১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৫৯ পিএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সর্বশেষ আসরে রিশব পন্ট এবং শ্রেয়াস আইয়ারকে পেতে ফ্রাঞ্চাইজিদের মধ্যে কী লড়াই-না করতে হয়েছে। নিলাম ঘরে পাঞ্জাব কিংস ২৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে কিনেছে শুনে লখনৌ সুপার জায়ান্টস রিশব পন্টকে কিনেছে তার চেয়ে এক কোটি বেশি রুপি দিয়ে! সেই সঙ্গে সঙ্গে ২৭ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়ে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারের রেকর্ডটা করেছেন রিশব পন্ট। অথচ কী জানেন, আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে দামি এই ক্রিকেটার সে বছর লখনৌ সুপার জায়ান্টস ফ্রাঞ্চাইজিদের হতাশ করেছেন। ২৪.৪৫ গড়ে, ১৩৩.১৭ স্ট্রাইক রেটে করেছেন আইপিএলের ওই সংস্করনে ২৬৯ রান।
২০২৩ সালে পাঞ্জাব কিংসে ১৮ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়ে আইপিএলের সেই আসরে পেয়েছেন সাম কারান মাত্র ১০ উইকেট। সে বছর সর্বোচ্চ ২৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়ে প্যাট কামিন্স সানরাইজার্স হায়দারাবাদ বোলারদের মধ্যে উইকেট শিকার সংখ্যায় ছিলেন চতুর্থ। ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সে সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েও দলের মধ্যে সেরা বোলার হতে পারেননি মিচেল স্টার্ক।
আইপিএলের নিলাম ঘরে এভাবেই হু হু করে বাড়ে কারো কারো দর। আবার ২০১৬ সালে মাত্র ২ কোটি রুপিতে সানরাইজার্স হায়দারাবাদে বিক্রি হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ১৭ উইকেট পেয়ে দলকে দিতে পারেন শিরোপার স্বাদ।
শুধু আইপিএল কেনো, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০'র অভিষেক আসরে নিলাম ঘরে ঝড় তুলে ৭ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়ে ২ ম্যাচে করেছেন মাত্র ২৭ রান, পেয়েছেন ৪ উইকেট।
এক যুগ পর বিপিএলে নিলামে খেলোয়াড় কেনার প্রতিযোগিতায় এবার নাঈম শেখের বিক্রির অঙ্ক ১ কোটি ১০ লাখ টাকা, এই খবরটাও জন্ম দিয়েছে বিস্ময়ের। 'এ' ক্যাটাগরির ক্রিকেটার হিসেবে নিলামে উঠে সিলেট-চট্টগ্রামের লড়াইয়ে ৫০ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্য থেকে ডাক শুরু হয়ে তা থেমেছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায়। যেখানে নিলামে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসকে রংপুর রাইডার্স কিনেছে ৭৫ লাখ রুপিতে, সেখানে নিলামের শুরুতে চট্টগ্রাম কিংস এতো দামে নাঈম শেখকে কেনো কিনলো ? এটাই প্রশ্ন।
৩৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৩.৮৮ গড় এবং ১০২.২৫ স্ট্রাইক রেটে ৮৬০ রান করা নাঈম শেখকে এখন জাতীয় দলে ব্রাত্য। ২০২১ সালের পর নির্বাচকদের নজরের বাইরে থাকা এই টপ অর্ডার গত ৪ বছরে খেলেছেন মাত্র ৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। বিপিএলেও তার রেকর্ড নিয়ে অতোটা উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছুই নয়। ৬৪ ম্যাচে ২৬.৯৪ গড় এবং ১১৯.৫৭ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৫০৯ রান। তাহলে তো বলাই যায়, হোম ওয়ার্ক করেই চট্টগ্রাম রয়্যালস নিয়েছে নাঈম শেখকে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হারিয়ে যাওয়া নাঈম শেখ নিজেও নিলামে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিস্মিত। গণমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন-
‘সত্যি বলতে কী, আমাকে নিয়ে তিনটা দলের আগ্রহের কথা শুনেছিলাম। তাই বিশ্বাস ছিল, আনসোল্ড হব না। বেস প্রাইসে বিক্রি হলেও খুশি থাকতাম। তবে এত ওপরে উঠব, প্রথম কলের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হব—এটা ভাবিনি।’
সিলেটে জাতীয় লিগে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগের হয়ে চারদিনের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বিকেল পৌনে ৫টায় যখন নিলাম শুরু হয়, শুরুতেই ওঠে নাঈম শেখের নাম, তখন টিমমেটদের সাথে টিম বাসে করে টিম হোটেলে ফিরছিলেন নাঈম শেখ। প্রথম ইনিংসে ৮ রান করার পর মন ভাল থাকার কথা নয়, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ রানে ব্যাটিংয়ে থেকে বড় সংগ্রহের কথা যখন ভাবছেন, তখন টিমমেটদের মুখে শুনলেন ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। গণমাধ্যমকে সেই মুহুর্তের কথাই শুনিয়েছেন-
‘এনসিএল চলছে, তাই সবাই ফোনে নিলাম দেখছিল। আমরা মাঠ থেকে বাসে করে ফিরছিলাম, তখনই আমার নাম আসে। সবাই হঠাৎ চিৎকার দিয়ে ওঠে, উদযাপন শুরু হয়। খুব মজার এবং আবেগের মুহূর্ত ছিল।’
নাঈম শেখকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় চট্টগ্রাম রয়্যালসের কেনার পেছনে অবশ্য যুক্তি আছে। বিপিএলের সর্বশেষ আসরে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক কিন্তু নাঈম শেখ। খুলনা টাইগার্সের জার্সিতে সেই আসরে ৪২.৫৮ গড়ে এবং ১৪৩.৯৪ স্ট্রাইক রেটে ১ সেঞ্চুরি, ৩ ফিফটিতে করেছিলেন তিনি ৫১১ রান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আশাহীন গন্তব্য ধরে নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ৫০ ওভারের ম্যাচের আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন এবং ২০ ওভারের আসর বিপিএলে সেরাটা নিংড়ে দিতে অভ্যস্ত নাঈম শেখের এখন লক্ষ্য একটাই, ফ্রাঞ্চাইজির আস্থার প্রতিদান দেওয়া-
‘যারা আমাকে বিড করেছে, তাদের ধন্যবাদ আমাকে বিশ্বাস করার জন্য। লক্ষ্য সবসময়ই থাকে দলের হয়ে সেরাটা দেওয়া। রানের দিক থেকে সেরা দশে বা পাঁচে থাকার চেষ্টা করি, ডোমিনেট করতে চাই সব সময়।’
সর্বশেষ বিপিএলে পারফর্ম করে জাতীয় দলে ফেরাটা সুখকর হয়নি নাঈম শেখের। ৩২*, ৩, ১০-এই তিনটি ইনিংসের পর জাতীয় দল থেকে পড়েছেন বাদ। বিপিএলের পর পর বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন। বিপিএলে প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারলে বড় মঞ্চে ফেরার সুযোগটা তো থাকছে, এটা মাথায় রেখেই বিপিএলে খেলতে চান নাঈম শেখ।
No posts available.
১০ মার্চ ২০২৬, ৭:২২ পিএম
১০ মার্চ ২০২৬, ৫:৩২ পিএম

সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে পূর্ণ দাপট দেখিয়েই বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে পাত্তাই দেয়নি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দলটি। পুরো টুর্নামেন্টেও তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারতের পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। তবে ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টিভ হারমিসন বলেছেন, ভারত আসলে টুর্নামেন্টের সেরা দল ছিল না; তাঁর মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা আরও ভালো খেলেছিল।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারত প্রথম দল হিসেবে শিরোপা রক্ষা ধরে রেখেছে। এছাড়া স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার প্রথম মধূর অভিজ্ঞতাও হয় ভারতের। বিশ্বকাপের ১০তম আসরে মাত্র একটি ম্যাচই হেরেছে ভারত। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল
ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে তারা সেমিফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের কাছে নয় উইকেটে হেরে যায় তারা।
অন্যদিকে আরেক সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারাতে ভালো ঘাম ঝরাতে হয় ভারতের। তবে ফাইনালে জাসপ্রিত বুমরাহ-সঞ্জু স্যামসনদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় ব্লাক ক্যাপসরা।
ভারতের প্রসঙ্গে মন্তব্য করে হারমিসন বলেছেন, ভারতের খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ভালোভাবে খেলেছে, তবে সামগ্রিকভাবে সেরা দল হিসেবে তারা পুরোপুরি পারফ্যাক্ট ছিল না। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল আরও ধারাবাহিক এবং ভালো দল।
ইউটিউব চ্যানেল টকস্পোর্টে হারমিসন বলেন,
‘ফাইনালে ভারত বড় ব্যবধানে জিতেছে অভিষেক শর্মা এবং সঞ্জুর জুটিতে ভর করে। বুমরাহ পুরো টুর্নামেন্টে ফ্ল্যাট পিচে পার্থক্য তৈরি করেছেন। আমি মনে করি না ভারত এই টুর্নামেন্টের সেরা দল ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সেরা দল ছিল। ভারত সেরা ‘মোমেন্ট’ দল ছিল। তারা বড় মুহূর্তগুলো জয় করেছে।’
হারমিসন আরও বলেন,
‘গ্রুপ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স এতটা আশাব্যঞ্জক ছিল না আমার মনে হয়। এরপর তারা বড় মুহূর্তগুলো জয় করল। কোয়ার্টার-ফাইনালে (অলিখিত) ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সমস্যা হয়েছিল। ভারত তাদের বিগ-মোমেন্টে খেলোয়াড়দের কারণে এমন পরিস্থিতিতেও জয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্টের বেশি ধারাবাহিক দল ছিল, ফিন অ্যালেনের সেই বিশেষ ম্যাচ ছাড়া। বড় মুহূর্তে চাপ সামলানো এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভারত অন্যদের চেয়ে ভালো করেছে।’

কলকাতায় আটকে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের খেলোয়াড়দের দেশে ফেরাতে আলাদা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিটের ব্যবস্থা করেছে আইসিসি। এর আগে তাদের চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হয় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে।
জানা গেছে, কলকাতা থেকে উড্ডয়নের কথা থাকা চার্টার্ড ফ্লাইটটি শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। লজিস্টিক জটিলতার কারণ দেখিয়ে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। এর পর খেলোয়াড়দের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফেরাতে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট বুকিং করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব খেলোয়াড়ের জন্য ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তারা ধাপে ধাপে ভারত ছাড়তে শুরু করেছেন।
পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথে বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সেই অঞ্চলের কিছু আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করা অনেক বিমান সংস্থাকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির কারণে ভারত থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও আফ্রিকার দিকে ফ্লাইট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিমান সহযোগী সংস্থাও দুবাইয়ের আকাশপথ বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারেনি।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে দুই দলকে নিয়ে একটি যৌথ চার্টার্ড ফ্লাইটে কলকাতা থেকে জোহানেসবার্গ যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেখান থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যদের অ্যান্টিগায় যাওয়ার কথা ছিল, আর দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রা নিজ নিজ গন্তব্যে ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলেছিল কলকাতাতেই দুটি দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ মার্চ সুপার এইট পর্বে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয়। আর দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযান শেষ হয় ৪ মার্চ প্রথম সেমিফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের কাছে হেরে।
তার পর থেকেই দুই দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের দেশে ফেরা বিলম্বিত হয়। পরে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ব্যবস্থা করায় ধাপে ধাপে তারা ভারত ছাড়তে শুরু করেছেন।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা গুণতে হচ্ছে ভারতের পেসার পেসার আর্শদীপ সিংকে। আহমেদাবাদে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্যারিল মিচেলকে লক্ষ্য করে বল ছুঁড়েছিলেন তিনি।
বুধবার এক বিবৃতিতে আর্শদীপের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। ম্যাচ ফি কর্তনের পাশাপাশি আর্শদীপের নামের পাশে এক ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয়েছে।
নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসের ১১তম ওভারে বল করার পর ফলো–থ্রুতে বল কুড়িয়ে উইকেটের দিকে ছুড়ে দেন আর্শদীপ। সেই বল গিয়ে লাগে মিচেলের গায়ে। এ কারণে আইসিসির আচরণবিধির লেভেল–১ ধারা ভঙ্গের দায়ে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
আইসিসির আচরণবিধির ২.৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের দিকে বা কাছাকাছি বিপজ্জনক বা অনুপযুক্তভাবে বল বা ক্রিকেট সরঞ্জাম ছুড়ে মারা নিষিদ্ধ।
জরিমানার পাশাপাশি আর্শদীপের শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়েছে। গত ২৪ মাসে এটি তার প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট।
অন-ফিল্ড আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও অ্যালেক্স ওয়ার্ফ, তৃতীয় আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার অ্যাড্রিয়ান হোল্ডস্টক অভিযোগটি আনেন। পরে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নেন আর্শদীপ। ফলে এ নিয়ে আলাদা কোনো শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের ১৫ সদস্যের দলে ছয় জনই নতুন। এদের মধ্যে অন্তত তিনজনের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে অভিষেকের অপেক্ষায়। সাহিবজাদা ফারহানের বিষয়টি একটু বেশিই স্পষ্ট। বিশ্বকাপে পাকিস্তান ডুবলেও ব্যাট হাতে সফল ছিলেন এই তরুণ ওপেনার। দুই সেঞ্চুরিতে ৩৮৩ রান করে হয়েছেন টুর্নামেন্টসেরা।
মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি জানিয়েছেন, ছয় নতুন মুখের মধ্যে অন্তত তিনজন অভিষেকের অপেক্ষায়।
আফ্রিদি বলেন,
‘সম্ভবত তিনজনের অভিষেক হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচে। সাহিবজাদা ফারহান থাকবে। টি–টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সে ভালো করেছে। শামিল হুসেইন ওপেন করবে এবং মাজ সাদাকাত ওয়ান ডাউনে খেলবে। মোট তিনজন অভিষেক হতে পারে। আশা করি তারা নিজেদের খেলাটা খেলবে এবং দক্ষতা দেখাবে। আমরা সবাই তাদের দেখতে মুখিয়ে আছি। শুধু এই সিরিজের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও তারা গুরুত্বপূর্ণ।’
পাকিস্তান দলটি অভিজ্ঞ ও তারুণ্য মিশেলে। দলের তিনভাগের একভাগ নতুন। নতুনদের কাছে নিশ্চয়ই প্রত্যাশা রয়েছে দলের।
শাহিন আফ্রিদি বলেন,
‘অবশ্যই। এক ম্যাচে তো ১৫ জন খেলতে পারে না। ১১ জনই খেলবে, সেটা দলের প্রয়োজন ও উইকেটের অবস্থা দেখে ঠিক করা হবে। আজ আমাদের আরেকটি অনুশীলন সেশন আছে। এরপর আমরা চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করব।’

নতুন চেহারার দল নিয়ে বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে আসছে পাকিস্তান। শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে সফরকারী দলে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বাবর আজম ও তরুণ অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুবের। এখনও পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে না খেলা ৬ জন ক্রিকেটার রয়েছেন এই স্কোয়াডে।
বাবর আজমের দলে না থাকার বিষয়টি বেশ সমালোচনা জন্ম দিয়েছে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি খুব ভালো করতে পারেননি। তবে ওয়ানডেতে বাবরের রেকর্ড দারুণ। শেষ সিরিজেও সেঞ্চুরি করেছেন। নির্বাচকেরা তাকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এটা কীভাবে দেখছেন আফ্রিদি?
বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়ার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে মঙ্গলবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমনই এক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন আফ্রিদি।
পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘দেখুন, এই সিরিজের জন্য কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। আমরা শুধু তরুণদের সুযোগ দিতে চাই। তারাও আমাদের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজে তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সময় এলে সবাই নিজেদের ভূমিকা বুঝবে। আমরা আসলে বিশ্বকাপের জন্য দলকে প্রস্তুত করছি। তরুণদের জন্য এটা নিজেদের দক্ষতা দেখানোর ভালো সুযোগ।’
বিশ্বকাপের পর পরই ওয়ানডে সিরিজে খেলতে নামছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে ব্যর্থ মিশনের পর বাংলাদেশের মাটিতে কতটা সফল হবে সফরকারীরা, সেটা নিয়েই কথা হচ্ছে। কারণ, ঘরের মাঠে বাংলাদেশ বেশ কঠিন প্রতিপক্ষ।
শাহিন আফ্রিদি বলেন, ‘অবশ্যই। যে কোনো দলই নিজেদের মাঠে শক্তিশালী থাকে। বাংলাদেশও ভালো দল এবং ঘরের মাঠে তারা ভালো ক্রিকেট খেলে। তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও হারিয়েছে। তবে আমরা প্রস্তুত। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ দুই ওয়ানডে সিরিজে আমরা ভালো খেলেছি। সেই ধারাই ধরে রাখতে চাই।’