
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে গত কয়েক মাস ধরেই দারুণ সময় পার করছেন তাসকিন আহমেদ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অসাধারণ এক অর্জন ধরা দিল তার ঝুলিতে। বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে উইকেটের সেঞ্চুরি করে ফেললেন অভিজ্ঞ পেসার।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে আউট করে মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩০ বছর বয়সী পেসার। ৯৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচটি খেলতে নেমেছিলেন বাংলাদেশের এই পেস বিভাগের নেতা।
একশ উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে ৮২ ম্যাচ ও ৮০ ইনিংস লাগল তাসকিনের। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এই ফরম্যাটে তার আগে একশ উইকেট নিতে পেরেছেন শুধু সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান।
আরও পড়ুন
| মারুফার তোপ থেকে বৃষ্টি বাঁচাল প্রোটিয়াদের |
|
পাকিস্তান ম্যাচের আগপর্যন্ত মুস্তাফিজের নামের পাশে ছিল ১৫০ উইকেট। আর ১৪৯ উইকেট নিয়ে ঠিক তার পরেই সাকিব।
উইকেটের সেঞ্চুরি করার পথে এখন পর্যন্ত ৩ বার ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নেওয়া ১৬ রানে ৪ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। পাকিস্তান ম্যাচের আগে সবশেষ ৭ ম্যাচে তিনি নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট।
২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হওয়া তাসকিনের ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিল মাত্র ৫২ রান। ২০২৪ ও ২০২৫ সাল মিলিয়ে এরই মধ্যে তিনি নিয়ে ফেলেছেন ৪৮ উইকেট। গত বছর ১৯ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৩০ উইকেট। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ১৮ উইকেট তার।
সব মিলিয়ে ১০০ উইকেট নেওয়া বিশ্বের ২৬তম বোলার তাসকিন। এই তালিকায় সবার ওপরের নামটি আফগানিস্তানের রশিদ খানের। এখন পর্যন্ত ১০৩ ইনিংসে ১৭৩ উইকেট পেয়েছেন আফগানদের এই তারকা লেগ স্পিনার।
No posts available.
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫ এম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৭ পিএম

রানের দেখা পেয়েছিলেন প্রথম ম্যাচেও। এমনকি পাকিস্তান সিরিজেও পরপর দুই ম্যাচে খেলেছিলেন চল্লিশ ছাড়ানো ইনিংস। কিন্তু কোনোভাবেই ফিফটি করতে পারছিলেন না লিটন কুমার দাস। অবশেষে সেই অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটালেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
চট্টগ্রামে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন লিটন। ৭১ বলে ২ চারে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে পৌঁছান ৩১ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ১৯ ইনিংস ও ৯১৭ দিনের অপেক্ষার পর আবার ফিফটির দেখা পেলেন লিটন। এর আগে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৮২ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
| ৩ বলে ৪ উইকেট: ১৪৯ কিমি গতিতে বিরল হ্যাটট্রিক পিএসএলে |
|
সেই ম্যাচের পর রীতিমতো অফফর্মে ঢুকে যান লিটন। মাঝে টানা ৯ ইনিংসে দুই অঙ্কও ছুঁতে পারেননি তিনি। যে কারণে একাধিকবার ওয়ানডে দল থেকেও বাদ পড়েন স্টাইলিশ এই ব্যাটার। অবশেষে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ নম্বরে নেমে পঞ্চাশে পৌঁছালেন তিনি।
১০১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে লিটনের এটি ১৩তম ফিফটি। এর সঙ্গে ৫টি সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি।
লিটনের আগে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে শান্তর এটি চতুর্থ ফিফটি। সব মিলিয়ে ১২তম ফিফটি করলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬৬ রান। শান্ত ৮৮ ও লিটন ৫৪ রানে অপরাজিত। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির সংগ্রহ ১৫৩ বলে ১৩৪ রান।

বৈভব সূর্যবংশীকে দেখলে মনে হবে বেশ শক্তিশালী এবং বিশালদেহী এক ক্রিকেটার, যাঁর কব্জিতে এখনই এলিট লেভেলের পাওয়ার আর ছক্কা মারার সহজাত ক্ষমতা আছে। বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের তুলোধুনো করতে সিদ্ধহস্ত এই ব্যাটারের পরিণত ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ব্যাট হাতে এমন পরিণত সূর্যবংশীর বয়সটা যে মাত্র ১৫ সেটাই ভুলে বসতে হয় মাঝেমধ্যে। তবে এই বিস্ময়বালকের আচরণ আর কথা শুনলে ঠিকই বোঝা যায়, দিনশেষে একজন কিশোরই রয়ে গেছেন মারকুটে এই ব্যাটার।
এবারের আইপিএলের নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা এবং কার্যকরী ব্যাটার হলেন বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং অর্ডারের একদম শুরুতে নেমে তিনি যা করছেন, তার সবটাই কিন্তু ১৫ বছর বয়সে পা দেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে!
সবশেষ গতকাল অবশ্য লাক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ৮ রানে শেষ হয়ে যায় বৈভাব সূর্যবংশীর ইনিংস। তাতেই আইপিএলের একটি রেকর্ডের মালিক বনে গেলেন। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বলে পাঁচশ রান করার কীর্তি গড়লেন তিনি।
ছোট্ট এই ইনিংসটির পথে আইপিএলে পাঁচশ রান পূর্ণ করেন সুরিয়াভানশি। পাঁচশর ঠিকানায় পা দিতে তার লাগল ২২৭ বল। অস্ট্রেলিয়ান বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের লেগেছিল ২৬০ বল। আর ভারতীয় ব্যাটসম্যান প্রিয়ানশ আরিয়া ২৭৮ বলে করেন পাঁচশ রান।
আইপিএল অভিযানের প্রথমার্ধে রাজস্থান রয়্যালসের ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পাওয়ার পেছনে সূর্যবংশীর রানের বড় অবদান রয়েছে। প্লে-অফের দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে তাঁর দল।
লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে লো-স্কোরিং ম্যাচে সূর্যবংশীর ব্যাট কথা বললেও ঠিকই জয় পেয়েছে তাঁর দল। ম্যাচের পর এমন সূর্যবংশীকে দেখা গেল, যেমনটা দেখে অভ্যস্ত নয় কেউই। ভারতের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ ক্রিকেটার হওয়ার লক্ষ্য থাকলেও, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভেতরের শিশুসুলভ স্বভাবটা এখনও একদম আগের মতোই আছে। এই বয়সের অন্য দশটা কিশোর যা করে আনন্দ পায়, তিনিও সেগুলো করতে এখনও একইভাবে ভালোবাসেন।
মাঠের সেই সাক্ষাৎকারে সূর্যবংশী হাসিমুখে বলেন, ‘মাথায় আসলে বিশেষ কিছু ঘোরে না স্যার। আজও আমি ম্যাচের আগে কার্টুন দেখেছি, ওটাই আমার পুরনো অভ্যাস। তবে কার্টুন দেখলেও ফোকাসটা কিন্তু ঠিকই খেলার মধ্যে থাকে।’
বৈভব সূর্যবংশীকে অনেক সময় কোনো শিশুতোষ কার্টুনের নায়কের মতোই মনে হয়। যাঁর আছে অবিশ্বাস্য শক্তি আর কেবল মজার ছলেই যে একের পর এক ছক্কা হাঁকাতে পারেন—অন্তত তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুটা সেকথাই বলছে। আইপিএল ২০২৬-এ এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২৫৪ রান। যদিও সাম্প্রতিক কয়েকটা ম্যাচে রান কিছুটা কম এসেছে, তবুও রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি এখনও ওপরের দিকেই আছেন।
মাঠে নামলেই রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দেওয়া সূর্যবংশী ও তাঁর সতীর্থদের মূল লক্ষ্য এখন বর্তমানে। একমাত্র উদ্দেশ্য ২০০৮ সালের পর রাজস্থান রয়্যালকে তাদের প্রথম আইপিএল শিরোপা এনে দেওয়া। নিজের চেয়ে অনেক বেশি বয়সী সতীর্থদের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়ে সূর্যবংশী বলেন, ‘সবার পরিকল্পনা একটাই—পরের ম্যাচে আরও ভালো করা। আজ আমরা মাঠে নেমেছি এবং ২ পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছি। আমাদের লক্ষ্য এখন প্লে-অফের দিকে এগিয়ে যাওয়া।’

পরপর তিন ম্যাচে টস হারলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দুই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিলেও শেষ ওয়ানডেতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ন টম ল্যাথাম।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলা ১১টায় শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ। প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতায় সিরিজ।
শেষ ম্যাচের একাদশে জোড়া পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ। বাদ পড়েছেন তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন। তাদের জায়গায় ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তানভির ইসলাম।
এছাড়া নিউ জিল্যান্ড একাদশে পরিবর্তন একটি। ব্লেয়ার টিকনারের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন বেন লিস্টার।
বাংলাদেশ একাদশ
সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভির ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা
নিউ জিল্যান্ড একাদশ
হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম, মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, বেন লিস্টার, জেডেন লেনক্স, উইল ও'রোক

ফাস্ট বোলিং কাহাকে বলে এবং উহা কত প্রকার ও কী কী? দুনিয়ার অনেকেই আমাদের শিখিয়েছেন এর সংজ্ঞা। আপাতত নাহিদ রানা শেখাবেন পুরো ক্রিকেট দুনিয়াকে। বাড়াবাড়ি নাকি বাস্তবতা?
নিউ জিল্যান্ডের সাথে এক ম্যাচে ১০ ওভারে মাত্র একটা বল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের কমে করেছিলেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গড় গতি প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার ঘণ্টায়। এর আগে এক ম্যাচে ১৫০.২ কিলোমিটার ঘণ্টায় সর্বোচ্চ। সবশেষ বিপিএলে ১৫১.৪ কিলোমিটার ঘণ্টায় বল করতেও দেখেছিলাম। অবিশ্বাস্য না?
আজ চট্টগ্রামে নজরে এলো মাঠে বিশেষ মনোযোগী, সাগরিকার ২২ গজকে আপন করে নেওয়ার চেষ্টা, আড্ডায় এখন রানাই যেনো বড় টপিক। অতো গতি নিয়ে কেউ বল করলে কী করে অস্বীকার করা যায়? না, এই ভুলটি করবেন না প্লিজ।
রত্নের যত্ন নিন। প্রায়শই বিশ্রামে রাখতে হচ্ছে রানাকে। বিসিবি তা বুঝে? না বুঝে আর উপায় কী? সাবেক উইন্ডিজ পেইস তারকা ইয়ান বিশপ অনেক আগেই দিয়ে রেখেছিলেন যে পরামর্শ। বিশপের এক টুইট ছিল এমন,
'বাংলাদেশকে কিছু একটা করতে হবে। সেরা স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং বিশেষজ্ঞ ও ডায়েটিশিয়ানকে চাকরি দিতে হবে। নাহিদ রানা ও তাদের ফাস্ট বোলিং দলটাকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। নাহিদের গতি খুবই প্রশংসনীয়।'
গতির রেকর্ড ভাঙতে চান, এমন কিছুই কখনো বলেন না। তবে আরও গতি কী নাহিদ রানা দেখাবেন না? ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের আশেপাশে নিয়মিত? জানেন গতিই তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। গতির সাথে আপোষ নেই। শন টেইটদের চোখে তাই রানা দারুণ বুদ্ধিমান কিংবা ফিল সিমন্সের কাছে অমূল্য। চট্টগ্রামে আজ বাংলাদেশ পেস বোলিং কোচ শন টেইট বলেছেন,
'নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, সে বুদ্ধিমান ছেলে। এই মুহূর্তে ব্যাপারটাকে খুব বেশি জটিল না করে আমি মনে করি, সে যেভাবে বল করছে এবং তার জন্য যা কাজে দিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে ভালো।'
ছোটবেলার কোচও সুযোগ পেলেই মাতেন রানা বন্দনায়। প্রথম দিন থেকেই নাহিদ রানাকে দেখে আসছেন একই গতিতে। টেপ টেনিস থেকেই বিপ্লব। অ্যাকশনে সামান্য বদল, রানা যেনো গতি দিয়ে নতুন দিনের গানই লিখতে এসেছেন এদেশের ক্রিকেটে। পেস বোলিং কোচ আলমগীর কবিরের মুখে শোনা,
'প্রথম দিনেই মনে হয়েছিল রানা কিছু একটা করবে। টেপ টেনিস খেলতো, বয়স কম ছিল। অনেক গতি ছিল শুরু থেকেই। একটু বোলিং অ্যাকশন চেঞ্জ করেছিল ছোটবেলায়। আশাকরি সামনেও দারুণ করবে ও।'
ম্যাচে একেকটা বাউন্সার, একেকটা উইকেট! রানা ঠিক কতখানি ভালো? এই গল্পটাও আপনার জানা দরকার।
সেবার জিম্বাবুয়ে এলো বাংলাদেশ। শন উইলিয়ামস বললেন,
'এখনকার দিনে অনেক বোলারই আছে দ্রুতগতিতে বল করতে পারে। দুনিয়ায় শুধু একজনই জোরে বল করে না। আমরা এটার জন্য প্রস্তুত। আমাদের কাছে বোলিং মেশিন আছে, যা মানুষের চেয়ে দ্রুতগতিতে বল করে।'
জিম্বাবুয়ের সাথে দারুণ করে নাহিদ রানা জানালেন তিনি মেশিনের চেয়েও ভালো!
মাঠের লড়াই অনেকের জন্য, কেবলই একটা সাধারণ ম্যাচ। রানার জন্য তারচেয়েও অনেকটা বেশি। চোটে ভয়? ধুর ছাই! দিনের প্রথম বলটা যে গতিতে, শেষটাও একই গতিতে।
'ইনজুরি কখনও বলে-কয়ে আসে না। আর আপনি যদি যুদ্ধে নামেন, তবে গুলি তো আপনার গায়ে লাগবেই। সেই রকম যদি ক্রিকেট খেলেন তো ইনজুরি আসবেই, ইনজুরিতে পড়বেন এটা স্বাভাবিক'
দুদিন আগেই বলেছিলেন রানা।
চোটে ভয় পেলে কি আর নাহিদ রানা হওয়া যায়? পেইস ইজ পেইজ ইয়ার।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ইতিহাসে ষষ্ঠ বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেছেন তরুণ পেসার আলী রাজা। বুধবার করাচি কিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি।
লাহোরে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮২ রান সংগ্রহ করে করাচি। ইনিংসের শেষ ওভারে রাজার হাতে বল তুলে দেন পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক বাবর আজম। ওভারের চতুর্থ বলটি ‘ওয়াইড’ হলেও সেই বলে রান আউট হয়ে ফেরেন আব্বাস আফ্রিদি। ওয়াইড হওয়ায় রাজার হাতে আরও তিনটি বৈধ বল বাকি ছিল। পরের বলে খুশদিল শাহ ইয়র্কর সামলাতে গিয়ে ‘হিট আউট’ হন। পঞ্চম বলে আরও একটি দুর্দান্ত ইয়র্করে শহীদ আজিজের মিডল স্টাম্প উপড়ে ফেলেন এই তরুণ তুর্কি।
টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজা শেষ বলে ঘণ্টায় ১৪৯.১ কিলোমিটার গতিতে এক বিধ্বংসী ফুল টস করেন। হাসান আলী সেই গতির কাছে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হলে পূর্ণ হয় আলী রাজার ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক। পিএসএলের ইতিহাসে সপ্তম বোলার (রান আউটসহ ধরলে) হিসেবে হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন তিনি এবং টুর্নামেন্টের কনিষ্ঠতম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন। শেষ পর্যন্ত ৪১ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন আলী।
২০২৪ সালে পেশাদার ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া আলী রাজা এ বছরের শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে নজর কেড়েছিলেন। সেখানে মাত্র ৯.০৭ গড়ে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, যা ছিল টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ। সম্প্রতি ‘উইজডেন ক্রিকেট মান্থলি’র বিশ্বের সেরা ৪০ তরুণ ক্রিকেটারের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন এই পেসার। এখন পর্যন্ত ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার ঝুলিতে আছে ২৫টি উইকেট।