৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২৫ পিএম

সব খেলোয়াড়েরই ক্যারিয়ারে একটা প্রিয় মুহূর্ত থাকে—যখন তার ব্যাট-বল বেজে ওঠে নিখুঁত তালে-লয়ে। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে তাকে তার অবস্থান তৈরি করতে হয়, জানান দিতে হয় নিজের সক্ষমতা। ক্রান্তিলগ্নে কখনো সে ফেরেন খালি হাতে, কখনো হতাশ করেন নিজেকেই। অভিষেক, প্রথম স্মৃতি কিংবা বৃত্তে বন্দির আর্তনাদ—সবই হজম করতে হয় একাকী।
জীবনের মতো ক্রীড়াও এক বন্ধুর ময়দান। এখানে সবাই বন্ধু, প্রতিযোগীও। পা ফসকালেই সাইড বেঞ্চে অপেক্ষমান তারই প্রিয় কোন সতীর্থ। মারো-মরো নীতির এই ট্র্যাজিক পথচলায় অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে আলো খুব কমই থাকে। তবে ধৈর্য আর প্যাশনকে যারা ইচ্ছার উর্ধ্বে রেখেছে, জয়টা তাদেরই হয়েছে।
ইতিহাস বলে, ধৈর্যশীল ও ‘গ্রেট’ খেলোয়াড়রা কখনো ব্যর্থতার জ্বালায় পুড়ে ছাই হয়ে যান না। বরং সেই জ্বালা দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দেন। নতুন সাফল্যের তৃপ্তি প্রলেপ বুলিয়ে দেন পুরোনো জ্বালার ক্ষতে। যে মাঠে দুয়ো ধ্বনি শুনেছেন, সে মাঠেই তার জন্য বিছিয়ে রাখা হয় ফুল। স্বাগত জানাতে গলা ফাটান হাজারো সমর্থক-নিন্দুকরাও। বাংলাদেশের তরুণ অলরাউন্ডার সাইফ হাসানের বেলায় এসব ঘটেনি?
নিশ্চয়ই ঘটেছে। সাইফ এখনই ‘গ্রেট’-এর পর্যায়ে চলে যাননি। তাকে নিয়ে কাব্য-গল্প লেখা এখনো অনেক দূর। তবে ডুবতে বসা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি তরী যে তিনিই বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন—সেটা কম কিসে?
এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তো বটেই, আফগানিস্তানের বিপক্ষে কুড়ি কুড়ির সিরিজের শেষ ম্যাচ একাই জিতিয়েছেন অলরাউন্ডার সাইফ। শারজায় তার অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস শুধুই ‘গ্রেট’ না হলেও, চোখের শান্তি তো দিয়েছে বটে। আড়াই পাউন্ড ওজনের উইলো খণ্ডটি দিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। দৌড়ে রান প্রায় নেনইনি, বাউন্ডারি-বাউন্ডারিতে সাজিয়েছেন ইনিংস। একের পর এক বল ছুটে গেছে সীমানা ছাড়িয়ে।
আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দিনে মাত্র দুটি বাউন্ডারির বিপরীতে ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন সাইফ। ১৬৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন। ৩৮ বলে খেলেছেন ৬৪ রানের ইনিংস। স্ট্রেইটে ছক্কা ছাড়াও মিড-অফ, অনের সঙ্গে ফাইন-লেগে বল পাঠিয়েছেন। স্টেডিয়াম ছাড়া করেছেন, হারিয়েও দিয়েছেন বল। নিজের চোখে দেখা দৃশ্য সম্পর্কে দর্শকের মনে জাগিয়ে তুলেছেন অবিশ্বাস।
সাইফ যেন শিল্পীর তুলিতে এঁকেছেন এসবই। ক্যানভাসে হয়তো একটু বেশি দ্রুতগতিতে, একটু বেশি জোরেই ব্রাশ চালিয়েছেন ২৬ বর্ষী ব্যাটার। তাতেও চিনতে অসুবিধা হয়নি সাইফকে। শারজায় যতক্ষণ চলেছে সেই ছবি আঁকার পর্ব, ততক্ষণ সবাই মুগ্ধ দর্শক। ছবি আঁকা শেষ হয়ে গেলেও আসলে তা শেষ হয়নি-মাঠ থেকে তা চলে গেছে দর্শকদের মনের ক্যানভাসে। সত্যিকার অর্থে কি ছিল না সাইফের সে ইনিংসে?
অথচ একূল-ওকূল হারিয়ে নিঃশ্ব হতে বসেছিলেন সাইফ হাসান। ২৫-এই ফুরিয়ে গেছেন—এমন কথাও শুনতে হয়েছে তাকে। ধীরে-ধীরে খেলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলার সুবাদে ২০২০ সালে সাদা শুভ্র পোশাকে অভিষেক হয় সাইফের। আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি অভিষেক ম্যাচে। রাওয়ালপিন্ডিতে সেদিন মাত্র ১৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট, সেখানেও ব্রাত্য সাইফ। শ্রীলঙ্কা টেস্টে তো একদমই হতাশ করেছেন। ক্যারিয়ারের নিজেদের সবশেষ টেস্ট খেলেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে, ২০২১ সালে। সে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে রান এসেছে কেবল ৩২।
লাল বলের ক্রিকেটে সেখানেই দাঁড়ি পড়ে সাইফের। ২০২০ সালের শুরুতে অভিষেকের পর ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোটে ছয়টি টেস্ট খেলেছেন । রান করেছেন ১৫৯। হাত ঘুরিয়ে তুলেছেন এক উইকেট। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার জন্য এর চেয়ে বড় কারণ কি হতে পারে?
টেস্টে না হয় থিতু হতে পারেননি, টি-টোয়েন্টিতে কেমন ছিল সাইফের যাত্রা? ২০২৫ এশিয়া কাপের আগ পর্যন্ত ৫ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ৭টি কুড়ি কুড়ি ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যেখানে একটি ফিফটি ছিল। ডাক মেরে আউট হয়েছেন দুইবার। এক রান করে রান করেছে দুই ইনিংসে।
এমন মন্থর ব্যাটিংয়ে একপ্রকার নির্বাচকেরা সাইফ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম এবং নিজেকে বদলে জাতীয় দলে ফিরেই আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন বেশ ভালোভাবে। ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রত্যাবর্তন তার। এরপর এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজ মিলিয়ে খেলেছেন ৭টি টি-টোয়েন্টি। এ সময় ২১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন সাইফ।
সাইফ এ নিয়ে বলেছেন,
‘গত এক-দুই বছর ধরে আমি এভাবেই খেলছি। আমি শুধু ব্যাটিংটা উপভোগ করছি, ব্যস এতটুকুই।’
ব্যস এতটুকুই-২৮ বর্ষী ব্যাটারের উচ্চারিত শব্দ ছোট হলেও এর মাহাত্ম্য কিন্তু বিশাল। কারণ, ডাল-ভাতে রূপ নেওয়া চার-ছক্কার পেছনে রয়েছে তার দিনের পর দিন নেটে অনুশীলন আর ঘাম ঝরানোর কষ্ট।
তরুণ অলরাউন্ডার নিজেকে ভেঙে-চুরে, আবার ভেঙে গড়েছেন খুবই তীক্ষ্ণভাবে। তার স্পেশালিটি স্ট্রেইট শট-যার জন্য সাধনা আর অধ্যবসায় করতে হয়েছে তাকে। দ্বারস্থ হতে হয়েছে দেশি-বিদেশি কোচদের কাছে। সাইফ নিজেই জানিয়েছেন,
‘সাধারণত আমি সোজা ব্যাটে (সোজা উইকেটের দিকে) খেলার চেষ্টা করি এবং স্পিনের সঙ্গে একই দিকে বল পাঠাই—এটাই আমার শক্তির জায়গা।’
টেস্টের ব্যাকরণ শিখেই হাতেখড়ি তাঁর। হয়তো হতে চেয়েছিলেন টেস্ট ক্রিকেটার। ধীরে ও ধরে চলো নীতিতেই চলছিলেন। তবে সেই ‘লং ফরম্যাট ব্যাটার’ তকমা ঝেড়ে এশিয়া কাপে নিজেকে নতুন করে চেনালেন এই স্পিন অলরাউন্ডার। টেস্ট খেলুড়ে ব্যাটারের মতো সাইফও বরাবরই ডাউন দ্য ভি (মিড-অফ থেকে মিড-অন অঞ্চলের মাঝ দিয়ে খেলা) খেলতে বেশ পারদর্শী।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গুণই সাইফকে সাদা বলের ক্রিকেটেও সফলতা এনে দিয়েছে। স্পিনারদের ঘূর্ণির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বল খেলতে পারাটা এখন সাইফের বড় একটি অস্ত্র হয়ে উঠেছে-সেটা তিনি দারুণভাবে প্রমাণ করেছেন।
বীরদর্পে পর্দাপনের পর সাইফ সুযোগ পেয়েছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও। সবকিছু ঠিক থাকলে হাসমতউল্লাহ শাহিদীদের বিপক্ষে ৮ তারিখ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হবে তার। কুড়ি কুড়ির মতো এই ফরম্যাটেও যে তিনি রাজ করবেন, সেটা হলফ করে বলা যায়।
মেধাবীরা ব্যর্থ হলেও, পরিশ্রমীরা কখনও ব্যর্থ হয় না—সেটা সাইফ হাসানের চেয়ে বেশি আর কে জানে? প্রজ্ঞা আর ধৈর্যের গুণে তিলে তিলে নিজেকে গড়ে তোলা সাইফ যেন এক-দুই তলা কোনো সাধারণ ভবন নন, বরং নিজেকে রূপ দিচ্ছেন একটি স্কাইস্ক্র্যাপারে। আর সেটাই এখন দেশের প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীর গভীর বাসনা।
No posts available.
২ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
২ মার্চ ২০২৬, ৪:১৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তান নারী ক্রিকেটারদের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে লাগাতার পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে দুবাই, সৌদি আরব, ওমানসহ কয়েকটি দেশের বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের সংঘাত এবং বিমান বন্দর সাময়িক বন্ধ থাকায় দেশে ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে পাকিস্তান নারী দলের ক্রিকেটারদের। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ শেষে সোমবার রাতে ডারবান থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ফাতিমা সানাদের। কিন্তু বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বর্তমানে তারা ডারবানেই অবস্থান করছেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, আকাশসীমা পুনরায় খোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়ার পরই দল দেশে ফেরার পথে রওনা দেবে। পিসিবি সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়রা দক্ষিণ আফ্রিকাতেই থাকবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তান নারী দল তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে, যেখানে উভয় সিরিজই ২-১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক দল।

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ শেষে শনিবার জেদ্দা থেকে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটারের। তবে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রাপথে বিঘ্ন ঘটে মুশফিকের। তবে সোমবার নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারই সহধর্মিণী জান্নাতুল কিফায়েত মন্ডি।
তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মুশফিক নিরাপদে বাসায় ফিরে এসেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছেন। যারা আমার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আমাকে মানসিক সমর্থন দিয়েছেন, সকল আপনজনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুশফিকের স্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক যেন হয়, এ জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি, ‘আমরা দোয়া করি, ইন শা আল্লাহ, পৃথিবীর পরিস্থিতি খুব শিগগিরই শান্ত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠুক।’
রবিবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়া মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন তিনি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, রবিবার রাতের ফ্লাইটে মুশফিক দেশে ফিরে আসবেন।

আগামীকাল মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালে নর্থ জোনের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেন্ট্রাল জোন। তার আগে সোমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন সেন্ট্রাল জোনের অলরাউন্ডার সাইফ হাসান। এসময় তিনি দলের লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আগামী সপ্তাহে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ফলে বিসিএল আসন্ন সিরিজের আগে দেশের ক্রিকেটারদের জন্য ভালো প্রস্তুতির মঞ্চ হতে পারে। সাইফ হাসানও বলছেন সে কথা।
সাইফ বলেন, 'যেহেতু আমরা ফাইনালে উঠেছি এবং একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ বেড়েছে। ওয়ানডে সিরিজের আগে এটা ভালো একটা প্রস্তুতি আমাদের জন্য। আশা করি কালকের ম্যাচটায় আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবো।'
'গত এক-দেড় বছর ওরকম ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাইনি। কিছু ওয়ানডে আমরা পেয়েছি তাও টি-টোয়েন্টির মাঝখানে। এখন যেগুলাই ওয়ানডে সিরিজ আছে অবশ্যই প্রস্তুতিটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।'-যোগ করেন তিনি।
বিসিএলে বাদবাকি ম্যাচগুলো বগুড়া ও রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলেও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিরপুর। শিরোপার মঞ্চে ব্যক্তিগত লক্ষ্য জানাতে গিয়ে সাইফ বলেন,
'বগুড়া-রাজশাহীতে সাধারণত খুব ভালো উইকেট থাকে। আর মিরপুরে কালকে যেহেতু দিবা-রাত্রির ম্যাচ, আশা করি ভালো উইকেট থাকবে। একটা সিরিজের আগে যদি ম্যাচ অনুশীলন থাকে, অবশ্যই খুবই ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে যদি বলি। তাই ম্যাচটি যেখানেই খেলি না কেন, নিজের শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করি।'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি বাংলাদেশ দলের। চলতি বছরেও কোনো আইসিসি ইভেন্ট নেই। যদিও আগামী বছর রয়েছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। যেখানে সরাসরি খেলবে টাইগাররাও।
সাইফ বলেন, ‘সবাই আসলে মন খারাপ করেছে (বিশ্বকাপ খেলতে না পেরে)। এখানে অস্বীকার করার কিছু নেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই জরুরি।’

সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ঠিকই হারিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু রান রেটের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তাতেই সালমান আলী আগাদের সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। পাকিস্তানকে টপকে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে নিউ জিল্যান্ড। তিনটি ম্যাচই জিতে গ্রুপ সেরা হয়েছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে শনিবার। এখনও থামেনি সমালোচনার ঝড়। শূলে চড়ানো হচ্ছে নির্বাচক, কোচিং স্টাফদের সদস্যদেরও। শোনা গেছে, বিশ্বকাপে ব্যর্থতায় জরিমানা করা হয়েছে ক্রিকেটারদের। জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হচ্ছে কোচিং স্টাফদের। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক আসরে ব্যর্থতায় পিসিবিতে ফাটল ধরেছে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে দেশটির জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার আলিম দার। পাকিস্তানের সামা টিভি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আজ।
এক প্রতিবেদনে তারা জানায়, জাতীয় দলের ধারাবাহিক বাজে ফলের কারণে সৃষ্ট উদ্বেগ থেকেই আলিম দার পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে দল পরিচালনা ও নির্বাচকদের ওপর চাপ যে বাড়ছে, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্বকাপে মাঠের ব্যর্থতার পর নির্বাচক প্যানেলে এটিই প্রথম বড় পরিবর্তন। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন বা কমিটিতে আরও কোনো পরিবর্তন আসছে কি না—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচই পাকিস্তান খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। তাদের গ্রুপ পর্বের লড়াইগুলো হয়েছে কলম্বোয়। সুপার এইটের দুটি ম্যাচ খেলেছে তারা পাল্লেকেলেতে।
গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও শেষ চারে খেলতে পারেনি পাকিস্তান। আসরে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। আর এবার এই ব্যর্থতা।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য দেশেও। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে এই সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে, বিসিবির সূত্র বলছে, এই বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
৫০ ওভারের তিনটি ম্যাচ খেলতে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে পাকিস্তানের। শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ১১, ১৩ এবং ১৫ মার্চ হওয়ার কথা ম্যাচগুলো। অনিশ্চয়তার মধ্যে সিরিজটি আলোর মুখ এখন না-ও দেখতে পারে। তবে সূত্র বরাতে জিও সুপার বলেছে ভ্রমণ ঝুঁকি, নিরাপত্তা উদ্বেগ যদি না বাড়ে তবে পাকিস্তান অবশ্যই সফর করবে।
আরও পড়ুন
| নতুন মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ভারত |
|
এদিকে আসন্ন সিরিজে দল নিয়ে এই সপ্তাহে বসার কথা পাকিস্তান ম্যানেজমেন্টের। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তারা ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে মনোযোগ দিচ্ছে। আগামী বছর সাদা বলের লঙ্গার ভার্সনের বিশ্বকাপ হবে জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায়।
সূত্র জানায়, ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর দিয়েই ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চায় পাকিস্তান। বাবর আজম, মোহাম্মদ নওয়াজ ও সাইম আইয়ুবদের মতো প্রথম পছন্দের ক্রিকেটাররা বাদ পড়তে পারেন। তাদের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে পাকিস্তানের নির্বাচক প্যানেল। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা আরও ৫-৬ জন ক্রিকেটার বাদ পড়তে পারেন বলে জানায় সূত্র।
বাংলাদেশে আসার আগে সর্বশেষ গত নভেম্বরে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তান। সেবার ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে আতিথেয়তা দেয় পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া তিন ম্যাচেই জয়লাভ করে পাকিস্তান।