৩১ অক্টোবর ২০২৫, ৯:৪০ পিএম

গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে এসেছিল বাংলাদেশ। বছর ঘোরার আগেই এবার অক্টোবরে বাংলাদেশে এসে সেই সিরিজের বদলা নিয়ে নিল ক্যারিবিয়ানরা।
চট্টগ্রামের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাগতিকদের করা ১৫১ রানের জবাবে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই ম্যাচ জিতে যায় রস্টোন চেজের নেতৃত্বে খেলতে নামা দল।
নিয়মিত অধিনায়ক শাই হোপসহ তিন পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবু জয় পেতে কষ্ট হয়নি তাদের। বেশ অনায়াসেই শেষ ম্যাচটি জিতল তারা।
টানা চার সিরিজ জয়ের পর আবার হেরে গেল বাংলাদেশ। আর ঘরের মাঠে তারা হোয়াইটওয়াশ হলো প্রায় ৪ বছর পর। এর আগে ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ দল।
শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ছাড়া কেউ কিছু করতে পারেননি। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ৬২ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন বাঁহাতি ওপেনার।
এই ইনিংসের পথে ৪২ ইনিংসে তিনি পূর্ণ করেন ১ হাজার রান। যা কিনা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্রুততম হাজার রানের রেকর্ড।
তামিমের বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করে সাইফ হাসান। এছাড়া বাকি ৯ ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে হ্যাটট্রিক করে রোমারিও শেফার্ড। ১৬তম ওভারের শেষ বলে নুরুল হাসান সোহান ও শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে তামিম এবং শরিফুল ইসলামকে আউট করেন তিনি।
রান তাড়ায় শুরুটা তেমন ভালো ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মাত্র ৫২ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। পরে ঝড় তোলেন আকিম অগাস্ত ও রস্টোন চেজ। দুজন মিলে মাত্র ৪৬ বলে গড়ে তোলেন ৯৩ রানের বিধ্বংসী জুটি।
১ চার ও ৫ ছক্কায় ২৫ বলে ৫০ রান করেন অগাস্ত। চেজের ব্যাট থেকে আসে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ বলে ৫০ রান।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৩ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। ৪ ওভারে খরচ করেন ৪৩ রান। তাসকিন আহমেদ ৩.৫ ওভারে দেন ৫০ রান।
একাদশে ফেরা শেখ মেহেদি হাসান ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচ করে নেন ১ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫১ (তামিম ৮৯, ইমন ৯, লিটন ৬, সাইফ ২৩, রিশাদ ৩, সোহান ১, নাসুম ১, জাকের ৫, মেহেদি ০*, শরিফুল ০, তাসকিন ৯; হোল্ডার ৪-০-৩২-২, আকিল ৪-০-২৬-১, শেফার্ড ৪-০-৩৬-৩, চেজ ৪-০-২৩-১, পিয়ের ৩-০-২৩-২, মোটি ১-০-১১-০)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৬.৫ ওভারে ১৫২/৫ (আথানেজ ১, জাঙ্গু ৩৪, কিং ৮, চেজ ৫০, অগাস্ত ৫০, পাওয়েল ৫, মোতি ৩; মেহেদি ৪-০-১৮-১, শরিফুল ২-০-১২-০, তাসকিন ৩.৫-০-৫০-০, নাসুম ৩-০-২৯-১, রিশাদ ৪-০-৪৩-৩)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
No posts available.
৯ মার্চ ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
৯ মার্চ ২০২৬, ৭:০১ পিএম

ভারতের সফল অভিযানের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কুড়ি কুড়ির আসরে বেশ ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রতিটি সদস্য। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন সেক্টরে সমানভাবে কৃতিত্ব দেখিয়েছে ম্যান ইন ব্লুজরা। ফলস্বরূপ সোনালি ট্রফিতে চুঁমু এবং আইসিসির টুর্নামেন্টসেরা একাদশে সর্বোচ্চ ক্রিকেটারের আধিক্য।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্বকাপের সেরা একাদশ বাছাই করেছে। যেখানে ভারতের সর্বোচ্চ চারজন ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছে। অনুমিতভাবে এ তালিকায় রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। ভারতের এই উইকেটকিপার ব্যাটার ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ইশান কিশান, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও জসপ্রিত বুমরাহ।
সঞ্জ মাত্র পাঁচ ইনিংসে ৩২১ রান করেছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে ভারতের একাদশে সুযোগ না পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন। আর শেষ ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ৮৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস।
টুর্নামেন্টে কিশান ৩১৭ রান করেছেন। ওপেনিংয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৭ রান করেন এবং পরে ইংল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। আর পাণ্ডিয়া দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়েছেন টুর্নামেন্টজুড়ে। ব্যাট ও বোলিং—উভয় বিভাগে অবদান রেখেছেন সমানভাবে। দুটি হাফ-সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৯টি উইকেট নিয়েছেন পাণ্ডিয়া।
জসপ্রিত বুমরাহ ফাইনালে ম্যাচসেরা হয়েছেন। টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে শীর্ষ উইকেটটেকারদের মধ্যে রয়েছেন। ফাইনালে তাঁর বোলিং ফিগার ৪/১৫ এবং টুর্নামেন্টে ইকোনমি রেট ৬.২১।
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান। টুর্নামেন্টে দুই সেঞ্চুরিতে মোট ৩৮৩ রান করেছেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। দক্ষিণ আফ্রিকার দুইজন খেলোয়াড়—এইডেন মার্করাম ও লুঙ্গি এনগিদি রয়েছেন একাদশে। প্রোটিয়া দলপতি মার্করাম রান করেছেন ২৮৬ এবং এনগিদি উইকেট নিয়েছেন ১২টি।
ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস জায়গা পেয়েছেন একাদশে। আদিল রশিদও আছেন তালিকায়। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে একজন করে ক্রিকেটার রয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার ও ব্লেসিং মুজারাবানি জায়গা পেয়েছেন টুর্নামেন্টসেরা একাদশে।
১২তম খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্যাডলি ভ্যান শ্যালকওয়াইক। যিনি আসরে ১৩ উইকেট নিয়েছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ :
সহিবজাদা ফারহান, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), ইশান কিশান, এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), হার্দিক পাণ্ডিয়া, উইল জ্যাকস, জেসন হোল্ডার, জাসপ্রিত বুমরাহ, লুঙ্গি এনগিদি, আদিল রশিদ ও ব্লেসিং মুজারাবানি। ১২তম খেলোয়াড়: শাডলি ভ্যান শ্যালকওয়াইক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার ব্যর্থতার পর দায়ভার কাঁধে নিয়ে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সানাৎ জায়াসুরিয়া। লঙ্কানদের সাবেক কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর এবার দলটির প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দিলেন কিংবদন্তি গ্যারি কারস্টেন।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) আজ এক বিবৃতিতে অভিজ্ঞ এই কোচকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। দুই বছরের দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ব্যাটারকে নিয়োগ দিল শ্রীলঙ্কা। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নেবেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী কারস্টেন এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ভারত জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন। তাঁর কোচিংয়েই ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জেতে ভারত।
এরপর ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব নেন। সাবেক কিংবদন্তি প্রোটিয়া ব্যাটার ডাগ-আউটে থাকাকালীন দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট, ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি—সব ফরম্যাটেই বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠেছিল।
সবশেষ কারস্টেন নামিবিয়া জাতীয় দল–এর পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও এই দলের সঙ্গে ছিলেন ৫৮ বছর বয়সী কোচ।
খেলোয়াড়ি জীবনে ১৯৯৩ থেকে ২০০৪ সাল মাঠ মাতিয়েছেন কারস্টেন। এই সময়ে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে তিনি মোট ১৪,০৮৭ রান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২১টি টেস্ট সেঞ্চুরি ও ১৩টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
কারস্টেনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য শ্রীলঙ্কাকে প্রস্তুত করা। দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ে অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপ সামনে রেখে দল গঠনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে তাকে।
নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট জাতীয় হাই পারফরম্যান্স সেন্টারের কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

ভারতের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৬ পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়েছে ভারত। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ছিল অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
তবে উল্টো চিত্রও ছিল। বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। ব্যাট কিংবা বল—কোনোটিতেই নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি তাঁরা। উপমহাদেশের কন্ডিশন ও ব্যক্তিগত বাজে ফর্ম- দুটিই বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেকের জন্য। এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে হতাশ করা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে স্পোর্টসক্রীড়ার ‘ফ্লপ একাদশ’।
টপ অর্ডার—ওপেনার হিসেবে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্র্যান্ডন কিং। দারুণ ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন তিনি, কিন্তু মাঠে তাঁর প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। ছয় ম্যাচে মাত্র দুবার দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন কিং। সব মিলিয়ে করেন ৯২ রান, গড় ১৫.৩৩ ও স্ট্রাইক রেট ১১৬.৪৫। গুরুত্বপূর্ণ সুপার এইট ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তাঁকে একাদশ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার জস বাটলারও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দহীন ছিলেন। এক পর্যায়ে টানা পাঁচ ম্যাচে এক অঙ্কেই আউট হন তিনি। শেষ পর্যন্ত আট ম্যাচে করেন মাত্র ৮৭ রান। তাঁর গড় ছিল ১০.৮৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১১৬.০০।
পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগাও তিন নম্বরে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ সুপার এইট ম্যাচগুলোতেও ব্যাটে বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হন। সাত ম্যাচে তিনি করেন মাত্র ৬০ রান, গড় ১০.০০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩০.৪৩।
মিডল অর্ডার—অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও মার্কাস স্টয়নিসের ব্যর্থতা দলটির বিদায়ে বড় ভূমিকা রাখে। গ্রিন চার ম্যাচে করেন মাত্র ২৪ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চমকপ্রদ হারের ম্যাচে দুই বলেই শূন্য রানে আউট হন তিনি।
স্টয়নিস চার ম্যাচে করেন ৫৫ রান, গড় ১৮.৩৩। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে যথাক্রমে ৬ ও ৪ রানে আউট হন। বল হাতে চার উইকেট নিলেও তার ইকোনমি রেট ছিল ৮.৯৪।
নিউ জিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলও পুরো টুর্নামেন্টে সংগ্রাম করেছেন। নিচের মিডল অর্ডারে খেলতে নেমে নিজের শক্তি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। পাঁচ ম্যাচে করেন ৮০ রান, গড় ২০ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৫।
ভারতের রিঙ্কু সিং ফিনিশারের ভূমিকায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দলে দেরিতে সুযোগ পেয়েও প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। পাঁচ ইনিংসে তিনি করেন মাত্র ২৪ রান, গড় ৮ এবং স্ট্রাইক রেট ৮২.৭৫। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে দলে জায়গা দেওয়া হয় সঞ্জু স্যামসনকে।
লোয়ার অর্ডার—স্পিন বিভাগে হতাশ করেছেন নিউ জিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেশভ মহারাজ। স্যান্টনারের ইকোনমি ভালো (৬.৬০) হলেও পুরো টুর্নামেন্টে নিতে পেরেছেন মাত্র দুই উইকেট।
মহারাজ ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচে তিন উইকেট নিলেও বাকি সময়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার গড় ছিল ৩৫.৮০ এবং ইকোনমি ৮.৫২।
পেস বিভাগে দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। টানা তিন ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকার পর পুরো টুর্নামেন্টে নেন মাত্র পাঁচ উইকেট। তাঁর গড় ৪৩.৪০ এবং ইকোনমি ৮.১৩।
নিউ জিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফিও ব্যর্থতার তালিকায় আছেন। ২০২৫ সালে ভালো পারফরম্যান্স করলেও বিশ্বকাপে তা ধরে রাখতে পারেননি। টুর্নামেন্টে তিন উইকেট নেন তিনি, গড় ৫৪.৩৩ এবং ইকোনমি ১০.৮৬। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে যথাক্রমে ৫০ ও ৪২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
সব মিলিয়ে বড় বড় নাম থাকা সত্ত্বেও ব্যর্থতার এই একাদশই মনে করিয়ে দেয়—বিশ্বকাপের মঞ্চে নামের চেয়ে পারফরম্যান্সই শেষ কথা।

তারুণ্য নির্ভর এক দল নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান। দলের একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটারদের পরিবর্তে উদীয়মান কিংবা নতুন প্রতিভাদের বাজিয়ে দেখার লক্ষ্য সফরকারীদের। তবে ওয়ানডে সংস্করণে অনেক বছরই পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বাবর আজম। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের অনুপস্থিতিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান¬ মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১১ মার্চ। পরের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ও ১৫ মার্চ। তিনটি ম্যাচই হবে ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
৫০ ওভারের সিরিজে পাকিস্তানের দল ঘোষণার পর বাবর আজমকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন বিষয়টিকে কোনো খেলোয়াড়কে ‘ড্রপ’ করা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, এটি মূলত নতুন ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
সিরিজের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হেসন বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে নতুন খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা কয়েকজন ক্রিকেটারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেখার একটি ভালো সুযোগ।
হেসন বলেন, ‘আমি মনে করি না কাউকে বিশেষভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। বরং এটি আমাদের জন্য তরুণ প্রতিভাদের দেখার একটি দারুণ সুযোগ। ক্যালেন্ডারে খুব কম সময়ই থাকে, যখন আমরা সম্ভাবনাময় কয়েকজন খেলোয়াড়কে একসঙ্গে সুযোগ দিতে পারি। অনেক ক্রিকেটার দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলছে এবং এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।’
হেসন আরও বলেন, ঘরোয়া ক্রিকেট ও পাকিস্তান শাহিনস দলে ভালো পারফরম্যান্স করা কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য এই সিরিজটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ, ‘যেমন সাহিবজাদা ফারহান—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো খেলে সে নিজের দাবি জোরালো করেছে। পাশাপাশি ৫০ ওভারের ঘরোয়া ক্রিকেটেও সে ভালো করেছে। আবার শামিল হোসাইন দারুণ সম্ভাবনাময় এক ক্রিকেটার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সে ছিল সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও অসাধারণ খেলেছে। শাহীনস দলের হয়েও তার পারফরম্যান্স ভালো।’
পাকিস্তানের আরেক প্রতিভাবান মায সাদাকাতকে নিয়ে হেসন বলেন, ‘সে অনেক দিন ধরেই দলে সুযোগ পাওয়ার কাছাকাছি ছিল। তাই এই সিরিজে তাদের মতো খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের ভরাডুবির সঙ্গে ব্যাট হাসেনি বাবর আজমেরও। বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে বলার মতো কিছুই করতে পারেননি ডানহাতি ব্যাটার।
অবশ্য সবশেষ ওয়ানডেতে তাঁর পারফরম্যান্সে মন্দ নয়। এই সংস্করণে সবশেষ তিনি মাঠে নেমেছিলেন গত বছরের নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ঘরের মাঠে ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৯ রান করেন, দ্বিতীয় ম্যাচে অপরাজিত ১০২ রান করেন এবং শেষ ম্যাচে যোগ করেন ৩৪ রান ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার। একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের হয়ে অন্যতম সফল ব্যাটার বাবর। এখন পর্যন্ত ১৪০ ম্যাচে ৫৩.৭২ গড়ে তিনি করেছেন ৬,৫০১ রান। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭টি অর্ধশতক ও ২০টি শতক।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দারুণ একটি ওভার করেও দলকে জেতাতে পারেননি। তবে ম্যাচ শেষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিন্ন কারণে আলোচনায় নিউ জিল্যান্ডের অলরাউন্ডার জেমস নিশাম। নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) একটি দলকে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। ম্যাচ একচেটিয়া ভারতের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পাওয়ার-প্লে শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রান তুলে নেয় তারা।
ভারত তখন ২৫০ পেরোনোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে ম্যাচে সাময়িক উত্তেজনা ফেরান নিশাম। ইনিংসের ১৬তম ওভারে টানা তিন উইকেট তুলে নেন এই অলরাউন্ডার।
সেই ওভারে প্রথমে ফুলটস বলে বিপজ্জনক সঞ্জু স্যামসনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তারপর হাফসেঞ্চুরি করা ইশান কিষানকে আউট করেন। পরের বলেই সুর্যকুমার যাদবকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন। সেই ওভারে দেন মাত্র ১ রান। তাতে নিউ জিল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে ভারত। নিশাম শেষ ওভারে দেন ২৪ রান!
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশামের প্রশংসা করে পোস্ট দেয় নেপাল প্রিমিয়ার লিগের দল পুখারা অ্যাভেঞ্জার্স। লেখা হয়, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের বড় মঞ্চে নেইশামের সেই ওভার ছিল দুর্দান্ত এবং তাদের হয়ে খেলার জন্য তারা গর্বিত।’
তবে সেই পোস্টের জবাবে নিশামের মন্তব্য বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। সংক্ষিপ্ত উত্তরে তিনি লেখেন, ‘ভালো, খেলোয়াড়দের টাকা দিন।’
ধারণা করা হচ্ছে, দলটির কাছে বকেয়া পারিশ্রমিকের বিষয়টিই এভাবে প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন তিনি। গত মৌসুমে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পুখারা অ্যাভেঞ্জার্স সাত ম্যাচের মধ্যে তিনটি জিতে পঞ্চম হয়েছিল।
নিশামের মন্তব্যের পর নেপালের সংবাদমাধ্যম হামরোখেলকুদ জানিয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ইতিমধ্যে খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বকেয়া অর্থ আগামীকাল, ১০ মার্চের মধ্যেই পরিশোধ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।