১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৪:৩০ পিএম

হারলেই বিদায়, জিতলেও থাকতে হবে অপেক্ষায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য তাই বাঁচা-মরার লড়াই। আর এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুইশ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। চলতি এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত এই ফরম্যাটে তাদের মোট ম্যাচ সংখ্যা এখন ১৯৯টি।
কুড়ি ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ১৯৯ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৭৯টি। তারা হেরেছে ১১৫ ম্যাচে। আর ফল আসেনি বাকি পাঁচটিতে। বিশ্বের নবম দেশ হিসেবে এখন দুইশ ম্যাচ খেলার দুয়ারে দাঁড়িয়ে তারা।
আরও পড়ুন
| বৈরী আবহাওয়ায় স্থগিত এনসিএল টি-টোয়েন্টি |
|
আবু ধাবির জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় টস হয়ে গেলেই ২০০ ম্যাচে মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে বাংলাদেশ।
২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর প্রায় ১৫ বছর পর, ২০২১ সালের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই নিজেদের ১০০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকারের ফিফটিতে সেদিন ৮ উইকেটে জিতেছিল তারা।
প্রথম একশ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল মাত্র ৩৩টি। বিপরীতে হেরেছিল প্রায় দ্বিগুণ, ৬৫টি ম্যাচ। ফল আসেনি দুই ম্যাচে।
পরের ৯৯ ম্যাচে অবশ্য কিছুটা উন্নতির ছাপ আছে। গত চার বছরে খেলা এই ৯৯ ম্যাচে তাদের জয় ৪৬ ম্যাচে আর হেরেছে ৫০টি। টসের পর পরিত্যক্ত হয়েছে বাকি তিন ম্যাচ।
একশতম ম্যাচের মতো এবার দুইশতম ম্যাচেও জিততে পারলে মিলবে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের টিকেট।
বাংলাদেশ চাইলে অনুপ্রেরণা নিতে পারে অন্য দুই সংস্করণ থেকে। কারণ এরকম মাইলফলকের ম্যাচে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে জয় দিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা।
২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের শততম ওয়ানডে ম্যাচে ১৫ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। পরে ২০০৯ সালে ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩ উইকেট হারায় তারা।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের ৩০০তম ওয়ানডে। সেদিন অবশ্য জিততে পারেনি তারা। তবে ২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের ৪০০তম ওয়ানডে ম্যাচে ১০৫ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
| ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ফিরলেন ম্যাক্সওয়েল |
|
এছাড়া টেস্টে নিজেদের শততম ম্যাচে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে কলম্বোর পি সারা ওভালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন দল।
এবার দুইশতম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে লিটন কুমার দাসের দল উৎরে যেতে পারে কিনা সেটিই দেখার।
বাংলাদেশের আগে দুইশ টি-টোয়েন্টি খেলা দলগুলো হলো- পাকিস্তান (২৭৪), ভারত (২৪৯), নিউ জিল্যান্ড (২৩৫), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২২৮), অস্ট্রেলিয়া (২১১), শ্রীলঙ্কা (২১১), ইংল্যান্ড (২০৯) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (২০৬)।
ম্যাচ খেলার তালিকায় সবার ওপরে থাকলেও জয়ের রেকর্ডে অবশ্য শীর্ষে নেই পাকিস্তান। ১৬৬ জয় নিয়ে সবার ওপরে ভারত। তাদের পরেই পাকিস্তান, ১৫৬ জয়। এছাড়া একশর বেশি জয় আছে নিউ জিল্যান্ড (১২৩), অস্ট্রেলিয়া (১১৯), দক্ষিণ আফ্রিকা (১১২) ও ইংল্যান্ডের (১০৯)।
No posts available.
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ এম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ এম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩ এম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৭ পিএম

কানাডা ক্রিকেটের জন্য এক বড়সড় ধাক্কা হিসেবে সামনে এসেছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (এসিইউ) তদন্ত। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডার একটি ম্যাচসহ দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে এসিইউ।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন, বর্তমানে এসিইউ-এর দুটি সক্রিয় তদন্ত চলছে। যার মধ্যে ক্রিকেট কানাডার প্রশাসনিক পর্যায়ের দুর্নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোড বা নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে।
কানাডার একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র বিষয়ক প্রোগ্রাম 'দ্য ফিফথ এস্টেট'-এর নির্মিত 'করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট' নামক একটি তথ্যচিত্রে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো সামনে আসে। গত শুক্রবার দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি-তে ৪৩ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি প্রচারিত হয়। সেখানে কানাডা ক্রিকেটের সুশাসন ও দুর্নীতির নানা দিক নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এই তথ্যচিত্র অনুযায়ী, বিশ্বকাপে দুর্নীতির অভিযোগটি মূলত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে। আইসিসির আতশি কাঁচের নিচে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভারটি, যখন কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া বল করতে আসেন। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ২২ বছর বয়সী বাজওয়াকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ব্যাটিং অলরাউন্ডার বাজওয়া যখন বল হাতে নেন, তখন নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৩৫ রান। কানাডার পেসার জাসকারান সিং এবং ডিলন হেইলিগার শুরুটা বেশ বাজে করেছিলেন, তারা যথাক্রমে ১৫ ও ১৪ রান খরচ করেন। পরিস্থিতির চাপে কানাডা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই স্পিন আক্রমণ আনে এবং সাদ বিন জাফর একটি 'উইকেট মেইডেন' ওভার করেন। পরের ওভারে হেইলিগার একটি উইকেট শিকার করেন—আর ঠিক তখনই বাজওয়া বোলিংয়ে আসেন। ওভারের শুরুতেই তিনি একটি নো-বল করেন, এরপর লেগ সাইডে একটি ওয়াইড দেন এবং শেষ পর্যন্ত ওই এক ওভারেই ১৫ রান দিয়ে বসেন।
আইসিসির অপর তদন্তটি শুরু হয়েছে কানাডার তৎকালীন কোচ খুররম চৌহানের একটি টেলিফোন কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে। সেখানে চৌহান দাবি করেন যে, ক্রিকেট কানাডার তৎকালীন সিনিয়র বোর্ড সদস্যরা জাতীয় দলে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। গত বছর এই অডিওটি ফাঁস হয় এবং তখন থেকেই এটি এসিইউ-এর তদন্তাধীন রয়েছে। ওই রেকর্ডিংয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টার কথাও উল্লেখ আছে, যদিও সেগুলোর স্বপক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো অকাট্য প্রমাণ জোগাড় করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তীকালীন জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন,
‘সিবিসি প্রচারিত প্রোগ্রামটি সম্পর্কে এসিইউ অবগত রয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রচলিত কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, এই তথ্যচিত্রে থাকা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে এই মুহূর্তে এসিইউ কোনো মন্তব্য করতে পারবে না।’
এই তথ্যচিত্রে কানাডার আরও একজন সাবেক কোচ পুবুদু দাসানায়েকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তিনিও দলে খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর অনুচিত প্রভাব খাটানোর একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁর ক্ষেত্রে ঘটনাটি ছিল ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়। 'দ্য ফিফথ এস্টেট' জানায়, বোর্ড দাসা নায়েককে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় নির্বাচনে ‘বাধ্য করার’ চেষ্টা করেছিল এবং যখন তিনি তা মানতে রাজি হননি, তখন তাকে জানানো হয় যে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ করে দেওয়া হবে (বরখাস্ত করা হবে)। দাসা নায়েক বর্তমানে এই 'অন্যায় বরখাস্তের' বিরুদ্ধে ক্রিকেট কানাডার নামে মামলা লড়ছেন।

ক্রিকেটে বর্তমানে ভারতের আধিপত্য কতটা সেটা সবারই জানা। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্তক সংস্থার (বিসিসিআই) প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ইশারাতেই ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চের অনেক সমীকরণ নির্ধারিত হয়। আয়ের সিংহভাগ এবং বিশাল দর্শকচাহিদার কারণে আইসিসি-ও ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিসিসিআই যে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড, এ কথা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির মুখে উঠে এসেছে। কিন্তু কতটা ধনী, কী পরিমাণ অর্থ আছে - সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। বছর দুয়েক আগে ক্রিকবাজের একটি প্রতিবেদন জানিয়েছিল, ভারতীয় বোর্ডের কোষাগারে থাকা অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি রুপির বেশি। নিশ্চিতভাবে সেই অঙ্ক এখন ফুলে ফেঁপে আরও বেড়েছে। এমনকি বিসিসিআইয়ের কাছে এখন যে পরিমাণ টাকা আছে সেটা নাকি স্বয়ং ঈশ্বরের কাছেও নেই!
‘দ্য ওভারল্যাপ ক্রিকেট এক্সক্লুসিভ’-এ ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনের মুখোমুখি হয়েছিলেন আইপিএল-এর প্রতিষ্ঠাতা ললিত মোদী। ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের এই আলোচনা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি ছিল বিস্ফোরক তথ্যে ঠাসা। টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, বিসিআইয়ের ক্ষমতা, আইপিএলের দাপটসহ নানন বিষয় নিয়ে কথা বলেন ললিত মোদী।
বিসিসিআইয়ের রিজার্ভে ঠিক কত টাকা আছে? মাইকেল ভনের এমন প্রশ্নে ললিত মোদি বলেন,
‘বিলিয়ন, বিলিয়ন, প্রায় ১০ বিলিয়ন।’
এর আগে বিসিসিআইয়ের প্রভাব স্বীকার করলেও ভারতের ক্রিকেটীয় অবকাঠামো নিয়ে নিজের হতাশা ঝাড়েন ললিত। সবচেয়ে ধনী বোর্ড হয়েও ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো আধুনিক স্টেডিয়াম বানাতে না পারার ব্যর্থতার কথা বলেন তিনি। আর এর পেছনে দূনীর্তিকে দায়ী করেন তিনি।
ললিত মোদি বলেন,
‘এটা তো হওয়ারই ছিল। ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া যেমন কয়েকশ বছর ক্রিকেট শাসন করেছে, আমাদের জনসংখ্যার কারণে এখন ভারতের হাতে ক্ষমতা আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের কাছে এখন অঢেল টাকা থাকলেও আমরা লর্ডসের মতো বিশ্বমানের স্টেডিয়াম বানাতে পারছি না। চারিদিকে এত দুর্নীতি! আমাদের স্টেডিয়ামের টয়লেটগুলো দেখো, কোনো এস্কেলেটর নেই, সুযোগ-সুবিধা একদম বাজে। বিসিসিআই-এর উচিত এগুলো সব ভেঙে নতুন করে বানানো। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের মতো আধুনিক করা উচিত।’
বিশ্বের সবচেয়ে বড় নরেদ্রো মোদি স্টেডিয়ামেও আধুনিকায়নের ঘাটতি আছে বলছেন ললিত মোদি। ললিত মোদী ক্ষোভের সাথে জানান যে, ভারতের কাছে অঢেল টাকা থাকলেও স্টেডিয়ামের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। লর্ডস বা ওয়েম্বলির মতো বিশ্বমানের স্টেডিয়াম ভারতে থাকা উচিত ছিল। অথচ ভারতের স্টেডিয়ামগুলোতে না আছে ভালো টয়লেট, না আছে এস্কাললেটর বা ভালো ক্যাটারিং ব্যবস্থা তিনি মনে করেন, বর্তমানের সব স্টেডিয়াম ভেঙে ফেলে নতুন করে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা উচিত।
ভারতীয় স্টেডিয়ামগুলোকে ‘এক টুকরো আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ললিত বলেন,
‘বাইরে থেকে দেখতে এগুলো বড় বা দর্শকে ঠাসা মনে হলেও আদতে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় কিছুই না। যেন স্টেডিয়ামগুলো আবর্জনার স্তুপ। এটা সত্যিই এমন। এমনকি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে পুরোতন স্টেডিয়ামও এর চেয়ে ভালো।’
যখন ললিত মোদিকে বিসিসিআই-এর ক্যাশ রিজার্ভ বা জমানো অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি সরাসরি বলেন যে বিসিসিআই-এর কাছে
‘ঈশ্বরের চেয়েও বেশি টাকা’ আছে। তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন যে এই তহবিলের পরিমাণ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার (দশ বিলিয়ন বা তারও বেশি হতে পারে)।’

নতুন সিরিজের প্রথম ম্যাচে কয়েন ভাগ্য পাশে পেলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে।
টসের ঠিক আগমুহূর্তে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের কাছে ছুটে আসেন বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাচের আগে অনুশীলনে হাঁটুতে চোট পাওয়া অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় তখন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় একাদশে।
উইকেট দেখে ভালো মনে হওয়ায় আগে ব্যাটিং নেওয়ার কথা বলেছেন ল্যাথাম। বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ বলেছেন, নতুন উইকেট হওয়ায় টস জিতলে তিনি ফিল্ডিংই নিতেন।
গত পাকিস্তান সিরিজের শেষ ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন এই একটিই। মোস্তাফিজের শেষ মুহূর্তের চোটে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর আবার ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেলেন শরিফুল।
অন্য দিকে গত জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে খেলা শেষ ওয়ানডের একাদশে মোট ৮টি পরিবর্তন নিউ জিল্যান্ড দলে। ওই ম্যাচ খেলা হেনরি নিকোলস, উইল ইয়াং ও জেডেন লেনক্স আছেন শুধু এই ম্যাচের একাদশে।
বাংলাদেশ একাদশ
সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা
নিউ জিল্যান্ড একাদশ
হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম, মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, জেডেন লেনক্স, উইল ও'রোক

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ভাবনা থেকে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের খেলা শুরু হবে বেলা ১১টায়। এতে কমে গেছে রাতে শিশিরের প্রভাব পড়ার শঙ্কা। তবে তপ্ত গরমে দিনের বেলা ঘাম নিয়ে চিন্তিত কিউই স্পিনার জেডেন লেনক্স।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাধারণত দিবারাত্রির ম্যাচে শেষ দিকে গিয়ে বোলিং দলের কাজ কঠিন করে দেয় শিশিরের উপদ্রব। তবে এবারের খেলা সন্ধ্যায় শেষ হয়ে যাবে বিধায় সেই সমস্যায় পড়বে না দুই দল।
শিশির না থাকলেও দুই দলকে মোকাবিলা করতে হবে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার সঙ্গে। আর একজন স্পিনার হিসেবে ঘর্মাক্ত হাতে বল গ্রিপ করার চ্যালেঞ্জটা ভালোভাবেই জানেন লেনক্স।
প্রথম ম্যাচের আগের দিন তাই নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘামের কথা আলাদা করে বললেন ৩১ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার।
“ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় না, এতে খুব বেশি কিছু বদলে যায়। কারণ শিশির থাকুক বা না থাকুক, ঘাম তো বড় একটি বিষয় হয়েই থাকে। একজন স্পিনার হিসেবে আপনাকে সবসময়ই ঘামে ভেজা হাত সামলাতে হয়।”
“তাই সেটাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটাই আসল- হাতে মাটি ঘষা বা এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করা। শিশির একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারত, কিন্তু ঘাম আর আর্দ্রতা তো যথাকবেই। তাই মূল ব্যাপার হলো এগুলোকে কীভাবে সামাল দেওয়া যায়।”
গত কিছুদিন ধরে মিরপুরের তাপমাত্রা ছুঁয়ে যাচ্ছে ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা কখনও কখনও গায়ে অনুভূত হয় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। ম্যাচের দিনও এর ব্যতিক্রম হওয়ার পূর্বাভাস নেই।
তপ্ত দুপুরে খেলার চ্যালেঞ্জ ভালোভাবেই জানা লেনক্সের। তবে এটিকে সমস্যা মনে না করে দল হিসেবে মানিয়ে উপভোগ করার কথাই বললেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
“ম্যাচের শেষ দিকে গিয়ে এর (অতিরিক্ত গরম) প্রভাব কিছুটা পড়বে। তবে উপমহাদেশে এটিই স্বাভাবিক। এখানে আপনাকে বেশ কঠিন আবহাওয়ার মুখোমুখি হতেই হবে। সত্যি বলতে, এমন জায়গায় আসার আনন্দই হলো এমন কিছু অভিজ্ঞতা পাওয়া, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।”
“দল হিসেবে আমরা এটা উপভোগ করব। চারপাশে তাকালে দেখবেন সবাই ঘামে ভিজে যাচ্ছে, ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। কিন্তু সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও যদি টিকে থাকা যায়, সেটার মধ্যেও একটা আলাদা আনন্দ আছে।”
এবারের বাংলাদেশ সফরে নিউ জিল্যান্ড দলে নেই মূল দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে স্রেফ ৩ জন ক্রিকেটারের।
তবে গত বছর নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশে খেলে গেছেন লেনক্স। আর গত জানুয়ারিতে ভারতের মাঠে খেলেছেন ওয়ানডে সিরিজ।
উপমহাদেশে খেলার এই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চান ৩১ বছর বয়সী স্পিনার।
“গত বছর বাংলাদেশে ‘এ’ দলের সফরের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু নিতে চেষ্টা করব। তাই ভারতের মতো সম্পূর্ণ নতুন না হয়ে, এখানে কিছুটা পরিচিত পরিবেশ পাচ্ছি। উপমহাদেশে ফিরে আসাটা সবসময়ই রোমাঞ্চকর।”
“এই অঞ্চলে ক্রিকেট সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। মানুষের ভেতরে যে আবেগ আর ভালোবাসা, তা সামনে থেকে দেখা এবং সেই উন্মাদ দর্শকদের সামনে খেলা, সবসময়ই দারুণ অভিজ্ঞতা।”

বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যাটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অন্যরকম। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক ছাদের নিচে পাওয়া গেল স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের শফিকুল হক হীরা থেকে শুরু করে সবশেষ জাকের আলি অনিক এবং তাদের মাঝে আরও যারা ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।
তারা সবাই একত্রিত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন প্রবর্তিত ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ গ্রহণ করার জন্য। যা মূলত বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালের দারুণ এক উদ্যোগ। এই ক্যাপ্টেনস কার্ডের সুবাদে বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকবেন অধিনায়কেরা।
ক্যাপ্টেনস কার্ডের সুবিধাদির মধ্যে সবচেয়ে বড় যেটি, এই কার্ড দেখিয়ে বাংলাদেশের যে কোনো মাঠে হওয়া যে কোনো খেলা আজীবন ফ্রিতে দেখতে পারবেন অধিনায়কেরা। এসিসি কিংবা আইসিসি ইভেন্টের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা পাবেন তারা।
সাবেক অধিনায়কদের জন্য আগে খেলা দেখার ব্যবস্থা ছিল সৌজন্য টিকিটের মাধ্যমে। সবার জন্য বরাদ্দ থাকত ২টি করে টিকিট। যা বিসিবি থেকে ফোন করে সংগ্রহ করতে হতো তাদের। পরে সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে হতো।
নতুন এই কার্ডের আওতায় ভিআইপি সুবিধা পাবেন ক্রিকেটাররা। কার্ড দেখিয়ে সরাসরি স্টেডিয়ামের ক্যাপ্টেনস বক্সে বসে খেলা দেখতে পারবেন তারা। এর সঙ্গে আগের মতো দুটি ম্যাচ টিকিটও তারা পাবেন নিজেদের পরিবারের সদস্যদের জন্য।
ক্যাপ্টেনস কার্ডের সুবাদে স্টেডিয়ামের ভেতরে ভিআইপি এরিয়াতে ফ্রি পার্কিং সার্ভিস পাবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়কেরা। এছাড়াও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতো হেলথ ইনস্যুরেন্সের আওতায় ঢুকে যাবেন তারা।
ক্যাপ্টেনস কার্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠানের শুরুতে এর পেছনে নিজের ভাবনার কথা জানান তামিম।
“কেন এই ক্যাপ্টেনস কার্ড আইডিয়াটা এলো? আমরা ক্রিকেটার বা একজন অধিনায়ক যখন অবসরে যাই, সবার একটাই আশা থাকে, সেটা হলো সম্মান। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে আমাদের যারা অধিনায়ক আছেন যাদের কারণে আজকে বাংলাদেশ ক্রিকেট এই জায়গায়, যারা এর পিলার, এত কিছু আলোচনা-সমালোচনা; এগুলো কিন্তু উনাদের কারণেই।”
“আমরা হয়তোবা সুফলটা ভোগ করছি। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন এত সুযোগ-সুবিধা ছিল না। তখন তাদের প্যাশন ছিল। তাদের এই ভালোবাসা, প্যাশনের কারণেই তারা ক্রিকেট খেলেছেন এবং আজকে আমাদের এত খ্যাতি-যশ ও সবকিছু আছে। এই সবকিছুর শুরুটা তাদের থেকেই। আমি এটিকে মন থেকে সম্মান করি।”
তামিম বারবার মনে করিয়ে দেন, এই ক্যাপ্টেনস অনেক বড় কিছু নয়। তবে সাবেক অধিনায়কদের সম্মান দেওয়ার একটি প্রয়াস মাত্র।
“ এই ক্যাপ্টেনস কার্ড কি অনেক বড় কোনো কিছু? অবশ্যই না। ক্রিকেটে তাদের যে অবদান, ওই হিসেবে এই ক্যাপ্টেনস কার্ড অনেক বড় কিছু না। তবে এটা সবেমাত্র শুরু। ক্রিকেট বোর্ড যত বড় হবে, এই কার্ডের সুবিধাও তত বাড়তে থাকবে। আমি খুবই সামান্য জিনিস করেছি, খুব বেশি কিছু না। আজকে থেকে আজীবন এই কার্ডটা হলো আপনাদের পরিচয়।”
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৭ সালে প্রথম জাতীয় ক্রিকেট দল গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৭ জন অধিনায়ক পেয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। আর ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে নারী ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৬ জন।
এদের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত থেকে ক্যাপ্টেনস কার্ড গ্রহণ করেছেন রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার সুমন, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, লিটন কুমার দাস, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলি অনিক।
বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবির আর বেঁচে নেই। এছাড়া ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাইমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান নানাবিদ কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
নারী অধিনায়কদের মধ্যে এদিন উপস্থিত ছিলেন শুধু সাবেক অলরাউন্ডার রোমানা আহমেদ। এছাড়া তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ফাহিম খাতুন নানাবিদ কারণে আসতে পারেননি।
তবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যাপ্টেনস কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।