
কূলে গিয়ে তরী ডোবানোর কষ্ট ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে বেশি জানা আর কার! এফএ কাপের বিগত দুই মৌসুমের ফাইনাল দেখলেই স্পষ্ট কতটা হা-পিত্যেশ আর হতাশায় কাটিয়েছে ইতিহাদের ক্লাবটি। এবার সেই বৃত্ত ভাঙার চ্যালেঞ্জ পেপ গার্দিওলার দলের।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপের ফাইনালে ম্যানসিটিকে আতিথ্য দেবে চেলসি। এই লড়াই দুই দলের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ নিয়ে হাজির ।
আর্সেনালকে হারিয়ে চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যে কারাবাও কাপ জিতেছে ম্যানসিটি। এবার তাদের নজর ঘরোয়া ‘কাপ ডাবল’ এর দিকে। লিগ শিরোপার আশা কিছুটা ফিকে হয়ে আসায় পেপ গার্দিওলার পুরো মনোযোগ এখন এই ট্রফিতে। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে গত ম্যাচে আর্লিং হালান্ড, রায়ান চেরকি এবং জেরেমি ডকুদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল কেবল এই ফাইনালের কথা মাথায় রেখে। নতুন প্রজন্মের ও’রিলি, মার্ক গেয়িহে এবং জিয়ানলুইজি দোনারুম্মাদের মতো অভিজ্ঞদে নিয়ে গড়া সিটির এই ব্যালেন্সড দলটি চায় জয়ের ধারা বজায় রাখতে।
চেলসির জন্য এই মৌসুম অনেকটা দুঃস্বপ্নের মতো। তিনবার কোচ বদল, টানা হারের লজ্জা এবং লিগ টেবিলের ৯ নম্বরে থাকা—সব মিলিয়ে ক্লাবটি বিপর্যস্ত। তবে এই এফএ কাপ জয় করলে তাদের সামনে সুযোগ থাকবে আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগে খেলার। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেনের অধীনে চেলসি এখন ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই মাঠে নামবে।
গত তিনবার ফাইনালে উঠেও (২০২০, ২০২১, ২০২২) রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ব্লুজদের। এবার এনজো ফার্নান্দেজ এবং কোল পালমারদের জাদুতে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চায় তারা।
মুখোমুখি লড়াইয়ে ২৭ বার জিতেছে ম্যানসিটি, ১২ বার চেলসি। তাদের সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। দুদল সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল প্রিমিয়ার লিগে। সেই ম্যাচে ০-৩ গোলে জিতেছে সিটি। এমনকী সবশেষ পাঁচ ম্যাচে হারেনি গার্দিওলার শিষ্যরা।
পরিসংখ্যান আর সাম্প্রতিক ফর্ম বিচারে সিটিজেনরা যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও এফএ কাপের সৌন্দর্যই হলো এর অনিশ্চয়তা। একদিকে মৌসুমের শেষটা রাঙানোর মিশন গার্দিওলার, অন্যদিকে বিপর্যস্ত চেলসির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আজ ওয়েম্বলির সবুজ ঘাসে কে শেষ হাসি হাসবে—তা দেখতে মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব। হয়তো এই ‘ম্যাজিক অব দ্য কাপ’-ই লিখে দেবে চলতি মৌসুমের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর কোনো গল্প।
No posts available.
১৫ মে ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
১৫ মে ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আইভরি কোস্টের দল ঘোষণা করেছেন প্রধান কোচ ইমার্স ফায়ে। দলে জায়গা পেয়েছেন দুজন বংশোদ্ভুত ফুটবলার। সম্প্রতি যারা ফ্রান্সের জাতীয়তা পরিবর্তন করেন। এর মধ্যে তরুণ স্ট্রাইকার আঙ্গে ইয়োয়ান বনি গত সপ্তাহেই জাতীয়তা পরিবর্তন করেন।
ইন্তার মিলানের ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে দলে যোগ দিয়েছেন আরেক প্রবাসী ফরোয়ার্ড ইলি ওয়াহি। তিনিও চলতি বছরের শুরুর দিকে একইভাবে জাতীয়তা পরিবর্তন করেছিলেন এবং গত মার্চের শেষ দিকে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের ১-০ গোলে জেতা ম্যাচটি খেলেন। বনি এবং ২৩ বছর বয়সী ওয়াহি, উভয়েই এর আগে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ে ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন। আগামী ৪ জুন ফ্রান্সের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের হয়ে অভিষেক হতে পারে বনির।
দলে ফেরানো হয়েছে নিকোলাস পেপেকে। বছরের শুরুতে মরক্কোয় হওয়া আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) টুর্নামেন্টের স্কোয়াডে জায়গা পাননি। প্রতিযোগিতায় আইভরিয়ানরা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয়। ৩০ বছর বয়সী সাবেক আর্সেনাল ফরোয়ার্ড চলতি মৌসুমে ভিয়া রিয়ালের হয়ে লা লিগায় ৮ গোল করেছেন।
তবে ঘোষিত এই স্কোয়াডে জায়গা হয়নি সেবাস্তিয়ান হলারের। এই স্ট্রাইকারই ২০২৪ সালে নিজেদের মাটিতে কাপ অব নেশনস জয়ের নায়ক ছিলেন। এছাড়া বাদ পড়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক আন্তর্জাতিক তারকা উইলফ্রেড জাহাও।
বিশ্বকাপে আইভরি কোস্ট রয়েছে ‘ই’ গ্রুপে। যেখানে প্রথম গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তারা ইকুয়েডর, জার্মানি এবং কুরাসাওয়ের মুখোমুখি হবে।
আইভরি কোস্ট স্কোয়াড:
গোলকিপার: ইয়াহিয়া ফোফানা (রিজেস্পর), মোহামেদ কোনে (শার্লেরোই), আলবান লাফন্ট (পানাতিনাইকোস)।
রক্ষণভাগ: ইমানুয়েল আগবাদু (উলভস), ক্লেমেন্ত আকপা (এজে অক্সারে), উসমান দিওমান্দে (স্পোর্টিং), গুয়েলা দুয়ে (রেসিং স্ট্রাসবার্গ), ঘিসলাইন কোনান (জিল ভিসেন্তে), ওডিলন কসোলা (আতালান্তা), ইভান এনডিকা (এএস রোমা), উইলফ্রেড সিঙ্গো (গালাতাসারাই)।
মধ্যমাঠ: সেকো ফোফানা (স্টেড রেনে), পারফেইত গুইয়াগন (শার্লেরোয়া), ফ্রাঙ্ক কেসি (আল আহলি), ক্রিস্ট উলাই (ত্রাবজোনস্পর), ইব্রাহিম সাঙ্গারে (নটিংহাম ফরেস্ট), জিন-মাইকেল সেরি (এনকে মারিবোর)।
আক্রমণভাগ: সাইমন আদিংগ্রা (এএস মোনাকো), আঙ্গে-ইয়োয়ান বনি (ইন্তার মিলান), আমাদ দিয়ালো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), উমর দিয়াকিতে (সার্কেল ব্রুগা), ইয়ান দিওমান্দে (আরবি লাইপজিগ), ইভান গেসান্দ (অ্যাস্টন ভিলা), নিকোলাস পেপে (ভিয়া রিয়াল), বাজুমানা তুরে (হোফেনহেইম), ইলি ওয়াহি (নিস)।

এই লিগে নিয়মিতভাবে সেল্টিক এবং রেঞ্জার্সের আধিপত্য চলে, সেখানে রেফারিদের প্রতিটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পেছনেই পক্ষপাতিত্ব আর গোপন আঁতাতের এক একটা গল্প তৈরি হয়ে যায়। কোনো রেফারিকে ‘সেল্টিকের লোক’ হিসেবে তকমা দেওয়া হয় আবার কারও বিরুদ্ধে রেঞ্জার্সের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার রেকর্ড আছে বলে অভিযোগ তোল হয়।
গত বুধবার স্কটিশ লিগের একটা ম্যাচের ঘটনা। রেফারি জন বিটন ভিএআর দেখে শেষ মুহূর্তে সেল্টিকের পক্ষে একটা পেনাল্টি দেন। ওই গোল খেয়ে মাদারওয়েল ম্যাচটা ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়। এরপরই সেল্টিকের বিরোধী সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
রাগ শুধু মাঠ বা সামাজিক মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কে বা কারা ওই রেফারি জন বিটনের ফোন নাম্বার, বাড়ির ঠিকানার মতো ব্যাক্তিগত তখ্য ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। এরপর তাঁর ওপর শুরু হয় জীবননাশের হুমকি। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, নিজের বাড়িতেই রেফারি আর তাঁর পরিবারকে রাতভর পুলিশি পাহারায় কাটাতে হয়েছে।
স্কটিশ এফএ জানিয়েছে,
‘অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার পর রেফারি জন বিটন এবং তাঁর পরিবার গত রাতটি পুলিশি নজরদারিতে নিজেদের বাড়িতেই কাটিয়েছেন।’
পরিস্থিতি যেন আরও অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভয়াবহ রূপ না নেয়, সে জন্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সবাইকে ‘সহনশীলতা ও পরিমিতিবোধ’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপে লিগ জেতার দৌড়ে তুমুল লড়াই চলছে হার্টস এবং সেল্টিকের মধ্যে। দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ১। ৩৭ ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে হার্টস। আর সমান ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট সেল্টিকের। এরমধ্যে আগামীকাল মুখোমুখি হবে দুই দল। তাতে এই ম্যাচের উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।
স্কটিশ পেশাদার ফুটবল লিগের রেফারিং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্কটিশ এফএ এক বিবৃতিতে জানায়,
‘ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টাকে স্কটিশ এফএ সম্ভাব্য সবচেয়ে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
‘মাঠের কোনো সিদ্ধান্ত সঠিক বা ভুল মনে হওয়ার ওপর ভিত্তি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা আমাদের জাতীয় ফুটবলের জন্য একটি অভিশাপ। আমরা স্কটল্যান্ড পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।’
মৌসুমের এই রোমাঞ্চকর সমাপ্তির মুহূর্তে স্কটিশ এফএ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে,
‘যারা ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন এবং নিজেদের মতামতকে অতিরঞ্জিত করে ছড়াচ্ছেন, যারা পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে রেফারিদের ভুলকে সহজ অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন এবং যারা উসকানিমূলক বিবৃতি ও পোস্ট অনুমোদন করছেন—তারা দয়া করে একটু ভাবুন। ভয়, ভীতি এবং আতঙ্কের এই পরিবেশ তৈরিতে আপনাদের অবদান ঠিক কতখানি, তা এবার একটু নিজেদেরই খতিয়ে দেখা উচিত।’

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ম্যানুয়েল ন্যয়ার। জার্মান এই কিংবদন্তি গোলকিপার বায়ার্নের সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।
বায়ার্ন মিউনিখের গোলপোস্টের নিচে ন্যয়ার মানেই যেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। ২০১১ সালে শালকে থেকে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাবটির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন তিনি। নতুন এই চুক্তির ফলে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ন্যয়ারের পথচলা ১৬ মৌসুমে পা রাখতে যাচ্ছে। আধুনিক ফুটবলে একই ক্লাবের হয়ে এত দীর্ঘ সময় কাটানোর নজির খুব কমই আছে।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ন্যয়ার তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
‘বায়ার্ন আমার কাছে শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি আমার ঘর। এই ক্লাবের হয়ে আরও কয়েক বছর খেলার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। আমাদের লক্ষ্য এখনো অনেক উঁচুতে এবং আমি আমার সেরাটা দিয়ে দলকে সহায়তা করতে চাই।’
৩৮ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গত কয়েক বছরে ইনজুরির কারণে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করলেও, মাঠে ফিরে প্রতিবারই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
বায়ার্নের হয়ে ন্যয়ার অনেকগুলো শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে টানা বেশ কয়েকটি বুন্দেসলিগা এবং দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ।

শেষ পর্যন্ত চোটের কাছে হার মানতে হলো। আর বড় দুঃসংবাদ শুনতে হলো নেদারল্যান্ডসকে। পিঠের পুরনো সমস্যা এড়াতে অস্ত্রোপচার না করার দীর্ঘ লড়াইয়ে অবশেষে হার মানলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাচ ডিফেন্ডার মাথিয়াস ডি লিখট। ফলে নিশ্চিতভাবেই ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না তাঁর।
২৬ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ডি লিখট গত বছরের ৩০ নভেম্বর ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে জয়ের পর আর মাঠে নামতে পারেননি। সেই সময় ইউনাইটেডের তৎকালীন ম্যানেজার রুবেন আমোরিম এটিকে একটি ছোটখাটো সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং আশাবাদী ছিলেন, চার দিন পর ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে হোম ম্যাচেই ফিরবেন এই ডাচ তারকা।
তবে তেমনটা ঘটেনি। এরপর ক্লাবটির পক্ষ থেকে অনেক ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিকও বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন যে ক্লাব এখনই অস্ত্রোপচারের কথা ভাবছে না। কিন্তু গত মাসে ক্যারিংটনের অনুশীলন মাঠে ডি লিখটের দৌড়ানোর সর্বশেষ চেষ্টাটি কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি।
এক বিবৃতিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জানিয়েছে,
‘মাথিয়াস ডি লিখটের পিঠের ইনজুরি সারাতে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কঠোর পরিশ্রম করার পরও, সবদিক বিবেচনা করে এই সংশোধনী অস্ত্রোপচারকেই সেরা উপায় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জানিয়েছে, তারা অন্তত ‘২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুর দিককার’ আগে ডি লিখটকে মাঠে ফিরে পাওয়ার আশা করছে না।
বিবিসি জানিয়েছে, ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটির হয়ে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতেও থাকতে পারছেন না ডি লিখট। আগামী ১৮ জুলাই হেলসিঙ্কিতে রেক্সহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইউনাইটেডের প্রাক-মৌসুম সফর শুরু হবে। তবে নিজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য দলের বাকি স্কোয়াডের সঙ্গে তিনি সফরে যেতে পারেন।
আগামী ১৪ জুন জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে নেদাল্যান্ডসের অন্য দুই সঙ্গী সুইডেন ও তিউনিসিয়া।

দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলা শেষ হচ্ছে শেমাস কোলম্যানের। চলতি মৌসুম শেষেই ইংলিশ ক্লাব এভারটন অধ্যায়ের ইতি টানবেন তিনি। মৌসুম শেষে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেই ক্লাবকে বিদায় বলবেন এভারটেরন এই কিংবদন্তি।
রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের এই আন্তর্জাতিক তারকা ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আইরিশ ক্লাব স্লিগো রোভার্স থেকে মাত্র ৬০ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে গুডিসন পার্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তাঁকে ক্লাবের স্থায়ী অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়।
২০২৪ সালে সাবেক গোলকিপার টিম হাওয়ার্ডের ৩৫৪ ম্যাচের রেকর্ড ভেঙে এভারটনের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েন কোলম্যান। প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের জার্সিতে তাঁর ম্যাচ খেলার সংখ্যা এখন ৩৭২টি, যেখানে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ২২টি গোল ও ২৪টি অ্যাসিস্ট।
এভারটনের পক্ষ থেকে কোচিং স্টাফে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কোলম্যানকে। তবে ৩৭ বছর বয়সী এই ফুল-ব্যাকক নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী গ্রীষ্মকালীন ছুটি পর্যন্ত সময় চেয়েছেন।
বিদায়বেলায় কোলম্যান বলেন,
‘এই মহান ফুটবল ক্লাবে ১৭ বছরেরও বেশি সময় কাটানোর পর, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটাই এখানে আমার শেষ মৌসুম।’
আগামী রবিবার সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে গুডিসন পার্কে এভারটনের ঘরের মাঠে তাঁর শেষ ম্যাচ।
গত কয়েক বছরই চোটের কারণে বেশ ভুগতে হয়েছে কোলম্যানকে। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ৩টি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে গত নভেম্বরে নিজের একমাত্র শুরুর ম্যাচটিতেও চোটের কারণে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই ডিফেন্ডার।
এভারটনের হয়ে রেকর্ড ১৪০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া কোলম্যান ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন,
‘ভক্তদের এই অবিশ্বাস্য সমর্থনের জন্য আমি মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনারা আমাকে কতটা সাহায্য করেছেন, তা কল্পনারও বাইরে।’