
ইতিবাচক ফুটবলের বার্তা ছিল মিকেল আর্তেতার। তার দল শুরুটা করল ঠিক সেভাবেই। ভাগ্য সহায় হলে প্রথম দশ মিনিটেই মিলতে পারত গোল। তবে সেটা আর হয়নি। বরং সময় গরানোর সাথে সাথে ছন্দ ফিরে পাওয়া পিএসজি দেখাল প্রাধান্য। গোলের দেখাও মিলল অনায়াসেই। কোনঠাসা আর্সেনাল একটা গোল করল বটে, তবে তাদের ম্যাচের দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে পাঁচ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পা রাখল লুইস এনরিকের পিএসজিই।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেছে পিএসজি। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ স্কোরলাইনে জিতে দলটি পা রেখেছে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফাইনালে।
শিরোপার লড়াইয়ে পিএসজির প্রতিপক্ষ ইন্তার মিলান, যারা বার্সেলোনাকে ৭-৬ গোলে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে তিন বছরের মধ্যে নিজেদের দ্বিতীয় ফাইনালে।
প্রথম লেগে ঘরের মাঠে পিএসজিকে দেখা যায়নি সেরা ছন্দে। তাতেও ধরা দিয়েছিল জয়। প্রতিপক্ষের মাঠে তৃতীয় মিনিটেই বিপদে পড়ে যাচ্ছিল দলটি। খিভিচা কোয়ারাতসখেলিয়া পিএসজির বক্সের কাছে জুরিয়েন টিম্বারের কাছে নবল হারান, যেখান থেকে বক্সের ভেতর করা তার ক্রসে হেড নেন ডেকলান রাইস, যা থাকেনি লক্ষ্যে।
প্রথম লেগে পিএসজির জয়ে বড় অবদান ছিল দুর্দান্ত কিছু সেভ করা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মার। এই ম্যাচেও হয়নি তার ব্যতিক্রম। থমাস পার্টির বক্সে ভেতর বাড়ানো লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যে জোরাল শট নেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। তবে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান পিএসজি গোলরক্ষক, উপহার দেন পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক সেভ।
প্রথম দশ মিনিটে পিএসজিকে ব্যস্ত থাকতে হয় রক্ষণ সামলাতেই বেশি। অষ্টম মিনিটে ফের ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হন দোনারুম্মা। আরও একবার থ্রো-ইন থেকে বক্সের ভেতর বল পায় আর্সেনাল। এবার নিখুঁত শট নেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তবে ঝাঁপিয়ে এক হাতে সেটা আটকে দেন ইতালিয়ান এই গোলকিপার।
১৬তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল পিএসজি। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে কাট করে বক্সে প্রবেশ করে শট নেন জর্জিয়ান। ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করতে পারলেও বল ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
ছয় মিনিট বাদে আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট হয় পিএসজির। বক্সের ভেতর ভালো পজিশনে থাকলেও দুর্বল শট নিতে পারেন ডিসাইর দৌরে। ২৭তম মিনিটে লিড নেয় পিএসজি, আর সেটা ছিল দেখার মত এক গোলই।
আর্সেনাল ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে যান ফাবিয়ান রুইজ। প্রথমে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন, জায়গা তৈরি করেন আর এরপর বাঁ পায়ের বুলেট শটে খুঁজে নেন ঠিকানা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৪৬তম ম্যাচে এটি তার প্রথম গোল।
বিরতির পর গোছানো ফুটবল উপহার দেয় আর্সেনাল। ৬৩তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগও তারই ফলশ্রুতিতে পেয়ে যান বুকায়ো সাকা। বাঁদিক থেকে কাট করে নেন কার্লিং শট, যা ছিল লক্ষ্যেই। তবে পিএসজির যে একজন দোনারুম্মা আছেন! আলতো করে বলটি ক্লিয়ার করেন কর্নারের বিনিময়ে।
এর মিনিট দুয়েক বাদে আশরাফ হাকিমির শট আর্সেনালের বক্সে একজনের হাতে লাগলেও শুরুতে তা পেনাল্টি মনে হচ্ছিল না। তবে ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টি দেন পিএসজিকে।
তবে দলকে হতাশ করেন ভিতিনিয়া। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তিনি, যা দেখে রায়াও মুভ করেন সেভাবেই। ডান দিকে নেওয়া ভিতিনিয়ার নেওয়া শট শেষ পর্যন্ত রুখে দেন রায়া।
৭২তম মিনিটে ম্যাচ থেকে আর্সেনালকে প্রায় ছিটকেই দেন হাকিমি। বদলি নামা উসমান দেম্বেলে পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়েই জাল খুঁজে নেন মরক্কোর এই ডিফেন্ডার।
দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার আর্সেনাল ৭৫তম মিনিটে পায় একটা লাইফলাইন। একটু আগেই বদলি নামা লিয়ানড্রো ট্রোসার্ড মারকুইনহোসের কাছ থেকে বলের দখল নিয়ে বক্সের ভেতর পাস দেন সাকাকে। ইংলিশ উইঙ্গারের প্রথম শট গোলকিপার আটকে দিলেও ফিরতি শটে গোলের দেখা পান সাকা।
তবে পরের মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ ও সেরা সুযোগটাও নষ্ট করেন তিনি। ছয় গজের ভেতর পরাস্ত হয়ে গিয়েছিলেন দোনারুম্মাও। ফাঁকায় থাকা সাকার কাজ ছিল কেবল বল লক্ষ্যে রাখা, তবে তিনি সেটা উড়িয়ে মারেন পোষ্টের অনেক ওপর দিয়ে।
ওই মিসের পর আর্সেনালের মনোবলও যেন হারিয়ে যায় দ্রুত। বাকি সময়ে পিএসজি রক্ষণ সামাল দেয় দক্ষতার সাথেই। আর সেটাই তাদের ২০১৯-২০ মৌসুমের পর আবার নিয়ে যায় ফাইনালে।
No posts available.
২১ মে ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
জাতীয় ফুটবল দলের জন্য নতুন কোচ খুঁজে পেল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দু্ই বছরের জন্য বাফুফের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জার্মান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অধিনায়ক টমাস ডুলি। এখন ঢাকায় আছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৮১ ম্যাচ খেলা ডুলির এশিয়ায় কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে এক দশকের। তাঁর অধীনে ফিলিপাইন প্রথমবারের মতো নাম লেখায় এশিয়ান কাপে। এবার বাংলাদেশকেও একই মঞ্চে নিয়ে যেতে চান তিনি। খুদে বার্তায় ডুলি বলেন,
‘ফিলিপাইনের মতো বাংলাদেশকে (এশিয়ান কাপে নিতে) সফল করতে আমি আশাবাদী। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
কাবরেরার অধীনে দুবার এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু মূলপর্বে খেলার স্বাদ পায়নি। এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছিল ১৯৮০ সালে। এরপর নারী দল এশিয়ান কাপেও খেললেও ছেলেদের দল আর পারেনি। সেই সম্ভাবনার দুয়ার খুলতেই বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান ডুলি।
খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বুন্দেসলিগা ও ইউয়েফা কাপ জিতেছেন ডুলি। কোচিং ক্যারিয়ারে ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী কোচ ছিলেন।
পরবর্তীতে ফিলিপাইনকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে তোলেন ডুলি। সর্বশেষ গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। সেই দায়িত্ব ছেড়ে এখন তিনি দাঁড়াবেন জামাল - হামজাদের ডাগ আউটে।
৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ডুলির বাংলাদেশ অধ্যায়। ইউরোপ সফরের আগে ২৪ মে থেকে ঢাকায় ক্যাম্প করবে জাতীয় দল। এরই মধ্যে দেশের বাইরে থাকা ফুটবলাররা আসতে শুরু করেছেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে নরওয়ে। কোনো সংবাদ সম্মেলন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট নয়, খোদ নরওয়ের রাজা হারাল্ড ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দলটির খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করেছেন।
রাজার মুখ থেকে এমন অভিনব উপায়ে দল ঘোষণার এই নাটকীয়তা খেলোয়াড়দের মধ্যেও ব্যাপক রোমাঞ্চ ও বিস্ময় তৈরি করেছে। দলে ডাক পাওয়া ডার্বি কাউন্টির ডিফেন্ডার সন্ড্রে ল্যাঙ্গাস দেশটির জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনআরকে কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে বলেন,
‘ভিডিওটি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সত্যি বলতে, আমি রাজাকেও এক সেকেন্ডের জন্য বিশ্বাস করিনি যে আমার নাম থাকবে!’
নরওয়ের মূল চালিকাশক্তি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন নিজের প্রথম বিশ্বকাপকে রাঙাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আক্রমণভাগে তাকে সহায়তার জন্য থাকছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের আলেকজান্ডার সরলথ, সেল্টা ভিগোর জোর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন এবং ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ উইঙ্গার অস্কার বব।
মাঝমাঠের সেনাপতি এবং দলের অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন আর্সেনালকে ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জেতানো মার্টিন ওডেগার্ড। রক্ষণভাগে আর্সেনালের ক্রিস্টোফার আয়ের এবং বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জুলিয়ান রিয়েরসন দলের রক্ষণের মূল দেয়াল।
নরওয়ের এই দল ঘোষণায় সবচেয়ে বড় চমক ও নাটকীয়তা ছিল গোলকিপার পজিশন নিয়ে। এসকে ব্রানের গোলকিপার মাথিয়াস ডিনজিল্যান্ড চোটের কারণে বিবেচনায় ছিলেন না। এছাড়া সাবেক রাশিয়া অনূর্ধ্ব-২১ দলের কিপার নিকিতা হাইকিনকে নরওয়েজিয়ান নাগরিকত্ব দেওয়ার আবেদন ফিফা নাকচ করায় তীব্র গোলকিপার সংকটে পড়েছিল সোলবাকেনের দল।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে হ্যামবার্গ এসভির গোলকিপার স্যান্ডার ট্যাংভিককে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতীয় দলের হয়ে এখনো অভিষেক করেননি ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ।
বাছাইপর্বে পরাশক্তি ইতালিকে হারিয়ে চমকে দেওয়া নরওয়েকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ডার্ক হর্স হিসেবে ধরা হচ্ছে। যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সব রকম অস্ত্র রয়েছে তাদের।
১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’-তে নরওয়ে। ১৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নরওয়ে। ২২ জুন সেনেগাল ও ২৬ জুন তাদের লড়তে হবে ফ্রান্সের বিপক্ষে।
ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের ২৬ সদস্যের দল
গোলকিপার: ওরিয়ান ন্যাল্যান্ড, এগিল সেলভিক, স্যান্ডার ট্যাংভিক।
রক্ষণভাগ: ক্রিস্টোফার আয়ের, ফ্রেডরিক আন্দ্রে বিয়োরকান, সোন্দ্রে ল্যাঙ্গাস, হেনরিক ফালচেনার, তোর্বিওর্ন হেগেম, মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসেন, জুলিয়ান রিয়েরসন, লিও স্কিরি ওস্টিগার্ড, ডেভিড মোলার উলফ।
মাঝমাঠ: থেলো আসগার্ড, স্যান্ডার বার্গ, প্যাট্রিক বার্গ, ফ্রেডরিক আওয়ার্সনেস, মর্টেন থরসবাই, ক্রিস্টিয়ান থর্স্টভেড, মার্টিন ওডেগার্ড।
আক্রমণভাগ: আন্তোনিও নুসা, জেনস পেটার হাউগে, আন্দ্রেয়াস শিয়েল্ডারআপ, আর্লিং হালান্ড, আলেকজান্ডার সরলথ, জোর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন, অস্কার বব।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন টমাস ডুলি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এই কোচ।
খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে ৪৩ বছর ধরে ফুটবলের সাঙ্গে যুক্ত আছেন ডুলি। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেন এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে কাজ করেন ডুলি।
আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ারে ডুলি এর আগে ফিলিপাইন জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর ফিলিপাইন দল অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন, যেখানে তার অধীনে দল চার ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে।
বাফুফে জানায়, বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি দল গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দলের ফলাফল উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে টমাস ডুলি তার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ অধ্যায়ে ডুলির প্রথম কাজ হবে সান মারিনো ম্যাচ দিয়ে। আগামী ৫জুন ইউরোপের দেশটির বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে একটি ফিফা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলবেন হামজা চৌধুরীরা। এর আগে ঢাকায় হবে ফুটবলারদের নিয়ে ক্যাম্প। এই ক্যাম্প পরিচালনা করবেন ডুলি।
আক্ষেপ ঘুচল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেওয়ার পর অবশেষে প্রথমবারের মতো সৌদি প্রো লিগের শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
বৃহস্পতিবার রাতে লিগের শেষ দিনে দামাক এফসিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ট্রফি নিশ্চিত করেছে আল নাসর। জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন রোনালদো।
এটি আল নাসরের ক্লাব ইতিহাসের ১১তম লিগ শিরোপা, তবে ২০১৯ সালের পর ঘরোয়া লিগে এটিই তাদের প্রথম ঘরোয়া লিগ জয়।
লিগ শিরোপা জিততে এই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না আল নাসরের। ড্র করলে বা হারলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত আল হিলাল। তবে সময় মতই জ্বলে উঠল আল নাসর। দামাকের বিপক্ষে জয়ে ৩৪ ম্যাচে ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে মৌসুম শেষ করল তারা। দুইয়ে থাকা আল হিলালের পয়েন্ট ৮৪।
গত সপ্তাহে ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার বেন্তোর শেষ মুহূর্তের ভুলে আল হিলালের সঙ্গে ১-১ ড্র করে শিরোপা নিশ্চিতের সুযোগ হাতছাড়া করেছিল আল নাসর। এরপর শনিবার জাপানি ক্লাব গাম্বা ওসাকার কাছে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ ২-এর ফাইনালে হেরে ধাক্কা খায় তারা। তবে ঘরের মাঠ আল আউয়াল পার্কে সব হতাশা ঝেড়ে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখেই মাঠ ছাড়ে রিয়াদের ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দামাককে চেপে ধরে আল নাসর। ৩৩ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে দলকে এগিয়ে দেন সাদিও মানে। এই এক গোলের লিডে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বায়ার্ন মিউনিখ ও চেলসির সাবেক ফরোয়ার্ড কিংসলে কোমান। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বা পায়ের নিচু শটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নাসর।
৫৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দামাকের মরলে সিলা একটি গোল শোধ করলে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফেরে। তবে এর পরেই শুরু হয় সিআর সেভেন শো। ৬২ মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন রোনালদো। এরপর ৮০ মিনিটে দামাকের রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বক্সে চমৎকার ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন।
চলতি লিগ মৌসুমে নাসরের হয়ে ২৮ গোল করেছেন রোনালদো। লিগে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় তিন নম্বরে পর্তুগিজ তারকা। দামাকের বিপক্ষে জোড়া গোলে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ৯৭৩।
ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে রোনালদোকে তুলে নেন নাসর কোচ হোর্হে জেসুস। এ সময় পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে হাততালির মাধ্যমে অভিবাদন জানায় তাকে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয়ে শিরোপা উল্লাস করে আল নাসর।
সৌদি আরবে নিজের তৃতীয় মৌসুমে এসে শিরোপা জিতলেন রোনালদো। এর আগে আল নাসরের হয়ে ২০২৩ সালে আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জিতেছিলেন। তবে সেটি ফিফা স্বীকৃত কোনো টুর্নামেন্ট ছিল না। তাই এটিই সৌদি আরবের মাটিতে রোনালদোর প্রথম আনুষ্ঠানিক বড় ট্রফি।

বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উন্মাদনা এখনই তুঙ্গে। বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ছে; কিন্তু শিরোপার আলোচনাটা ঘুরেফিরে সেই চিরচেনা ফেবারিটদের কেন্দ্র করেই। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে নিয়ে বরাবরের মতোই আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, অন্যদিকে কাতার বিশ্বকাপ জিতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেওয়া লিওনেল মেসি ও তাঁর দল আর্জেন্টিনা এবারও নামছে হট-ফেবারিট হিসেবেই—যাদের ডেরায় হানা দেওয়া যেকোনো দলের জন্যই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
মেসি আর রোনালদোর সেই চিরন্তন দ্বৈরথ এখনো ফুটবলপ্রেমীদের বিতর্কের মূল জ্বালানি। তবে শিরোপার এই পথটা এবার মোটেও সহজ হবে না। একদিকে আছে একঝাঁক তরুণ তুর্কিতে ঠাসা ভয়ঙ্কর এক স্পেন দল, অন্যদিকে এলিট তারকার ছড়াছড়ি নিয়ে প্রস্তুত ফ্রান্স। নিজেদের হারিয়ে খোঁজা সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে মরিয়া ব্রাজিল, আর দশকের পর দশক ধরে চলা ট্রফির খরা কাটাতে উন্মুখ ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্ব পেরোনোর পর নকআউটের লড়াইটা যে কতটা কঠিন আর জমজমাট হবে, তা নিয়ে বোদ্ধাদের ভবিষ্যৎবাণী এখনই ডালপালা মেলতে শুরু করেছে।
নেইমার, মেসি এবং রোনালাদো : বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে তাদের মুখোমুখি লড়াই?
কার্লো আনচেলত্তি এবং রবার্তো মার্তিনেজ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করার পর নেইমার ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ভক্তরা উচ্ছ্বাসে ভাসছেন। তবে লিওনেল স্কালোনি এখনও আর্জেন্টিনা এবং মেসির জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেননি। অবশ্য ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকায়, চূড়ান্ত স্কোয়াডে মেসির থাকাটা কেবলই সময়ের ব্যাপার।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল একে অপরের মুখোমুখি হতে পারবে না। যার অর্থ, গ্রুপ পর্বেই মেসি, নেইমার এবং ক্রিস্তিয়ানোর সরাসরি লড়াই দেখার কোনো সুযোগ নেই; যা হওয়ার তা নকআউট পর্বেই হতে হবে।
তবে ‘বোলাভিপ’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিজ নিজ গ্রুপে দলগুলো কীভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করছে, তার ওপর ভিত্তি করে নকআউটের চূড়ান্ত মঞ্চে এই ঐতিহাসিক লড়াইগুলোর দুয়ার খুলে যেতে পারে।
গ্রুপ 'সি'তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। গ্রুপ 'জে'-তে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। আর গ্রুপ 'কে'-তে পর্তুগাল লড়াই করবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উজবেকিস্তান এবং কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে।
নকআউটের ব্র্যাকেট বা লাইন-আপ যেভাবে তৈরি হবে, তার ওপর নির্ভর করে নেইমার এবং লিও মেসির দেখা হয়ে যেতে পারে সেমিফাইনালে, অথবা সরাসরি ফাইনালে।
একই সমীকরণ খাটছে ‘সিআর সেভেন’ এবং নেইমারের ক্ষেত্রেও। টুর্নামেন্টের একেবারে শেষভাগ ছাড়া তাদের দেখা হওয়া সম্ভব নয়। যদি দুই দলই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পেরে পরের রাউন্ডে যায়, তবে শেষ ষোলোর মঞ্চেই তাদের দেখা হয়ে যেতে পারে। আর যদি দুই দলের যেকোনো একটি গ্রুপ রানার্স-আপ হয়, তবে তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ের জন্য সেমিফাইনাল বা ফাইনাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
তবে যে লড়াইটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উন্মাদনা কাজ করছে, সেটি হলো এলএম টেন বনাম সিআর সেভেন দ্বৈরথ। ফুটবলপ্রেমীদের এই স্বপ্নের দ্বৈরথ বাস্তব রূপ নিতে পারে শেষ ষোলোর মঞ্চেই; যদি পর্তুগাল তাদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং আর্জেন্টিনা সেরা তৃতীয় দল হয়ে পরের রাউন্ডে কোয়ালিফাই করে।
যদি দুই দলই রানার্স-আপ (গ্রুপে দ্বিতীয়) হয়ে পরের রাউন্ডে যায়, তবে শেষ ষোলোর মঞ্চেই তাদের দেখা হয়ে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে সম্ভাব্য সমীকরণটি মিলতে পারে কোয়ার্টার ফাইনালে; যদি আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল—উভয় দলই নিজ নিজ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডের বাধা টপকাতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপ কেবল ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের নতুন একটি আসরই নয়, বরং ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা তিন কিংবদন্তির যৌথ বিদায়ের এক মহাকাব্যিক মঞ্চ। এখন দেখার বিষয়, ফুটবল বিধাতা তাদের ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে মাঠের লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি দাঁড় করান কি না—সেই রোমাঞ্চকর প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে পুরো বিশ্ব।