১৪ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম

লা লিগার রাউন্ড অব এইটিনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শনিবার রাতে এলচের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। টাইটেল রেসে নিজেদের জিইয়ে রাখতে মাস্ট উইন এই ম্যাচ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগ মুহুর্তে জানা গেছে রাউল আসেনসিও চোটের খবর।
আলভারো কারেরাস, ডেভিড আলাবাসহ রিয়ালের নয় জন ফুটবলার চোটে। সেখানে নতুন করে নাম লেখালেন আসেনসিও। দলের এমন অবস্থা নিয়ে বেশ চিন্তিত কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা থেকে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে রিয়াল। আর চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর সেকেন্ড লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বাঁচা-মরা ম্যাচ—এসবের আগে চোট সমস্যায় নাজেহাল লস ব্লাঙ্কোস শিবির।
একটার পর একটা ধাক্কায় উদ্বেগ বেড়ে গেছে রিয়াল শিবিরে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কোচিং স্টাফের মধ্যেও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন প্রায় আতঙ্কজনক—কারণ ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দল আরও কঠিন অবস্থায় পড়ে যেতে পারে।
এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেন আরবেলোয়া। শুক্রবার অনুশীলনের সময় ড্রেসিংরুমে থাকা চার ফুটবলার—চুয়ামেনি, রুডিগার, ভালভার্দে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তিনি।
এই বৈঠকের লক্ষ্য পরিষ্কার— এলচের বিপক্ষে নামানোর আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা জানা। আরবেলোয়া জানতে চেয়েছিলেন, রুডিগাররা কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন, নাকি সামনে কঠিন এক সপ্তাহের কথা ভেবে তাদের বিশ্রাম দেওয়াই ভালো হবে। এখন ভুল করার সুযোগ খুবই কম।
ম্যাচের আগে আরবেলোয়া বলেন,
“আমার কাছে এখন শুধু এমন খেলোয়াড়রাই আছে, যারা হাত তুলে বলছে তারা আরও একবার চেষ্টা করতে প্রস্তুত। তারা খুবই নিবেদিত এবং আমরা জানি এই ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
ড্রেসিংরুমে কোচ ঠিক এমন মনোভাবই দেখেছেন—সবাই দলকে সাহায্য করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং পরিস্থিতির গুরুত্বও বুঝছে। তবুও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না। কারণ আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—চোটের তালিকা আরও বড় হয়ে যেতে পারে, আর দলে নতুন করে কেউ ছিটকে পড়লে পরিস্থিতি আরও নড়বড়ে হয়ে উঠতে পারে।
No posts available.
১৪ মার্চ ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ৫:১৭ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ২:৩৪ পিএম

‘ট্রুথ সোশ্যালে’ বৃহস্পতিবার দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন,
‘ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। কিন্তু তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে সেখানে থাকা তাদের জন্য উপযুক্ত হবে বলে আমি সত্যিই মনে করি না।’
ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের শুরুতে ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানিদের যুক্তরাষ্ট্রে না আসার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন ব্ক্তব্য নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করে ইরান।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইরান দল বলেছে,
“কেউ আমাদেরকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারবে না।”
ইরানের বিশ্বকাপের বয়কটের ডাক আসে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বক্তব্যের পরই। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ফিফা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বন্দ্ব থাকলেও বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাধা নেই ইরানের। এরপরই দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রী জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না ইরান।
ইরানের তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা স্পষ্ট করার পরই ট্রথ সোশ্যালে পোস্ট করেন ট্রাম্প। তার সেই পোস্টের পরই ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এত বড় আয়োজনে দলগুলোর নিরাপত্তার দিতে সক্ষম নয় বলেও মনে করে তারা।
ইরান জানায়,
“বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট এবং এর নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা-কোনো একটি দেশ নয়। ইরান জাতীয় দল নিজেদের শক্তিমত্তা এবং ইরানের সাহসী সন্তানদের দ্বারা অর্জিত অনেক জয়ের মাধ্যমে বাছাইপর্ব পেরিয়ে প্রথম দলগুলোর একটি হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।”
দেশটি আরও জানায়,
“নিশ্চিতভাবেই কেউ ইরান জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। একটি দলই কেবল বাদ যেতে পারে, যারা কেবল ‘স্বাগতিক’ এর মর্যাদা নিয়ে আছে, এমনকি এই বৈশ্বিক আসরে দলগুলোর নিরাপত্তা দিতে অপরাগ হওয়া সত্ত্বেও।”
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে হবে ৪৮ দলের এবারের বিশ্বকাপ। তবে, ‘জি’ গ্রুপে ইরানের তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে।

যৌথভাবে শীর্ষে থেকে আজ বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি মাঠে নামে। রোমাঞ্চকর ৫ গোলের লড়াইটা শেষ পর্যন্ত জিতে নেয় মারিও গোমেজের দল। যদিও ফর্টিসের বিপক্ষে জিততে ঘাম ঝরাতে হয়েছে লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।
দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো হ্যাটট্রিক করে দলকে জেতান ৩-২ ব্যবধানে। জয়ের নায়ক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড হলেও বদলি হিসেবে নামা তপু বর্মণ ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষে দুই দল ছিল ১-১ সমতায়। সেখান থেকে ফাহিমের দুটি ক্রসে গোল করেন দোরিয়েলতন। বিশেষ করে ফর্টিস ২-২ সমতায় ফেরার পর ফাহিমের দারুণ এক অ্যাসিস্টে জয়ের মুখ দেখে কিংস।
খেলা শেষে তপু ও ফাহিম দুজনেই স্বীকার করেছেন তাঁরা নামতে যে খেলায় গতি পেয়েছে বসুন্ধরা কিংসের। ফাহিম বলেন,
‘মাঠে নামার আগে ভাই আমাকে বলছে, আমাদের এই ম্যাচ যা করার করতে হবে। আমার উপর ভাইয়ের বিশ্বাস ছিল, আমি ভাইয়ের উপর বিশ্বাস রাখছিলাম। ভাই রক্ষণে সামলেছে, আমি আক্রমণে কাজ করছি।’
ফর্টিসের বিপক্ষে আজকের জয়ে এককভাবে লিগ টেবিলের শীর্ষে এখন বসুন্ধরা কিংস। শিরোপা রেসে এগিয়ে গেল মারিও গোমেজের দল। তবে পথটা এখনো অনেক দূরের মনে করেন তপু,
‘এই ম্যাচটা নিয়ে অনেক একটা ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। এই জয়টা বসুন্ধরা কিংসের জন্য খুবই জরুরি ছিল। মনে করি, ৮০ ভাগ আমাদেরকে এগিয়ে রাখবে। কারণ আমরা এখন শীর্ষে আছি এবং আমাদের যে লক্ষ্য এই ম্যাচটা নিয়ে ছিল সেটা আমরা অতিক্রম করেছি। সামনে একটা লং রেস, এই জায়গায় স্টেপ বাই স্টেপ যেতে হয়।’
এই ম্যাচে ফাহিমের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে তপুকে। খেলা শেষে সতীর্থকে নিয়ে বলেছেন,
‘ফাহিম দুর্দান্ত ছিল। আসলে যেটা আপনি বললেন সুপার সাব। আমি বলবো ফাহিম নামার পরে আমাদের স্পিড যে লেভেল ছিল সেটা আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। কারণ সে নামার পরে দুইটা অ্যাসিস্ট করেছে। এরকম খেলোয়াড় দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
আন্তর্জাতিক বিরতি এখন আবার লিগে। সোমবার থেকে শুরু জাতীয় দলের ক্যাম্প। সামনে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচ। দুটি ম্যাচের জন্য প্রাথমিক স্কোয়াডে আছেন ফাহিম। এই দুই ম্যাচে জিততে চান জাতীয় দলের এই উইঙ্গার। বলেছেন,
‘যেহেতু আমাদের এখন এশিয়ান কোয়ালিফাইটা আমাদের হাত থেকে চলে গেছে তাই এখন আমরা চেষ্টা করবো দুইটা ম্যাচ উইন হয়ে যেন আমাদের আত্মবিশ্বাসটা আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারি।’

শীর্ষ দুই দল বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসির লড়াই। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, কথার লড়াই, মাঠে যুদ্ধাংদেহী পরিবেশ। মাঠের বাইরে গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের চরম উত্তেজনা, হাতাহাতি; শেষ পর্যন্ত ৫ গোলের রোমাঞ্চ জিতল বসুন্ধরা কিংস।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শনিবার ফর্টিসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রবার্তো মারিও গোমেজের দল। হ্যাটট্রিক করেছেন কিংসের দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। ফর্টিসের হয়ে গোল দুটি করেন ওনিয়েকাচি ওকাফর ও অনন্ত তামাং।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এককভাবে বসুন্ধরা কিংস। ১১ খেলায় এখন ২৪ পয়েন্ট লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট পেয়ে দুইয়ে ফর্টিস এফসি।
এদিন ম্যাচেে ১৮ মিনিটে গোলে ভাল চান্স নেয় কিংস। বা পাসের কর্নারের কাছ থেকে বক্সে ক্রস দেন হৃদয়, লাফিয়ে হেড নেন দোরিয়েলতন, কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে।
পরের মিনিটে মাঝ মাঠে ইমানুয়েল টনির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন, এরপর তিনজনের মধ্য থেকে পেনাল্টি এরিয়ায় থ্রু পাস দেন পা ওর বাবু। ওকাফর কোনো ভুল করেননি, গোলকিপার জিকোর ডান পাস দিয়ে বল ঠেলে দেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।
পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিট পর সমতায় ফেরার উপলক্ষ্য পেয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকলে রাকিবকে ট্যাকল করতে গিয়ে ফেলে দেন ফর্টিসের ডিফেন্ডার আব্দুল্লাহ ওমর। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ২৭ মিনিটে সফল স্পটকিকে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান দোরিয়েলতন।
৩৩ মিনিটে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে মাঠে। বসুন্ধরা কিংসে অর্ধে পা ওমর বাবুকে রিমনের ট্যাকল নিয়ে সূত্রপাত। তর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের একাধিক খেলোয়াড়। বেঞ্চে থেকে এতে জড়িয়ে শেষে হলুদ কার্ড দেখেন ফর্টিসের ফাহাদ।
৪৫ মিনিটে চন্দন রায়ের নিচু শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। খানিক পর একই শটের পুনরাবৃত্তি, এবারও চন্দনের শট লক্ষ্যে থাকেনি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন কিংসের সোহেল রানা। ১-১ গোলেের ড্র মেনে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে কিংস। রক্ষণে তপু বর্মনের সঙ্গে লেফট উইংয়ে শুরু করেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। এই উইঙ্গার নামার পর বেশ কয়েকবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন। সফলতা পান ৫২ মিনিটে। তাঁর দারুণ ক্রসেই আনমার্কে থাকা দোরিয়েলতন আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন। ম্যাচে প্রথমবারের মতো লিডে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
৭৫ মিনিটে ম্যাচে ফেরে ফর্টিস। বদলি খেলোয়াড় দাও শেরিংয়ের নেওয়া কর্নার থেকে বক্সে গতিময় শটে জাল কাঁপান অনন্ত তামাং।
তিন মিনিট পরই ফের লিড নেয় বসুন্ধরা কিংস। আবারও গোলে অ্যাসিস্ট করেন ফাহিম। সানডের কাছ থেকে বল নিয়ে উপরে উঠে বক্সে ফাহিমের ক্রসে গোলকিপার সুজন পেরেরার মাথার ওপর দিয়ে জালে বল ঠেলে দেন দোরিয়েলতন। ম্যাচে সেইসঙ্গে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
৮৭ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় ফর্টিস। গোলকিপার জিকোকে পরাস্ত করলেও শেষে ওকাফরের নিচু শট একটুর জন্য গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যায় দূরের পোষ্ট ঘেঁষে। শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোলের রোমাঞ্চ জিতল ফেডারেশন কাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।

ফিনালিসিমার ভেন্যু নিয়ে
তৈরি হয়েছে তীব্র জটিলতা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের
মধ্যকার ম্যাচটি এখন বাতিলের শঙ্কাতেও পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির
কারণে কাতার থেকে ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এবার অনিশ্চয়তা এই প্রতিযোগিতার নতুন
আয়োজক নিয়ে।
২৭ মার্চ ফিনালিসিমার সম্ভাব্য
ভেন্যু হিসেবে লন্ডন ও লিসবনের নাম শোনা গেলেও ইউয়েফা ও স্পেনিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)
প্রস্তাব দিয়েছে ম্যাচটি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজন করার।
শুরুতে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলো
জানিয়েছিল, কাতারের বদলে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হতে পারে আর্জেন্টিনা
ও স্পেনের এই মহারণ। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এই খবরে জল ঢেলে
দিয়েছে। তাদের দাবি, ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
তবে স্পেনে খেলতে আপত্তি
জানায় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত কোনো
সিদ্ধান্ত এখনো। তাদের যুক্তি, স্পেনের ঘরের মাঠে ফিনালিসিমা হলে তা স্বাভাবিকভাবেই
‘লা রোজো’দের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে।
এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে বলেছেন,
‘স্পেন চাইছে ফাইনালটা তাদের দেশে হোক। কিন্তু আমি চাই ম্যাচটি হোক বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে।’
তবে শ্যাম-কুল, দুইপক্ষের
সুবিধা বিবেচনা করে ভিন্ন এক সিদ্ধান্তেও আসতে পারে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার
সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ম্যাচটি একটির বদলে দুই লেগে আয়োজন করা হতে পারে।
টিএনটি স্পোর্টস আর্জেন্টিনার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুব শিগগিরই এএফএ-এর পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব আসতে পারে। সেখানে
বলা হয়েছে, প্রথম লেগ আয়োজন করা যেতে পারে বার্নাব্যুতে এবং দ্বিতীয় লেগ পরে অনুষ্ঠিত
হতে পারে রিভার প্লেটের ঘরের মাঠ এস্তাদিও মনুমেন্তালে।
আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের
একজন সদস্য নাকি ইঙ্গিত দিয়েছেন—হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুই লেগে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাও
বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি পুরো ম্যাচটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও নাকি
উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সেক্ষেত্রে মোটাদাগে ফিনালিসিমার
ভাগ্য হতে পারে তিনটি। প্রথমত স্পেনের দাবি মেনে নিয়ে তাদের মাঠে খেলতে রাজি হওয়া আর্জেন্টিনার।
নাহলে নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজন করা। আর সবশেষ দুই লেগের ম্যাচ হওয়া। আর
সবশেষ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে দুঃসংবাদ হতে পারে—লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের
সম্ভাব্য দ্বৈরথের সাক্ষী হতে না পারা, অর্থাৎ ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যাওয়া।

প্রিমিয়ার লিগে কাল অ্যানফিল্ডে
দেখা হবে লিভারপুল ও টটেনহাম হটস্পারের। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বড় দুশ্চিন্তায়
পড়েছে দুই দলই। চোট, অসুস্থতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দলের মিলিয়ে প্রায় ১৯ খেলোয়াড়ের
মাঠে নামা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস
লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৫–২ গোলে হারের পর কঠিন সময় পার করছে টটেনহাম।
লিগের পয়েন্ট তালিকায় দলটি এখন ষোড়শ স্থানে। অবনমন অঞ্চলের ঠিক ওপরে থাকা টটেনহামের
হাতে বাকি আছে আর নয়টি ম্যাচ। ফলে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য
বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টটেনহামের দায়িত্বপ্রাপ্ত
কোচ ইগর টিউডর জানিয়েছেন, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এই ম্যাচে থাকছেন না। মাঝ
সপ্তাহের ম্যাচে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পাওয়ায় ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও জোয়াও পালিনিয়ার খেলতে
না পারা প্রায় নিশ্চিত। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে
ডিফেন্ডার মিকি ফন দে ফেন খেলতে পারবেন না। মাঝমাঠের খেলোয়াড় ইভ বিসুমারও চোট রয়েছে
বলে জানিয়েছেন টিউডর। নতুন যোগ দেওয়া কনর গ্যালাঘার জ্বরে ভুগছেন। তবে ম্যাচের আগে
তার সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করছে দলটি।
টিউডর বলেন, ফান ডে ফেন
খেলতে পারবে না। বিসুমার সমস্যা আছে এবং গ্যালাঘারের জ্বর হয়েছে। আমরা আশা করছি সে
ঠিক হয়ে যাবে। প্রায়ই কোনো না কোনো সমস্যা হচ্ছে। আমার কোচিং জীবনে এমন পরিস্থিতি খুব
কমই দেখেছি।
টটেনহামের আরও বেশ কয়েকজন
খেলোয়াড় বিভিন্ন চোটের কারণে দলে নেই। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেমস ম্যাডিসন, দেজান কুলুসেভস্কি,
রদ্রিগো বেনতানকুর, মোহাম্মদ কুদুস, উইলসন ওদোবার, ডেসটিনি উদোগি, বেন ডেভিস ও লুকাস
বের্গভাল।
অন্যদিকে মৌসুমজুড়েই চোট
সমস্যায় ভুগছে লিভারপুলও। গোলরক্ষক আলিসন বেকারের খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। পেশির চোটের
কারণে গত সপ্তাহে তুরস্কে গালাতাসারায়ের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।
লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট
জানিয়েছেন, আলিসন এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন।
তবে ম্যাচের আগে তিনি অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে আশা করছেন।
স্লট বলেন, আলিসন এখন পর্যন্ত
পুনর্বাসন কার্যক্রমে ছিলেন। আজ অনুশীলন আছে। দেখা যাক সে দলে যোগ দিতে পারে কি না।
আমি আশা করছি সে ফিরবে, তবে এখনো শতভাগ নিশ্চিত নই।
লিভারপুল শিবিরেও আরও কয়েকজন
খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকতে পারেন। কনর ব্র্যাডলি, ওয়াতারু এন্দো ও জিওভান্নি লেওনি পুরো
মৌসুমেই আর খেলতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ডিসেম্বরে পায়ের হাড় ভাঙা ও গোঁড়ালির
চোটে পড়া আলেক্সান্ডার ইসাক এখনো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
এদিকে অসুস্থতার কারণে
মাঝ সপ্তাহে খেলতে না পারা ইতালির ফরোয়ার্ড ফেদেরিকো কিয়েসা আবার অনুশীলনে ফিরতে পারেন
বলে আশা করা হচ্ছে। কোচ স্লট জানিয়েছেন, ম্যাচের আগের দিন অসুস্থ থাকলেও কয়েক দিন পেরিয়ে
যাওয়ায় এখন তার অবস্থা ভালো হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ
এই ম্যাচের আগে দুই দলেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। চোট ও অনুপস্থিতির কারণে দুই দলের সম্ভাব্য
একাদশেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।