
এল ক্লাসিকোর মানেই টানটান উত্তেজনা। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ম্যাচে কথা কাটাকাটি কিংবা হাতাহাতির মতো ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। চলতি মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোর শেষেও পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বার্সার তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল ও রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানি কারভাহালও কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। ক্লাবের দ্বৈরথ একপাশে রেখে স্পেন জাতীয় দলের দুই সতীর্থের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয় কি না—দেখার বিষয় ছিল সেটি।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে আজ সার্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্পেন। এই ম্যাচের আগে ডিএজেডএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল-কারভাহালের দ্বন্দ্ব নিয়ে মুখ খুলেন ‘লা রোজাদের’ কোচ লুইজ ডে লা ফুয়েন্তে। বিষয়টিকে স্পেনের কোচ শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখছেন। স্পেনের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া ম্যাচের আবেগঘন চাপ থেকেই এই টানাপোড়েন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক—এমনটাই মনে করেন তিনি। তার বিশ্বাস, দুজনই যথেষ্ট পেশাদার; ক্লাবের প্রতি আনুগত্যকে জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে আলাদা রাখতে তারা সক্ষম।
ডে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ক্লাসিকোতে আপনি নির্দিষ্ট একটি রঙের হয়ে লড়েন, সেখানে বিশাল দায়িত্ব থাকে। আর জাতীয় দলে আপনি ভিন্ন এক পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করেন—এখানেও সেই দায়িত্ব বুঝে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়, এবং তারা সেটাই করছে।’
জাতীয় দলে যখন ইয়ামাল-কারভাহালের দেখা হবে, নিশ্চিতভাবেই তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরবেন বিশ্বাস স্পেন কোচের, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই, তারা যখন একে অপরের সঙ্গে দেখা করবে, তখন আনন্দের সঙ্গে একে অপরকে জড়িয়ে ধরবে—নিশ্চিতভাবেই। আর সেই মুহূর্তে আমি তাদের সঙ্গে উদযাপন করব।’
ওই এল ক্লাসিকোতে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় লস ব্লাঙ্কোসরা। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরপরই বড় ধরনের হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার কেন্দ্রে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কারভাহাল তরুণ এই খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হয়ে নাকি বলেন, ‘তুমি খুব বেশি কথা বলো’—ম্যাচের আগে সামাজিক মাধ্যমে ইয়ামালের মন্তব্যের জেরে, যেখানে ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মাদ্রিদ ‘ম্যাচ চুরি’ করে। পরে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং মাদ্রিদ দলের প্রতিক্রিয়াকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে সমালোচনা করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ইয়ামাল-কারভাহালের সমঝোতার প্রয়োজন শুধু সম্পর্কের দিক থেকেই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতীয় দলে ইয়ামাল ও কারভাহাল একই ডান প্রান্তে খেলেন। স্পেনের ইউরো ২০২৪ জয়ের অভিযানে তাদের বোঝাপড়া ছিল দলের অন্যতম শক্তি। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে বার্সেলোনার এই উইঙ্গারের বাড়ানো বল থেকেই মাদ্রিদের অধিনায়ক নিজের একমাত্র আন্তর্জাতিক গোলটি করেছিলেন।
স্পেন জাতীয় দলের ঐক্যই এখন সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয়, কারণ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল প্রস্তুতি নিচ্ছে আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য। প্রীতি ম্যাচে সার্বিয়ার পর মিশরের মুখোমুখি হবে একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।কারভাহাল ও ইয়ামাল যদি প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে আবার সফলভাবে সতীর্থে রূপান্তরিত হতে পারে, তাহলে তা দলে গড়ে তোলা ঐক্যের সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ় করবে—যা গড়ে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কোচ।
No posts available.
২৭ মার্চ ২০২৬, ৭:০৪ পিএম
২৭ মার্চ ২০২৬, ৪:৫১ পিএম
২৭ মার্চ ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম

ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ৪৫ মিনিটে মাঠ ছাড়েন রাফিনিয়া। বার্সেলোনার তারকা এই উইঙ্গার পেশীর চোটে পড়েছেন। আর এই চোটে বার্সার সঙ্গে উৎকণ্ঠায় ব্রাজিলও।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, বার্সায় পৌঁছানো রাফিনহার চোটের প্রাথমিক তথ্য খুবই উদ্বেগজনক। ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গার তাঁর ডান পায়ের বাইসেপস ফেমোরিসে চোট পেয়েছেন—একই পায়েই এই মৌসুমে চোট পেয়েছিলেন তিনি। এই চোটে দুই মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি।
রাফিনিয়ার চোটের এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। যদি পরীক্ষায় পেশীর চিড় দেখা যায়, তবে রাফিনিয়া প্রায় নিশ্চিতভাবেই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচ মিস করবেন এবং সম্ভবত দেড় মাস পর এল ক্লাসিকোতেও দর্শক হয়ে থাকতে হতে পারে তাকে।
যদি এই চোট শুধু পেশীর ক্লান্তি বা ছোট চিড় হয়, রাফিনিয়ার পুর্নবাসনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এরপরও অবশ্য ৪ এপ্রিলের লা লিগায় আতলেতিকোর বিপক্ষে ম্যাচে তাকে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বার্সার। বার্সা ও ব্রাজিলের চিন্তা বাড়ছে একই হামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করেছেন রাফিনিয়া। বাইসেপস ফেমোরিস, হামস্ট্রিংয়ের তিনটি পেশীর একটি, এই চোটের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জটিল এবং পুনরায় আঘাতের উচ্চ ঝুঁকি আছে।
এরপরও অবশ্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে একটি ইতিবাচক খবর আছে। ব্যথা অনুভব করার পরই রাফিনিয়াকে মাঠ থেকে তুলে নেয় ব্রাজিল। তাঁর পরিবর্তে দ্বিতীয়ার্ধে লুইজ হেনরিকে নামানো হয়েছে। আশার বিষয় এই তুলনামূলক ছোট হতে পারে এবং মাঠের বাইরে থাকার সময় হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সীমিত থাকবে।
চলতি মৌসুম অনেকটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে রাফিনিয়া। চোট থেকে ফেরার পর ক্লাবের জার্সিতে দারুণ ছন্দে ফিরতে শুরু করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে বার্সার ৭-২ জয়ে দুর্দান্ত জয়ে দারুণ অবদান রেখেছিলেন। দুই গোল করার সঙ্গে সতীর্থদের গোলেও ছিল তাঁর অবদান।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৩১ ম্যাচে রাফিনিয়ার গোল ১৯টি, অ্যাসিস্ট সাতটি।

ফিফার সর্বশেষ র্যাঙ্কিং হালনাগাদে এক ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক বিরতির ম্যাচ না খেলেই অবস্থান হারিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
র্যাঙ্কিংয়ে অবনমন হয়েছে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলেরও। আন্তর্জাতিক বিরতিতে ভিয়েতনামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পর দুই ধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। ১৮০ থেকে এখন তাদের অবস্থান ১৮২তম।
ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের পর এক ধাপ নিচে নেমেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তালিকায় পাঁচ থেকে ছয় নম্বরে কার্লো আনচেলত্তির দল। গতকাল ফরাসিদের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে তারা।
ম্যাচ না খেলেও আর্জেন্টিনার অবনমনের কারণ ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়। তাদের মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৮৭৩.৯৬, যা আর্জেন্টিনার ১৮৭৩.৩৩ পয়েন্টকে ছাড়িয়ে গেছে। দুই নম্বরে এখন ফ্রান্স। মোরাতানিয়ার বিপক্ষে কাল জিতলে আবারও হয়তো ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে যাবে আলবিসেলেস্তেরা।
শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে স্পেন। ব্রাজিলের পতনের সুযোগ নিয়ে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও চতুর্থ নম্বরে রয়েছে ইংল্যান্ড। এ ছাড়া সাত থেকে ১০ নম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মরক্কো, বেলজিয়াম ও জার্মানি।
দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে চিলি। প্রীতি ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে তারা তিন ধাপ এগিয়ে ৫২ নম্বরে উঠে এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিরতির সব ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ফিফার চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং নির্ধারিত হবে।

আনহেল দি মারিয়ার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। ২০২৪ কোপা জিতে আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। তবে ক্লাব ফুটবলে এখনো আগের মতোই জাদু দেখিয়ে চলেছেন এই উইঙ্গার। এতেই আলোচনা ২০২৬ বিশ্বকাপে কি আবারও দেখা যেতে পারে দি মারিয়াকে?
এই আলোচনা নাকচ করে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর মতে, দি মারিয়ার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অধ্যায় ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
দেশে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামার আগে মরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে—সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, দি মারিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনো ভালো, তবে জাতীয় দলে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই।
স্কালোনি বলেন, ‘তার (দি মারিয়া) সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। সে আমাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত। আমার মনে হয়, এই অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি সেভাবেই দেখি।’
২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন দি মারিয়া। সেই টুর্নামেন্টে তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা যে চারটি শিরোপা জিতেছে, তার পেছনে দি মারিয়ার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
জাতীয় দলের জার্সিতে ১৪৫ ম্যাচ খেলা এই তারকা ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদকসহ মোট পাঁচটি শিরোপা জিতেছেন। অবসরের আগে চিলির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়, যেখানে পরিবার, সতীর্থ ও হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে আবেগঘন বিদায় নেন তিনি।
সম্প্রতি ক্লাব ফুটবলে রোসারিও সেন্ট্রালে দারুণ পারফরম্যান্সের পর অনেক সমর্থকই আশা করেছিলেন, হয়তো জাতীয় দলে ফেরার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন দি মারিয়া। তবে স্কালোনির মন্তব্যে সেই সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
তবে কোচ জানিয়েছেন, ক্লাব ফুটবলে দি মারিয়ার বর্তমান পারফরম্যান্সে তিনি খুশি এবং আশা করেন, তিনি একইভাবে খেলা চালিয়ে যাবেন।

দলটি সবশেষ প্রতিযোগিতামূলক কোনো ম্যাচ খেলেছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও নেই তাদের উপস্থিতি। দীর্ঘ ৭ বছরের বিরবির পর অবশেষে মাঠে ফিরেছে তারা। বলা হচ্ছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার কথা। বুধবার রাতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বে তারা মুখোমুখি হয় এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড)-এর। আর এই ম্যাচটিই হয়ে থাকল ঐতিহাসিক।
নামিবিয়ার বিপক্ষে ইরিত্রিয়ার ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের ওই ম্যাচটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের। দুই লেগ মিলিয়ে নামিবিয়ার কাছে হেরে যায় তারা। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইসহ বিভিন্ন প্রীতি ম্যাচ থেকেও সরে দাঁড়ায় দেশটি। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়মিত এই সরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় কারণ হলো—দেশটির খেলোয়াড়রা বিদেশে খেলতে গেলে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) চেয়ে বসতে পারেন, এমন আশঙ্কা।
জাতিসংঘের হিসেবে, ২০০৭ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন খেলোয়াড় ও কোচ দেশত্যাগ করেছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকির শাসনে রয়েছে দেশটি।
তবে ২০২৫ সালের মে’তে নীরবে ফেরার সূচনা করে ইরিত্রিয়া। সে সময় ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভের স্মরণে নাইজারের বিপক্ষে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল তারা।
নাইজারের পূর্ণ শক্তির আন্তর্জাতিক দল না খেলায় ম্যাচটি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে ধরা হয়নি। তবে ইরিত্রিয়া দারুণভাবে ফিরে আসে—এসওয়াতিনিকে ২-০ গোলে হারিয়ে। ম্যাচের শেষ দিকে গোল করেন ১৮ বছর বয়সী অভিষিক্ত খেলোয়াড় সিয়েম আইয়োব-আব্রাহা (শেফিল্ড ইউনাইটেড) এবং মিশরে খেলা আলি সুলেইমান। এটি ছিল ২০০৮ সালের পর আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বে ইরিত্রিয়ার প্রথম অংশগ্রহণ। ৩১ মার্চ এসওয়াতিনির মাঠে দ্বিতীয় লেগ খেলবে তারা।
প্রথম লেগটি অনুষ্ঠিত হয় মরক্কোর মেকনেসে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে, কারণ ইরিত্রিয়ার নিজস্ব কোনো উপযুক্ত স্টেডিয়াম নেই।
আরও পাঁচটি দলের সঙ্গে এই প্রাথমিক পর্বের জয়ীরা পরবর্তী ধাপে উঠবে, যেখানে ১২টি চার-দলের গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। র্যাঙ্কিংয়ে ১ থেকে ৪২ নম্বরে থাকা দলগুলো সরাসরি গ্রুপ পর্বে সুযোগ পেয়েছে, আর ৪৩ থেকে ৫৪ নম্বর দলগুলোকে এই প্রাথমিক পর্ব খেলতে হচ্ছে। কেনিয়া, উগান্ডা ও তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আফকনের ৭০তম আসরকে সামনে রেখে এই বাছাই প্রক্রিয়া চলছে।
ইরিত্রিয়া কখনোই বিশ্বকাপ বা আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে খেলেনি। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকায় ফিফার ২১১টি দেশের মধ্যে বর্তমানে একমাত্র র্যাঙ্কবিহীন দল তারা, এবং র্যাঙ্কিংয়ে তাদের জন্য আলাদা একটি বিভাগ রাখা আছে।
আগামী ৬ এপ্রিল ফিফার পরবর্তী র্যাঙ্কিং হালনাগাদ প্রকাশিত হবে। সেখানে ‘রেড সি ক্যামেলস’ নামে পরিচিত ইরিত্রিয়া ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো আবার র্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে পারে—সর্বশেষ তখন তাদের অবস্থান ছিল ২০০।

ফ্রান্সের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ছুঁতে আর মাত্র এক গোল দূরে আছেন কিলিয়ান এমবাপে। গতরাতে ব্রাজিলের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জিলেট স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করেই এমন রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ফ্রান্স ফরোয়ার্ড।
এই গোল নিয়ে ক্যারিয়ারে ৫৬তম গোল পেলেন এমবাপে। এর জন্য তাঁকে খেলতে হয়েছে ৯৪ ম্যাচ। এমবাপের সামনে কেবল অলিভার জিরুদ। দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ গোল করেছেন জিরুদ। এই গোল করতে ১৩৭ ম্যাচ খেলেছেন বর্তমানে লিলের হয়ে খেলা বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড।
এদিন ম্যাচের ৬৬ মিনিটে মার্কাস থুরামের বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হয় ২৭ বছর বয়সী এমবাপেকে। এরপর আরও বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ মিস করে ফ্রান্স। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা মাঠে থাকলে হয়ত রেকর্ডটা এদিনই স্পর্শ করা হয়ে যেতো তাঁর।
এর আগে বেশ কিছুদিন ধরে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করছিলেন এমবাপে। অবশেষে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মাঠের লড়াইয়ে ফেরেন তিনি। এরপর জাতীয় দলের হয়ে ছন্দ ফিরে পেয়েছেন ২০১৭ সালে ফ্রান্সের হয়ে অভিষেক হওয়া এই তারকা।
ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮ গোলদাতা:
অলিভার জিরুদ - ১৩৭ ম্যাচে ৫৭ গোল।
কিলিয়ান এমবাপে - ৯৪ ম্যাচে ৫৬ গোল।
থিয়েরি হেনরি - ১২৩ ম্যাচে ৫১ গোল।
আতোয়ান গ্রিজম্যান - ১৩৭ ম্যাচে ৪৪ গোল।
মিচেল প্লাতিনি - ৭২ ম্যাচে ৪১ গোল।
কারিম বেনজেমা - ৯৭ ম্যাচে ৩৭ গোল।
ডেভিড রেজেগুয়েট - ৭১ ম্যাচে ৩৪ গোল।
জিনেদিন জিদান - ১০৬ ম্যাচে ৩১ গোল।