১ ডিসেম্বর ২০২৪, ৫:৪৩ পিএম

নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন আগেই। আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার থেকে আইসিসির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শুরু হয়েছে জয় শাহর। তিনি গ্রেগ বার্কলের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
জয় শাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইসিসি প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ৩৬ বছর বয়সে তিনিই এখন আইসিসির সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান। আইসিসিতে যাওয়ার আগে তিনি বিসিসিআই সেক্রেটারি ছিলেন। তার জায়গায় এই দায়িত্বে কে আসবেন, সেটার এখনও ঘোষণা আসেনি। জয় শাহ আগে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি এবং আইসিসির অর্থ ও বাণিজ্যিক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন
| ভারতকে পাকিস্তানে যেতে ভূমিকা রাখবেন জয় শাহ, আশায় ইউনিস খান |
|
দায়িত্ব নিয়ে এক বিবৃতিতে জয় শাহ জানিয়েছেন নতুন দায়িত্ব নিয়ে তার স্বপ্নের কথা-
“আইসিসি সভাপতির দায়িত্ব নিতে পেরে আমি সম্মানিত। আইসিসির পরিচালক ও সদস্য বোর্ডের সমর্থন ও আস্থার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। খেলাটির জন্য এটা একটা রোমাঞ্চকর সময়। কারণ, আমরা ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী ভক্তদের জন্য আরও ছড়িয়ে দেওয়া এবং আকর্ষনীয় করে তোলার জন্য কাজ করছি৷”
দায়িত্ব নেওয়ার পর জয় শাহর জন্য প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে অনিশ্চয়তার ইতি টানা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে আসরটি হওয়ার কথা। তবে প্রতিবেশী দেশে গিয়ে ভারত খেলতে রাজি না হওয়ায় আলোচনায় আসছে হাইব্রিড মডেলের কথা, যেখানে ভারতের ম্যাচগুলো হবে ভিন্ন আরেকটি দেশে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
| জয় শাহ বিসিসিআইয়ের পদ ছাড়বেন না! |
|
উল্লেখ্য, আইসিসির ডেপুটি চেয়ার ইমরান খাজা অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করছেন এবং গত শুক্রবার সংক্ষিপ্ত বোর্ড সভায় সভাপতিত্বঅ করেছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইস্যুটিও অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ার হিসেবে দেখবেন বলেই ভাবা হচ্ছে।
No posts available.
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের ব্যাটিংয়ে বেশ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। গত বছর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে লিটন কুমার দাসের দল। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে এবার স্পিনারদের কাছ থেকেও ব্যাটিংয়ে কিছু রানের চাহিদা জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুপুর ২টায় মাঠে গড়াবে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর আগে রোববার সকাল থেকে অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজ দলের দুর্বলতা জানাতে গিয়ে স্পিনারদের কাছ থেকে ব্যাটিংয়ের দাবি জানিয়ে রাখেন লিটন।
আরও পড়ুন
| অধিনায়ক হিসেবে আমি অনেক স্বাধীন: লিটন |
|
“দলের দুর্বলতার কথা যদি বলেন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তো আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হয়। তাই ২-১টা উইকেট দ্রুত পড়বেই। তাই আমাদের মূল চিন্তা হলো, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন- মানে যারা স্পিন বোলিং করে, তাদের কাছ থেকে যদি আমরা ব্যাটিংটা পাই... আর অলরাউন্ডাররা যদি ব্যাটিং দিতে পারে, তাহলে একটা ভালো ব্যাটিং অর্ডার তৈরি হবে।”
“বড় দলগুলোতে ৯ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং ডেপথ থাকে। আমরা যদি সেই ডেপথ তৈরি করতে পারি, তবে আমাদের ওপরের ব্যাটসম্যানরা আরও স্বাধীনভাবে নিজেদের খেলা খেলতে পারবে।”
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ বা সাম্প্রতিক সময়ে লেজের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকে তেমন রান পায়নি বাংলাদেশ। তাদের কাছ থেকে খুব বেশি চাওয়া নেই অধিনায়ক লিটনেরও। ব্যাটার ও অলরাউন্ডাররা রান করলেই কাজ হয়ে যাবে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
“টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যে ৫ বোলার ধরছি, তাদের মধ্যে শরিফুল (ইসলাম) ও রিপন মন্ডল বাদে বাকিরা মোটামুটি ব্যাটিং পারে। (শরিফুল-রিপন) যদি ৫-৬ রান করে দিতে পারে, তাহলেই হবে। আমরা যে দল তৈরির চেষ্টা করছি, তারা যদি নিজেদের মতো পারফর্ম করতে পারে তবে এই সমস্যা থাকবে না।

লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তার নেতৃত্বেই ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ। দলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবি থেকে পূর্ণ স্বাধীনতাই পাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
লিটনের অধিনায়কত্বে এখন পর্যন্ত ২৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে জয় ১৫টি, আর হেরেছেন ১৩ ম্যাচে। জয়-পরাজয়ের হারে তিনিই বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক। তাই ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত লিটনকেই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, অধিনায়করা নিজেদের মতো করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সাজাতে পারেন না। সেদিক থেকে এখন পর্যন্ত ব্যতিক্রম লিটনের দায়িত্ব। তিনি সরাসরিই বলেছেন, পূর্ণ স্বাধীনতাই পাচ্ছেন তিনি।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের আগে আরেকটি চোট, দুশ্চিন্তায় জার্মানি |
|
চট্টগ্রামে সোমবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কত্ব নিয়ে ইতিবাচক কথাই বলেন লিটন।
“(অধিনায়ক হিসেবে) আমি অনেক স্বাধীন। আমি আমার মতো করেই টিম গোছাচ্ছি। এর সঙ্গে নির্বাচক আছেন, কোচ আছেন। আমাদের সবার পরিকল্পনার মাধ্যমেই আমরা দলটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবি ভেঙে দেওয়ার পর তামিম ইকবালের অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েই লিটনকে ২০২৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের আগে লিটনের সঙ্গে তেমন কথা হয়নি বোর্ডের।
নতুন মেয়াদে দায়িত্ব পেয়ে বিশ্বকাপের জন্য ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার আশার কথাই বলেছেন লিটন।
“সত্যি বলতে, খুব একটা কথা হয়নি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাকে তারা মনে করেছে আমি যোগ্য প্রার্থী এখানের জন্য। আমি আমার কাজ করার চেষ্টা করব। যেভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, যেহেতু এখন যথেষ্ট সময় আছে, প্রস্তুতি সেভাবে থাকবে।”
লিটনের অধিনায়কত্বে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু নিরাপত্তাশঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাঠে গিয়ে খেলার অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার।
তাই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয় ক্রিকেটারদের। লিটন জানালেন, সেই আক্ষেপ ভুলে সামনের জন্য উঠে দাঁড়িয়েছেন দলের ক্রিকেটাররা।
“আমার মনে হয়, অবশ্যই সবাই মুভ অন করেছে। কারণ বিশ্বকাপের সময়ে আমরা একটা টুর্নামেন্টও খেলেছি যেখানে সবাই চেষ্টা করেছে ভালো ক্রিকেট খেলার।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের আগে আরেকটি চোট, দুশ্চিন্তায় জার্মানি |
|
“আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটা ম্যাচই প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবাই ওভাবেই চিন্তা করবে। বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয় দরকার, জেতার যে মানসিকতা দরকার, সেটা নিয়ে মাঠে নামবে।”
অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে হবে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানকে উইকেট-কন্ডিশন বিবেচনা করে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে চান লিটন।
“আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপ। সেটা তো আমরা জানি যে এশিয়াতে না। তাই সেভাবে চিন্তাভাবনা করব। আর অবশ্যই যেহেতু আমাদের একটা বন্ডিং হয়েছিল খুবই ভালো, সবশেষ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতিও খুব ভালো ছিল। চেষ্টা করব ওখান থেকেই যেন এই দলটাকে ভালো করে ধরে রাখা হয়।”

ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত প্রস্তুতি নিয়েও সবশেষ বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। তাই প্রায় ৫ মাস ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বাইরে লিটন কুমার দাসের দল। নতুন চেহারার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ১৪৬ দিন পর এই সংস্করণে ফিরবে তারা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যার বদলে দুপুর ২টায় শুরু হবে খেলা। এই সিরিজ দিয়ে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার পথচলা শুরু হবে বাংলাদেশের।
অথচ ব্যাটে-বলে ও ফিল্ডিংয়ে রেকর্ডময় বছর কাটিয়ে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা দারুণভাবে নিয়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হওয়া ওই টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া হয়নি লিটন, তানজিদ হাসান তামিমদের।
আরও পড়ুন
| বিস্ময় বালক সূর্যবংশীর জন্য ‘লারার পথ’ ধরার পরামর্শ |
|
বিশ্বকাপের আগের বছরটি দুর্দান্ত কেটেছিল বাংলাদেশের। ৩০ ম্যাচের ১৫টি জিতেছিল তারা। সিরিজ হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোকে। সব মিলিয়ে ওই বছরে ২৩টি ফিফটির পাশাপাশি ১টি সেঞ্চুরিও করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
সবচেয়ে বেশি উন্নতি দেখা যায় ছক্কা মারার সামর্থ্যে। বছরজুড়ে মোট ২০৬টি ছক্কা মারেন ব্যাটাররা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১টি ছক্কা মারেন তামিম। কম যাননি পারভেজ হোসেন ইমন (৩৪), সাইফ হাসান (২৯), লিটনরাও (২৩)।
নির্দিষ্ট বছরে দুইশর বেশি ছক্কা মারা চতুর্থ দেশ হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। তাদের আগে এই কীর্তি ছিল ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের।
২০২৫ সালে বল হাতেও কম যাননি রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমানরা। সর্বোচ্চ ৩৩ উইকেট নেন রিশাদ। এছাড়া অন্তত ২০ উইকেট নেন আরও ৪ বোলার- মোস্তাফিজ (২৬) তাসকিন আহমেদ (২৪), তানজিম হাসান সাকিব (২৩) ও শেখ মেহেদি হাসান (২২)।
সব মিলিয়ে যথাযথ প্রস্তুতিই ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার জন্য। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দেয়নি তৎকালীন সরকার। আর বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ার দাবি মেনে নেয়নি আইসিসি। ফলে লিটন-সাইফদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়।
সেই তিক্ত স্মৃতি ভুলে এবার নতুন পথচলা শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে হবে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যেখানে বেশিরভাগ উইকেটই হবে ব্যাটিংবান্ধব, পেসারদের জন্যও থাকবে সহায়তা।
চট্টগ্রামে প্রথাগতভাবে মোটামুটি তেমন উইকেটেই খেলে থাকে বাংলাদেশ। যেখানে তুলনামূলক ব্যাটিং সহায়ক হয় উইকেট। চট্টগ্রামের মাঠে দিনে হওয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় রান ১৬৩। ওয়ানডে সিরিজে ছন্দে থাকা তামিম, লিটনদের জন্য এটি হতে অনুপ্রেরণাদায়ক।
দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে নিউ জিল্যান্ডের অপরিচিত ক্রিকেটাররাও। গত বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ইশ সোধি শুধু আছেন এই সিরিজের দলে।
টম ল্যাথামের নেতৃত্বে রীতিমতো নতুন চেহারার দল নিয়েই ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজটি খেলতে নামবে কিউইরা। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততায় নিয়মিত একাদশের প্রায় কাউকেই পাবে না সফরকারীরা।
আরও পড়ুন
| আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড পাঞ্জাবের |
|
দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে সোধি ছাড়া আছেন ল্যাথাম। বাঁহাতি এই ব্যাটারও গত তিন বছরে খেলেছেন শুধু ৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তাই বলে দলের সামর্থ্যবান ক্রিকেটারের কোনো কমতি নেই তাদের।
ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেই ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৭টি ছক্কা মেরে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। এছাড়া নিক কেলি, নাথান স্মিথরাও ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন দারুণ ছন্দে। এর বাইরে কাটেন ক্লার্কের মতো রোমাঞ্চকর ব্যাটাররাও আছেন দলে।
সব মিলিয়ে নতুন চেহারার প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে নেমে সতর্ক থাকা ছাড়া উপায় নেই বাংলাদেশের। এছাড়া স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণেও নেই অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত তারকারা। বিশ্রাম দেওয়ায় টি-টোয়েন্টি সিরিজটিতে নেই তাসকিন, মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানা।
প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার সামনে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মন্ডল। এছাড়া পেস বিভাগে আছেন তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম। মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে দেখা যেতে পারে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে।
বাংলাদেশের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হতে পারে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ দুই সিরিজের ফল। ২০২১ সালে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে কিউইদের ৩-২ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। আর ২০২৩ সালের সফরে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে তিন ম্যাচের সিরিজ।
সব মিলিয়ে অবশ্য বেশ এগিয়ে কিউইরা। দুই দলের প্রথম চার সিরিজের সবকটিই জিতেছিল তারা। তবে সবশেষ দুই সিরিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই ২০২৮ বিশ্বকাপের পথচলা শুরুর সিরিজটি ইতিবাচকভাবেই করতে পারবে বাংলাদেশ।

বিস্ময় শব্দটিকে যেন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মাত্রা দিচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী। অবিশ্বাস ব্যাটিংয়ের নতুন নতুন অধ্যায় যোগ করে তিনি লিখে চলেছেন নিজের গল্প। বাঁহাতি এই কিশোরের উড়ন্ত পথচলায় স্বাভাবিকভাবেই আসছে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার আলোচনা।
তবে এখনই তার আন্তর্জাতিক অভিষেকের পক্ষে নন কার্লোস ব্রাথওয়েট। বরং ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার মতো করে সূর্যবংশীকে গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
আইপিএলের গত আসরে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সূর্যবংশী। সেবার মাত্র ৭ ম্যাচে ২০৬.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ২৫২ রান করে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের এই ওপেনার।
আরও পড়ুন
| আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড পাঞ্জাবের |
|
প্রথম আসর হিসেবে অনেকেই সেটিকে ধরে নিয়েছিলেন এক মৌসুমের চমক। তবে সেই ধারাবাহিকতা সূর্যবংশী ধরে রেখেছেন এবারের আইপিএলেও। এরই মধ্যে ৮ ইনিংসে ২৩৪.৮৬ স্ট্রাইক রেটে তিনি করে ফেলেছেন ৩৫৭ রান।
শনিবার রাতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেছেন সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে আইপিএলে তার সেঞ্চুরি এখন ২টি। আর সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি ওপেনারের সেঞ্চুরি ৪টি।
মাত্র ২৬ ইনিংসে ৪টি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করে সূর্যবংশীই সবচেয়ে দ্রুততম। এত দিন এই রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের উসমান খানের। প্রথম ৪ সেঞ্চুরি করতে ৩৩ ইনিংস লেগেছিল তার।
দুরন্ত এই ব্যাটিংয়ে এর মধ্যে আলোচনায় এসেছে, আয়ারল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেতে পারেন সূর্যবংশী। এর বিপক্ষে নন ব্রাথওয়েট। তবে এখনই অভিষেকের পক্ষে নন তিনি। বরং ব্রায়ান লারার মতোই, জাতীয় দলের সঙ্গে রেখে সূর্যবংশীকে তৈরি করার পরামর্শ ব্রাথওয়েটের।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর আলোচনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক।
“আমি দুঃখিত, বৈভব। তবে আপনি যদি দেখেন ব্রায়ান লারাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কীভাবে সামলেছিল। তিনি ছিলেন এক প্রজন্মের সেরা প্রতিভা- এটা সবাই জানত। তারপর তারা তাকে নিয়ে কী করেছিল?”
“তারা তাকে ভিভ রিচার্ডসের মতো সিনিয়রদের সঙ্গে দলে রেখেছিল, তবে তখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় নামায়নি। তখন সময়টা ভিন্ন ছিল- অনেক ট্যুর ম্যাচ হতো। আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগে সে (লারা) সিনিয়রদের সঙ্গে খেলতে খেলতে নিজেকে তৈরি করে নিয়েছিল। এরপর অভিষেকের পর তার ক্যারিয়ার কীভাবে গড়িয়েছে, তা তো আমরা সবাই জানি।”
তাই সূর্যবংশীকেও তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে রেখে প্রস্তুত করার পরামর্শ ব্রাথওয়েটের।
“তাই হয়তো দুই দিকই মিলিয়ে একটা সেরা পথ হতে পারে। যেখানে তাকে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে রাখা যায়, যেন সে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবদের কাছ থেকে শিখতে পারে। তার কাছাকাছি বয়সী তরুণ খেলোয়াড়রাও আছে, যাদের কাছ থেকেও সে শিখতে পারবে, সরাসরি তাকে গভীর জলে ঠেলে দেওয়ার আগে।”

হঠাৎ দেখে মনে হবে বুঝি হাইলাইটস চলছে। দুই দলের ৩৯ ওভারে রান হলো ৫২৯। কেবল বাউন্ডারি থেকেই এলো ৩৯৪ রান। মোট ছক্কা ৩৩, চার ৪৯। দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে আজ চার-ছক্কার মুষলধারে বৃষ্টি নামিয়ে আনল দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংস।
প্রথমে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে হয়তো বেশ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছিল দিল্লি। তবে ব্যাটারদের রান উৎসবের দিনে পাঞ্জাব তো আর বসে থাকবে না! আইপিলের রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলট-পালট করে দিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করল তারা।
আইপিএলে রেকর্ড বন্যার দিনে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ২৬৪ রান করে দিল্লি। জবাবে ৬ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা। এর আগের রেকর্ডটিও অবশ্য পাঞ্জাবেরই। এর আগে ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২৬২ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি।
বৃথা গেল লোকেশ রাহুলের ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ৬ চার আর ৯ ছক্কায় সাজানো দিল্লির এই ব্যাটারের টর্নেডো ইনিংসই আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু আইপিএলই নয়, টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটেই ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এর চেয়ে বড় ইনিংস ইনিংস আর কারও নেই। আইপিএলে এর আগে ভারতীয়দের সর্বোচ্চ ছিল অভিষেক শর্মার ১৪১।
রাহুলকে যোগ্য সঙ্গ দেন ৪৪ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলা নিতিশ রানা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রানার সঙ্গে রাহুল গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা আইপিএলের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
দিল্লির রান পাহাড়ের জবাবটা যেন হেসেখেলেই দিল পাঞ্জাব। যেখানে পাওয়ার প্লেতে দিল্লির স্কোরবোর্ডে ছিল ৬৮ রান, সেখানে ৬ ওভার শেষেই ১১৬ রান তুলে নেয় পাঞ্জাব। ২৯২ স্ট্রাইকরেটে ২৬ বলে ৭৬ করেন প্রাভসিমরান সিং। আরেক ওপেনার প্রিয়ানশ আরিয়ার ব্যাট থেকে আস ১৭ বলে ৪৩ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাঞ্জাবকে পথ দেখান শ্রেয়াস আইয়ার। ৩৬ বলে ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।