
শ্রীলঙ্কায় সোমবার শুরু হয়েছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ। দুই দিন পর সেখানে বাংলাদেশের মিশন শুরু আজ (বৃহস্পতিবার)।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে লাল সবুজের প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ নেপাল। খেলাটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে স্পোর্টজওয়ার্কজ ইউটিউব চ্যানেল।
'এ' গ্রুপে বাংলাদেশ, নেপাল ছাড়াও আছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। এরই মধ্যে নিজেদের মধ্যে ম্যাচ খেলে ফেলেছে দুই দল। যেখানে মুখোমুখি লড়াইয়ে ২-০ গোলে স্বাগতিকদের হারিয়েছে নেপাল।
'বি' গ্রুপে রয়েছে চার দল- ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপ। ভুটানকে ৪-০ ব্যবধানে পাকিস্তান আর মালদ্বীপকে ৬-০ গোলে ভারত হারিয়ে প্রতিযোগিতায় শুভ সূচনা করেছে।
এবার কলম্বোয় বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা দেখার অপেক্ষায় লাল সবুজের সমর্থকেরা। টুর্নামেন্ট অংশ নিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রীলঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। বুধবার বিকেলে নাজমুল হুদা ফয়সালরা এক ঘন্টার অনুশীলন করেন ক্যালানিয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে।
অনুশীলন শেষে কোচ ছোটন জানান, টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত তার দল।
“ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলন করছে, তারা খেলার জন্য প্রস্তুত। ওরা যদি মাঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারে, তবে সহজেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে।”
“প্রতিপক্ষের খেলা দেখেছি, তারা শক্তিশালী দল এবং বেশ কিছু দুর্দান্ত খেলো আছে তাদের; কিন্তু আমার বিশ্বাস ফয়সালরা যদি সাহস নিয়ে খেলে তবে জয় পাওয়াটা কঠিন হবে না।”
অধিনায়ক ফয়সালের চোখেমুখেও আত্মবিশ্বাস, কণ্ঠে দারুণ কিছু করার প্রত্যয়। জানালেন দেশে ৭ সপ্তাহের প্রস্তুতির পর শ্রীলঙ্কাতেও কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে দল। ইতোমধ্যে সেখানে চারটি অনুশীলন সেশনও করেছেন তারা।
“নেপাল ভাল দল। কিন্তু আমরা আমাদের খেলায় মনোযোগী; মাঠে সেরাটা দিয়ে চাই জয় ছিনিয়ে আনতে।” এরপর দেশবাসীর কাছে দোয়া চান এই মিডফিল্ডার।
অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ের সাফে এখন পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশের ছেলেরা। এমনকি মেয়েদের বিভিন্ন ক্যাটাগরির সাফে একাধিক ট্রফি থাকলেও, অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে তারাও পারেনি জিততে। এবার কলম্বোয় সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মিশন ফয়সালদের।
No posts available.
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১ এম

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো-সেনেগাল। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় শিরোপার মঞ্চে নামার আগে স্বাগতিক স্বাগতিক মরক্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন সেনেগাল।
সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ) গতকাল একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে তারা মরক্কোর রাবাতে দলের আগমনের সময় নিরাপত্তার অভাব, আবাসন ব্যবস্থা, অনুশীলনের সুবিধা এবং সমর্থকদের জন্য যথাযথ টিকিট বরাদ্দে সমস্যা তুলে ধরেছে।
সেনেগাল আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এবং স্থানীয় আয়োজনকারী কমিটিকে অনুরোধ করেছে, ‘যেকোনো সংশোধনাত্মক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যাতে দুই দলের জন্য সমতা, সমান আচরণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, যা আফ্রিকান ফুটবলের এই উৎসবের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।’
সেনেগাল খেলোয়াড়রা শুক্রবার ট্যাঙ্গিয়ার থেকে রাবাতে ট্রেনে পৌঁছায়। তবে ফেডারেশন জানিয়েছে, সেখানে ‘উপযুক্ত নিরাপত্তার স্পষ্ট অভাব’ ছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খেলোয়াড় ও স্টাফদের চারপাশে ভিড়। ছবি তোলার জন্য সমর্থকদের একটি অংশ হুমড়ি খেয়ে পড়লে ভিড়ের মধ্যে আটকা পড়ে সেনেগাল দল।
সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও বলেছেন, ‘যা ঘটেছে তা অস্বাভাবিক। সেনেগালের মতো একটি দলকে এভাবে ভিড়ের মধ্যে ফেলে দেওয়া উচিত নয়, খেলোয়াড়রা বিপদে ছিল। খারাপ উদ্দেশ্যের মানুষদের কারণে যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারত।’
শুধু নিরাপত্তাই নয়, সেনেগালের জন্য বরাদ্দ হোটেল ও অনুশীলন নিয়ে অভিযোগ ওঠে। দলটির ফেডারেশন জানিয়েছে, রাবাতে দলের জন্য পর্যাপ্ত হোটেল ব্যবস্থা পেতে তাদের আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ করতে হয়েছে। প্রথমে যে আবাসনটি দলের জন্য দেওয়া হয়েছিল, তার অবস্থা তারা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেনি। সেনেগাল বলছে, এটি ‘খেলাধুলার ন্যায্যতার প্রশ্ন তুলেছে।’
এছাড়া সেনেগাল তাদের সমর্থকেদের জন্য বরাদ্দ টিকিট নিয়েও অভিযোগ তুলে। তাদের সমর্থকদের জন্য কেবল ২,৮৫০টি টিকিট কেনা সম্ভব হয়েছে, যা সিএএফের অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমা। তারা এই বরাদ্দকে ‘চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত’ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এটি ‘সেনেগাল সমর্থকদের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা যা তাদের ক্ষতি করছে।’
প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে হবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনাল। এই ভেন্যুর ধারণক্ষমতা ৬৯,৫০০ দর্শক। ফাইনালের আগে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও বলেছেন, ‘আজ পর্যন্ত সবকিছুর আয়োজন চমৎকার ছিল, সারা বিশ্বেই এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, মরক্কোকে অসাধারণ এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ। তারা শান্তিপূর্ণতার মানদণ্ড উন্নত করেছে। আশা করি এটি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু গতকালের ঘটনা আর হওয়া উচিত নয়। এটা আফ্রিকার ভাবমূর্তির বিষয়। আমি সেনেগালের কোচ হিসেবে বলছি না, আমি একজন আফ্রিকান হিসেবে বলছি। আমরা এটা কাটিয়ে উঠার পর ফাইনালে মনোনিবেশ করব। আমরা এই ট্রফি ঘরে ফিরিয়ে আনতে চাই।’
সেনেগাল ও মরক্কো দুই দলই দ্বিতীয়বার এই টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। সবশেষ ২০২২ সালে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্যের এই ট্রফি ঘরে তোলে সাদিও মানের সেনেগাল। আর মরক্কো ১৯৭৬ সালের পর আর আফকন শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি।

সম্প্রতি লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা তরুণ প্রতিভাদের মধ্যে নজর কাড়েন তিনি। বার্সেলোনার মূল দলের হয়ে মাঠে নেমে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। অতীতে ক্লাবটির বহু একাডেমি গ্র্যাজুয়েটদের মতো অনেকেই তাকে স্প্যানিশ জায়ান্টদের ভবিষ্যত মনে করেছিলেন। তবে সবাইকে রীতিমতো চমকে দিলেন দ্রো ফার্নান্দেজ। বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দিচ্ছেন ১৮ বছর বয়সী এই তারকা। আর এমন প্রতিভাকে হারিয়ে খুবই হতাশ কাতলান ক্লাবটির কোচ হান্সি ফ্লিক।
দ্রো ফার্নান্দেজ খুব শিগগিরই বার্সেলোনা ছাড়বেন। চুক্তির ৬০ লাখ ইউরো রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করে এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়াচ্ছে পিএসজি। ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি, শেষ পর্যন্ত ফরাসি ক্লাবটিকে বেছে নেন দ্রো।
তরুণ এই প্রতিভার ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি নাকি সহজে নেননি ফ্লিক। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান এই কোচ প্রচণ্ড হতাশ হয়েছেন। বদলি নেমে বার্সার মূল দলের কয়েকটি ম্যাচে খেলেন দ্রো। প্রাক মৌসুমে এই ফুটবলারের অভিষেক হয়। বার্সা কোচ দ্রোকে এমন একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেখেছিলেন যাকে বিশেষ যত্নের সঙ্গে তিনি সামলেছেন। ফলে তাঁর বিদায়ের খবরে চরম হতাশ হয়েছেন ফ্লিক।
গতকার সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে দ্রো ফার্নান্দেজের দল বদলের প্রসঙ্গ। বার্সার নিয়মিত একাদশে সুযোগ পেতে হলে শতভাগ নিংগে দিয়ে সুযোগের জন্য অপেক্ষার কথা বলেন তিনি, ‘যদি কেউ বার্সার জন্য খেলতে চায়, তাকে সবকিছু দিতে হবে… ১০০ শতাংশ। এটাই আমি সবাইকে বলতে চাই—যারা এখন আমাদের সঙ্গে আছেন বা ভবিষ্যতে আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেন। একইভাবে প্রযোজ্য লা মাসিয়ার তরুণদের জন্য যারা প্রথম দলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তাদের এখানে শতভাগ দিতে হবে।’
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ডায়ারিও আস-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দ্রো ফার্নান্দেজের বিদায় নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘আমি তখনই কথা বলব যখন এটি শেষ হয়ে গেছে, এখন সময় নয়। একজন কোচ হিসেবে আমাদের কাজ হলো খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস দেওয়া। আপনি তাদের মধ্যে বিশ্বাস রাখতে চেষ্টা করেন যাতে তারা এগিয়ে আসে। আমি জানি তার চারপাশে কিছু মানুষ আছে। আমি চাই এই বিষয়টি অতীত হয়ে যাক। যদি সে ক্লাব বদলাতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা তখনই সেটার মোকাবিলা করব। এখন সময় নয়।’
ফ্লিক আরও যোগ করেন, ‘আজকের পরিস্থিতি হলো, সবাই এখানে আছে। যদি দ্রো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না আসে, আমি এই প্রশ্নের উত্তর দেব না। তবে আমরা ফুটবলের জগতে আছি, এবং মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটে। আপনি হয়তো এই সিদ্ধান্তে একমত নাও হতে পারেন, কিন্তু তারা প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের চারপাশে মানুষ আছে, যারা তাদের প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু আমি আর কথা বলতে চাই না, আমার মনে হয় এটাই যথেষ্ট।’

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরও একটি হতাশার গল্প যোগ হলো মোহাম্মদ সালাহর। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) সেমিফাইনালে সেনেগালের বিপক্ষে হারের পর এবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে ব্রোঞ্জও পাওয়া হলো না লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ডের। উল্টো টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে বনে গেলেন খলনায়ক।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে গতকাল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে মিসরকে ৪–২ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেয় নাইজেরিয়া। ‘সুপার ঈগলসরা’এই জয়ের মাধ্যমে রেকর্ড নবমবারের মতো আফকনের ব্রোঞ্জ পদক জিতল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ডও বজায় রাখে।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ছিলেন মোহামেদ সালাহ ও ভিক্টর ওসিমেন—দুজনেরই গোল ছিল ৪টি করে, মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজের (৫ গোল) ঠিক পেছনে। তবে ওসিমেনকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি, ফলে গুঞ্জন থাকা শেষ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে দিয়াজকে টপকে যাওয়ার আশা নিয়ে নজর ছিল সালাহর দিকেই। তবে হতাশ করেন ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সালাহর পাশাপাশি মিসরের আরেক খেলোয়াড় ওমর মারমুশও পেনাল্টি মিস করেন। প্রথমে পেনাল্টি শট নিতে আসা সালাহ ও ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ওমর মারমুশ—দুজনেরই নেওয়া শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন নাইজেরিয়ার গোলকিপার স্ট্যানলি নোয়াবালি। শেষ স্পট-কিকটি সফলভাবে আদায় করে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে নাইজেরিয়া, আর মিসরকে থামতে হয় চতুর্থ স্থানেই—যা ১৯৮৪ সালের পর তাদের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স।
পুরো টুর্নামেন্টে মিসরের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন সালাহ। সেমিফাইনালের আগে পাঁচ ম্যাচে চার গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তারঁর শেষ মুহূর্তটি হয়ে থাকল হতাশারই।
স্বর্ণ থেকে ব্রোঞ্জে জয়ের লড়াইয়ে নামা দুই দলের কোচই একাদশে বড় ধরনের রদবদল করেন। সেমিফাইনালে মিসর সেনেগালের কাছে ১–০ ব্যবধানে হেরে যায়, অন্যদিকে নাইজেরিয়া মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হার মানে।
মরক্কোর মাঠ স্তেদ মোহাম্মদ ভি’তে পুরো ম্যাচজুড়ে মরক্কোর সমর্থকেরা দুয়ো আর শিস দিয়ে ফারাওদের চাপে রাখে। প্রথম বড় সুযোগটি আসে আকোর অ্যাডামসের কাছ থেকে। তার নেওয়া হেডটি নাইজরিয়ার ফরোয়ার্ড পল ওনুয়াচুর সামান্য স্পর্শে জালে জড়ায়। তবে ভিএআরে বাতিল হয় গোল।
আরও পড়ুন
| আর্জেন্টাইন তারকাকে দলে ভেড়াতে চায় বার্সেলোনা |
|
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় নাইজেরিয়া, তবে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ৭৯তম মিনিটে ওমর মারমুশের নেওয়া একটি দ্রুত প্রতি আক্রমণ থেমে যায় সেমি আজাইয়ের চ্যালেঞ্জে সিটির তারকা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে। কিছুক্ষণ পর অপর প্রান্তে আকোর অ্যাডামসের পেনাল্টির আবেদনও সাড়া দেয়নি রেফারি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের কোনো নিয়ম নেই। ফলে ম্যাচ গড়ায় সরাসরি টাইব্রেকারে।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয়বারে মতো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী কোনো ম্যাচ গোলশূন্য ড্রতে শেষ হলো। প্রথমে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন নাইজেরিয়ার ফিসায়ো ডেলে-বাসিরু, তবে তার শটটি সহজেই বুঝে নিয়ে ঠেকিয়ে দেন মিসরের বদলি গোলকিপার মোস্তাফা শোবেইর। এরপর মিসরের হয়ে শট নিতে আসা সালাহকে রুখে দেন নাইজেরিয়ার গোলকিপার।
নাইজেরিয়ার দ্বিতীয় পেনাল্টি নেন অ্যাডামস। শোবেইরকে ভুল পথে পাঠিয়ে দারুণ দক্ষতায় দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর মারমুশের পেনাল্টিও সেভ করেন নোয়াবালি। মোসেস সাইমন ঠান্ডা মাথায় নিজের পেনাল্টি জালে পাঠিয়ে সুপার ঈগলসদের ব্যবধান বাড়ান। এরপর রামি রাবিয়া গোল করে মিসরকে আবার ম্যাচে ফেরান।
নাইজেরিয়ার হয়ে অ্যালেক্স ইওবি শোবেইরের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে টাইব্রেকারে স্কোরলাইন ৩–১ করেন। তবে মাহমুদ সাবের পাল্টা জবাব দেন দারুণ এক শটে—উপরের বাঁ কোনায় জোরালো ফিনিশিংয়ে, নোয়াবালির কিছুই করার ছিল না। শেষ পর্যন্ত লুকম্যান রাতের সেরা পেনাল্টিটি নিয়ে নাইজেরিয়ার ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন এবং আগের পেনাল্টি শুটআউটের হতাশার কিছুটা হলেও ঘোচান।

মৌসুম এখনও মাঝপথে থাকলেও আগামী মৌসুমের দল গঠন নিয়ে কাজ শুরু করেছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির পছন্দের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের নাম।
বয়স ও আর্থিক বিবেচনায় রবার্ট লেভানডফস্কির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় আক্রমণভাগে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে বার্সেলোনা। আগস্টে ৩৮ বছরে পা দেবেন এই পোলিশ স্ট্রাইকার, পাশাপাশি উচ্চ পারিশ্রমিম ও চোটের ঝুঁকিও ভাবাচ্ছে বার্সাকে।
এই বাস্তবতায় আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম আলভারেজকে আদর্শ বিকল্প হিসেবে দেখছেন কোচ হান্সি ফ্লিক ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো।
যদিও চলতি মৌসুমে আতলেতিকো মাদ্রিদে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি আলভারেজ। তবে বার্সেলোনার কর্মকর্তারা মনে করছেন, আলভারেজের খেলার ধরন ক্লাবের পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই।
আলভারেজকে দলে ভেড়ানো অবশ্য সহজ হবে না। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে পেতে বার্সেলোনাকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে হতে পারে। ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লের ১:১ নিয়মে ফিরতে পারলেই কেবল এমন বড় চুক্তিতে যেতে পারবে ক্লাবটি।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) প্রথম পর্বের খেলা শেষে এখন চলছে বিরতি। ৬ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়ানোর কথা লিগের দ্বিতীয় পর্ব। সে অনুযায়ী সূচিও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তার আগে ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে বাংলাদেশ ফেডারেশন কাপের ম্যাচ। শনিবার নতুন করে সিদ্ধান্ত আসে স্বাধীনতা কাপ নিয়ে।
এদিন বাফুফের পেশাদার লিগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ষষ্ঠ সভা বসে। যেখানে সিদ্ধান্ত হয় ১৬ দল নিয়ে হবে স্বাধীনতা কাপ। যে আসরটি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে ঘরোয়া ফুটবল মৌসুমের।
পেশাদার লিগের ১০ দল, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের সেরা দুই দল, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যাম্পিয়ন ও তিন বাহিনীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে স্বাধীনতা কাপে। এই প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবে কেবল স্থানীয় ফুটবলাররা।
শনিবার সভা শেষে সিদ্ধান্তগুলো জানান পেশাদার লিগ ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান। তিনি বলেন,
‘এবার লিগ শেষে আমরা স্বাধীনতা কাপ আয়োজন করবো। শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ৫ মে। আর শেষ হবে ২৩ মে। স্বাধীনতা কাপে বিএফএল-এর ১০ দলের বাইরেও তিনটি সার্ভিসেস টিমকে (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী) আমন্ত্রণ জানাবো। এছাড়া এই প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের খেলা শেষ হয়ে যাবে। বিসিএল এর চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপকে আমরা আমন্ত্রণ জানাবো। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে যারা চ্যাম্পিয়ন হবে তারাও আমন্ত্রণ পাবে। ১৬টি দল নিয়ে স্বাধীনতা কাপ হবে দেশের চারটি ভেন্যুতে।’