১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

কিছু ক্ষণ, নির্দিষ্ট একটি দিন কিংবা কিছু মাঠ—যা ব্যাটারদের প্রিয়, তীর্থস্থানতুল্য। যেদিন, যেসম কিংবা যে মাঠে নিপুণ চিত্রশিল্পী হয়ে ওঠেন একেকজন ব্যাটার। যতক্ষণ তার ব্যাট চলে, মনে হয় কোনো অভিজ্ঞ চিত্রশিল্পী তার ক্যানভাসে সুনিপুণ তুলির আঁচড় দিয়ে চলেছেন। দেখতে যা ভারি চমৎকার।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলের প্রিয় স্টেডিয়াম যেমন বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী। এই মাঠের বাইশগজ তার জন্য এতই পয়া, যা বিরাট কোহলিকে কিং কোহলিতে রূপ দিতে সাহায্য করেছে। বেঙ্গালুরুর এই মাঠে আজ একটি কীর্তি গড়েছেন কোহলি।
বুধবার লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে খেলতে নামে বেঙ্গালুরু। ম্যাচে লখনৌকে অল্পতেই বেধে বড় জয়ের পথে দলটি। এদিন ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন কোহলি। তাতে টি-টোয়েন্টিতে এক ভেন্যুতে সর্বাধিক রান মালিক বনে যান তিনি।
কোহলি এখন পর্যন্ত বেঙ্গালুরুর এই স্টেডিয়ামে ১০৯ ইনিংস খেলেছেন। ৪ সেঞ্চুরিতে এখানে তার রান ৩ হাজার ৭৫১ রান। সাউদাম্পটনে এরচেয়েও বেশি অর্থাৎ ১১৭ ইনিংস খেলে ৩ হাজার ৫৮৫ রান করেছিলেন জেমস ভিন্স। তার সেঞ্চুরি দুটি।
নির্দিষ্ট এক ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রান সংগ্রাহকদের কাতারে সেরা পাঁচে বাংলাদেশের দুইজন মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল রয়েছেন। তিন নম্বর স্থানটি মুশফিকের। এই উইকেটকিপার ব্যাটার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়অমে ১৪০টি টি-টোয়েন্টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। যাতে তার রান সংখ্যা ৩ হাজার ৪৫৯।
পঞ্চমে থাকা তামিম ইকবাল যিনি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা এই বাঁ-হাতি ব্যাটার সিঙ্গল এক ভেন্যু অর্থাৎ হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরে বাংলায় ১১০টি কুড়ি কুড়ি ম্যাচ খেলেছেন। ২ সেঞ্চুরিতে তার প্রাপ্ত রান ৩ হাজার ২৩৮ রান। চতুর্থস্থানে থাকা নামটি অ্যালেক্স হেলসের। ইংলিশ ব্যাটার নটিংহ্যামে ১০৯ ম্যাচ খেলে ৩ হাজার ২৪১ রান করেছেন।
No posts available.

নানান অনিশ্চয়তার চোরাগলি পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। ঢাকার ৬টি মাঠে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ডিপিএলের নতুন মৌসুম। এই টুর্নামেন্টকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতোই ফিক্সিংবিরোধী প্রটোকল অনুসরণ করা হবে।
ডিপিএলের নতুন আসর সামনে রেখে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিসিবি। যেখানে শক্ত ফিক্সিংবিরোধী প্রটোকলের কথা জানান অ্যাড-হক কমিটির প্রধান ও সিসিডিএম (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস) চেয়ারম্যান তামিম ইকবাল।
এবারের প্রিমিয়ার লিগে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে থাকছে ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ। আর পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর হিসেবে আছে বসুন্ধরা সিমেন্ট।
আরও পড়ুন
| লিটন ঝড়ের পর বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা |
|
সংবাদ সম্মেলনে তামিমসহ ছিলেন ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এন্ড বিজনেস কো-অর্ডিনেটর অব ম্যানেজিং ডিরেক্টর তানভির আনজুম। এছাড়া বিসিবির পক্ষ থেকে ছিলেন অ্যাড-হক কমিটির ৪ সদস্য ফাহিম সিনহা, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু ও রফিকুল ইসলাম বাবু।
টুর্নামেন্ট সম্পর্কে ধারণা দিয়ে শুরুর বক্তব্যের এক পর্যায়ে আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের (আকু) নিয়ম-নীতি অনুসরণের কথা বলেন তামিম।
“বিপিএলে বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। শুধু ম্যানেজারের কাছে ফোন থাকে। এটা আইসিসির অ্যান্টি-করাপশনের অনেকগুলো রুলসের মধ্যে একটা। এই জিনিসগুলো আমরা এবার বাস্তবায়ন করা শুরু করছি। প্রত্যেকটা দলই এরই মধ্যে আমাদের আকুর সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করে প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে।”
“এই জিনিসগুলোর প্রতি আমরা খুবই সিরিয়াস। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার প্রশ্ন আসে না। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেমন হয়, তেমনি এখানেও সেগুলো অনুসরণ করা হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তোবা একটু কঠিন হবে। তবু আমাদের তরফ থেকে যতটুকু আমরা পারি আমরা চেষ্টা করব এই জিনিসগুলো মেইনটেইন করতে।”
আরও পড়ুন
| তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে অপরিবর্তিত বাংলাদেশ দল |
|
এছাড়া এবারই প্রথম একসঙ্গে ৬টি ভেন্যুতে হবে খেলা। সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের একমাত্র খেলাধুলার চ্যানেল টি স্পোর্টস। টিভির পাশাপাশি ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে খেলা। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটও সম্প্রচার করায় টি স্পোর্টসকে ধন্যবাদ জানান তামিম।
বিকেএসপির ৩ ও ৪ নম্বর মাঠের পাশাপাশি বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি, পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমি, পুবেরগাও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-২ (পিকেএসপি) ও ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে হবে এবারের প্রিমিয়ার লিগের খেলা।
তীব্র গরমের মাঝে খেলা হবে বিধায় যে কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতা মোকাবিলার জন্য সব মাঠের জন্য আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স রাখবে বিসিবি। এছাড়া ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঠিক রাখতে বিশেষ ডায়েট অনুসরণ করে দুপুরের খাবার সরবরাহ করবে বোর্ড।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগেই ছিল বৃষ্টির শঙ্কা। তবে এর মাঝেই শুরু হলো খেলা। তিন নম্বরে নেমে ঝড় তুললেন লিটন কুমার দাস। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই নেমে গেল ঝুম বৃষ্টি। ফলে বন্ধ হয়ে গেল খেলা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় খেলা শুরু হয়ে ৩৭ মিনিট পর বন্ধ হয়ে গেছে খেলা। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের আগপর্যন্ত ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান করেছে বাংলাদেশ দল।
আপাতত অপেক্ষা বৃষ্টি থামার। ম্যাচের কাট অফ টাইম ৫টা ৪৮ মিনিট। অর্থাৎ ন্যুনতম ৫ ওভারের ম্যাচের জন্য ৫টা ৪৮ মিনিটের মধ্যে শুরু করতে হবে খেলা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে দারুণ ব্যাটিংয়ে দুই চারসহ ১২ রান নেন সাইফ হাসান। তবে চতুর্থ ওভারে অভিষিক্ত জেডেন লেনক্স আক্রমণে আসতেই আউট হয়ে যান তিনি। ছক্কার খোঁজে হাওয়ায় ভাসিয়ে কাভারে ক্যাচ দেন ১১ বলে ১৬ রান করা ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পঞ্চম বোলার হিসেবে অভিষেকে প্রথম বলে উইকেট পেলেন লেনক্স। আর নিউ জিল্যান্ডের তৃতীয় বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। আগের দুজনও (লকি ফার্গুসন ও কোল ম্যাকঙ্কি) করেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই।
এরপর পঞ্চম ওভারে জোড়া আঘাত করেন এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা বেন সিয়ার্স। ক্রস ব্যাটে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হন ১০ বলে ৬ রান করা তানজিদ হাসান তামিম। পরের বলে আপার কাট করতে গিয়ে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দেন পারভেজ হোসেন ইমন।
দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা দারুণভাবে সামাল দেন লিটন। পাল্টা আক্রমণে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বলে ২৫ রানে অপরাজিত বাংলাদেশ অধিনায়ক। এছাড়া তার সঙ্গী হিসেবে আছেন ৫ বলে ২ রান করা তাওহিদ হৃদয়।
বৃষ্টি থামলে আবার নামবেন লিটন ও হৃদয়। তবে ক্রমেই বাড়ছে বৃষ্টির মাত্রা। উইকেট ও এর চারপাশ ঢেকে রাখা হয়েছে কাভার দিয়ে। অনাবৃত জায়গায় এরই মধ্যে জমে গেছে পানি। তবে মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেম ভালো হওয়ায় শুকাতে বেশিক্ষণ লাগবে না।

রোদ
ঝলমলে দিনের মাঝে হুট করেই আঁধার নেমে এলো মিরপুরের আকাশে। বৃষ্টির শঙ্কার কারণেই হয়তো নির্ধারিত সময়ের
৩ মিনিট আগে হয়ে গেল টস। যেখানে কয়েনভাগ্য পাশে পেলেন না লিটন কুমার দাস।
টস
জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি।
তাই মেঘাচ্ছন্ন কন্ডিশনে আগে ব্যাট করতে নামবে বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার দুপুর ২টায় শুরু
হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।
বাংলাদেশ
একাদশে এসেছে একটি পরিবর্তন। পিঠের
চোটের কারণে বাদ পড়েছেন তানজিম হাসান সাকিব। তার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
নিউ
জিল্যান্ড দলে পরিবর্তন ২টি।
বাদ পড়েছেন ম্যাট ফিশার ও বেন লিস্টার। তাদের জায়গায় একাদশে এসেছেন বেন সিয়ার্স আর
টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে জেডেন লেনক্সের।
বাংলাদেশ
একাদশ
সাইফ
হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন কুমার দাস, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম
হোসেন, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রিপন মন্ডল, শরিফুল ইসলাম
নিউ
জিল্যান্ড একাদশ
টিম
রবিনসন, কেটেন ক্লার্ক, ড্যান ক্লেভার, নিক কেলি, বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ
ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, বেন সিয়ার্স, জেডেন লেনক্স।

শেষ দুই ওভারে জয়ের সমীকরণ ছিল ২৮ রান। ১৯তম ওভারে ফাহিম আশরাফ ও ক্রিস গ্রিন মিলে ২২ রান তুললে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান, কিন্তু অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে মাত্র ৩ রান খরচ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হুনাইন শাহ।
পিএসএলের দ্বিতীয় এলিমেনটরে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ২ রানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে হায়দরাবাদ কিংসম্যান। আগামীকাল রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাবর আজম-নাহিদ রানার পেশাওয়ার জালমির মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশগ্রহণ করা হায়দরাবাদ।
শুক্রবার রাতে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় এলিমিনেটরে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান সংগ্রহ করে হায়দরাবাদ কিংসম্যান। জবাবে ৭ উইকেটে ১৮৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি ইসলামাবাদ।
আরও পড়ুন
| সিঙ্গেল-লিগ ফরম্যাটেই ডিপিএল |
|
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই খাতা খোলার আগে ফেরেন ওপেনার মাজ সাদাকাত। দ্বিতীয় উইকেটে সাইম আইয়ুব (৩৮) ও অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন (৪০) ৭০ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন। মাঝপথে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও লাবুশেন দ্রুত বিদায় নিলে ৮৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে হায়দরাবাদ।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন উসমান খান ও কুশল পেরেরা। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৪৬ বলে ১০১ রানের জুটিতে ১৮০ পেরোয় হায়দরাবাদ। উসমান ৩০ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন, আর পেরেরা করেন ২১ বলে ৩৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় হায়দরাবাদ।
১৮৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ইসলামাবাদের। ১৫ রানেই দুই ব্যাটারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। অধিনায়ক শাদাব খান (২২) ও ডেভন কনওয়ে (৩০) মিলে ৪২ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন।
এরপর জয়ের কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন মার্ক চ্যাপম্যান ও হায়দার আলী। চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৬৪ রানের জুটি। চ্যাপম্যান ২৬ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন।
এই দুজন ফেরার পর শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ২৮ রান। ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ আলীর বোলিংয়ে ২২ রান তুলে ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন ফাহিম আশরাফ ও ক্রিস গ্রিন। সেখান থেকে হুনাইন শাহর দুর্দান্ত ডেথ বোলিংয়ে জয় পায় নবাগত হায়দরাবাদ।

প্রথম ম্যাচের কল্যাণে একটা সম্ভাবনা জেগেছিল বৈকি। ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সেই উচ্চাশা ভিজিয়ে দেয় অগত্যা বৃষ্টি। অবশ্য আশা এখনও মরে যায়নি। শনিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ রাঙাতে পারলেই ২০২১ সালের পর আরও একবার কিউইদের টি-টোয়েন্টিতে হারানোর স্বাদ পাবে বাংলাদেশ।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ৬ উইকেটের জয়ে নিউ জিল্যান্ডের সিরিজ জয়ের কোনো সুযোগ নেই। শেষ ম্যাচটি জিতলে অন্তত ড্র করে ফিরতে পারবেন নিক কেলিরা। এক্ষেত্রেও অতিথিদের জন্য বড় প্রতিবন্ধক—অনাহূত বৃষ্টি। সিরিজ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফিরলেও বৃষ্টি হয়ে ওঠেছে শঙ্কার কারণ।
টি-টোয়েন্টিতে র্যাঙ্কিং কিংবা শক্তিমত্তা—সবদিক দিয়েই বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে নিউ জিল্যান্ড। মুখোমুখি লড়াইয়ে ২০ ম্যাচের চারটিতে জয় বাংলাদেশের। তবে ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম কুড়ি কুড়িতে লিটন দাসরা যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তা জুগিয়েছে চোখের শান্তি। অভয়ের কারণ হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টেরও। অন্তত লিটন দাস ব্রিগেড বুঝিয়েছেন, এভাবে খেলবে সিরিজ জেতা কোনো ব্যাপারই না!
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ছয় ব্যাটারের সবাই দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করেছেন। তার মধ্যে তাওহীদ হৃদয়ের ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে শেষদিকে শামীম পাটোয়ারীর ক্যামিও ইনিংস বাহবা কুড়িয়েছে বেশ। বল হাতে রিশাদ হোসেন, তানজিম সাকিবরা দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। এই দলটির ওপরই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ভরসা টিম ম্যানেজমেন্টের। তাদের চাওয়া— বরং উইনিং কম্বিনেশন নড়চড় নয়।
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শামীম পাটোয়ারী এই ইঙ্গিতটাই দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা স্পিন অলরাউন্ডার বলেন, ‘(প্রথম ম্যাচে) আমরা ভালো খেলতে পেরেছি। ইন্টেন্ট দেখাতে পেরেছি। পরের ম্যাচে এটা ধরে রাখতে চাই।’
শুধুই ইন্টেন্ট ধরে রাখা? অবশ্য নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় কোনো সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি, ‘আমাদের ভালো একটি সুযোগ আছে সিরিজ জয়ের। অবশ্যই চাইব জেতার জন্য খেলার।’
বাংলাদেশের মতো অভিন্ন লক্ষ্য নিউ জিল্যান্ডের। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অতিথি দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ডিন ফক্সক্রফট জানিয়েছেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃতীয় ম্যাচ রাঙাতে চান তারা।
নিউ জিল্যান্ড অলরাউন্ডার বলেন, ‘শেষ ম্যাচটা বৃষ্টির ফলে বাতিল হয়েছে। এখানে এসে সিরিজে সমতায ফেরানোর একটা সুযোগ পেয়েছি। দলের আবহ বেশ ভালো। সবাই ইতিবাচক আছে। প্রথম ম্যাচের পর ভাবার জন্য আমরা কয়েকদিন সময় পেয়েছি। ওই ম্যাচে আমরা অনেক কিছুই ভালো করেছি এবং অবশ্যই কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের নানা কিছু ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।’
মিরপুরের শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আরও একটি ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের হাতছানি লিটনদের সামনে। তবে বৃষ্টির চোখরাঙানি এড়িয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এবং আত্মবিশ্বাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে কিউইদের বিপক্ষে আরও একটি স্মরণীয় জয় উদযাপনের সুযোগ রয়েছে স্বাগতিকদের। এখন শুধু মাঠে নিজেদের মেলে ধরার অপেক্ষা।