
২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ কভার করতে যেয়ে ডারবানে জুলু নৃত্য দেখেছি। এক যুগ পরে লন্ডনের ওভালে বাংলাদেশ যেদিন দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি, সেদিন ওভালের প্রধান প্রবেশপথে দর্শকদের স্বাগত জানাতে একদল তরুণ-তরুণী জুলু নৃত্যের সঙ্গে গান-বাজনায় উঠেছে মেতে। দেখে মনে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কাওয়াজুলু নাটাল থেকে এই আদিবাসীদের নিয়ে আসা হয়েছে। কেউ কেউ তো নৃত্যরত অর্ধনগ্ন জুলু তরুণীদের কাছে এসে ছবি তুলে পেয়েছেন অপার আনন্দ।
এই আনন্দটা না জানি বাংলাদেশের জন্য নিরানন্দ হয়, এই শঙ্কাটাই ছিল। ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ৫ ধাপ উপরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা দলটি তখন তারকা সর্বস্ব। ডি ভিলিয়ার্স, ডি কক, ডু প্লেসি, মার্করাম, রাবাদা, ইমরান তাহির- ক্রিকেট বিশ্বে সব বড় বড় নাম। সামারে বাংলাদেশের চেয়ে আড়াই-তিন ঘন্টা পর ইংল্যান্ডে সূর্যাস্ত হয় বলে রোজার সময়টা বেশ বড়। তারপরও মাহমুদউল্লাহ, মিরাজ, মুশফিক রোজা রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছেন। এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে করেছেন এই ত্রয়ী ইফতারি!
ঈদ উল ফিতরের ৩ দিন আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারানোর গল্পটা এখনও চোখে ঝাপসা হওয়ার কথা নয়। তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাকিব-মুশফিকুরের ১৪২ রানের পার্টনারশিপ, মুশফিকুরের ৮০ বলে ৭৮ রানের পাশে সাকিবের ৮৪ বলে ৭৫ রানে ওভালজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের রেকর্ড ৩৩০/৬ স্কোরও দেখেছে বিশ্ব ২০১৯ সালের ২ জুন।
ওই ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরমেন্সের ( ৭৫ রান এবং ১/৫০) জন্য সাকিব ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন। তার চেয়েও বড় কথা, ওডিআই ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের পাশে ২৫০ উইকেট শিকারে দ্রুততম রেকর্ডটির মালিকও হয়েছেন সাকিব সেই ম্যাচে। রেকর্ড মাইলস্টোনের পর মিক্সড জোনে নিয়েছিলাম ব্যবহৃত বলে অটোগ্রাফ। শোকেসে সেই বলটি রেখেছি যত্ন সহকারে।
ওই ম্যাচের ২ দিন পর ইংল্যান্ডে ঈদ উল ফিতর, তার পরদিন বাংলাদেশে ঈদ। ইংল্যান্ডে ঈদের দিন প্রিভিউ করার তাড়া, পরদিন ম্যাচের বিস্তারিত লেখার যুদ্ধ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে মাশরাফির দল। সে কারণেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচটি বাংলাদেশের সকল ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে হয়ে উঠেছে মহাগুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি দিন ( ৪ এবং ৫ জুন) বাংলাদেশে ঈদ এর ছুটি, সকল দৈনিক পত্রিকা তালাবদ্ধ। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ প্রিভিউ এবং ম্যাচ রিপোর্টসহ আনুষঙ্গিক সব রিপোর্টে তাই সমর্থকদের চোখ রাখতে হয়েছে টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন মিডিয়ার দিকে। সে সময়ে আমি একটি অনলাইনের স্পোর্টস এডিটরের দায়িত্বে ছিলাম বলে ওই দুই দিন একটু বেশি দৌড়-ঝাঁপ দিতে হয়েছে। লন্ডনে ঈদের জামায়াত পড়তে কখন যাবে বাংলাদেশ দল, ওভালে অনুশীলন করবে কখন, টিম হোটেল, না বাইরে কোথাও ঈদ এর ভুরিভোজের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, এসব বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজারের কাছ থেকে জেনে নিতে হয়েছে। যদিও ঈদ এর নামাজ পড়ার সময় এবং স্থানটা ক্রিকেট দলের নিরাপত্তায় গোপনীয় রেখেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে হোটেলে উঠেছে, সেই হোটেলটি টেমস নদীর তীরে। ইস্ট লন্ডনের একটি বাসায় একটা রুম ভাড়া এক সপ্তাহের জন্য ভাড়া করে অনুজ ক্রীড়া সাংবাদিক মাহিবুর রহমান হিল্লোলের ( সারাবাংলা ডট নেট-এর ক্রীড়া সম্পাদক) সঙ্গে উঠেছি। ওই বাসার পাশে মসজিদটি লন্ডনের সবচেয়ে বড় মসজিদ। সকাল ৭টা থেকে এক ঘন্টা অন্তর অন্তর ঈদ এর জামায়াত হয় এই মসজিদে। তাই খুব ভোরে ওঠার তাড়া ছিল না। আমাকে একা রেখে হিল্লোল সকাল-সকাল ঈদ এর নামাজ পড়েছে। ফাঁকা বাসায় পাওয়ারফুল চশমা ছাড়া গোসল করতে যেয়ে শ্যাম্পুর ফেনা চোখে লেগে বাথরুমে আমি চিৎপটাং। মাথা পড়েছে ফ্লোরে, পা উপরে।বাথরুম অটো লকড। কিছুই দেখছি না। মাথায় আঘাত এতোটা পেয়েছি যে, আঘাতস্থল গেছে ফুলে। কোনোমতে দরজার লক খুলে বড় ধরণের দূর্ঘটনা এড়াতে পেরেছি। বাসার পাশে ছিল মেডিসিন সেন্টার। সেখান থেকে ডাক্তারকে দেখিয়ে তার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ট্যাবলেট খেয়ে মাথার ব্যাথা উপশম করতে পেরেছি। এর পর ঈদ এর নামাজ পড়ার পর হিল্লোলের সঙ্গে দেখা। অফিসিয়াল প্রেস কনফারেন্স থাকছে না নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন। টিম হোটেলে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা কখন কথা বলবেন,মিডিয়া ম্যানেজার তা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠিয়েছেন। নিউজের পাগল হিল্লোলের তো মাথায় হাত। এক্ষুণি বেরুতে হবে। লন্ডনে ব্লাক ট্যাক্সি দেখতে যেমন রাজকীয়, ভাড়াও অন্য রাইড ট্যাক্সির চেয়ে বেশ বেশি। রাস্তায় বেরিয়ে অন্য কোনো কালারের ট্যাক্সি না পেয়ে ব্লাক ট্যাক্সিতেই উঠতে হলো আমাদেরকে। ট্যাক্সি ড্রাইভার লোকেশন ঠিকমতো চিনছেন না। জিপিএস-এও কাজ হচ্ছে না। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট লন্ডন সফরে আসায় টেমস নদীর এপারের রাস্তা-ঘাটও বেশ নিরাপত্তা বলয়ে। বড়জোর ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে যেখানে ট্যাক্সিটি পার্ক করেছে, সেখান থেকেও বাংলাদেশের টিম হোটেলের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। ৩৬ পাউন্ড ( বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫ হাজার ৯১৭ টাকা) বিল দিয়ে ট্যাক্সি থেকে নেমে তাই বিড় বিড় করেছে হিল্লোল।
টিম হোটেলের সামনে এলাহী ব্যাপার। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটার পর একটা বড় বড় পাতিলে খাবার আসছে। পোলাও-কোর্মা,জর্দা,রেজালা, পায়েশ আরও কতো কী।বিসিবির তহবিল থেকে কেনা টিকিট বিনে পয়সায় পেয়েছেন যারা, তারা তো বটেই, লন্ডনে বাংলাদেশের সরকার দলীয় রাজনৈতিক কর্মকর্তারাও বিনা বাধায় ঢুকেছেন হোটেলে, তুলেছেন মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিকদের সাথে ছবি! অথচ, টিম হোটেলের ভেতরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ কভার করতে আসা গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকারে দেয়া হয়েছে বাধা। হোটেলের বাইরে প্রচণ্ড বাতাস, বাতাসের তোড়ে শরীরটাই উড়িয়ে নেয়ার যোগাড়। অথচ, হোটেলের বাইরে মিডিয়াকে কাজ করার মতো কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিসিবির তৎকালীন ৪-৫ জন পরিচালক পর্যন্ত গণমাধ্যমকে ঈদ মোবারক বলে খালাস। বাংলাদেশের সঙ্গে লন্ডনের সময়ের ব্যবধান ৫ ঘন্টা, তা মাথায় রেখে সব প্রতিকূলতার মধ্যে বাংলাদেশের মিডিয়াকে থাকতে হয়েছে ব্যস্ত। এরই মধ্যে এর-ওর কাছ থেকে খবর সংগ্রহ করে অনলাইন এবং টিভি মিডিয়ার রিপোর্টাররা রিপোর্ট করেছেন। আমাকেও প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে ল্যাপটপ খুলে একাধিক রিপোর্ট লিখতে হয়েছে। মিডিয়াকে ভোগান্তিতে ফেলে অবশেষে আন অফিসিয়াল প্রেস কনফারেন্সে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে পাঠানো হলো প্রথম ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা লিটন দাসকে। তাও তো একটা খোরাক পেলো মিডিয়া।
পরদিন বাংলাদেশে ঈদটা হতে পারতো মহা আনন্দের। ওভালে সাকিবের ৬৪ রানে ভর করে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪৪/১০ স্কোর করেও জয়ের সম্ভাবনা ছিল। তবে সেই ম্যাচে বাংলাদেশ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ফিকে হয়েছে মুশফিকুর রহিমের অমার্জনীয় ব্যর্থতায়। একটি নয়, অবধারিত ২টি রান আউট এবং উইকেটের পেছনে একটি ক্যাচ মিস করেছেন এই উইকেট কিপার। উইকেটের পেছনে না দাঁড়িয়ে উইকেটের সামনে এসে রান আউট করার ভুল চেষ্টায় রস টেলরকে ৯ রানের মাথায় অবধারিত রান আউটে ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। সাকিবের বলে সেই রস টেলরের ক্যাচও মুশফিকুর রহিমের হাত থেকে ফসকে গেছে। কেন উইলিয়ামসনকে মাত্র ৬ রানের মাথায় রান আউটে ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগও হাতছাড়া করেছেন মুশফিক। এই রস টেলরই শেষ পর্যন্ত ৯১ বলে ৯২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচটা বাংলাদেশের হাত থেকে ছুটিয়ে নিয়েছেন। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে বাংলাদেশ সেই ম্যাচে হেরেছে ২ উইকেটে।
ঈদ এর দিনে ওই জয়টি পেলে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালের কক্ষপথে থাকতে পারতো বাংলাদেশ দল। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় হাতছাড়া করার কষ্টটা তাই বাংলাদেশকে পুঁড়িয়েছে যন্ত্রনায়।
ঈদ উল ফিতরের উৎসবে পূর্ণতা দেয়ার গল্প অবশ্য আছে বাংলাদেশ দলের। সেই গল্পেও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই ঈদ উল ফিতরের উৎসবটা বাংলাদেশ রাঙিয়েছিল তিনদিন আগে, চট্টগ্রামে প্রোটিয়াদের ৯ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে। ওই জয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের (২-১) রেকর্ড করে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ৭ এ উঠে ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির টিকিট নিশ্চিত করেছে। তার ঠিক তিনদিন পর সেই চট্টগ্রামে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ ড্র করেছে বাংলাদেশ। সেবার চট্টগ্রামেই ঈদ উল ফিতর পালন করেছে বাংলাদেশ দল। ওয়ানডে এবং টেস্ট কভার করতে আমাকে দুবার ঢাকা থেকে যেতে হয়েছে চট্টগ্রামে।
No posts available.
২০ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
২০ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
২০ মার্চ ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেকেই সেঞ্চুরি—যে কীর্তি ছিল না কোনো নারী ক্রিকেটারের, সেটিই করে দেখালেন রুয়ান্ডার ১৫ বছর বয়সী ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে। নাইজেরিয়া ইনভিটেশনাল উইমেনস টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ঘানার বিপক্ষে এই বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন তিনি।
আজ নাইজেরিয়ার লাগোসে ঘানার বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে ৬৫ বলে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন উতাগুশিমানিন্দে। এর মাধ্যমে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে সেঞ্চুরি করার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ৯৬ রান করে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি কারেন রোল্টন।
১৫ বছর ২২৩ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের (নারী ও পুরুষ মিলিয়ে) কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ানও এখন উতাগুশিমানিন্দে। তিনি ভেঙে দিয়েছেন উগান্ডার প্রসকোভিয়া আলাকোর রেকর্ড। ২০১৯ সালে মালির বিপক্ষে যখন আলাকো সেঞ্চুরি করেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর ২৩৩ দিন।
পুরুষ ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত চারজন ব্যাটার অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেও পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের খেলোয়াড় এই তালিকায় নেই। পুরুষ ক্রিকেটে কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাককিওন, যিনি ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন। উতাগুশিমানিন্দে সেই হিসেবে পুরুষ ক্রিকেটের রেকর্ডকেও পেছনে ফেলে দিলেন।
উতাগুশিমানিন্দের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১০ রানের পাহাড় গড়ে রুয়ান্ডা। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন মার্ভেইল ওয়াসে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ৮৮ রান তুলতে সক্ষম হয় ঘানা। ১২২ রানের বিশাল জয়ে মাঠ ছাড়ে রুয়ান্ডা।

২০ মার্চ এলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তদের সামনে তামিমে ইকবালের জন্মদিনটি মনে করিয়ে দেয় সংবাদমাধ্যম। তিন সংস্করণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫ সেঞ্চুরির মালিক, বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ব্যাটার তামিমের ৩৭তম জন্মদিনটি এবার খুব একটা ঘটা করে পালিত হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঈদ উল ফিতরের আগাম বার্তায় বাংলাদেশের লিজেন্ডারি ক্রিকেটারের জন্মদিন নিয়ে হয়নি তেমন আলোচনা। স্ত্রী আয়েশা আক্তারের পোষ্ট, তামিম ভক্তদের শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরনীয় সব জয়ের নায়ককে স্মরণ করেছে সমর্থকরা।
তামিমের জন্মদিনটি প্রথম আলোচনায় এসেছে ২০০৭ সালে, বিশ্বকাপ চলাকালে। বাঁ হাতি ব্যাটিংয়ের জাদুকর ব্রায়ান লারার জন্মস্থানে বাংলাদেশের এক ব্যাটিং বিস্ময়ের আবির্ভাব সেই বিশ্বকাপে দেখেছে বিশ্ব।
সেকারণেই তামিমের ১৮তম জন্মদিন উদযাপনের নিউজটা পেয়েছে সেবার গুরুত্ব। ত্রিনিদাদের হোটেল হিলটনের লবিতে ঢু মেরেই পেলাম তামিমের জন্মদিন উদযাপনের উত্তাপ। তিনদিন আগে কুইন্স পার্ক ওভালে ৫৩ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ভারতকে হারানোর নায়ককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে প্রতিপক্ষ ভারতের সুপার স্টার দ্রাবিড়, সৌরভ, শচিন এসেছেন ছুটে।
তামিমের জন্মদিন এবং জন্মদিনের আশে-পাশের দিনগুলোতে তামিমের কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশ দলের সাফল্য এক সময়ে ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম উভয় ইনিংসে ফিফটির রেকর্ডটা তার ২১তম জন্মদিনে। মিরপুর টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮৫-এর পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ৫২। ২০১৭ সালের ১৫ থেকে ১৯ মার্চ কলোম্বোর পি সারা ওভালে বাংলাদেশের শততম টেস্ট জয় দিয়ে রাঙানোর নেপথ্যেও তামিমের ব্যাটিং (৪৯ও ৮২)। চতুর্থ ইনিংসে ১৯১ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জিতেছে তামিমের ৮২ রানে। একদিন পর শততম টেস্ট জয়ের নায়ক তামিমের ২৮তম জন্মদিনটা তাই একটু বেশি উৎসবমুখর ভাবেই পালিত হয়েছে।
২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশের নায়ক তামিম ১৯তম জন্মদিন পালন করেছেন একটু বেশি আনন্দে। জন্মদিনে ম্যাচ উইনিং ৪৬ রানের ২ দিন পর ওডিআই ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি (১৩৬) উদযাপন করেছেন তামিম মিরপুরে।
২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনটা তামিম শুরু করেছিলেন এক সপ্তাহ আগে। তার রেশটা ছিল সেই জন্মবার্ষিকী পালনের ২ দিন পরেও। ২০১২ সালের ১১, ১৬, ২০ ও ২২ মার্চ তামিমের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে স্মরণীয়তম। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৪, ভারতের বিপক্ষে ৭০, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫৯ রানের পর ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬০! টানা ৪ ফিফটি। ভারতের গ্রেট শচিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি উৎসবকে ম্লান করে দিয়ে সেই ম্যাচে ম্যাচ উইনার তামিম। সেদিন মিরপুর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বার্থডে বয় ক্যাপ-এ ছিল সয়লাব।
২৮তম জন্মদিনের ৫ দিন পর শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় ১২৭ রানের ইনিংসটিও কাঁপিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকদের। ২০২২ সালে ৩৩তম জন্মদিনটি কেটেছে তামিমের দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে। স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ১ রানে থেমেছেন তামিম। সেই কষ্টটা লাঘব করেছেন ৩ দিন পর। সেঞ্চুরিয়নে তামিমের ৮৭ রানের হার না মানা ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অবিশ্বাস্যভাবে ৭ উইকেটে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে প্রথমবারের মতো ওডিআই সিরিজ জয়ের উৎসব করেছে বাংলাদেশ দল।
জন্মবার্ষিকী বিষাদময় হওয়ার দৃষ্টান্তও দেখেছেন তামিম। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামের লোকাল হিরো তামিম নিজের চেনাজানা মাঠে করেছেন হতাশ পারফরমেন্স। হংকংয়ের বিপক্ষে পেয়েছেন ডাক। শুরুর ওই ধাক্কা সামাল দিতে পারেনি বাংলাদেশ। হেরে গেছে বাংলাদেশ হংকংয়ের কাছে।
তারপরও প্লেয়িং ক্যারিয়ারে তামিমের অধিকাংশ জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে আনন্দে, জন্মদিনে তামিম দেশকে দিয়েছেন সুখববর।
২০০৭ বিশ্বকাপে সুপার এইটে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বিরতির সময়ে লাঞ্চ টেবিলে স্যার ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে বসে খেয়েছি লাঞ্চ। তাও আবার এক টেবিলে বসে ক্যারিবিয়ান লিজেন্ডারির সঙ্গে লাঞ্চ করা কম গর্বের নয়। লাঞ্চের ফাঁকে স্যার ভিভ রিচার্ডসের একটা মিনি ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। ব্যাটিংয়ে বিশ্ব শাসন করতে এসেছেন তামিম, সেই ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন ভিভ রিচার্ডস সেই ইন্টারভিউতে। ১৮-পেরুনে একটা ছেলের মধ্যে যে প্রতিভা দেখতে পেয়েছেন, তার বিচ্ছুরণ দেখেছে বিশ্ব পরবর্তীতে। ৭০ টেস্টে ৩৮.৮৯ গড়ে ৫১৩৪ রান, ২৪৩ ওডিআই ম্যাচে ৩৬.৬৫ গড়ে ৮৩৫৭ রান এবং ৭৮ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৪.০৮ গড়ে ১৭৫৮ রান করে নিজের ব্যাটিং সক্ষমতার জানানই দিয়ে গেছেন তামিম ইকবাল। আড়াই বছর আগে সব ধরণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়েও তাই তামিমের জন্মদিনকে বিশেষভাবে উদযাপনে ভক্তরা থাকে মুখিয়ে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিউ জিল্যান্ড। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৩৭ রানের লক্ষ্যে ১৬.২ ওভারেই টপকে যায় কিউইরা।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই প্রোটিয়া বোলারদের কোনো সুযোগই দেননি নিউ জিল্যান্ডের ওপেনাররা। ডেভন কনওয়ে ও টম লাথাম মিলে ওপেনিংয়ে গড়েন ৯৬ রানের জুটি।
কনওয়ে ২৬ বলে ৩৯ রান করে বিদায় নিলেও অপরপ্রান্তে অপরাজিত ছিলেন লাথাম। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন এই উইকেট কিপার ব্যাটার।
এর আগে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের তোপের মুখে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে প্রোটিয়ারা। এক পর্যায়ে ৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।
শেষ দিকে জর্জ লিনডের ২৩ এবং এনকোবানি মোকোয়েনার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৬ রানের সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০ নম্বরে নামা মোকোয়েনা দলের সর্বোচ্চ ২০ বলে ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে বেন সিয়ার্স, স্যান্টনার ও জেমিসন দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ৪ ওভারে ৯ রান খরচায় এক উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা লকি ফার্গুসন।
সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে রোববার ওয়েলিংটনে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ড। সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই প্রোটিয়াদের সামনে।

টেস্ট অভিষেকের ১৬ বছর ৪ মাস ৫ দিন পর ১০০ টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই মাইলস্টোন টেস্টকে বিশেষ মর্যাদায় উদযাপনে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সাধ্যমত চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের শততম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে মাঠে খেলা গড়ানোর আগে বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।
খেলা শুরুর আধঘণ্টা আগে টসের পর দুই দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম-রঙ্গনা হেরাথ নিজেদের মধ্যে পতাকা বদল করেছেন। এরপর ঠিক প্যাভিলিয়নের সামনে শততম টেস্ট উদযাপনে বিশেষ আয়োজন পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেজে ওঠেছে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত। এর সঙ্গে উত্তোলন করা হয় দুই দেশের পতাকা ও আইসিসিরি পতাকা। শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও বিসিবি সভাপতি বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ১০০তম টেস্ট উপলক্ষে ঢাকা থেকে ক্রিকেটারদের জন্য আনা নীল রঙের ব্লেজার এবং বিশেষ টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেয়া হয় ঐতিহাসিক টেস্টে প্রতিনিধিত্বকারীদের। দু’প্রান্তে বাংলাদেশের পতাকা নেড়ে একদল শিশু-কিশোর নীল গালিচায় ক্রিকেটারদের গার্ড অব অনার দিয়েছে।
বাংলাদেশের শততম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ পদক তৈরি করে রেখেছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। সেই পদকগুলো ক্রিকেটারদের গলায় পরিয়ে দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি সুমাথিপালা। বিশেষভাবে তৈরি করা মেডেলগুলোতে লেখা ছিল- ‘কংগ্রাচুলেশন অন দ্য সেঞ্চুরি টেস্ট ম্যাচ প্লেড বাই বাংলাদেশ।’
এছাড়া লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির তৎকালীন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকেও দিয়েছে বিশেষ উপহার। হাতির একটি মূর্তিকে রূপালি রঙের প্রলেপ দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে কাচের বক্সের ফ্রেম আকারে তুলে দেয়া হয় বিসিবি সভাপতির হাতে। এক ফ্রেমে দুই দল বন্দি হয়েছে ফটোসেশনে, পরে উড়েছে লাল-সুবজ রঙের বেলুন।
নিউ জিল্যান্ডের ডানেডিনে বাংলাদেশের ৫০তম টেস্ট উদযাপনে শুধু স্বাক্ষীই নয়, ওই টেস্ট স্মরণীয়ভাবে উদযাপনে ঢাকা থেকে আমার আইডিয়া এবং বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেট ফ্যান ক্লাব বেঙ্গল টাইগার্সের অর্থায়নে ৫০টি চাবির রিং, এবং দুটি ক্রেষ্ট বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই টেস্টের প্রথম দিনে লাঞ্চ ব্রেকের সময় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়কে দিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল এবং নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক ভেট্টরির হাতে আমি এবং দুর্জয় তুলে দিয়েছিলাম ওই দুটি বিশেষ ক্রেস্ট। বাংলাদেশের ৫০তম টেস্ট কভার করতে যাওয়া বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ড সাংবাদিকদের সবাইকে এবং দুদলের ক্রিকেটারদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম বিশেষ স্মারক চাবির রিং।
শততম টেস্টকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের অজান্তে এমন কিছুর পরিকল্পনা ছিল এবং তা বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের তৎকালীন সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন ভাইকে রাজি করিয়ে ১০০টি চাবির রিং বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার পরিকল্পনায় শততম টেস্ট উপলক্ষ্যে একটা বিশেষ কেকও অর্ডার দিয়ে বানিয়েছিলেন তিনি। শততম টেস্টের আগের রাতে একটা সৌজন্য ডিনারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং বাংলাদেশ থেকে শততম টেস্ট কভার করতে আসা সাংবাদিকদের সম্মানে আপ্যায়িত করেছিলেন তিনি। বিসিবি থেকে যে উদ্যোগ নেয়ার কথা, সেই উদ্যোগটা মামুন ভাই নিয়ে বিপদে পড়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার এবং বিসিবির তৎকালীন পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন ক্ষুব্ধ হয়ে কেকের উপর চালিয়েছেন ক্রোধ! উপস্থিত সাংবাদিক, ক্রিকেটাররা হতভম্ব হয়েছেন তার এই আচরণে। অথচ, পরদিন বেঙ্গল টাইগার্সের সাব্বির আহমেদ রুবেল, গোলাম ফারুক ফটিকের সঙ্গে মুশফিকুর রহিম এবং রঙ্গনা হেরাথকে ম্যাচ ভেন্যুতে দিয়েছি শততম টেস্টের বিশেষ ক্রেস্ট, তখন কিন্তু ওই ক্রেস্ট দিতে এগিয়ে এসেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া মিলিয়ে বাংলাদেশের শততম টেস্টে কভার করেছেন যেসব সাংবাদিক, তাদের সবার নাম এবং স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি। টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশের শততম টেস্ট স্কোয়াডের সবার অটোগ্রাফ নিয়েছি। এসব দিয়ে বিশেষ ডিজাইনেকাঠের উপর লেজার কাটিং করে স্মরণীয় স্মৃতি সংগ্রহে রেখেছি। টেস্ট সিরিজের ট্রফিটি ঢাকা থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই সিরিজের টাইটেল স্পন্সরশিপ করা আবু নেওয়াজ সোহাগ। আমার উচ্ছ্বাস দেখে ট্রফিতে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। শততম টেস্ট জয়ের সেই ট্রফিকে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফটো সেশনের আগেই কিন্তু ট্রফিটি উঠেছিল আমার হাতে!
১৯ মার্চ, ২০১৭-কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের শততম টেস্ট জয় দিয়ে উদযাপন। এমন একটি দিন, এমন একটি গর্বিত মাইলস্টোন কেনো বিসিবিকে মনে করিয়ে দিতে হবে, কেনো দিনটি বিশেষ মর্যাদায় উদযাপিত হবে না ? এটাই প্রশ্ন।

কাকতালীয় হলেও সত্য, ওয়ানডে, টেস্ট, টি-টোয়েন্টি-এই তিন ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটিই রাঙিয়েছে বাংলাদেশ জয় দিয়ে। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা স্টেডিয়ামে ভারতকে ১৫ রানে হারিয়ে শততম ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের উৎসব করেছে হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ কলোম্বোর পি সারা ওভালে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শততম টেস্ট জয়ে ইতিহাস রচনা করেছে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও শততম ম্যাচ জয় দিয়ে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ দল। যে জয়টি সূচিত হয়েছে ২০২১ সালের ২২ জুলাই।
আজ (১৯ মার্চ, ২০২৬) পাঠকের সামনে তুলে ধরছি ৯ বছর আগে শততম টেস্ট জয়ের স্মৃতি। শততম টেস্ট বলে কথা, দেশের মাটিতে শততম টেস্ট খেললে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকতো ওই বিশেষ টেস্ট। বাংলাদেশের মাটিতে আয়োজন করা যেতো, শততম টেস্ট। ফিউচার ট্যুর প্রোগামে (এফটিপি) সেইভাবে হিসাব মিলিয়ে নিতে পারতো বিসিবি। কিন্তু সেই হিসাবটা মাথায় রাখেনি নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলোম্বোর পি সারাভামাত্তু স্টেডিয়ামে ১৫ থেকে ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের শততম টেস্ট।
বিরতির ঠিক ৪৮ মিনিট পর ৫৮তম ওভারের পঞ্চম বলে যখন ২টি রান নিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রঙ্গনা হেরাথ বল করছিলেন প্রেসবক্স প্রান্ত থেকে। তিন বল আগে তাঁর টার্ন ও বাউন্সে পরাস্ত হয়ে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে এসেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। মিরাজ পঞ্চম বলটি সুইপ করলেন স্কয়ার লেগে। বল যতটা গিয়েছিল, হতে পারত ৩ রান। কিন্তু জয়ের জন্য দরকার ২ রান, তা-ই নিয়ে উল্লাসে হাওয়ায় দুহাত ছুড়লেন মিরাজ। জিতে গেল বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কাকে তাদেরই মাটিতে ৪ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ তার শততম টেস্টে পেয়েছে স্বপ্নের মতো এক জয়। টেস্ট পরিবারে সবার শেষে এসে চতুর্থ দল হিসেবে এই কীর্তিটা গড়া সামান্য প্রাপ্তি নয়। এর আগে নিজেদের শততম টেস্ট জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান। বাংলাদেশও লিখল শততম টেস্ট জয়ে ইতিহাস।
শততম টেস্টের ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করতে সময়ের হিসেবে বাংলাদেশের লেগেছে ১৬ বছর ৪ মাস ৫ দিন। এখানেও বাংলাদেশ রচনা করেছে ইতিহাস। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শততম টেস্টের ল্যান্ডমার্কে এই সময়টাই সবচেয়ে কম।
৯৯তম টেস্টটি খেলেছে বাংলাদেশ গল-এ। ৭ থেকে ১০ ডিসেম্বরে গল-এ অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ হেরে গেছে ২৫৯ রানে। দুই ইনিংসে মাহমুদউল্লাহ করেছেন ৮ এবং ০! তাতেই কোপ পড়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। শততম টেস্টে বাংলাদেশ একাদশে জায়গা হয়নি এই মিডল অর্ডারের। তার জায়গায় টেস্ট অভিষেক হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের।
কেনো মাহমুদউল্লাহকে দেওয়া হয়েছে বাদ, শততম টেস্ট কভার করা বাংলাদেশ সাংবাদিকদের সে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন বিসিবির তৎকালীন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি-
'হাতুরুর কোনো ভূমিকা নেই। প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত আমার। এখানে হাতুরুর কথা কেনো আসছে, আমি তা বুঝি না। এই যে মাহমুদউল্লাহ টেস্ট খেলবে না, এটা তো আমার সিদ্ধান্ত। তাতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার কথা কিংবা ওডিআই স্কোয়াডে নেই, এমন কোনো কথা কেউ আমাকে বলেনি। আমার কাছে তো আসতে হবে আগে। তাছাড়া আমার কাছে হাতুরু কখনো কিছু পাঠায় না। লিস্ট পাঠায় নির্বাচকরা। হাতুরুকে এর মধ্যে টেনে আনার কোনো কারণ খুঁজে পাই না।'
শততম টেস্টের একাদশ নির্বাচনে বিসিবি সভাপতি বেশ গর্ব করেই বলেছিলেন তার হস্তক্ষেপের কথা। এমন হস্তক্ষেপ তিনি করেছেন অসংখ্যবার। তবে এই একটি হস্তক্ষেপে অন্তত লাভ হয়েছে বাংলাদেশের।
এক অর্থে মাহমুদউল্লাহর রিপ্লেশমেন্টটি ছিল শততম টেস্টে যথার্থ সিদ্ধান্ত। কারণ, শততম টেস্টে অভিষেক ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরির (৭৫ ) রেকর্ডে মোসাদ্দেক দ্বিতীয়। এর আগে রেকর্ডটি ছিল শুধু ইংল্যান্ডের শততম টেস্টে অভিষিক্ত জ্যাক শার্পের। ১৯০৯ সালে করেছিলেন তিনি ৬১ রান।
এই টেস্টে সৌম্য ৫টি ক্যাচ নিয়ে করেছেন রেকর্ড। বাংলাদেশ উইকেট কিপারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম ডিসমিসালের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ারের ৫৪তম টেস্টে এসে এই মাইলস্টোনে পা রেখেছেন তিনি।
শততম টেস্টের প্রথম দিন থেকেই চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে ৩৩৮ রানে প্রথম ইনিংস থামিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ লিড নিয়েছে ১২৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে (৩/৭৮) সাকিব (৪/৭৪), মোস্তাফিজের (৩/৭৮) বোলিংয়ে চতুর্থ ইনিংসে ১৯১ রানের টার্গেটটা সহজ করে দিয়েছেন বাঁ হাতি ওপেনার তামিম। তার ৮২ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ পেয়েছে জয়ের আবহ। বাকি কাজটা করেছেণ সাব্বির রহমান (৪১), মুশফিক (২২*)।
শততম টেস্ট জয়ের শুভক্ষণের জন্য পি সারা ওভালের প্রেস বক্সের উপরে টিভি প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আসা একদল সাংবাদিক। শততম টেস্টের শুভক্ষণে বাংলাদেশের সংবাদকর্মীদের অনুভূতি, মাঠ থেকে উচ্ছ্বাস ক্যামেরায় ধারণ করেছেন ফটো সাংবাদিক রতন গোমেজ।