
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাঁচদিন আগে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশটির প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত দলে এসেছে একাধিক পরিবর্তন।
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ দলে কামিন্দু মেন্ডিসকে ফের ডাকা হয়েছে, আর দলে জায়গা পেয়েছেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা। এছাড়া ২৩ বছর বয়সী ব্যাটার পাভন রথনায়াকে স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন, সঙ্গে আছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে কাঁধে চোট পাওয়া এশান মালিঙ্গাও। তবে জায়গা হয়নি বোলার প্রমোদ মাদুশানের।
লঙ্কাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে কামিন্দুর ফেরা। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে ছিলেন না বাঁহাতি ব্যাটার এবং ইংল্যান্ডের চলমান সিরিজের আগে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার ফিরলেন তিনি, আর বাদ পড়েছেন ধনঞ্জয়, যিনি সাম্প্রতি ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান সিরিজে তেমন ছন্দে ছিলেন না।
অনেক দিন থেকেই ছন্দে নেই কামিন্দু। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১৯.৮৭ গড় এবং ১৩০.৩২ স্ট্রাইক রেটে মাত্র ১৫৯ রান করেছেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটার। ধনঞ্জয়কে মূলত বোলিং বিভাগে শক্তি বাড়ানোর জন্যেই নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দলে একই ভূমিকা পালন করতে পারেন কামিন্দুও। যদিও ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১২ ম্যাচে মাত্র ছয় ওভার বোল করেছেন তিনি।
দলের এমন পরিস্থিতিতে সুযোগ তৈরি হয়েছে বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার ডুনিথ ওয়েলালাগের জন্য। তবে ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় খানিকটা পিছিয়ে আছেন অভিজ্ঞতায়। ওয়ানডেতে নিয়মিত খেলা ওয়েলালাগে টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ছয় ম্যাচ খেলেছেন, নিয়েছেন সাত উইকেট। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ডোমেস্টিক ক্রিকেট অভিজ্ঞতা বেশি তাঁর।
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ দলে আরেক সম্ভাবনাময়ী খেলোয়াড় পাভন রথনায়েকে। গত নভেম্বর পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তাঁর, কিন্তু এক ম্যাচ ব্যাট করার পর বাদ পড়েছিলেন। তবে ইংল্যান্ডের তৃতীয় ওডিআইয়ে সেঞ্চুরি করার পর নির্বাচকদের নজর কাড়েন এবং স্কোয়াডে জায়গা পান। ২৫ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে ১০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেনছেন তিনি (রোববার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ বলের ৪০ রানের আগে)।
বোলিং বিভাগ নিয়ে তুলনামূলকভাবে তেমন একটা মাথাব্যথা নেই শ্রীলঙ্কার। দুশ্মন্ত চামীরা, মতিশা পথিরানা ও এশান মালিঙ্গা—পেস আক্রমণে থাকছেন, যদিও কারণে খানিকটা অনিশ্চিত মালিঙ্গা। স্পিন বিভাগে তেমন কোনো চমক নেই। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাহীশ থীকশানা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আর ওয়েলালাগে, আসালঙ্কা ও কামিন্দু তো আছেনই।
বিশ্বকাপের গ্রুপ বি-তে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান ও জিম্বাবুয়ে। গ্রুপের চারটি ম্যাচই ঘরের মাঠে। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ড , ১২ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে ওমান, এরপর ১৬ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার স্কোয়াড :
দাসুন শানাকা (ক্যাপ্টেন), পাথুম নিসানকা, কামিল মিশারা, কুশল মেন্ডিস, কুশল পেরেরা, চারিথ আসালঙ্কা, কামিন্দু মেন্ডিস, জেনিথ লিয়ানাগে, পাভন রথনায়কে, ডুনিথ ওয়েলালাগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মাহীশ থীকশানা, দুশ্মন্ত চামীরা, মাথিশা পাথিরানা, ইশান মালিঙ্গা।
No posts available.
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের পর জরুরি বোর্ড সভা ডেকেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। গতকাল পাকিস্তানের বয়কটের ঘোষণার পর আজ জরুরি ভার্চুয়াল বোর্ড বৈঠক ডেকেছে ক্রিকেটের নিয়ন্তক সংস্থা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুখোমুখি হওয়ার কথা পাকিস্তানের। তবে গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির মধ্যে একটি বৈঠক হয়। যেখানে সরকারের বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জাতীয় দল পুরো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে, তবে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবে না।
বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে সরাসরি আইসিসি-এর উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি অভিযোগ করেছেন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবের আইসিসি ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণ করছে।
এদিকে আইসিসি ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে তারা পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের জন্য অপেক্ষা করছে। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে আইসিসি। আইসিসি মনে করে, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সব দল সমান সুযোগ ও নিয়ম মেনে খেলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তান যদি বেছে বেছে কিছু ম্যাচে অংশ নেয়, তবে সেটি টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে।
বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, তারা সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য যেমন ভালো হবে না, তেমনি পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্যও তা হতাশার।
আইসিসির আশা, এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচকের প্রভাবের বিষয়টি পাকিস্তান বিবেচনা করবে, ‘আইসিসি আশা করে যে, পিসিবি তাদের নিজেদের দেশের ক্রিকেটের ওপর এর সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করবে। কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে, যার সদস্য এবং সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেও।’
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার তাদের একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আইসিসির বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:১৩ পিএম

টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ শুরুর বাকি এক সপ্তাহেরও কম সময়। এর মধ্যেই দুঃসংবাদ পেল অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টের
প্রথম অংশে খেলা হবে না তারকা পেসার জশ হেজেলউডের। দেশে বসেই পায়ের পেশির চোটের পুনর্বাসন
প্রক্রিয়া সারবেন তিনি।
হেজেলউড সময়মতো সেরে উঠতে না পারায় আপাতত ট্রাভেলিং রিজার্ভ
হিসেবে শন অ্যাবটকে দলের সঙ্গে যুক্ত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।
গ্লেন
ম্যাক্সওয়েল, নাথান এলিস ও টিম ডেভিড সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সফরে না থাকলেও মঙ্গলবার
কলম্বোতে বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। আগামী বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে
একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।
গত
মাসের শুরুর দিকে হেজেলউড জানিয়েছিলেন,
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মাঠে ফিরতে পারবেন তিনি। কিন্তু অ্যাশেজ সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ার
পর এবার বিশ্বকাপেও শুরুর অংশে তাকে পাওয়া
নিয়ে রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা।
হেজেলউডের
আগে চোটের কারণে প্যাট কামিন্সকে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যে কারণে চূড়ান্ত দলে বেন ডোয়ার্শিসকে
সুযোগ দিয়েছে তারা। এছাড়া প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া ম্যাথু শর্টকে বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে
ম্যাট রেনশকে।
অস্ট্রেলিয়া
স্কোয়াডে চোট সমস্যা আছে আরও। হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যার কারণে বিগ ব্যাশে শেষ দুই ম্যাচ
খেলতে পারেননি নাথান এলিস। গত ২৬ ডিসেম্বরের পর আর কোনো ম্যাচ খেলেননি টিম ডেভিড। এছাড়া
অ্যাডাম জাম্পাও ভুগছেন কুচকির সমস্যায়।
কলম্বোতে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর 'বি' গ্রুপে
জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও ওমানের মুখোমুখি হবে তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড
মিচেল
মার্শ (অধিনায়ক), হাভিয়ের বার্টলেট, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, বেন ডোয়ার্শিস, ক্যামেরন
গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হেজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাট কুনেমান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল,
ম্যাট রেনশ, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাডাম জাম্পা, শন অ্যাবট (ট্রাভেলিং রিজার্ভ)

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মোহাম্মদ নওয়াজ। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি উমর গুলের দীর্ঘদিনের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। পাকিস্তানের হয়ে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় এখন দুজনই শীর্ষে।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নওয়াজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১১১ রানের রেকর্ড গড়া জয় পেয়েছে পাকিস্তান। চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন এই অলরাউন্ডার। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার এটি তাঁর ৫ উইকেট শিকার। এর আগে গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
এবার বসলেন উমর গুলের পাশে। পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে দুবার করে পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলার এখন এই দুজনই। তালিকায় এরপর আছেন উদীয়মান স্পিনার সুফিয়ান মুকিম, পেসার হাসান আলী এবং অবসর নেওয়া অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম—যাদের প্রত্যেকই একবার করে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।
তবে একটি দিক থেকে নওয়াজের চেয়ে উমর গুল এখনও এগিয়ে। গুল মাত্র ৬০ ইনিংসেই দুবার পাঁচ উইকেট নিতে পেরেছিলেন, যেখানে নওয়াজকে একই মাইলফলক ছুঁতে খেলতে হয়েছে ৮৬ ইনিংস। গুলের চেয়ে ২৬ ইনিংস বেশি লেগেছে নওয়াজের।
পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকা*
উমর গুল — ২ বার (৬০ ইনিংস)
মোহাম্মদ নওয়াজ — ২ বার (৮৬ ইনিংস)
সুফিয়ান মুকিম — ১ বার (১৯ ইনিংস)
হাসান আলী — ১ বার (৫৬ ইনিংস)
ইমাদ ওয়াসিম — ১ বার (৭৪ ইনিংস)

ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ বর্জনের পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের মধ্যেও আইসিসির নিয়ম মেনেই চলবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে বিসিসিআই জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সব প্রটোকল অনুসরণ করবে।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হওয়ার কথা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের। তবে পাকিস্তান সরকার গতকাল ঘোষণা দিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাঠে নামবে না। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তের পর বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ম্যাচ নিয়ে আইসিসি যা নির্দেশ দেবে, ভারত সেটাই মেনে চলবে।
বিসিসিআই সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত দল শ্রীলঙ্কায় যাবে। তারা ম্যাচ-পূর্ব অনুশীলন করবে, সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবে এবং সময়মতো স্টেডিয়ামে পৌঁছে ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে। বিসিসিআইয়ের এক সূত্র বলেছেন, 'ভারত আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেবে। তারা স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ রেফারির ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।'
পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে দেশটির সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে। সেখানে বলা হয়, 'পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হলো। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না।'
পাকিস্তানের এমন অবস্থানকে আইসিসির প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, আইসিসি বিসিসিআইয়ের প্রভাবেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে নাকভির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা আসে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা চলছিল। ২০ দলের টুর্নামেন্টটি শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের সফর করতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এরপরই পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু করে।
এদিকে পাকিস্তানের ঘোষণার পর আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানতে চায়। আইসিসি মনে করছে, নির্বাচিত ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আইসিসি জানিয়েছে, সব যোগ্য দলকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিযোগিতা করার কথা। নির্বাচিত অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের অখণ্ডতা ও প্রতিযোগিতার চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে।
তারা সরকারগুলোর নীতিগত ভূমিকা সম্মান করে, তবে এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেট ও সমর্থকদের স্বার্থে নয়—বিশেষ করে পাকিস্তানের লাখো ভক্তের জন্যও এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটি পিসিবিকে একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সব অংশীজনের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং বিশ্বকাপ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

কেউ ফিফটি না পেলেও সম্মিলিত ব্যাটিং পারফরম্যান্সে বড় পুঁজিই দাঁড় করাল শ্রীলঙ্কা। পরে বোলিংয়ে শুরুটাও করল ইতিবাচক। মাঝে এলো বৃষ্টির বিরতি। তবে সব কিছু ছাপিয়ে টম ব্যান্টন ও হ্যারি ব্রুকের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নিলো ইংল্যান্ড।
পাল্লেকেলেতে রোববার রাতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারায় ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। পরে ইংল্যান্ডের ইনিংসে বৃষ্টি নামলে ডিএলএস পদ্ধতিতে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭ ওভারে ১৬৮ রান। দুই বল বাকি থাকতেই জিতে যায় সফরকারীরা।
এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলল ইংল্যান্ড। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তারা পেল টানা দশম জয়। ২০১৪ সালের মে মাসের পর আর এই সংস্করণে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারেনি লঙ্কানরা।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় শ্রীলঙ্কা। ১১ ওভারের মধ্যে একশ রান করে ফেলে তারা। পাথুম নিসাঙ্কা ২২ বলে ৩৬, কামিল মিশারা ৩০ বলে ৩৬ ও কুসাল মেন্ডিস করেন ১৭ বলে ৩২ রানের ইনিংস।
চার নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন পবন রত্নায়েকে। ২২ বলের ইনিংসে ৫ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা মারেন তিনি। শেষ দিকে চারিথ আসালাঙ্কার ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২৮ রান।
ইংল্যান্ডের হয়ে ২ উইকেট নেন জফ্রা আর্চার।
রান তাড়ায় চল্লিশের আগেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। তাদের ইনিংসের অষ্টম ওভারে নামে বৃষ্টি। পরে ঠিক করা হয় নতুন লক্ষ্য।
চার নম্বরে নেমে প্রায় চার বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি করেন ব্যান্টন। শেষপর্যন্ত ৩৩ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৪ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটার।
এছাড়া রান রেটের চাপ সরিয়ে মাত্র ১২ বলে ৩৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ব্রুক। ২ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারেন ইংলিশ অধিনায়ক।
একই মাঠে মঙ্গলবার শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৮৯/৫ (নিসাঙ্কা ৩৪, মিশারা ৩৬, মেন্ডিস ৩২, রত্নায়েকে ৪০, শানাকা ১, আসালাঙ্কা ২৮*, লিয়ানাগে ১*; কারান ২-০-৩১-০, আর্চার ৪-০-৪২-২, জ্যাকস ৪-০-২৪-১, ডসন ৪-০-৩২-১, রাশিদ ৪-০-২৫-১, ওভারটন ২-০-৩০-০)
ইংল্যান্ড: (লক্ষ্য ১৭ ওভারে ১৬৮) ১৬.৪ ওভারে ১৭৩/৪ (সল্ট ১, বাটলার ৩৯, বেথেল ১৩, ব্যান্টন ৫৪*, ব্রুক ৩৬, কারান ২০*; পাথিরানা ৪-০-৪৭-২, শানাকা ৩-০-২৪-১, ওয়েলালাগে ৩-০-৩০-১, মালিঙ্গা ১.২-০-৬-০, হাসারাঙ্গা ৪-০-৪৪-০, লিয়ানাগে ১.২-০-১৮-০)
ফল: ইংল্যান্ড ডিএলএস পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে জয়ী