
ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তের শেষ সাক্ষী সিডি গোপীনাথ ৯৬ বছর বয়সে চেন্নাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ভারতের প্রবীণতম টেস্ট ক্রিকেটার এবং অস্ট্রেলিয়ার নীল হার্ভের পর বিশ্বের দ্বিতীয় প্রবীণতম জীবিত টেস্ট খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।
১৯৫২ সালে চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত যখন তাদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয় পায়, সেই একাদশের সর্বশেষ জীবিত সদস্য ছিলেন গোপীনাথ। ১৯৩০ সালের ১ মার্চ জন্ম নেওয়া গোপীনাথ ভারত এবং মাদ্রাজের হয়ে ৮টি টেস্ট এবং ৮৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৫১ সালে মুম্বাইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়। ১৯৬০ সালে ইডেন গার্ডেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলেন।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টিতে ৯ উইকেট নিয়ে ব্রাজিলিয়ান পেসারের ইতিহাস |
|
সিডি গোপীনাথের মৃত্যুতে তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (টিএনসিএ) গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তারা লিখেছে,
‘শান্তিতে ঘুমান সিডি গোপীনাথ! ভারতীয় ক্রিকেটের একজন প্রকৃত পথিকৃৎ এবং ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়া সেই ঐতিহাসিক দলের শেষ জীবিত সদস্য। আপনার কীর্তি ক্রিকেটের সমৃদ্ধ ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।’
টেস্ট অভিষেকে ৮ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে গোপীনাথ তাঁর প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৫০ রান করেছিলেন, যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ রান করেন তিনি, ম্যাচটি ড্র হয়। তবে তাঁর অভিষেক সিরিজের পঞ্চম টেস্টটি ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের এক অনন্য মাইলফলক। চেন্নাইয়ে নিজেদের ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে ইনিংস এবং ৮ রানে হারিয়ে ভারত তাদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয় তুলে নেয়। সেই ম্যাচে গোপীনাথ করেছিলেন ৩৫ রান।
২০২৪ সালে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐতিহাসিক সেই স্মৃতি রোমন্থন করে গোপীনাথ বলেন,
‘যুক্তরাজ্য থেকে কিছু মানুষ এসে ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের ওপর আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। তারা সম্ভবত একটি বই লিখতে বা ভিডিও বানাতে যাচ্ছিলেন। আমি তাদের বললাম—“একটি মাত্র টেস্ট ম্যাচের ওপর আপনারা বই লিখবেন কীভাবে? একটা পুরো মৌসুম বা পাঁচ টেস্টের সিরিজ নিয়ে লিখলে তাও ঠিক ছিল। শুধু এই ম্যাচটা কেন? এত লেখার কী আছে এটা নিয়ে?”
তারা জবাবে বলেছিল,
“না, আমরা মনে করি এই জয়টি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট বা মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।” একদিক থেকে কথাটি সত্যি ছিল। আর আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে, আমি ভারত এবং মাদ্রাজ—উভয় দলের হয়েই এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে পেরেছি।’
আরও পড়ুন
| ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে নতুন সিদ্ধান্ত রশিদ খানের |
|
আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম—আপনারা আর কার কার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন? তারা বলল,
'আর কারোরই নয়, কারণ সেই দলের কেউ আর বেঁচে নেই। ওই দলের একমাত্র সদস্য হিসেবে আপনিই বেঁচে আছেন।' তখন আমি মজা করে বলেছিলাম, “তার মানে তো এখন আমি যা খুশি বলতে পারি (যেহেতু প্রতিবাদ করার মতো কেউ বেঁচে নেই)!'"
গোপীনাথ তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেন ১২ ইনিংসে ২৪২ রান নিয়ে। অন্যদিকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল; সেখানে ৮৩ ম্যাচে ৪২.১৬ গড়ে তিনি ৪২৫৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। গোপীনাথের প্রয়াণের পর, ৯৫ বছর বয়সী চন্দ্রকান্ত পাটানকর এখন ভারতের প্রবীণতম জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার। পাটানকর ১৯৫৬ সালে ইডেন গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন।
No posts available.
৯ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫৪ পিএম

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে টেস্ট ক্রিকেটে উপস্থিতির হার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রশিদ খান। পিঠের পুরোনো চোটের ঝুঁকি এড়াতে এখন থেকে বছরে একটির বেশি টেস্ট না খেলার পরিকল্পনা করছেন ২৭ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই লাল বলের ক্রিকেট থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন তিনি।
আইপিলে বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে এক রানের নাটকীয় জয় পায় গুজরাট টাইটানস। ম্যাচের পর নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন রশিদ।
২০২৩ সালে পিঠের চোটের পর চিকিৎসকরা রশিদ খানকে লাল বলের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। রশিদ বলেন, ‘‘ডাক্তার আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘তুমি যদি ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে চাও, তবে লাল বলের ক্রিকেট ছাড়তে হবে। কারণ এটি তোমার শরীর নিতে পারবে না।’ তবুও আমি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছি এবং এক ম্যাচেই ৫৫ ওভার বোলিং করেছি দেখে ডাক্তার অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।’’
আরও পড়ুন
| ঝড় তুলেও কেন দলে নেই ইমন, ফিরবেন কবে |
|
আগামী ৬ জুন ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের পরবর্তী টেস্টে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। রশিদ বলেন, ‘আমি এ বছর ইতিমধ্যেই একটি টেস্ট খেলেছি। তাই এখন আমি একটু সহজভাবে নেব। ভাবুন তো, ওই টেস্ট ম্যাচে যদি আমার পিঠের কোনো ক্ষতি হয়ে যায়! আমি তো আর ১০০টি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারব না। বছরে যদি একটি করে টেস্ট খেলেন, তবে ১০০ টেস্ট খেলতে তো ১০০ বছর লাগবে। আর টেস্ট ক্রিকেটে (আমাদের জন্য) নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যও নেই।’
টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে অনাগ্রহ দেখালেও ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিয়মিত খেলতে মুখিয়ে আছেন রশিদ। বিশেষ করে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেকে ফিট রাখতে চান ২৬ বছর বয়সী এই তারকা, ‘ওয়ানডে উপভোগ করি এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের হয়ে এই ফরম্যাটে খেলতে চাই। তবে লোড ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। টেস্টে সারাদিন ২০-২৫ ওভার বোলিং করা আমার জন্য এখন বেশ কঠিন।’
২০১৮ সালে টেস্ট অভিষেকের পর ৬ ম্যাচে ২০.৪৪ গড়ে ৪৫ উইকেট শিকার করেছেন রশিদ। বর্তমানে আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের হয়ে তিন ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে দলের বোলিং বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেরে তৃতীয়টিতে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। কিন্তু পরের ম্যাচেই লাহোর কালান্দার্সের একাদশে নেই বাংলাদেশের তরুণ বাঁহাতি ওপেনার। জানা গেছে, পেশির চোটে ভুগছেন ইমন।
করাচিতে বৃহস্পতিবার বিকেলের ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয়েছে লাহোর। এই ম্যাচে লাহোরের একাদশে মোস্তাফিজুর রহমান থাকলেও, চোটের কারণে ছিটকে গেছেন ইমন। তার জায়গায় অভিষেক হয়েছে জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার রায়ান বার্লের।
টসের পর লাহোরের সরবরাহকৃত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুলতান সুলতান্সের বিপক্ষে আগের ম্যাচে চোট পাওয়ায় এদিন একাদশে জায়গা হয়নি ইমনের। আগের ম্যাচটিতে একটি বল ধরতে গিয়ে আসিফ আলির সঙ্গে সংঘর্ষে ব্যথা পান তিনি।
সেই চোটেই মূলত ইসলামাবাদের বিপক্ষে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশি ওপেনারের। তবে তার চোটের মাত্রা তেমন গুরুতর নয়। লাহোরের দলীয় সূত্র টি স্পোর্টসকে জানিয়েছে, পরের ম্যাচেই একাদশে ফিরতে পারেন ইমন।
“ইমনের হয়তো আরেক দিন সময় লাগবে। সে গতকালও (বুধবার) অনুশীলন করেছে। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে মূলত তাকে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছে। যেন মাঠে নামার আগে পরিপূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেতে পারে।”

দেশজুড়ে আবারও শুরু হচ্ছে বৃহৎ ক্রিকেট উৎসব। ৬৪ জেলার ৩৪৭টি বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে প্রায় ৯ হাজার ক্রিকেটারকে নিয়ে হবে এবার প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে যাবে জেলা পর্যায়ের খেলা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই টুর্নামেন্টের নতুন আসর শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জার্সি উন্মোচন ও গত আসরের বাছাইকৃত ২৫ ক্রিকেটারকে বৃত্তি প্রদান করে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, জাতীয় দলের বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় ও প্রাইম ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজিম এ চৌধুরী।
আরও পড়ুন
| স্কুলসেরা ২৫ ক্রিকেটারকে প্রাইম ব্যাংকের বৃত্তি |
|
জাতীয় দলের তারকা হওয়ার আগে স্কুল ক্রিকেট দিয়েই নিজের যাত্রা শুরু করেন শান্ত। এছাড়া তাওহিদ হৃদয়ও বগুড়ায় খেলেন স্কুল ক্রিকেটে। যেখানে চার বছরের মধ্যে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয় তার বগুড়া পুলিশ লাইন্স হাই স্কুল।
এসময় নিজেদের স্কুল ক্রিকেট খেলার দিনগুলো স্মৃতিচারণ করেন শান্ত ও হৃদয়। পরে শান্ত বলেন, দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ মাথায় রেখেই স্কুল ক্রিকেটকে বড় করে দেখা উচিত।
“আমি মনে করি, স্কুল ক্রিকেটকে খুব বড় করে দেখা উচিত। ক্রিকেট বোর্ড ও প্রাইম ব্যাংককে ধন্যবাদ যে এত সুন্দর ভাবে প্রত্যেকটা স্কুলকে সহযোগিতা করছে। এই টুর্নামেন্টটাকে যতো বড়ভাবে করা যায় ও যতো সুন্দর ভাবে করা যায় এবং প্লেয়ারদেরকে ঐ যথাযথ সুযোগ-সুবিধা যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় প্লেয়াররা আরও ভালোভাবে এখানে খেলতে আসবে আগ্রহ নিয়ে।”
“একটু আগে (হাবিবুল বাশার) স্যার বলছিলেন যে অনেক সময় স্কুলকে আমন্ত্রণ করা লাগে। তখন দেখা যাবে যে, আমন্ত্রণ করা লাগবে না। তারা নিজ থেকে আসবে। তাই আমার মনে হয় যে এই জায়গাটাতে একটু নজর দেওয়া উচিত।”
এসময় আয়োজকদের প্রতি একটি অনুরোধও করেন জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক।
“একটা অনুরোধ থাকবে প্রাইম ব্যাংক ও ক্রিকেট বোর্ডের কাছে। এটা আমরা ধীরে ধীরে কীভাবে দেশের বাইরে গিয়েও খেলার ব্যবস্থা করতে পারি, এটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। তো সব মিলিয়ে ধন্যবাদ। আমি খুবই খুশি। প্লেয়ার যারা আছে, শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট যারা আছে তাদের জন্য শুভকামনা। টুর্নামেন্টটা ভালো ভাবে তোমরা খেলবে ইনশাআল্লাহ। শুভকামনা।”

২৫ জন সম্ভাবনাময় ক্ষুদে ক্রিকেটারকে বৃত্তি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্কুল ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক। গত বছরের জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বাছাই করা হয়েছে এই ২৫ ক্রিকেটারকে।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচনের পাশাপাশি গত আসরের সেরা ক্রিকেটারদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। এসময় প্রত্যেক ক্রিকেটারকে এককালীন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। জাতীয় দলের বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় ও প্রাইম ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজিম এ চৌধুরী।
আরও পড়ুন
| ‘পৃথিবীর যেখানে বাংলাদেশের রক্ত আছে, সেখানে আমাদের স্কাউটরা পৌঁছাবে’ |
|
নাজিম এ চৌধুরী জানিয়েছেন, এককালীন আর্থিক বৃত্তির পাশাপাশি বছরজুড়ে এসব ক্রিকেটারদের যে কোনো ক্রিকেটীয় সহযোগিতাও করবে প্রাইম ব্যাংক।
“এই বৃত্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের একটু উৎসাহ দেওয়া, আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে। এর সঙ্গে এই বছর আমরা যে পরিকল্পনা করেছি, এসব ক্রিকেটারদের সারাবছর একটা পরিচর্যার মধ্যে রাখার। এর পাশাপাশি তাদের ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও আমরা দেখব।”
বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৫ ক্ষুদে ক্রিকেটার
ব্যাটার/উইকেটকিপার
অদ্রিত ঘোষ (ঢাকা মেট্রো), আকাশ রয় (রাজশাহী), কাবিদ আলি সিয়াম (যশোর), মোস্তাকিম হাওলাদার (ঢাকা মেট্রো), সাকিব আহমেদ (ঢাকা মেট্রো), তৌফিকুর রহমান (ঢাকা মেট্রো), আদিল চৌধুরী (চট্টগ্রাম), ফারহান সাদিক (রাজশাহী), রিয়াদ শেখ (বগুড়া), মাইন হোসেন (ঢাকা মেট্রো), বায়জিদ বোস্তামি (বগুড়া), সাবিক আল শামান (ঢাকা মেট্রো), আব্দুল্লাহ আল মিরাজ (লালমনিরহাট), হামিম সারোয়ার সিয়াম (ঢাকা মেট্রো)
পেসার
আল আমিন হোসেন (ময়মনসিংহ), মোহাম্মদ ইব্রাহিম (চট্টগ্রাম), ছোটন মিয়া (সিলেট) সাথিল হোসেন (ঢাকা মেট্রো), আবরার ইয়ামিন (পঞ্চগড়)
স্পিনার
শচীন চন্দ্র রয় (ঠাকুগাও), নাঈম ইসলাম (রাজশাহী), আরিফুজ্জামান (যশোর), সামিউল ইসলাম (দিনাজপুর), সায়েম পারভেজ (ঢাকা মেট্রো), আশরাফুল ইসলাম (রাজশাহী)

জয়ের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রয়োজন ৩ বলে ৮ রান। প্রাসিধ কৃষ্ণার স্লটে করা ডেলিভারি সোজা স্টেডিয়ামেরই বাইরে পাঠিয়ে দিলেন ডেভিড মিলার। স্ক্রিনে ভেসে উঠল, ১০৬ মিটার ছক্কা! সমীকরণ নেমে এলো ২ বলে ২ রানে।
পরের বলে ফাইন লেগের দিকে খেললেও, রান নিলেন না মিলার। ফলে শেষ বলে বাকি থাকল ২ রান। ঝুঁকি মাথায় রেখেই স্লোয়ার বাউন্সার করলেন কৃষ্ণা। ব্যাটে লাগাতে পারলেন না মিলার। রানের জন্য ছুটলেন কুলদিপ যাদব। তবে তিনি ক্রিজে ঢোকার আগেই স্টাম্প এলোমেলো করে দিলেন জস বাটলার।
রান আউটের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন লেগ আম্পায়ার। তবে এর মাঝেই আবার ওয়াইডের জন্য রিভিউ নিলেন মিলার। রিপ্লেতে দেখা গেল, বাউন্সারের উচ্চতা ছিল তার মাথার নিচেই। তাই মাঠের সিদ্ধান্তই বহাল রাখলেন থার্ড আম্পায়ার। নিশ্চিত হারের মুখ থেকে জিতে গেল গুজরাট টাইটান্স।
শেষের এই নাটকীয়তার আগে দিল্লিকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মিলারই। শেষ ২ ওভারে ৩৬ রানের সমীকরণে মোহাম্মদ সিরাজের বলে দুই ছক্কার মাঝে চার মেরে দেন প্রোটিয়া তারকা। ওই ওভার থেকে দিল্লি পেয়ে যায় ২৩ রান। শেষ ওভারে বাকি থাকে ১৩ রান।
ক্রিজে তখন ১৭ বলে ৩৫ রান করা মিলার থাকায় মনে হচ্ছিল, সহজেই জিতে যাবে গুজরাট। এর মাঝে প্রথম বলে বাউন্ডারি মেরে দেন ভিপরাজ নিগাম। তবে দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে যান তিনি। চতুর্থ বলে স্ট্রাইক পেয়েই মিলারের সেই বিশাল ছক্কা।
পরে শেষ দুই বলের হিসেবে তালগোল পাকিয়ে হিরো হওয়ার বদলে ভিলেনই হয়ে গেলেন কিলার মিলার খ্যাত এই ব্যাটার। নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা জাগিয়েও তাই শেষ পর্যন্ত পারল না দিল্লি।
অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে বুধবার রাতের এই ম্যাচটিতে গুজরাটের জয় মাত্র ১ রানে। আগে ব্যাট করে তারা পায় ২১০ রানের পুঁজি। জবাবে লোকেশ রাহুল ও মিলারের ঝড়ের পরও ২০৯ রানের বেশি করতে পারল না স্বাগতিক দল।
তিন ম্যাচে গুজরাটের এটি প্রথম জয়। অন্য দিকে প্রথম দুই ম্যাচ জেতার পর তৃতীয়টিতে এসে হারের স্বাদ পেল দিল্লি।
ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করা গুজরাটকে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি এনে দেন অধিনায়ক শুবমান গিল, বাটলার ও ওয়াশিংটন সুন্দর। ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৫ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন গিল। সুন্দরের ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ বলে ৫৫ রান।
দুজনের মাঝে নেমে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ২৭ বলে ৫২ রান করেন বাটলার। এই ৫ ছক্কার সৌজন্যে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৬০০ ছক্কার মালিক হয়েছেন ইংলিশ তারকা ব্যাটার।
রান তাড়ায় দিল্লিকে একাই বাঁচিয়ে রাখেন রাহুল। ১৭তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ৫২ বলে ৯২ রান করেন অভিজ্ঞ ওপেনার। তার উদ্বোধনী সঙ্গী পাথুম নিসাঙ্কার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ বলে ৪১ রান।
প্রথমে দশম ওভারে ক্রিজে গিয়ে হাতের চোটে উঠে গিয়েছিলেন মিলার। পরে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে তিনিই জাগান জয়ের আশা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি নায়ক হতে। ৩টি করে চার-ছক্কা মেরে ২০ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন মিলার।
রান বন্যার ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রশিদ খান।