৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ পিএম

গত শনিবার চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়েন হামজা চৌধুরী। সহ-অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামা হামজা সে দিন ম্যাচের আধ ঘণ্টায় মাথায়ই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন। পরে লেস্টার সিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, এমসিএল নামের চোটে পড়েছেন হামজা। তবে তাঁর চোট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিভ্রান্তিকর ছবি। হামজার চোটের ভুয়া সেই দৃশ্য নিয়ে সতর্ক করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া ওই ছবি শেয়ার করে বাফুফে এক বিবৃতিতে সমর্থকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধে করে, ‘সম্প্রতি অনলাইনে যে ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি ভুয়া এবং তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। সমর্থকদের অনুরোধ করা হচ্ছে, যাচাইবিহীন কোনো তথ্য ছড়াবেন না এবং সঠিক আপডেটের জন্য শুধুমাত্র বাফুফের (বাফুফে) আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ মাধ্যম অনুসরণ করুন।
হাঁটুর চোট থেকে হামজা সেরে উঠছেন এবং এই মিডফিল্ডারের নিরাপদ ও দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বাফুফে। চোটে অন্তত লেস্টার সিটির ফুটবলারকে অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তাঁকে। তবে আশার দিক হচ্ছে অস্ত্রোপচারের দরকার হবে না। চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হিসেবে হামজার চোট-ব্যবস্থাপনার বিষয়টি দেখভালের করবে লেস্টার সিটি। তবে তাঁর সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার দিকে দৃষ্টি থাকবে বাফুফের।
এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এর আগে ২৬ মার্চ ভিয়েতনামে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে লাল-সবুজ বাহিনীরা। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই তৃতীয় রাউন্ড থেকে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন চার দলের গ্রুপে তৃতীয়।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৬ পিএম

পেপ গার্দিওলা কয়েক দিন আগেও অভিমানী সুরে বলেছিলেন, ‘সে আমাকে কিছুই জানায়নি। অথচ তাকে আমি বলেছিলাম, তুমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাকে অন্তত একবার জানাবে।’ এমনকি স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড দাবি করেছিলেন, ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর সেরা সিদ্ধান্ত ছিল বার্নার্দো সিলভার হাতে আর্মব্যান্ড তুলে দেওয়া।
এত কিছুর পর সিলভাকে আর রাখা যাচ্ছে না ম্যানচেস্টার সিটিতে। চলতি মৌসুম শেষেই ইংলিশ ক্লাব ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সিলভা নিজেই জানিয়েছেন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর থাকছেন না।
২০১৭ সালে মোনাকো থেকে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৪৫১ ম্যাচে ৭৬টি গোল এবং ৭৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন সিলভা। গত মাসে কারাবাও কাপ জয় ছিল সিটির হয়ে তার ১৫তম বড় কোনো শিরোপা। এর মধ্যে ২০২২-২৩ মৌসুমের ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জয়ও অন্তর্ভুক্ত। আরও একটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা অপেক্ষা করছে সিটির।
নিজের ইনস্টাগ্রামে সিলভা লিখেছেন, ‘আমরা একসঙ্গে যা কিছু জিতেছি এবং অর্জন করেছি, তা আমার হৃদয়ে সারাজীবন এক অমূল্য স্মৃতি হিসেবে থাকবে। ১০০ পয়েন্টের সেই মৌসুম (সেঞ্চুরিয়ান), ঘরোয়া চারটি শিরোপা, ট্রেবল, টানা চারবার লিগ জয় এবং আরও অনেক কিছু। অভিজ্ঞতাটা মোটেও মন্দ ছিল না।’
সিটির আধুনিক ফুটবলারদের মধ্যে সিলভাই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা সেরা ১০ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মাইক সামারবির সাথে যৌথভাবে অষ্টম স্থানে আছেন। গত মৌসুম শেষে কেভিন ডি ব্রুইনা ক্লাব ছাড়ার পর সিলভাকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিটির হয়ে আট মৌসুমে তিনি মোট ছয়বার প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন।
বর্তমানে সিটি লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং ২৫ এপ্রিল এফএ কাপের সেমিফাইনালে সাউদাম্পটনের মুখোমুখি হবে। ভক্তদের উদ্দেশ্যে সিলভা আরও বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে আমার মূল লক্ষ্য ছিল সবসময় আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে খেলা। যাতে আপনারা (ভক্তরা) গর্ব বোধ করেন এবং মাঠে নিজেদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান। আশা করি প্রতিটি ম্যাচেই আপনারা তা অনুভব করেছেন।’
ম্যানসিটিতে নিজের উত্থান নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সিলভা। তিনি বলেন, ‘আমি ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড় হিসেবে এসেছিলাম, কিন্তু বিদায় নিচ্ছি আপনাদেরই একজন হয়ে—আজীবন এই ক্লাবের সমর্থক হিসেবে। এই তরুণ দলটিকে আপনারা সমর্থন দিয়ে যান, আমি নিশ্চিত ভবিষ্যতে তারা আপনাদের আরও অনেক চমৎকার স্মৃতি উপহার দেবে। চলুন, এই শেষ কয়েক সপ্তাহ আমরা একসাথে উপভোগ করি এবং এই মৌসুমে জেতার মতো যা বাকি আছে তার জন্য লড়াই করি।’

সৌদি প্রো লিগে আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে আল নাসরের ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ৮৯ মিনিটে বদলি হওয়ার পর সাইডবেঞ্চে না বসে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। যা তার নতুন কোনো ইনজুরির শঙ্কা জাগিয়ে তোলে।
রোনালদোকে নিয়ে অবশ্য শঙ্কার কিছুই নেই। বুধবার আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আল নাসর ম্যানেজার হোর্হে জেসুস জানিয়েছেন, ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকে পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন রোনালেদো। অসুস্থ বোধ করা সত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যায় সে।
কোচের মতে, বিরতির সময় রোনালদোর পেটে মোচড় দিচ্ছিল। তবুও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে ফেরেন। অস্বস্তি নিয়েই লড়াই চালিয়ে যান। তবে বদলি হওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি সরাসরি ড্রেসিংরুমে যান এবং সেখানে গিয়ে বমি করেন।
জেসুস বলেন,
‘দুই অর্ধেকের মাঝখানে সে পেটে ব্যাথা অনুভব করছিল। সে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছে এবং চালিয়ে যাওয়ার জন্য জেদ ধরেছিল, কিন্তু ড্রেসিংরুমে ঢোকার পর সে বমি করেছে।’
যদিও ঘটনাটি উদ্বেগজনক ছিল, তবে এই সমস্যার কারণে তাকে খুব বেশি দিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে রোনালদো সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের জয় উদযাপন করে একটি ইতিবাচক বার্তা শেয়ার করেন এবং সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।
৩৯ বছর বয়সী এই তারকা সম্প্রতি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে ফিরেছেন যা তাকে প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে রেখেছিল। এ মাসের শুরুর দিকে আল-নাজমার বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি নিজের প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছিলেন। আল হিলালের চেয়ে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা আল নাসরের লক্ষ্য এখন এই ছন্দ ধরে রাখা। শিরোপা জয়ের পথে রোনালদোর সুস্থতা দলের জন্য মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকবে।

রিয়াল
মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ধ্রুপদী লড়াইয়ে জয় পাওয়ার পর কেইনের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি ফাইনালে প্রতিপক্ষ পিএসজিকে একরকম হুঁশিয়ারিই দিলেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ ফরোয়ার্ড। কেইনের দাবি, বিশ্ব ফুটবলের যেকোনো শক্তিকেই ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তাঁর দল।
নিজেদের
মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে গতকাল ৪-৩ গোলে ও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে রিয়ালকে হারায় বায়ার্ন। বাভারিয়ানদের হয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি আসে কেইনের নৈপুণ্যে। আলভারো আলবেরোয়ার দলকে ছিটকে দেওয়ার পথে হ্যারি কেইন এই মৌসুমে নিজের ৫০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। বায়ার্নের হয়ে প্রথম মৌসুমেই গোলের ‘হাফ-সেঞ্চুরি’ করলেন তিনি।
জার্মান
জায়ান্টরা যেভাবে রিয়ালের মতো দলকে স্তব্ধ করে সেমিফাইনালে উঠেছে, তা দেখে কেইন এখন শিরোপা জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী। ম্যাচ শেষে ‘টিএনটি স্পোর্টস’-কে কেইন বলেন, ‘রিয়ালের মতো দলকে যখন আপনি চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে হারাবেন, তখন আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী হতে বাধ্য। আমরা সারা বছর ধরেই এই পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা বলেছি। এখন সময় হলো নিজেদের আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার।‘
সেমি
ফাইনালে প্রতিপক্ষ পিএসজির উদ্দেশ্যে যথেষ্ট সম্মান রেখেই কেইন বলেন, ‘আমরা জানি পিএসজি ইউরোপের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু আমরা যদি আমাদের সেরা ফুটবলটা খেলতে পারি, তবে বিশ্বের যেকোনো দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখি। সেমিফাইনালে জেতার জন্য আমাদের সেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলাটাই খেলতে হবে।’
কেইনের
জন্য রাতটি ছিল ইতিহাস গড়ারও। ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড আর্লিং হল্যান্ডকে ছুঁয়ে এখন ইউরোপ শাসন করছেন তিনি। ২০২২-২৩ মৌসুমে আর্লিং হল্যান্ডের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের কোনো ক্লাবের হয়ে এক মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন কেইন।
এছাড়া
৯৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ লিগে এক মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। কেইনের আগে ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার টম ওয়ারিং গোলের হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। কেইন তাঁর এই অবিস্মরণীয় উচ্চতায় পৌঁছাতে সময় নিয়েছেন মাত্র ৪২টি ম্যাচ।
টানা
৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গোল করে আরও একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ২০০৭-০৮ মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে স্টিভেন জেরাড টানা ৫ ম্যাচে গোল করে যে রেকর্ড গড়েছিলেন, কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ১৮ বছর পর কেইন সেই রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি করলেন।’
শ্বাসরূদ্ধকর
ম্যাচে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষে রেফারিকে রীতিমতো শূলে চড়ান রিয়ালে খেলোয়াড় ও কোচ। রেফারিং নিয়ে কেইনের প্রতিক্রিয়া ছিল সোজাসাপ্টা, ‘পুরো ম্যাচে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গিয়েছিল, তবে নিয়ম তো নিয়মই। ওটা (কামাভিঙ্গার কার্ড) একদম পরিষ্কার হলুদ কার্ড ছিল। আমার ক্যারিয়ারেও এমন দু-একবার হয়েছে যা আমাকে ভোগান্তি দিয়েছে। রেফারিকে সেখানে সিদ্ধান্ত নিতেই হতো এবং আজ সেই সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে এসেছে।‘
চ্যাম্পিয়নস
লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর বায়ার্ন মিউনিখের নজর এখন ঘরোয়া ফুটবলের দিকে, যেখানে তারা ইতিহাস গড়ার খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে। বায়ার্ন এই সপ্তাহান্তেই স্টুটগার্টের বিপক্ষে জয় পেলেই বুন্দেসলিগা শিরোপা নিজেদের করে নিতে পারে। এছাড়া ডিএফবি-পোকাল (জার্মান কাপ) সেমিফাইনালে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে এক হাই-ভোল্টেজ লড়াই তাদের অপেক্ষায়।
বায়ার্নে
নিজের স্বপ্নিল যাত্রা নিয়ে হ্যারি কেইন বলেন, ‘আমাদের সামনে এই সপ্তাহেই লিগ জেতার সুযোগ আছে। আশা করি আমরা সেটা করতে পারব। এছাড়া কাপের সেমিফাইনাল তো আছেই। সামনে অনেক বড় বড় ম্যাচ এবং আমাদের অনেক কিছু জেতার বাকি।’

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হারের পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলভারো আরবেলোয়া নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন। স্পেনের এই কোচ জানিয়েছেন, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব তাঁর ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা তিনি মেনে নেবেন। তবে কামাভিঙ্গার লাল কার্ড এবং জামাল মুসিয়ালাকে ট্যাকল করার পর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে সময়ক্ষেপণ করায় রিয়ালের বিপর্যয় নেমে আসে।
ইউসিএলের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পর বুধবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে প্রথমার্ধ পর্যন্ত আশা বাঁচিয়ে রাখে রিয়াল। তবে চূড়ান্ত বিপর্যয় নেমে আসে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে। জামাল মুসিয়ালাকে ট্যাকল করে হলুদ কার্ড দেখার পর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে সময়ক্ষেপনের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।
ইউরোপে ট্রফি জেতার স্বপ্ন যখন শেষ রিয়ালের; লা লিগায় সেই ট্রফি জিততে আরও কঠিন এবং অবিশ্বাস্য কিছু ঘটতে হবে। লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়াল যদি বাকি ৭ ম্যাচে অবিশ্বাস্য কিছু করতে না পারে, তবে এই শতাব্দীতে পঞ্চমবারের মতো ট্রফিশূন্য মৌসুম পার করতে হবে তাদের।
সার্বিক অবস্থায় আরবেলোয়ার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। স্পেনের এই কোচ বলেন, ‘ক্লাব আমার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, আমি তা মেনে নেব। আমি মনেপ্রাণে একজন রিয়াল মাদ্রিদ ভক্ত। নিজের চেয়েও এই ক্লাব, খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের আমি অনেক বেশি ভালোবাসি।’
‘যখন আমি এই দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন আমার লক্ষ্য নিজেকে একজন ভালো কোচ হিসেবে প্রমাণ করা ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে থাকা এবং ক্লাবকে সাহায্য করা। কোচ হিসেবে আমার শেষ দিন পর্যন্ত আমি সেটাই করে যাব।’-যোগ করেন তিনি।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পিছিয়ে থাকার পর আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে রিয়াল মাদ্রিদ যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকেছে। প্রথমার্ধে ৫ গোলের থ্রিলারে তিনটি গোল ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের। আরবেলোয়া জানিয়েছেন, দলকে জেতাতে যত প্রচেষ্টা সবই তিনি এবং তার দল করেছে।
আরবেলোয়া বলেন, ‘আমার মনে হয় দলকে জেতানোর জন্য আমি সাধ্যমতো সবকিছুই করেছি। আমি প্রতিদিন আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করি।’
এতসবের পরও যদি আরবেলোয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাতে কিছু তার যা আসে না। বরং তিনি চান, সবসময় রিয়াল ভালো কিছু করুক। আরবেলোয়া বলেন, ‘ক্লাবের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাব, তবে এই মুহূর্তে আমি তা নিয়ে ভাবছি না। এটা সম্পূর্ণ ক্লাবের সিদ্ধান্ত। আমি ক্লাবেরই একজন মানুষ এবং আমার একমাত্র চাওয়া হলো রিয়াল মাদ্রিদ জিতুক—কোচ যেই থাকুক না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না।’
পরবর্তীতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই জানিয়ে আরবেলোয়া আরও বলেন, ‘আমি যখন থেকে এই দায়িত্ব পালন করছি, ভবিষ্যৎ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত হইনি। আমার খেলোয়াড়দের জেতানোর জন্য প্রতিদিন আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি বলেই আমার বিশ্বাস।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাবি আলোনসোর বিদায়ের পর রিয়ালের দায়িত্ব নেন আরবেলোয়া। তার অধীনে ২১ ম্যাচে ১৩ জয়ের বিপরীতে ৭টি ম্যাচ হেরেছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, এরমধ্যে মামলার ঝামেলায় জড়ালেন লিওনেল মেসি। গত বছরের একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ না নেওয়ায় বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির দাবি তুলে ফ্লোরিডার একটি সংস্থা মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেসির খেলার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে না নামায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি কয়েক মিলিয়ন ডলার লোকসানের মুখে পড়েছে।
মায়ামিভিত্তিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান (ভিআইডি) এই মামলার বাদী। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত বছরের অক্টোবরে ভেনিজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকো—এই দুই দলের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে তাদের প্রায় ৭০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির শর্ত ছিল, চোটে না থাকলে মেসিকে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে থাকতে হবে।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মেসি খেলেননি। আয়োজকদের দাবি, এতে চুক্তির চরম লঙ্ঘন হয়েছে। মেসি মাঠের লড়াইয়ে অংশ না নিয়ে একটি প্রাইভেট সুইটে (ভিআইপি বক্স) বসে খেলা উপভোগ করেছেন। আয়োজকদের দাবি, ইন্টার মায়ামি তারকার এই অনুপস্থিতি তাদের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। বিপুল পরিমাণ টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে এবং বড় বড় বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের চুক্তি বাতিল করে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বড় অংকের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় পরের দিন। ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে না খেললেও তার পরের দিনই ইন্টার মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামেন মেসি এবং জোড়া গোল করেন। আয়োজকদের দাবি, পরের দিনই জোড়া গোল করা প্রমাণ করে যে মেসি খেলার জন্য শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ ফিট ছিলেন, তবুও তিনি প্রীতি ম্যাচটিতে অংশ নেননি।
পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মেসি মাঠে নেমেছিলেন এবং ৬-০ গোলের বড় জয়ে দুটি অ্যাসিস্টও করেছিলেন। কিন্তু আয়োজক সংস্থা ‘ভিআইডি’-র দাবি, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, তারা ১০ লাখ ডলারেরও (প্রায় ১২ কোটি টাকা) বেশি লোকসান গুনেছে।
এই আর্থিক ক্ষতির পেছনে একটি বড় কারণ ছিল ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন। টিকিট বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচটি শিকাগো থেকে ফোর্ট লডারডেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শিকাগোর কঠোর অভিবাসন নীতিকে দায়ী করলেও স্থানীয় কর্মকর্তারা দাবি করেন, টিকিটের চাহিদা কম থাকায় ভেন্যু বদলানো হয়েছে। আয়োজক সংস্থাটির আরও অভিযোগ, এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ভবিষ্যতে চীনে ম্যাচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। এই আইনি লড়াই নিয়ে মেসি কিংবা এএফএ-র পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেসিকে ঘিরে এমন আইনি জটিলতা এবারই প্রথম নয়। গত মাসেই মেজোর লিগ সকার (এমএলএস) এবং ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস একটি মামলার সমঝোতা করেছে। সেখানেও অভিযোগ ছিল—মেসি, সুয়ারেজ এবং বুসকেটসদের দেখার আশায় টিকিট কাটলেও শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে নামেননি।
আইনি লড়াইয়ের মধ্যে মাঠের পারফরম্যান্সে মেসি এখনও অপ্রতিরোধ্য। ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৬ ম্যাচে করেছেন ৮৩টি গোল। রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর হাত ধরেই ক্লাবটি লিগস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড এবং এমএলএস কাপের শিরোপা জিতেছে। ফুটবলবিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ‘লাস্ট ডান্স’ দেখার জন্য।