৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

নারী ফুটবল লিগে আরও একটি একপেশে ম্যাচ হলো আজ। ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব রীতিমত ছেলে-খেলা করল জামালপুর কাচারিপাড়া একাদশকে নিয়ে। তবে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ালো প্রথমার্ধে দুই দলের হাতাহাতি এবং জোড়া লাল কার্ডে। এরপর খেলা শুরু হলে আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন শামসুন্নাহার, মারিয়া মান্দারা। রেকর্ড জয় উদযাপন করলেন তাঁরা। ঘটনাবহুল ম্যাচে তহুরা খাতুনের কাছ থেকে দেখা গেল ওভার হেড কিক গোল।
রোববার এবারের নারী ফুটবল লিগের দশম ম্যাচে ২৩-০ গোলের রেকর্ড জয় পেয়েছে ফরাশগঞ্জ। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং অধিনায়ক মারিয়া মান্দা করেন জোড়া হ্যাটট্রিক। দুজনের নামের পাশেই যোগ হয়েছে ৬টি করে গোল। ঢাকা রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৪ গোল করেছিলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। সেদিন এক গোল পেয়েছিলেন মারিয়া।
এদিন হ্যাটট্রিক পেয়েছেন তহুরা খাতুনও। আগের ম্যাচে চার গোল করা জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড আজ করেছেন আরও তিন গোল। জোড়া গোল করেন শামসুন্নাহার সিনিয়র। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন মনিকা চাকমা, সামিক্ষা ঘিমিরে, অনামিকা ত্রিপুরা, মানুচিং মারমা, প্রীতি ও তৃষা।
২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগে ২১-০ গোলে জয়ের রেকর্ড ছিল চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের। সেবার তারা হারিয়েছিল নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে। এরপর ২০২৪ সালে এই কাচারিপাড়া একাদশকেই ১৯-০ গোলে হারায় নাসরিন। এবার আরও বড় লজ্জার মুখে পড়ল জামালপুরের ক্লাব কাচারিপাড়া একাদশ।
এদিন কিক অফের পর ৩৮ সেকেন্ডে প্রথম গোলের দেখা পায় ফরাশগঞ্জ। ম্যাচ শুরুর পর তহুরা খাতুনের প্রথম অ্যাটাকেই কর্নার তুলে নেয় দলটি। সেখান থেকে গোল করেন মনিকা।
ষষ্ঠ মিনিটে শামসুন্নাহার সিনিয়রের ক্রস থেকে বক্সে বল রিসিভ করে বা পায়ের জোরালো শটে মারিয়া ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
১৩ মিনিটে বক্সের সামনে থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গতিময় শট যায় পোস্টের উপর দিয়ে। পরের মিনিটে ভুল করেননি তহুরা। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের মাপা শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। চার মিনিট পর প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে মারিয়ার ডান পায়ের শট ক্রসবারে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে।
এ সময় মুহুর্মুহু আক্রমণে দিশাহারা যেন কাচারিপাড়া একাদশের মেয়েরা। ১৮ মিনিটে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন সাফা মারওয়া।
২১ মিনিটে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে মাঠে। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের একাধিক খেলোয়াড়। আহত হয়ে মাঠে শুশ্রুষা নেন ফরাশগঞ্জের নেপালি ডিফেন্ডার পূজা রানা।
ঘটনার পর রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে বেশ। কয়েক দফায় ম্যাচ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন মাঠের রেফারিরা। এরপর ফরাশগঞ্জের মনিকা এবং কাচারিপাড়ার চাবেত্রী ত্রিপুরাকে দেখানো হয় লাল কার্ড। ফরাশগঞ্জ অধিনায়ক মারিয়া দেখেনে হলুদ কার্ড।
১৫ মিনিটেরেও বেশি সময় পর শুরু হয় খেলা। আর দ্বিতীয় শুরুর পর গোল পেতে ফরাশগঞ্জের লাগে মাত্র এক মিনিট। ৩৭ মিনিটে নেপালের আরেক ডিফেন্ডার সামিক্ষার গোলে লিড ৫-০ করে পুরাণ ঢাকার ক্লাবটি।
৪২ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের চমৎকার গোলে আরও এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। যদিও এই গোলে বেশি অবদান ছিল তহুরার। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন এই ফরোয়ার্ড। গোলকিপার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এল কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র।
যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহারের ব্যাক পাস থেকে দূরের কোনা দিয়ে মাটি কামরানো শটে গোল করেন মারিয়া। সেই সঙ্গে নিজের হ্যাটট্রিকও পুরোন করেন তিনি।
খানিক পর শামসুন্নাহার সিনিয়রের গতিময় শট ফিরিয়ে দিলে গোলমুখের সামনে আলতো টোকায় জালে বল জড়ান অনামিকা ত্রিপুরা। ৮-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফরাশগঞ্জ।
বিরতির পর এবার আরও দ্রুত সময়ে গোল করে ফরাশগঞ্জ। গোলের খাতায় নাম লেখান বদলি খেলোয়াড় মানুচিং মারমা।
৪৭ মনিট তহুরা থ্রু বলে বলে বক্সে ঢুকে পড়েন ছোট শামসুন্নাহার। তাঁকে অবশ্য পেছন থেকে ফেলে দেওয়া হয়, পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিক নেন শামসুন্নাহার সিয়ির।
৫৪ মিনিটে রক্ষণচেড়া পাস ধরে প্রতিপক্ষের গোলকিপারের সঙ্গে ওয়ান ওয়ান সিচুয়েশনে কোনো ভুল করেননি তহুরা। ১১-০ গোলে এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। চার মিনিট পর বক্সের একটু সামনে থেকে ডান পায়ের সোজা শটে লক্ষ্যভেদে করেন মারিয়া। পরের মিনিটে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ছোট শামসুন্নাহার। তবে ৬০ মিনিটে আর ভুল করেননি এই ফরোয়ার্ড। অনামিকর দারুণ একটা ক্রসে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র।
৬১ মিনিটে প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিচু শটে জাল কাাঁপান মারিয়া। ৭০ মিনিটে মারিয়ার সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোলকিপারকে পরাস্ত করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। সেই সঙ্গে পর পর দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ হলো তাঁর। হ্যাটট্রিকে উদযাপন সারতে না সারতে আবারও তিনি। এবার হেড থেকে জাল কাঁপান ২১ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড।
খানিক পর বক্সে ঢুকে ব্যাক পাস দেন মারিয়া। অনেকটা বাইরে থেকে প্রীতির জোরালো শটে আরও এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। ৭৪ মিনিটে আবারও গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। পরের মিনিটে ওভারহেড কিক থেকে গোল করেন তহুরা। সেই সঙ্গে জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডও করেন হ্যাটট্রিক।
বল নিয়ে যখন কাচারিপাড়ার বক্সের সামনেই ঘুরপাক করছিলেন ফরাশগঞ্জের ফুটবলাররা তখনই আরেকটি গোলে হতাশায় ডোবান কাচারিপাড়াকে।
৭৯ মিনিটে ফাঁকা জালে অনায়েস গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান ২২-০ করেন বিপাশা আক্তার তৃষা। চার মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান শামসুন্নাহার সিনিয়র। শেষ পর্যন্ত ২৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাশগঞ্জ।
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম

খেলা শুরুর খানিক পরই বিকেএসপি গোলকিপার মেঘলা রানী রয়ের ভুলে এগিয়ে যায় রাজশাহী স্টার্স। এরপর তারকাসমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে দাঁতে দাঁত চেপে লড়েন বিএসপির আইরিন, ইতি আক্তার, মিশু রানীরা। রক্ষণ দেয়াল গড়ার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে আক্রমণেও উঠেছেন অয়ন্ত বালা, প্রতিমা মুন্দারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। লড়াই বিফলে যায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপির। তাদের প্রতিরোধ ভেঙে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মাহমুদা শরীফা অদিতির দল।
নারী ফুটবল লিগে বুধবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ৪-০ গোলের জয় পেয়েছে রাজশাহী। হ্যাটট্রিক করেছেন আলপি আক্তার। অন্য গোলটি স্টার্সের জাতীয় দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের।
এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচে জিতল বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের নবাগত দল রাজশাহী স্টার্স। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে ১২-০ গোলে হারিয়েছিল তারা।
এদিন তৃতীয় মিনিটে স্বপ্না রানীর লং বল ক্লিয়ার করতে একটু উপরে উঠে আসেন বিকেএসপির গোলকিপার মেঘলা রানী রয়। তবে গড়বড় পাকিয়ে ফেলেন তিনি। পেছনে থাকা আলপি দৌড়ে এসে প্লেসিং শটে জালে বল জড়ান। শুরুতেই লিড নেয় রাজশাহী।
গোল হজমের পর ঋতুপর্ণাদের চ্যালেঞ্জ জানান বিকেএসপির মেয়েরা। বেশ কয়েকবার আক্রমণেও ওঠে দলটি। প্রথমার্ধে ওই এক গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিয়ে যায় বিকেএসপি।
দ্বিতীয়ার্ধেও প্রতিরোধ ধরে রাখে বিকেএসপি। প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়াল টপকাতে পারছিলেন না আলপি, রিপা, ঋতুপর্ণারা। তবে ৬২ থেকে ৭১, এই ৯ মিনিটে তিন গোল দিয়ে প্রতিপক্ষের সব প্রতিরোধ ভেঙে দেন আলপি, আফঈদারা।
৬২ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে কয়েকজনের মাথার ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে মারেন রিপা। পেছন থেকে লাইনে গিয়ে মাথার স্পর্শে বল মাটিতে নামান আলপি। এরপর গোলকিপারকে পরাস্ত করে তার ডান দিক দিয়ে দারুণ দক্ষতায় জালে বল ঠেলে দেন বাফুফের বয়সভিত্তিক দলে আলো কাড়া এই ফরোয়ার্ড।
৬৯ মিনিটে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে পোস্টে শট নেন আফঈদা। বিকেএসপির গোলকিপার মেঘলা রানী লাফিয়ে বলে স্পর্শ করেও গ্লাভসে জমাতে পারেননি। আরেকটি গোলের উল্লাসে ফেটে পড়ে রাজশাহীর মেয়েরা।
৭১ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মুনকির থ্রু বলে পা টোকা দেন সৌরভী আকন্দ প্রীতি। টার্ফে পরে পা দিয়ে ঠেকান মেঘলা। তবে বিপদ কাটেনি তখনও, ফিরতে শটে মাটি কামড়ানো শটে গোলকিপারের বা পাস দিয়ে জাল কাঁপান আলপি। তরুণ এই ফরোয়ার্ডের হ্যাটট্রিকে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় রাজশাহী স্টার্স। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাজশাহী।

প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে অবস্থান করছে আর্সেনাল। তবে এক দিক থেকে লিভারপুলের তুলনায় গানাররা পিছিয়ে আছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে একবারই অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির মুখোমুখি হয়ে হেরেছে মিকেল আরতেতার দল।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় এমিরেটস স্টেডিয়ামে লিগের ফিরতি লেগে লিভারপুলকে আতিথ্য দেবে আর্সেনাল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে আজ সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের প্রস্তুতি এবং জয় নিয়ে আশা ব্যক্ত করেছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা।
লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে আর্সেনালের রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। মুখোমুখি দেখায় মোট ২৬ ম্যাচ হেরেছে তারা। তবে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনাল শেষ সাতটি ম্যাচ জয় পেয়েছে।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচ নিয়ে আরতেতা বলেছেন,
‘উচ্ছ্বসিত আছি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, কারণ আমাদের প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। আশা করি সমর্থকরা অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করবে।’
সমর্থকদের প্রভাব নিয়ে আর্সেনাল কোচ আরও যোগ করেন,
‘তাদের শক্তি, কমিটমেন্ট, আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তি আমাদের দলে ছড়িয়ে পড়ে। আগামীকাল তাদের সাহায্য অপরিহার্য।’
লিভারপুলের বিপক্ষে জয় নিয়ে আশাবাদী আরতেতা। তিনি বলেছেন,
‘আমরা টেবিলের শীর্ষে আছি এবং আমাদের মাঠে খেলা হচ্ছে একটি দারুণ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আমাদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে পুরো ম্যাচে অসাধারণ খেলা দেখাতে হবে। সেটাই আমাদের প্রমাণ করতে হবে।’

১৫ ট্রফির বিপরীতে মাত্র তিনটি জয়ে সুপারকোপার শিরোপা রেসে বার্সেলোনার অনেক পিছিয়ে আথলেটিক ক্লাব। কেবল নাম-খ্যাতি আর ফল দেখেই ভবিষ্যদ্বাণী ভেবে নেওয়া যায় না। কারণ, ফুটবলে যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে সুপার কপার সেমিফাইনাল। স্পেনের দুই জায়ান্ট—বার্সেলোনা ও আথলেটিক ক্লাব ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে একে অন্যের মুখোমুখি হবে। দুই দলের লক্ষ্য একটাই—জয়। যদিও ম্যাচের আগে মুর্হুতে যেন আত্মসমর্পণ করে বসলেন আথলেটিক ক্লাবের কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে।
বার্সেলোনা ২০২৪-২৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া সব প্রতিযোগিতায় চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে তারা সুপার কপায় সুযোগ পায়। এছাড়া গত মৌসুমে তারা কোপা দেল রে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে।
আথলেটিক ২০২৪-২৫ মৌসুমে কোপা দেল রে বিজয়ী। তারা ফাইনালে রিয়াল মায়ার্কোকে পেনাল্টিতে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল। দলের শেষবারের সুপার কাপ জিতেছিল ২০২০-২১ মৌসুমে।
বর্তমান ফর্মের দিক থেকে বার্সেলোনা এগিয়ে। হ্যান্সি ফ্লিকের দলের লা লিগায় ১৯ ম্যাচে ১৬ জয় । সর্বশেষ ৯ ম্যাচে তারা অপরাজেয়। লিগে আথলেটিকের সঙ্গে একবার মুখোমুখি হয়েছিল তারা; সেই ম্যাচে বার্সেলোনা ৪-০ গোলে জয়ী।
লিগে আথলেটিকের পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ৭টি জয় ও ৯টি হার নিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তারা তিনটিতে হেরেছে।
সুপার কোপার আগে বার্সেলোনার কোচ হাফ্লি জানিয়েছেন, স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতলে তাদের দলের জন্য মৌসুমের অন্য লক্ষ্যগুলো পূরণ করা সহজ হবে। বার্সা গত মৌসুমে ট্রেবলের প্রথম ধাপে সুপারকোপা জিতেছিল। এটি ছিল ফ্লিকের কোচিং সময়ে প্রথম শিরোপা, যা পরে লা লিগা ও কোপা দেল রে–এর জয় অনুসরণ করেছিল।
ফ্লিক বলেন,
‘এই টুর্নামেন্ট জার্মানির সমতুল্য প্রতিযোগিতার মতো নয়, তবে আমি এটা পছন্দ করি। গত মৌসুমে সুপার কাপ জেতা আমাদের পুরো মৌসুমের জন্য অনেক শক্তি দিয়েছে, আর এই বছরও আমরা সেটা চাই।”
অ্যাথলেটিক কোচ ভালভার্দে জানিয়েছেন, বার্সার চেয়ে তার দল রেসে পিছিয়ে। তবে ক্লাব ন্যুর দলকে হারানোর জন্য তারা সব চেষ্টা করবে।
ভালভার্দে বলেন,
“বার্সেলোনা দারুণ দল, কিন্তু আমরা প্রতিযোগিতা করতে পারি। জেতার চেষ্টা করে আমরা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাই।”

চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহ্যামের মতো জায়ান্ট ক্লাবগুলো পিছে পড়েছিল তাঁর। তবে শেষ পর্যন্ত এই দৌড়ে সবাইকে হারিয়ে দিল ম্যানচেস্টার সিটি। ঘানার তারকা ফরোয়ার্ড অঁতোয়ান সেমেনিওকে দলে ভেড়োনোর শেষ ধাপে আছে সিটিজেনরা। ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে বোর্নমাউথ থেকে তাকে কিনছে ম্যান সিটি।
বোর্নমাউথের ফুটবলার সেমেনিও আজ টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচের পর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। তাতে এই ক্লাবের জার্সিতে এটিই হবে তাঁর শেষ ম্যাচ। ধারণা করা হচ্ছে শনিবারের আগেই সিটির সঙ্গে তাঁর ট্রান্সফারের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
বোর্নমাউথের কোচ আন্দনি ইরায়োলা টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলের তারকা ফুটবলারের বিদায়ের ইঙ্গিত দেন,
‘আমার মনে হয়, এটিই হতে পারে তাঁর শেষ ম্যাচ। তবে এখনও যে অফিসিয়াল কোনো ঘোষণা আসেনি সেটাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত, কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত হয়নি, কিছুই সই হয়নি। ট্রান্সফার এবং গুঞ্জন আমি বুঝি, কিন্তু এখনও কোনো চুক্তি হয়নি।এখনও সে আমাদের খেলোয়াড়, এবং আমি আশা করি সে খেলা্ চালিয়ে যাবে।’
সেমেনিও এই মৌসুমে বোর্নমাউথের হয়ে ১৯ ম্যাচে ৯ গোলের সঙ্গে ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন। মূলত আক্রমণভাগের বাঁ প্রান্তে খেলেন আফ্রিকান এই ফুটবলার। ক্লাবটির হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স কতটা দারুণ সেটা কোচের একটি মন্তব্যেই স্পষ্ট। বোর্নমাউথের কোচের মতে, ‘তাঁর বদলি পাওয়া এককথায় অসম্ভব।’
জানুয়ারির দল ট্রান্সফার মৌসুমের আগে চোটের কারণে একের পর এক খেলোয়াড়কে হারাচ্ছে ম্যান সিটি। ক্লাবটির কোচ পেপ গার্দিওলা মঙ্গলবার বলেছেন, চোটের কারণে জানুয়ারিতে ম্যান সিটি আরও ট্রান্সফার করতে পারে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, সেন্টার-ব্যাক রুবেন দিয়াস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে ছয় সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেছেন। এছাড়া ক্লাবটির আরও এক ডিফেন্ডার ইওস্কো গাভার্দিওল চেলসির বিপক্ষে ১-১ ড্র গোলে ড্র করা ম্যাচে চোটে পড়েন।
চোটের কারণে জানুয়ারিতে সিটি কী আবার বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে গার্দিওলা বলেন,
‘না। হয়তো কিছু আনা হবে, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা গত বছরের মতো চার বা পাঁচ জন খেলোয়াড় কিনতে যাচ্ছি না।’

প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় রাউন্ডের কথা। অ্যানফিল্ডে সেই ম্যাচে সোবসলাইয়ের একমাত্র গোলে আর্সেনালকে হারিয়েছিল লিভারপুল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে অনেক কিছু। এখন লিগ টপার মিকেল আর্তেতার দল। লিভারপুলের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট এগিয়ে গার্নাররা।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ফিরতি লেগে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে অল রেডসরা। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট।
স্লট জানিয়েছেন, সব চাপ ও সমালোচনার মধ্যেও তিনি চান তার দল আকর্ষণীয় ফুটবল খেলুক। যদিও লিভারপুলের একাংশ সমর্থক তার খেলার ধরনকে ‘নীরস’ ও ‘একঘেয়ে’ বলে সমালোচনা করছেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে স্লট বলেন,
“এটা শুনতে আমার সত্যিই খুব কষ্ট হয়। তবে এমন নয় যে আমি তাদের সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করি। আমি হয়তো ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করতাম এবং কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতাম।”
প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। গত মৌসুমে দাপুটে পারফরম্যান্সে শিরোপা জিতেছিল স্লটের দল। তবে চলতি মৌসুমে ধারাবাহিকতার অভাব ভোগাচ্ছে তাদের।
এই ডাচ কোচ বলেন,
“আমি যতটা সম্ভব বেশি ট্রফি জিততে চাই। তবে আমি এমন একজন কোচ হিসেবেও পরিচিত, যার দল সব সময় আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চায়। আমরা এখনও সেটাই করার চেষ্টা করছি, কিন্তু অনেক সুযোগ তৈরি করতে গিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে।”
আশা ছাড়ছেন না স্লট। তার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস,
“আমার একটাই চাওয়া—আমরা অনেক ম্যাচ জিতব এবং একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ফুটবল খেলব।”
আগামীকাল হার এড়াতে পারলে ২০২৫–২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লিভারপুলের অপরাজিত ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০।