
গত এক দশক ধরে ব্রাজিল ফুটবলের সমার্থক শব্দ হয়ে আছেন তিনি; দলের যেকোনো সংকটে বারবার আবির্ভূত হয়েছেন একমাত্র ত্রাতা হিসেবে। ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকার আরাধ্য ট্রফিটা ছোঁয়া না হলেও, বছরের পর বছর ধরে সেলেসাওদের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন তিনিই। কিন্তু চোটের ভয়াল থাবায় দীর্ঘ তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকায় অনেকেই শেষ দেখছিলেন তাঁর।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, ৩৪ বছর বয়সী সেই মহাতারকা নেইমার জুনিয়রকে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। আর বিশ্বমঞ্চের দলে এই রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় কান্নাভেজা চোখে নেইমার বলেন,
‘এই মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখা সত্যিই কঠিন। বিগত দিনগুলোতে আমরা যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, বিশেষ করে মানুষ আমাকে যেভাবে কষ্টের মুখোমুখি হতে দেখেছে—সেসব পেরিয়ে আজ এখানে পৌঁছানো এবং আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাওয়াটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমার চোখের এই জল স্রেফ খাঁটি আনন্দের।’
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেইমার আরও যোগ করেন,
‘আমাকে সমর্থন করার জন্য এবং আমার ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রতিটি ব্রাজিলিয়ানকে আমি মন থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমাদের সামনে লড়াই করার জন্য আরেকটি বিশ্বকাপ হাজির। আমরা ব্রাজিলে ট্রফি ফিরিয়ে আনার জন্য মাঠে নিজেদের জীবন বাজি রেখে খেলব, এটা নিশ্চিত।’
নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস নিয়ে শুরুতে অনেক বড় সংশয় থাকলেও, সান্তোসের হয়ে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন এই ফরওয়ার্ড। আনচেলত্তি নিজেই জানিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপে নেইমার তাঁর দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছেন। এই ডাক পাওয়ার মধ্য দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই মহাতারকার সামনে ক্যারিয়ারের বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফিটি ছোঁয়ার শেষ সুযোগ তৈরি হলো। তবে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে জায়গা করে নেওয়াটা নেইমারের জন্য মোটেও সহজ হবে না; কারণ এই মুহূর্তে দলে তাঁর পজিশনে ম্যাথিউস কুনিয়া এবং লুকাস পাকেতা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন ঘটছে দীর্ঘ তিন বছর পর। ফলে সেলেসাওদের জার্সিতে তাঁর দীর্ঘদিনের গোলের খরা কাটানোর এটিই সবচেয়ে বড় মঞ্চ। তাছাড়া, রদ্রিগো এবং এস্তেভাওয়ের মতো তারকাদের সাম্প্রতিক ইনজুরির কারণে আনচেলত্তির কৌশলে নেইমার এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন, কারণ বিশ্বমঞ্চের মতো কঠিন জায়গায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দলের জন্য যেকোনো মুহূর্তে নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে। শুধু মাঠের খেলাই নয়, নেইমারের ফেরার মাধ্যমে ব্রাজিল ড্রেসিংরুমে একজন সত্যিকারের দলনেতা বা ‘লিডার’ ফিরে পেল, যা সর্বোচ্চ স্তরের টুর্নামেন্টে লড়াই করার জন্য বড্ড প্রয়োজন।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কৌশল ইতিমধ্যেই অনেকটা স্পষ্ট। আক্রমণভাগের দুই উইংয়ে রাফিনিয়া এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে রেখে ছক কষছেন কোচ আনচেলত্তি। এরসঙ্গে মাঝমাঠে ‘অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার’ হিসেবে ম্যাথিউস কুনিয়ার নিয়মিত উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেমন হতে যাচ্ছে সেলেসাওদের মূল একাদশ। এমন এক সেটআপে নেইমারের ভূমিকা ঠিক কী হবে—তা নিয়ে যখন ফুটবলপাড়ায় তুমুল বিতর্ক, ঠিক তখনই আনচেলত্তি খোলসা করলেন তাঁর আসল পরিকল্পনা। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড জানিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপে ৩৪ বছর বয়সী এই মহাতারকাকে ‘ইনসাইড ফরোয়ার্ড’ হিসেবে খেলানো হবে।
আল হিলালে থাকার সময় একের পর এক ইনজুরির ধাক্কায় নেইমারের খেলার ধরনে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। গতি বা পেস দিয়ে এখন আর প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত না করলেও, উইঙ্গার থেকে তিনি এখন পুরোদস্তুর একজন সৃষ্টিশীল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারে রূপান্তরিত হয়েছেন। এখন তাঁর মূল শক্তি হলো নিখুঁত ড্রিবলিং, অসাধারণ ফুটবলীয় ভিশন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যূহ ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার মতো ‘থ্রু পাস’ দেওয়ার ক্ষমতা। আর নেইমারের এই জাদুকরী সৃষ্টিশীলতা দলের সামগ্রিক খেলার ধার বাড়াতে ব্যবহার করতে চান আনচেলত্তি; যা ম্যাথিউস কুনিয়া কিংবা লুকাস পাকেতারা জাতীয় দলের জার্সিতে ধারাবাহিকভাবে করতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। আনচেলত্তির এই নতুন ছক বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলকে কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফি এনে দিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
No posts available.
১৯ মে ২০২৬, ৬:০৬ পিএম

পর্তুগালকে তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার লক্ষ্যে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোসহ মোট ২৭ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন রবের্তো মার্তিনেস। দল ঘোষণার পর পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেস জানিয়েছেন, এবার দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামার সময় প্রয়াত দিয়েগো জোতার স্মৃতি দলের প্রত্যেকের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে থাকবে। পর্তুগাল দলের নিয়মিত মুখ, ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গত বছর স্পেনে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
এবার মাঠে নামলেই রোনালদো এবং তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ফুটবল ইতিহাসের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য এক কীর্তি গড়বেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের মধ্যে সর্বকালের সর্বোচ্চ ম্যাচ (২২৬) এবং সর্বোচ্চ গোলের (১৪৩) রেকর্ডটি ইতিমধ্যেই নিজের করে রেখেছেন রোনালদো। এর পাশাপাশি বিশ্বের একমাত্র পুরুষ ফুটবলার হিসেবে টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও রয়েছে এই মহাতারকার ঝুলিতে।
গত নভেম্বর মাসেই সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের এই আসরটিই ‘নিশ্চিতভাবে’ হতে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।
পর্তুগালের স্কোয়াডে রোনালদোর আল নাসর সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স ছাড়াও জায়গা করে নিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির বের্নার্দো সিলভা এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেস। পিএসজির চার তারকা—নুনো মেন্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস এবং গনসালো রামোসও মার্তিনেসের এই চূড়ান্ত তালিকায় আছেন। এছাড়া বিকল্প কথা মাথায় রেখে এবার স্কোয়াডে চারজন গোলকিপার রেখেছেন পর্তুগিজ বস।
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’তে লড়বে পর্তুগাল, যেখানে তাদের বাকি তিন প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান এবং কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ‘সেলেসাও দেস কোয়িনাসরা’।
গোলকিপার: দিওগো কোস্তা (রিয়াল পোর্তো), জোসে সা (উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স), রুই সিলভা (স্পোর্টিং লিসবন), রিকার্দো ভেলহো (জেনশ্লেরবির্লিগি)।
রক্ষণভাগ: রুবেন দিয়াস (ম্যানচেস্টার সিটি), জোয়াও কানসেলো (বার্সেলোনা), দিওগো দালোত (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নুনো মেন্দেস (পিএসজি), নেলসন সেমেদো (ফেনারবাখচে), মাথেউস নুনেস (ম্যানচেস্টার সিটি), গনসালো ইনাসিও (স্পোর্টিং লিসবন), রেনাতো ভেইগা (ভিয়ারিয়াল), তোমাস আরাউজো (বেনফিকা)।
মিডফিল্ড: ব্রুনো ফার্নান্দেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), বের্নার্দো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি), ভিতিনিয়া (পিএসজি), জোয়াও নেভেস (পিএসজি), রুবেন নেভেস (আল হিলাল), সামু কোস্তা (মায়োর্কা)।
ফরোয়ার্ড : ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (আল নাসর), রাফায়েল লেয়াও (এসি মিলান), জোয়াও ফেলিক্স (আল নাসর), গনসালো রামোস (পিএসজি), পেড্রো নেতো (চেলসি), ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও (জুভেন্টাস), গনসালো গেদেস (রিয়াল সোসিয়েদাদ), ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও (স্পোর্টিং লিসবন)।

১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে ফেরা অস্ট্রিয়ার বর্তমান ছন্দ বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের প্রতিপক্ষ বড় হুঁশিয়ারিই বটে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারে ইউরোপের দলটি। ইউরোপীয় ফুটবলের কয়েক দশকের বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রালফ রাংনিক ২০২২ সাল থেকে অস্ট্রিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন সাশা কালাইজিচ। একের পর এক গুরুতর চোটেও জর্জরিত ক্যারিয়ারে লড়াকু মানসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ২৮ বছর বয়সী এই দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার। মৌসুমের ঠিক শেষ ভাগে, যখন ক্লাব ল্যাস্কের তাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই নিজের চেনা ফর্ম আর ধার খুঁজে পান কালাইজিচ।
গত রবিবারের ম্যাচে অস্ট্রিয়া ভিয়েনাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে যখন সাশা কালাইজিচ অস্ট্রিয়ান বুন্দেসলিগার ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরলেন, তখন তাঁর মুখে ছিল চওড়া হাসি। আর এমনটা হওয়াটাই তো স্বাভাবিক, শেষ ১০ ম্যাচে ১৩টি গোলে অবদান রেখে লিনৎস-ভিত্তিক এই ক্লাবটির ঐতিহাসিক ‘ডাবল’ জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন কালাইজিচ। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ ৬১ বছর পর ক্লাবের প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের স্বাদ।
এই উদযাপনের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়ে, ভিএফবি স্টুটগার্ট ও আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের সাবেক তারকা ফুটবলার কালাইজিচ জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের অস্ট্রিয়ার চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে। বিশ্বমঞ্চের লড়াই মাঠে গড়ানোর আগে ফিফার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় কালাইজিচ কথা বলেছেন তাঁদের জাতীয় দলের শক্তি, কোচ রালফ রাংনিকের দেওয়া কিছু মূল্যবান পরামর্শ সহ নানান বিষয় নিয়ে।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার শক্তির জায়গা নিয়ে কালাইজিচ বলেন,
‘আমার মনে হয় আমাদের এই দলের যে শক্তি, তাতে যেকোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতেই আমাদের ভয় পাওয়া বা পিছিয়ে আসা উচিত নয়। এই দলটিতে অবিশ্বাস্য রকমের কিছু ব্যক্তিগত প্রতিভা রয়েছে, তবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের একতাবদ্ধতা ও দলীয় সংহতি। পাশাপাশি মাঠে আমাদের লড়াকু মানসিকতা এবং খেলার তীব্র ইনটেনসিটি। অস্ট্রিয়া মূলত অত্যন্ত গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এবং এই স্টাইলে খেলার জন্য আমাদের দলে একদম পারফেক্ট কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। আপনি যখন মাঠে ওই মাত্রার তীব্রতা নিয়ে খেলবেন, তখন যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ম্যাচটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আর আমরা আসলেই একে অপরের খুব কাছাকাছি—কোচ, স্টাফ থেকে শুরু করে সমর্থক, অর্থাৎ পুরো দেশটাই এখন এক সুতোয় বাঁধা।’
বিশ্বকাপে এমন কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় বা প্রতিপক্ষ কি আছে, যার মুখোমুখি হওয়ার জন্য কালাইজিচ মুখিয়ে আছেন? অস্ট্রিয়ার এই স্ট্রাইকার বললেন আর্জেন্টিনার নিকোলাস গঞ্জালেসের কথা। এছাড়া এ তালিকায় আছেন আলজেরিয়ারও একাধিক তারকাও,
‘অতীতে যাদের সঙ্গে খেলেছি, মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের মুখোমুখি হতে আমার সবসময়ই খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার নিকোলাস গঞ্জালেসের কথা আলাদাভাবে বলতে হয়। সে এমন কয়েকজন খেলোয়াড়ের একজন, যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এছাড়া আলজেরিয়া স্কোয়াডেও এমন কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যাদের সঙ্গে আমার উলভস এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে খেলার সুবাদে চেনা-জানা আছে। তাই তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি তর সইছে না। তবে সত্যি বলতে, আমি পুরো বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাটা পাওয়ার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এটি একটি বিশাল বড় মহাযজ্ঞ। আমার মনে হয় একজন ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারে আপনি সর্বোচ্চ যা অর্জন করতে পারেন, এটিই হলো সেই শীর্ষবিন্দু।’
বিশ্বমঞ্চে অস্ট্রিয়ার এই গর্জন যে কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পুরো দেশের একতাবদ্ধতার ফল, তা কালাইজিচের এই কথাতেই স্পষ্ট,
‘পুরো দেশ যেন এখন একটা ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট, আর দলের ছেলেরা সত্যিই অবিশ্বাস্য একটা কাজ করেছে। তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে, যা অস্ট্রিয়ার ফুটবলে অনেক লম্বা সময় ধরে ঘটেনি। আপনি এখন পুরো দেশজুড়ে এক ধরনের উন্মাদনা ও আনন্দের জোয়ার (ইউফোরিয়া) টের পাবেন; আর অস্ট্রিয়াকে এই বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমরা প্রত্যেকেই ভীষণ গর্বিত।’
অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৭ জুন জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২২ জুন আর্লিংটনে তাদের প্রতিপক্ষ তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ‘জে’ গ্রুপের নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে আলজেরিয়ার। এরআগে গা ঝালাই করতে তিউনিসিয়া ও গুয়েতেমালার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা।

২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন পেপ গার্দিওলা। ক্লাবের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতির এই বিচ্ছেদের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ম্যানসিটি। ইতিহাদের ক্লাব ইতোমধ্যে নতুন ম্যানেজার হিসেবে এনজো মারেস্কার সঙ্গে কথা এগিয়ে রেখেছে।
গণমাধ্যমের দাবি, ম্যান সিটির পরবর্তী ম্যানেজার হতে যাচ্ছেন মারেস্কা। ইতালিয়ান কোচের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি সারতে যাচ্ছে সিটি। যদিও টানা ১০টি মৌসুম কাটানোর পর গার্দিওলার সম্ভাব্য বিদায়ের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গার্দিওলার জায়গায় মারেস্কার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার অর্থ—ম্যান সিটিতে এমন একজন কোচের আগমন ঘটছে, যিনি হয়তো ততটা হাই-প্রোফাইল বা বিশ্বখ্যাত নন। তবে ক্লাবের ফুটবল দর্শন ও রণকৌশল সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই অবগত। লেস্টার সিটিকে প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে আনা এবং এরপর চেলসির হয়ে কনফারেন্স লিগ ও ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জেতা মারেস্কা মূলত গার্দিওলারই অন্যতম শিষ্য।
মারেস্কা কোচ হিসেবে মূল দায়িত্ব নেওয়ার আগে ম্যান সিটিতে গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি ঠিক মিকেল আরতেতার দেখানো পথই অনুসরণ করছেন। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটির কোচিং স্টাফ হিসেবে সফল সময় কাটানোর পর মিকেল আরতেতা এখন আর্সেনালকে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের সাফল্যের একদম দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।
দশ বছর আগে ম্যান সিটিতে আসার আগে গার্দিওলা বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে যে আকাশচুম্বী খ্যাতি ও এলিট লেভেলের সাফল্যের ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে এসেছিলেন, মারেস্কার ক্ষেত্রে তেমনটা থাকবে না। তাই তার এই নিয়োগে নিঃসন্দেহে কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন এক লিগ্যাসি বা ঐতিহ্যকে টেনে নেওয়ার গুরুদায়িত্ব এখন মারেস্কার কাঁধে, যা ২০২৪ সালের জুনে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মাউরিসিও পচেত্তিনোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার চেয়েও কঠিন। তাছাড়া মারেস্কা কিছুটা ক্ষ্যাপাটে স্বভাবেরও। যার প্রমাণ মেলে গত জানুয়ারিতে ক্লাবের নীতিনির্ধারকদের সাথে ঝামেলার পর চেলসি ছাড়ার ঘটনায়।
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চেলসিতে তার সময়টাকে সফল হিসেবেই ধরা হয়। তবে বল পজিশন বা বল দখলে রেখে খেলার যে কৌশল তিনি খাটাতেন, তা সব সময় চেলসি সমর্থকদের মন জয় করতে পারেনি। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজের দায়িত্ব পালনকালে মারেস্কা চেলসির হয়ে মোট ৯২টি ম্যাচে কোচের ভূমিকা পালন করেছেন। যেখানে তিনি ক্লাবটিকে ইউয়েফা কনফারেন্স লিগ এবং গত গ্রীষ্মের ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের শিরোপা জিতিয়েছেন।

চলতি মৌসুম শেষেই নাপোলির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন আন্তোনিও কন্তে। দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই স্তাদিও দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি শেষ করতে যাচ্ছেন তিনি। সাবেক চেলসি ও জুভেন্টাস কোচের পরবর্তী লক্ষ্য ইতালি ফুটবল দল। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালি কোয়ালিফাই করতে না পারায় আজ্জুরিদের পুনর্গঠনে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলের ডাগআউটে বসতে চান কন্তে।
ইতালির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা গাজেত্তা দেললো স্পোর্ত ও কোরিয়েরে দেললো স্পোর্তের প্রতিবেদন, মৌসুম শেষেই নাপোলি ও কন্তের পথ আলাদা হয়ে যাচ্ছে। গত এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ক্লাব সভাপতি অরেলিও দে লাউরেন্তিসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পিসাকে হারিয়ে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা নিশ্চিত করার পরও চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন কন্তে। নাপোলির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
চুক্তির দীর্ঘ সময় বাকি থাকলেও পর্দার আড়ালে ইতিমধ্যেই বিদায়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কন্তে যদি ক্লাব ছাড়েন, তবে তা কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ ছাড়াই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে হবে। এর ফলে প্রিমিয়ার লিগ ও সিরি-আ জয়ী এই মাস্টারমাইন্ড কোনো আইনি বা আর্থিক জটিলতা ছাড়াই নাপোলি ছাড়তে পারবেন।
কন্তের বিদায়ের গুঞ্জনে নাপোলির পরবর্তী কোচ কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ইতালিয়ান ফুটবলে আলোচনা জমে উঠেছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মাউরিসিও সারি এবং মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি। তবে দুজনেই নিজ নিজ ক্লাবে কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এসি মিলানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে দূরত্বের কারণে আলেগ্রির অবস্থান সেখানে নড়বড়ে। অন্যদিকে লাৎসিও সভাপতি ক্লাউদিও লতিতোর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না সারির।
রোমা ডার্বিতে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সারি বলেন, ‘আগে শেষ ম্যাচটি খেলি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আমাকে এখনো কিছু জানায়নি। এবারের মৌসুমের পরিস্থিতি আমার মোটেও ভালো লাগেনি, আমার কোনো কথাই শোনা হয়নি। আমি খুব একটা সুখী নই, হয়তো ক্লাবও আমার ওপর খুশি নয়। লিগ শেষ হোক, দেখি তারা কী বলে।’
আগামী ২২ জুন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচনের পর আবারও ইতালির দায়িত্ব নিতে মুখিয়ে আছেন আন্তোনিও কন্তে। এর আগে দলটির হয়ে ২৪ ম্যাচে ১৪টি জয় নিয়ে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। কন্তের এই আকস্মিক বিদায়ের সিদ্ধান্তের কারণে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের আগে নাপোলি যেমন নতুন সংকটে পড়ল, তেমনি ইতালিয়ান ফুটবল দলও পেতে যাচ্ছে নতুন এক দিকনির্দেশনা।

জাতীয় দলে দীর্ঘ বিরতি, ফিটনেস বিতর্ক আর সান্তোসের সাম্প্রতিক ছন্দ—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের স্কোয়াডে নেইমারের থাকা না-থাকা নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যখন তাঁর নাম ঘোষণা করা হলো, সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি তখন ভালো করেই জানতেন অবধারিতভাবেই উঠবে একঝাঁক প্রশ্ন।
নেইমারকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা সব সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ কোচ আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড নেইমারের দুর্দান্ত শারীরিক প্রত্যাবর্তন এবং দলে তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তাকে যেমন অকপটে স্বীকার করেছেন, ঠিক তেমনই আবার শুরুর একাদশে নেইমারের জায়গার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দিতে সাফ নিষেধ করে দিয়েছেন।
রিও ডি জেনিরোতে ব্রাজিলের অফিসিয়াল ২৬ সদস্যের দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় এবং এই বিশ্বকাপেও সে দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখবে। তবে স্কোয়াডের বাকি ২৫ জন খেলোয়াড়ের মতো একই নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা তার জন্যও প্রযোজ্য হবে। সে মাঠে খেলতেও পারে, আবার নাও খেলতে পারে। এমনকি এমনও হতে পারে যে সে ম্যাচ শুরু করবে বেঞ্চে বসে এবং পরে বদলি হিসেবে মাঠে নামবে।’
নতুন পজিশন ও ড্রেসিংরুমের নেতৃত্ব
‘কার্লেত্তো’ (আনচেলত্তি) উল্লেখ করেছেন, সান্তোসের হয়ে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে নেইমার তাঁর চেনা ছন্দ এবং ধারাবাহিকতা বেশ ভালোভাবেই ফিরে পেয়েছেন। বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে এই ইতালিয়ান বস ইঙ্গিত দিয়েছেন, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে এবার বার্সেলোনা ও পিএসজির এই সাবেক তারকাকে মাঠের একটু মাঝপ্রান্তে, অর্থাৎ 'সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং' রোলে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন।
কেবল ট্যাকটিক্যাল ফিটনেসই নয়, আনচেলত্তি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন নেইমারের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ড্রেসিংরুমে তাঁর ইতিবাচক প্রভাবের ওপর। কোচ আরও যোগ করেন, ‘দলের সবাই তাকে ভীষণ ভালোবাসে। ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা চমৎকার ও প্রাণবন্ত করে তুলতে সে দারুণ সাহায্য করতে পারে এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভেতর থেকে তাদের সেরা সংস্করণটা বের করে আনতে ভূমিকা রাখবে।’
এটি হতে যাচ্ছে নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ, আর স্কোয়াডে তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি পুরো ফুটবল বিশ্বকেই বেশ বড় একটা ঝাঁকুনি দিয়েছে। কারণ, বছরখানেক আগে আনচেলত্তি ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ যাবৎ কখনোই এই ফরোয়ার্ডকে দলে ডাকেননি। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে সেলেসাওদের সেই চেনা 'হলুদ-সবুজ' জার্সিতে আর মাঠেই নামা হয়নি নেইমারের।
সেলেসাও শিবিরে নেই ‘ফ্রি পাস’
নেইমারকে নিয়ে চারদিকে যতই মাতামাতি হোক না কেন, মাঠে খেলার সময়ের (প্লেয়িং টাইম) ব্যাপারে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক গুরু আনচেলত্তি।
বেশ কড়া সুরেই আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি একদম পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং সততার সঙ্গে বলতে চাই: সে যদি মাঠে নামার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, তবেই খেলবে।’ কোচ অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর মাথায় একটি আদর্শ ট্যাকটিক্যাল ছক থাকলেও, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নামার আগে প্রতিটি খেলোয়াড়ের শারীরিক কন্ডিশন অত্যন্ত কঠোরভাবে মূল্যায়ন করবেন তিনি।
দলের মানসিকতা স্পষ্ট করে আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, ‘বাকি সবার মতো নেইমারের ভূমিকাও এক—দলের জয়ে অবদান রাখা। আমরা সব প্রত্যাশার বোঝা একা কোনো খেলোয়াড়ের কাঁধে চাপিয়ে দিতে পারি না। এই দলের সম্মিলিত শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে উজার করে দিতে হবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানোর জন্য। আমার দলে কোনো ‘সুপারস্টার’ চাই না; আমার এমন খেলোয়াড় চাই যারা দলকে ম্যাচ জেতাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
‘হেক্সা মিশনে’ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলবে সেলেসাওরা। আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘গ্রুপ সি’তে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ব্রাজিল। এরপর ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়াতে হাইতির মুখোমুখি হবে তারা, এবং সবশেষে ২৪ জুন মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে তাদের প্রথম পর্বের লড়াই।