২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সোমবার উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষিত দলের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে শাই হোপকে।
১৫ সদস্যের দলে জায়গা হয়নি আলজারি জোসেফ ও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান এভিল লুইসের। ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছেন জোসেফ, আর অফ ফর্মের কারণে নেই লুইস।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হারা সিরিজের দল থেকে লুইসের সঙ্গে আরও বাদ পড়েছেন আলিক আথানেজ, কেসি কার্টি, জাস্টিন গ্রেভস, আমির জাঙ্গু, খ্যারি পিয়ার, র্যামন সিমন্ডস এবং শামার স্প্রিঙ্গার।
উইন্ডিজের বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন হার্ডহিটার ব্যাটার কুইন্টন স্যাম্পসন। আফগানিস্তান সিরিজে অভিষেক হয় ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটারের। তবে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের সিরিজে মাত্র ৩৫ রান করেছেন তিনি।
সদ্য শেষ হওয়া এস টোয়েন্টিতে গাইয়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের তৃতীয় সেরা রান সংগ্রাহক ছিলেন স্যাম্পসন। নয় ইনিংসে তার রান ২৪১, স্ট্রাইক রেট ১৫১.৫৭। সেই ফর্ম তাকে আফগানিস্তান সিরিজে সুযোগ করে দেয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ দল:
শাই হোপ (অধিনায়ক), শিমরন হেটমায়ার, জনসন চার্লস, ব্র্যান্ডন কিং, রোস্টন চেইস, জেসন হোল্ডার, রভম্যান পাওয়েল, শেরফেন রাদারফোর্ড, রোমারিও শেফার্ড, কুইন্টন স্যাম্পসন, আকিল হোসেন, গুডাকেশ মোটি, শামার জোসেফ, জেডেন সিলস, ম্যাথু ফোর্ড।
No posts available.
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ এম
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৮ এম

জিতলে টিকে থাকা, সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ। আর হারলেই বিদায়—অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখির আগে সহজ এই সমীকরণ মেলানোর লক্ষ্যে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে ইংল্যান্ডের লজ্জার হারে লাল–সবুজ দলের বিশ্বকাপ অধ্যায় এখানেই শেষ। ফলে ৩১ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজিজুল হাকিমদের লড়াই কেবল নিয়মরক্ষার।
আজ বুলাওয়েতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৩৮.১ ওভারে ১৩৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ১৫৫ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
মামুলি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুতেই বিপাকে পড়ে ইংল্যান্ড। জোসেফ মোরেসকে দলীয় ৩ রানে ফিরিয়ে কিছুটা চাপে ফেলে দেন আল ফাহাদ। এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর পর দলীয় ৩৯ রানে ফের বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড।
সংকট কাটান থমাস রেও ও বেন ডাওকিনস। দুজন মিলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। ওপেনার বেন ব্যক্তিগত ২৭ রানে যখন ফেরেন, তখন ইংল্যান্ডের দলীয় সংগ্রহ ১১৭। জয় থেকে মাত্র ১৯ রান দূরে ছিল দল। বাকিটা হিসাব মিলিয়ে দেন থমাস। তিনি ৫০ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে পেসার আল ফাহাদ সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নিয়েছেন। অপর উইকেটটি ছিল সামিউন বাশিরের।
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে প্রথমবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে যেন বড় বিপাকেই পড়ে আজিজুলরা। সর্বোচ্চ জুটি ছিল রিফাত বেগ ও আজিজুলের। দ্বিতীয় জুটিতে আসে ৪৬ রান। এরপর তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ৯০ থেকে ১৩৬ রানের মধ্যে ৬ ব্যাটারকে হারায় দলটি।
প্রথম ওভারেই ওপেনার জাওয়াদ আবরারকে (১) ফেরান ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব–১৯ দলের পেসার সেবাস্তিয়ান মরগান। দ্বিতীয় উইকেটে রিফাত বেগ ও আজিজুলের ৪৬ রানের জুটিই ইনিংসে সর্বোচ্চ। উইকেটকিপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করেন ৩৪ বলে ২৫।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ বলে ৩১ করেন ওপেনার রিফাত। সর্বোচ্চ ৪৬ বল খেলেন অধিনায়ক আজিজুল। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২০ রান। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করেন ৩৪ বলে ২৫ রান।
ইংলিশদের হয়ে মরগান নেন ২৮ রানে ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন রাফলি আলবার্ট ও ম্যানি লাম্বসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল: ৩৮.১ ওভারে ১৩৬ (রিফাত ৩১, আব্দুল্লাহ ২৫, আজিজুল ২০; মরগান ৩/২৮, রাফলি ২/১৫)।
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব–১৯ দল: ২৪.১ ওভারে ১৩৭ রান (থমাস ৫৯, মোরেস ৩৪; ফাহাদ ২/৩৭, সামিউন ১/৩০)।

নাইজেরিয়া ক্রিকেটের দায়িত্ব ছাড়লেন স্টিফেন টিকোলো। কেনিয়া ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে পরিচিতি তিনি। বদলে দিয়েছেন নাইজেরিয়ার ক্রিকেটও। ২০২২ সালের অক্টোবরে দলটির প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন টিকোলো। হাই পারফরম্যান্স বিভাগ এবং নাইজেরিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশনের (এনসিএফ) ইনচার্জের দায়িত্বও পালন করতে তিনি।
এনসিএফ সভাপতি উয়িসা আপাতা বলেছেন, জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে টিকোলোর দায়িত্বকাল নাইজেরিয়ান ক্রিকেটের জন্য একটি সংজ্ঞায়িত ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সাবেক কেনিয়ান অধিনায়ক টিকোলোর অধীনে নাইজেরিয়ার ক্রিকেটে কাঠামো, শৃঙ্খলা এবং জয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লাগোসের অনিকানে টিবিএস ক্রিকেট ওভালের ‘দ্য ক্রিকেট ল্যাবে’ আয়োজিত টিকোলোর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আপাতা। অনুষ্ঠানে টিকোলোর অবদানকে সম্মান জানাতে এনসিএফের কর্মকর্তা, জাতীয় দলের খেলোয়াড়, ক্রিকেট–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ এবং শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপাতা বলেন, টিকোলো শুধু দলকে কোচিং করাননি, তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাই গড়ে তুলেছেন। তাঁর হাত ধরেই নাইজেরিয়ান ক্রিকেটে পেশাদার মানসিকতা ও জয়ের সংস্কৃতি এসেছে। তিনি জাতীয় দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়িয়েছেন।
আপাতার মতে, টিকোলোর মেয়াদে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও তৃণমূল উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা নাইজেরিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাঁর অধীনে খেলোয়াড়দের কারিগরি ও কৌশলগত দক্ষতা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। এনসিএফ সভাপতি বলেন, ‘তার দিকনির্দেশনায় আমরা আত্মবিশ্বাস, দক্ষতার প্রয়োগ এবং মানসিক দৃঢ়তায় বড় অগ্রগতি দেখেছি। আমাদের দলগুলো মহাদেশীয় পর্যায়ে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সম্মানিত হয়ে উঠেছে।’
টিকোলো তৃণমূল ক্রিকেট ও কোচ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয় কোচ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে তিনি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছেন। টিকোলোর রেখে যাওয়া মান ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে নাইজেরিয়ান ক্রিকেট এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন আপাতা।
জাতীয় দলের অধিনায়ক সুলাইমান রুনসেওয়ে বলেন, টিকোলোর প্রভাব দলের প্রতিটি সদস্যের ওপর পড়েছে। তিনি বলেন, “কোচ শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও আমাদের পাশে ছিলেন। আমাদের তিনি শুধু ক্রিকেটার বানাননি, একটি শক্ত দল গড়ে তুলেছেন। এই যাত্রা চলবে, আমরা আপনাকে গর্বিত করব।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে টিকোলো বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে নাইজেরিয়ার সঙ্গে কাজ করা তার জন্য ছিল পরিপূর্ণতা ও আবেগে ভরা অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, আফ্রিকার শীর্ষ ক্রিকেট শক্তি হওয়ার পথে নাইজেরিয়া এগোচ্ছে, যদিও এখনো সেই লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছানো হয়নি।
টিকোলো জানান, কাতার ও হংকংয়ের প্রস্তাব থাকলেও আফ্রিকার ক্রিকেটে অবদান রাখার ইচ্ছা থেকেই তিনি নাইজেরিয়াকে বেছে নেন। তিনি বলেন, “আমার হৃদয় ছিল আফ্রিকায়। নাইজেরিয়া আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, আমি সেটি সানন্দে গ্রহণ করেছি।”
তিনি জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত আইসিসি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের মতো হতাশাজনক মুহূর্তগুলোকেও শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন। কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের হতাশা ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রেরণা জোগাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিএফ বোর্ড, কারিগরি টিম এবং খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টিকোলো বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির মাধ্যমেই সাফল্য আসে।’ তিনি খেলোয়াড়দের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান তাঁর, ‘কিছুই সহজে আসে না। পরিশ্রম করতে হবে, আর সব সময় আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে।’

বাংলাদেশ দলের প্রতি সংহতি জানাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ঘিরে কয়েকটি প্রতীকী ও কৌশলগত বিকল্প বিবেচনা করছে। সামা টিভির প্রতিবেদন বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির আচরণ নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে পিসিবি কীভাবে অবস্থান নেবে—তা নিয়েই এসব আলোচনা চলছে।
সূত্র মতে, পাকিস্তানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিবাদের বার্তা কীভাবে দেওয়া যায়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে বিকল্পগুলো নিয়ে ভাবছে বোর্ড। টুর্নামেন্ট থেকে সরে না দাঁড়িয়ে কীভাবে সংহতি প্রকাশ করা যায়—এই দিকটিই আলোচনার মূল বিষয়।
কর্মকর্তাদের ও সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বোর্ডের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গেও এ বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) সংক্রান্ত একটি কর্মশালার ফাঁকেও এই আলোচনা হয়েছে। সেখানে নাকভি বাংলাদেশের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নাকভি আলোচনায় বলেন, বাংলাদেশ দলকে ‘অপমানজনক পরিস্থিতির’ মুখে পড়তে হয়েছে এবং এই অবস্থায় তাদের একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। এ বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশে পিসিবি আন্তরিক।
বিবেচনায় থাকা তিনটি বিকল্প
পিসিবি বর্তমানে যে তিনটি বিকল্প নিয়ে ভাবছে, সেগুলো হলো— প্রথমত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামতে পারেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি সংহতির বার্তা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিকল্প—আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় আচরণের প্রতিবাদ হিসেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
তৃতীয় বিকল্প—পাকিস্তান দল বিশ্বকাপে পাওয়া প্রতিটি জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের উদ্দেশে উৎসর্গ করতে পারে—এই প্রস্তাবও আলোচনায় আছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
সূত্র জানিয়েছে, পিসিবির চূড়ান্ত অবস্থান এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আজই প্রধানমন্ত্রী ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করবেন নাকভি।
পিসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রতিযোগিতামূলক স্বার্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি স্পষ্ট সংহতির বার্তাও গুরুত্ব পাবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ–সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অংশগ্রহণ বা অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাকভির বক্তব্য
আজ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় নাকভি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থান ছিল নীতিগত। মৌলিক ক্রিকেটীয় মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করে যাবে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা প্রতিভাবান এবং যেকোনো অঙ্গনে সাফল্য পেতে হলে দলগত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতিকরণ করা ক্রিকেট কারও স্বার্থ রক্ষা করে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিষয়ে পাকিস্তান সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, পিসিবি সেটিই পূর্ণভাবে মেনে চলবে বলেও জানান তিনি।

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করে পাকিস্তান। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে জন্য ১৫ সদস্যের দল দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে নির্বাচক কমিটি হারিস রউফ এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বাদ দেওয়া নিয়ে চলছে আলোচনা। এই দুই তারকাকে দলের বাইরে রেখে ছন্দহীনতা ভোগা বাবর আজমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সব আইসিসির টুর্নামেন্টেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তবে এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কেবল বাবরের ওপর আস্থা রেখেছে।
পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন দলের নির্বাচনের কারণ এবং বাদ দেওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বাবর আজম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা বাবরকে ওপেনিং করতে দেখব না। ও আমাদের জন্য ওপেনিং করেনি, কারণ পাওয়ার প্লেতে আক্রমণ করার ক্ষমতা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাবরের অবশ্যই মাঝের দিকের ওভার নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা আছে। প্রয়োজনে সঠিক খেলোয়াড়কে স্ট্রাইক দিতে পারবে। যদি আমরা কম রান তাড়া করি, সেটা করতে সে সক্ষম।’
সম্প্রতি বিগ ব্যাশে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি বাবর। ১১ ম্যাচে ১১ ইনিংসেই ব্যাট করেছেন। বল খেলেছেন ১৯৬টি। ফিফটি দুটি। ২২.৪৪ গড়ে ২০২ রান করায় স্ট্রাইক রেট ১০৩.০৬। এবার বিগ ব্যাশে অন্তত ১০ ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শুধু মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্ট্রাইক রেটই বাবর আজমের চেয়ে কম।
তবে পাকিস্তানের কোচ অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে বিশ্বকাপের আয়োজক শ্রীলঙ্কার তুলনা করতে নারাজ, ‘অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ আমাদের সামনে আসন্ন শ্রীলঙ্কার পরিবেশের চেয়ে ভিন্ন, তাই আমরা সব বিষয় বিবেচনা করেছি।’
পাকিস্তান দল নাফায় ও উসমান খানকে উইকেটকিপার হিসেবে দলে নিয়েছে, জায়গা হারিয়েছেন রিজওয়ান। এ প্রসঙ্গে হেসন বলেন, ‘উসমান খান ফিরে আসার পর থেকে দারুণ খেলছেন। অভিজ্ঞতা যেমন দেখিয়েছেন, উইকেটকিপিংও প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় তার পারফরম্যান্স সত্যিই দুর্দান্ত ছিল।’
রিজওয়ানকে দলে না রাখার ব্যাখ্যায় পাকিস্তান কোচ আরও বলেন, ‘আমাদের কিপারের ভূমিকা হলো মিডল-অর্ডারে ব্যাটিং করা, প্রায় ৫ বা ৬ নম্বরে। রিজওয়ান একজন টপ-অর্ডার ব্যাটার, তাই এই ভূমিকার জন্য তাঁর স্থান নেই।’
ফাস্ট বোলার হারিস রউফের বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়াও অনেককে অবাক করেছে। হেসন জানিয়েছেন, হারিস রউফকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল, তবে তিনি দলে জায়গা করে নিতে পারেননি। কারণ পাকিস্তানের নির্বাচিত পেস আক্রমণ ম্যাচের তিনটি পর্যায়েই কার্যকরভাবে বল করতে সক্ষম। অর্থাৎ শুরু, মাঝে এবং শেষে,‘আমরা হারিস রউফ, ওয়াসিম জুনিয়র এবং আহমেদ দানিয়ালকে বিবেচনায় নিয়েছিলাম, কিন্তু তারা দলে জায়গা করে নিতে পারেনি। কারণ অন্য তিনজন—শাহিন, সালমান এবং নাসিম—তিনটি পর্যায়েই বল করতে পারছেন।’
পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল:
সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জমান, খাওয়াজা নাফায় (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ নওয়াজ, সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটকিপার), উসমান তারিক।

বার্সেলোনার এই ম্যাচকে স্পষ্টভাবে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ছন্নছাড়া, হতশ্রী আর বিদঘুটে পারফরম্যান্সের প্রথামার্ধ। আর ঘরের মাঠে নিজেদের দুর্দান্ত নিজেদের আসল রূপে ফেরা দ্বিতীয়ার্ধ। পরের অর্ধে চেনা রূপে ফিরেই পয়েন্ট টেবিলের তলানির দলের বিপক্ষে পঁচা শামুকে পা কাটা থেকে বেঁচে ফিরে কাতালনরা, সঙ্গে ফিরে পায় চূড়ার রাজত্ব।
লা লিগায় গতকাল রিয়াল ওভেইদোর বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠ ক্যাম্প নূতে তিনটি গোলই এসেছে বিরতির পর। দানি ওলমোর গোলে ডেডলক ভাঙার পর ব্যবধন বাড়ান রাফিনহা। তারপর দৃষ্টিনন্দন এক ওভারহেড গোলে ব্যবধান ৩-০ করেন লামিনে ইয়ামাল। এ নিয়ে লিগে চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে খেলা সবগুলো ম্যাচেই জয় পেল বার্সেলোনা—ঘরের মাঠে স্প্যানিশ জায়ান্টদের এটি দশম জয়।
এই জয়ে ২৪ ঘন্টা শেষ হওয়ার আগেই শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল বার্সা। লিগে ২১ ম্যাচে ১৭ জয়, ১ ড্র ও তিন হারে হান্সি ফ্লিকের দলের পয়েন্ট ৫১। সমান ম্যাচে এক পয়েন্ট পিছিয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। আর মৌসুমের ১২তম হারে তলানিতে নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত হলো রিয়াল ওভেইদোর। ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগায় উঠে আসা ক্লাবটি ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ২০ নম্বরে।
নিজেদের ডেরায় মাঝমাঠে পেদ্রির অনুপস্থিতি বেশ ভুগিয়েছে বার্সাকে। প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের নির্বিষ আক্রমণভাগ লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। পুরো ম্যাচে মোট ১২টি শট নেওয়া ফ্লিকের দল গোলমুখে রাখে সাতটি শট, যার সবকটিই দ্বিতীয়ার্ধে।
দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমো ও রাফিনিয়া ওভিয়েদোর রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ লুফে নেন। ৫২ মিনিটে ওলমোর গোলের পর পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। ওভিয়েদো রক্ষণভাগ বক্সের ভেতরে বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন ওলমো। আর সফরকারীদের ডিফেন্ডার ডেভিড কস্তাস গোলকিপার অ্যারন এসকানদেলের কাছে বল ফেরাতে গিয়ে পাসটা ছোট করে ফেলেন। সুযোগ বুঝে রাফিনিয়া বল কেড়ে নিয়ে লব শটে এসকানদেলের ওপর দিয়ে জালে পাঠান।
তারপর ৭৩তম মিনিটে চোখধাঁধানো এক বাইসাইকেল কিকে জাল কাঁপান ইয়ামাল। পেনাল্টি স্পটের কাছাকাছি থেকে ওলমোর ক্রস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠান দূরের কোণায়। চলতি বছরে স্প্যানিশ তারকা উইঙ্গারের প্রথম গোল এটি এবং মৌসুমের অষ্টম গোল।
ম্যাচ শেষে শিষ্যদের প্রথামার্ধের পারফরম্যান্সের নিয়ে বার্সা কোচ ফ্লিক বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না, তবে সেটা আমি বুঝতে পারছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি, সঠিক পরিবর্তন এনেছি, আর সেটাই কাজে লেগেছে।’