
কদিন পর পরই অদ্ভুত আর আপত্তিকর ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনায় আসবেন হোসে মরিনিয়ো, এটাই যেন নিয়ম। কোচিং ক্যারিয়ারে হরেদরে বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দেওয়া অভিজ্ঞ এই কোচ এবার পর্তুগালের শীর্ষ লিগে পোর্তোর বিপক্ষে ম্যাচে দেখলেন লাল কার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বহিষ্কার হওয়ার ঘটনার রেশ না কাটতেই আবার লাল কার্ড দেখতে হলো তাকে।
পোর্তোর বিপক্ষে গতকাল ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের শেষদিকে ঘটে আপত্তিকর ঘটনা। যোগ করা সময়ের একটি ঘটনায় বেনফিকার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডিকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। সেটাই যেন ক্ষুব্ধ করে তোলে মরিনিয়োকে। পরে লকার রুমে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ দলের স্টাফদের উদ্দেশ করে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করায় তাকেও লাল কার্ড দেখান রেফারি।
অবশ্য ম্যাচের পর লাল কার্ড দেখার অন্য কারণ শোনা গেল মরিনিয়োর মুখে। পোর্তোর সাবেক এই কোচ বলেন, ‘রেফারি আমাকে বলেছেন যে, পোর্তো বেঞ্চের দিকে একটি বল ছুঁড়ে মারায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু এটা পুরোপুরি মিথ্যা।অনেক সময়ই, যখন আমরা গোল করি, আমি স্ট্যান্ডে বল কিক মারি কোনো এক ভাগ্যবানকে (দর্শককে) সুযোগ দিতে। আমি জানি, টেকনিক্যালি আমি খুব ভালো নই, কিন্তু শটটা গ্যালারির দিকে ছিল। আমাকে অন্যায্যভাবে লাল কার্ড দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ অফিসিয়াল গোটা ম্যাচ জুড়েই খুব খারাপভাবে দায়িত্ব সামলেছে।’
৬৩ বছর বয়সী মরিনিয়োর অভিযোগ পোর্তোর কোচ তাকে নাকি পঞ্চাশবার ‘বিশ্বাসঘাতক বলে গালি দেন, ‘তিনি আমাকে পঞ্চাশবার বিশ্বাসঘাতক বলেছেন। আমি জানতে চাই, বিশ্বাসঘাতক কী হওয়ার জন্য? আমি পোর্তোতে গিয়েছিলাম, আমার প্রাণ উৎসর্গ করেছি। এরপর চেলসি, ইন্টার, রিয়াল মাদ্রিদ—সারা বিশ্বের ক্লাবে কাজ করেছি, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা দিয়েছি। এটাকেই আমি পেশাদারিত্ব বলি।’
মরিনিয়ো আরও যোগ করেন, ‘আমি এটা পছন্দ করি না। ভক্তদের গালি আলাদা, সেটা ফুটবল। কিন্তু একজন পেশাদারের কাছ থেকে? তিনি ও একজন পেশাদার, বিভিন্ন জার্সি পরেছেন, আমি বুঝতে পারছি না। বিশ্বাসঘাতক কেন? সব কিছু দেওয়ার জন্য বেনফিকাকে?’
কোচিং ক্যারিয়ারে এই পোর্তোর হয়েই দারুণ সাফল্য পেয়েছিলেন মরিনিয়ো। তাঁর অধীনে পর্তুগিজ ক্লাবটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে। ২০০১ সালে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে আড়াই বছর ডাগ-আউটে ছিলেন তিনি।
২০০০ সালে বেনফিকাকে প্রথম দফায় কোচিং করানোর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফেনেরবাচে থেকে দ্বিতীয় দফায় বেনফিকায় যোগ দেন মরিনিয়ো। এই মৌসুমে লিগ জয়ের দৌড়ে মরিনিয়োর বেনফিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দী পোর্তো ও স্পোর্টিং সিপি। পোর্তোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর ২৫ ম্যাচে ৫৯ নম্বর নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে আছে বেনফিকা। সমান ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পোর্তো। দুই নম্বরে থাকা স্পোর্টিংয়ের পয়েন্ট ৬২।
No posts available.
৯ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
৯ মার্চ ২০২৬, ৩:৫২ পিএম

এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে তিন খেলায় শতভাগ পরাজয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে চীনের কাছে ২-০, পরের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং শেষ খেলায় আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে হেরেছে পিটার বাটলারের দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ান মঞ্চে নিজেদের অবস্থান জানতে পারল লাল সবুজের মেয়েরা। তবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং নিবেদনে অসন্তুষ্ট নন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। সঠিক পরিকল্পনার ঘাটতির কথা বলেছেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ।
প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলার পর স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে পরের এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করার জন্য কোচের পরিকল্পনা কি। এমন প্রশ্নের উত্তরে বাটলার বলেন,
‘আমি এখানে থাকছি না। আমি আগামী সপ্তাহে ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছি এবং সেখানে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবব। আমি কী করতে চাই, সেটা অনেকদিন ধরেই আমার মাথায় ঘুরছে।’
‘সবার আগে আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে। ভিডিও সরঞ্জামাদী এবং ক্যামেরা দিয়ে শুরু করতে হবে। পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। আপনি যদি বড় দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে চান, তবে বুঝতে হবে যে সাফ লেভেলের চেয়ে এই লেভেলটা অনেক উঁচুতে। সাফে আপনি আসলে সেভাবে পরীক্ষিত হন না।’ বলেন বাটলার।
পরিকল্পনার কথা বলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন বলেও জানান বাংলাদেশ কোচ। তাঁর অধিনে সবশেষ ২০২৪ সালের সাফে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এরপর গত জুন-জুলাইয়ে মিয়ানমারে হওয়া এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে কোয়ালিফাই করেন রুপনা, ঋতুপর্ণা, মনিকা চাকমারা। বয়সভিত্তিক সাফেও আছে তাঁর শিরোপা।
বাটলারের সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চুক্তি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখনই তাই কোচের থাকা, না থাকা নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই। তবে আজ সংবাদ সম্মেলনে তাঁর নিজের বলা ‘আমি এখানে থাকছি না’ থেকেই সন্দেহের উদ্রেক। এ নিয়ে আবার জানতে চাইলে কোচ বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব, আমার কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বের হব এবং এরপর আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবব। কারণ যেভাবে প্রত্যাশা ছিল, সেভাবে সাহায্য বা সাপোর্ট না পেলে আমি দায়িত্ব চালিয়ে নিতে পারছি না।’
পরিকল্পনার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বাটলার বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। আমাদের পরিকল্পনায় অনেক ঘাটতি আছে।’ তারপরও এই টুর্নামেন্ট থেকে ইতিবাচক অনেক কিছু পেয়েছেন বলে জানান তিনি, ‘অনেক কিছু শেখার আছে। আপনি যদি মন খোলা রাখেন, তবে অনেক কিছুই শিখতে পারবেন। আমি ইংলিশ ফুটবলের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছি, তাই আমি বাস্তববাদী। আমি রূপকথার জগতে বাস করি না।’

যুদ্ধের ঢামাঢোলে উত্তপ্ত দেশ। রাজনৈতিক বৈরতা আর বাতাসে বারুদের গন্ধ। তেহরানের আকাশে শঙ্খচিল উড়াউড়ির বদলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের স্টেলথ যুদ্ধবিমানের চোখ রাঙানি। প্রাণনাশি ক্ষেপণাস্ত্র মাড়িয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল। শত শত বসতভিটা বোমার আঘাতে ভাগাড়ে প্রাণহীন।
১৩শ মাইল দূর থেকে এসব কেবলই যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাহরা গনবারিদের জন্য। এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপ অংশ নিতে জাহরার নেতৃত্বে ইরান নারী ফুটবল দল যখন পা রাখে অস্ট্রেলিয়া, তখন তেহরানে বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অসংখ্য নেতা নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায়। সেসবের মাঝেই খেলা চালিয়ে গেছেন ইরানের মেয়েরা।
যেখানে দুঃখ আর বুকের পাঁজর চাপা কষ্ট, সেখানে খেলা চালিয়ে যাওয়াটাও দুর্ভেদ্য। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে ইরানের মেয়ে। সবশেষ ফিলিপাইনের বিপক্ষে ২-০ গোলের ব্যর্থতায় বিদায়ঘণ্টা বাজে। এশিয়াসেরা মঞ্চে দ্বিতীয়বার অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করতে পারেনি তারা।
তিনে-শূন্য হারের পরও হৃদয় জয় করেছে দিদাররা। তাদের দৃঢ়তা এবং দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার আত্মবিশ্বাস অনেকের কাছে প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ম্যাচের আগে সামরিক স্যালুট বা দেশের জন্য লড়াই করা দিদাররা এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায়।
যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় ইরান নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে ইরানের প্রতিটি স্থানে হুমকি বিদ্যমান—হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ বা আবাসিক এলাকা—কেউই নিরাপদ নয়। সেই কারণে রবিবার গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার পর ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা এবং অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে ইরানের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
রবিবার ফিলিপাইনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম থেকে দলের বাস বের হওয়ার সময় শত শত সমর্থক বাসটিকে ঘিরে ধরে। তারা ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচান’ স্লোগান তুলে।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইরান নারী দলের জাতীয় সংগীত না গাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দ্বিগুণ হয়। এই ঘটনায় সমালোচনা শুরু হয় এবং এক সমালোচক এটিকে “যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতকতা” বলে আখ্যা দেন, কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও মানবাধিকার কর্মী ক্রেইগ ফোস্টার বলেন,
“তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের সবারই যুক্তিসংগত ও গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।” তিনি বিবিসিকে বলেন, “যখন কোনো দল ফিফা নিয়ন্ত্রিত টুর্নামেন্টে অংশ নেয়—হোক সেটা এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বা অন্য কোনো কনফেডারেশন—তখন তাদের নিরাপদ থাকার অধিকার থাকতে হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশের সুযোগও থাকতে হবে।”
দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের বিপক্ষে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গেয়ে সালাম দিয়েছে। সমালোচকেরা মনে করছেন, দেশের কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে তারা জাতীয় সংগীত গাইতে বাধ্য হয়েছেন।
শেষ ম্যাচে উপস্থিত এক সমর্থক বলেন, “সত্যি বলতে আমরা এটা আশা করি না, কারণ আমরা জানি এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত।” রবিবার স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ইরানি কমিউনিটির শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় তারা শিস ও প্রতিবাদ করেছে।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে অনেক সমর্থক “লায়ন্স এন্ড সান” পতাকা উড়িয়ে দেন—যেটি ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় পতাকা ছিল। স্টেডিয়ামের বাইরে কেবল বর্তমান সরকারি পতাকা প্রদর্শনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তারা গোপনে পতাকাগুলো ভেতরে নিয়ে আসে।
ম্যাচ দেখতে আসা আরেক সমর্থক বলেন,
“তারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না, কারণ তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা এখানে এসেছি তাদের জানাতে যে আমরা পুরোপুরি তাদের পাশে আছি।”
খেলোয়াড়রা দেশে ফেরার পর কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন—এ নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে। সেই কারণে কেউ চাইলে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবিও উঠেছে। তবে কোনো খেলোয়াড় সত্যিই তা চাইবেন কি না, কিংবা চাইলে তাদের পরিবারের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে—এটি এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্রেইগ ফোস্টার বলেন, “দলের ম্যানেজমেন্ট তাদের হোটেলে প্রায় বন্দি রেখেছে। বাইরের কমিউনিটি, বন্ধু, পরিবার বা সহায়তা নেটওয়ার্ক—এমনকি আইনজীবীর সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “কারও উদ্বেগ থাকতে পারে, কারও নাও থাকতে পারে। তবে আমরা জানি তাদের অধিকাংশের পরিবার দেশে আছে, কারও কারও সন্তানও রয়েছে। তাই অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ দিলেও অনেকেই সেটা নাও নিতে পারেন।”
ফিলিপাইন ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের ম্যানেজার জাফারি বলেন, “আমরা দ্রুত দেশে ফিরে যেতে চাই। ব্যক্তিগতভাবে আমি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে আমার পরিবার ও দেশের মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই।”
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং বলেন, “আমরা ইরানের নারী ও পুরুষের প্রতি, বিশেষ করে নারী ও কন্যাদের প্রতি সংহতি জানাই। এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যা নিজের জনগণের ওপর কঠোর দমন চালিয়েছে।”
রবিবার রাতে স্টেডিয়াম থেকে দলটির বাস বের হওয়ার সময় সমর্থকদের হাতে ব্যানার দেখা যায়—যেখানে লেখা ছিল, “অস্ট্রেলিয়াতে নিরাপদে থাকো, পুলিশের সঙ্গে কথা বলো”।
বাসের ভেতরে বসে খেলোয়াড়রা বৃষ্টির মধ্যে বাইরে ঘটে যাওয়া দৃশ্য দেখছিলেন। কেউ মোবাইলে ভিডিও করছিল। কেউ এসব দেশে মৃদু হাসছিলেন ও হাত নাড়াচ্ছিলেন, আবার কেউ গম্ভীর মুখে ছিলেন। অন্তত একজনকে বাসের জানালার পর্দা টেনে দিতে দেখা গেছে।
শেষ পর্যন্ত বাসটি প্রধান সড়কে উঠে প্রায় ১৫ মিনিট দূরে দলীয় হোটেলের দিকে চলে যায়। এতে কয়েকজন সমর্থক কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সোমবার পাঁচতারকা রিসোর্টে কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে। হোটেলের সামনে ফেডারেল পুলিশ মোতায়েন ছিল। দলের কোনো খেলোয়াড়কে দেখা না গেলেও প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য হোটেলের সাধারণ জায়গায় বসেছিলেন। তারা কখন হোটেল ছাড়বে—ইরানে ফিরবে নাকি অন্য কোনো দেশে যাবে—এখনো স্পষ্ট নয়।
অ্যামেনিস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়ার শরণার্থী অধিকারকর্মী জাকি হাইদারি বলেন,
“এখানে অস্ট্রেলিয়া সরকারের উচিত নৈতিক নেতৃত্ব দেখানো। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সময়ে যখন আমরা নারীর স্বাধীনতা, সমতা ও নিপীড়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, তখন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ফুটবল মাঠ রূপ নিয়েছিল রীতিমতো রণক্ষেত্রে। ভয়াবহ সংঘর্ষ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মী সামরিক পুলিশকেও। শেষ পর্যন্ত ভিডিও দেখে দুই দলের মোট ২৩ জন ফুটবলারকে দেখানো হয় লাল কার্ড।
নজীরবিহীন এমন ঘটনা দেখা গেল ব্রাজিলের ক্যাম্পেনাতো মিনেইরোর ফাইনালে। শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে ক্রইজেরো ও অ্যাটলেটিকো মিনেইরোর ম্যাচ শেষেই শুরু হয় উত্তেজনা। ক্রুজেইরো ১–০ ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মিনেইরোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। এর মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের পর প্রথমবার মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের শিরোপা জিতল দলটি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ভয়াবহ মারামারিতে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন অ্যাটলেটিকোর গোলরক্ষক এভার্সন লুজ বল ধরতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া ক্রুজেইরোর মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ানকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং তার বুকের ওপর হাঁটু দিয়ে চাপ দেন।
এরপরই ক্রিস্টিয়ানের সতীর্থরা এগিয়ে এসে এভারসনের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে গোলপোস্টের দিকে ঠেলে দেন। মুহূর্তেই আরও খেলোয়াড় সেখানে জড়ো হলে বড় ধরনের হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মীরা দুই দলকে আলাদা করার চেষ্টা করেন।
ম্যাচ চলাকালে রেফারি ম্যাথুউস ডেলগাডো কানদানো কাউকে লাল কার্ড দেখাননি। তবে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, সংঘর্ষের কারণে মাঠে কার্ড দেখানো সম্ভব না হওয়ায় পরে ভিডিও দেখে ২৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়।
ক্রুজেইরোর গোলদাতা কাইও জর্জেসহ ১২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকোর ১১ জন খেলোয়াড় বহিষ্কৃত হন, যাদের মধ্যে সাবেক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও নটিংহাম ফরেস্টের ডিফেন্ডার রেনান লোদি এবং হাল্কও আছেন।
বিরল এই ঘটনার পর হাল্ক বলেন,
‘এটা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা এমন নজির স্থাপন করতে পারি না, কারণ এর প্রভাব সারা বিশ্বে পড়ে। আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি এবং ক্লাবের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আছে।’

গ্রুপ পর্বের শেষ খেলা। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী উজবেকিস্তান। কিন্তু উজবেকিস্তানের কাঝাকাছি মানের দল মিয়ানমারকে হারিয়েই তো গত বছর এই প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এবার উজবেকিস্তান বধ কেন নয়! এমন একটা আশা লাল সবুজ সমর্থকদের মধ্যে ছিল; কিন্তু কোনো আশাই, কোনো স্বপ্নই বাস্তবে আর ধরা দেয়নি। উজবেকিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানেই হেরে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল পিটার বাটলারের দল।
পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে উজবেকিস্তান। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন গোল হজম করে বাংলাদেশ। দারুণ এই জয়ে শেষ আটে উজবেকিস্তান। ফিলিপাইন এবং উজবেকিস্তানের সমান তিন পয়েন্ট। দুই দলের গোল গড় সমান (-২)। তবে প্রতিপক্ষের জালে বেশিবার গোল দেওয়ার সুবাদে এগিয়ে গেল উজবেকিস্তান।
এখনই ফিলিপাইনারে স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি।আগামীকাল জাপানের কাছে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় জাপানের কাছে তিন গোলের বেশি ব্যবধানে হারলে কপাল পুড়বে ভিয়েতনামের। ভাগ্য খুলবে ফিলিপাইনের।
এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবার খেলে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচেই হেরেছে। প্রথম ম্যাচে চীনের সঙ্গে ২-০ গোলে, পরের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচে মোট ১১ গোল হজম করল বাংলাদেশ। তবে বিপরীতে একটি গোলও দিতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা।
শুরু থেকে বল পজেশন ধরে রাখে বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল পজেশন ধরে রেখে ছোট ছোট পাসে আক্রমণে উঠবে বাংলাদেশ। তাতে সফলও ছিল বাংলাদেশ। বল পজেশন বেশিই ছিল বাংলাদেশের কাছে। তবে কার্যকরী আক্রমণ শানাতে না পারায় প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা যায়নি। উল্টো ১০ মিনিটে গোল হজম করে চাপে পড়ে বাংলাদেশই। দ্বিতীয়ার্ধে বদলির পর আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে উজবেকিস্তান। বাংলাদেশের রক্ষণ তছনছ করে একের পর এক কাঁপায় বাংলাদেশের জাল।
ষষ্ঠ মিনিটে আফঈদার বাধা টপকে বক্সে ঢুকে গোলে আড়াআড়ি শট নেন উজবেকিস্তানের ফরোয়ার্ড দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা। তবে শট ছিল গোলকিপার শরীর বরাবর। কোনো অসুবিধা হয়নি মিলির জন্য। পরের মিনিটে উপরে উঠে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন মিলি। বক্সের একদম সামনে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় উজবেকিস্তান।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে যান আগের দুই ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করা মিলি। ১০ মিনিটে সেই খাবিবুল্লায়েভই লিড এনে দেন উজবেকিস্তানকে। ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়লেও মিলির হাতের নিচে দিয়ে বল গড়িয়ে যায় জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। টুর্নামেন্টে তৃতীয় ম্যাচে এসে এত দ্রুত সময়ে গোল হজম করল বাংলাদেশ।
২৩ মিনিটে আবারও পেনাল্টি এরিয়ায় ঢুকে পড়েন খাবিবুল্লায়েভা। নিশ্চিত গোলের মুখে থাকা বাংলাদেশকে দারুণ ট্যাকলে এবার বাঁচিয়ে দেন মারিয়া মান্দা। ৩১ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার সেই সিগনেচার শট। বা-প্রান্ত দিয়ে উপরে উঠে বক্সের বাইরে থেকে গোল দূরপাল্লার শট নেন বাংলাদেশের এই উইঙ্গার। তবে উজবেক গোলকিপার মাফতুনা জোনিমকুলোভা লাফিয়ে বা হাতের ছোয়ায় ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে একটা বাইসাইকেল কিক নেওয়ার চেষ্টা করে তহুরা, তবে সফল হননি।
৪২ মিনিটে দারুণ সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। বক্সে বল পেয়ে যান তহুরা। তবে গোলকিপার উপরে উঠে আসায় এবং কয়েকজন ডিফেন্ডাররের বাধার মুখে কোহাতির কাছে ব্যাকপাস দেন তহুরা। কিন্তু ফাঁকা গোলের সুযোগ নিতে পারেননি কোহাতি। দুর্বল শট নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা।
বিরতির পর প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ায় বাংলাদেশ। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে। তবে ৫২ মিনিটে গোলের সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন প্রথম খাবিবুল্লায়েভা। গোলমুখের সামনে পাওয়া ক্রসে তার টোকা বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।
৬২ মিনিটে উজবেকিস্তানের এক সংঘবদ্ধ আক্রমণে আরও পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের তিন ফুটবলার সমান্তরালে বক্সে ঢুকে পরেন। সতীর্থের ক্রস থেকে বদলি ফুটবলার নজিনোভা ঠান্ডা মাথার প্লেসিং শটে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
গোল হজমের পরই তিন পরিবর্তন আনেন কোচ, মাঠে নামেন সৌরভী আকন্দ প্রীতি, শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং হালিমা আক্তার। তবে ৬৬ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন দিলদোরা নোজিমোভা। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল করলেন উজবেক ফরোয়ার্ড। ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ায় বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে যায় এই গোল হজমের পর।
৮২ মিনিটে বক্সের সামনে থেকে প্রীতির দূরপাল্লার জোরালো শট বা দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন উজবেক গোলকিপার। পরের মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের শট যায় পোস্টের উপর দিয়ে। ৮৮ মিনিটে দারুণ গোলে ব্যবধান ৪-০ করেন নিলুফার কুদরাতোভা। এই গোলেই এশিয়ান কাপের পরের রাউন্ডের দরজা খুলে যায় উজবেকিস্তানের সামনে।

এএফসি এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় উজবেকিস্তানকে মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে পিটার বাটলারের দল। পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে লড়ছে বাংলাদেশ।
এদিন ষষ্ঠ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের বাধা টপকে বক্সে ঢুকে গোলে আড়াআড়ি শট নেন উজবেকিস্তানের ফরোয়ার্ড দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা। তবে শট ছিল বাংলাদেশ গোলকিপার শরীর বরাবর। কোনো অসুবিধা হয়নি মিলির জন্য। পরের মিনিটে উপরে উঠে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন মিলি। বক্সের একদম সামনে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় উজবেকিস্তান। তা থেকে কোনো বিপদ অবশ্য ঘটেনি।
আরও পড়ুন
| প্রথমবারের মতো একাদশে আনিকা |
|
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে যান আগের দুই ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করা মিলি। ১০ মিনিটে সেই খাবিবুল্লায়েভই লিড এনে দেন উজবেকিস্তানকে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেও মিলির হাতের নিচে দিয়ে বল গড়িয়ে যায় জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। টুর্নামেন্টে তৃতীয় ম্যাচে এসে এত দ্রুত সময়ে গোল হজম করল বাংলাদেশ।
২৩ মিনিটে আবারও পেনাল্টি এরিয়ায় ঢুকে পড়েন খাবিবুল্লায়েভা। নিশ্চিত গোলের মুখে থাকা বাংলাদেশকে দারুণ ট্যাকলে এবার বাঁচিয়ে দেন মারিয়া মান্দা। ৩১ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার সেই সিগনেচার শট। বা-প্রান্ত দিয়ে উপরে উঠে বক্সের বাইরে থেকে গোলে দূরপাল্লার শট নেন বাংলাদেশের এই উইঙ্গার। তবে উজবেক গোলকিপার মাফতুনা জোনিমকুলোভা লাফিয়ে বা হাতের ছোয়ায় ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে একটা বাইসাইকেল কিক নেওয়ার চেষ্টা করেন তহুরা, তবে সফল হননি।
৪২ মিনিটে দারুণ সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। বক্সে বল পেয়ে যান তহুরা। উজবেক গোলকিপার উপরে উঠে আসায় এবং কয়েকজন ডিফেন্ডাররের বাধার মুখে কোহাতির কাছে ব্যাক পাস দেন তহুরা। ফাঁকা গোলের সুযোগ নিতে পারেননি কোহাতি। দুর্বল শট নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লাল সবুজের মেয়েরা।