১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

রেফারির ম্যাচ শেষে বাঁশি বাজার পর ক্লাবটির সমর্থকদের চোখভরা ছিল অবিশ্বাস। মাত্রই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটনের স্বাক্ষীই যে হলো তারা। ১১৭ ধাপ এগিয়ে থাকা ক্লাবের বিপক্ষে জয়ের উদযাপন ছিল বাঁধনহারা।
এফ এ কাপে আজ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্রিস্টল প্যালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছেন ইংলিশ লিগে ষষ্ঠ সারির ক্লাব ম্যাকলেসফিল্ড এফসি। এফএ কাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এত বড় ব্যবধানে থাকা কোনো দলের বিপক্ষে জয়ের প্রথম ঘটনা এটি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দেওয়া এই জয়ে ক্লাবটি পৌঁছে গেছে এফ এ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে।
স্বরণীয় এই জয়ের পরপরই অভিনন্দনের বার্তায় ভরে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। প্যালেসের চেয়ে ১১৭ ধাপ নিচে থাকা ম্যাকলেসফিল্ড এফসি নিজেদের পোস্টে লিখেছে,
`সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ ডেভিড হারাল গলিয়াথকে! টাউন কাউন্সিল আরও যোগ করেছে, `এখনো কি বিশ্বাস হচ্ছে না? পুরো দল আর প্রতিটি স্টাফ সদস্যকে অভিনন্দন—দারুণ!’
ম্যাকলেসফিল্ডের উচ্ছসিত এক সমর্থক বলেন,
‘স্বপ্ন দেখতে আর বিশ্বাস করতে কখনো ভয় পেয়ো না। কী ফল, কী দল! গর্বে বুক ভরে গেছে, আবেগ সামলাতে পারছি না।’
কঠিন এক সময়েই নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই জয় পেয়েছে ম্যাকলেসফিল্ড। কদিন আগেই ক্লাবটির ফরোয়ার্ড ইউয়ান ম্যাকলিওড না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মাত্র ২১ বছর বয়সে, ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাসেরও কম সময় আগে প্রাণ হারান তিনি।
ডিসেম্বরে বেডফোর্ড টাউনের বিপক্ষে ন্যাশনাল লিগ নর্থের ম্যাচ খেলে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফরোয়ার্ড ইথান ম্যাকলিওডকে স্মরণ করে একজন লেখেন, ‘এই জয়টা ইথানের জন্য—অভিনন্দন।’
NON-LEAGUE MACCLESFIELD HAVE KNOCKED OUT THE REIGNING FA CUP CHAMPIONS CRYSTAL PALACE 😱
— ESPN FC (@ESPNFC) January 10, 2026
THE MAGIC OF THE CUP 🍿 pic.twitter.com/ItyLhjAaNz
ঘরের মাঠ ন্যাশনাল লিগ নর্থে খেলা ‘দ্য সিল্কম্যান’রা তাদের ৫,৩০০ ধারণক্ষমতার মাঠ মস রোজে পল ডসন ও আইজ্যাক বাকলি-রিকেটসের গোলে বিদায় করে দেয় শিরোপাধারীদের। সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে ৪৩ মিনিটে ম্যাকলেসফিল্ডকে লিড এনে দেন মিডফিল্ডার পল ডসন। ক্রিস্টল প্যালেসের ডিফেন্ডার জেডি ক্যানভটের সঙ্গে সংঘর্ষে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধেও নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান তিনি।
ম্যাচের মোড় ঘোরাতে বিরতিতে তিনটি পরিবর্তন আনেন প্যালেস কোচ অলিভার গ্লাসনার। জানুয়ারির নতুন সাইনিং ব্রেনান জনসন, মিডফিল্ডার উইল হিউজ ও ডিফেন্ডার টাইরিক মিচেল মাঠে নামেন। কিন্তু এই পরিবর্তনেও প্রাণ ফেরেনি নিষ্প্রভ সফরকারীদের খেলায়।
বরং ম্যাকলেসফিল্ডই ব্যবধান বাড়ানোর আরও কাছে পৌঁছে যায়। যখন জেমস এডমন্ডসনের জোরালো শট ঠেকাতে দারুণ সেভ করতে হয় প্যালেস গোলরক্ষক ওয়াল্টার বেনিতেজকে।
এর আগে টানা আট ম্যাচ জয়হীন থাকা স্বাগতিকরা ৬০ মিনিটে যেন স্বপ্নের জগতে পৌঁছে যায়। ফরোয়ার্ড আইজ্যাক বাকলি-রিকেটস দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান ২-০ করেন। ম্যাচের শেষদিকে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া প্যালেস লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে। ৯০ মিনিটে ইয়েরেমি পিনোর নেওয়া অসাধারণ ফ্রি-কিক গোলরক্ষক ম্যাক্স ডিয়ার্নলিকে পরাস্ত করলে উত্তেজনাপূর্ণ সমাপ্তির ইঙ্গিত মেলে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৃঢ়তা দেখিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে ম্যাকলেসফিল্ড। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই সমর্থকরা মাঠে ঢুকে পড়েন আনন্দে, আর গ্যালারিতে উপস্থিত ওয়েন রুনি চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি—তার ভাই জন রুনির কোচিংয়েই এফএ কাপের ইতিহাসে সম্ভবত সর্বকালের সেরা অঘটনের একটি রচিত হয়।
ম্যাকলেসফিল্ড এফসিকে একটি ফিনিক্স ক্লাবও বলা যায়। এর পূর্বসূরি ম্যাকলেসফিল্ড টাউন এফসি ১৮৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ইংলিশ ফুটবলের নিচের স্তরগুলোতে খেলেছে। তবে গুরুতর আর্থিক সংকট, খেলোয়াড় ও স্টাফদের বকেয়া বেতন এবং কর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ক্লাবটি ২০২০ সালে ইংল্যান্ডের হাইকোর্টের আদেশে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ঠিক সেই শূন্যতা থেকেই একই বছর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমর্থকদের উদ্যোগে ম্যাকলেসফিল্ড এফসি গঠিত হয়। নতুন ক্লাবটি সম্পূর্ণ আলাদা আইনি সত্তা হলেও শহরের ফুটবল ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষ্যে আগের মাঠ মস রোজ এই খেলতে শুরু করে। তারা একেবারে নিচের স্তর, নর্থ ওয়েস্ট কাউন্টিজ লিগ থেকে যাত্রা শুরু করে এবং অল্প সময়ের ন্যাশনাল লিগ নর্থে উঠে আসে। ঘুরে দাড়ানোর এই গল্পে ক্লাবটি পূর্ণতা দিল ঐতিহাসিক এক জয়ে।
No posts available.
১১ মার্চ ২০২৬, ১:১৮ পিএম
১১ মার্চ ২০২৬, ১১:১৭ এম

বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের দু’টি প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন নেইমার। ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে সান্তোসের তারকা ফুটবলারকে প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখেন কার্লো আনচেলোত্তি। তবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার আগে নেইমারের চোটে পড়া তো অলিখিত নিয়ম। এবারও সেই নিয়মের বত্যয় ঘটেনি।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ ও ‘ইউওএল’ এ খবর জানিয়েছে মাংসপেশিতে আবারও চোট পেয়েছেন নেইমার। আজ মিরাসলের বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচে খেলতে পারেনি ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ন ছিল নেইমারের জন্য। কারণ সেলেসাওদের কোচ আনচেলোত্তি এই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখেই শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন যে সান্তোসের তারকাকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা যাবে কি না।
বিশেষ এই ম্যাচটিতে খেলতে না পারায় নেইমারের ওপর চটেছেন সমর্থকদের একটি অংশ। একের পর এক চোট এমনিতে নিজের ওপরই বিরক্ত পিএসজির ও বার্সেলোনার সাবেক তারকা, এরমধ্যে সমালোচনা নেইমারের গায়ে অনেকটা কাঁটা গায়ে নুনের ছিটার মতোই লাগল।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আজ একটি ভিডিও পোস্ট করেন নেইমার। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি মিরাসোলের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার কারণে যে সমালোচনার শিকার হয়েছেন তা নিয়ে মতামত জানান। নেইমার বলেন, তিনি নিজের প্রতি সমালোচনা বুঝতে পারছেন না, তবে নিশ্চিত যে তিনি যা কিছু করবেন, তার সমালোচকরা তা সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ করবেন।
নেইমার বলেন,
‘আমি যদি চোট নিয়ে খেলি, আমি দোষী। আমি যদি নিজের কথা ভাবি, আমি দোষী। আমি যদি নিজেকে সামলাই, আমি দোষী। আমি যদি ব্যথার মধ্যে খেলি, তাও আমিই খারাপ।’
নিজের জীবন নিয়ে নেইমার যেন ক্লান্ত-বিধ্বস্ত। ভিডি বার্তায় নেইমারের কণ্ঠে ছিল রাগ, অভিমান,
‘আমি হওয়া সত্যিই কঠিন… সবাইকে সন্তুষ্ট করা খুব কঠিন।’
নেইমার সবশেষ ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেন ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর ধারাবাহিক চোটের কারণে আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। এই মৌসুমে সান্তোসের হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলে ২টি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার।

ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাধা নেই—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইরানকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেন এই বলে যে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলমান থাকলেও তা বিশ্বকাপে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
ফিফা প্রেসিডেন্ট আশার বাণী শুনালেও ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ।
১১ জুন থেকে শুরু বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। বিশ্বকাপে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ম্যাচ রয়েছে প্রধান হোস্ট যুক্তরাষ্ট্রে। যেখানে গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচ রয়েছে। শঙ্কাটা দ্বিগুণ তাতে।
যুদ্ধের শুরুর দিকে মিনাব শহরে একটি স্কুলে বোমা হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপিয়েছে ইরান। এই হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিকে মেহদি বলেন, ‘আমেরিকার রাষ্ট্রপতি দুটি টুইটে আমাদের খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে লিখেছেন…এবং যদি অস্ট্রেলিয়া তা না করে, তাহলে তিনি সেটা করবেন। তিনি মিনাবে আমাদের শিশুদের হত্যা করে ১৬০ জনকে শহীদ করেছেন, আর এখন আমাদের মেয়েদের অপহরণ করছেন। এ পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হতে পারি?’
বিশ্বকাপের পাশাপাশি এএফসি উইমেন’স এশিয়া কাপে ইরানের পাঁচ নারী ফুটবলারের আশ্রয় গ্রহণ এবং জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন মেহেদি। তার মতে, ইরানের নারী ফুটবলারদের অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের আগে অপহরণ করা হয়েছে।
মেহেদি তাজ দাবি করেন, পাঁচ নারী খেলোয়াড়কে অপহরণ করা হয়েছে এবং দলকে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের সময় বাধা দেওয়া হয়েছে, ‘খেলার পর দুঃখজনকভাবে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ এসে হস্তক্ষেপ করেছে এবং আমরা যে সংবাদ পেয়েছি, সে অনুযায়ী, হোটেল থেকে এক বা দুজন খেলোয়াড়কে বের করে নিয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়া সফরে আসা ইরান নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার পর এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, আশ্রয় চাওয়া এক সদস্য তার সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিডনি থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল ইরানের নারী ফুটবল দল। এর ঠিক আগে একজন খেলোয়াড় এবং একজন সাপোর্ট স্টাফ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এর আগে আরও পাঁচজন খেলোয়াড় একইভাবে আবেদন জানিয়েছিলেন।
এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে ২ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গেয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন ইরানের ৫ ফুটবলার। তাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবামাধ্যমে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন তারা। দেশে ফিরলে নিপীড়নের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছিলেন ইরানের ঐ পাঁচ খেলোয়াড়।
আরও পড়ুন
| ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর বৈঠক, ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সুখবর |
|
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সিডনি বিমানবন্দরে প্রতিটি খেলোয়াড়কে দল থেকে আলাদা করে ব্যক্তিগতভাবে ভাবার সময় দেওয়া হয়েছিল। অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ফুটবলারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব ছিল।
বার্ক পার্লামেন্টে বলেন, ওই সদস্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করায় বাকি সদস্যদের অবস্থান জানাজানি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশ্রয়প্রার্থী বাকি সদস্যদের সেফ হাউস থেকে সরিয়ে অন্য গোপন স্থানে নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এবং আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরান নারী ফুটবল দলের অবশিষ্ট সদস্যরা আজ সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। ইরানের আকাশসীমা বর্তমানে বন্ধ থাকায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলে তারা তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া সাতজনের ভবিষ্যৎ এখন অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

হার্ভি বার্নসের গোলের পর সেন্ট জ্যামস পার্কের গগনবিদারী চিৎকারে কান পাতা দায় হয়ে ওঠে। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনাকে তটস্থ রাখা নিউক্যাসল এগিয়ে থেকেই ক্যাম্প ন্যুতে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল। তবে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগেই ভুলটা হয়ে যায়। গোল হজম করে জয়বঞ্চিত হয় স্বাগতিকরা, পিনপতন নিরবতা নেমে আসে গ্যালারিজুড়ে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকাল শেষ ষোলোর প্রথম লেগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে নাটকীয় ড্র করে বার্সেলোনা। ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পর ড্র নিয়ে ঘরে ফিরতে পেরেই খুশি বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। বিপরীতে শেষ দিকে গোল হজমের আক্ষেপেও পুড়ছেন নিউক্যাসল কোচ এডি হাও।
ঘরের মাঠে ৮৬ মিনিটে স্বাগতিকদের হয়ে প্রাপ্য লিড এনে দেন বার্নস। কিন্তু ৯৪ মিনিটে ম্যালিক থিয়াওয়ের ফাউলে ডানি ওলমো পেনাল্টি আদায় করলে স্পট-কিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান ইয়ামাল। জয়টা নিউক্যাসলেরই প্রাপ্য ছিল বলে মনে করেন ‘ম্যাগপাই’ কোচ হাও, ‘আমরা যে জয়টা প্রাপ্য ছিলাম, সেটা না পাওয়ায় আমি ভীষণ হতাশ। এটাই ফুটবল—এখানে রোমান্সের কোনো জায়গা নেই।’
আরও পড়ুন
| ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর বৈঠক, ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সুখবর |
|
দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নিউক্যাসল কোচ আরও বলেন, ‘আজ আমাদের পারফরম্যান্সে অনেক ভালো দিক ছিল। অনেক মুহূর্তে আমরা নিজেদের সেরা রূপ দেখিয়েছি। মাঠে ও মাঠের বাইরে—ক্লাব হিসেবে এটা আমাদের জন্য দারুণ বিজ্ঞাপন ছিল। আমরা আমাদের কাজটা করেছি, সমর্থকেরাও কখনোই আমাদের নিরাশ করেনি—আজও করেনি।’
শেষ মুহূর্তে গোল হজম নিয়ে হাও বলেন, ‘ম্যাচের শেষ কিক থেকে গোল খাওয়া সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন। এক সেকেন্ডের জন্য মনোযোগ হারালেই তারা শাস্তি দেবে। পুরো ম্যাচে আমরা রক্ষণে দারুণ খেলেছিলাম।’
অবশ্য ড্র হলেও ম্যাচ এখনো উন্মুক্ত খোলা রয়েছে বলে মনে করছেন নিউক্যাসল কোচ। আগামী বুধবার দ্বিতীয় লেগ খেলতে দলকে যেতে হবে স্পেনে। হাউ বলেন,
‘টাই এখনও পুরোপুরি জীবন্ত। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেছি এবং দেখিয়েছি যে নিজেদের সেরা দিনে আমরা বিশ্বের সেরাদের বিপক্ষেও খেলতে পারি।’
এদিকে ম্যাচ বার্সা কোচ স্পষ্টভাবেই স্বীকার করলেন, নিউক্যাসলই তুলনামূলক ভালো খেলেছে। শেষ দিকে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের ক্লান্তও দেখাচ্ছিল। তবে দ্বিতীয় লেগে ‘ভিন্ন বার্সেলোনা’ দেখা যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্লিক, ‘সম্প্রতি আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি, আবার দলে কিছু চোটও আছে। মার্ক বার্নাল ও পেদ্রিও কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকার পর ফিরছে। আমাদের উন্নতি করতে হবে—এটা পরিষ্কার। তবে ইতিবাচক দিক হলো ফলাফল। ১–০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করা দারুণ ব্যাপার।’
১৮ মার্চ ক্যাম্প ন্যুতে হবে ফিরতি লেগ। ফ্লিকের বিশ্বাস, ঘরের মাঠে বার্সেলোনাকে চেনা রূপেই দেখা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও চলমান সংঘাতের মধ্যেও ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরান ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারবে—এমন আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প ইরান দলের অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইনফান্তিনো। বৈঠকের পর তিনি জানান, আলোচনায় ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
ইনফান্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার সময় ট্রাম্প বলেছেন, ইরান দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসর মানুষকে একত্রিত করার সুযোগ তৈরি করে, বিশেষ করে এমন উত্তেজনাপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত হবে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ। এই আসর যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা। ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইনগলউডে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে।
আরও পড়ুন
| শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নিউক্যাসলকে থামাল বার্সেলোনা, স্লটের শততম ম্যাচে লিভারপুলের হার |
|
তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চলমান উত্তেজনার কারণে দলের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ঘোষিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রথম পর্যায়ে ইরানের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ফলে ইরানি সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ দেখার বিষয়টিও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
এদিকে ফিফা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা থাকলেও বিশ্বকাপ আয়োজন পিছিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। ফিফার বিশ্বকাপ পরিচালনা বিভাগের প্রধান হাইমো শিরগি বলেন, পরিস্থিতি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সময়ের সঙ্গে এর সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপ এত বড় একটি আয়োজন যে এটি স্থগিত করার প্রশ্নই ওঠে না। যেসব দল যোগ্যতা অর্জন করেছে, তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন ফিফার প্রধান লক্ষ্য।
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোও মনে করেন, এমন সময় বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আয়োজন মানুষের মধ্যে সংযোগ ও ঐক্য তৈরি করতে পারে। তাই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে সহযোগিতার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।