
একদিন সকালে জোসেফ কে. নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা ঘুম থেকে উঠে দেখলেন দুজন লোক তাঁর বাসায়। কুশলাদি বিনিময়ের আগেই তাঁরা বলে উঠলেন, ‘আপনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।’
শীতের ভোর। রুম হিটার আর কম্বলে উষ্ণতা খোঁজার বিপরীতে দুঃসংবাদের অভিঘাতে কেঁপে উঠল জোসেফের আত্মা। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভাবতে থাকলেন অতীত–বর্তমান। আদৌ কোনো অপরাধ করেছিলেন কি না। তবে আগন্তুকেরা এও জানান, গ্রেপ্তার হলেও এই মুহূর্তে থানায় নেওয়া হচ্ছে না তাঁকে। বরং নির্দিষ্ট সময় শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে জোসেফের।
জোসেফের রীতিমতো মূর্ছা যাওয়ার দশা। তবু রোজকার কাজ চালিয়ে যান তিনি—ঘুম থেকে ওঠা, অফিসে যাওয়া–ফেরা, বন্ধুদের ডাকে বারবিকিউ পার্টিতে অংশ নেওয়া। যদিও সেখানকার বাতাসে ভেসে থাকা কাঁকড়া কেকের ঘ্রাণ তাঁকে আর মোহিত করে না। মনের ভেতর চলতে থাকে উত্থাল–পাতাল ঝড়। বিকেলের রঙ আর ভালো লাগে না তার। যে বৃষ্টি স্মৃতিতে ভাসাত, সেটাই আজ দুঃখের নীল।
মিশর ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর অবস্থাও অস্ট্রিয়ান লেখক ফ্রান্ৎস কাফকার দ্য ট্রায়াল-এর জোসেফের মতোই। ঘুরছেন–ফিরছেন, অনুশীলন করছেন, খেলছেনও। তবুও তাঁর মনের ভেতর ঝড়। ‘গোল ড্রায়’, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটুক্তি, বন্ধুদের আড্ডায় এখন তিনি অমনযোগী শ্রোতা।
প্রিমিয়ার লিগের ২০২৪–২৫ মৌসুমে অ্যানফিল্ডের জার্সিতে ২৯ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্টের দেখা পেয়েছিলেন সালাহ। অথচ ২০২৫–২৬ মৌসুমে ভুগছেন ‘গোল ড্রাই’-এ। গত মৌসুমে প্রথম ১০ ম্যাচে করেছিলেন ৭ গোল, নতুন মৌসুমে মাত্র ৪টি। অ্যাসিস্ট দুটি। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের কাছে প্রত্যাশা অবশ্য আরও বেশি!
নতুন মৌসুমে এফসি বোর্নমাউথের জালে বল জড়িয়ে যাত্রা শুরু হয় সালাহর। শেষ ম্যাচেও (গতকাল) গোল পেয়েছেন তিনি। তার আগে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষেও গোল করেন মিসর ফরোয়ার্ড। লেখায় বিষয়টি সহজ মনে হলেও বাস্তবতা—নতুন মৌসুমে লিগে ছয় ম্যাচে গোল পাননি সালাহ।
গতকাল অ্যানফিল্ডে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে লিভারপুলকে লিড এনে দেন সালাহ। গোলটি যেন একপ্রকার উপহার—অতিথি গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অসাবধানতার সুযোগ কাজে লাগান ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। ডি-বক্সে বল পেয়ে এক টাচে গোল আদায় করেন তিনি। তাতেই লিভারপুলের জার্সিতে ২৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন সালাহ।
তবু ম্যাচজুড়ে সেই ব্যাংকার জোসেফের মতো কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে সালাহকে। তাঁর আক্রমণে ওঠা ও ক্লিয়ার পাস ধরে গোল দেওয়ার চেষ্টায় ফুটে উঠেছে কৃত্রিমতা। গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন একবার, শট নিয়েছেন তিনবার, সফল হয়েছেন একবার। ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ফুটমবের’ রেটিংয়ে ৮ পেলেও ম্যাচজুড়ে একধরনের হীনমন্যতায় ভুগতে দেখা গেছে সালাহকে।
মোহাম্মদ সালাহ প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই ম্যাচে গোল পেয়েছেন, এটা সত্য। তবে আর্জেন্টাইন গোলকিপার মার্তিনেজ যেন তাঁকে কাফকার মেটামরফোসিসের গ্রেগর সামসা হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছেন—এটাও বাস্তব। তাঁকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল প্রবলভাবে; তিনি যেন সামসার মতো কীটপতঙ্গে রূপ নিচ্ছিলেন। সে মাত্রা যদি প্রিয়জনের চেয়ে প্রয়োজন বেশি হয়ে উঠত, নিশ্চিতভাবেই তাঁকে নিয়ে ভাবতে শুরু করত ‘অল রেডস’ কর্তৃপক্ষ।
এই কঠিন যাত্রায় সালাহ পেয়েছেন কোচের সমর্থন। লিগে দলের টানা চার হারকে দুর্ভাগ্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন আর্নে স্লট। গতকাল জয়ের পর তিনি বলেন,
‘প্রতি ম্যাচে ব্যবধান খুবই ছোট। আজ (গতকাল) শুরুতেই ভিলার বল গোলবারে লেগেছিল—শেষ কয়েক সপ্তাহে এগুলো গোল হয়ে যেত। এবার হয়নি। আমরা কোনো সেটপিসে গোল খাইনি, সেটি সাহায্য করেছে। কিছুটা ভাগ্যও আমাদের সঙ্গে ছিল, যা সম্প্রতি ছিল না। আমাদের দ্বিতীয় গোলটিও এসেছে ডিফ্লেকশন থেকে।’
এখানে কিছুটা সত্য আড়াল করতে চেয়েছেন লিভারপুল কোচ। অ্যানফিল্ড, যেখানে সালাহদের তীর্থভূমি—সেখানেও চোখে চোখ রেখে লড়েছে ভিলার কোনসা ও ম্যাটি ক্যাশ। প্রায় ৪৭ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল অতিথিরা। গোলমুখে শট কিংবা সুযোগ তৈরিতে পিছিয়ে থাকলেও অ্যাস্টন ভিলা পাসের নির্ভুলতায় ছিল এগিয়ে—প্রায় ৮৪ শতাংশ পাস ছিল অ্যাকুরেট।
তারপরও দলের প্রতি আস্থা রেখেছেন স্লট। আস্থা রেখেছেন সালাহর প্রতিও। অ্যানফিল্ডে নামার আগে তিনি বলেছিলেন,
‘আমি খুব খুশি আমার দল নিয়ে। এখানে সব কোয়ালিটির খেলোয়াড় আছে।’
তাঁর মতে,
‘গ্রীষ্মে দলে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ফলে সবাইকে নতুন করে একে-অপরকে বুঝে নিতে হচ্ছে। হয়তো এর সঙ্গেই সালাহর পারফরম্যান্সের সম্পর্ক আছে।’
এর আগেও স্লট বলেছিলেন,
‘সালাহও মানুষ। আমরা অভ্যস্ত নই তাকে এত সুযোগ নষ্ট করতে দেখতে।’
লিভারপুল নিয়ে স্লটের মন্তব্য কিংবা সালাহর প্রতি তাঁর সমর্থন ফিকে হয়ে যাবে যদি না অ্যানফিল্ডের প্রতি আস্থা হারান সমর্থকেরা—অথবা আস্থাহীন হয়ে পড়েন সালাহ নিজেই। তবেই ধীরে ধীরে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠবে প্রিয়জন আর প্রয়োজনের সম্পর্ক। প্রিয় সামসার মতো তিনিও হয়তো একসময় বিরক্তির কারণ হয়ে উঠবেন। আপেলের আঘাতে শেষ হবে তাঁর অধ্যায়।
তবে এটা-ও সত্য—সালাহ হয়তো নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন, হয়তো ফেরার চেষ্টাও করছেন। তিনি জানেন কীভাবে ফিরে আসতে হয়। গিরিখাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও বহুবার তিনি ফিরেছেন। তাঁকে যে ফিরতেই হবে—সেটা মিসর ফরোয়ার্ডের চেয়ে ভালো জানে আর কে!
No posts available.
২ মার্চ ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

একের পর এক গোলে মৌসুমে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে উড়তে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ড হঠাৎ আছড়ে পড়েছেন মাটিতে। হাঁটুর চোট বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তাঁর। আর এই চোটের তদারকি নাকি ঠিকঠাক করতে পারছে না এমবাপের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। তাতেই চটেছেন স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির তারকা ফরোয়ার্ড। রিয়ালের মেডিকেল টিম তাঁর চোটের কোনো সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিকারের জন্য গেলেন নিজের দেশ ফ্রান্সে।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে গিয়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এমবাপে। ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাঁ হাঁটুর চোট এখনও পীড়া দিচ্ছে তাকে। এই চোটের কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে অফে বেনফিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারেনি তিনি। চোটের কোনো উন্নতি না হওয়ায় ফ্রান্সে বিশেষজ্ঞদের কাছে যাচ্ছেন এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদও তাঁর এই ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, এমবাপে রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টিমের পরিষেবায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাঁর মতে, গত তিন মাসে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটি চোটের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে পারফরম্যান্সেও। পাশপাশি তাকে প্রতিনিয়ত দলের বাইরেও থাকতে হচ্ছে। এমবাপ্পে বিশ্বাস করেন, বাইরে থেকে অন্য বিশেষজ্ঞের মতামত তার চিকিৎসা ও সুস্থতার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে।
এমবাপের চোটের ধরনও নিশ্চিত নয়। এখন প্রধান লক্ষ্য হলো হাঁটুর সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধান করা এবং মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ অংশে দলে ফেরা। গত ৭ ডিসেম্বর সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপে ইর্ন্টানাল ল্যাটারাল লিগামেন্টে সমস্যা অনুভব করেছিলেন, তবে এখন পোস্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট –এর সমস্যা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চোটের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা হলে আরও আগেই লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা সম্ভব হত। সেটা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাদ্রিদ ছেড়ে নিজ দেশেই পরামর্শ নেওয়া যুৎসই মনে করছেন এমবাপে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচে অনিশ্চিত এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদ ও এমবাপ্পের লক্ষ্য স্পষ্ট: চ্যাম্পিয়নস লিগের পরবর্তী রাউন্ডের জন্য শতভাগ প্রস্তুত থাকা। প্রথম লেগ ১১ মার্চ, এবং দ্বিতীয় লেগ হবে ১৮ মার্চ। ক্লাব প্রত্যাশা দলের আক্রমণভাগের মধ্যমণি এরমধ্যেই ফিট হয়ে ফিরবে। তবে ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ডের মাঠে ফেরার সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়। শেষ পর্যন্ত হাঁটুর অস্ত্রপচার করালে ফেরার সময় আরও দীর্ঘায়িতই হবে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ৩৬ ম্যাচে ৩৯ গোলে সঙ্গে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন এমবাপে। এরমধ্যে লা লিগায় ২৩ গোল করে আছেন গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগেও সর্বোচ্চ গোল ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডেরও। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় ৮ ম্যাচেই করেছেন ১৩ গোল।

পিএসজির বিপক্ষে বার্সেলোনার সেই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের গল্প কার না জানা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফরাসি ক্লাবটির বিপক্ষে যেভাবে ঘুরে দাড়িয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছিল কাতালান ক্লাবটি, অবিশ্বাস্য সেই মূহূর্ত শুধু বার্সা নয় ফুটবলের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা। এবার আরও একবার ঘুরে দাড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে বার্সা। অনেকের মতে যেটা অসম্ভব, সেটাই সম্ভব করে দেখাতে চান স্প্যানিশ ক্লাবটির কোচ হান্সি ফ্লিক।
আগামীকাল কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। বাংলাদেশ সময় রাত দু’টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি হবে ক্যাম্প ন্যুতে। কোপা দেল রে’র সেমির প্রথম লেগে দিয়াগো সিমিওনের দলের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া বার্সাকে ফাইনালে যেতে হলে করতে হবে পাঁচ গোল।
অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেই ফাইনালের টিকিট কাটতে হবে বার্সাকে। আর এই অসম্ভবকেই নাকি সম্ভব করতে মাঠে নামবে লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বার্সা কোচ ফ্লিক বলেন, ‘সবারই জানা আছে আমরা চার গোল পিছিয়ে আছি এবং আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করতে চাই। আমরা হাল ছাড়ব না। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে।’
ছন্দের তুঙ্গে থেকেই ঘরের মাঠে আতলেতিকোর মুখোমুখি হবে বার্সা। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে লা লিগায় ভিয়ারিয়ালকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৪-১ গোলে। ক্লাবটির সবচেয়ে বড় তারকা ইয়ামাল করেন ক্যারিয়ারের হ্যাটট্রিক। এছাড়া চোট থেকে ফিরে এসেই চিরচেনা জাদু দেখান পেদ্রি। এই ম্যাচের দারুণ ছন্দ ধরে রেখে আতলেতিকোর বিপক্ষে ঝাপিয়ে পড়বে শিষ্যরা, এমনটাই বিশ্বাস ফ্লিকের, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম গোলের দিকে মনোযোগ দেওয়া। আমাদের বুদ্ধিমানের সঙ্গে খেলতে হবে। আমরা সেটা পাওয়ার জন্য ক্ষুধার্ত থাকব, আর আমি চাই সেই ক্ষুধা দেখতে। শেষ ম্যাচে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দল দেখেছি, অনেক বেশি তীব্রতা ছিল। আমাদের একসঙ্গে দল হিসেবে খেলতে হবে। এটাই মূল চাবিকাঠি।’
আতলেতিকোর বিপক্ষে নিজেদের প্রধান অস্ত্র ইয়ামালকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘মুখ্য বিষয় হলো দল পুরোপুরি সংযুক্ত আছে। লামিনের প্রথম গোলটি ফারমিনের ভালো রিকভারি ও পাসের পর এসেছে। লামিনের সেই মুহূর্তে সঠিক জায়গায় থাকার গুণ আছে। গোলের পর, সে অসাধারণ খেলেছে, আমি সেটা পছন্দ করেছি। আমাদের সবাইকে প্রয়োজন, শুধুমাত্র লামিন নয়।’
অবশ্য চোটের কারণে অভিজ্ঞ ফরোয়ায়র্ড রবার্ট লেভাডফস্কিকে পাচ্ছে না বার্সা। পোলিশ ফরোয়ার্ডের চোট নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘আমাদের এটা গ্রহণ করতে হবে এবং মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের খুব একটা ভাগ্যবান না, সে ঘুরতে ঘুরতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ধাক্কা খেল এবং তারপর গোল করলো… এমন খেলোয়াড় না থাকার সমস্যা সর্বদা থাকে, তবে দল সবসময় এটি ভালোভাবে সামলাতে সক্ষম। এটি অন্যান্য খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগও দেবে।’
কোপা দেল রে’র সবচেয়ে সফল দল বার্সেলোনা। এই প্রতিযোগিতায় মোট ৩২বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সবশেষ আসরের চ্যাম্পিয়নও কাতালান ক্লাবটি।

আল-ফেইহা এর বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর ষোলকলা পূর্ণ করে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগের ওই ম্যাচে আল নাসর ৩-১ গোলে জিতলেও ‘সিআর সেভেনের’ চোটে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে সমর্থকদের। অবশ্য আল নাসরের কোচ জর্জে জেসুসের কথা কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারেন সমর্থকরা। রোনালদোর চোট তেমন গুরুতর নয় বলছেন পর্তুগিজ কোচ।
গতকাল আল-ফেইহার বিপক্ষে ম্যাচে ৮১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারকা ফরোয়ার্ডকে বেঞ্চে ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে আইস প্যাক নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। ৪১ বছর বয়সেও দারুণ ফিট থাকলেও, এই বয়সে যেকোনো চোটই গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাতে শুধু ক্লাবই নয়, আসন্ন বিশ্বকাপে ফিট থাকার চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন রোনালদো।
ম্যাচ শেষে আল নাসর কোচ জর্জে জেসুস বলেন, ‘সে (রোনালদো) পেশির ক্লান্তি (মাসল ফেটিগ) অনুভব করেছে। আমরা ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আমি ঝুঁকি নিতে চাইনি, তাই তাকে বদলি করি। মেডিক্যাল বিভাগ তার অবস্থা মূল্যায়ন করবে, তবে সে যা অনুভব করেছে তা শুধু মাসল ফ্যাটিগ।’
রোনালদোর সামনে এখন কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ রয়েছে। আল নাসর নিশ্চিত করেছে, আগামী ৪ মার্চ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আল ওয়াসল–এর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
লিগ শিরোপার লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, এমন সময়ে দলের সেরা ফুটবলারের চোটে বড় হোঁচটই খেতে হবে আল নাসরকে। এর সঙ্গে আছে বিশ্বকাপের ঘনিয়ে আসার চিন্তা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপই রোনালদোর ‘লাস্ট ডান্স’। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষবার নেমে প্রথমবার পর্তুগালকে বিশ্বকাপ জেতানোর অপেক্ষায়ই যে আছেন রোনালদো।
অবশ্য চোট একপাশে রেখে দারুণ ছন্দেই আছেন রোনালদোর। বর্তমানে লিগে-এর সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন পর্তুগাল অধিনায়ক। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর গোল সংখ্যা ২১। তালিকার শীর্ষে আছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ইভান টনি। ২৩ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন আল আহলির ফরোয়ার্ড।
রোনালদোর পারফরম্যান্সে দারুণ ছন্দে আছে আল নাসরও। লিগে ২৪ ম্যাচে ২০ জয়ে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ক্লাবটি। সমান ম্যাচে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আল আহলি।

কুইন্সল্যান্ডে রবিনার সবুজ মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াই। অথচ ইরানের মেয়েদের মন পড়ে ছিল অন্যখানে। রণক্ষেত্র স্বদেশ। ধোঁয়া আর মৃত্যু সংবাদে ভারি আকাশ বাতাশ। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন খবরে শোকতুর গোটা দেশ। সেই শোক আর আতঙ্ক নিয়েই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলন ইরানের মেয়েরা।
রবিবার এএফসি এশিয়ান কাপের লক্ষ্যে জাহারা সালবালি ও মালেকি মোতেভালিরা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করলেও এসবই জানা তাদের। ম্যাচ কিংবা সংবাদসম্মেলন—সব জায়গাতেই ঘুরে ফিরে ইরানের খবর, যুদ্ধের খবর। সেসব মাথায় রেখেই ফুটবলীয় যুদ্ধে নামে তারা। তবে ইরানের যাত্রা হয়েছে ৩-০ গোলে হার দিয়ে। হারের চেয়েও তাদের দৃঢ় মানসিকতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বুকে পাথরচাপা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াকে অনেকেই স্কোরলাইনের চেয়েও বড় করে দেখছেন।
লড়াইয়ে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ২১। বিপরীতে ৬১ নম্বরে অবস্থানে ইরান। ম্যাচেও তা পরিলক্ষিত হয়েছে। ইরানের মেয়েদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে শুরু থেকেই। প্রায় ৮০ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণে ছিল কোরিয়ার। ৩০টি শটের ১০টিই ছিল গোলমুখে। ৮টি কর্নার আদায় করে কোরিয়া।
কোরিয়ার বিপরীতে ইরানের গোলকিপার যেন গোল বার বাঁচাতেই ব্যতিব্যস্ত ছিল বেশি। বারবার রক্ষণে চিড় ধরেছে। আক্রমণভাগেও ছিল না ধার। গোলমুখে ইরান শট নিতে পেরেছে কেবল দুটি। ২১ শতাংশ বল ছিল তাদের দখলে।
ইরান তিন গোলের একটি প্রথমার্ধে হজম করে বাকি দুইটি দ্বিতীয়ার্ধে। ৩৭তম মিনিটে ফরোয়ার্ড চো ইউ-রি কোরিয়াকে লিড এনে দেন। আর দ্বিতীয়ার্ধে কিম হাই-রি ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি এবং ৭৫ মিনিটে দলের লিড তিনগুণ করেন।
এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে ইরান ও কোরিয়া। তাদের গ্রুপে রয়েছে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া। ইরানের বিপক্ষে বড় জয়ে গ্রুর্পে শীর্ষে কোরিয়া।

নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বন্দ্ব থামছে না। স্প্যানিশ ফুটবলে আলোচিত এই মামলায় এবার ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা বার্সেলোনাকে বড় শাস্তি দিতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস রিয়াল মাদ্রিদের।
স্পেনের সাংবাদিক রামোন আলভারেজের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেগ্রেইরা মামলায় শাস্তিমূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও শিগগিরই তা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে মনে করছে রিয়াল। তাদের ধারণা, তদন্ত এগোলে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
রিয়াল সভাপতি শুরু থেকেই এ ইস্যুতে সরব। তিনি প্রকাশ্যে বার্সেলোনাকে কটাক্ষ করেছেন এবং ক্লাবের আইনজীবীরাও বার্সা সভাপতির সাক্ষ্যগ্রহণের সময় প্রশ্ন তোলেন। এমনকি যে সময়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্ক, সেই সময়কার অডিট প্রতিবেদন ও আর্থিক নথি দেখতে চেয়েছিল রিয়াল, যদিও তদন্তকারী বিচারক সেই আবেদন খারিজ করেন।
নেগ্রেইরা মামলায় সাবেক রেফারি কমিটির কর্মকর্তা হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরাকে দেওয়া অর্থপ্রদানের বিষয়টি ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে বার্সেলোনা। রিয়াল মহলের ধারণা, আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়াও এই স্বীকারোক্তিই উয়েফার শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
ইউয়েফার বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার—এক বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত—শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
তবে বার্সেলোনা সাম্প্রতিক সময়ে উয়েফার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে বলেও জানা গেছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফোরামের (ইসিএফ) সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্প থেকে সরে আসার পেছনে এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। উল্লেখ্য, সুপার লিগ ইস্যুতে রিয়ালও শেষ পর্যন্ত পিছু হটে।
এই মুহূর্তে ইউয়েফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নেই। তবু রিয়াল মাদ্রিদের বিশ্বাস, শিগগিরই শাস্তিমূলক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে এবং নেগ্রেইরা কাণ্ডে বড় সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে পারে বার্সেলোনা।