২৮ অক্টোবর ২০২৫, ৫:৪২ পিএম

আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে প্রথম যুব ওয়ানডেতে জিতেছে বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতায় ৪ ওভার আগেই থেমে যাওয়া ম্যাচে ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে ৫ রানের জয় পেয়েছে স্বাগতিক যুবারা।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬৫ রান করে আফগানিস্তান। রান তাড়ায় ৪৬ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩১ রান করে বাংলাদেশ।
এরপর আর আলোকস্বল্পতায় খেলা সম্ভব হয়নি। ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা।
সিরিজে শুভসূচনার পেছনে বড় কারিগর ইকবাল হোসেন ইমন ও কালাম সিদ্দিকি এলিন। বল হাতে যুব ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ উইকেট নেন ইমন। আর ব্যাটিংয়ে এই ফরম্যাটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেন কালাম।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য তেমন ভালো হয়নি। মাত্র ১৫ রানের মধ্যে ফিরে যান দুই তারকা ব্যাটার জাওয়াদ আবরার ও অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম।
তৃতীয় উইকেটে রিফাত বেগের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়েন কালাম। ৩০ বলে ২৬ রান করে ফেরেন রিফাত।
এরপর ম্যারাথন জুটি গড়েন কালাম ও রিজান হোসেন। ভাগ্যের সহায়তাও পান দুজন। উইকেটের পেছনে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করেন আফগানিস্তানের উইকেটরক্ষক।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৩৯ রান যোগ করেন কালাম ও রিজান। নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেই আউট হয়ে যান কালাম। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ চারে ১১৯ বলে ১০১ রান।
এরপর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে নিয়ে এগোতে থাকেন রিজান। কিন্তু আলোর অভাবে পুরোটা খেলে ম্যাচ জেতানো হয়নি তার।
২ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কায় ৯৬ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন রিজান। আব্দুল্লাহ করেন ১৯ বলে ১২ রান।
আফগানিস্তানের পক্ষে ৪৭ রানে ২ উইকেট নেন মুজিব উর রহমানের মতো একই অ্যাকশনে বোলিং করা ওয়াহিদউল্লাহ জাদরান।
ম্যাচের প্রথমভাগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৫ রান পায় আফগানিস্তান। খালিদ ওমরজাইকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন ইমন। পরের ওভারে আরেক ওপেনার ওসমান সাদাতকে ফেরান মোহাম্মদ সবুজ।
চার নম্বরে নেমে হাল ধরেন উজাইরউল্লাহ নিয়াজাই। তবে অন্য প্রান্ত থেকে তেমন সমর্থন পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৭ বলে ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন উজাইরউল্লাহ। কিন্তু ম্যাচ শেষে তাকে থাকতে হয় পরাজিত দলে।
১০ ওভারে এক মেডেনসহ ৫৭ রানে ৫ উইকেট নেন ইমন। পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিজানের শিকার ৫৪ রানে ২ উইকেট।
একই মাঠে শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯: ৫০ ওভারে ২৬৫/৯ (খালিদ ৩৪, ওসমান ১৫, ফয়সাল ৩৩, উজাইরউল্লাহ ১৪০*, মাহবুব ১২, বরকত ১, আজিজউল্লাহ ১৪, খাতির ৩, ওমরজাই ০, জাইতুল্লাহ ০; ফাহাদ ৬.৪-০-৩৬-০, ইমন ১০-১-৫৭-৫, সবুজ ৫.২-০-৩০-১, রাতুল ৭-০-৩৪-০, রিজান ১০-০-৫৪-২, রাফি ৭-০-৩০-০, তামিম ৪-০-২৩-১)
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ৪৬ ওভারে ২৩১/৪ (জাওয়াদ ১০, রিফাত ২৬, তামিম ০, কালাম ১০১, রিজান ৭৫*, আব্দুল্লাহ ১২*; ওমরজাই ৮-০-৩৬-১, ওয়াহিদউল্লাহ ১০-০-৪৭-২, খাতির ৬-০-৩৫-০, জাইতুল্লাহ ১০-০-৩৪-১, মাহবুব ৬-০-৩২-০, উজাইরউল্লাহ ৬-০-৪৩-০)
ফল: ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ৫ রানে জয়ী
No posts available.
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৮ পিএম
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫২ পিএম
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:১২ পিএম

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আইরিশদের ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডারেদের ব্যর্থতায় ৩৯ রানে হেরেছে লিটন দাসের দল সেই ম্যাচে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জটাও এক পর্যায়ে কঠিন মনে হয়েছে। তবে এই ম্যাচে দুই অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী এবং সাইফউদ্দিনের প্রত্যাবর্তনের সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ দল।
ইনিংসের প্রথম ওভারে টিম টেক্টরের হাতে ৩টি বাউন্ডারি খেয়ে খেই হারানোর কথা অফ স্পিনার শেখ মেহেদীর। অথচ, প্রথম ওভারে ১২ রান খরচ করা সেই শেখ মেহেদী দ্বিতীয় স্পেলে (৩-০-১৩-৩) আইরিশদের বড় স্কোরের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে জস লিটলকে এক্সট্রা কভার দিয়ে বাউন্ডারি শটে বাংলাদেশ দলকে সিরিজে ফিরিয়েছেন সেই শেখ মেহেদী।
প্রথম স্পেলে (২-০-২২-০) মার খেয়ে শেষ পাওয়ার প্লে-তে ২ ওভারের স্পেলে (২-০-১৮-১) ছন্দে ফিরেছেন পেস বোলার সাইফউদ্দিন। ১৯ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সোহান (৭ বলে ৫) প্লেড অন যখন হয়েছেন, তখন ১০ বলে বাংলাদেশ দলের টার্গেট ১৬ কঠিনই মনে হচ্ছিল। তবে এডেইরের ওই ওভারের ৪র্থ বলে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কা এবং ৬ষ্ঠ বলে স্কোয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে শেষ ওভার থ্রিলারে বাংলাদেশকে পড়তে দেননি সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে ৩ রানের সহজ টার্গেট ২ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখে পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে দুদলের টপ অর্ডারদের ব্যাটিংয়ে দর্শকদের পয়সা উশুল হয়েছে। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম ৬ ওভারের ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে আইরিশ ওপেনার পল স্টালিং এবং টিম টেক্টরের ব্যাটিং ঝড় দেখেছে চট্টগ্রামের দর্শক। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে আয়ারল্যান্ডের স্কোর ৭৫/১ ছিল দুর্ভাবনার কারন।
বাংলাদেশ টপ অর্ডার পারভেজ ইমন-লিটনের চওড়া ব্যাটে সেখানে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে স্কোর উঠেছে ৬৬/১। পার্থক্যটা তৈরি করেছে বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে-তে। ৭ম থেকে ১৫তম, এই ৯ ওভারে আয়ারল্যান্ড যেখানে ৩ উইকেট হারিয়ে করেছে ৫৩, সেখানে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারিয়ে করেছে ৭১।
ব্যবধান তৈরি হয়েছে ডট বল এবং ছক্কার সংখ্যায়ও। আয়ারল্যান্ড যেখানে ডট করেছে ৪৫টি বল, সেখানে বাংলাদেশের ইনিংসে ডট বলের সংখ্যা ৩৮টি। কাকতালীয়ভাবে দুদল মেরেছে ১৩টি করে বাউন্ডারি। তবে আয়ারল্যান্ড ব্যাটারদের ছক্কার সমষ্টি যেখানে ৫টি, সেখানে বাংলাদেশের ছক্কার সংখ্যা ৭টি।
৯ম ওভারের ১ম বলে টিম টেক্টরকে (২৫ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৩৮) স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে দিয়ে এবং ৫ম বলে হ্যারি টেক্টরকে (১১ বলে ১১) বোল্ড আউটে ফিরিয়ে দিয়ে আয়ারল্যান্ডের ২শ'র স্বপ্নভঙ্গ করেছেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদী।
বাকি দায়িত্বটা পালন করেছেন দুই টপ অর্ডার পারভেজ ইমন-লিটন দাস। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ ২ বলে হামফ্রিসকে পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি এবং সুইপ শটে ছক্কা মেরে পারভেজ ইমন দিয়েছিলেন ম্যাচে অক্সিজেনের যোগান। ডিলানিকে রিভার্স সুইপ করতে যেয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে রানিং ক্যাচে পরিনত হয়ে পারভেজ হোসেন ইমন (২৮ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৪৩) অবধারিত ফিফটি হাতছাড়া করেছেন। তবে জস লিটলকে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কায় ছন্দ ফিরে পাওয়া লিটন দাস টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৬তম ফিফটি উদাযাপন করেছেন। ৭ ম্যাচ পর ৩৪ বলে ফিফটি উদযাপন করা লিটন এডেইরকে অন ড্রাইভ করতে যেয়ে এলবিডাব্লুউতে থেমেছেন (৩৭ বলে ৩ চার, ৩ ছক্কায় ৫৭) ঠিকই, তবে তার আগে শেষ পাওয়ার প্লে'র টার্গেটটা দিয়েছেন সহজ করে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পারভেজ ইমনকে নিয়ে ৪৩ বলে ৬০ এবং তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাইফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ বলে ৫২ রানের দুটি পার্টনারশিপে দিয়েছেন লিটন নেতৃত্ব।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে যেখানে স্কোরশিটে ১৮ উঠতে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৪ উইকেট, তাতেই সেই ম্যাচে করতে হয়েছে আত্মসমর্পন। দ্বিতীয় ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটারদের গায়ে লাগেনি অপবাদ। টি-টোয়েন্টিতে জেনুইন অলরাউন্ডােরদের সমাবেশের সুফলটাও আজ জেনেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

জয়ের ভিত গড়ে দেওয়ার কাজটা আগেই সেরে রাখেন পাকিস্তানের বোলাররা। এরপর জয়ের জন্য বাকিটা করতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি পাকিস্তানকে। তাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে বড় হেসেখেলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো সালমান আলি আগার দল।
আজ রাওয়ালপিন্ডিতে তিন জাতির টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানরা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ১১৪ রান করে। রান তাড়ায় টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারের কাঁধে চড়ে ৮ বল হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
পাকিস্তানকে হারিয়েই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল শ্রীলঙ্কা। তবে শিরোপার মঞ্চে এসে পাত্তাই পেল না তারা।
১১৪ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন বাবর আজম। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ৩৪ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
সাহিবজাদা ফারহান ও সায়েম আইয়ুবের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৪৬ রান। ২২ বলে ২৩ করা ফারহানে ফিরিয়ে ইসহান মালিঙ্গা। ৩৩ বলে ৩৬ করেন ফারহান। আর ১৪ বলে ১৪ আসে অধিনায়ক আগার ব্যাট থেকে।
এর আগে দারুণ শুরুর পর নাটকীয় ব্যাটিং ধসে অল্পতেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বোলারদের সম্মিলিত দুর্দান্ত বোলিংয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লঙ্কাদের ব্যাটিং লাইন আপ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার ছাড়া দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেনি আর কেউই। ৮৪ রানে দুই উইকেট থেকে আর মাত্র ৩০ রান যোগ করেই সব উইকেট হারায় সফরকারীরা।
দলীয় ২০ রানে পাথুম নিসাঙ্কা ফেরার পর দ্বিতীয় উইকেটে কামিল মিশারা ও কুশল মেন্ডিস দারুণ জুটি গড়েন। তবে শ্রীলঙ্কার ইনিংসে বলার মতো আর কিছুই ছিল না। ৬৪ রানের এই জুটি ভাঙার পরই কি যেন হয় লঙ্কা ব্যাটারদের।
১৮ বলে ১৪ রান করা মেন্ডিসকে ফিরিয়ে শুরুটা করেন মোহাম্মদ নেওয়াজ। এরপর ৪৭ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলা মিশারা আউট হলেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে লঙ্কাদের ইনিংস।
পাকিস্তানের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ নেওয়াজ। আবরার আহমেদের শিকার দু’টি।

রান তাড়ায় এমন বাংলাদেশকেই তো চায় সমর্থকরা। পাওয়ার প্লে’ এর যথাযথ ব্যবহার, উইকেট হারানোর পরও রানের গতি সচল রাখা। রান তাড়ায় এবার আর ভুল হলো না বাংলাদেশের। অধিনায়ক লিটন দাসের ফিফটিতে আয়াল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ।
শুরুতে ব্যাটিং নেমে ৬ উইকেটে ১৭০ করে আয়ারল্যান্ড। জবাবে ২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরল স্বাগতিকরা। তাতে আগামী মঙ্গলবার সিরিজের শেষ ম্যাচটি রূপ নিল অঘোষিত ফাইনালে।
রান তাড়ায় যে বাংলাদেশ কতটা দূর্বল সেটা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। আজ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় ঘরের মাঠে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের করা ১৬৩ রান তাড়া ছিল নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। আর সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে কলোম্বোতে লঙ্কাদের করা ২১৪ রান পাঁচ উইকেট বাকি রেখে জেতে বাংলাদেশ।
চ্যালেঞ্জিং রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা হয় ইতিবাচক। ২ ওভারে স্কোরবোর্ডে উঠে ২০ রান। বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিসের করা প্রথম ওভারে চার–ছক্কায় ১০ রান আসে পারভেজ হোসেনের ব্যাট থেকে। তবে হঠাৎ এক ভুলে ২৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
বোলার ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরে ফেলেছেন বল, তবু কী মনে করে রানের জন্য ছুটেন ব্যাটার তানজিদ হাসান। পড়িমরি করে ফেরার চেষ্টা করেও পারেননি। আইরিশ পেসার ব্যারি ম্যাকার্থি সরাসরি থ্রোতে রানআউট রান আউট হন ১০ বলে ৭ করা তানজিদ হাসান।
উইকেট হারালেও পথ হারায়নি বাংলাদেশ। আইরিশরা পাওয়ার প্লেতে করেছিল ১ উইকেট ৭৫ রান। বাংলাদেশ করে ১ উইকেটে ৬৬ রান। পারভেজ হোসেন-লিটন দাসের ব্যাটে লক্ষ্যে দিকে ছুটতে থাকে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ৬০ রানের জুটি শেষ হয় পারভেজ ফিরলে। দারুণ খেলতে থাকা পারভেজকে ফেরান গ্যারেথ ডেলানি। এই ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৫ চার ও ২ ছয়ে ২৮ বলে ৪৩ রান।
১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৮৬। এরপর সাইফ হাসানকে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেখান অধিনায়ক লিটন। দু’জনই জীবন পেয়েছেন, জশ লিটলের বলে কঠিন ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন সাইফ আর পরের বলেই পরের বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান লিটন দাস। ডিপ মিডউইকেটে লাফ দিয়ে বল ঠেকান গ্যারেথ ডেলানি। তবে সে সময় তার রুমাল ছুঁয়েছিল সীমানা দঁড়ি। বেঁচে যান লিটন, পেয়ে যান ছক্কা।
ম্যাথু হামফ্রিসকে ছক্কা মেরে ফিফটি করেন লিটন। ১১৯ ম্যাচের আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে স্টাইলিশ এই ব্যাটারের এটি ১৬তম ফিফটি। তবে দলের জয় নিশ্চিত করে আসতে পারেননি অধিনায়ক। ফিফটির পর আরও ৭ রান করে বিদায় নেন লিটন, শেষ হয় সাইফের সঙ্গে তাঁর ৫২ রানের জুটি। ৩ চার ও ৩ ছয়ে ৩৭ বলে ৫৭ রান করা লিটন ফিরেন মার্ক অ্যাডাইরের বলে এলবিডব্লু হয়ে। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।
১৫ ওভারে ১৩৮ রানে তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশ হঠাৎ বিপদে পড়ে পরের ওভারে সাইফও আউট হলে। ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরার আগে করেন ১৭ বলে ২২ রান।
শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাড়ায় ২৫। ১৮ ওভারে তাওহিদ হৃদয়কে রানআউট করে ম্যাচে খানিকটা রোমাঞ্চ ফেরায় আয়ারল্যান্ড। ওভারে চতুর্থ বলটাকে কাভারে ঠেলেই ১ রান নিতে চেয়েছিলেন নুরুল হাসান। ফিল্ডারের ছোড়া বল ধরে লোরকান টাকার যখন উইকেট ভাঙলেন তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটের সামনের অংশ শূন্যে ভেসে ছিল। হৃদয় ফেরেন ৯ বলে ৬ রান করে।
১৯তম ওভারে নুরুল হাসান সোহানকে বোল্ড করে বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন মার্ক অ্যাডাইর। তবে একই ওভারে ছক্কা আর চার মেরে শেষ ওভারে লক্ষ্যটা তিন রান করে ফেলেন সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী হাসান।
এর আগে টসে হেরে প্রথম ম্যাচের মতোই ফিল্ডিংয়ে নামে লিটন দাসের দল। শেখ মেহেদী হাসানের প্রথম ওভারেই ১৩ রান তুলে তাণ্ডবের আভাস দিয়ে রাখে আয়ারল্যান্ড। নাসুম আহমেদের ওভার থেকে আসে ১৪ রান। আইরিশদের বেদম পিটুনির ভয়ে বুঝি স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটও ভয় পেয়ে যায়। তৃতীয় ওভারে এক বল হওয়ার পর ফ্লাডলাইড–বিভ্রাটে খেলা বন্ধ থাকে। ১০ মিনিট বন্ধ থাকার পর শুরু হয় খেলা।
তবে আয়ারল্যান্ডের ঝড় থামার যেন কোনো নাম-গন্ধই নেই। পাওয়ার প্লেতে স্কোরবোর্ডে ৭৫ রান তুলে তারা। টি–টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে আয়ারল্যান্ডের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর, বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ।
পল স্টার্লিংয়ের বিদায়ে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও রানের ফোয়ারায় বাঁধ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪ বলে ২৯ রান করেন অধিনায়ক স্টার্লিং। আয়ারল্যান্ডে দলীয় রান যখন ৮৮, নবম ওভারের প্রথম বলে মেহেদী হাসানের বলে স্টাম্পড হন টিম টেক্টর। ২৫ বলে ৩৮ রান করেন টিম।
দ্বিতীয় উইকেট পতনের পরই রানের গতি অনেকটা ধীর হয়ে আসে আয়ারল্যান্ডের। মেহেদী হাসানের একই ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন টিম টেক্টরের ভাই হ্যারি টেক্টরও। ১০ ওভারে আয়ারল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ৯৭।
১১ ওভারে আয়াল্যান্ডের আরেকটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ৯ বলে ৭ রান করা বিন কালিৎজকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান মেহেদী। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা সাবধানী ব্যাটিং করেন পঞ্চম উইকেটে লর্কান টাকার- জর্জ ডকরেল জুটি। তাদের ৫৬ রানের জুটি শেষ সাইফউদ্দিনের বলে তানজিদ হাসানের তালুবন্দি হয়ে ২১ বলে ১৮ করা ডকরেল ফিরলে।
১৮ ওভারে ১৫০ পার করা আয়ারল্যান্ড শেষ দুই ওভারে তুলে ২৪ রান। ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে টাকার করেন আইরিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ বলে ৪১ রান।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মেহেদী হাসান। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন ৩০ বছর বয়সী ডানহাতি স্পিনার।

আগামী ২০২৬ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজের নাম না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফাফ দু প্লেসি। সম্প্রতি দিল্লি ক্যাপিটালস আগামী আইপিএলের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটারকে ছেড়ে দেয়। ডু প্লেসি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি আসন্ন মেগা নিলামে নিজের নাম রাখবেন না।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবিতে হবে আইপিএলের মেগা নিলাম। বিশ্বের সেরা এই ফ্রাঞ্চাইজি লিগে কয়েকটি দলের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন ডু প্লেসি। তবে ডানহাতি এই ব্যাটার ‘নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে’ আছেন। আর সেই চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)।
৪১ বছর বয়সী দু প্লেসিস গতকাল সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় লিখেছেন,
‘আইপিএলে ১৪ মৌসুম খেলার পর, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমার নাম নিলামে দেব না। এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত, এবং পেছন ফিরে তাকালে আমি কৃতজ্ঞ। এই লিগটি আমার ক্রিকেট যাত্রার একটি বিশাল অংশ। আমি ভাগ্যবান বিশ্বমানের সহকর্মী, চমৎকার ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং এমন ভক্তদের সামনে খেলার জন্য, যাদের আবেগ তুলনাহীন। ভারত আমাকে বন্ধুত্ব, শিক্ষা এবং স্মৃতি দিয়েছে, যা আমাকে একজন ক্রিকেটার এবং একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।’
আইপিএলের বদলে এবার পিএসএলে মাঠ মাতানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ডু প্লেসি আরও জানিয়েছেন,
‘এই বছর আমি নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি এবং আগামী মৌসুমে পিএসএল খেলব। এটি আমার জন্য একটি রোমাঞ্চকর পদক্ষেপ—নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার, একজন খেলোয়াড় হিসেবে উন্নতি করার এবং একটি লিগের অংশ হওয়ার, যা অসাধারণ প্রতিভা ও সামর্থে ভরা। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, নতুন চ্যালেঞ্জ। আমি পাকিস্তানের আতিথ্য উপভোগ করার জন্য মুখিয়ে আছি।’
আইপিএলের সবশেষ মৌসুমে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন না ডু প্লেসি। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ৯ ম্যাচে ২২.৪৪ গড়ে মাত্র ২০২ রান করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই দিল্লি তাকে ধরে রাখার না করার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে প্রত্যাশিত ছিল।
আইপিএলের ইতিহাসে বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের মালিক ডু প্লেসি। দিল্লির পাশাপাশি মারকুটে এই ব্যাটার চেন্নাই সুপার কিংস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর এবং রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের হয়ে খেলেছেন। সিএসকে’এর হয়ে দু’বার চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন তিনি।
পিএসএলে এবারই প্রথম নয়, আগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে ডু প্লেসির। পাকিস্তানের এই লিগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পেশাওয়ার জালমি ও গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে ৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়ছে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কান দল যখন মাঠে ব্যস্ত, তখন দেশটির মানুষ লড়ছে জীবনের সঙ্গে। ‘দিতওয়া’ নামের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড দ্বীপরাষ্ট্রটি। পাকিস্তান সফরের সব অর্থ বন্যদুর্গতদের সহাতায় দেওয়ার ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা।
টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২৩ জনের, নিখোঁজ আরও ১৩০ জন। ঘরছাড়া হয়েছেন ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ।
সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ সানৎ জয়সুরিয়া বলেন
‘দেশে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আমরা সবাই মর্মাহত। পাকিস্তান সফরের ম্যাচ ফি এবং সব আয় বন্যার্তদের জন্য দিচ্ছি। দেশে ফিরে আরও সহায়তা করার চেষ্টা করব। কঠিন সময়ে আমাদের একে অপরের পাশে দাঁড়াতেই হবে।’
প্রচণ্ড বৃষ্টিতে শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। জলাধারগুলো উপচে পড়ায় আরও বন্যার আশঙ্কা করছে সেচ বিভাগ। বিপদের মুখে রাজধানী কলম্বোও। প্রবল বর্ষণের পর সৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে দেশজুড়ে জরুরী অবস্থা জারি করেছেন।