১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৪:৩০ পিএম

হারলেই বিদায়, জিতলেও থাকতে হবে অপেক্ষায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য তাই বাঁচা-মরার লড়াই। আর এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুইশ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। চলতি এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত এই ফরম্যাটে তাদের মোট ম্যাচ সংখ্যা এখন ১৯৯টি।
কুড়ি ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ১৯৯ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৭৯টি। তারা হেরেছে ১১৫ ম্যাচে। আর ফল আসেনি বাকি পাঁচটিতে। বিশ্বের নবম দেশ হিসেবে এখন দুইশ ম্যাচ খেলার দুয়ারে দাঁড়িয়ে তারা।
আরও পড়ুন
| বৈরী আবহাওয়ায় স্থগিত এনসিএল টি-টোয়েন্টি |
|
আবু ধাবির জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় টস হয়ে গেলেই ২০০ ম্যাচে মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে বাংলাদেশ।
২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর প্রায় ১৫ বছর পর, ২০২১ সালের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই নিজেদের ১০০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকারের ফিফটিতে সেদিন ৮ উইকেটে জিতেছিল তারা।
প্রথম একশ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল মাত্র ৩৩টি। বিপরীতে হেরেছিল প্রায় দ্বিগুণ, ৬৫টি ম্যাচ। ফল আসেনি দুই ম্যাচে।
পরের ৯৯ ম্যাচে অবশ্য কিছুটা উন্নতির ছাপ আছে। গত চার বছরে খেলা এই ৯৯ ম্যাচে তাদের জয় ৪৬ ম্যাচে আর হেরেছে ৫০টি। টসের পর পরিত্যক্ত হয়েছে বাকি তিন ম্যাচ।
একশতম ম্যাচের মতো এবার দুইশতম ম্যাচেও জিততে পারলে মিলবে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের টিকেট।
বাংলাদেশ চাইলে অনুপ্রেরণা নিতে পারে অন্য দুই সংস্করণ থেকে। কারণ এরকম মাইলফলকের ম্যাচে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে জয় দিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা।
২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের শততম ওয়ানডে ম্যাচে ১৫ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। পরে ২০০৯ সালে ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩ উইকেট হারায় তারা।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের ৩০০তম ওয়ানডে। সেদিন অবশ্য জিততে পারেনি তারা। তবে ২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের ৪০০তম ওয়ানডে ম্যাচে ১০৫ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
| ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ফিরলেন ম্যাক্সওয়েল |
|
এছাড়া টেস্টে নিজেদের শততম ম্যাচে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে কলম্বোর পি সারা ওভালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন দল।
এবার দুইশতম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে লিটন কুমার দাসের দল উৎরে যেতে পারে কিনা সেটিই দেখার।
বাংলাদেশের আগে দুইশ টি-টোয়েন্টি খেলা দলগুলো হলো- পাকিস্তান (২৭৪), ভারত (২৪৯), নিউ জিল্যান্ড (২৩৫), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২২৮), অস্ট্রেলিয়া (২১১), শ্রীলঙ্কা (২১১), ইংল্যান্ড (২০৯) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (২০৬)।
ম্যাচ খেলার তালিকায় সবার ওপরে থাকলেও জয়ের রেকর্ডে অবশ্য শীর্ষে নেই পাকিস্তান। ১৬৬ জয় নিয়ে সবার ওপরে ভারত। তাদের পরেই পাকিস্তান, ১৫৬ জয়। এছাড়া একশর বেশি জয় আছে নিউ জিল্যান্ড (১২৩), অস্ট্রেলিয়া (১১৯), দক্ষিণ আফ্রিকা (১১২) ও ইংল্যান্ডের (১০৯)।
No posts available.

শুক্রবার মিরপুরে বাংলাদেশের
বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে রান আউটের পর গ্লাভস ও হেলমেট মাটিতে ছুড়ে প্রতিক্রিয়া
দেখান সালমান আগা। এ ঘটনায় পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে তিরস্কার ও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট
দেওয়া হয়েছে। দুই বছরে এটিই তাঁর প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট।
ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশীদের
আরোপ করা ‘অ্যাবিউজিং অব ক্রিকেট ইকুইপমেন্ট’ অভিযোগ সালমান মেনে নেওয়ায় এ নিয়ে আর শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
পাকিস্তান ইনিংসের ৩৯তম
ওভারে মিরাজের বল স্ট্রেইট ড্রাইভ করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ক্রিজে থাকা অবস্থায় বল পা
দিয়ে থামান মিরাজ। একই সময়ে সালমান-মিরাজ দুজনই বলের দিকে হাত বাড়ালেও মিরাজই বলটি
আগে তুলে নেন, এরপর থ্রো করে ভেঙে দেন স্টাম্প। তৃতীয় আম্পায়ার সালমানকে রানআউট ঘোষণা
করেন।
রান আউটের ঘটনায় অতিবিরক্ত
হতে দেখা যায় সালমানকে। তৃতীয় আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই মাঠের ভেতর হেলমেট
ও গ্লাভস মাটিতে ছুড়ে মারেন সালমান।
ঘটনার পর ক্রিকেটবিশ্বে 'স্পিরিট
অফ ক্রিকেট' নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পক্ষে বিপক্ষে কথা বলছেন বিশ্লেষকরা।
স্বয়ং বাংলাদেশ দলের পাকিস্তানি স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদও সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,
‘আমার মনে হয় না মিরাজ কোনো ভুল করেছে।’
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন দাস অবশ্য বলেছেন,
‘প্রথমত, এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি। এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিয়মে আছে আউট, এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। যে যার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে আউট।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়
ওয়ানডেতে ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁ-কাঁধে গুরুতর চোট পেয়েছেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার হুসাইন
তালাত। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই চোট থেকে সেরে উঠতে তাঁর প্রায় ১২ থেকে ১৪ সপ্তাহ
সময় লাগতে পারে।
ম্যাচ চলাকালীন ফিল্ডিংয়ের
সময় তালাতের বাঁ কাঁধের সংযোগ নড়ে গেছে যায়। ঘটনার পরপরই মাঠেই তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা
দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের
তত্ত্বাবধানে তালাদের ওপর একটি সফল চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে কাঁধের
স্থানচ্যুত জোড়াটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক
অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী
কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন তালাত। তারপর তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে জাতীয় ক্রিকেট
একাডেমিতে যোগ দেবেন।
পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন
ও অনুশীলনের মাধ্যমে তালাতকে আবার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় তিন মাসের মধ্যেই মাঠে ফিরতে পারেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।

ভারতীয়
ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আসন্ন নামান অ্যাওয়ার্ডসে কর্ণেল সি.কে.
নাইড়ু আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পাচ্ছেন রাহুল দ্রাবিড়, রজার বিনি ও মিথালি রাজ। দিল্লিতে
রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নামান এওয়ার্ডসে তাদের এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
ভারতের
হয়ে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন দ্রাবিড়। ৫০৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে
তিনি ২৪ হাজারের বেশি রান করেছেন ও ফিল্ডিংয়ে নিয়েছেন ৪০০-রও বেশি ক্যাচ। তার অধিনায়কত্বে
২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতে ভারত।
অবসরের
পর কোচ হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ভারত ‘এ’ ও জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলেছেন দ্রাবিড়। তার
কোচিংয়েই ২০২৪ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ভারত।
ভারতের
১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন রজার বিনি। ২৭ টেস্ট ও ৭২টি ওয়ানডে খেলা এই
অলরাউন্ডার ওই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন, যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে
বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে আছে।
পরে
তিনি ১৯৮৫ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অব ক্রিকেটজয়ী দলেও ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবনের পর
কোচিং ও প্রশাসনিক দায়িত্বেও কাজ করেছেন বিনি। ২০০০ সালে তার কোচিংয়েই ভারত অনূর্ধ্ব-১৯
বিশ্বকাপ জেতে।
অন্যদিকে
নারী ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ভারতের মুখ ছিলেন মিথালি রাজ। ৩৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলা
এই ব্যাটার নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম হিসেবে ১০ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রান
করেন। তার অধিনায়কত্বেই ভারত দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায়।
অন্যান্য
পুরস্কারপ্রাপ্তরা
২০২৪-২৫
মৌসুমে পুরুষদের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের জন্য পলি উমরিগার পুরস্কার পেয়েছেন শুবমান
গিল। নারীদের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। একই সঙ্গে ওয়ানডেতে
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।
নারীদের
ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির পুরস্কার পেয়েছেন দিপ্তি। সেরা আন্তর্জাতিক অভিষেক
(নারী) পুরস্কার জিতেছেন শ্রী চারানি। আর পুরুষদের বিভাগে এই সম্মান পেয়েছেন হার্শিত
রানা।

নাহিদ রানার গতি আর তানজিদ হাসান তামিমের তাণ্ডবে প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয়টিতে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। মাজ সাদাকাতের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দুর্দান্ত বাঁহাতি স্পিনের ফাঁদে পড়ে বড় ব্যবধানে হেরেছে স্বাগতিকরা।
ফলে এখন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে। এই ম্যাচ দিয়েই নির্ধারণ হবে কারা পাবে লাল-সবুজে মোড়ানো সুদৃশ্য ট্রফি। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী খেলা।
চলতি সিরিজের আগে ৭৯টি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ২-১ ব্যবধানে ফল এসেছে ২৫টি ভিন্ন সিরিজে। বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ১২টি সিরিজ, আর ১-২ ব্যবধানে হেরে গেছে বাকি ১৩ সিরিজে।
এই ২৫ সিরিজের মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ হয়েছে ১৬ সিরিজে। যেখানে ৮টি সিরিজে জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ। বাকি ৮ সিরিজে জিতেছে প্রতিপক্ষ দল।
১-১ থেকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতা ৮ ঘটনার মধ্যে ৬টিতে প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয়টি হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ জিতে সিরিজের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
এবার তেমন আরেক চ্যালেঞ্জের সামনে তারা। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে বাংলাদেশও অলআউট হয়েছে ঠিক ১১৪ রান। শেষ ম্যাচে তাই প্রথম ওয়ানডের পুনরাবৃত্তিই চাইবে স্বাগতিকরা।
গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানোর শঙ্কায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত তা হতে দেয়নি বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা বা ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিপক্ষেও দ্বিতীয় ওয়ানডে হারলেও, সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছিল তারা।
এবার ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সেটি করতে পারলে র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পাবে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারলে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে ৯ নম্বরে উঠে যাবে তারা। আর শেষ ম্যাচ হারলে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে থেকে যাবে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচ জিতে নেওয়ার পরও সিরিজ হারের নজিরও আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ২০০৮ সালে নিউ জিল্যান্ড ও ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১-০তে লিড নেওয়ার পর বাকি দুই ম্যাচ হেরে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ।
তবে নিশ্চিতভাবেই নিউ জিল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ে নয়, বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা সিরিজের পুনরাবৃত্তির খোজেই থাকবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
মিরপুরে গতকাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সালমান আলী আগার বিতর্কিত রান আউট প্রসঙ্গ। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
শুক্রবার টস হেরে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩৯তম ওভার করতে আসেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়কের করা চতুর্থ বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অপরপ্রান্তে ৬৪ রানে থাকা সালমান আলি আগা রান নিতে গিয়ে সামনে গিয়ে বলটি এগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মিরাজের হাতে।
তবে মিরাজ বলটি হাতে নিয়ে দ্রুত স্ট্যাম্পে ভাঙেন এবং রান আউটের আবেদন করেন। আম্পায়ার আউট দিলে সালমান আলি আগা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পাকিস্তানের সাবেক অনেক ক্রিকেটার বিষয়টিকে ফেয়ার প্লে নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশতাক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মিরাজ কোনো ভুল করেননি এবং তিনি স্রেফ খেলার নিয়মই অনুসরণ করেছেন।
“ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে ড্রেসিংরুম থেকেও বিষয়টি বুঝে উঠতে সময় লেগেছে। বলটি তখনও খেলায় ছিল। সালমান আলী আগা ক্রিজ থেকে বেশ অনেকটা দূরে ছিলেন।”
“সম্ভবত তিনি ভেবেছিলেন বলটি ‘ডেড’ হয়ে গেছে এবং তিনি মিরাজকে বলটি তুলে দিয়ে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। অন্য দিকে মিরাজ সম্পূর্ণ খেলার মধ্যে ছিলেন এবং তিনি সুযোগ দেখা মাত্রই রান আউট করেছেন। মিরাজ কোনো ভুল করেনি।”
মিরপুরের এই পেস সহায়ক এবং চ্যালেঞ্জিং পিচ নিয়ে মুশতাক বলেন, এটি মূলত আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ।
“আমরা এমন পিচ তৈরি করছি কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী বিশ্বকাপে এমনই কন্ডিশন পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো দল হতে চাইলে যেকোনো কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হবে।”
প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দুর্দান্ত শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি জিতে ট্রফি নিজেদের ঘরে রাখতে আশাবাদী মুশতাক।
“আমাদের গত ম্যাচের ভুলগুলো দ্রুত ভুলে যেতে হবে। আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য আছে এবং ছেলেরা যদি নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকঠাক কার্যকর করতে পারে, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা সিরিজ জিতব।”