
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে স্থায়ী কোচ খোঁজার আলোচনা আবারও তুঙ্গে। অন্তর্বর্তী কোচ মাইকেল ক্যারিক মৌসুম শেষে দায়িত্ব ছাড়লে ক্লাবটির সম্ভাব্য কোচ হিসেবে উঠে এসেছে জিনেদিন জিদানের নাম। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে দেখার স্বপ্ন দেখছেন ক্লাবটির সাবেক ডিফেন্ডার ওয়েস ব্রাউন।
রুবেন আমোরিমের বিদায়ের পর চলতি মৌসুমে ক্যারিক দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুটা স্থিতি ফিরেছে ইউনাইটেডে। টানা তিন জয়ে দল আবার আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে। তবে বোর্ড এখনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কথা ভাবছে। সে তালিকায় বরাবরের মতোই আলোচনায় আছেন জিদান।
২০২১ সালে দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর থেকে কোচিংয়ে নেই ফরাসি কিংবদন্তি। এই সময়ের মধ্যে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। ধারণা করা হয়, বিশ্বকাপের পর ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন জিদান। তবে সেই সম্ভাবনা আপাতত বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রিমিয়ার লিগে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
বেটিংলাউঞ্জকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার ওয়েস ব্রাউন বলেন, 'ইউনাইটেডে বড় নামের কোচ অনেক এসেছে। জিদানকে এখানে দেখতে আমি খুব চাই। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টা ব্যক্তিত্ব আর কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।' তাঁর মতে, জিদানের মতো একজন কোচ ড্রেসিংরুমে স্বাভাবিকভাবেই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
তবে প্রিমিয়ার লিগে অভিজ্ঞতার অভাব ইউনাইটেড বোর্ডের জন্য বড় ভাবনার জায়গা। ব্রাউন মনে করিয়ে দেন, বিদেশি কোচ হিসেবে এরিক টেন হাগ ও রুবেন আমোরিমের সময়ের অস্থিরতার কথা। তাঁর ভাষায়,
'নতুন কোচ এলে প্রথম দিন থেকেই দায়িত্ব ও কাঠামো পরিষ্কার থাকতে হবে। নয়তো আগের মতো সমস্যায় পড়তে হবে।'
ক্যারিক নিজেও স্থায়ী হওয়ার দাবিদার হয়ে উঠছেন। মাঠের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট সমর্থকদের বড় একটি অংশ। ব্রাউনও স্বীকার করেন, আমোরিমের সময় পেছনের ঘটনা যা-ই হোক, ক্যারিক আপাতত দায়িত্ব সামলাতে পেরেছেন ভালোভাবেই। বললেন,
'সমর্থকদের বেশিরভাগই বলবে, ক্যারিক যথেষ্ট ভালো কাজ করছে—থাকার মতোই কাজ।'
মৌসুম শেষের দিকে ইউনাইটেড কোন পথে হাঁটে, সেটিই এখন দেখার বিষয়—ঘরের মানুষ ক্যারিক, নাকি বিশ্বফুটবলের আইকন জিদান।
No posts available.
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২৭ পিএম
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৬ পিএম
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম

ফুটবলে বর্তমানে সেরাদের একজন লামিনে ইয়ামাল। অনেকের চোখে স্প্যানিশ এই উইঙ্গার লিওনেল মেসির যোগ্য উত্তরসূরি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রতিনিয়তই সেটা প্রমাণও করে যাচ্ছেন ইয়ামাল। পারফরম্যান্সের এই ধারা অব্যহত রাখলে, সর্বকালের অন্যতম সেরা মেসির মতো ভূরিভূরি ব্যাক্তিগত সাফল্যও মিলবে, সেটা ভালো করেই জানেন তিনি। যেকোনো ফুটবলারই স্বপ্ন দেখেন ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ পুরষ্কার ব্যালন ডি’অর ক্যারিয়ারে অন্তত একবার হলেও জিতবেন। তবে আপাতত এদিকে নজরই দিচ্ছেন না ইয়ামাল।
মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যাক্তিগত অর্জনের ভাবনা নিয়ে কথা বলেন ইয়ামাল। গত বছরের ব্যালন ডি’অর র্যাঙ্কিংয়ে উসমান দেম্বেলের পর দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। একই অনুষ্ঠানে জিতেছেন কোপা ট্রফি, যা আগের বছরও তাঁর ঝুলিতে উঠেছিল। বাকি রইল শুধু ব্যালন ডি’অর। কিন্তু ব্যালন ডি’অর জিততেই হবে, এমন কোনো ভাবনাই নাকি নেই ইয়ামালের।
ইয়ামাল বলেন,
‘আমি এটা নিয়ে ভাবি না। এটি এমন একটি পুরস্কার, যেটা নিয়ে বেশি ভাবলেও কোনো নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায় না। আপনি কী জিতেছেন, কীভাবে খেলেছেন এবং কারা ভোট দিচ্ছে—এসবের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করে। এটি শুধু আপনার খেলার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। আমি শুধু খেলাটা উপভোগ করতে চাই এবং বার্সা ও জাতীয় দলের সঙ্গে জিততে চাই।’
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বার্সার হয়ে দুটি লা লিগা শিরোপা, দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং একটি কোপা দেল রে জিতেছেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে কোপা ট্রফি ও গোল্ডেন বয়। জাতীয় দল স্পেনের হয়ে জিতেছেন ইউরো।
এই মৌসুমেও দারুণ ছন্দে আছেন ইয়ামাল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ২৯ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১৩টি। পরিসংখ্যানকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিলেও ইয়ামাল বলেছেন, তার প্রধান লক্ষ্য দলগত সাফল্য,
‘আমার খেলা এসব পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করে না। কখনো ভালো খেলেও গোল করতে পারি না, আবার গোল করলেও সব সময় ভালো খেলতে পারি না—এ নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু আমি চাই ভালো খেলতে, দল জিতুক এবং আমরা এভাবেই এগিয়ে যাই।’
স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ব্যস্ত সময় অপেক্ষা করছে ইয়ামালের জন্য। প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো ফিনালিসিমা—ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার ম্যাচটি হবে আগামী ২৭ মার্চ। কাতারের দোহায় লুসাইল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন।
তারপর সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথমবারের বিশ্বকাপ খেলবেন ইয়ামাল। গ্রুপ ‘এইচ’-এ ১৫ জুন আটলান্টা স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক হবে তাঁর। এরপর ২১ জুন সৌদি আরব এবং ২৬ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে স্পেন। এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ‘ফেবারিট’ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে থাকা স্পেন। যদি ‘লা রোজারা’ বিশ্বকাপ জিততে পারে, পাশাপাশি দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন ইয়ামাল, তবে সবচেয়ে কম বয়সেই হয়তো ব্যালন ডি’অর জেতা হয়ে যাবে ‘ভিন্ন লক্ষ্যের’ কথা বলা বার্সা তারকার।

ইউরোপের তরুণ ফুটবলারদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় এখন শুরু হচ্ছে শিরোপার লড়াইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২৫-২৬ মৌসুমের ইউয়েফা ইয়ুথ লিগের নকআউট পর্বের ড্র হয়েছে। আজ সুইজারল্যান্ডের নিয়নে শহরে উয়েফার ইউরোপিয়ান ফুটবল হাউসে এই ড্র সম্পন্ন হয়। রাউন্ড অব সিক্সটিন, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সম্ভাব্য পথ জেনে গেছে শেষ ১৬ দলের ক্লাবগুলো।
রাউন্ড অব সিক্সটিনে সবচেয়ে আলোচিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসি। ইতালির ইন্টার মিলান খেলবে স্পেনের রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে। ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের প্রতিপক্ষ ফিনল্যান্ডের এইচজেকে হেলসিঙ্কি।
রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচগুলো হবে আগামী ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি।
রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচসূচি
ইন্টার মিলান–রিয়াল বেতিস
আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট–স্পোর্টিং সিপি
বেনফিকা–এজেড আল্কমার
রিয়াল মাদ্রিদ–চেলসি
জিলিনা–ক্লাব ব্রুজ
প্যারিস সাঁ জার্মেইন–এইচজেকে হেলসিঙ্কি
আতলেতিকো মাদ্রিদ–মাকাবি হাইফা
ভিয়ারিয়াল–লেগিয়া ওয়ারশ
ড্র অনুযায়ী কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাব্য লড়াইগুলোও নির্ধারিত হয়েছে। রাউন্ড অব সিক্সটিন জয়ীরা নির্দিষ্ট ব্র্যাকেট অনুসরণ করে এগোবে ফাইনালের দিকে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে কোন দল ঘরের মাঠে খেলবে, সেটি নির্ধারণে আলাদা করে ড্র করা হয়েছে।
সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনাল
ইন্টার/রিয়াল বেতিস বনাম বেনফিকা/এজেড আল্কমার
রিয়াল মাদ্রিদ/চেলসি বনাম ফ্রাঙ্কফুর্ট/স্পোর্টিং সিপি
আতলেতিকো মাদ্রিদ/মাকাবি হাইফা বনাম জিলিনা/ক্লাব ব্রুজ
ভিয়ারিয়াল/লেগিয়া ওয়ারশ বনাম পিএসজি/এইচজেকে হেলসিঙ্কি
কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ১৭ ও ১৮ মার্চ।
সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য আলাদা কোনো ড্র করা হয়নি। রাউন্ড অব সিক্সটিনের ড্র অনুযায়ী নির্ধারিত ব্র্যাকেট অনুসারেই দলগুলো সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠবে। সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১৭ এপ্রিল। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২০ এপ্রিল।
ইউয়েফা জানিয়েছে, নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো এক লেগে হবে। রাউন্ড অব সিক্সটিন ও কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচের সময়সূচি ও কিক-অফ টাইম সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে হবে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবে ইউয়েফা নিজেই।

কোপা দেল রে’র শেষ চারে আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। আজ ড্রয়ে দিয়াগো সিমিওনের ক্লাবটিকে পেল হান্সি ফ্লিকের ক্লাব। সেমিফাইনালের আরেক ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের প্রতিপক্ষ অ্যাথলেটিক বিলবাও।
দুই লেগের সেমি ফাইনালের প্রথম লেগ হবে আগামী ১০ ও ১২ ফেব্রুয়ারি আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে। বার্সার দূর্গ ক্যাম্প ন্যূতে ফিরতি লেগ হবে ৩ ও ৫ ফেব্রুয়ারি। সেমি ফাইনালের বিজয়ী দল সেভিয়ার লা কার্তুজায় ফাইনাল খেলবে।
কোপা দেল রে’র কোয়ার্টার ফাইনালে আলবাসেতকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে বার্সা। স্পেনের দ্বিতীয় সারির এই ক্লাব এর আগে শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে চমকে দেয়। তবে অঘটনের স্বাক্ষী হয়নি কাতলানরা। লামিনে ইয়ামাল ও রোনাল্ড আরাউহোর গোলে সেমির টিকিট কাটে এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দল।
কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল বেতিসকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে সেমি নিশ্চিত করে আতলেতিকো মাদ্রিদ। একটি করে গোল করেন ডেভিড হানকো, জিওলিয়ানো সিমিওনে, আদেমোলা লুকমান, আঁতোয়ান গ্রিজম্যান ও থিয়াগো আলমাদা।
কোপা দেল রে’র সবচেয়ে সফল দল বার্সা। এই প্রতিযোগিতায় ৩২টি শিরোপা জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪টি ট্রফি জিতেছে অ্যাথলেটিক বিলাবাও।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমির প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড কাই রুনিকে ঘিরে সম্প্রতি আলোচনার ঝড় ওঠে। ইংল্যান্ড ও ইউনাইটেড কিংবদন্তি ওয়েন রুনির ১৬ বছর বয়সী পুত্রকে নাকি বিপুল অঙ্কের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ক্লাব—এমন খবর প্রকাশিত হয় একাধিক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে। তবে সেই প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে এবার নিজেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাই রুনি।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সানসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, রুনিকে প্রথমে এক বছরের স্কলারশিপ চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে তিন বছরের পেশাদার চুক্তিতে রূপ নিতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য সেই চুক্তির সাপ্তাহিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড, সঙ্গে থাকবে বার্ষিক সাইনিং ফি। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে কোটি টাকা। যদিও ওই প্রস্তাব তখনও রুনি পরিবার গ্রহণ করেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন কাই রুনি নিজেই। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লেখেন, 'মেইলের কথা শুনো না।' সঙ্গে ছিল কয়েকটি হাসির ইমোজি। কাইয়ের এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যকে সংবাদগুলোর প্রতি সরাসরি অস্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে কাই রুনির যাত্রা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে। বয়সভিত্তিক দলগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে দ্রুতই নজর কাড়েন তিনি। গত মাসে ডার্বি কাউন্টির বিপক্ষে এফএ ইয়ুথ কাপের ম্যাচে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অভিষেক হয় তাঁর, যা তরুণ ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাই রুনির প্রতি ইউনাইটেডের আগ্রহ থাকলে তা নতুন কিছু নয়। কারণ তাঁর বাবা ওয়েন রুনি ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেডের জার্সিতে ৫৫৯ ম্যাচে ২৫৩ গোল করেন তিনি। জাতীয় দল ইংল্যান্ডের হয়েও দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি ছিল তাঁর দখলে—১২০ ম্যাচে ৫৩ গোল। যদিও ২০২৩ সালে সেই রেকর্ড ভাঙেন বর্তমান অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
কাই রুনি বর্তমানে ইউনাইটেডের যে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের অংশ, তাদের মধ্যে আরও কয়েকজন পরিচিত নাম রয়েছেন। এই দলে আছেন জেসি ক্যারিক, যিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ও ক্লাব লিজেন্ড মাইকেল ক্যারিকের ছেলে। পাশাপাশি ড্যারেন ফ্লেচারের যমজ ছেলে জ্যাক ও টাইলার ফ্লেচারও ইতিমধ্যে সিনিয়র সেটআপে জায়গা করে নেওয়ার পথে এগোচ্ছেন।
এ ছাড়া আর্সেনাল থেকে যোগ দেওয়া ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার আয়ডেন হেভেন চলতি মৌসুমে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ১৮টি ম্যাচ খেলেছেন প্রথম দলে। তরুণ উইঙ্গার শিয়া লেসিও এই মৌসুমে সিনিয়র দলে সুযোগ পেয়েছেন।
ইউনাইটেডের একাডেমিতে আরও কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন, যাদের ঘিরে ভবিষ্যতের আশা দেখছে ক্লাব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চিদো ওবি, যিনি আর্সেনাল থেকে আসার পর ইতিমধ্যেই সিনিয়র পর্যায়ে খেলেছেন। পাশাপাশি বেন্ডিতো মানতাতো, গডউইল কুকোনকি ও জেমস ওভেরির মতো নামগুলোও আলোচনায় রয়েছে।
সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিভাদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড জে জে গ্যাব্রিয়েল। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই অনূর্ধ্ব-১৮ দলে অভিষেক ঘটিয়ে তিনি ক্লাবের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। প্রথম দলের সঙ্গেও একাধিকবার অনুশীলন করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমি ঘিরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট। কাই রুনিকে ঘিরে চুক্তির গুঞ্জন আপাতত থামলেও, তাঁর অগ্রগতি যে ক্লাবের নজরে রয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ওই ম্যাচে রীতিমতো দুঃস্বপ্নের রাত পার করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। বেনফিকার বিপক্ষে লিগ পর্বের ম্যাচে হারের ফলে সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে লস ব্লাঙ্কোসদের। সেই হতাশার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও বড় ধাক্কা খেল রিয়াল।
বেনফিকার বিপক্ষে মহানাটকীয় ওই ম্যাচে লাল কার্ড দেখা রদ্রিগোগে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউয়েফা। পাশাপাশি ক্লাবকেও গুনতে হয়েছে জরিমানা।
লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডে সব ম্যাচ একসঙ্গে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লিসবনে নির্ধারিত সময়ে মাঠে নামেনি রিয়াল মাদ্রিদ। যার কারণে স্প্যানিশ ক্লাবটিকে ৪০ হাজার ইউরো জরিমানা করেছে ইউয়েফা।
আরও পড়ুন
| আল হিলাল অভিষেকে হ্যাটট্রিক, দল নিয়ে গর্বিত করিম বেনজেমা |
|
দেরিতে মাঠে নামায় রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে দায়ী করে সতর্ক করেছে ইউয়েফা। একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই কারণে বেনফিকাকেও ৪০ হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। ক্লাবটির কোচ হোসে মরিনিওকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউয়েফা।
ওই ম্যাচে রেফারির সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড রদ্রিগোকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দুই হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড পাওয়ার পর রেফারিকে কটূক্তি করায় তাঁর শাস্তি বাড়ানো হয়।
বেনফিকার কাছে ৪-২ গোলে হেরে লিগ পর্বের সেরা আটে থাকতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে শেষ ষোলোতে উঠতে তাদের খেলতে হবে প্লে-অফ। প্লে-অফেই আবার বেনফিকার মুখোমুখি হতে হবে লস চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে সফল ক্লাবটির। শেষ ষোলো নিশ্চিতের এই লড়াইয়ের প্রথম লেগ হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি, ফিরতি লেগ ২৬ ফেব্রুয়ারি। তবে মহারুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচে রদ্রিগোকে পাবে না রিয়াল মাদ্রিদ।