
একদিন সকালে জোসেফ কে. নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা ঘুম থেকে উঠে দেখলেন দুজন লোক তাঁর বাসায়। কুশলাদি বিনিময়ের আগেই তাঁরা বলে উঠলেন, ‘আপনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।’
শীতের ভোর। রুম হিটার আর কম্বলে উষ্ণতা খোঁজার বিপরীতে দুঃসংবাদের অভিঘাতে কেঁপে উঠল জোসেফের আত্মা। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভাবতে থাকলেন অতীত–বর্তমান। আদৌ কোনো অপরাধ করেছিলেন কি না। তবে আগন্তুকেরা এও জানান, গ্রেপ্তার হলেও এই মুহূর্তে থানায় নেওয়া হচ্ছে না তাঁকে। বরং নির্দিষ্ট সময় শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে জোসেফের।
জোসেফের রীতিমতো মূর্ছা যাওয়ার দশা। তবু রোজকার কাজ চালিয়ে যান তিনি—ঘুম থেকে ওঠা, অফিসে যাওয়া–ফেরা, বন্ধুদের ডাকে বারবিকিউ পার্টিতে অংশ নেওয়া। যদিও সেখানকার বাতাসে ভেসে থাকা কাঁকড়া কেকের ঘ্রাণ তাঁকে আর মোহিত করে না। মনের ভেতর চলতে থাকে উত্থাল–পাতাল ঝড়। বিকেলের রঙ আর ভালো লাগে না তার। যে বৃষ্টি স্মৃতিতে ভাসাত, সেটাই আজ দুঃখের নীল।
মিশর ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর অবস্থাও অস্ট্রিয়ান লেখক ফ্রান্ৎস কাফকার দ্য ট্রায়াল-এর জোসেফের মতোই। ঘুরছেন–ফিরছেন, অনুশীলন করছেন, খেলছেনও। তবুও তাঁর মনের ভেতর ঝড়। ‘গোল ড্রায়’, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটুক্তি, বন্ধুদের আড্ডায় এখন তিনি অমনযোগী শ্রোতা।
প্রিমিয়ার লিগের ২০২৪–২৫ মৌসুমে অ্যানফিল্ডের জার্সিতে ২৯ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্টের দেখা পেয়েছিলেন সালাহ। অথচ ২০২৫–২৬ মৌসুমে ভুগছেন ‘গোল ড্রাই’-এ। গত মৌসুমে প্রথম ১০ ম্যাচে করেছিলেন ৭ গোল, নতুন মৌসুমে মাত্র ৪টি। অ্যাসিস্ট দুটি। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের কাছে প্রত্যাশা অবশ্য আরও বেশি!
নতুন মৌসুমে এফসি বোর্নমাউথের জালে বল জড়িয়ে যাত্রা শুরু হয় সালাহর। শেষ ম্যাচেও (গতকাল) গোল পেয়েছেন তিনি। তার আগে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষেও গোল করেন মিসর ফরোয়ার্ড। লেখায় বিষয়টি সহজ মনে হলেও বাস্তবতা—নতুন মৌসুমে লিগে ছয় ম্যাচে গোল পাননি সালাহ।
গতকাল অ্যানফিল্ডে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে লিভারপুলকে লিড এনে দেন সালাহ। গোলটি যেন একপ্রকার উপহার—অতিথি গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অসাবধানতার সুযোগ কাজে লাগান ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। ডি-বক্সে বল পেয়ে এক টাচে গোল আদায় করেন তিনি। তাতেই লিভারপুলের জার্সিতে ২৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন সালাহ।
তবু ম্যাচজুড়ে সেই ব্যাংকার জোসেফের মতো কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে সালাহকে। তাঁর আক্রমণে ওঠা ও ক্লিয়ার পাস ধরে গোল দেওয়ার চেষ্টায় ফুটে উঠেছে কৃত্রিমতা। গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন একবার, শট নিয়েছেন তিনবার, সফল হয়েছেন একবার। ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ফুটমবের’ রেটিংয়ে ৮ পেলেও ম্যাচজুড়ে একধরনের হীনমন্যতায় ভুগতে দেখা গেছে সালাহকে।
মোহাম্মদ সালাহ প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই ম্যাচে গোল পেয়েছেন, এটা সত্য। তবে আর্জেন্টাইন গোলকিপার মার্তিনেজ যেন তাঁকে কাফকার মেটামরফোসিসের গ্রেগর সামসা হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছেন—এটাও বাস্তব। তাঁকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল প্রবলভাবে; তিনি যেন সামসার মতো কীটপতঙ্গে রূপ নিচ্ছিলেন। সে মাত্রা যদি প্রিয়জনের চেয়ে প্রয়োজন বেশি হয়ে উঠত, নিশ্চিতভাবেই তাঁকে নিয়ে ভাবতে শুরু করত ‘অল রেডস’ কর্তৃপক্ষ।
এই কঠিন যাত্রায় সালাহ পেয়েছেন কোচের সমর্থন। লিগে দলের টানা চার হারকে দুর্ভাগ্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন আর্নে স্লট। গতকাল জয়ের পর তিনি বলেন,
‘প্রতি ম্যাচে ব্যবধান খুবই ছোট। আজ (গতকাল) শুরুতেই ভিলার বল গোলবারে লেগেছিল—শেষ কয়েক সপ্তাহে এগুলো গোল হয়ে যেত। এবার হয়নি। আমরা কোনো সেটপিসে গোল খাইনি, সেটি সাহায্য করেছে। কিছুটা ভাগ্যও আমাদের সঙ্গে ছিল, যা সম্প্রতি ছিল না। আমাদের দ্বিতীয় গোলটিও এসেছে ডিফ্লেকশন থেকে।’
এখানে কিছুটা সত্য আড়াল করতে চেয়েছেন লিভারপুল কোচ। অ্যানফিল্ড, যেখানে সালাহদের তীর্থভূমি—সেখানেও চোখে চোখ রেখে লড়েছে ভিলার কোনসা ও ম্যাটি ক্যাশ। প্রায় ৪৭ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল অতিথিরা। গোলমুখে শট কিংবা সুযোগ তৈরিতে পিছিয়ে থাকলেও অ্যাস্টন ভিলা পাসের নির্ভুলতায় ছিল এগিয়ে—প্রায় ৮৪ শতাংশ পাস ছিল অ্যাকুরেট।
তারপরও দলের প্রতি আস্থা রেখেছেন স্লট। আস্থা রেখেছেন সালাহর প্রতিও। অ্যানফিল্ডে নামার আগে তিনি বলেছিলেন,
‘আমি খুব খুশি আমার দল নিয়ে। এখানে সব কোয়ালিটির খেলোয়াড় আছে।’
তাঁর মতে,
‘গ্রীষ্মে দলে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ফলে সবাইকে নতুন করে একে-অপরকে বুঝে নিতে হচ্ছে। হয়তো এর সঙ্গেই সালাহর পারফরম্যান্সের সম্পর্ক আছে।’
এর আগেও স্লট বলেছিলেন,
‘সালাহও মানুষ। আমরা অভ্যস্ত নই তাকে এত সুযোগ নষ্ট করতে দেখতে।’
লিভারপুল নিয়ে স্লটের মন্তব্য কিংবা সালাহর প্রতি তাঁর সমর্থন ফিকে হয়ে যাবে যদি না অ্যানফিল্ডের প্রতি আস্থা হারান সমর্থকেরা—অথবা আস্থাহীন হয়ে পড়েন সালাহ নিজেই। তবেই ধীরে ধীরে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠবে প্রিয়জন আর প্রয়োজনের সম্পর্ক। প্রিয় সামসার মতো তিনিও হয়তো একসময় বিরক্তির কারণ হয়ে উঠবেন। আপেলের আঘাতে শেষ হবে তাঁর অধ্যায়।
তবে এটা-ও সত্য—সালাহ হয়তো নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন, হয়তো ফেরার চেষ্টাও করছেন। তিনি জানেন কীভাবে ফিরে আসতে হয়। গিরিখাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও বহুবার তিনি ফিরেছেন। তাঁকে যে ফিরতেই হবে—সেটা মিসর ফরোয়ার্ডের চেয়ে ভালো জানে আর কে!
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২৮ পিএম

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডিক্লান রাইস। আর্সেনাল মিডফিল্ডারের মতে, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে একটি ‘স্পষ্ট’ পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল তাদের। তার দাবি, রেফারিকে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে উসকে দিয়েছিল স্বাগতিকর দলের সমর্থকরা।
এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বুধবার রাতের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্রয়ের পর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হতে দেখা রাইসকে। ডি-বক্সে এভারেচি ইজে ফাউলের শিকার হওয়ার পর শুরুতে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা বাতিল করেন ডাচ রেফারি ড্যানি মাকেলি। তাকে ১৩ বার রিপ্লে দেখতে দেখা যায়।
এই বিতর্কিত ঘটনাটি নিয়ে রাইস বলেন,
‘এটি একটি স্পষ্ট পেনাল্টি। আর আমি জানি না কেন এটি দেওয়া হলো না। আমার মনে হয় সমর্থকরা সিদ্ধান্তটি প্রভাবিত করেছে এবং রেফারির মন পরিবর্তন করেছে।’
মেত্রোপলিতানোতে দুটি ভিএআর সিদ্ধান্ত আর্সেনালের বিপক্ষে যায়। স্ট্যান স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইস বলেন,
‘প্রথম দেখায় আমার মনে হয়েছিল, এটি যদি প্রিমিয়ার লিগ হতো, তবে তা দেওয়া হতো না কারণ বলটি মাটির খুব কাছাকাছি ছিল এবং বলটি লক্ষ্যের দিকেও যাচ্ছিল না।’
রাইস যোগ করেন,
‘চ্যাম্পিয়নস লিগে রেফারিরা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন এবং বাঁশি বাজান। আমার মনে হয় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তারা বেশি শাস্তি দেয়। তবে কিছু যায় আসে না। আমরা আগামী সপ্তাহে মনোযোগ দিচ্ছি এবং তাদের হারাতে চাই।’

শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাচের বয়স বাড়ার আগেই দোরিয়েলতন গোমেজের আত্মবিশ্বাসী শটে গোল। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ২-১ গোলের এ জয়ে শীর্ষস্থান আরও সুসংহত হলো সাবেক চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের। দিনের আরেক ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও আরামবাগ পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। ২-২ গোলের ব্যবধানে শেষ হয়েছে ম্যাচটি।
বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে তিনটায় কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ এ ম্যাচের আগে বসুন্ধরা কিংসের পয়েন্ট ছিল ১৪ ম্যাচে ৩১। আজ পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে গেল দোরিয়েলতনরা।
এদিন ম্যাচঘড়ির ২৭তম মিনিটে ভাঙে ডেডলক। এর জন্য বিশ্বনাথ ঘোষই অনেকটা দায়ী। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বল বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন কিংস ডিফেন্ডার। বলটি তারই এক সতীর্থের গায়ে লেগে ফেরত আসে। এরপর নানাভাবে চেষ্টা করেন নিজের গড়া ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে। পারেননি। উল্টো সাইফুল হোসেন হালকা টোকায় পাস দেন মুজাফফরভকে। সেখান থেকে মৌসুমের ষষ্ঠ গোল আদায় করেন উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার।
প্রথমার্ধে নিজেদের আরও গুছিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায় বসুন্ধরা কিংস। সমতা কিংবা লিড আদায় করাটা দুরূহ হয়ে যাচ্ছিল তাদের জন্য। তবে যোগ করা সময়ে মোহামেডানের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন রাকিব। প্রায় তিনজনকে ড্রিবলিং করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর দেন দৃষ্টিনন্দন ক্রস। আর ফাহিম নিজের বাঁ-পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান। তাতেই হাসিমুখে বিরতিতে যায় কিংস।
বিরতির পর লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ মিস করে মোহামেডান। আরিফের দ্রুতগতির ক্রসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারেননি সৌরভ দেওয়ান। তাতে পোস্ট অরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং ৬৮তম মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস।
৬৮তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠেন ফাহিম। ঢুকে পড়েন বক্সে। চাইলে নিজেই নিতে পারতেন গোলের উদ্দেশ্যে শট। তা না করে ক্রস দেন বারের সামনে। রেসে থাকা দোরিয়েলতন ছুঁয়ালেন পা। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে ঢুকে লিগে আরও একবার ম্যাজিক দেখালেন ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকার। শেষ পর্যন্ত ২-১ স্কোরলাইন অক্ষুণ্ণ থাকে।
ম্যাচে আধিপত্য ধরে রেখে খেলে বসুন্ধরা কিংস। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল দখলে ছিল তাদের। ৪৩ শতাংশ ছিল মোহামেডানের।

তরুণ তারকা ফুটবলারদের দলে ভেড়াতে টাকার পাহাড় নিয়ে সবসময়ই প্রস্তুত সৌদি আরবের ক্লাবগুলো। দলবদলের বাজারে ঝড় তুলে ইউরোপীয় ফুটবলের আধিপত্যে ভাগ বসানোই যেন তাদের প্রধান লক্ষ্য। মোটা অংকের বেতন আর রাজকীয় সুযোগ-সুবিধার প্রলোভনে একের পর এক বিশ্বখ্যাত তারকাকে মরুভূমিতে উড়িয়ে নিচ্ছে আল-নাসর বা আল-হিলালের মতো ক্লাবগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের রাডারে আবারও ধরা পড়েছেন বার্সেলোনার প্রাণভোমরা রাফিনিয়া।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবারও সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ক্লাবের নজরে পড়েছেন রাফিনিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পরপরই নাকি রাফিনিয়াকে দলে ভেড়াতে একটি বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
গত বছরও সৌদি আরবের একটি দল রাফিনিয়াকে দলে টানার চেষ্টা করেছিল। বার্সেলোনাকে প্রায় ৯ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল এবং খেলোয়াড়কেও বিপুল পরিমাণ অর্থে ভাসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত রাফিনিয়া কাতালান জায়ান্ট ক্লাবটিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গত বছরের মে’তে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বার্সার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছিলেন রাফিনিয়া। আল-নাসর কোচ জর্জ জেসুসও তখন তাঁকে বার্সেলোনা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ক্লাব ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের প্রতি তাদের আগ্রহ নতুন করে প্রকাশ করেছে। তারা রাফিনিয়ার জন্য বিডিং বা নিলামে নামতেও প্রস্তুত। অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব দেয়নি কোনো ক্লাব।
সৌদির বড় ক্লাবগুলো এই বছর তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের লিগটির কিছু ক্লাবের বেশ কয়েকজন তারকার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সামলে তারা লিগের উন্নয়ন এবং স্কোয়াড শক্তিশালী করতে শীর্ষস্থানীয় তারকাদের টেনে আনার ব্যাপারে এখনো অনড়। রাফিনিয়ার জন্য ঠিক কত বড় অংকের প্রস্তাব দেয় সৌদি ক্লাব সেটাই দেখার এখন।
এখন পর্যন্ত রাফিনিয়া নিজেকে বার্সার প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ হিসেবেই প্রমাণ করেছেন। ক্লাবেরও তাঁকে বিক্রি করার কোনো ইচ্ছা নেই। চলতি মৌসুমে একের পর এক চোটের মধ্যে দারুণ ছন্দে আছেন ২৯ বছর বয়সী তারকা। হান্সি ফ্লিকের দলের মধ্যমণি ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে ১৯ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৭টি গোল।

দেশ-বিদেশের ফুটবলের যে কোনো খবর কাভার করতে সর্বদা সচেষ্ট দেশে খেলাধুলার একমাত্র টিভি চ্যানেল টি স্পোর্টস। তারা এবার মাইক, কী বোর্ড ও ক্যামেরা ছেড়ে নিজেরাই নেমে পড়বে ফুটবলের লড়াইয়ে। আসন্ন ‘কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ খেলবে টি স্পোর্টস।
মতিঝিলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আর্টিফিশিয়াল টার্ফে আগামী রোববার শুরু হবে দেশের প্রতিষ্ঠিত ৩২টি সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট। যেখানে ‘ডি’ গ্রুপে পড়েছে টি স্পোর্টস।
নকআউট পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪ ডট কমের মুখোমুখি হবে টি স্পোর্টস। ‘ডি’ গ্রুপের অন্য দুই দল দৈনিক কালের কণ্ঠ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন ও গ্রুপিং ড্র অনুষ্ঠান হয়। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ৩২টি সংবাদমাধ্যমকে ৮টি গ্রুপে ভাগ করা হয় সেখানে।
আরও পড়ুন
| ব্যাটে ‘এআই চিপ’ লুকানোর গুঞ্জনে জবাব দিলেন সূর্যবংশী |
|
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার আদিব বিন শহীদ। এছাড়া বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন ও সহ-সভাপতি এবং টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক রায়হান আল মুঘনিও উপস্থিত ছিলেন।
সবাইকে স্পোর্টসম্যানশিপ স্পিরিট নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলার আহ্বান জানান বিএসজেএ সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন। ‘কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ সম্পর্কে সার্বিক ধারণা দেন টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক রায়হান আল মুঘনি।
স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার আদিব বিন শহীদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের এক বিশাল মিলনমেলা এই টুর্নামেন্ট। বিএসজেএ মিডিয়া কাপ টুর্নামেন্টের সঙ্গে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। মাঝেমধ্যে আমরাও চেষ্টা করি এখানে খেলতে। সবাই অনুরোধ করব, স্পোর্টসম্যান স্পিরিট বজায় রেখে খেলবেন। টুর্নামেন্টের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।’
বিএসজেএ সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু বলেন, ‘প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের সঙ্গে থাকায় কুল তথা স্কয়ার টয়লেট্রিজকে ধন্যবাদ। সবাইকে আমি একটি কথাই বলতে চাই, এটি স্রেফ বিনোদনমূলক টুর্নামেন্ট। তাই কেউ অত্যধিক সিরিয়াস খেলতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হবেন না। সবাই নিরাপদে খেলুন। সংবাদমাধ্যমের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ থাকবে আপনারা টুর্নামেন্টের কাভারেজ ভালোভাবে দেবেন। সবার প্রতি শুভকামনা।"
পরে ড্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের গ্রুপিং চূড়ান্ত হয়।
কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর গ্রুপিং
গ্রুপ ‘এ’ - এখন টিভি, দৈনিক ইনকিলাব, এটিএন নিউজ, স্টার নিউজ
গ্রুপ ‘বি’ - মাছরাঙা টিভি, দৈনিক কালবেলা, এনটিভি, এসএ টিভি
গ্রুপ ‘সি’ - ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক সমকাল, আর টিভি, দীপ্ত টিভি
গ্রুপ ‘ডি’ - জাগোনিউজ২৪, দৈনিক কালের কণ্ঠ, টি স্পোর্টস, ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি
গ্রুপ ‘ই’ - চ্যানেল আই, দ্য ডেইলি অবজার্ভার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাভিশন
গ্রুপ ‘এফ’ - দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক মানবজমিন, নিউজ২৪, ঢাকা পোস্ট
গ্রুপ ‘জি’ - দৈনিক যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বৈশাখী টিভি, বাংলানিউজ২৪
গ্রুপ ‘এইচ’ - এটিএন বাংলা, দৈনিক নয়াদিগন্ত, চ্যানেল ২৪, ক্রিকফ্রেঞ্জি

বার্সেলোনা থেকে পিএসজি—লিওনেল মেসি ও নেইমারের রসায়ন শুধু মাঠের খেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নিয়েছে এক গভীর সখ্যতায়। আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যখন তারা একে অপরের মুখোমুখি হন, তখন বন্ধুত্ব হার মানে পেশাদারিত্বের কাছে। তবে সেই লড়াই শেষে আবারও ফুটে ওঠে তাদের হৃদয়ের টান। যেমনটি দেখা গিয়েছিল গত কোপা আমেরিকার ফাইনালে; ব্রাজিলের হারের পর মাঠেই নেইমারকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন বিশ্বজয়ী মেসি।
মেসির সঙ্গে অম্ল-মধুর স্মৃতির রেশ নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন নেইমার। চোটের বাধা ডিঙিয়ে আবারও হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামতে মরিয়া সান্তোসের ফরোয়ার্ড। তাঁর স্বপ্নের গন্তব্য এখন একটাই—বিশ্বকাপের ফাইনাল, আর সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে চান সময়ের সেরা ফুটবলার ও তাঁর পরম ‘বন্ধু’ মেসিকে।
আরও পড়ুন
| আতলেতিকোর মাঠ নিয়ে ইউয়েফার কাছে নালিশ আর্সেনালের |
|
ফুটবল বিশ্বের সব নজর এখন লিওনেল মেসি (৩৮) এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর (৪১) ওপর। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মাটিতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপই দুই কিংবদন্তির ‘লাস্ট ডান্স’। একই কথা বলা যেতে পারে নেইমারের ক্ষেত্রেও, যদিও বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। সবকিছু নির্ভর করছে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
নেইমার এখন নিজেকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করছেন বিশ্বকাপের দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে। সম্প্রতি ২০২৬ কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোস এবং আর্জেন্টিনার সান লরেঞ্জোর মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস'-এর সঙ্গে আলাপকালে বিশ্বকাপে খেলার তীব্র ইচ্ছার কথা লুকাননি সাবেক এই বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
নেইমার বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমি বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবি। প্রতিটি ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ই সেখানে থাকতে চায়, আশা করি আমিও থাকতে পারব।’ যখন মেসির সঙ্গে আবারও দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, নেইমার তাঁর মনের ইচ্ছা স্পষ্টভাবেই প্রকাশ করেন। সান্তোস তারকা বলেন, ‘আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের মধ্যে একটি ফাইনাল হওয়া হবে অভাবনীয়। আশা করি বিশ্বকাপে আমরা ফাইনালে পৌঁছাব এবং সেখানে মেসির মুখোমুখি হব।’
নেইমারের মূল চ্যালেঞ্জ এখন আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণার আগে নিজেকে শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় নিয়ে আসা এবং মাঠে নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্সে আনচেলোত্তির মন জয় করা। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নেইমার যদি দলে ডাক না পান তবে সেটি পারফরম্যান্সের অভাবে নয়, বরং কেবল ফিটনেস সমস্যার কারণেই হবে।