৫ মে ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম

৭২ বছর আগের কথা। সালটা ১৯৫৪। ফুটবল বিশ্ব তখন আজকের মতো এত হিসেবি ছিল না। রক্ষণ সামলে খেলা বা ‘বাস পার্ক’ করার মতো শব্দগুলো তখনো জন্ম নেয়নি। সেই সময়ে সুইজারল্যান্ডে বসেছিল বিশ্বকাপের পঞ্চম সংস্করণ। আর সেই বিশ্বকাপে যা ঘটেছিল, তা শুনলে বর্তমানের যেকোনো ফুটবল ভক্তের চোখ কপালে উঠবে।
আল্পস পর্বতমালা আর এক পশলা গোলের বৃষ্টি। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৩৭ দিন। তার আগে ফুটবল ইতিহাসের ধুলো জমা পাতাও উল্টে দেখলে উঠে আসে ১৯৫৪ বিশ্বকাপের এক অদ্ভুত ইতিহাস।
সেবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বা প্রথম পর্বের মাত্র ১৮ ম্যাচে গোল হয়েছিল ৯২টি! গড়ে প্রতি ম্যাচে গোল হয়েছিল ৫টার বেশি (৫.১১)। এখনকার সময়ে আমরা একটা ম্যাচে ৫ গোল দেখলেই অবাক হই, আর তখন সেটা ছিল প্রতি ম্যাচের সাধারণ চিত্র।
সেই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বটা ছিল অনেকটা হ্যাটট্রিকের মেলার মতো। আজকাল সারা টুর্নামেন্ট জুড়ে একটা হ্যাটট্রিক খুঁজে পাওয়াই দায় হয়ে পড়ে, আর সেবার শুধু প্রথম পর্বেই আটটি হ্যাটট্রিক হয়েছিল! হাঙ্গেরির জাদুকর স্যান্ডর কোকসিস তো একাই দুই ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিক করে বসেন। এ ছাড়া অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, উরুগুয়ে, পশ্চিম জার্মানি আর স্বাগতিক সুইজারল্যান্ডের ফুটবলাররাও হ্যাটট্রিকের জোয়ারে গা ভাসিয়েছিলেন। মজার ব্যাপার—ফুটবল ইতিহাসে আর কোনো বিশ্বকাপের পুরো টুর্নামেন্টে এতগুলো হ্যাটট্রিক কেউ দেখেনি, যা সেবার শুধু প্রথম রাউন্ডেরই দেখা গিয়েছিল।
১৬ দলের বিশ্বকাপ ছিল সেবার। দলগুলো মাঠে নামত একটাই লক্ষ্য নিয়ে—কে কত বেশি গোল করতে পারে। অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি কিংবা পশ্চিম জার্মানির মতো দলগুলো যখনই মাঠে নামত, গোলবন্যা বয়ে যেত। এমনকি ইংল্যান্ড আর বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচটাও ড্র হয়েছিল ৪-৪ গোলের রোমাঞ্চে। সেই গ্রুপ পর্বের ৯২টি গোল এত বেশি ছিল যে, পরবর্তী সময়ে হওয়া ছয়টি আলাদা আলাদা বিশ্বকাপের (যেমন ১৯৬৬ বা ২০১০) পুরো টুর্নামেন্টের মোট গোলের চেয়েও তা বেশি!
সেই সময়কার ফুটবলে কতটা নিয়ম-কানুন ছিল সে প্রশ্ন আসতেই পারে। ৩৭ দিন পর যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা মেক্সিকোয় ২০২৬ বিশ্বকাপ বসবে, এত গোল হবে কি না, এই আলোচনাও হতে পারে। এবারের বিশ্বকাপ আরেকটি রেকর্ডই এরই মধ্যে করেছে, সবচেয়ে বেশি ৪৮ দল অংশগ্রহণ করবে। ম্যাচ ও দল বেড়ে যাওয়া ১৯৫৪ বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের গোলের রেকর্ড ভাঙার একটা সম্ভাবনাও থাকছে।
কিন্তু যখনই ফুটবলের ইতিহাসে গোলের উৎসব নিয়ে কথা হবে, তখনই ১৯৫৪ সালের সেই সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের কথা আসবেই। যেখানে পাহাড়ের চূড়ায় প্রতিধ্বনিত হতো কেবলই দর্শকদের উল্লাস আর জালের ভেতর বল আছড়ে পড়ার শব্দ।
পুরো বিশ্বকাপের ২৬ ম্যাচে মোট গোল হয়েছিল ১৪০টি, কিন্তু সেই প্রথম পর্বের ৯২ গোলই আসলে সেই টুর্নামেন্টকে অমর করে রেখেছে।, ভাবা যায় মাত্র ১৮ ম্যাচে ৯২ গোল? আজকের দিনে এটা ভাবা মানে শুধুই রূপকথার গল্প শোনা!
No posts available.