ফুটবল

জন্মদিনে রোনালদোর অমরত্বের খোঁজ

 
রিফাত এমিল
রিফাত এমিল
ঢাকা

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ পিএম

news-details

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো কে? তাঁকে প্রথম দেখে কেন ভাষা হারিয়ে ফেলতে হবে? কেন কেউ কেঁদে ফেলে তাঁকে প্রথমবার দেখতে গিয়ে?


এইতো। একজন ফুটবলারই তো। তবে কিছু তো আছে। নামের সঙ্গে ৪০ পেরিয়ে লাখ খানেক মিনিট ফুটবল ঘাসে মাড়িয়ে দেখবেন ৯৬১ গোল। ২৬০ অ্যাসিস্ট আর ৩৬টা ট্রফি। 


রোজকার যাপিত জীবনে অভিযোগের শেষ নেই। এটা নেই, ওটা পেলাম না কেন? ও আমার চেয়ে খারাপ? সে কিন্তু আমার চেয়ে ভালো। মানুষ এমনই, চিরায়ত অভ্যাসটা আরকি। চারপাশটা যখন এমন, এক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোই ভিন্ন। সেই ভিন্নটা দিয়েই হাজারটা মানুষের প্রেরণা। হাজারটা বলছি, মাফ করবেন। সংখ্যাটা কোটি। 


প্রতি ১১১ মিনিটে একটা গোল রোনালদোর ক্যারিয়ারে, গড়ে প্রতি ৮৮ মিনিটে একটা করে গোলে অবদান। এই না হলো ক্রিস্তিয়ানো।  


লোকে কতো নিন্দা ছড়ায়, না দেখতে পারা। ওসবে থোড়াই কেয়ার রোনালদোর। নিজের মতো বলে উঠেন, 'আমি যখন চাই, তখনই কথা বলি... আমি বুলেটপ্রুফ, লোহার পোশাক পরে আছি...' আসলেই কিন্তু। ওই যে মদ্যপ পিতার রাস্তা পরিস্কার করতে থাকা ছেলেটা যেদিন ফুটবল দুনিয়াটা পায়ের কাছে এনে রাখল সেদিন থেকে তার জন্য এসব আর এমন কী? হাজারটা নিন্দা, ধুর ছাই, ওসবে বয়েই গেছে রোনালদোর... একটাই সিউউউ সেলিব্রেশনেই তো সবাইকে চুপ করিয়ে দেওয়া। 


প্রচণ্ড দারিদ্রটাকে দেখিয়েছেন বুড়ো আঙুল। জীবনে এতোই বদলে দিয়েছেন, যে ফোর সিজনস হোটেলে রোনালদো রিয়াদে এসে থেকেছেন তাঁর মাসিক খরচই নাকি ছিল ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার মতো। যেখান থেকে পাখির চোখে দেখা যায় পুরো রিয়াদ শহর। 


ম্যাকডোনাল্ডসের সেই কর্মচারীর নাম ছিল এডানা। তীব্র ক্ষুধা নিয়ে ছোট্ট রোনালদো জিজ্ঞেস করতেন, 'খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত কিছু বেঁচে আছে?' এডানা ওই ক্ষুধার্ত কিশোরকে খেতে দিতেন কিছু। শখানেক কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরে এডানাকে খুঁজে বেরিয়েছেন এই রোনালদোই। শুধু পরিশ্রম? কৃতজ্ঞতা, শব্দটাও যেনো রোনালদোর অভিধানে অতি প্রিয়। 


শুনেছি, পড়েছি পর্তুগালে নাকি একটা সময় হাহাকার ছিল। পর্তুগাল মৃতপ্রায়। পর্তুগালে যেন আর কিছু নেই। পর্তুগালে চাকরি নেই, জীবন নেই, মর্যাদা নেই। পর্তুগালের শুধু আস্ত একটা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ছিল, আছে। রোনালদো ফুটবল খেলার আগ পর্যন্ত গোটা দেশটার ছিল না কোনো মেজর ট্রফি৷ মোটে তিনটে ইউরো আর তিনটে বিশ্বকাপ খেলার স্মৃতি৷ রোনালদোর পরে পাঁচটা বিশ্বকাপ, পাঁচটা ইউরো খেলা। সঙ্গে তো দুটো মেজর ট্রফি জেতা আছেই। 


জাতীয় দলের হয়ে রোনালদো  করেছেন ১৪৩ গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসেই দেশের হয়ে এরচেয়ে বেশি গোল নেই আর কারো। প্রায় প্রতি ১০০ মিনিটে একটা গোল অবদান। 


ওই ফান ফ্যাক্ট বলার লোভ সামলাতে পারি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় রোনালদোর যত ফ্যান আছে, সবাই নাকি একসঙ্গে হাত ধরে দাঁড়ালে দুবার পৃথিবী সমান দূরত্ব পার হবে৷ শুধু 'ফুটবলার' পরিচয়টাও অনেক আগে থেকেই সাবেক হয়েছে রোনালদোর নামের পাশ থেকে। এখন মহাতারকা বলতেও যে কাউকেই খুব একটা ভাবতে হবে না দুবার...এক বিলিয়ন সহজ করে বললে ১০০ কোটি মানুষ নাকি ফলো করে রোনালদোকে। 


বয়শ শুধুই সংখ্যাই ছিল এই লোকটার কাছ। ত্রিশ পেরোনোর পরেই করেছেন প্রায় ৫০০ ছুঁইছুই  গোল, ত্রিশের বেশি হ্যাটট্রিক৷ ইউরোপের অনেক নামী স্ট্রাইকারের পুরো ক্যারিয়ার এই লোকটা শুধু বয়স ত্রিশ পেরোনোর পরের ১০ বছরেই দেখে ফেলেছেন। তাঁর জন্য তো বয়স আক্ষরিক অর্থেই একটা সংখ্যা ছিল। 


লক্ষ্যটা ১০০০ গোল করা, নিজেই জানিয়েছেন। চোট বাধা না দিলে হাজার স্পর্শ করেই থামতে চান। আর ৩৯ গোলেই স্পর্শ হবে তা। অবসর আসবে শ্রীঘ্রই। প্রস্তুত আছেন তাও তো নিজেই জানিয়ে রেখেছেন। 


ইউরোপকে ছুটি দিয়ে আপাতত সৌদি আরবে। তবু এখনো রোনালদোর গোলের পর ক্লাস নাইনের সদ্য গোঁফ-দাড়ি ওঠা ছেলের মতো লাফিয়ে উঠে অনেকেই। অনেকটা জীবন শিখিয়ে গেছেন রোনালদো। যতবার মনে হবে, হবে না... হচ্ছে না... ততবার মনে হবে রোনালদোও পেরেছেন। 'হ্যাপি বার্থডে' ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো...। আপনি চিরকালীন... মাদেইরা থেকে অমরত্ব।

No posts available.

bottom-logo

ফুটবল

মেসিকে ফেরাতে ‘স্বপ্নের ছক’ কষছে শৈশবের ক্লাব

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৩ পিএম

news-details

রোজারিওর সেই ছোট্ট মাঠ, লাল-কালো জার্সির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা এক কিশোরের স্বপ্ন—সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল লিওনেল মেসির গল্প। বয়স তখন তেরো, চোখে সীমাহীন আশা, পায়ে অদম্য জাদু। নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা সেই ছেলেটাই একদিন হয়ে উঠলেন ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। বার্সেলোনার ব্লাউগ্রানা, প্যারিসের আলো, কাতারের মুকুট আর মায়ামির রোদ—সব পেরিয়ে মেসি আজ এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে সামনে তাকালে শেষের শুরু, আর পেছনে শৈশব।


আর ঠিক এখানেই নতুন করে জন্ম নিচ্ছে এক স্বপ্ন—ফেরার স্বপ্ন। নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ মেসিকে ফেরাতে কষছে ‘স্বপ্নের ছক’। নিছক কোনো ফুটবল ট্রান্সফারের গল্প নয়, এটা তো নিখাঁত আবেগের, শিকড়ের, ঘরে ফেরার গল্প। যে ক্লাব তাকে প্রথম চিনতে শিখেছিল, যে শহর তাকে মানুষ করেছিল—রোজারিও আজ আবার ডাকছে তার হারানো সন্তানকে।


২০২৭ সালের প্রথমার্ধে লিওনেল মেসিকে ক্লাবে ফেরাতে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ। এই 

‘ঘরের ফেরার’ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আর্জেন্টাইন ক্লাবটির সহ-সভাপতি হুয়ান ম্যানুয়েল মেদিন। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু নিউয়েলসের কোনো প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে রোজারিও শহর, প্রদেশ এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল জড়িত।’


১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর আগে নিউয়েলসের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছিলেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা গত অক্টোবরে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছেন, যা ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। তবে বাস্তবতা হয়তো তেমন নাও হতে পারে।


মেসিকে ফেরানোর পরিকল্পনা কিন্তু আজ-কালের মধ্যে করেনি নিউয়েলস। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি এক পরিকল্পনায় নিউয়েলস চায় এমন একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করতে, যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়াঙ্গনের বিষয়গুলো একসঙ্গে যুক্ত থাকবে—যাতে মেসির প্রত্যাবর্তন শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর প্রভাব ফেলতে পারে।


এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়ন, একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন এবং এমন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী একজন তারকার মর্যাদার সঙ্গে মানানসই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসির ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে, যদিও এখনো কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের সহ-সভাপতি মেদিনা আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিএন-কে বলেন, 

‘২০২৭ সালের প্রথমার্ধে লিও নিউয়েলসের হয়ে খেলবে—এমন লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।’


মেদিনা আরও বলেন, 

‘এটি শুধু নিউয়েলসের কোনো প্রকল্প নয়। এটি রোজারিও শহর, প্রদেশ এবং পুরো আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রকল্প। অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া কর্মসূচির ক্ষেত্রে আমরা কী দিতে পারি, সেটির ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে।’


রোজারিও শহরেই জন্ম নেওয়া মেসি আগেও নিউয়েলসের হয়ে খেলার ইচ্ছাকে নিজের ‘স্বপ্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৭ সালে মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন,

‘আমি বহুবার বলেছি, নিউয়েলসের হয়ে খেলা আমার স্বপ্ন। তবে কী হবে জানি না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই অনিশ্চয়তার একটি কারণ। আমার পরিবার আছে, সন্তানরাই আমার অগ্রাধিকার। আমি চাই তারা নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশে বড় হোক।’


নিউয়েলসের একাডেমিতে খেলার সময় মেসি ২৩৪টি গোল করেন। ক্লাবের মাঠ এস্তাদিও মার্সেলো এ. বিয়েলসা-তে তার নামে একটি স্ট্যান্ডও রয়েছে। চলতি মৌসুমে তিন ম্যাচ শেষে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ আর্জেন্টাইন প্রিমেরা ডিভিশনের গ্রুপ ‘এ’-তে তলানিতে অবস্থান করছে।


নিউয়েলসের হয়ে খেলেছেন এমন উল্লেখযোগ্য সাবেক তারকাদের মধ্যে রয়েছেন বেনফিকার কিংবদন্তি অস্কার কার্দোজো, লিভারপুলের সাবেক মিডফিল্ডার ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, এবং জুভেন্টাসের সাবেক স্ট্রাইকার দাভিদ ত্রেজেগে।

bottom-logo

ফুটবল

`নিখোঁজ রোনালদো’, সৌদি আরবের রাস্তায় পোস্টার

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম

news-details

আল নাসরের সবশেষ ম্যাচে মাঠে তো ছিলেনই না স্কোয়াডেও নাম ছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। এমনকি সৌদি প্রো লিগের ক্লাবটির অনুশলীনেও এখন পর্যন্ত দেখা মিলছে না পর্তুগিজ মহাতারকার। গুঞ্জন আছে ক্লাবের সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়েছে রোনালদোর। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকার এমন অনুপস্থিতি বেশ উপভোগই করছে আল হিলালের সমর্থকরা। সৌদির রাস্তায় রোনালদোর নিঁখোজ বিজ্ঞপ্তির পোস্টার লাগিয়ে রসিকতা করতেও ছাড়েনি ক্লাবটির সমর্থকরা।


সৌদির কিছু রাস্তায় লাগানো রোনালদোকে নিয়ে পোস্টারে লেখা ছিল, 

‘এটি একজন চল্লিশ বছর বয়সী খেলোয়াড়, যে অতিরিক্ত কান্নার বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছ এবং তার পরিবার তাকে খুঁজছে।’


সব সমস্যার শুরু মূলত আল নাসরের ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষত আর্থিক সহায়তায় রোনালদোর অসন্তুষ্টি থেকে। আল নাসরের একটি সূত্র ‘আ বোলা’-কে জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) ওপর বেজায় চটেছেন রোনালদো। পিআইএফ মূলত সৌদি আরবের প্রধান চারটি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করে। রোনালদোর অভিযোগ, আল নাসরের চেয়ে আল হিলালের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।


রোনালতোর কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা হিসেবে আল হিলাল দলে ভেড়ায় করিম বেনজেমাকে। গুঞ্জন আছে এই সাইনিং ঠেকানোর চেষ্টাও নাকি করেছিলেন ‘সিআর সেভেন’। জানুয়ারিতে  একমাত্র ইরাকি মিডফিল্ডার হায়দার আব্দুলকারীমকে দলে ভিড়িয়েছে রোনালদোর ক্লাব। যেখানে রোনালদো আশা করেছিলেন যে ট্রান্সফার উইন্ডোতে আরও সক্রিয় হবে তাঁর দল, যাতে তিনি তাঁর প্রথম সৌদি লীগ শিরোপা জেতার পথে শক্তিশালী দল পান।


সৌদি আরবের ক্রীড়া প্রকল্পের প্রধান মুখ হিসেবে বিবেচিত রোনালদো। গত গ্রীষ্মে চুক্তি নবায়নের সময় পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেছিলেন, 

‘আমি খুশি কারণ আমি জানি এই লিগ খুবই প্রতিযোগিতামূলক। যারা কখনও সৌদিতে খেলেনি, যারা ফুটবল বোঝে না, তারা শুধু বলে এই লিগ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে নেই। আমি আমার কথায় শতভাগ বিশ্বাস করি, আর যারা এই লীগে খেলছে তারা জানে আমি কী বলছি। এ কারণেই আমি থাকতে চাই—আমি এই প্রকল্পে বিশ্বাস করি, শুধু পরবর্তী দুই বছর নয়, বরং ২০৩৪ পর্যন্ত, যখন সৌদিতে বিশ্বকাপ হবে। আমি বিশ্বাস করি, এটি সবচেয়ে সুন্দর বিশ্বকাপ হবে।’


তিন বছর আগে, রোনালদো আল-নাসরে যোগ দিয়ে ক্রীড়া জগতে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। তারপর মধ্য প্রাচ্যের এই লিগে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন করিম বেনজেমা, নেইমার, রবার্তো ফিরমিনো, সাদিও মানে ও আয়মেরিক লার্পোতার মতো তারকা খেলোয়াড়। 


রোনালদোকে ঘিরে যে লিগের সূচনা, হঠাৎ প্রাণভোমরা সঙ্গেই বিবাদে জড়াতে হচ্ছে সৌদি লিগ আর আল নাসরকে। এবার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার ম্যাচ বয়কটের ঘটনা কোথায় গিয়ে গড়ায় সেটাই দেখার।

bottom-logo

ফুটবল

আলপির হ্যাটট্রিকে তিনে তিন বাংলাদেশের

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:০৫ পিএম

news-details

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর শক্তিশালী ভারতকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেন অর্পিতা বিশ্বাসরা। আজ লিগ পর্বের শেষ ম্যাচটিও জয়ে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ।


নেপালের পোখারায় বাংলাদেশ সময় বিকাল তিনটা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচে নেপালকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। লাল সবুজ দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন আলপি আক্তার। অপর গোলটি আসে প্রতিমা মুন্দার পা থেকে। 


ম্যাচঘড়ির তৃতীয় মিনিটে লিড আদায় করে বাংলাদেশ। ডান পাশের কর্নার থেকে মামনি চাকমার কৌশলী শট আলতো ছোঁয়ায় নেপালের জালে জড়ান প্রতিমা মান্ডা।


বিরতির আগে লিড দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ইনজুরি চার মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সেট পিস থেকে ফ্রি কিক পেয়ে গোল আদায় করেন আলপি আক্তার। 


প্রথম গোলে যেমন ভূমিকা ছিল মামনি চাকমার। দ্বিতীয় গোলেও উপস্থিত বুদ্ধিতে দলকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন বাংলাদেশি প্লে মেকার। ডি বক্সের খানিক বাইরে ফ্রি কিক নিতে এগিয়ে এসে ‘ডামি লিভ’ নেন তিনি। পরে দারুণ চিপ শট ক্রসবারের ঠিক নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান আলপি আক্তার। ঝর্না ডুমরা কোটি লাফিয়ে চেষ্টা করেও নাগালে পাননি বল। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।


দ্বিতীয় অর্ধে দুই উইঙ্গ দিয়ে মুমূর্মুহু আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। বার বার আক্রমণ শানালেও তৃতীয় গোল আসে একটু দেরিতে। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আলপি নিজের দ্বিতীয় গোল নিশ্চিত করেন এবং দলকে উপহার দেন ৩-০ লিড। 


মধ্যমাঠ থেকে একাই গোলের জন্য ছুটে যান আলপি। ওয়ান টু পজিশনে ঝর্নাকে পান তিনি। তড়িৎ সিদ্ধান্তে ডি বক্স লাইন থেকে শট নেন গোলবারে। আদায় করেন কাঙ্ক্ষিত গোল। 


ম্যাচ যত পুরোনো হচ্ছিল, ততই মিইয়ে যাচ্ছিল স্বাগতিকদের ফেরার স্বপ্ন। এই সুযোগ আরও একবার কাজে লাগায় বাংলাদেশ। রাইট উইঙ্গ থেকে আক্রমণে উঠে গোলবারে শট নেন রূপা আক্তার। নেপালের গোলকিপার ঝর্ণা কিছুটা গড়বড় করে ফেলেন। তার রিবাউন্ড শট আলিজা কুমারি পুনরায় গোলকিপারকে দিতে যান। সে শটের গতি একটু বেশিই ছিল। মাথার উপর দিয়ে বলটি বারের নিচে এসে পড়ে। সেখান থেকে আলপি আবারও জাল কাঁপান। আদায় করেন হ্যাটট্রিক।

bottom-logo

ফুটবল

সার্জারির প্রয়োজন নেই হামজার, খেলতে পারেন সিঙ্গাপুর ম্যাচে

 
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঢাকা

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:২৭ পিএম

news-details

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচ শেষে ক্রাচে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় লেস্টার সিটির অধিনায়ক হামজা চৌধুরীকে। যা ভক্তদের মধ্যে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল।


এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ দলের পরের ম্যাচ ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। তার আগে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে লাল-সবুজ দলের। তাই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে হামজার চোটের খবরটা নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিকই ছিল।


প্রাথমিকভাবে গুঞ্জন ওঠে, ডান হাঁটুর মিডিয়াল কল্যাটারাল লিগামেন্টে চোটের কারণে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে হামজার। যা তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে পাঠাতে পারত। লেস্টার সিটির কোচও ম্যাচের পর বলেছিলেন, “হামজাকে হাঁটুর ব্রেস পরা অবস্থায় দেখেছি। মনে হচ্ছিল দ্রুত সেরে ওঠার মতো নয়।”


আশার খবর হলো, হামজার সার্জারির প্রয়োজন নেই। টি-স্পোর্টস নিশ্চিত হয়েছে, হামজার স্ক্যান রিপোর্টেও বড় কোনো সমস্যা বা চিড় ধরা পড়েনি। লেস্টার সিটি অধিনায়ককে ডাক্তার ছয় থেকে আট সপ্তাহ রিহ্যাবে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

হামজা সার্জারি ছাড়াই রিহ্যাব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুনরায় মাঠে ফিরবেন। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টারের পরের ম্যাচ ৯ ফেব্রুয়ারি বার্মিংহামের বিপক্ষে। সে ম্যাচে দেখা যাবে না হামজাকে, তবে জাতীয় দলের জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন।

bottom-logo

ফুটবল

ফিলিস্তিনিসহ বিশ্বজুড়ে নিপীড়িতদের পাশে গার্দিওলা

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:১৯ পিএম

news-details

আদর্শ সমাজ উপহার দেওয়ার জন্য নিজের অবস্থান ব্যবহার করতে চান ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা। কারাবাও কাপের সেমিফাইনালে নিউজক্যাসেলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা শুধু দলের অবস্থানই ব্যাখ্যা করেননি, তিনি বিশ্বজুড়ে সংঘাতের শিকারদের প্রতি তার উদ্বেগও ব্যক্ত করেছেন।


গত সপ্তাহে বার্সেলোনায় একটি চ্যারিটি কনসার্টে অংশ নেন পেপ গার্দিওলা। যেখানে ফিলিস্তিনি শিশুদের পাশে থাকার সহানুভূতি প্রকাশ করেন সিটি বস। বক্তব্যকালীন তিনি বিশ্বজুড়ে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শিশুদের হত্যা ও আহত হওয়ার দৃশ্য দেখে ব্যথিত হন বলেও জানিয়েছেন। 


কারাবাও কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গার্দিওলা বলেন, “আমি যে ফুটেজগুলো দেখি তা আমাকে কষ্ট দেয়। আমি সবসময় তাদের পাশে দাঁড়াবো। হাজার হাজার নির্দোষ মানুষকে হত্যা হচ্ছে? এটা আমাকে আঘাত করে। এর চেয়ে জটিল কিছু নেই।”


তিনি আরও বলেন, “আমি কল্পনা করতে পারি না, মানুষের কেন এসব অনুভব করে না। প্রতিদিনই দেখা যায় বাবা-মা ও শিশুদের জীবন ধ্বংস হচ্ছে। এতো ব্যথা দেখে কিছুটা সহানুভূতি না রাখা যায় না। আমি তা অনুভব করতে পারি না।”


এসময় দ্য অ্যাথলেটিকের সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “গত ১০ বছরে প্রথমবার একজন সাংবাদিক আমাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। মনে হয় মিডিয়া এ ধরনের প্রশ্ন করতে পারছে না। কিন্তু কেউ কি বিশ্বের যুদ্ধের দৃশ্য দেখেও প্রভাবিত হয় না? এটা সঠিক বা ভুলের বিষয় নয়—মানবতার বিষয়।”


সোমবার বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে মোট ৯৩৩ জন অভিবাসী চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। গার্দিওলা বলেন, “মানুষগুলোকে সেই কাজ করতে হয় — তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়, সমুদ্রে যেতে হয় এবং তারপর উদ্ধার হওয়ার জন্য নৌকায় উঠতে হয় — এ বিষয়ে ‘সে ঠিক বা ভুল’ বলার আগে তাদের উদ্ধার করতে হবে। কারণ এটা মানবিক জীবন সম্পর্কিত। 


গত মাসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। গার্দিওলা বলেন, “এসব আমাকে ব্যথিত করে। এজন্যই আমি সমাজকে আরও ভালো করতে কথা বলতে পারি, আমি চেষ্টা করব এবং সেখানে থাকব — সব সময়ই। এটা আমার সন্তানের জন্য, আমার পরিবারদের জন্য, আপনাদের জন্য।


গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার একটি প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হত্যাকাণ্ড বা গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল, যদিও ইসরায়েল এই অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইসরায়েলসহ বিশ্বে নিপড়ীতদের পক্ষে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন গার্দিওলা।

bottom-logo