১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৫ পিএম

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মাতিয়েছেন অনেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারই। তবে এই লিগের ইতিহাসে কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারই কখনো দু’বার মাসসেরা হতে পারেননি। রবার্তো ফিরমিনো, ফার্নান্দিনহো কিংবা কৌতিনহোর মতোর তারকা ফুটবলার যেটা করতে পারেননি সেটাই করে দেখালেন ইগর থিয়াগো। ব্রেন্টফোর্ডের এই ফরোয়ার্ড প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে দু’বার মাসসেরার পুরষ্কার জিতলেন।
আজই বেন্টফোর্ডের সঙ্গে সাড়ে পাঁচ বছরের চুক্তি নবায়ন করেন ইগর থিয়াগো। এই সুখবর দ্বিগুণ করে জানুয়ারি মাসের সেরা নির্বাচিত হন ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে মাসের সেরা ফুটবলারের পুরষ্কার জিতেছিলেন তিনি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে একবার মাসসেরা হয়েছেন ডেভিড লুইজ, জুনিনহো পাউলিস্টা, রদ্রিগো মুনিজ, এডু ও লুকাস মাউরা। তাতে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে একাধিকবার এই স্বীকৃতি পাওয়া ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হওয়ার মর্যাদা পেলেন থিয়াগো।
গত মাসে পাঁচটি গোল করেন থিয়াগো। এভার্টনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে করেন জোড়া গোল। প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে আর্লিং হলান্ডের সঙ্গে জোর লড়াইয়ে আছেন থিয়াগো। ম্যান সিটির নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডের ২২ গোলের বিপরীতে থিয়াগোর গোল সংখ্যা ১৭।
ব্রেন্টফোর্ডের হয়েও ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন থিয়াগো। এর আগে লিগে ক্লাবটির কোনো ফুটবলারই মাসসেরা হতে পারেনি। অসাধারণ এই অর্জনের পর উচ্ছ্বসিত ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড বলেন,
‘আমি ক্লাবের লোকদের জিজ্ঞেস করেছি, আগে কতজন ব্রেন্টফোর্ড খেলোয়াড় এই পুরস্কার জিতেছেন। তারা বলেছে, আমার আগে কেউই এই ট্রফি পাননি। তাই আমি সত্যিই খুব খুশি যে এখন পর্যন্ত দুইবার এটি জিততে পেরেছি এবং আশা করি আরও জিতব।’
থিয়াগো আরও যোগ করেন,
‘আমি সব স্টাফ এবং সহকর্মী খেলোয়াড়দেরও ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন এবং মাঠে সাহায্য করেছেন।’
এর আগে আরও একটি রেকর্ড গড়েছিলেন ইগর থিয়াগো। ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি।
জানুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগে মাসের সেরা গোল নির্বাচিত হয় ফুলহামের মিডফিল্ডার মিডফিল্ডার হ্যারিসন রিডের গোল। লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে জাল কাঁপিয়ে ২–২ গোলে ড্র নিশ্চিত করেন তিনি।
মাসের সেরা কোচের পুরষ্কার জিতেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন কোচ মাইকেল ক্যারিক। সুদিন ফেরানোর স্বপ্ন দেখানো এই কোচের অধীনে গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ২–০ গোলে ডার্বি জিতেছে ‘রেড ডেভিলরা’। একই মাসে আর্সেনালের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের জয় পায় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি।
No posts available.
১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬ এম
১০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪১ এম

প্যাট্রিক ক্লুইভার্টর এক মন্তব্যেই নতুন করে তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব। আধুনিক ফুটবলের সেরা নম্বর নাইন হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজকে বেছে নিয়ে বার্সেলোনায় তাঁর সম্ভাব্য যোগ দেওয়া নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন এই ডাচ কিংবদন্তি। তাঁর ভাষায়, ‘ওরা খুব কাছাকাছি, একেবারেই কাছাকাছি।’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্লুইভার্টকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আধুনিক ফুটবলে নিজের জায়গায় কাকে দেখতে চান। উত্তরে সরাসরি আলভারেজের নাম নেন তিনি। তারপর বার্সেলোনায় তাঁকে নিতে চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নে ক্লুইভার্টের জবাব, ‘সম্ভব, অবশ্যই সম্ভব। আমার মনে হয়, বিষয়টি অনেকটাই এগিয়ে গেছে।’
শুধু প্রশংসাতেই থেমে থাকেননি ক্লুইভার্ট। বার্সেলোনায় গেলে আলভারেজের সামনে কী অপেক্ষা করছে, সেটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন। বললেন, ‘বার্সেলোনায় গেলে তার সামনে একদম পরিষ্কার পথ থাকবে। চারপাশে অনেক বড় খেলোয়াড় থাকবে, যারা তাকে আরও বড় কিছু অর্জনে সহায়তা করবে। কারণ বার্সেলোনা মানেই বার্সেলোনা।’
তবে এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আলেতিকো মাদ্রিদ নিজেদের তারকা ফরোয়ার্ডকে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। ক্লাবটির সভাপতি এনরিক সেরেসো এরই মধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলভারেজকে ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের আগে বার্সেলোনার রাস্তায় হঠাৎ এক সংবাদ সম্মেলনে সেরেসো বলেন, ‘আমি যতক্ষণ না তাকে যেতে বলছি, ততক্ষণ আলভারেজ কোথাও যাচ্ছে না।’ এমনকি আগামী মৌসুমেও তিনি ক্লাবে থাকবেন কি না—এই প্রশ্নে কড়া সুর, ‘সে আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। আমি বলার আগে সে কোথাও যাচ্ছে না।’
দুই ক্লাবের কথার লড়াইয়ে উত্তাপ বাড়ছেই। এর মাঝেই ক্লুইভার্টের মন্তব্য নতুন করে জল্পনায় ঘি ঢেলেছে।

ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে টিকিটের নতুন ও আরও ব্যয়বহুল ক্যাটাগরি যুক্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম আগের তুলনায় আরও বেড়ে গেছে, যা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচে সামনের সারির সর্বোচ্চ মানের আসনের মূল্য ধরা হয়েছে ৪১০৫ ডলার পর্যন্ত। এর আগে একই ক্যাটাগরির টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২৭৩৫ ডলার। নতুন করে ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ নামে আলাদা বিভাগ যুক্ত করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তা-ই নয়, দ্বিতীয় সারিতেও নতুন একটি সামনের সারির বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৪০ থেকে ২৩৩০ ডলার পর্যন্ত। এসব নতুন ক্যাটাগরি সম্পর্কে আগাম কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়েই বিক্রয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিফা এর আগে জানিয়েছিল, প্রথম শ্রেণির টিকিটগুলো সাধারণত নিচের স্তরের আসনে থাকে এবং সেগুলোই সর্বোচ্চ মূল্যের। দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটগুলো থাকে প্রথম শ্রেণির বাইরের অংশে, যা নিচের ও ওপরের উভয় স্তরেই পাওয়া যায়। তবে এবার কিছু আসন আগের শ্রেণির বাইরে রেখে নতুন করে উচ্চমূল্যের বিভাগ তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের জন্যও প্রথম শ্রেণির সামনের সারির টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৩৬০ ডলার পর্যন্ত। শেষ ষোলো পর্বের কিছু ম্যাচের টিকিটের দামও বাড়িয়ে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের দামও সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৯৯০ ডলার, যা আগে ছিল ৮৬৮০ ডলার। দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সমর্থকদের সমালোচনার মুখে আগেই তুলনামূলক কম মূল্যের একটি ‘সাপোর্টার্স টায়ার’ টিকিট চালু করেছিল ফিফা। তবে নতুন করে উচ্চমূল্যের টিকিট যুক্ত হওয়ায় আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ফুটবল লিগে (এমএলএস) আরও এক বিশ্বতারকাকে ভেড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। ইএসপিএনের প্রতিবেদন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব সিনসিনাটি ইতিমধ্যে এই ফরোয়ার্ডকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে প্রাথমিক যোগাযোগ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে আগ্রহী কি না এবং সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে ক্লাবটির পক্ষ থেকে নেইমারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এমন হাই প্রোফাইল একজন খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে কী ধরনের আর্থিক কাঠামো প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে নেইমার তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে দুই হাজার ছাব্বিশ সালের শেষ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ। গত ডিসেম্বরে তিনি এক বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেন। ফলে এখনই তার ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা কম হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের পর নেওয়া হতে পারে। তিনি ব্রাজিলের হয়ে খেলুন বা না খেলুন, এই টুর্নামেন্টের আগে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবরের পর থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দলে আর ডাক পাননি নেইমার।
চোটের কারণে বর্তমানে মাঠের বাইরে রয়েছেন নেইমার। হাঁটুর সমস্যায় ভুগে গত দুই সপ্তাহ ধরে সান্তোসের হয়ে খেলতে পারেননি তিনি। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচে তিনটি গোল ও তিনটি সহায়তা করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
সান্তোসের কোচ কুকা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেইমার হাঁটুর একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছেন, যাতে বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ফিরতে পারেন। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, পুরোপুরি ফিট থাকলে বিশ্বকাপের দলে নেইমারকে বিবেচনায় রাখা হবে।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিল প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২–১ গোলে হারে, তবে পরের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩–১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়।

আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা। ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফার কাছে বৃহস্পতিবার অভিযোগ জমা দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। বার্সেলোনার দাবি, রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ ও ফলাফল বদলে দিয়েছে।
বিতর্কিত সেই ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে। আতলেতিকো গোলকিপার হুয়ান মুসো বক্সের ভেতর ছোট করে একটি গোলকিক নেন। ডিফেন্ডার মার্ক পুবিল সম্ভবত মনে করেছিলেন খেলা শুরু হয়নি, তাই তিনি হাত দিয়ে বলটি থামিয়ে আবার মুসোকে দেন। বার্সার খেলোয়াড়রা পেনাল্টির জোরালো দাবি জানালেও রেফারি ইস্তভান কোভাকস তা নাকচ করে দেন এবং ভিএআর রেফারি ক্রিস্তিয়ান ডিঙ্গার্টও এতে হস্তক্ষেপ করেননি।
বার্সেলোনা বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্লাব মনে করে রেফারিং বর্তমান আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না, যা সরাসরি ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে। ভিএআরের এই নিষ্ক্রিয়তা একটি বড় ভুল এবং এর প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।
ইউয়েফার কাছে দেওয়া অভিযোগে বার্সেলোনা তিনটি দাবি জানিয়েছে, এই ঘটনার একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা। রেফারি ও ভিএআর কক্ষের মধ্যকার কথোপকথনের (অডিও) অ্যাক্সেস দেওয়া। ভুলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ম্যাচশেষে রেফারির সিদ্ধান্ত ও ভিএআর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক, ‘আমি জানি না গোলকিপার খেলা শুরু করার পর ডিফেন্ডার হাত দিয়ে বল থামিয়ে আবার খেলা শুরু করলে সেটা কেন পেনাল্টি হবে না। এটা পরিষ্কার লাল কার্ড (দ্বিতীয় হলুদ কার্ড) এবং পেনাল্টি ছিল। ভিএআর আজ শুধু আতলেতিকোর জন্যই কাজ করছিল।!’
ম্যাচে তখন ১-০ তে পিছিয়ে ছিল বার্সা। এর আগে পাউ কুবার্সির হলুদ কার্ড ভিএআর রিভিউয়ের পর লাল কার্ড হওয়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল স্বাগতিকেরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও আলেকজান্ডার সরলোথের গোলে ২০০৬ সালের পর ক্যাম্প ন্যুতে প্রথম জয় পায় আতলেতিকো।
আগামী মঙ্গলবার রাতে ফিরতি লেগের ম্যাচে আতলেতিকোর মাঠে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেমি-ফাইনালের টিকিট পেতে সেই ম্যাচে তিন গোলের ব্যবধানে জিততে হবে বার্সেলোনার।

২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সভাপতি নির্বাচিত হন তাবিথ আউয়াল। এখন পর্যন্ত কেটেছে প্রায় দেড় বছর। এই সময়ে জাতীয় ফুটবল দল নিয়ে মানুষের উন্মাদনা বেড়েছে। রুটলেভেলে ফুটবল ছড়িয়ে দিতে তাবিথ আউয়ালের বর্তমান কমিটির কাজ প্রশংসিত হয়েছে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলা জেলা ফুটবল লিগও সাড়া ফেলেছে। এই কমিটির একান্ত প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে খেলতে যাবে বাংলাদেশ। দেশে-বিদেশে ফুটবলার খুঁজতে প্রথমবারের মতো স্কাউটিং টিম গঠন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, সবকিছু নিয়ে বাফুফে সভাপতি একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন টি-স্পোর্টসকে।
টি-স্পোর্টস : আপনার আমলে সবকিছুতে বিরাট একটা পরিবর্তন এসেছে। এর আগেও আপনি ফেডারেশনে ছিলেন, কিন্তু সভাপতি হিসেবে না। সভাপতি হওয়ার পর এই পরিবর্তন কিভাবে দেখছেন?
তাবিথ আউয়াল: না, ব্যক্তিগতভাবে আমার কোন পরিবর্তন নেই। আমার মনে হয় কমিটি পরিবর্তন হয়েছে, একটা নতুন কমিটি এসেছে। একসঙ্গে আমরা ইতিমধ্যে দেড় বছর ধরে কাজ করছি। প্রশাসন এমনকি প্লেয়ারদের লাইনআপে পরিবর্তন এসেছে। আর এই পরিবর্তনটা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। যখন কোনো পরিবর্তন করতে যাবেন তখনই দেখবেন ভালো কিছু না কিছু বের হয়ে আসে।
টি-স্পোর্টস : জুনে ইউরোপের দেশ সান মারিনোর সঙ্গে বাংলাদেশের একটা ঐতিহাসিক ম্যাচ আছে। এটার ব্যবস্থা হলো কি করে? এর সঙ্গে যোগ করি, আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর শুধুমাত্র একটি উইন্ডোতে বাংলাদেশ কোন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেনি। এরপর বাকি সবগুলো উইন্ডোতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে।
তাবিথ আউয়াল : সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়েই আমরা এগোচ্ছি। অর্থ, অবকাঠামো, ট্রেনিং সুবিধা, সবকিছু মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মোট কথা, পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। কারণ রিসোর্সের ঘাটতি বা প্রাপ্যতা, এসব আমরা আগেই জানি। তাই এগুলোকে অজুহাত হিসেবে দেখাতে চাই না।
আমরা এখন যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, বিশেষ করে ইউরোপিয়ান কালচারের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টি আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। তবে ভালো খবর হলো, আমাদের পুরো ম্যানেজমেন্ট এখন বুঝতে পারছে, এই স্তরে খেলতে হলে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়। আমাদের লক্ষ্য শুধু ইউরোপিয়ান দলের সঙ্গে খেলা নয়; আমাদের ম্যানেজমেন্টকেও ইউরোপিয়ান ধাঁচে পরিচালিত করতে হবে। ফেডারেশনকেও আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে হবে।
টি-স্পোর্টস : হামজা চৌধুরী, সমিত সোমরা দিনশেষে সবাই বাংলাদেশী। তারপরও সামাজিক মাধ্যমে মাঝে মাঝে দেখি, বাইরে দেশের লিগে যারা খেলছেন তাদেরকে দিয়েই জাতীয় দলের একাদশই সাজিয়ে ফেলা হয়। এক্ষেত্রে লোকাল লিগে খেলা ফুটবলারদের উন্নতি এবং পাইপলাইনের কাজটা কি আসলে ওই ধারার সঙ্গে হচ্ছে?
তাবিথ আউয়াল : সত্যি বলতে আমাদের লিগের মান আরও উন্নত করা জরুরি। কারণ, খেলোয়াড়দের গুণগত মানের সঙ্গে লিগের মান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটা সহজ তথ্য দিই, অরিজিন প্লেয়ার হোক, বিদেশি লিগে খেলা কেউ হোক, কিংবা দেশীয় লিগের খেলোয়াড় হোক, সবার ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স এসেছে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে। ওই ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স অন্যরকম ছিল। এর মানে আমাদের প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু সেই প্রতিভা নিজেদের মেলে ধরার যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছে না। আর এর প্রধান কারণ- দুর্বল অবকাঠামো ও অনুন্নত সুবিধা।
টি-স্পোর্টস : ফুটবল লিগের মান কিভাবে বাড়ানো যেতে পারে?
তাবিথ আউয়াল : আমরা ইতিমধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। আমাদের অন্তত ছয়টি স্টেডিয়াম প্রয়োজন। পুরো স্টেডিয়াম দরকার নেই; অন্তত মাঠের অংশটা যদি দেওয়া হয়, তাহলে সেটিকে ফিফা মান অনুযায়ী প্রস্তুত করতে পারব এবং সেই মান ধরে রাখতে পারব। লিগে আরও ভালো বিদেশি খেলোয়াড় আনতে হবে। যারা আসছেন তাদের অনেকেই প্রত্যাশিত মানের নয়। আবার স্থানীয় খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই এক বছরের বেশি চুক্তি পান না। ফলে খেলোয়াড় ও ক্লাব, দুই পক্ষের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি হয় না। এই জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। পরিকল্পনা আছে, ক্লাবগুলোকে ইনসেনটিভ দেওয়া, যেন তারা খেলোয়াড়দের পেছনে বিনিয়োগ করে। তবে এটি একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া। বাস্তবতা হলো একটি ক্লাবকে বিনিয়োগে রাজি করানো প্রায় অসম্ভবের মতো। কারণ তারা সরাসরি তেমন আয় করে না। যখন আমরা তাদের সামনে সম্ভাব্য আয়ের পথ দেখাতে পারব, তখন হয়তো তারা আগ্রহী হবে।
টি-স্পোর্টস : ঘরোয়া ফুটবলকে কি তবে বানিজ্যিক আনা যেন সময়ের দাবি
তাবিথ আউয়াল : আসলে ফুটবল এখন শুধু ক্রীড়া নয়, একটি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রও। অনেক ক্লাব এটিকে ফিলানথ্রপি বা মার্কেটিং প্রকল্প হিসেবেও দেখে। বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস এবং আবাহনী লিমিটেড এএফসি প্রতিযোগিতায় খেলতে গিয়ে বুঝতে পারছে শক্তিশালী পাইপলাইন ও পেশাদার স্টাফ কতটা জরুরি। যদি এই ক্লাবগুলো এএফসি ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিয়মিত পরের ধাপে খেলতে পারে, তখন অন্য ক্লাবগুলোও অনুপ্রাণিত হবে। ইতিমধ্যে আমরা আরও দুটি ক্লাবকে লাইসেন্সিংয়ের আওতায় এনেছি। সামনে বাংলাদেশ থেকে চারটি ক্লাব এএফসি পর্যায়ে অংশ নিতে পারবে। এটি লিগে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। এছাড়া আমরা যদি স্থানীয় খেলোয়াড় ট্রান্সফারকে সঠিকভাবে কার্যকর ও লাভজনক করতে পারি, তাহলে ক্লাবগুলোও আগ্রহী হবে। একাধিক খেলোয়াড় বিদেশি লিগে লোনে যাওয়ার প্রস্তাব পাচ্ছে, এগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ক্লাবগুলোর আস্থা বাড়বে।
টি-স্পোর্টস : ২০২৪ সালের সাফ জেতার পর মেয়েদের বোনাস যতটুকু জানি দেওয়া হয়নি। এটা কি মাঝে মাঝে আপনাকে বিব্রত করে?
তাবিথ আউয়াল : বিব্রত মাঝে মাঝে না, সবসময় করে। সামনে পহেলা বৈশাখ আসছে। যেভাবে বৈশাখে হালখাতায় পুরোনো হিসাব মিটিয়ে নতুন শুরু করা হয়, ঠিক সেভাবেই এবার ফেডারেশন খেলোয়াড়দের বকেয়া বোনাস পরিশোধ করবে। পরিকল্পনা হলো, পহেলা বৈশাখের দিনই প্রত্যেক খেলোয়াড়ের অ্যাকাউন্টে বোনাসের টাকা পৌঁছে যাবে এবং একটি এসএমএসের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ হালখাতার এই ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখেই আমরা বিষয়টির সমাপ্তি টানতে চাই।
টি-স্পোর্টস : দেশের বাইরে খেলা কোনো ফুটবলারকে আনতে আপনাদের অনেক কাটখোর পোড়াতে হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় ওই ফুটবলারকে হয়ত কোচ খেলাচ্ছেন না। দিনশেষে এ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন আপনাকে। এটা কেমন লাগে?
তাবিথ আউয়াল : শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু সত্যি কথা হলো- কেউ যদি বলে কোচ কেন কোনো খেলোয়াড়কে খেলাচ্ছেন না, সে নিয়ে সমালোচনা করে বা গালিগালাজও করে, আমি সেটাকেও একরকম স্বাগত জানাই। কেন? কারণ অন্তত সেই মুহূর্তে কেউ ফুটবল নিয়ে ভাবছে। সে চাইলে অন্য কিছু নিয়ে পোস্ট (ফেসবুকে) করতে পারত, জীবনের অন্য হতাশা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারত। কিন্তু সে ফুটবল নিয়েই কথা বলছে, এটাই ইতিবাচক দিক। তবে বলব গালি দিতে হলে আমাকে দিন, কোচকে দিন, কিন্তু খেলোয়াড়দের নয়। অতীতে আমাদের কিছু খেলোয়াড়, বিশেষ করে নারী ফুটবলাররা বুলিং ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি বা কোচ, আমরা সমালোচনা সামলাতে পারি। আমি যদি দোষী হই, আমি সরে দাঁড়াব। কিন্তু কমিউনিটিকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের, তাই খেলোয়াড়দের বাইরে গিয়ে আক্রমণ করা ঠিক নয়।
টি-স্পোর্টস : আমরা কেন অরিজিন ফুটবলারদের এখানে এনে যাচাই করব? আমাদের টেকনিক্যাল টিম কেন সরাসরি গিয়ে তাদের খেলা দেখে আসতে পারবে না? সেটাই তো আরও সহজ, কার্যকর এবং পেশাদার পদ্ধতি।
তাবিথ আউয়াল : একদম ঠিক বলেছেন। আমরা ইতিমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক স্কাউটিং টিম গঠন করে ফেলেছি। শুরুতে স্থানীয় স্কাউটদের দিয়েই কাজটা এগোবে। তবে আমাদের বড় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী যেখানে আছে, সেসব জায়গায় আলাদা করে নজর দিচ্ছি। যেমন যুক্তরাজ্যে আমরা দুজন স্কাউট নিয়োগ দিতে যাচ্ছি, যারা সেখানে থেকেই ফুটবলের সঙ্গে জড়িত। ইতালিতেও একজন স্কাউট চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুজন স্কাউটের সঙ্গে কথা হয়েছে, যারা আমাদের হয়ে কাজ করবেন। এটার মূল কারণ হলো একবার দেখে কোনো খেলোয়াড়কে বিচার করা ঠিক না। একটা দিনে সে ভালো খেলতে পারে, আবার খারাপও খেলতে পারে। তাই আমরা চাই, একজন স্কাউট যেন একটি খেলোয়াড়কে দুই-তিনবার নয়, বরং নিয়মিত ফলো করে। আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার- কোনো খেলোয়াড় যেন চোখ এড়িয়ে না যায়। পৃথিবীর যেখানেই বাংলাদেশের রক্ত আছে, আমাদের স্কাউটরা যেন সেখানে পৌঁছাতে পারে।
টি-স্পোর্টস : সেপ্টেম্বরে সাফের কথাবার্তা চলছে। বাংলাদেশ কি এখনো সাফের আয়োজক হওয়ার রেসে আছে?
তাবিথ আউয়াল : বাংলাদেশ সাফের আয়োজন করতে চায়। অপেক্ষা করছি সাফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কখন আমাদের বিডার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই আমন্ত্রণ পেলেই আয়োজক হতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করব। এবং আশা করি আয়োজক হওয়ার সুযোগও পাব। তখনই পুরো প্রস্তুতির কাজ জোরেশোরে শুরু করা যাবে। আমরা সাফ আয়োজন করতে চাই, সম্ভব হলে শুধু ঢাকায় নয়, আরও একটি শহরকে যুক্ত করে মাল্টি-সিটি ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও আছে।
টি-স্পোর্টস : আপনি যেহেতু রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত, এমনকি হয় কোনো রাজনৈতিক সভা বা অনুষ্ঠানে গেলে মানুষ আপনাকে থামিয়ে ফুটবল নিয়ে কথা বলতে চায়?
তাবিথ আউয়াল : হ্যাঁ চায়। এটি কোনো নেতিবাচক কিছু নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে গেলে সেখানে অনেক সময় জানতে চাওয়া হয়, মাঠের উন্নয়ন কীভাবে হবে, সুবিধা বাড়ানো যাবে কীভাবে, বাজেট কেমন হবে। কখনো কখনো ক্লাব বা দলের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গও আসে। কোন ক্লাব কোন পক্ষের সঙ্গে যুক্ত, এসব নিয়েও আলোচনা হয়। তবে এসব যদি স্বাস্থ্যকর বিতর্কের মধ্যে থাকে, সেটি ইতিবাচক।
আমি একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি। কিন্তু সেই জায়গা থেকে কীভাবে ভারসাম্য রাখব, যাতে আমার কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকে, আবার কোনো দ্বন্দ্বও তৈরি না হয়, এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় আমি খোলাখুলি কথা বলি, কাজও করি; আবার কখনো রাজনৈতিক অবস্থানটা সামনে আনি, কখনো আনি না। এই ‘শ্যাডো কনভারসেশন’ বা আড়াল-আলোচনাগুলোই আমাকে কষ্ট দেয়।
টি-স্পোর্টস : রাজনীতিতে আপনার কোনো লক্ষ্য আছে কি?
তাবিথ আউয়াল : আমার ভবিষ্যৎ একটা লক্ষ্য যদি হয়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং সামগ্রিকভাবে কাজ করা। আমি মনে করি, এই দুই দিক একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। কোনোটাই পরস্পরবিরোধী নয়। ইউরোপ বা এশিয়ার অনেক দেশেই দেখা যায়, একই ব্যক্তি ব্যবসায়ী, সিটি মেয়র বা মন্ত্রী, আবার ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গেও যুক্ত। তারা নিজেদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফুটবলকে এগিয়ে নেয়। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখবেন অনেক সাবেক ফুটবলারও পরে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন। রাজনীতি জীবন থেকে আলাদা কিছু নয়, এটা জীবনেরই অংশ। আপনি যদি বৃহত্তর কল্যাণের জন্য কিছু করতে চান, রাজনীতির মাধ্যমেই সেটা করা সম্ভব। তবে এখানে মানসিকতার ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা আপনাকে শেখায়— কখনো হারবেন, কখনো জিতবেন। তবে দলীয় চেতনা আর স্পোর্টসম্যানশিপ ধরে রাখতে হবে। মনে করি, একজন ভালো রাজনীতিবিদের মধ্যেও এই স্পোর্টসম্যানশিপ থাকা জরুরি।
টি-স্পোর্টস : যদি মেয়র হয়েই যান আপনার কাছে চাইব ফুটবলের একটা মাঠ হোক। আপনি ফুটবলিং নেশন হিসেবে গোটা বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া শুরু করেছেন। যে যাত্রায় কেবলমাত্র এক-দেড় বছর হয়েছে। সেই যাত্রাটা যেন এটার মাধ্যমে আরও বেশি সামনের দিকে আগাতে পারে…
তাবিথ আউয়াল : আমরা যদি সত্যিই অলিম্পিক, বিশ্বকাপ বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক আসরের মতো করে একটা শহরকে ‘স্পোর্টিং সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে শুধু মাঠ বা দুই-একটা সুবিধা দিয়ে হবে না। পৃথিবীর যেসব শহর বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করে, অলিম্পিক হোক, বিশ্বকাপ হোক, কিংবা আইসিসির বড় ইভেন্ট, সেখানে মেয়র বা সিটি প্রশাসনের ভূমিকা বিশাল। তারা শুধু স্টেডিয়াম নয়, পুরো শহরকে প্রস্তুত করে।
আমরা তো শুধু খেলাধুলার দিকটা ভাবি। কিন্তু দর্শকদের জন্য কী লাগবে? উন্নত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, সহজ যাতায়াত, নিরাপত্তা, আবাসন, এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চিন্তাটাও হতে হবে সামগ্রিক, হোলিস্টিক। ব্যক্তি বা একটি সেক্টর নয়, বরং পুরো শহর, পুরো সিস্টেমকে কীভাবে ইতিবাচকভাবে যুক্ত করা যায়, সেটাই আসল বিষয়।
টি-স্পোর্টস : আমাদের হয়তো দরকার এমন এক ধরনের নেতৃত্ব, যেখানে স্পোর্টস ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করবে। যাকে বলা যায় ‘স্পোর্টিং পলিটিশিয়ান‘, যিনি খেলাধুলার ভেতরের চাহিদা বোঝেন এবং সেটাকে নীতিনির্ধারণে কাজে লাগাতে পারেন…
তাবিথ আউয়াল : শেষে একটা কথাই বলব, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটা সমাজকে এক করে, অর্থনীতিকে গতিশীল করে, আর একটি দেশের পরিচয় গড়ে তোলে। যদি আমরা সত্যিই সেই জায়গায় পৌঁছাতে চাই, তাহলে এখনই সময়, পরিকল্পনা, সমন্বয় আর দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার।