বিশ্বকাপ না খেলায় সামনের টুর্নামেন্টে হয়তো বাছাইপর্বে নামতে হবে তাদের।
তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ দলকে এক সুখবর দিয়ে দিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এবারের টুর্নামেন্টে অংশ না নিলেও, ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে সরাসরিই খেলতে পারবে বাংলাদেশ।
আইসিসির বিশ্বকাপ কোয়ালিফিকেশন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে খেলা ৮ দলের সঙ্গে স্বাগতিক ২ দল এবং র্যাঙ্কিং থেকে আরও ২ দল সরাসরি সুযোগ পাবে ২০২৮ সালের টুর্নামেন্টে।
সেই অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে সুপার এইটে ওঠা ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড ও পাকিস্তান পেয়ে গেছে আগামী বিশ্বকাপেরও টিকিট। আর সুপার এইটের আগে বাদ পড়লেও, স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।
এছাড়া নিউ জিল্যান্ড দল সুপার এইটে ওঠায়, র্যাঙ্কিং থেকে সুযোগ পাবে ৩টি দল। আর সে তালিকায় এখন আছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেহেতু ৯ মার্চের আগে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড দলের কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নেই, তাই তাদের র্যাঙ্কিং কমার সম্ভাবনা নেই। ফলে ১০-১১-১২তম দল হিসেবে এই তিন দেশই সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে।
এর বাইরে বাকি ৮ দল আসবে প্রতিটি অঞ্চলের বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলে। এর মধ্যে আমেরিকা অঞ্চল থেকে ১টি, ইউরোপ অঞ্চল থেকে ২টি, আফ্রিকা অঞ্চল থেকে ২টি ও এশিয়া-ইস্ট প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে আসবে ৩টি দল।

সাত দলের টিকিট নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। অপেক্ষা ছিল শুধু শেষ দলের। নামিবিয়াকে উড়িয়ে রেকর্ড গড়া জয়ে সেই তালিকায় যুক্ত হলো পাকিস্তান। এবার সুপার এইটে প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামতে হবে তাদের।
কলম্বোতে বুধবার বিকেলে পাকিস্তান-নামিবিয়া ম্যাচের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আট দলের নাম। চার গ্রুপের সেরা দুই দলকে নিয়ে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াবে সুপার এইটের খেলা।
এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাট অনুযায়ী প্রি সিডিং করে রাখা হয়েছিল আট দলের অবস্থান। এর মধ্যে শুধু অস্ট্রেলিয়া পায়নি সুপার এইটের টিকেট। তাদের জায়গায় 'বি' গ্রুপ থেকে সেরা আটে উঠেছে জিম্বাবুয়ে। সুপার এইটের প্রি সিডিংয়েও অস্ট্রেলিয়ার জায়গা নেবে তারা।
এই ফরম্যাট অনুযায়ী, সুপার এইটের প্রথম গ্রুপে থাকছে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর দ্বিতীয় গ্রুপে থাকছে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড ও পাকিস্তান। একইসঙ্গে এই ৮ দলের আগামী বিশ্বকাপের টিকিটও নিশ্চিত হয়ে গেছে।
প্রতিটি গ্রুপের চার দল নিজেদের বিপক্ষে খেলবে একটি করে ম্যাচ। প্রতি দলের নির্ধারিত তিন ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল পাবে সেমি-ফাইনালের টিকেট।
আর প্রি সিডিং পদ্ধতির কারণে এখন গ্রুপ পর্বের বাকি পাঁচটি ম্যাচ হয়ে গেছে ডেড রাবার। সেসব ম্যাচে যে দলই জিতুক বা হারুক, সুপার এইটের অবস্তান বা সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত হবে সুপার এইটের ১২টি ম্যাচ। পরে ৪ ও ৫ মার্চ মাঠে গড়াবে দুই সেমি-ফাইনাল। আর ৮ মার্চ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়বে সেমি-ফাইনাল জয়ী দুই দল।
পাকিস্তান যদি সেমি-ফাইনালে ওঠে, তাহলে কলম্বোতে প্রথম সেমি-ফাইনাল খেলবে তারা। একইভাবে তারা ফাইনালে উঠতে পারলে, ফাইনাল ম্যাচটি হবে কলম্বোতে। অন্যথায় শিরোপা নির্ধারণী লড়াই হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।
একনজরে সুপার এইটের সূচি
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা - নিউ জিল্যান্ড বনাম পাকিস্তান
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিকেল সাড়ে ৩টা - শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা - ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা - জিম্বাবুয়ে বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা - ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা - শ্রীলঙ্কা বনাম নিউ জিল্যান্ড
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিকেল সাড়ে ৩টা - ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা - ভারত বনাম জিম্বাবুয়ে
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা - ইংল্যান্ড বনাম নিউ জিল্যান্ড
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা - শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান
১ মার্চ ২০২৬
বিকেল সাড়ে ৩টা - জিম্বাবুয়ে বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা - ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ব্যাপক নাটকীয়তার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলেছে পাকিস্তান। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে পাকিস্তানের সরে আসার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে—এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। সময়মতো হস্তক্ষেপের জন্য তিনি তাঁকে বিশেষ ধন্যবাদও জানান।
পাকিস্তান আগে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংহতি জানাতেই এই অবস্থান নেয় তারা। পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, বিসিবি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল প্রতিনিধিদের দীর্ঘ আলোচনার পর ৯ ফেব্রুয়ারি সেই সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান।
নাকভির ভাষ্য, শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোন করে দলকে ম্যাচ খেলতে অনুমতি দিতে অনুরোধ করেন। ম্যাচ শেষে সাক্ষাতে তিনি প্রেসিডেন্টকে বলেন,
‘প্রথমেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিন। গতকালের ম্যাচে প্রকৃত নায়ক ছিলেন আপনি, কারণ আপনার কারণেই ২০০ কোটি মানুষ ম্যাচটি উপভোগ করতে পেরেছে। আপনার জন্যই আমরা খেলেছি।’
নাকভি বলেন,
‘ভারতের সঙ্গে খেলা নিয়ে আমাদের বেশ কিছু সমস্যা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আপনার ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে কল করে বললেন, আর কোনো সমস্যা নেই… আমাদের ম্যাচ খেলতেই হবে। এজন্য আপনার কাছে আমি খুবই কৃতজ্ঞ—আপনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’
কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অবশ্য পাকিস্তানের জন্য সুখকর হয়নি ইশান কিশানের ঝকঝকে ৭৭ রানের ইনিংসে ভারত ১৭৫ রান তোলে। জবাবে পাকিস্তান ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়।

শঙ্কা ছিল বাদ পড়ে যাওয়ার। তবে জবাবটা শক্ত হাতে দিল পাকিস্তান। সাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরিতে রেকর্ডগড়া জয়েই সুপার এইটের টিকিট কাটল ২০০৯ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে বুধবার বিকেলের ম্যাচে নামিবিয়াকে ১০২ রানে হারায় পাকিস্তান। আগে ব্যাট করে সাহিবজাদার সেঞ্চুরির সৌজন্যে ১৯৯ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ৯৭ রানের বেশি করতে পারেনি নামিবিয়া।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসেবে পাকিস্তানের এটি সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮২ রানে জিতেছিল তারা।
এই জয়ে চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে 'এ' গ্রুপের দ্বিতীয় ও টুর্নামেন্টের শেষ দল হিসেবে সুপার এইটের টিকেট নিশ্চিত করল পাকিস্তান। সেরা আটে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, নিউ জিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হওয়া ম্যাচে নামিবিয়াকে লড়াই করতেই দেয়নি পাকিস্তান। বড় রান তাড়ায় একবারও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি নামিবিয়া। পঞ্চাশের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা।
এরপর শুধু যেন পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর জন্যই খেলতে থাকে নামিবিয়া। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন লরেন স্টিনকেম্প। এছাড়া ২০ রান আসে অ্যালেক্সান্ডার বুসিং-ভলসচেঙ্কের ব্যাটে।
পাকিস্তানের পক্ষে ১৬ রানে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন সময়ের আলোচিত স্পিনার উসমান তারিক। এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এ নিয়ে টানা ২৫টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে অন্তত ১ উইকেট নিলেন পাকিস্তানের এই রহস্য স্পিনার। এছাড়া ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন শাদাব খান।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে সাইম আইয়ুবের উইকেট হারায় পাকিস্তান। পরে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ রান যোগ করেন সাহিবজাদা ও সালমান আলি আগা। ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হন সালমান।
চার নম্বরে বাবর আজমের বদলে নামানো হয় খাওয়াজা নাফেকে। তবে ৫ বলে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি তরুণ ব্যাটার। তার বিদায়ের পরও নামানো হয়নি বাবরকে। পাঁচ নম্বরে নামেন আরেক লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার শাদাব খান।
সাহিবজাদার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৪০ বলে ৮১ রান যোগ করেন শাদাব। ইনিংসের শেষ ওভারে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাহিবজাদা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানি ব্যাটারদের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন আহমেদ শেহজাদ।
শেষ পর্যন্ত ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৮ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন সাহিবজাদা। শাদাবের ব্যাট থেকে আসে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২২ বলে ৩৬ রান।