২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:১৯ পিএম

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তান দল টুর্নামেন্ট বর্জনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি। আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে রুদ্ধধার বৈঠক হয়েছে পিসিবির।
https://x.com/MohsinnaqviC42/status/2015760606700409207
বৈঠক শেষে পিসিবি প্রধান সামাজিক মাধ্যম ইনস্ট্রাগ্রাম পোস্টে লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মিয়ান মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। তাঁকে আইসিসি সম্পর্কিত বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, এবং তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা সমস্ত বিকল্প খোলা রেখেই এটি সমাধান করি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুক্রবার বা আগামী সোমবার।’
পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বৈঠকের আগে নাকভি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থান ছিল নীতিগত। মৌলিক ক্রিকেটীয় মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করে যাবে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা প্রতিভাবান এবং যেকোনো অঙ্গনে সাফল্য পেতে হলে দলগত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।’
তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতিকরণ করা ক্রিকেট কারও স্বার্থ রক্ষা করে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিষয়ে পাকিস্তান সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, পিসিবি সেটিই পূর্ণভাবে মেনে চলবে বলেও জানান তিনি।
গত ৪ জানুয়ারি ভারতে নিরাপত্তাশঙ্কায় বিশ্বকাপ না খেলার কথা জানিয়ে আইসিসিকে ভেন্যু বদলের অনুরোধ করে বিসিবি। ২১ জানুয়ারি আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে পূর্বসূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। এরপর গত শনিবার বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভূক্ত করার কথা বিসিবিকে জানায় আইসিসি।
No posts available.
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:১৭ পিএম
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ এম

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট কিংবদন্তি স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের ব্যবহৃত ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ নিলামে বিক্রি হয়েছে উচ্চ মূল্যে। আজ গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত নিলামে ক্যাপটি ৪ লাখ ৬০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি হয়। বাংলাদেশে মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। নিলাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস অকশনস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
লয়েডস অকশনস জানায়, পরিচয় জানাতে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা এই ঐতিহাসিক ব্যাগি গ্রিনটি কিনেছেন। ক্যাপটি অস্ট্রেলিয়াতেই রাখা হবে এবং শিগগিরই একটি জাদুঘরে জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য স্থান পাবে।
এই ব্যাগি গ্রিনটি ১৯৪৭–৪৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজে ব্যবহার করেছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান। এটি ছিল ঘরের মাঠে তাঁর শেষ টেস্ট সিরিজ, যার পর ১৯৪৮ সালে ৪০ বছর বয়সে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি। সেই সিরিজটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ সেটিই ছিল স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম টেস্ট সফর।
সেই সিরিজে ব্র্যাডম্যান ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। পাঁচ টেস্টে তিনি করেন ৭১৫ রান। সিরিজ চলাকালীন একপর্যায়ে ভারতের তরুণ বোলার শ্রীরঙ্গা বাসুদেব সোহোনির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ব্র্যাডম্যানের। সেই সময় ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে গিয়ে ব্র্যাডম্যান নিজের ব্যবহৃত ব্যাগি গ্রিনটি সোহোনিকে উপহার দেন।
তারপর প্রায় ৭৫ বছর ধরে ক্যাপটি সোহোনির মুম্বাইয়ের বাড়িতে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তী সময়ে এটি তার নাতনির কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিলামের আগে পর্যন্ত এই ব্যাগি গ্রিন কখনোই জনসমক্ষে প্রদর্শিত হয়নি। নিলামের আগে অস্ট্রেলিয়ায় একটি সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনী সফরে ক্যাপটি প্রদর্শন করা হয়।
নিলামে ক্যাপটিকে ‘ক্রিকেটস হলি গ্রেইল’ বলে উল্লেখ করা হয়। লয়েডস অকশনসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা লি হেমস বলেন, এই ঐতিহাসিক সামগ্রী অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়াটা অত্যন্ত অর্থবহ। বললেন, ‘এটি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন, যা ডন ব্র্যাডম্যান নিজ হাতে উপহার দিয়েছিলেন এবং একই পরিবার ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যত্ন করে সংরক্ষণ করেছে। ব্র্যাডম্যানের জাতীয় আইকন হিসেবে মর্যাদা এবং ক্যাপটির অসাধারণ অবস্থা একে বিরল করে তুলেছে।’
ডন ব্র্যাডম্যানকে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৫২টি টেস্টে তিনি করেন ৬৯৯৬ রান, গড় ৯৯.৯৪—যা আজও ক্রিকেটের অন্যতম বিস্ময়কর রেকর্ড।
১৯৪৭–৪৮ সিরিজের আরেকটি ব্যাগি গ্রিন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিলামে উঠেছিল। সেটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়, পরে ক্রেতা প্রিমিয়াম যোগ হয়ে দাম দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

জিতলে টিকে থাকা, সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ। আর হারলেই বিদায়—অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখির আগে সহজ এই সমীকরণ মেলানোর লক্ষ্যে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে ইংল্যান্ডের লজ্জার হারে লাল–সবুজ দলের বিশ্বকাপ অধ্যায় এখানেই শেষ। ফলে ৩১ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজিজুল হাকিমদের লড়াই কেবল নিয়মরক্ষার।
আজ বুলাওয়েতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৩৮.১ ওভারে ১৩৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ১৫৫ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
মামুলি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুতেই বিপাকে পড়ে ইংল্যান্ড। জোসেফ মোরেসকে দলীয় ৩ রানে ফিরিয়ে কিছুটা চাপে ফেলে দেন আল ফাহাদ। এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর পর দলীয় ৩৯ রানে ফের বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড।
সংকট কাটান থমাস রেও ও বেন ডাওকিনস। দুজন মিলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। ওপেনার বেন ব্যক্তিগত ২৭ রানে যখন ফেরেন, তখন ইংল্যান্ডের দলীয় সংগ্রহ ১১৭। জয় থেকে মাত্র ১৯ রান দূরে ছিল দল। বাকিটা হিসাব মিলিয়ে দেন থমাস। তিনি ৫০ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে পেসার আল ফাহাদ সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নিয়েছেন। অপর উইকেটটি ছিল সামিউন বাশিরের।
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে প্রথমবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে যেন বড় বিপাকেই পড়ে আজিজুলরা। সর্বোচ্চ জুটি ছিল রিফাত বেগ ও আজিজুলের। দ্বিতীয় জুটিতে আসে ৪৬ রান। এরপর তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ৯০ থেকে ১৩৬ রানের মধ্যে ৬ ব্যাটারকে হারায় দলটি।
প্রথম ওভারেই ওপেনার জাওয়াদ আবরারকে (১) ফেরান ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব–১৯ দলের পেসার সেবাস্তিয়ান মরগান। দ্বিতীয় উইকেটে রিফাত বেগ ও আজিজুলের ৪৬ রানের জুটিই ইনিংসে সর্বোচ্চ। উইকেটকিপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করেন ৩৪ বলে ২৫।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ বলে ৩১ করেন ওপেনার রিফাত। সর্বোচ্চ ৪৬ বল খেলেন অধিনায়ক আজিজুল। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২০ রান। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করেন ৩৪ বলে ২৫ রান।
ইংলিশদের হয়ে মরগান নেন ২৮ রানে ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন রাফলি আলবার্ট ও ম্যানি লাম্বসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল: ৩৮.১ ওভারে ১৩৬ (রিফাত ৩১, আব্দুল্লাহ ২৫, আজিজুল ২০; মরগান ৩/২৮, রাফলি ২/১৫)।
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব–১৯ দল: ২৪.১ ওভারে ১৩৭ রান (থমাস ৫৯, মোরেস ৩৪; ফাহাদ ২/৩৭, সামিউন ১/৩০)।

নাইজেরিয়া ক্রিকেটের দায়িত্ব ছাড়লেন স্টিফেন টিকোলো। কেনিয়া ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে পরিচিতি তিনি। বদলে দিয়েছেন নাইজেরিয়ার ক্রিকেটও। ২০২২ সালের অক্টোবরে দলটির প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন টিকোলো। হাই পারফরম্যান্স বিভাগ এবং নাইজেরিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশনের (এনসিএফ) ইনচার্জের দায়িত্বও পালন করতে তিনি।
এনসিএফ সভাপতি উয়িসা আপাতা বলেছেন, জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে টিকোলোর দায়িত্বকাল নাইজেরিয়ান ক্রিকেটের জন্য একটি সংজ্ঞায়িত ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সাবেক কেনিয়ান অধিনায়ক টিকোলোর অধীনে নাইজেরিয়ার ক্রিকেটে কাঠামো, শৃঙ্খলা এবং জয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লাগোসের অনিকানে টিবিএস ক্রিকেট ওভালের ‘দ্য ক্রিকেট ল্যাবে’ আয়োজিত টিকোলোর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আপাতা। অনুষ্ঠানে টিকোলোর অবদানকে সম্মান জানাতে এনসিএফের কর্মকর্তা, জাতীয় দলের খেলোয়াড়, ক্রিকেট–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ এবং শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপাতা বলেন, টিকোলো শুধু দলকে কোচিং করাননি, তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাই গড়ে তুলেছেন। তাঁর হাত ধরেই নাইজেরিয়ান ক্রিকেটে পেশাদার মানসিকতা ও জয়ের সংস্কৃতি এসেছে। তিনি জাতীয় দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়িয়েছেন।
আপাতার মতে, টিকোলোর মেয়াদে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও তৃণমূল উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা নাইজেরিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাঁর অধীনে খেলোয়াড়দের কারিগরি ও কৌশলগত দক্ষতা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। এনসিএফ সভাপতি বলেন, ‘তার দিকনির্দেশনায় আমরা আত্মবিশ্বাস, দক্ষতার প্রয়োগ এবং মানসিক দৃঢ়তায় বড় অগ্রগতি দেখেছি। আমাদের দলগুলো মহাদেশীয় পর্যায়ে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সম্মানিত হয়ে উঠেছে।’
টিকোলো তৃণমূল ক্রিকেট ও কোচ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয় কোচ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে তিনি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছেন। টিকোলোর রেখে যাওয়া মান ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে নাইজেরিয়ান ক্রিকেট এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন আপাতা।
জাতীয় দলের অধিনায়ক সুলাইমান রুনসেওয়ে বলেন, টিকোলোর প্রভাব দলের প্রতিটি সদস্যের ওপর পড়েছে। তিনি বলেন, “কোচ শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও আমাদের পাশে ছিলেন। আমাদের তিনি শুধু ক্রিকেটার বানাননি, একটি শক্ত দল গড়ে তুলেছেন। এই যাত্রা চলবে, আমরা আপনাকে গর্বিত করব।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে টিকোলো বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে নাইজেরিয়ার সঙ্গে কাজ করা তার জন্য ছিল পরিপূর্ণতা ও আবেগে ভরা অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, আফ্রিকার শীর্ষ ক্রিকেট শক্তি হওয়ার পথে নাইজেরিয়া এগোচ্ছে, যদিও এখনো সেই লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছানো হয়নি।
টিকোলো জানান, কাতার ও হংকংয়ের প্রস্তাব থাকলেও আফ্রিকার ক্রিকেটে অবদান রাখার ইচ্ছা থেকেই তিনি নাইজেরিয়াকে বেছে নেন। তিনি বলেন, “আমার হৃদয় ছিল আফ্রিকায়। নাইজেরিয়া আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, আমি সেটি সানন্দে গ্রহণ করেছি।”
তিনি জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত আইসিসি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের মতো হতাশাজনক মুহূর্তগুলোকেও শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন। কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের হতাশা ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রেরণা জোগাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিএফ বোর্ড, কারিগরি টিম এবং খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টিকোলো বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির মাধ্যমেই সাফল্য আসে।’ তিনি খেলোয়াড়দের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান তাঁর, ‘কিছুই সহজে আসে না। পরিশ্রম করতে হবে, আর সব সময় আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে।’

বাংলাদেশ দলের প্রতি সংহতি জানাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ঘিরে কয়েকটি প্রতীকী ও কৌশলগত বিকল্প বিবেচনা করছে। সামা টিভির প্রতিবেদন বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির আচরণ নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে পিসিবি কীভাবে অবস্থান নেবে—তা নিয়েই এসব আলোচনা চলছে।
সূত্র মতে, পাকিস্তানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিবাদের বার্তা কীভাবে দেওয়া যায়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে বিকল্পগুলো নিয়ে ভাবছে বোর্ড। টুর্নামেন্ট থেকে সরে না দাঁড়িয়ে কীভাবে সংহতি প্রকাশ করা যায়—এই দিকটিই আলোচনার মূল বিষয়।
কর্মকর্তাদের ও সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বোর্ডের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গেও এ বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) সংক্রান্ত একটি কর্মশালার ফাঁকেও এই আলোচনা হয়েছে। সেখানে নাকভি বাংলাদেশের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নাকভি আলোচনায় বলেন, বাংলাদেশ দলকে ‘অপমানজনক পরিস্থিতির’ মুখে পড়তে হয়েছে এবং এই অবস্থায় তাদের একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। এ বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশে পিসিবি আন্তরিক।
বিবেচনায় থাকা তিনটি বিকল্প
পিসিবি বর্তমানে যে তিনটি বিকল্প নিয়ে ভাবছে, সেগুলো হলো— প্রথমত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামতে পারেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি সংহতির বার্তা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিকল্প—আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় আচরণের প্রতিবাদ হিসেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
তৃতীয় বিকল্প—পাকিস্তান দল বিশ্বকাপে পাওয়া প্রতিটি জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের উদ্দেশে উৎসর্গ করতে পারে—এই প্রস্তাবও আলোচনায় আছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
সূত্র জানিয়েছে, পিসিবির চূড়ান্ত অবস্থান এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আজই প্রধানমন্ত্রী ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করবেন নাকভি।
পিসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রতিযোগিতামূলক স্বার্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি স্পষ্ট সংহতির বার্তাও গুরুত্ব পাবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ–সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অংশগ্রহণ বা অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাকভির বক্তব্য
আজ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় নাকভি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থান ছিল নীতিগত। মৌলিক ক্রিকেটীয় মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করে যাবে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা প্রতিভাবান এবং যেকোনো অঙ্গনে সাফল্য পেতে হলে দলগত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতিকরণ করা ক্রিকেট কারও স্বার্থ রক্ষা করে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিষয়ে পাকিস্তান সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, পিসিবি সেটিই পূর্ণভাবে মেনে চলবে বলেও জানান তিনি।

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করে পাকিস্তান। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে জন্য ১৫ সদস্যের দল দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে নির্বাচক কমিটি হারিস রউফ এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বাদ দেওয়া নিয়ে চলছে আলোচনা। এই দুই তারকাকে দলের বাইরে রেখে ছন্দহীনতা ভোগা বাবর আজমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সব আইসিসির টুর্নামেন্টেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তবে এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কেবল বাবরের ওপর আস্থা রেখেছে।
পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন দলের নির্বাচনের কারণ এবং বাদ দেওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বাবর আজম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা বাবরকে ওপেনিং করতে দেখব না। ও আমাদের জন্য ওপেনিং করেনি, কারণ পাওয়ার প্লেতে আক্রমণ করার ক্ষমতা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাবরের অবশ্যই মাঝের দিকের ওভার নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা আছে। প্রয়োজনে সঠিক খেলোয়াড়কে স্ট্রাইক দিতে পারবে। যদি আমরা কম রান তাড়া করি, সেটা করতে সে সক্ষম।’
সম্প্রতি বিগ ব্যাশে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি বাবর। ১১ ম্যাচে ১১ ইনিংসেই ব্যাট করেছেন। বল খেলেছেন ১৯৬টি। ফিফটি দুটি। ২২.৪৪ গড়ে ২০২ রান করায় স্ট্রাইক রেট ১০৩.০৬। এবার বিগ ব্যাশে অন্তত ১০ ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শুধু মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্ট্রাইক রেটই বাবর আজমের চেয়ে কম।
তবে পাকিস্তানের কোচ অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে বিশ্বকাপের আয়োজক শ্রীলঙ্কার তুলনা করতে নারাজ, ‘অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ আমাদের সামনে আসন্ন শ্রীলঙ্কার পরিবেশের চেয়ে ভিন্ন, তাই আমরা সব বিষয় বিবেচনা করেছি।’
পাকিস্তান দল নাফায় ও উসমান খানকে উইকেটকিপার হিসেবে দলে নিয়েছে, জায়গা হারিয়েছেন রিজওয়ান। এ প্রসঙ্গে হেসন বলেন, ‘উসমান খান ফিরে আসার পর থেকে দারুণ খেলছেন। অভিজ্ঞতা যেমন দেখিয়েছেন, উইকেটকিপিংও প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় তার পারফরম্যান্স সত্যিই দুর্দান্ত ছিল।’
রিজওয়ানকে দলে না রাখার ব্যাখ্যায় পাকিস্তান কোচ আরও বলেন, ‘আমাদের কিপারের ভূমিকা হলো মিডল-অর্ডারে ব্যাটিং করা, প্রায় ৫ বা ৬ নম্বরে। রিজওয়ান একজন টপ-অর্ডার ব্যাটার, তাই এই ভূমিকার জন্য তাঁর স্থান নেই।’
ফাস্ট বোলার হারিস রউফের বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়াও অনেককে অবাক করেছে। হেসন জানিয়েছেন, হারিস রউফকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল, তবে তিনি দলে জায়গা করে নিতে পারেননি। কারণ পাকিস্তানের নির্বাচিত পেস আক্রমণ ম্যাচের তিনটি পর্যায়েই কার্যকরভাবে বল করতে সক্ষম। অর্থাৎ শুরু, মাঝে এবং শেষে,‘আমরা হারিস রউফ, ওয়াসিম জুনিয়র এবং আহমেদ দানিয়ালকে বিবেচনায় নিয়েছিলাম, কিন্তু তারা দলে জায়গা করে নিতে পারেনি। কারণ অন্য তিনজন—শাহিন, সালমান এবং নাসিম—তিনটি পর্যায়েই বল করতে পারছেন।’
পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল:
সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জমান, খাওয়াজা নাফায় (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ নওয়াজ, সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটকিপার), উসমান তারিক।