
দূরের পাইন গাছটার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন মোহাম্মদ সালাহ। হাতে কফির মগ, তাতে কোনো মনোযোগ নেই। মিশরীয় ফরোয়ার্ডের চোখ আটকে আছে ঢাল বেয়ে লাফিয়ে বেড়ানো একটি কাঠবিড়ালিতে।
মুহূর্তটুকু নিঃশব্দ, মুক্ত—ঠিক যেমনটা তিনি নিজে হতে চান।
হঠাৎ খেয়াল হয়, কফি ঠান্ডা। খাওয়ার অনুপযোগী। তার জন্য থেমে থাকেনি, যেমনটা ২০২৫ সালও থামেনি।
সালাহর মতোই অনেক ফুটবলারের জন্য ২০২৫ বছরটি ছিল অস্থিরতার, অনিশ্চয়তার। আবার কারও জন্য সাফল্যের ঝলকানিতে ভরা। কেউ হেঁটেছেন সুখের সুড়ঙ্গে, কেউ আটকে গেছেন হতাশার অন্ধকারে। কেউ দেখেছেন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্ত, কেউ বা নতুন ভোরের আলো।
ইংলিশ ও ইউরোপিয়ান ফুটবলে আলোচিত ফুটবলার ও কোচদের জন্য ২০২৫ কেমন ছিল—অম্ল-মধুর সেই গল্পগুলোই ফিরে দেখা যাক।
হ্যারি কেইন, ভাঙল হতাশার ডেডলক: টটেনহ্যাম হটস্প্যার ও লেস্টার সিটি ঘুরে বুন্দেসলিগা জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ— দীর্ঘ যাত্রাতেও ট্রফিতে চুমু আঁকার স্বাদ পাননি ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। সমালোচকরা তো বলেই দিয়েছিলেন—কেইনকে দিয়ে গোল-অ্যাসিস্ট যাই হোক, অন্তত ট্রফি জেতা হবে না।
২০২৫ সালে সেই আফসোস সুখে রুপ নেয়। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা জেতা হয় কেইনের। অথচ তার আগে দেশ ও ক্লাবের জার্সিতে মোট ৬৯৪টি ম্যাচ খেলা হয়েছিল ৩২ বর্ষী স্ট্রাইকারের।
আফসোসের বিষয় হচ্ছে শিরোপার নির্ধারণের দিন স্টেডিয়ামে বসে খেলাটি উপভোগ করতে হয়েছিল কেইনকে। নিষেধাজ্ঞার কারণে লিপজিগের বিপক্ষে সেদিন মাঠে নামা হয়নি তাঁর। অবশ্য মৌসুম জুড়ে দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। ৩১ ম্যাচে গোল করেন ২৬টি। সবমিলিয়ে দুর্দান্ত বছর পার করেন। খুলেন গেরো।
উসমান দেম্বেলে, পরিশ্রমেরই বেসেছেন ভালো: নিজেকে গড়ে-ভেঙে আবার ভেঙে-গড়ে এমন একটা রূপ দিয়েছেন উসমান দেম্বেলে- যা কেবল দেখতেই সুন্দর। পরিশ্রমেরই তিনি বেসেছেন ভালো। সফলতাও পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ব্যালন ডিঅর, ফিফা দ্য বেষ্ট ও গ্লোব সকার পুরস্কার জিতেছেন ফরাসী এই ফরোয়ার্ড।
২০১৭ সালে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর এক বর্ষপঞ্জিকায় সবগুলো একক সম্মাননার পুরস্কার জিতেছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইন তারকা।
২০২৪-২৫ মৌসুমে পিএসজিকে ট্রেবল জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন দেম্বেলে। একই সঙ্গে ফরাসি জায়ান্টরার প্রথমবারের মতো জিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, গোল মেশিন: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০২৫ সালের ইউরোপিয়ান নেশনস লিগের শিরোপা জিতে। ইউরো ২০২৪-এ গোল করতে ব্যর্থ হয়ে আবেগতাড়িত হওয়ার এক বছর পর এই জয় তাঁর জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে।
রোনালদো বলেছিলেন,
“পর্তুগালের হয়ে জেতা সবসময় বিশেষ। ক্লাবের অনেক শিরোপা আছে, কিন্তু দেশের হয়ে জেতার আনন্দ আলাদা। এই প্রজন্মের অধিনায়ক হওয়া গর্বের। জাতীয় দলে শিরোপা জেতা সর্বদা শীর্ষ মুহূর্ত।”
এবার তাঁর লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে বড় ছাপ ফেলা, যা তিনি আল-নাসর এবং জাতীয় দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা দিয়ে পূরণ করতে চাইবেন।
রোনালদো নিজেও বেশ দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। ১ হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শের জন্য হন্যি হয়ে দৌড়াচ্ছেন। সৌদি প্রো লিগে প্রায় প্রতি ম্যাচে গোল পাচ্ছেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, শূন্যতা আর বিতর্ক: ২০২৪ ব্যালন ডিঅরের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ব্রাজিলের রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। দুর্ভাগ্য ভর করেছিল তাঁকে। ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রি জিতে নেন সেরার পুরস্কার। অথচ তার আগের বছরই রিয়ালকে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ভিনি।
ব্যালন ডিঅরের হাত ছোঁয়া দুরত্ব থেকে ফিরে আসার ব্যাপারটি মনে দাগ কাটে ভিনির মনে। পরবর্তীতে ঘোষণা দেন আরও দশগুণ শক্তিতে ফিরবেন তিনি।
দশগুণ শক্তিতে ফিরে আসা হয়েছে কিনা, সেটা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে এটা স্পষ্ট বেশ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন ২০২৫-২৬ মৌসুমে। তবে ২০২৪-২৫ মৌসুম বেশ খারাপ সময় যায় তাঁর। ফলে ২০২৫ সালের ব্যালন ডিঅর, ফিফা দ্য বেষ্ট কিংবা গ্লোব সকারের বর্ষসেরা পুরস্কারের তালিকার লিস্ট থেকে বাদ পড়েন ব্রাজিলের লেফট উইঙ্গার।
২০২৫ সালে ৩৪ ম্যাচে ভিনির পা থেকে এসেছে ৮ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগে মাত্র একবার শুরুর একাদশে নেমেছেন। ১৪ ম্যাচ ধরে ঘরের মাঠে গোলশূন্য থেকেছেন। সবমিলিয়ে কোচ জাবি আলোনসোর সঙ্গে বোঝাপড়া তিক্ততায় রূপ নেয়।
আলেকাজান্ডার ইসাক, উঁচু হাইপ নিচু পারফরম্যান্স: ২০২৫-২৬ মৌসুমে রেকর্ড ট্রান্সফার ফি ছিল আলেকজান্ডার ইসাকের। নিউক্যাসেল ইউনাইটেড থেকে ১২৫ মিলিয়ন ইউরোতে লিভারপুলে যোগ দেন সুইডিশ স্ট্রাইকার। অথচ বছরজুড়ে হাপিত্যেশেই কাটাতে হয়েছে তাঁকে।
সুইডেনের এই স্ট্রাইকার বর্তমানে দলের বাইরে। চোট সমস্যার কারণে খুব একটা মাঠেও দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। প্রিমিয়ার লিগে নতুন মৌসুমে ম্যাচ খেলেছেন ১০টি। গোল করেছেন দুইটি, অ্যাসিস্ট একটি।
নিকোলাস জোবের, আর্সেনালের সেটপিস মাস্টার: ২০২৫-২৬ মৌসুমে সেটপিস থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করেছে আর্সেনাল। গার্নাররা প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগে শীর্ষে। এর কারণ অবশ্য মিকেল আরতেতার সহকারী কোচ নিকোলাস জোবের।
ইংল্যান্ডের এই সহকারী কোচ এতই দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন, যা ফুটবল বিশ্বের নামি ক্লাবগুলোকে বেশ ভাবাচ্ছে।
আর্সেনালের সেট-পিস এখন প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ডিক্লান রাইস ও বুকায়ো সাকার ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারির সঙ্গে গ্যাব্রিয়েল মাগালহেসের এয়ারিয়াল থ্রেট মূল কারণগুলোর মধ্যে একটি, যা আর্সেনালকে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে রেখেছে।
আরতেতার পরিকল্পনাও আগে থেকেই কার্যকর দেখাচ্ছে। অনেক ইংলিশ ক্লাব এখন ডেড-বল পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যেখানে লিভারপুলের মতো দল এই দিক পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছে।
রুবেন আমোরিম, ফাঁকা বুলি: নিজের কথায় অটল তিনি। কৌশল কিংবা ফরমেশন পরিবর্তন করবেন না বলে একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এমনকী স্বয়ং ঈশ্বর এলেও নাকি তাঁকে তাঁর অবস্থান থেকে সরাতে পারবেন না বলেও জানিয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত রুবেন আমোরিমের ভাগ্যে কি জুটেছিল, তা সবার জানা। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১২ মাস ৩-৪-৩ ফরমেশনে খেলা পরিচালনা করেন আমোরিম। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১৫তম স্থানে থেকে যাত্রা শেষ হয় তাঁদের।
২০২৫–২৬ মৌসুমে ভঙ্গুরদশা কাটিয়ে সফলতার পথে ম্যান ইউনাইটেড। বর্তমানে তারা প্রিমিয়ার লিগে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট পেলে শীর্ষ চারে উঠে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
লিগে আসন্ন ম্যাচে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না ইউনাইটেড। ব্রায়ান এমবেউমো ও আমাদ দিয়ালো আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে ব্যস্ত সময় পার করছে। অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসও চোটে ছিটকে পড়েছেন।
লিওনেল মেসি, হাত দিয়ে যা ছুঁয়েছেন, তা হয়েছে স্বর্ণ: জাতীয় দল কিংবা বার্সেলোনা- লিওনেল মেসি কি করেছেন দলের জন্য না বলে বরং বলা যেতে পারে, কী করেননি তিনি।
আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো কিংবা বার্সেলোনাকে একাধিকবার ট্রেবল জেতাতে বড় ভূমিকা ছিল এলএমটেনের। তার মধ্যে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্যালন ডিঅর তাঁর দখলে।
আর্জেন্টিনা কিংবা কাতালান ক্লাবেই মেসির জয় যাত্রা থেমে থাকেনি। মেজর সকার লিগে ইন্টার মিয়ামিকে স্বপ্নযুগ এনে দিয়েছেন তিনি। প্রথমবারের মতো মিয়ামিকে শিরোপা জিতিয়েছেন মেসি। আর ব্যক্তিগত অর্জনে নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছেন তিনি। এটি তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের রেকর্ড ৪৮তম শিরোপা।
আর্নে স্লট, অম্ল-মধুর যাত্রা: গত এক বছরে আর্নে স্লট যে পরিমাণ আবেগের ভেতর দিয়ে গেছেন, তা অনেক ম্যানেজার পুরো ক্যারিয়ারেও অনুভব করেননি। শুরুটা ছিল আনন্দ ও গর্ব দিয়ে—লিভারপুলকে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এনে দেওয়ার সাফল্য। তাও আবার চার ম্যাচ হাতে রেখেই, যা প্রমাণ করে কতটা দক্ষতার সঙ্গে তিনি কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লপের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্বের চাপ সামলেছেন।
সম্প্রতি অবশ্য আর্নে স্লটকে আরেকটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। চলতি মৌসুমে লিভারপুলের দুর্বল পারফরম্যান্সের দায় নিজের কাঁধে চাপানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সালাহ প্রকাশ্যে বলেছেন, স্লট তাঁকে একপ্রকার বাসের নিচে ফেলে দিয়েছেন। গত মৌসুমে শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সালাহকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে সালাহকে দলে ফিরিয়ে এনে বিষয়টির ইতি টানার চেষ্টা করেন স্লট। যদিও দুজনের সম্পর্ক এখনো কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে, তবু আফ্রিকা কাপ অব নেশনস শেষ করে সালাহ লিভারপুলে ফিরে আসবেন—এমনটাই এখন অন্তত স্পষ্ট।
দিয়োগো জোতা, রিমেম্বার দ্য নেম: ২০২৫ সালে ওয়াটার স্ট্রিটে বিজয় উৎসব চলাকালে পল ডয়েলের গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ১৩০ জন আহত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অ্যানফিল্ডে নেমে আসে আরেকটি গভীর শোক। দিয়োগো জোতার মৃত্যুতে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গভীর বেদনা।
পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ড ৩ জুলাই স্পেনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই আন্দ্রে সিলভার সঙ্গে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার সময় তিনি সদ্য বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে ফেরার পথে ছিলেন। তার মৃত্যু গোটা ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়।
লিভারপুলের প্রকাশ্য মুখ হিসেবে আর্নে স্লট এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংযম ও মর্যাদার সঙ্গে সামাল দেন। জোতার প্রয়াণ নিয়ে তার বক্তব্য ছিল শান্ত, সংবেদনশীল এবং গভীর শ্রদ্ধায় ভরা।
লুইস এনরিকে, দ্য মাস্টার মাইন্ড: ফুটবলের পরিসংখ্যান, রেকর্ড ও ইতিহাস সংরক্ষণে কাজ করা জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইএফএফএইচএস ২০২৫ সালের বর্ষসেরা ব্যক্তিদের র্যাঙ্কিং তৈরি করে। যেখানে গত বছর ক্লাব ফুটবলের সেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন লুইস এনরিকে। ফরাসি ক্লাব পিএসজির এই স্প্যানিশ কোচ এত বেশি ভোট পেয়েছেন যে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা কোচ তাঁর অনেক পেছনে।
২০২৫ সালে এনরিকের পিএসজি মোট ৬টি ট্রফি জিতেছে—উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, লিগ আঁ, কাপ দ্য ফ্রান্স, ট্রফি দ্য চ্যাম্পিয়নস, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।
আইএফএফএইচএসের বর্ষসেরা পুরস্কার ছাড়াও এনরিকে জিতেছে ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার, গ্লোব বর্ষসেরার পুরস্কার। ২০২৫-২৬ ফুটবল মৌসুমেও তাঁর দল দারুণ ছন্দে।
মোহাম্মদ সালাহ, আশায় গুড়ে বালি: যেখান থেকে শেষ করেছিলেন তিনি, শুরুটা সেখান থেকে হলে মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে নতুন দিনের স্বপ্ন বাধতে পারত লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা যেমন রেসে রয়েছেন পিছিয়ে, তেমনই হতাশায় ভুগছেন সালাহ নিজেও।
বর্তমানে আফ্রিকান নেশনস কাপে অংশ নিতে ছুটিতে সালাহ। জাতীয় দলে অংশ নেওয়ার আগে বেশ ভুগেছেন তিনি। থেকেছেন সাইট বেঞ্চে। তবে ফেরার আগে অ্যাসিস্ট ও গোল করেছেন তিনি।
সবমিলিয়ে সালাহর এই বছরটা একদমই মন্দ গেছে। প্রিমিয়ার লিগে ২০২৫-২৬ মৌসুমে মাত্র ৪ গোল করেছেন তিনি। এর জন্য তাকে ১৪ বার মাঠে নামতে হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও পারফরম্যান্স বেশ ম্যাড়মেড়ে। গোল দেখা পেয়েছেন একটি। তবে আফ্রিকা নেশনস লিগে তিন ম্যাচে গোল পেয়েছেন দুটি। অথচ গেল আসরে প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল ছিল সালাহর। জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট।
সালাহর এই করুণ দশার কারণে কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে তার একটা ভাঙন শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, মানোমালিন্যের জেরে অ্যানফিল্ড ছাড়তে পারেন তিনি। যদিও ব্যাপাারটা দিল্লি বহুদূরের মতোই ঝুলে আছে।
কার্লো আনচেলত্তি, রিয়াল টু ব্রাজিল: অনেক নাটকের পর ব্রাজিলের ইতিহাসের প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন কার্লো আনচেলত্তি। আনচেলত্তির অধীনে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচ খেলে ব্রাজিল জিতেছে ৪টিতে, ২টি করে ড্র ও হার।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পুরোটা সময়জুড়েই ধুঁকেছে ব্রাজিল। সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কিনা, সে নিয়েই ছিল শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত লাতিন অঞ্চলে পঞ্চম হয়ে আগামী বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে ৫ বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা।
গত মে মাসে ইউরোপের অন্যতম সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন আনচেলত্তি। বর্তমানে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক এএস জানিয়েছে, খুব শিগগিরই আনচেলত্তির সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে যাচ্ছে সিবিএফ, যার মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হবে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
ব্রাজিলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী এই কোচ। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো নেইমারকে জাতীয় দলে না ফেরানো। সাবেক পিএসজি তারকা ব্রাজিলের ফুটবলে বড় প্রভাবশালী হলেও, পুরোপুরি ফিট না হলে তাকে দলে রাখা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আনচেলত্তি।
রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, জুভেন্টাস, পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবকে কোচিং করানো আনচেলত্তির বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার অধীনে এখনও ব্রাজিল তাদের সেরা রূপে না ফিরলেও, মাঠের খেলায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
জাবি আলোনসো, নতুন স্বপ্নের কারিগর: ২০২৪-২৫ মৌসুম কেমন গেছে রিয়াল মাদ্রিদের তা সবারই জানা। শূন্য হাতে নতুন বছরে পা দিতে হয়েছিল লস ব্লাঙ্কোসদের। কার্লো আনচেলত্তির প্রস্থানের পর ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড় জাবি আলোনসোকে দায়িত্ব দেয় রিয়াল।
রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ ভালোভাবেই এগুচ্ছিলেন জাবি। চলতি পথে নানা প্রতিবন্ধকার মধ্য দিয়ে পার হতে হয় তাঁকে। আন্তকোন্দল, কৌশল এবং সিনিয়র খেলোয়াড়দের রোষানলে পড়তে হয় জাবিকে। যা প্রভাব ফেলে খেলাতেও।
লা লিগায় শুরুর দিকে শীর্ষে ছিল রিয়াল। একটা পর্যায়ে তা দখলে নেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগেও লড়াই অব্যহত রয়েছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দলের।
আইতানা বোনমাতি, ব্যালন ডি'অর রাজকন্যা : মাত্র ২৭ বছর বয়সে প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে টানা তিনবার ব্যালন ডি'অর জিতেন স্প্যানিশ তারকা আইতানা বোনমাতি। এই অসাধারণ কীর্তির মাধ্যমে তিনি ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন, যেখানে আছেন লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরা।
১৯৯৮ সালের ১৮ জানুয়ারি স্পেনের কাতালনিয়ার ভিলানোভা ই লা গেলত্রু শহরে জন্ম নেওয়া বোনমাতি সবশেষ ফিফা দ্য বেষ্ট ও গ্লোব সকার বেষ্ট জিতে নেন। এককথায় দারুণ সময় পার করেছেন এই স্পেনিয়ার্ড।
No posts available.
২ মার্চ ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

একের পর এক গোলে মৌসুমে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে উড়তে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ড হঠাৎ আছড়ে পড়েছেন মাটিতে। হাঁটুর চোট বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তাঁর। আর এই চোটের তদারকি নাকি ঠিকঠাক করতে পারছে না এমবাপের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। তাতেই চটেছেন স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির তারকা ফরোয়ার্ড। রিয়ালের মেডিকেল টিম তাঁর চোটের কোনো সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিকারের জন্য গেলেন নিজের দেশ ফ্রান্সে।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে গিয়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এমবাপে। ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাঁ হাঁটুর চোট এখনও পীড়া দিচ্ছে তাকে। এই চোটের কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে অফে বেনফিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারেনি তিনি। চোটের কোনো উন্নতি না হওয়ায় ফ্রান্সে বিশেষজ্ঞদের কাছে যাচ্ছেন এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদও তাঁর এই ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, এমবাপে রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টিমের পরিষেবায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাঁর মতে, গত তিন মাসে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটি চোটের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে পারফরম্যান্সেও। পাশপাশি তাকে প্রতিনিয়ত দলের বাইরেও থাকতে হচ্ছে। এমবাপ্পে বিশ্বাস করেন, বাইরে থেকে অন্য বিশেষজ্ঞের মতামত তার চিকিৎসা ও সুস্থতার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে।
এমবাপের চোটের ধরনও নিশ্চিত নয়। এখন প্রধান লক্ষ্য হলো হাঁটুর সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধান করা এবং মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ অংশে দলে ফেরা। গত ৭ ডিসেম্বর সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপে ইর্ন্টানাল ল্যাটারাল লিগামেন্টে সমস্যা অনুভব করেছিলেন, তবে এখন পোস্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট –এর সমস্যা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চোটের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা হলে আরও আগেই লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা সম্ভব হত। সেটা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাদ্রিদ ছেড়ে নিজ দেশেই পরামর্শ নেওয়া যুৎসই মনে করছেন এমবাপে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচে অনিশ্চিত এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদ ও এমবাপ্পের লক্ষ্য স্পষ্ট: চ্যাম্পিয়নস লিগের পরবর্তী রাউন্ডের জন্য শতভাগ প্রস্তুত থাকা। প্রথম লেগ ১১ মার্চ, এবং দ্বিতীয় লেগ হবে ১৮ মার্চ। ক্লাব প্রত্যাশা দলের আক্রমণভাগের মধ্যমণি এরমধ্যেই ফিট হয়ে ফিরবে। তবে ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ডের মাঠে ফেরার সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়। শেষ পর্যন্ত হাঁটুর অস্ত্রপচার করালে ফেরার সময় আরও দীর্ঘায়িতই হবে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ৩৬ ম্যাচে ৩৯ গোলে সঙ্গে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন এমবাপে। এরমধ্যে লা লিগায় ২৩ গোল করে আছেন গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগেও সর্বোচ্চ গোল ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডেরও। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় ৮ ম্যাচেই করেছেন ১৩ গোল।

পিএসজির বিপক্ষে বার্সেলোনার সেই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের গল্প কার না জানা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফরাসি ক্লাবটির বিপক্ষে যেভাবে ঘুরে দাড়িয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছিল কাতালান ক্লাবটি, অবিশ্বাস্য সেই মূহূর্ত শুধু বার্সা নয় ফুটবলের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা। এবার আরও একবার ঘুরে দাড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে বার্সা। অনেকের মতে যেটা অসম্ভব, সেটাই সম্ভব করে দেখাতে চান স্প্যানিশ ক্লাবটির কোচ হান্সি ফ্লিক।
আগামীকাল কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। বাংলাদেশ সময় রাত দু’টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি হবে ক্যাম্প ন্যুতে। কোপা দেল রে’র সেমির প্রথম লেগে দিয়াগো সিমিওনের দলের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া বার্সাকে ফাইনালে যেতে হলে করতে হবে পাঁচ গোল।
অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেই ফাইনালের টিকিট কাটতে হবে বার্সাকে। আর এই অসম্ভবকেই নাকি সম্ভব করতে মাঠে নামবে লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বার্সা কোচ ফ্লিক বলেন, ‘সবারই জানা আছে আমরা চার গোল পিছিয়ে আছি এবং আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করতে চাই। আমরা হাল ছাড়ব না। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে।’
ছন্দের তুঙ্গে থেকেই ঘরের মাঠে আতলেতিকোর মুখোমুখি হবে বার্সা। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে লা লিগায় ভিয়ারিয়ালকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৪-১ গোলে। ক্লাবটির সবচেয়ে বড় তারকা ইয়ামাল করেন ক্যারিয়ারের হ্যাটট্রিক। এছাড়া চোট থেকে ফিরে এসেই চিরচেনা জাদু দেখান পেদ্রি। এই ম্যাচের দারুণ ছন্দ ধরে রেখে আতলেতিকোর বিপক্ষে ঝাপিয়ে পড়বে শিষ্যরা, এমনটাই বিশ্বাস ফ্লিকের, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম গোলের দিকে মনোযোগ দেওয়া। আমাদের বুদ্ধিমানের সঙ্গে খেলতে হবে। আমরা সেটা পাওয়ার জন্য ক্ষুধার্ত থাকব, আর আমি চাই সেই ক্ষুধা দেখতে। শেষ ম্যাচে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দল দেখেছি, অনেক বেশি তীব্রতা ছিল। আমাদের একসঙ্গে দল হিসেবে খেলতে হবে। এটাই মূল চাবিকাঠি।’
আতলেতিকোর বিপক্ষে নিজেদের প্রধান অস্ত্র ইয়ামালকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘মুখ্য বিষয় হলো দল পুরোপুরি সংযুক্ত আছে। লামিনের প্রথম গোলটি ফারমিনের ভালো রিকভারি ও পাসের পর এসেছে। লামিনের সেই মুহূর্তে সঠিক জায়গায় থাকার গুণ আছে। গোলের পর, সে অসাধারণ খেলেছে, আমি সেটা পছন্দ করেছি। আমাদের সবাইকে প্রয়োজন, শুধুমাত্র লামিন নয়।’
অবশ্য চোটের কারণে অভিজ্ঞ ফরোয়ায়র্ড রবার্ট লেভাডফস্কিকে পাচ্ছে না বার্সা। পোলিশ ফরোয়ার্ডের চোট নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘আমাদের এটা গ্রহণ করতে হবে এবং মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের খুব একটা ভাগ্যবান না, সে ঘুরতে ঘুরতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ধাক্কা খেল এবং তারপর গোল করলো… এমন খেলোয়াড় না থাকার সমস্যা সর্বদা থাকে, তবে দল সবসময় এটি ভালোভাবে সামলাতে সক্ষম। এটি অন্যান্য খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগও দেবে।’
কোপা দেল রে’র সবচেয়ে সফল দল বার্সেলোনা। এই প্রতিযোগিতায় মোট ৩২বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সবশেষ আসরের চ্যাম্পিয়নও কাতালান ক্লাবটি।

আল-ফেইহা এর বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর ষোলকলা পূর্ণ করে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগের ওই ম্যাচে আল নাসর ৩-১ গোলে জিতলেও ‘সিআর সেভেনের’ চোটে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে সমর্থকদের। অবশ্য আল নাসরের কোচ জর্জে জেসুসের কথা কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারেন সমর্থকরা। রোনালদোর চোট তেমন গুরুতর নয় বলছেন পর্তুগিজ কোচ।
গতকাল আল-ফেইহার বিপক্ষে ম্যাচে ৮১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারকা ফরোয়ার্ডকে বেঞ্চে ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে আইস প্যাক নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। ৪১ বছর বয়সেও দারুণ ফিট থাকলেও, এই বয়সে যেকোনো চোটই গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাতে শুধু ক্লাবই নয়, আসন্ন বিশ্বকাপে ফিট থাকার চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন রোনালদো।
ম্যাচ শেষে আল নাসর কোচ জর্জে জেসুস বলেন, ‘সে (রোনালদো) পেশির ক্লান্তি (মাসল ফেটিগ) অনুভব করেছে। আমরা ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আমি ঝুঁকি নিতে চাইনি, তাই তাকে বদলি করি। মেডিক্যাল বিভাগ তার অবস্থা মূল্যায়ন করবে, তবে সে যা অনুভব করেছে তা শুধু মাসল ফ্যাটিগ।’
রোনালদোর সামনে এখন কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ রয়েছে। আল নাসর নিশ্চিত করেছে, আগামী ৪ মার্চ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আল ওয়াসল–এর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
লিগ শিরোপার লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, এমন সময়ে দলের সেরা ফুটবলারের চোটে বড় হোঁচটই খেতে হবে আল নাসরকে। এর সঙ্গে আছে বিশ্বকাপের ঘনিয়ে আসার চিন্তা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপই রোনালদোর ‘লাস্ট ডান্স’। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষবার নেমে প্রথমবার পর্তুগালকে বিশ্বকাপ জেতানোর অপেক্ষায়ই যে আছেন রোনালদো।
অবশ্য চোট একপাশে রেখে দারুণ ছন্দেই আছেন রোনালদোর। বর্তমানে লিগে-এর সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন পর্তুগাল অধিনায়ক। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর গোল সংখ্যা ২১। তালিকার শীর্ষে আছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ইভান টনি। ২৩ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন আল আহলির ফরোয়ার্ড।
রোনালদোর পারফরম্যান্সে দারুণ ছন্দে আছে আল নাসরও। লিগে ২৪ ম্যাচে ২০ জয়ে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ক্লাবটি। সমান ম্যাচে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আল আহলি।

কুইন্সল্যান্ডে রবিনার সবুজ মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াই। অথচ ইরানের মেয়েদের মন পড়ে ছিল অন্যখানে। রণক্ষেত্র স্বদেশ। ধোঁয়া আর মৃত্যু সংবাদে ভারি আকাশ বাতাশ। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন খবরে শোকতুর গোটা দেশ। সেই শোক আর আতঙ্ক নিয়েই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলন ইরানের মেয়েরা।
রবিবার এএফসি এশিয়ান কাপের লক্ষ্যে জাহারা সালবালি ও মালেকি মোতেভালিরা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করলেও এসবই জানা তাদের। ম্যাচ কিংবা সংবাদসম্মেলন—সব জায়গাতেই ঘুরে ফিরে ইরানের খবর, যুদ্ধের খবর। সেসব মাথায় রেখেই ফুটবলীয় যুদ্ধে নামে তারা। তবে ইরানের যাত্রা হয়েছে ৩-০ গোলে হার দিয়ে। হারের চেয়েও তাদের দৃঢ় মানসিকতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বুকে পাথরচাপা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াকে অনেকেই স্কোরলাইনের চেয়েও বড় করে দেখছেন।
লড়াইয়ে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ২১। বিপরীতে ৬১ নম্বরে অবস্থানে ইরান। ম্যাচেও তা পরিলক্ষিত হয়েছে। ইরানের মেয়েদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে শুরু থেকেই। প্রায় ৮০ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণে ছিল কোরিয়ার। ৩০টি শটের ১০টিই ছিল গোলমুখে। ৮টি কর্নার আদায় করে কোরিয়া।
কোরিয়ার বিপরীতে ইরানের গোলকিপার যেন গোল বার বাঁচাতেই ব্যতিব্যস্ত ছিল বেশি। বারবার রক্ষণে চিড় ধরেছে। আক্রমণভাগেও ছিল না ধার। গোলমুখে ইরান শট নিতে পেরেছে কেবল দুটি। ২১ শতাংশ বল ছিল তাদের দখলে।
ইরান তিন গোলের একটি প্রথমার্ধে হজম করে বাকি দুইটি দ্বিতীয়ার্ধে। ৩৭তম মিনিটে ফরোয়ার্ড চো ইউ-রি কোরিয়াকে লিড এনে দেন। আর দ্বিতীয়ার্ধে কিম হাই-রি ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি এবং ৭৫ মিনিটে দলের লিড তিনগুণ করেন।
এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে ইরান ও কোরিয়া। তাদের গ্রুপে রয়েছে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া। ইরানের বিপক্ষে বড় জয়ে গ্রুর্পে শীর্ষে কোরিয়া।

নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বন্দ্ব থামছে না। স্প্যানিশ ফুটবলে আলোচিত এই মামলায় এবার ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা বার্সেলোনাকে বড় শাস্তি দিতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস রিয়াল মাদ্রিদের।
স্পেনের সাংবাদিক রামোন আলভারেজের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেগ্রেইরা মামলায় শাস্তিমূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও শিগগিরই তা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে মনে করছে রিয়াল। তাদের ধারণা, তদন্ত এগোলে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
রিয়াল সভাপতি শুরু থেকেই এ ইস্যুতে সরব। তিনি প্রকাশ্যে বার্সেলোনাকে কটাক্ষ করেছেন এবং ক্লাবের আইনজীবীরাও বার্সা সভাপতির সাক্ষ্যগ্রহণের সময় প্রশ্ন তোলেন। এমনকি যে সময়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্ক, সেই সময়কার অডিট প্রতিবেদন ও আর্থিক নথি দেখতে চেয়েছিল রিয়াল, যদিও তদন্তকারী বিচারক সেই আবেদন খারিজ করেন।
নেগ্রেইরা মামলায় সাবেক রেফারি কমিটির কর্মকর্তা হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরাকে দেওয়া অর্থপ্রদানের বিষয়টি ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে বার্সেলোনা। রিয়াল মহলের ধারণা, আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়াও এই স্বীকারোক্তিই উয়েফার শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
ইউয়েফার বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার—এক বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত—শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
তবে বার্সেলোনা সাম্প্রতিক সময়ে উয়েফার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে বলেও জানা গেছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফোরামের (ইসিএফ) সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্প থেকে সরে আসার পেছনে এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। উল্লেখ্য, সুপার লিগ ইস্যুতে রিয়ালও শেষ পর্যন্ত পিছু হটে।
এই মুহূর্তে ইউয়েফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নেই। তবু রিয়াল মাদ্রিদের বিশ্বাস, শিগগিরই শাস্তিমূলক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে এবং নেগ্রেইরা কাণ্ডে বড় সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে পারে বার্সেলোনা।