
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ম্যানুয়েল ন্যয়ার। জার্মান এই কিংবদন্তি গোলকিপার বায়ার্নের সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।
বায়ার্ন মিউনিখের গোলপোস্টের নিচে ন্যয়ার মানেই যেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। ২০১১ সালে শালকে থেকে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাবটির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন তিনি। নতুন এই চুক্তির ফলে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ন্যয়ারের পথচলা ১৬ মৌসুমে পা রাখতে যাচ্ছে। আধুনিক ফুটবলে একই ক্লাবের হয়ে এত দীর্ঘ সময় কাটানোর নজির খুব কমই আছে।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ন্যয়ার তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
‘বায়ার্ন আমার কাছে শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি আমার ঘর। এই ক্লাবের হয়ে আরও কয়েক বছর খেলার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। আমাদের লক্ষ্য এখনো অনেক উঁচুতে এবং আমি আমার সেরাটা দিয়ে দলকে সহায়তা করতে চাই।’
৩৮ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গত কয়েক বছরে ইনজুরির কারণে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করলেও, মাঠে ফিরে প্রতিবারই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
বায়ার্নের হয়ে ন্যয়ার অনেকগুলো শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে টানা বেশ কয়েকটি বুন্দেসলিগা এবং দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ।
No posts available.
১৫ মে ২০২৬, ৬:০৫ পিএম

বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বেলজিয়াম। চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তির খবর পেলেন রোমেলু লুকাকু। নাপোলির এই ফরোয়ার্ডকে রেখেই বিশ্বকাপের নিজেদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বেলজিয়াম।
লুকাকুর পাশাপাশি মাঝমাঠের মহাতারকা কেভিন ডি ব্রুইনা এবং রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া—এই তিনজনের জন্যই এটি হতে যাচ্ছে ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ আসর।
বেলজিয়ামের অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির জেরেমি ডকু, আর্সেনাল ফরোয়ার্ড লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড। ২০১০-এর দশকের সেই বিখ্যাত 'সোনালী প্রজন্ম' (গোল্ডেন জেনারেশন)-এর অধিকাংশ তারকাই হয় তাদের ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করে এসেছেন, অথবা দল থেকেই বাদ পড়েছেন।
বেলজিয়ামের জার্সিতে এখন পর্যন্ত লুকাকু ১২৪টি, ডি ব্রুইনা ১১৭টি এবং কোর্তোয়া ১০৭টি ম্যাচ খেলেছেন। অভিজ্ঞতার দিক থেকে এবারের বিশ্বকাপে যেকোনো দলের চেয়ে নিঃসন্দেহে এগিয়ে থাকবেন এই ত্রয়ী। তবে অভিজ্ঞতার এই তালিকায় তাঁরা সবাই পিছিয়ে থাকছেন ৩৭ বছর বয়সী রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার আক্সেল উইটসেলের চেয়ে। বেলজিয়ামের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩৬ ম্যাচ খেলা উইটসেলও এবার নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে খেলতে নামছেন।
গত জুনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করার পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে বেলজিয়ামের হয়ে খেলেননি লুকাকু। গত বুধবারই ৩৩ বছরে পা দেওয়া লুকাকে ২০২৫-২৬ মৌসুমে চোটের কারণে মাত্র সাতটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তা সত্ত্বেও চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও এভারটনের সাবেক এই তারকাকে নিজের ২৬ সদস্যের দলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ রুডি গার্সিয়া। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য গত দুই মাস ধরে তিনি বেলজিয়ামেই অবস্থান করছেন।
জাতীয় দলের হয়ে ১২৪ ম্যাচে রেকর্ড ৮৯ গোল করা লুকাকু বেলজিয়ামের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা; জাতীয় দলের হয়ে তিনি সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন গত জুনে, ওয়েলসের বিপক্ষে।গত মার্চ ও এপ্রিলে বেলজিয়ামের হয়ে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচগুলোর স্কোয়াডে তাঁর নাম থাকলেও, ফিটনেসজনিত সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে লুকাকু দল থেকে ছিটকে যান।
অন্যদিকে, জাতীয় দলের হয়ে থিবো কোর্তোয়া তাঁর সর্বশেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন গত অক্টোবরে। চোটের সমস্যার কারণে বেলজিয়ামের সাম্প্রতিক স্কোয়াডগুলো থেকে তিনি বাদ পড়লেও, চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া আক্রমণভাগে প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে থাকছেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড এবং ম্যানচেস্টার সিটি উইঙ্গার জেরেমি ডকু।
কোচ রুডি গার্সিয়া ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার নাথান ডি ক্যাটকে এবারের স্কোয়াডে রাখেননি; দলে জায়গা পেলে যিনি হতে পারতেন এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম কনিষ্ঠ খেলোয়াড়। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটিতে বেলজিয়ামের জার্সিতে ডি ক্যাটের অভিষেক হয়েছিল। এছাড়া গত কয়েক মাস জুভেন্টাসের সাইডবেঞ্চে কাটানো ফরোয়ার্ড লোইস ওপেন্দাও চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন।
আগামী ১৫ জুন মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়াম তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এর ছয় দিন পর তারা মুখোমুখি হবে ইরানের এবং ২৭ জুন খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়াম, ২০২২ সালের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার হতাশা এবার নিশ্চিতভাবেই কাটিয়ে উঠতে চাইবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য বেলজিয়ামের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড:
গোলকিপার: থিবো কোর্তোয়া, মাইক পেন্ডার্স, সেনে ল্যামেন্স।
ডিফেন্ডার: টিমোথি কাস্তানিয়া, জেনো ডেবাস্ট, মাক্সিম ডি কুইপার, কোনি ডি উইন্টার, ব্র্যান্ডন মেচেল, থমাস মুনিয়ের, নাথান এনগয়, জোয়াকিন সিস, আর্থার থিয়েট।
মিডফিল্ডার: কেভিন ডি ব্রুইনা, আমাদু ওনানা, ইউরি তিলেমান্স, হান্স ভানাকেন, নিকোলাস রাস্কিন, আক্সেল উইটসেল।
ফরওয়ার্ড: চার্লস ডি কেটেলিয়ারে, জেরেমি ডকু, মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো, রোমেলু লুকাকু, দোদি লুকেবাকিও, ডিয়েগো মোরেইরা, অ্যালেক্সিস সেলেমেকার্স, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড।

এবারের বিশ্বকাপে ‘সি’
গ্রুপে খেলবে ব্রাজিল। ‘হেক্সা মিশনের’ গ্রুপপর্বে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হাইতি, মরক্কো
এবং স্কটল্যান্ড। প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাওয়া আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে
নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তি।
ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে কথা বলেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দগলাস সান্তোস। সেলেসাওদের
বিশ্বজয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘ ৯ বছর পর জাতীয় দলে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার কঠিন
লড়াই সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে এই লেফট-ব্যাকের কণ্ঠে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গ্রুপপর্বের
প্রতিপক্ষদের নিয়ে দগলাস সান্তোস বলেন, ‘মরক্কো সাম্প্রতিক সময়ে তাদের শক্তির জানান
দিয়েছে, স্কটল্যান্ডের খেলায় শারীরিক তীব্রতা অনেক বেশি আর হাইতিও মাঠে নামবে সর্বোচ্চ
অনুপ্রেরণা নিয়ে। তবে ব্রাজিল সবসময়ই শীর্ষ স্তরে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকে। আমরা
যদি একদম শুরু থেকে আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারি, তবে গ্রুপ পর্বটা দুর্দান্তভাবে
পার করার মতো সব সামর্থ্যই আমাদের আছে।’
শৈশবে ২০০২ কোরিয়া-জাপান
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পঞ্চম শিরোপা জয়ের স্মৃতি হাতড়ে এই ডিফেন্ডার জানান, সেই সোনালী
অতীতই তাঁর মনে সেলেসাও জার্সি গায়ে জড়ানোর আজন্ম স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল। এবার সেই অধরা
ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের ব্যাপারে ভীষণ আশাবাদী তিনি।
দগলাস যোগ করেন, ‘ব্রাজিলিয়ান
সমর্থকদের মনে সবসময়ই বিশ্বাস রাখার মতো যথেষ্ট কারণ থাকে। আমাদের দলে প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার
কোনো কমতি নেই, দলের প্রত্যেকেই বড় বড় ম্যাচে খেলে অভ্যস্ত। আমাদের লক্ষ্য হলো টুর্নামেন্টে
যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করে ট্রফিটা নিজেদের করে নেওয়া।’
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে
দগলাসের জায়গা পাওয়াটা এখন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত
হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন তার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা
করবেন, সেটি হবে পারাইবা থেকে উঠে আসা এই ফুটবলারের জন্য এক পরম বৃত্তপূরণের মুহূর্ত।
২০২৫ সালের মার্চে, রাশিয়ার
নাগরিকত্ব পান দগলাস। এরপর রাশিয়ার জাতীয় দলে অভিষেকের জন্য তাকে ডেকেও নেওয়া হয়েছিল।
তবে একই সময়ে ব্রাজিলের তৎকালীন কোচ দোরিভাল জুনিয়রের করা একটি প্রাথমিক দলেও তার নাম
ছিল, যা তাকে আবারও ব্রাজিলের হয়ে খেলার নতুন আশা জোগায়। এমন পরিস্থিতিতে এই লেফট-ব্যাক
রাশিয়ার নিশ্চিত প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের
দিকে তাকিয়ে ব্রাজিলের ডাকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
দগলাস বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন,
‘রাশিয়ার প্রতি আমার মনে সবসময়ই গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, কারণ এই দেশেই আমি আমার ক্যারিয়ারের একটা বড় অংশ গড়ে তুলেছি। কিন্তু ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়ানো সবসময়ই আমার আজন্ম স্বপ্ন ছিল, তাই সেটাই অগ্রাধিকার পেয়েছে। আমি বিশ্বকাপ দেখে বড় হয়েছি এবং সেলেসাওদের হয়ে খেলার স্বপ্ন বুনেছি, আর এই আবেগটাই আমার মনের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে।’
দগলাসের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত
প্রত্যাবর্তনটি বেশ রাজকীয়ভাবেই ঘটেছিল। চিলির বিপক্ষে
ব্রাজিলের ৩-০ ব্যবধানের
জয়ের ম্যাচে এই লেফট-ব্যাক
কেবল শুরুর একাদশেই ছিলেন না, বরং মাঠের
অন্যতম সেরা পারফর্মারও ছিলেন।
এর এক মাস পর,
প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডেও তিনি আবারও ডাক
পান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার
বিপক্ষে ব্রাজিলের ৫-০ ব্যবধানের
দাপুটে জয়ে মূল একাদশে
খেলেন। কাকতালীয়ভাবে, এই সময়ের মধ্যে
তাকে ছাড়া খেলা বাকি
দুটি ম্যাচে বলিভিয়া এবং জাপান উভয়ের
কাছেই হেরেছিল সেলেসাওরা।
জাতীয় দলে ফিরে দগলাস তার ঠান্ডা মাথার ফুটবল দিয়ে সবার প্রশংসা কুড়ান। দগলাসের বিশ্বাস, কোচ আনচেলত্তি তার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তা থেকেই এই আত্মবিশ্বাস এসেছে। দগলাস বলেন,
‘তারা আমাকে ক্লাবের হয়ে যেভাবে খেলি, ঠিক সেই স্বভাবজাত খেলাটাই খেলতে বলেছিলেন—মাঠে লড়াকু থাকা, রক্ষণে শক্ত দেয়াল তোলা এবং সুযোগ বুঝে আক্রমণে অবদান রাখা। আনচেলত্তির একটা দারুণ গুণ আছে, তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। তিনি প্রচুর কথা বলেন, কৌশলগতভাবে তিনি কী চান তা বুঝিয়ে দেন, তবে একই সঙ্গে মাঠে আমাদের নিজস্বতা নিয়ে খেলার স্বাধীনতাও দেন।’

জিতলেই চ্যাম্পিয়ন। ড্র, কিংবা
হারলেও সুযোগ থাকবে। এমন ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে বসুন্ধরা কিংসের সামনে ছিল শক্তিশালী
ঢাকা আবাহনী। যাদের সামনেও ছিল শিরোপা জেতার হাতছানি। বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল)
এই অলিখিত ‘ফাইনালে’ আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করল বসুন্ধরা কিংস।
শুক্রবার লিগ শিরোপা নির্ধারণী
ম্যাচটি গড়ায় কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে। যেখানে আবাহনীকে
২-০ গোলে হারায় কিংস। দুটি গোলই হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। পেনাল্টি থেকে দোরিয়েলতন
গোমেজ নাসিমেন্তো এগিয়ে দেওয়ার পর দারুণ গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সোহেল রানা সিনিয়র।
এই জয়ে ১৭ ম্যাচ শেষে ৩৮ পয়েন্ট
পেয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করল বসুন্ধরা কিংস। ৪ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে থাকলো আবাহনী। ১৭তম
রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন দলকে পাওয়া গেলেও রানার্সআপ নির্ধারণ হবে শেষ রাউন্ডে। কেননা এদিন
ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফর্টিস। তাদের পয়েন্ট আবাহনীর সমান ৩৪।
২০০৭ সালে পেশাদার যুগে প্রবেশ
করে বাংলাদেশের ফুটবল লিগ। এরপর থেকে সর্বোচ্চ ৬বার শিরোপা জিতেছে ঢাকা আবাহনী। সর্বোচ্চ
শিরোপা জেতার তালিকায় এখন থেকে তাদের সঙ্গে নাম থাকবে বসুন্ধরা কিংসেরও। ক্লাবটির জন্মের
পর থেকে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো লিগ শিরোপা জিতল তারা।
এদিকে বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের
জন্মের পর আর কখনও শিরোপা জেতা হয়নি ধানমন্ডিপাড়ার ক্লাবটির। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমে
লিগ শিরোপা জিতেছিল আবাহনী। এরপর আরও চারবার রানার্সআপ হলেও শিরোপা জেতা দূরের স্বপ্নই
রয়ে গেলো আকাশি-নীলদের জন্য।
আর ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে টানা
৫বার লিগ শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। গত মৌসুমে মোহামেডানের কাছে শিরোপা হারায় তারা।
এক মৌসুম বাদে লিগ ট্রফি পুনরুদ্ধার করল লাল-সাদা জার্সিধারীরা।
এদিন ৪৩ মিনিটে আবাহনী জালে
বল ঠেলে দিলেও অফসাইডের কারণে গোল পাননি কিংসের সোহেল রানা সিনিয়র। বিরতির এই অর্ধে
আবাহনীর চেয়ে দারুণ খেলেও গোলশূন্য বিরতিতে যায় কিংস।
৬২ মিনিটে এক পরিবর্তন আনে
আবাহনী। মিরাজুলের জায়গায় কোচ মারুফুল হক বদলি হিসেবে নামান ব্রুনো মাতোসকে। ব্রাজিলিয়ান
উইঙ্গার মাঠে নামার পরপরই বেশ কিছু আক্রমণ শানায় আবাহনী। ৬৫ মিনিটে এমেকার দারুণ ক্রসের
নাগাল পাননি ব্রুনো। ৬৬ মিনিটে আরও একবার এমেকার পাসের নাগাল একটুর জন্য পেলেন না ব্রুনো।
৭২ মিনিটে বক্সে ফাহিম ঢুকে
পড়লে তাঁকে বাধা দিয়ে পেনাল্টি হজম করেন আবাহনী অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবলু। বাম দিকের
টপ কর্নার দিয়ে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে দেন দোরিয়েলতন। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের লিগের
১৮তম গোলে শিরোপার সুবাস পেতে থাকলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস।
৭৬ মিনিটে ব্রুনো মাতোসের শট
ধরে ফেলেন শ্রাবন। পরের মিনিটে শিরোপা নিশ্চিত করা গোলটি করলেন কিংসের সোহেলে রানা।
ছোট সোহেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের সামনে থেকে বা পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন
সিনিয়র সোহেল।
৮১ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ হয়নি
মিতুলের দৃঢ়তায়। ডান দিক দিয়ে উপরে উঠে পোস্টেই শট নেন সাদ উদ্দিন। সেটি আটকে দেন মিতুল,
দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ছোট বক্সের মধ্য থেকে ইমনের শট প্রতিহত হয় আবাহনী রক্ষণে। ৮৫ মিনিটে
এমেকার ডান পায়ের শট বেরিয়ে যায় একটু উপরে দিয়ে। গো করা ৮ মিনিটেও আর হার এড়াতে পারেনি
আবাহনী। ২-০ ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে কিংস।
দিনের অন্য ম্যাচে রহমতগঞ্জ
১-০ গোলে হারিয়েছে মোহামেডানকে। আরামবাগের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জিতেছে পুলিশ এফসি।

মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর এবার ব্যবসায়িক জগতেও ইতিহাস
গড়লেন স্যার ডেভিড বেকহ্যাম। ব্রিটেনের ক্রীড়াজগতের ইতিহাসে প্রথম বিলিয়নিয়ার ক্রীড়াবিদ
হিসেবে নাম লেখালেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা।
২০২৬ সালের সানডে টাইমস রিচ লিস্ট অনুযায়ী, বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়া
বেকহ্যাম দম্পতির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১.১৮৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার)।
২০২৫ সালের তালিকায় এই দম্পতির সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড। এ বছর এক লাফে
তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুনেরও বেশি।
বেকহ্যামের সম্পদের এই বিশাল উত্থান ঘটেছে ফুটবল ক্লাব ইন্টার
মায়ামিতে তাঁর মালিকানার ফলে। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাবটির সহ-মালিক ও প্রেসিডেন্ট
হিসেবে রয়েছেন সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক। ২০২৮ সাল পর্যন্ত লিওনেল মেসিকে মায়ামিতে চুক্তিবদ্ধ
করার পর ক্লাবটিতে বেকহ্যামের শেয়ার মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে।
এছাড়া অ্যাডিডাস এবং হুগো বসের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের দূত
হিসেবেও বিপুল অর্থ আয় করছেন বেকহ্যাম। তাঁর স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের নিজস্ব ফ্যাশন
ব্রান্ডের বার্ষিক আয় এবার ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
সানডে টাইমসের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়াবিদদের এই তালিকায় বেকহ্যামের
অবস্থান দুই নম্বরে। শীর্ষে রয়েছেন সাবেক ফর্মুলা ওয়ান প্রধান নির্বাহী বার্নি একলেস্টোনের
পরিবার। তাদের মোট সম্পদের মূল্য ২ বিলিয়ন পাউন্ড।
বেকহ্যামের ঠিক পেছনেই তিন নম্বরে রয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক ও
প্রোমোটর ব্যারি হার্ন এবং এডি হার্ন দম্পতি। তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১.০৩৫
বিলিয়ন পাউন্ড।
তালিকায় যৌথভাবে দশম স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের
বর্তমান অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও সাবেক ব্রিটিশ টেনিস তারকা স্যার অ্যান্ডি মারি। এই
দুজনের সম্পদের পরিমাণ ১১০ মিলিয়ন পাউন্ড।

শতবর্ষ ছুঁই ছুঁই বিশ্বকাপ
ফুটবলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২৭ জোড়া বাবা-ছেলে দেখা গেছে, যারা খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বমঞ্চে
নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই তালিকায় বিশ্বখ্যাত সব নাম রয়েছে। এদের মধ্যে
কেউ জন্মেছেন এক দেশে, বড় হয়েছেন আরেক দেশে, খেলেছেন অন্য দেশে।
ইতালির সিজার মালদিনি ও
পাওলো মালদিনি, ফ্রান্সের জঁ ও ইউরি জর্কায়েফ, উরুগুয়ের পাবলো ও ডিয়েগো ফোরলান, স্পেনের
মিগুয়েল আনহেল ও জাবি আলোনসো, ব্রাজিলের মাজিনহো ও থিয়াগো (থিয়াগো স্পেনের হয়ে খেলেন),
ডেনমার্কের গোলরক্ষক জুটি পিটার ও ক্যাসপার স্মাইকেল, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাউডিও ও জিওভান্নি
রেইনা আছেন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাবা-ছেলে জুটির তালিকায়।
তালিকায়
আরও রয়েছেন, চা-বুম কুন ও চা-দু রি, মিগুয়েল রেইনা ও পেপে রেইনা, লোদজিমিয়ের্জ স্মলারেক
ও এবি স্মলারেক এবং ফ্রান্সের লিলিয়ান ও মার্কাস থুরাম।
আরেকটি মজার তথ্য হলো,
হোসে ভান্তোলরাকে নিয়ে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে তিনি মেক্সিকোর হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, অথচ তার
বাবা মার্তি ভান্তোলরা ১৯৩০ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন স্পেনের হয়ে।
বাবা-ছেলের এই তালিকায়
সাফল্যের বিচারে অনন্য হয়ে আছেন ফরাসি তারকা লিলিয়ান ও মার্কাস থুরাম। এই জুটির উভয়েই
বিশ্বকাপের পদক জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। বাবা লিলিয়ান
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে জিতেছিলেন সোনালি ট্রফি (স্বর্ণপদক), আর ছেলে মার্কাস থুরাম
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জিতেছেন সিলভার মেডেল বা রৌপ্যপদক।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রথম
বাবা-ছেলে হলেন মেক্সিকোর লুইস ও মারিও পেরেজ। লুইস খেলেছিলেন ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে।
আর ছেলে মারিও খেলেছিলেন ১৯৫০ সালের আসরে।