সাফল্যমন্ডিত ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় অর্জনের হাতছানি লিওনেল মেসির সামনে। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে ৯০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার খুব কাছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আর মাত্র একটি গোল করতে পারলেই স্পর্শ করবেন দারুণ এই কীর্তি।
সেই সুযোগটা রোববার ভোরেই পেয়ে যাচ্ছেন মেসি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে শার্লটের মুখোমুখি হবে মেসির ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে এক গোল করতে পারলেই ৯০০ গোল পূর্ণ হবে মেসির।
এখন পর্যন্ত ক্লাব-আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ১ হাজার ১৪১ ম্যাচ খেলে ৮৯৯টি গোল করেছেন মেসি। এর মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে তার গোল ১৯৬ ম্যাচে ১১৫টি। আর প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ারে তিন ক্লাবের হয়ে ৯৪৫ ম্যাচে করেছেন ৭৮৪ গোল।
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার জার্সিতে কেটেছে মেসির ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময়। কাতালান ক্লাবটির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৭৮ ম্যাচে করেছেন ৬৭২ ম্যাচ। এছাড়া পিএসজির হয়ে ৭৫ ম্যাচে ৩২ ও ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত ৯২ ম্যাচে তার গোল ৮০টি।
এই ৮৯৯ গোল করার পথে ৬০টি হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। ফ্রি কিক থেকে করেছেন ৭০ গোল। আর পেনাল্টি থেকে পেয়েছেন ১১২টি গোল। ডান পায়ে তার ১১০টি, বাম পায়ে করেছেন ৭৫৫ গোল, হেড থেকে ৩০টি আর শরীরের অন্যান্য অংশ দিয়ে করেছেন ৪টি গোল।
দীর্ঘ এই যাত্রায় নতুন পাতা যুক্ত হবে শার্লটের বিপক্ষে একটি গোল করতে পারলেই। আর তা হলে বিশ্ব ফুটবলে ৯০০ গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হয়ে যাবেন মেসি। এখন পর্যন্ত ৯৬৫ গোল করে সবার ওপরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
No posts available.
১ মে ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম
১ মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম
১ মে ২০২৬, ২:৩১ পিএম

হোসে মরিনিয়ো আবারও ফিরছেন সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে! বেশ ক’দিন ধরেই এমন সংবাদে সয়লব সর্বত্র। স্প্যানিশ মিডিয়াগুলো আগ বাড়িয়ে দরদাম, এমনকী চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত উল্লেখ করছেন প্রতিবেদনে। মূলত রিয়ালের বস ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে পর্তুগিজ মাস্টার মাইন্ডের সুসম্পর্ক এবং সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবের জন্য একজন সুদক্ষ গুরুর চাহিদার প্রেক্ষিতেই এমন সংবাদ বেশ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। যদিও অবশেষে বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন খোদ মরিনিয়ো।
রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ আউটে ফেরা নিয়ে বেনফিকার কোচ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ করেনি সাবেক ক্লাব। এমনকী তিনি নিজেও আগ বাড়িয়ে যোগাযোগ করেননি।
২০২৫-২৬ মৌসুমটা শূন্য হাতে শেষ হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। এখনও খাতা কলমে লা লিগা টিকে আছেন লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে আলভারো আরবেলোয়ার দল শীর্ষস্থানে থাকা বার্সেলোনা থেকে ঢের পিছিয়ে। কোনোরকম অঘটন না ঘটলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিততে চলেছে কাতালান ক্লাব।
চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই লেগেই বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরেছেন কিলিয়ান এমবাপেরা। যে কারণে একজন সিনিয়র এবং চ্যাম্পিয়ন লিগ জেতাতে সক্ষম এমন ম্যানেজারের খোঁজে রিয়াল।
যখনই রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ইস্যু আসে, স্বাভাবিকতই নাম আসে ক্লাবটি থেকে ২০১৩ সালে দায়িত্ব ছাড়া মরিনিয়োর নাম। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে নিশ্চুপ ছিলেন তিনি। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে যখন জানতে চাওয়া হয়, রিয়ালের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে কি না, তখন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ৬৩ বছর বয়সী কোচ।
তিনি বলেন, ‘না, রিয়াল মাদ্রিদের কেউ আমার সঙ্গে কথা বলেনি। এটা আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি। ফুটবলের সঙ্গে বহু বছর ধরে আছি আমি, ঠিক যেমন আপনারা সাংবাদিকতায়। এসবের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে কিছুই আসেনি।’
২০২১ সালে কার্লো আনচেলত্তিকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে চমক উপহার দিয়েছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব। তিনি তখন ক্যারিয়ারের এক সন্ধিক্ষণে ছিলেন এবং এভারটনের মতো ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। সময় প্রমাণ করেছে সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন মামুনুল ইসলাম। ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্রের দীর্ঘ দুই যুগের ক্যারিয়ারের ইতি ঘটেছে আজ। বিএফএলে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সব ধরণের ফুটবলকে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক।
শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতে বাংলাদেশ সময় পৌনে তিনটার ম্যাচে ফর্টিস এফসির বিপক্ষে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জিতেছে ফর্টিস। জয়-পরাজয় চাপিয়ে এই ম্যাচে আলোচনায় ছিলেন মামুনুল। বৃহস্পতিবার ফর্টিসের ক্লাব হাউসে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিজেই বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন ৩৭ বর্ষী মিডফিল্ডার।
২০০৮ সালে অভিষেক হওয়া মামুনুল সবশেষ ২০২০ সালে বুরুন্ডির বিপক্ষে সবশেষ দেশের জার্সিতে খেলেছেন। তবে তার আগে অর্থাৎ ২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে ক্লাব ফুটবলে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এই-ওই মিলিয়ে প্রায় ১০টি ক্লাব মাড়িয়ে ফর্টিসের হয়ে করেন শেষটা।
এক যুগেরও বেশি সময়কালে ফুটবল থেকে অর্জন ও প্রাপ্তিও কম নয়। লাল-সবুজ জার্সিতে ৬৭ ম্যাচের এক লম্বা জার্নি নিয়ে বিদায় বেলায় মামুনুল বলেন, ‘ফুটবল থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। নাম বলেন, খ্যাতি বলেন, অর্থ বলেন, ট্রফি বলেন, অর্জন বলেন—অনেক কিছু। এখন শুধু ঋণ শোধের পালা।’
ঘরোয়া ফুটবলে ১৬টি ট্রফি জিতেছেন মামুনুল। এছাড়া ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার (এডিকে) হয়েও লিগ শিরোপা আছে তার। আবাহনী ও মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবেও খেলেছেন তিনি।
বর্ণিল ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচে ২৪ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন মামুনুল। এ সময় দুই দলের প্লেয়াররা তাকে গার্ড অব অনার প্রধান করেন। সারিবদ্ধ হয়ে দুই দলের খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে তার ইতিকাব্য আরও রঙিন করে তোলেন। এসময় বাফুফে কর্তারা মামুনুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দেশের ফুটবলের মহানায়ককে হাস্যজ্জ্বল মুখে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে মামুনুলের হাতে স্মারক ও বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় ফর্টিস এফসির পক্ষ থেকে। সতীর্থদের স্বাক্ষর সংবলিত ৮ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়া হয় মামুনুলের হাতে। তার বিদায়ী সংবর্ধনায় শরিক হতে হাজির হয়েছিলেন স্ত্রী-সন্তান। এমনকী জন্মস্থান চট্টগ্রাম থেকেও ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা হাজির হন কিংস অ্যারেনাতে।
মামুনুল বিদায়টা জাতীয় দলের হয়েই নিতে চেয়েছিলেন। সেই সুযোগ হয়নি। এ নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছিল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। তবে ফর্টিসের হয়ে তার যে স্মরণীয় বিদায়টা হয়েছে, তা কতজনেরই বা ভাগ্যে জোটে। এই ভেবে নিশ্চয়ই কিছুটা হলেও নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের এই গুণী ফুটবলার।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) পৃথক তিনটি সমীকরণ মেলানোর লক্ষ্যে নেমেছিল ফর্টিস এফসি। রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে জয়, টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থাকা আবাহনী থেকে পয়েন্ট দুরত্ব কমানো এবং অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের বিদায়ী ম্যাচ রাঙানো। এ যাত্রায় শতভাগ সফল ফর্টিস।
শুক্রবার বিএফএলের ১৫তম রাউন্ডের গোলপ্রসবা ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে ফর্টিস। দিনের অন্য দুই ম্যাচে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা আবাহনীকে। এ হারে রেলিগেশন শঙ্কা আরও গাঢ় হয়েছে ফকিরেরপুলের। ১৫ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই হেরেছে দলটি। তাদের হাতে অবশিষ্ট ৩ ম্যাচ। শেষ তিন ম্যাচে টানা জয় ছাড়াও ৪ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা পিডব্লিডির হার কামনা করতে হবে তাদের। আরেক ম্যাচে পিডব্লিডিকে শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে পুলিশ।
ফকিরেরপুলের বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায়ে শীর্ষস্থানে থাকা বসুন্ধরা কিংসের আরও কাছে চলে এলো ১৭ বারের চ্যাম্পিয়নরা। সমান ১৫ ম্যাচে আকাশী-নীলদের বর্তমান পয়েন্ট ৩১। বসুন্ধরা কিংসের ৩৪। তৃতীয়তে থাকা ফর্টিসের ২৮। পুলিশের ২২ এবং রহমগতগঞ্জের পয়েন্ট ১৯।
কিংস অ্যারেনাতে ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে জায়েদ আহমেদের গোলে এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ। তাদের সুখ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি ওনেইকাছি ওকাফোর। মাঝমাঠ থেকে সাজ্জাদের ক্রসের সূত্র ধরে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে একাই ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ফর্টিসের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে ছিলেন কেবল রহমতগঞ্জের গোলকিপার মামুন আলিফ। কৌশলী নিচু শটে ডানপ্রান্ত দিয়ে জালে জড়ান ওকাফোর।
১৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে সোলাইমান কিংয়ের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে কাজে লাগান আপ্পু। সুজন পেরেইরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জালে বল জড়ান তিনি। ঠিক তিন মিনিট পরে সমতায় ফেরে ফর্টিস। এই গোলের নায়ক পাও ওমর বাবু। এর দুই মিনিট পর মাঠ ছাড়েন মামুনুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের শেষবারের মতো ফুটবল খেলে ফেলেন তিনি। তার বদলি হিসেবে নামের মোর্শেদ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলকে লিড উপহার দেন বাবু। এটাই ছিল ম্যাচ নির্ধারণী গোল। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে শেষ হয় ম্যাচ।

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ৭৬তম ফিফা কংগ্রেসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা গেল। সভায় উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমান। এসময় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতির পাশে দাঁড়াতে ও হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান ফিলিস্তিনের ফুটবল প্রধান।
গত বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো উভয়কে মঞ্চে ডাকেন। কিন্তু রাজউব দখলদার ইসরায়েলের নাগরিক সুলাইমানের কাছাকাছি আসতে রাজি হননি। ইনফান্তিনো রাজউবের হাত ধরে তাকে সুলাইমানের দিকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো কাজ হয়নি।
আরও পড়ুন
| একই পেনাল্টি তিনবার মিস করলেন ভিনিসিউস |
|
রাজউব কেন করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানালেন—রয়টার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যা ধামাচাপা দিতে যাকে নিয়ে এসেছে, আমি তার সঙ্গে হাত মেলাতে পারি না! আমরা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
এরপর ইনফান্তিনো মঞ্চ থেকে বলেন, ‘সভাপতি রাজউব, সহ-সভাপতি সুলাইমান—আমরা একসঙ্গে কাজ করব। শিশুদের মনে আশার আলো জাগাতে চলুন আমরা একযোগে কাজ করি। এগুলো খুবই জটিল বিষয়।’
কংগ্রেস শেষে রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, রাজউব এবং সুলাইমানের মধ্যে করমর্দন করানোর যে চেষ্টা জিয়ানি ইনফান্তিনো করেছেন, তাতে ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধানের বক্তব্যের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান দেখানো হয়নি। রাজউব তার বক্তব্যে আবারও জোর দাবি জানিয়েছিলেন যেন ইসরায়েলি ক্লাবগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে (সেটেলমেন্ট) তাদের দল পরিচালনা না করে।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে ফুটবল ক্লাব পরিচালনা করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত সপ্তাহে ফিফার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে 'কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস' (সিএএস)-এ আপিল করেছে ফিলিস্তিন।
পিএফএ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছে যে, পশ্চিম তীরের মতো দখলকৃত এলাকায়—যা ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে চায়—সেখানকার কোনো ক্লাব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) অধীনে লিগ খেলতে পারে না।
আরও পড়ুন
| মালিক হয়েই কর্নেয়া ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা মেসির |
|
সুসান শালাবি আরও বলেন, ‘সবকিছু বলার পর এমন এক পরিস্থিতিতে হাত মেলাতে বাধ্য করা—জেনারেলের (রাজউব) পুরো বক্তব্যের উদ্দেশ্যকেই নস্যাৎ করে দেয়। তিনি ১৫ মিনিট ধরে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে নিয়মকানুন কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে কোনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের অধিকার নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অথচ আমরা কি না দিনশেষে সবকিছুকে কার্পেটের নিচে চেপে রাখব? এটা ছিল পুরোপুরি হাস্যকর।’
সুসান আরও যোগ করেন, ‘আমি হাত মেলাতে অস্বীকার করেছি। খেলা তো খেলাই... আমি সেটাকে সম্মান করি। কিন্তু অন্য পক্ষ যদি বিবির (ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) মতো একজন অপরাধীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং এমনভাবে কথা বলে যেন বিবি একজন ‘মাদার তেরেসা’, তবে আমি কীভাবে এমন মানুষের সঙ্গে হাত মেলাব বা ছবি তুলব?’

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এখন লিওনেল মেসি। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষে পরের অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে এরমধ্যে ঠিক করে রাখছেন সর্বকালে অন্যতম সেরা ফুটবলার। স্প্যানিশ ফুটবলে সূচনা করেছেন নতুন এক অধ্যায়ের। স্পেনের কাতালান ক্লাব 'উয়ে কর্নেয়া' কিনে নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ক্লাবটির খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের সামনে হাজির হলেন ইন্টার মায়ামির মহাতারকা। ক্লাবটি অধিগ্রহণের পর একটি আবেগপূর্ণ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা জানান মেসি।
কাতালুনিয়ার বাইশ ইয়োব্রেগাত অঞ্চলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়ে কর্নেয়ার খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন মেসি। ক্লাবটি কিনে নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি এই পঞ্চম সারির দলটিকে এগিয়ে নেওয়ার এবং সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও পড়ুন
| একই পেনাল্টি তিনবার মিস করলেন ভিনিসিউস |
|
ভিডিও বার্তায় মেসি কর্নেয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি নিজের পরিচয় দিতে এবং তোমাদের এটা জানাতে চাই যে—আমরা এখানে এসেছি ক্লাবটিকে বড় করতে এবং সব ধরনের প্রয়োজনে সাহায্য করতে। এই নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আমাদের অনেক উৎসাহ আছে। আমি তোমাদের সব খোঁজখবর রাখছি এবং প্রতি সপ্তাহে তোমাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি।’
গত ১৬ এপ্রিল ইন্টার মায়ামি তারকা লিওনেল মেসি স্প্যানিশ ক্লাবটি কেনার ঘোষণা দেন। তরুণ ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশে এটি তার নতুন এক বিনিয়োগ। কর্নেলা তাদের শক্তিশালী ফুটবল অ্যাকাডেমির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত; যেখান থেকে উঠে এসেছেন জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্টিন এবং ডেভিড রায়ার মতো বিশ্বমানের তারকা ফুটবলাররা।
লিগের (তেরসেরা আরএফইএফ) খেলা শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। কর্নেয়া ইতিমধ্যে সেগুন্দা আরএফইএফ-এ ওঠার প্রমোশন প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলেছে। ঠিক এমন সময়েই মেসির এই অনুপ্রেরণামূলক বার্তা এলো।
গত ১৬ এপ্রিল স্প্যানিশ ক্লাবটি কেনার ঘোষণা দেন মেসি। তরুণ ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশে এটি ‘এলএম টেনের’ নতুন এক বিনিয়োগ। কর্নেয়া তাদের শক্তিশালী ফুটবল একাডেমির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। যেখান থেকে উঠে এসেছেন জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্টিন এবং ডেভিড রায়ার মতো বিশ্বমানের তারকা ফুটবলাররা।
কর্নেয়া ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘লিওনেল মেসির এই আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর লক্ষ্য হলো মাঠের পারফরম্যান্স এবং প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় দিক থেকেই ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়া, এর ভিত্তি শক্ত করা এবং নতুন প্রতিভাদের পেছনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা। এই প্রজেক্টটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে, যেখানে বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন এবং স্থানীয় শিকড়ের সঙ্গে গভীর সংযোগের সমন্বয় থাকবে।’
সামনে প্লে-অফ ম্যাচ, তাই এখন সব চাপ কর্নেয়ার খেলোয়াড়দের ওপর—তাদের নতুন মালিকের বিশাল উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্সের মিল রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মেসির লক্ষ্য একদম পরিষ্কার—স্প্যানিশ ফুটবলের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ধাপে ধাপে ক্লাবটির টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করা। আপাতত সবার নজর মেসির উপস্থিতি এবং দূর থেকে তাঁর নিয়মিত সমর্থনের দিকে থাকলেও আসল পরীক্ষাটা হবে অন্য জায়গায়। মেসির এই উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা কি সত্যিই কর্নেলাকে স্প্যানিশ ফুটবলের সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত ওপরের দিকে তুলে আনতে পারবে? সেটা সময়ই বলে দেবে।