
৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে প্রতিদিনই ঘটে নানা ঘটনা। রাজনৈতিক পালাবদল, পদ্মা সেতু কিংবা উড়াল সেতু, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি বলুন আর ছাত্র আন্দোলন—এসবের ভিড়ে ‘ক্রীড়া’ নিছক বিনোদন মনে হয়।
ক্রীড়া বিনোদন মনে হলেও কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে ব্যক্তি জীবনে। আবার নাও ফেলেতে পারে। তবে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো এক বিদঘুটে ট্যানেলের শেষ মাথায় জ্বলতে থাকা ক্ষীণ আলোর মতোই ফুটবল রঙহীন জীবনে কখনও কখনও দুদণ্ড সুখ। ক্লান্তি, স্যাঁতসেঁতে সমাজ কিংবা থমকে যাওয়া জীবনে এনে দেয় কিছুটা স্বস্তি।
২০২৫ সাল শেষদিকে। অপেক্ষায় নতুন বছরের ভোর। এই মুহূর্তে যদি স্মৃতির পাতায় হাতড়াই, দেখা যাবে ফুটবলের অম্ল-মধুর দৃশ্য—যেখানে অম্লের চেয়ে মধুর মাত্রাটাই বেশি। হাপিত্যেশ দিয়ে শুরু হওয়া দেশের ফুটবলের শেষটা ছিল সুন্দর।
সাবিনা খাতুন-ঋতুপর্ণা চাকমাদের বিদ্রোহ, হামজা চৌধুরির লাল সবুজে আগমন, বাফুফের স্পন্সরপ্রাপ্তি, ক্লাব ফুটবলে ফিফার খড়গ—ঘটন-অঘটনের পরও সুন্দরে স্থান হয়েছে শেষটায়। মেয়েদের এশিয়ান কাপের টিকিট নিশ্চিত, ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়, সামাজিক মাধ্যমে ক্রিকেট উম্মাদনা, দর্শকদের মাঠে ফেরার ব্যাপারটা আলোকিত করেছে বেশি।
আদোপ্রান্তে আরও আছে অনেক কিছুই … । থাকনা ওসব তোলা। কথার বাজ কিংবা বাঁকবদলে, চায়ের আড্ডায় ইউরোপিয়ান ফুটবলের জায়গায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হামজা-সোমিত সোম। এর চেয়ে বেশি আর কী পাওয়া যায় দেশের ফুটবলে?
সাবিনাদের ‘কোচ হটাও’ বিদ্রোহ: বছরের শুরুতেই ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ ছিল নারী ফুটবলাদের বিদ্রোহ। সাবিনা খাতুন, সানজিদা আক্তার, শামসুন্নাহার, ঋতুপর্ণা চাকমা, মাসুরা পারভীন, মনিকা চাকমার মতো তারকা ফুটবলারসহ মোট ১৮ জন সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বিবৃতি দেন।
তাঁরা জানান, ২০২৪ সালের সাফ ফুটবল আসর থেকেই কোচের সাথে দৃশ্যত একটা দূরত্ব দেখা যাচ্ছিল, পরে 'কোচের আচরণের কারণে' সেই দূরত্ব একটা দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে, তারা এখন এই কোচের অধীনে খেলা চালিয়ে নিতে অপারগতা জানান।
বিদ্রোহের পর শক্ত অবস্থানেই ছিল বাফুফে। পরের মাসে (ফেব্রুয়ারি, ১০) ৩৬ নারী ফুটবলারের সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি করে দেশীয় ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা। চুক্তিতে ১৮ বিদ্রোহী ফুটবলারের ৫ জন- সাবিনা, মাসুরা, সানজিদা, কৃষ্ণা রানী, সুমাইয়া এখনও ফিরতে পারেননি জাতীয় দলে। তবে তাঁরা জায়গা পেয়েছেন সাফ উইমেন’স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ দলে।
দলের অস্থিরতা ঝেড়ে বছরের মাঝামাঝিতে আফঈদা খন্দকারের নেতৃত্বে এশিয়ান কাপ কোয়ালিফাই করে বাংলাদেশ। আর কোচও এসব নীতিবাচক ইস্যু নিয়ে বারবারই বলেছেন—‘নো কমেন্টস’।
লাল-সবুজে হামজা অধ্যায়: ২৫ মার্চ, ২০২৫— তারিখটি বাংলাদেশ ফুটবলের বিশেষ একটি দিন। ইংলিশ লিগ লেস্টার সিটির ডিফেন্ডার হামজা চৌধুরী প্রথমবার লাল সবুজ জার্সিতে দেশের হয়ে খেলতে নামেন এদিন।
ভারতের শিলংয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের সে ম্যাচে কূলে গিয়ে তরী ডোবায় বাংলাদেশ। পয়েন্ট ভাগাভাগিতে থাকতে হয় সন্তুষ্ট।
হামজা চৌধুরীর পর দেশের ফুটবলে যোগ দেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার—সমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদ ও কিউবা মিচেল। ইতোমধ্যে সবারই জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে।
নারী ফুটবলারদের এশিয়ান কাপের টিকিট: চলতি বছরের ২ জুলাই প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল ইতিহাসে এশিয়ান কাপে ওঠা এই প্রথম।
শক্তিশালী মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। সেই জয়েই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশ চূড়ান্ত পর্বে যাওয়া। অপেক্ষা ছিল ৫ জুলাই শেষ ম্যাচের জন্য। শেষ ম্যাচে একই গ্রুপে (‘সি’ গ্রুপ) বাহরাইন-তুর্কমেনিস্তানের ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ–সেরা নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। যাতে নিশ্চিত হয়েছে ২০২৬ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ।
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একবারই এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার কীর্তি আছে। ১৯৮০ সালে কুয়েতে খেলেছিল বাংলাদেশের পুরুষদের জাতীয় দল। এরপর আর কখনো বাংলাদেশের কোনো জাতীয় দল এশিয়ান কাপে খেলতে পারেনি।
বড়দের মতো অনুর্ধ্ব-২০ দলের কীর্তি: আফঈদা খন্দকারদের এশিয়ান কাপের টিকিট কাটার ঠিক এক মাস পর ইতিহাস গড়ে অর্নূধ্ব-২০ নারী দল। বাছাইয়ে চীনের কাছে লেবানন ৮-০ গোলে হেরে যাওয়ায় সেরা তিন রানার্সআপের একটি হয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-১ গোলে হারার পর এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যাওয়ার অপেক্ষা বাড়ে বাংলাদেশের। তখন সমীকরণ দাঁড়ায়, ‘ই’ গ্রুপে থাকা লেবাননকে চীন হারালেই বাংলাদেশ চলে যাবে মূল পর্বে। শেষ পর্যন্ত চীনের সামনে পাত্তাই পায়নি লেবানন। লেবানন বড় ব্যবধানে হারায় নিশ্চিত হয়ে যায় আট রানার্সআপের পাঁচটিই থাকছে বাংলাদেশের নিচে।
ফিফার খড়গ: চুক্তির অর্থ না পাওয়ায় চলতি বছরের আগস্টে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে ফিফায় অভিযোগ করেন ক্লাবটির সাবেক কোচ ভ্যালেরিও তিতা ও ট্রেনার খলিল চাকরৌন।
ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ও বসুন্ধরা কিংসের পর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানও ফিফার নিষেধাজ্ঞায় পড়ে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মোহামেডানের খেলোয়াড় নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
২০২২-২৩ ফুটবল মৌসুমে মোহামেডানে খেলে যাওয়া ইরানি ফুটবলার মিসাম শাহ জাদেহের অভিযোগের ভিত্তিতেই ফিফা এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় মিসাম ফিফায় অভিযোগ করেন। ফিফা তাঁর অভিযোগ আমলে নিয়ে মোহামেডানের খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
ফিফার সবশেষ খড়গে পরে আবাহনী লিমিটেড। আবাহনী গত বছর ৫ আগস্টের আগে তিনজন বিদেশি ফুটবলারকে চুক্তিবদ্ধ করেছিল। সরকার পরিবর্তনের পর হামলা-ভাঙচুরে বিপর্যস্ত ক্লাবটি পরে তাঁদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। সেই বিদেশি ফুটবলারদেরই একজন ফিফায় অভিযোগ করেন, যাঁর পাওনা ৬০ হাজার ডলারের বেশি বলে জানা গেছে।
ফিফা জানিয়ে দিয়েছে, চুক্তি বাতিল দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে হতে পারত। কিন্তু আবাহনী একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করায় ক্লাবটিকে শাস্তি পেতে হচ্ছে।
বাংলাদেশি ক্লাবের আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল অম্ল অভিজ্ঞতা: আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতায় এবার বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয় দুটি ক্লাব- বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেড। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের খেলায় পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে কিরগিস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডের কাছে ২-০ গোলে হেরে প্লে-অফ থেকেই বিদায় নেয় মারুফুল হকের আবাহনী। তবে সিরিয়ার ক্লাব আল কারামাহকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে ওঠে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। যদিও গ্রুপ পর্ব আর পেরুতে পারেনি লাল-সাদা শিবির।
এই পর্বে তারা তিনটি ম্যাচে হেরে প্রতিযোগিতায় থেকে বিদায় নেয়। প্রথম ম্যাচে ওমানের ক্লাব আল সিবের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েছে হেরেছে ৩-২ ব্যবধানে। দ্বিতীয় ম্যাচে লেবাননের আল-আনসারের কাছে হার ৩-০ ব্যবধানে। শেষ ম্যাচে কুয়েত স্পোর্টস ক্লাবের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি। আগের মৌসুমেও গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ হেরেছিলেন তপু বর্মণরা।
মোহামেডানের বৃত্ত ভাঙার উৎসব: ২০২৫ সালটি বিশেষ ছিল মোহামেডানের জন্য। ২৩ বছর পর দেশের শীর্ষ লিগের শিরোপা জিতেছে সাদা কালো জার্সিধারীরা। ঐতিহ্যবাহী দলটি সর্বশেষ শীর্ষ লিগ জিতেছিল ২০০২ সালে। এরপর দেশের অন্যতম বড় ক্লাব হয়েও বারবার হয়েছে হতাশ।
২০০৭ সালে চালু হওয়া পেশাদার লিগে একসময় অবনমন শঙ্কাতেও পড়েছিল মোহামেডান। সেই ক্লাবই এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারের ১৮ ম্যাচের লিগে মাত্র ১৫ ম্যাচে শেষেই নিশ্চিত করেছে শিরোপা, যা এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের গল্প।
এই শিরোপা মোহামেডানকে ভবিষ্যতে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ এনে দিয়েছে। কিন্তু সে সুযোগ কাজে লাগাতে হলে পূরণ করতে হবে ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের নানা শর্ত। নকীব জানান, এএফসি কাপ খেলতে গেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হয়, যা সাদা–কালোরা এখনো পূরণ করতে পারেনি। তবে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট যদি আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নেয়, তাহলে শর্তগুলো পূরণ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা সম্ভব মনে করেন তিনি।
শেষটা সুন্দর (দুই যুগ পর ভারতের বিপক্ষে জয়): প্রায় দুই যুগ পর ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ২২ বছর পর ১৮ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শেখ মোরছালিনের গোলে ভারতকে বাংলাদেশ হারিয়েছে ১–০ গোলে। ভারতের বিপক্ষে এর আগে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয়টি ছিল ২০০৩ সালে।
বাছাইপর্বে প্রথম জয়ের পর পাঁচ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে বাংলাদেশ। আগামী মার্চে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাছাইপর্বে শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
দুই মেরুতে দুই কোচ: বছরজুড়ে নানা সময় আলোচনায় এসেছেন ছেলে ও মেয়ে ফুটবলারদের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ও পিটার বাটলার।
বছরের শুরুতে নারী ফুটবলারদের বিদ্রোহ নিয়ে টালমাটাল ছিল ফুটবল অঙ্গন। তবে নিজের অবস্থানে অনঢ় ছিলেন পিটার বাটলার। কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে আফঈদা খন্দকারের নেতৃত্বে আনকোরা একটি দল নিয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সফলতা দেখান তিনি।
ভিন্ন মেরুতে ছিলেন হাভিয়ের কাবরেরা। বাংলাদেশ ফুটবল দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার ডাগআউটে দাঁড়ানো কোচের একাদশ নির্বাচন ও কৌশল নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে তুমুল আলোচনা হয়েছে বছরজুড়ে।
ম্যাচের কৌশল, খেলোয়াড়দের পজিশনিং এবং গেমটাইম নিয়ে তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে মনে করেন সমালোচকেরা। এমনকী সমর্থকেরা বিভিন্ন সময়ে কাবরেরাকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি তুলেছেন।
No posts available.
২ মার্চ ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

একের পর এক গোলে মৌসুমে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে উড়তে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ড হঠাৎ আছড়ে পড়েছেন মাটিতে। হাঁটুর চোট বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তাঁর। আর এই চোটের তদারকি নাকি ঠিকঠাক করতে পারছে না এমবাপের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। তাতেই চটেছেন স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির তারকা ফরোয়ার্ড। রিয়ালের মেডিকেল টিম তাঁর চোটের কোনো সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিকারের জন্য গেলেন নিজের দেশ ফ্রান্সে।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে গিয়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এমবাপে। ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাঁ হাঁটুর চোট এখনও পীড়া দিচ্ছে তাকে। এই চোটের কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে অফে বেনফিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারেনি তিনি। চোটের কোনো উন্নতি না হওয়ায় ফ্রান্সে বিশেষজ্ঞদের কাছে যাচ্ছেন এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদও তাঁর এই ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, এমবাপে রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টিমের পরিষেবায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাঁর মতে, গত তিন মাসে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটি চোটের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে পারফরম্যান্সেও। পাশপাশি তাকে প্রতিনিয়ত দলের বাইরেও থাকতে হচ্ছে। এমবাপ্পে বিশ্বাস করেন, বাইরে থেকে অন্য বিশেষজ্ঞের মতামত তার চিকিৎসা ও সুস্থতার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে।
এমবাপের চোটের ধরনও নিশ্চিত নয়। এখন প্রধান লক্ষ্য হলো হাঁটুর সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধান করা এবং মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ অংশে দলে ফেরা। গত ৭ ডিসেম্বর সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপে ইর্ন্টানাল ল্যাটারাল লিগামেন্টে সমস্যা অনুভব করেছিলেন, তবে এখন পোস্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট –এর সমস্যা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চোটের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা হলে আরও আগেই লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা সম্ভব হত। সেটা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাদ্রিদ ছেড়ে নিজ দেশেই পরামর্শ নেওয়া যুৎসই মনে করছেন এমবাপে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচে অনিশ্চিত এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদ ও এমবাপ্পের লক্ষ্য স্পষ্ট: চ্যাম্পিয়নস লিগের পরবর্তী রাউন্ডের জন্য শতভাগ প্রস্তুত থাকা। প্রথম লেগ ১১ মার্চ, এবং দ্বিতীয় লেগ হবে ১৮ মার্চ। ক্লাব প্রত্যাশা দলের আক্রমণভাগের মধ্যমণি এরমধ্যেই ফিট হয়ে ফিরবে। তবে ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ডের মাঠে ফেরার সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়। শেষ পর্যন্ত হাঁটুর অস্ত্রপচার করালে ফেরার সময় আরও দীর্ঘায়িতই হবে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ৩৬ ম্যাচে ৩৯ গোলে সঙ্গে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন এমবাপে। এরমধ্যে লা লিগায় ২৩ গোল করে আছেন গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগেও সর্বোচ্চ গোল ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডেরও। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় ৮ ম্যাচেই করেছেন ১৩ গোল।

পিএসজির বিপক্ষে বার্সেলোনার সেই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের গল্প কার না জানা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফরাসি ক্লাবটির বিপক্ষে যেভাবে ঘুরে দাড়িয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছিল কাতালান ক্লাবটি, অবিশ্বাস্য সেই মূহূর্ত শুধু বার্সা নয় ফুটবলের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা। এবার আরও একবার ঘুরে দাড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে বার্সা। অনেকের মতে যেটা অসম্ভব, সেটাই সম্ভব করে দেখাতে চান স্প্যানিশ ক্লাবটির কোচ হান্সি ফ্লিক।
আগামীকাল কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। বাংলাদেশ সময় রাত দু’টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি হবে ক্যাম্প ন্যুতে। কোপা দেল রে’র সেমির প্রথম লেগে দিয়াগো সিমিওনের দলের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া বার্সাকে ফাইনালে যেতে হলে করতে হবে পাঁচ গোল।
অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেই ফাইনালের টিকিট কাটতে হবে বার্সাকে। আর এই অসম্ভবকেই নাকি সম্ভব করতে মাঠে নামবে লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বার্সা কোচ ফ্লিক বলেন, ‘সবারই জানা আছে আমরা চার গোল পিছিয়ে আছি এবং আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করতে চাই। আমরা হাল ছাড়ব না। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে।’
ছন্দের তুঙ্গে থেকেই ঘরের মাঠে আতলেতিকোর মুখোমুখি হবে বার্সা। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে লা লিগায় ভিয়ারিয়ালকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৪-১ গোলে। ক্লাবটির সবচেয়ে বড় তারকা ইয়ামাল করেন ক্যারিয়ারের হ্যাটট্রিক। এছাড়া চোট থেকে ফিরে এসেই চিরচেনা জাদু দেখান পেদ্রি। এই ম্যাচের দারুণ ছন্দ ধরে রেখে আতলেতিকোর বিপক্ষে ঝাপিয়ে পড়বে শিষ্যরা, এমনটাই বিশ্বাস ফ্লিকের, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম গোলের দিকে মনোযোগ দেওয়া। আমাদের বুদ্ধিমানের সঙ্গে খেলতে হবে। আমরা সেটা পাওয়ার জন্য ক্ষুধার্ত থাকব, আর আমি চাই সেই ক্ষুধা দেখতে। শেষ ম্যাচে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দল দেখেছি, অনেক বেশি তীব্রতা ছিল। আমাদের একসঙ্গে দল হিসেবে খেলতে হবে। এটাই মূল চাবিকাঠি।’
আতলেতিকোর বিপক্ষে নিজেদের প্রধান অস্ত্র ইয়ামালকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘মুখ্য বিষয় হলো দল পুরোপুরি সংযুক্ত আছে। লামিনের প্রথম গোলটি ফারমিনের ভালো রিকভারি ও পাসের পর এসেছে। লামিনের সেই মুহূর্তে সঠিক জায়গায় থাকার গুণ আছে। গোলের পর, সে অসাধারণ খেলেছে, আমি সেটা পছন্দ করেছি। আমাদের সবাইকে প্রয়োজন, শুধুমাত্র লামিন নয়।’
অবশ্য চোটের কারণে অভিজ্ঞ ফরোয়ায়র্ড রবার্ট লেভাডফস্কিকে পাচ্ছে না বার্সা। পোলিশ ফরোয়ার্ডের চোট নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘আমাদের এটা গ্রহণ করতে হবে এবং মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের খুব একটা ভাগ্যবান না, সে ঘুরতে ঘুরতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ধাক্কা খেল এবং তারপর গোল করলো… এমন খেলোয়াড় না থাকার সমস্যা সর্বদা থাকে, তবে দল সবসময় এটি ভালোভাবে সামলাতে সক্ষম। এটি অন্যান্য খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগও দেবে।’
কোপা দেল রে’র সবচেয়ে সফল দল বার্সেলোনা। এই প্রতিযোগিতায় মোট ৩২বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সবশেষ আসরের চ্যাম্পিয়নও কাতালান ক্লাবটি।

আল-ফেইহা এর বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর ষোলকলা পূর্ণ করে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগের ওই ম্যাচে আল নাসর ৩-১ গোলে জিতলেও ‘সিআর সেভেনের’ চোটে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে সমর্থকদের। অবশ্য আল নাসরের কোচ জর্জে জেসুসের কথা কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারেন সমর্থকরা। রোনালদোর চোট তেমন গুরুতর নয় বলছেন পর্তুগিজ কোচ।
গতকাল আল-ফেইহার বিপক্ষে ম্যাচে ৮১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারকা ফরোয়ার্ডকে বেঞ্চে ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে আইস প্যাক নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। ৪১ বছর বয়সেও দারুণ ফিট থাকলেও, এই বয়সে যেকোনো চোটই গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাতে শুধু ক্লাবই নয়, আসন্ন বিশ্বকাপে ফিট থাকার চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন রোনালদো।
ম্যাচ শেষে আল নাসর কোচ জর্জে জেসুস বলেন, ‘সে (রোনালদো) পেশির ক্লান্তি (মাসল ফেটিগ) অনুভব করেছে। আমরা ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আমি ঝুঁকি নিতে চাইনি, তাই তাকে বদলি করি। মেডিক্যাল বিভাগ তার অবস্থা মূল্যায়ন করবে, তবে সে যা অনুভব করেছে তা শুধু মাসল ফ্যাটিগ।’
রোনালদোর সামনে এখন কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ রয়েছে। আল নাসর নিশ্চিত করেছে, আগামী ৪ মার্চ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আল ওয়াসল–এর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
লিগ শিরোপার লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, এমন সময়ে দলের সেরা ফুটবলারের চোটে বড় হোঁচটই খেতে হবে আল নাসরকে। এর সঙ্গে আছে বিশ্বকাপের ঘনিয়ে আসার চিন্তা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপই রোনালদোর ‘লাস্ট ডান্স’। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষবার নেমে প্রথমবার পর্তুগালকে বিশ্বকাপ জেতানোর অপেক্ষায়ই যে আছেন রোনালদো।
অবশ্য চোট একপাশে রেখে দারুণ ছন্দেই আছেন রোনালদোর। বর্তমানে লিগে-এর সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন পর্তুগাল অধিনায়ক। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর গোল সংখ্যা ২১। তালিকার শীর্ষে আছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ইভান টনি। ২৩ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন আল আহলির ফরোয়ার্ড।
রোনালদোর পারফরম্যান্সে দারুণ ছন্দে আছে আল নাসরও। লিগে ২৪ ম্যাচে ২০ জয়ে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ক্লাবটি। সমান ম্যাচে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আল আহলি।

কুইন্সল্যান্ডে রবিনার সবুজ মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াই। অথচ ইরানের মেয়েদের মন পড়ে ছিল অন্যখানে। রণক্ষেত্র স্বদেশ। ধোঁয়া আর মৃত্যু সংবাদে ভারি আকাশ বাতাশ। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন খবরে শোকতুর গোটা দেশ। সেই শোক আর আতঙ্ক নিয়েই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলন ইরানের মেয়েরা।
রবিবার এএফসি এশিয়ান কাপের লক্ষ্যে জাহারা সালবালি ও মালেকি মোতেভালিরা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করলেও এসবই জানা তাদের। ম্যাচ কিংবা সংবাদসম্মেলন—সব জায়গাতেই ঘুরে ফিরে ইরানের খবর, যুদ্ধের খবর। সেসব মাথায় রেখেই ফুটবলীয় যুদ্ধে নামে তারা। তবে ইরানের যাত্রা হয়েছে ৩-০ গোলে হার দিয়ে। হারের চেয়েও তাদের দৃঢ় মানসিকতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বুকে পাথরচাপা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াকে অনেকেই স্কোরলাইনের চেয়েও বড় করে দেখছেন।
লড়াইয়ে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ২১। বিপরীতে ৬১ নম্বরে অবস্থানে ইরান। ম্যাচেও তা পরিলক্ষিত হয়েছে। ইরানের মেয়েদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে শুরু থেকেই। প্রায় ৮০ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণে ছিল কোরিয়ার। ৩০টি শটের ১০টিই ছিল গোলমুখে। ৮টি কর্নার আদায় করে কোরিয়া।
কোরিয়ার বিপরীতে ইরানের গোলকিপার যেন গোল বার বাঁচাতেই ব্যতিব্যস্ত ছিল বেশি। বারবার রক্ষণে চিড় ধরেছে। আক্রমণভাগেও ছিল না ধার। গোলমুখে ইরান শট নিতে পেরেছে কেবল দুটি। ২১ শতাংশ বল ছিল তাদের দখলে।
ইরান তিন গোলের একটি প্রথমার্ধে হজম করে বাকি দুইটি দ্বিতীয়ার্ধে। ৩৭তম মিনিটে ফরোয়ার্ড চো ইউ-রি কোরিয়াকে লিড এনে দেন। আর দ্বিতীয়ার্ধে কিম হাই-রি ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি এবং ৭৫ মিনিটে দলের লিড তিনগুণ করেন।
এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে ইরান ও কোরিয়া। তাদের গ্রুপে রয়েছে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া। ইরানের বিপক্ষে বড় জয়ে গ্রুর্পে শীর্ষে কোরিয়া।

নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বন্দ্ব থামছে না। স্প্যানিশ ফুটবলে আলোচিত এই মামলায় এবার ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা বার্সেলোনাকে বড় শাস্তি দিতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস রিয়াল মাদ্রিদের।
স্পেনের সাংবাদিক রামোন আলভারেজের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেগ্রেইরা মামলায় শাস্তিমূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও শিগগিরই তা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে মনে করছে রিয়াল। তাদের ধারণা, তদন্ত এগোলে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
রিয়াল সভাপতি শুরু থেকেই এ ইস্যুতে সরব। তিনি প্রকাশ্যে বার্সেলোনাকে কটাক্ষ করেছেন এবং ক্লাবের আইনজীবীরাও বার্সা সভাপতির সাক্ষ্যগ্রহণের সময় প্রশ্ন তোলেন। এমনকি যে সময়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্ক, সেই সময়কার অডিট প্রতিবেদন ও আর্থিক নথি দেখতে চেয়েছিল রিয়াল, যদিও তদন্তকারী বিচারক সেই আবেদন খারিজ করেন।
নেগ্রেইরা মামলায় সাবেক রেফারি কমিটির কর্মকর্তা হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরাকে দেওয়া অর্থপ্রদানের বিষয়টি ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে বার্সেলোনা। রিয়াল মহলের ধারণা, আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়াও এই স্বীকারোক্তিই উয়েফার শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
ইউয়েফার বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার—এক বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত—শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
তবে বার্সেলোনা সাম্প্রতিক সময়ে উয়েফার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে বলেও জানা গেছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফোরামের (ইসিএফ) সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্প থেকে সরে আসার পেছনে এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। উল্লেখ্য, সুপার লিগ ইস্যুতে রিয়ালও শেষ পর্যন্ত পিছু হটে।
এই মুহূর্তে ইউয়েফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নেই। তবু রিয়াল মাদ্রিদের বিশ্বাস, শিগগিরই শাস্তিমূলক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে এবং নেগ্রেইরা কাণ্ডে বড় সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে পারে বার্সেলোনা।