২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১:১০ পিএম

গোলের খেলা ফুটবল এমনই। পুরো ৯০ মিনিট কোনো দল যতই ভালো খেলুক, গোল না পেলে বৃথা যায় সবই। বিপরীতে যে খেলা দেখতে মোটেও ভালো লাগে না, যে খেলায় নেই কোনো ফুটবলীয় সৌন্দয্য, এমন খেলা খেলে শুধু জালে বল জড়িয়েই হাসিমুখে মাঠ ছাড়তে পারে যেকোনো দলই।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গতকাল পিএসজি ছিল প্রথম দলে। পুরো ম্যাচে খেলেছে মূলত ফরাসি ক্লাবটিই, তবে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপি। প্রতিপক্ষের মাঠে চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ বল ছিল লুইস এনরিকের দলের পায়ে। সফরকারীরা শট নিয়েছে মোট ২৮টি, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ছয়টি। যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ বল পজিশন নিয়ে ১০টি শট নিয়ে চারটি গোলমুখে রেখেছে সফরকারী দল।
এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট ম্যাচজুড়ে স্পোর্টিং সিপি ব্যস্ত ছিল কেবল পিএসজির আক্রমণ ঠেকাতে। আর এই বিষয়টিই বেশ পীড়া দিচ্ছে পিএসজির কোচ লুইস এনরিককে। প্রতিপক্ষের উপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়া একেবারেই মানতে পারছেন না চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কোচ।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পিএসজি কোচ বলেন, ‘এই ফল খুবই হতাশাজনক, এটা অন্যায়, দুঃখজনক, কারণ পুরো ম্যাচ জুড়ে আমি মাত্র এক দলের ফুটবল দেখেছি। আমরা প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেক শক্তিশালী ছিলাম, যদিও তারা ভালো দল। তারা শুধু রক্ষণই সামলেছে। কিন্তু আমরা অনেক এগিয়ে ছিলাম। ফুটবল নিয়ে এখন কথা বলাটা এই মুহূর্তে কঠিন, কারণ ম্যাচের ফল খুবই হতাশাজনক এবং একেবারেই অন্যায্য। হায় ফুটবল!’
আরও পড়ুন
| আর্সেনালের সাতে সাত, সিটি-পিএসজি কুপোকাত |
|
নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই পিএসজির কোচের। বরং প্রতিপক্ষের খেলার ধরনকেই বাজে বলছেন এনরিকে, ‘সমস্যা তো সবসময়ই থাকে, চিন্তা করবেন না, এটা কোচের দায়িত্ব, আমি এখানেই সব উত্তর দেব। এটা আমার দায়িত্ব। তবে আমি যা দেখেছি তাতে অনেক উৎসাহিত। শেষ হতাশা হলো, কারণ আমি বুঝতে পারি, আমার খেলোয়াড়রাও প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো ছিলেন। আমরা অনেক ভালো ফুটবল দেখেছি। আজ মাঠে কেবল এক দল ছিল – প্যারিস সেন্ট জার্মেইন। আমরা হেরেছি কারণ এটা বাজে ফুটবল! এটা বাজে খেলা! এমন রাতগুলো অবিশ্বাস্য। আর যখন আপনি কোচ, তখন দেখেন এই খেলা কতটা অন্যায্য হতে পারে। কিন্তু এটা মেনে নিতে হবে। আমি অনেকবার এইভাবে হেরেছি।’
পিএসজির মতো বল ধরে রেখে আক্রমণভাগে আগ্রাসী ক্লাবের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে রক্ষণ সামলে প্রতি-আক্রমণের কৌশল বেছে নেয় স্পোর্টিং সিপি। লো ব্লক খেলা এমন দলের বিপক্ষে দূরপাল্লার শট খেলাই বেশি কার্যকর। পিএসজির কোচ নাকি এমন কৌশলের আশ্রয়েই নিয়েছিলেন, ‘ম্যাচের আগে আমরা আলোচনার মাধ্যমে লো ব্লক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কিভাবে খেলব তা ঠিক করেছি, আর শট নেওয়াই এর একটি উপায়। আমি মনে করি আমরা খুব বেশি শট নিইনি, কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল জেতার জন্য। সাধারণত লো ব্লকের বিপক্ষে আপনাকে উইংস দিয়েই এগোতে হয়, যাতে ক্রসিং করা যায়। অবশ্যই, এই ম্যাচে উন্নতির বিষয় আছে, হয়তো শট নেওয়াই একটিমাত্র সমাধান নয়।
এমন হতাশার ম্যাচের পরও নিজের দল নিয়ে গর্বিত এনরিকে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষকেও অভিনন্দন জানাতেও কার্পণ্য করেননি পিএসজি কোচ, ‘তবুও আমি আজ যা দেখেছি, আমার দলের ব্যক্তিত্ব—তার জন্য আমি গর্বিত। আমি খুবই উৎসাহিত কিভাবে আমাদের দল প্রতিযোগিতায় খেলছে তা দেখে। কিন্তু ফুটবল এমনই। আমরা স্পোর্টিং পর্তুগালকে অভিনন্দন জানাই। তবে আমার কাছে এটি একটা খুবই, খুবই অন্যায্য ফল।’
এই হারের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসরে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে গেল পিএসজির। সাত ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে আছে সবশেষ মৌসুমের ট্রেবল জয়ী ক্লাবটি। আগামী ২৮ জানুয়ারি ঘরের মাঠে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই এনরিকের দলের।
No posts available.
২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

স্প্যানিশ লা লিগায় ছেলের খেলা দেখতে হাজির হয়েছিলেন ডেভিড কর্দোন কানো। গেতাফের তরুণ ডিফেন্ডার দাভিনচি জানতেন না সেটাই ছিল তাঁর সাথে বাবার শেষ দেখা। স্টেডিয়াম থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কানোসহ ৪২ জন।
রবিববার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার সেই ম্যাচে দাভিনচি হাঁটুর চোটের কারণে খেলতে না পারলেও ছেলেকে সমর্থন দিতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা। ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হুয়েলভাগামী আলভিয়া ট্রেনে ওঠেন কানো। পথে আদামুজ এলাকার কাছে ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়লে প্রাণ হারান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী দাভিনচি। বাবার সঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ে বাবার শেখানো শক্তি আর সাহসকে সামনে রেখে এগিয়ে যাবেন।
ইনস্টাগ্রামে দাভিনচি লেখেন, ‘আমার জীবনের সবকিছুই হবে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাটির জন্য, আমি কখনো হাল ছাড়ব না।’
স্প্যানিশ ফুটবল অঙ্গনেও নেমে এসেছে শোক। গেতাফে ক্লাব এক বিবৃতিতে দাভিনচির বাবার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানিয়েছে। ক্লাব জানায়, অল্প সময়ের মধ্যেই ডেভিড কর্দোন কানো সবার প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।
দাভিনচির বাবা নিজেও খেলোয়াড় ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত স্পেনের জাতীয় বিচ সকার দলে খেলেছেন। ইউরোপিয়ান লিগ জিতেছেন দুইবার, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও ছিলেন রানার্সআপ।
গেতাফের হয়ে সাতটি লিগ ম্যাচ খেলেছেন দাভিনচি। এই তরুণের দুঃসময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে তাঁর ক্লাব।

ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ভাস্কো দা গামার আক্রমণভাগের তরুণ প্রতিভা রায়ানকে দলে টানতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পথে হাঁটছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বোর্নমাউথ। ১৯ বছর বয়সী এই রাইট উইঙ্গারকে নিতে প্রায় ৩ কোটি ৬ লাখ পাউন্ডের চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
রায়ানের প্রতি প্রিমিয়ার লিগের একাধিক ক্লাব আগ্রহ দেখালেও, নিজের ক্যারিয়ার উন্নয়নের জন্য ইংল্যান্ডে খেলতে আগ্রহী এই ব্রাজিলিয়ান তরুণ। ইতোমধ্যে তিনি বোর্নমাউথের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত সপ্তাহে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে বোর্নমাউথ ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন ঘানার তারকা উইঙ্গার অ্যান্টনি সেমেনিও। তাঁর বিদায়ের পর আক্রমণভাগের শূন্যতা পূরণে রায়ানকেই সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখছে বোর্নমাউথ।
চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এটি হবে বোর্নমাউথের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি। এর আগে ২০২৪ সালে পোর্তো থেকে স্ট্রাইকার এভানিলসনকে দলে টানতে ক্লাবটি খরচ করেছিল ৩ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড।
ভাস্কো দা গামার একাডেমি থেকে উঠে আসা রায়ান ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। ২০২৩ সালে মূল দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ভাস্কোর হয়ে ৯৯ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন তিনি। বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ৩৪ ম্যাচে ১৪।
চলমান গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ইতোমধ্যে হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার এলেক্স টথকে ১ কোটি ৪ লাখ পাউন্ডে দলে ভিড়িয়েছে বোর্নমাউথ। পাশাপাশি লাৎসিওর গোলকিপার ক্রিস্টোস ম্যান্ডাসের সঙ্গেও চুক্তির পথে রয়েছে তারা।

উইয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে জয়ে ফেরানো ম্যাচে বড় ভূমিকা ছিল ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোর। মোনাকোর বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন আর্জেন্টাইন ফারোয়ার্ড। জয়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি জানিয়েছেন, তাঁর সম্পর্কে বলা কঠোর কথাগুলো ‘ভুলে যাননি’ তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ঠাসা দলে যোগ দেওয়ার পর গেইম টাইম নিয়ে প্রায়ই আফসোস করতে দেখা গেছে মাস্তানতুয়ানোকে। বদলি হিসেবেই বেশিরভাগ ম্যাচে নামতে হয়েছে তাঁকে। পর্যাপ্ত সুযোগ কিংবা চোটের কারণে বাইরে থাকায় নামের সুবিচার করতে পারেননি সেভাবে। এসময় মাস্তানতুয়ানোকে কটুক্তি করে নিন্দুকরা বলেছিলেন, রিয়ালের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে সাইনিং তিনি।
মাস্তানতুয়ানো নিজেকে প্রমাণে বেশি সময় নেননি। কোপা দেল রে তে আলবাসেতের বিপক্ষে গোলের পর এবার মোনাকো ম্যাচে গোল পেলেন তিনি। ম্যাচে ৭১ মিনিট খেলেছেন। লিগে তার এটাই প্রথম গোল। তাতেই ইতিহাস তৈরি করেছেন মাস্তান। আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের মধ্যে দ্বিতীয় কম বয়সী হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করেছেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে কমবয়সী ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ১৮ বছর ৪ মাস বয়সে গোল করেছেন এলএমটেন। আর মাস্তানতুয়ানো করলেন ১৮ বছর ৫ মাস বয়সে। তাছাড়া দুজনই একই পজিশন-রাইট উইঙ্গে খেলে থাকেন।
মোনাকোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলে মিক্স জোনে সাংবাদিকদের মাস্তানতুয়ানো বলেন,
‘যখন আমি তরুণ ছিলাম, সবাই আমার খেলা নিয়ে কথা বলতো। তারা বলতো আমি নতুন মেসি, একই সময় বলা হতো দুর্দান্ত ও ভয়ংকর ফরোয়ার্ড। অথচ এরপর আমাকে বলা হচ্ছিল, আমি নাকি রিয়ালের সবচেয়ে বাজে সাইনিং।’
তিনি বলেন,
‘আমি কখনও মনে করি না আমি মেসি। এমনকী আমি কখনও এও মনে করি না, রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বাজে সাইনিং আমি। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি সবসময়। আমি জানি আমি কি করতে পারি।’
নিন্দুকদের বাজে আচরণ কিংবা অপমানে কিছুতেই ভেঙে পড়েননি মাস্তানতুয়ানো। বরং ধৈর্য্য ধরে নিজেকে সুনিপন দক্ষতার তৈরি করেছেন। প্রস্তুত করেছেন ভবিষ্যতের জন্য।
মাস্তানতুয়ানো বলেন, ‘আমাকে নিয়ে বলা অপমানগুলো আমি ভুলিনি। বরং এগুলো আমাকে স্ট্রং করেছে।’

জীবন বোধহয় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। যে আঙিনায় ব্রাজিলিয়ান তারকা উইঙ্গারের নামে স্লোগান উঠত, সেখানেই শুনতে হয়েছে তীব্র দুয়োধ্বনি। কটুক্তি, শিস আর দুয়োধ্বনি হজম করা ভিনির মতো আবেগপ্রবণ ফুটবলারদের জন্য কঠিনই বটে। তবে কঠিন মানসিক আঘাতকে পেছনে ফেলে আবার চেনারূপে ফিরেছেন তিনি।
গতকাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মোনাকোর বিপক্ষে দলের ৬-১ গোলের বড় জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভিনিসিয়ুস। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করানোর সঙ্গে নিজে বল জালে পাঠিয়েছেন একবার। এবার অবশ্য গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। ২৫ বছর বয়সী তারকা ফুটবলারকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানিয়ে লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচ শেষে রিয়ালে সম্প্রতি দুঃস্বপ্নের মতো সময়ের কথা বললেন ভিনিসিয়ুস। পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ ঘিরে চলা গুঞ্জন এবং ক্লাবের সাম্প্রতিক কোচিং পরিবর্তন নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এখনও এক বছরের একটু বেশি সময় বাকি থাকলেও, নতুন চুক্তি নিয়ে তিনি একেবারেই শান্ত ও নিশ্চিন্ত বলে ভিনি।
আরও পড়ুন
| এবার শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ |
|
মোনাকোর বিপক্ষে রিয়ালের বড় জয়ে পর একটি সাক্ষাৎকারে নিজের রাগ-অভিমান-দুঃখ সব মন খুলে বলেন ভিনিসিয়ুস। মোভিস্টার প্লাসকে রিয়াল তারকা বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাবের জন্য খেলা খুবই জটিল, দাবিও অত্যন্ত বেশি। কিন্তু আমিও একজন মানুষ। আমি চাই না আমার নিজের ঘরে আমাকে শিস দেওয়া হোক, যেখানে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। শেষ কয়েকটি ম্যাচে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করিনি, কারণ যখনই আমি কিছু ভুল করেছি, তখন আমাকে শিস দেওয়া হয়েছে।’
অবশ্য অনেক দাম দিয়ে টিকিট কেটে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের শিস আর দুয়ো দেওয়ার অধিকার আছে মানছেন ভিনিসিয়ুস।
রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জাবি আলোনসোর বিদায়ে ভিনিসিয়ুসের যোগসূত্র আছে, এমনটাই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিনিসিয়ুস স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি জাবির প্রস্থানে কোনো প্রভাব ফেলেননি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সঙ্গে টাচলাইনে আলিঙ্গন করেন এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হতে চাইছেন না তিনি। ভিনিসিয়ুস দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আমি সবসময় সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকি, কিন্তু আমি চাই না পিচের বাইরে ঘটছে এমন বিষয়গুলোর জন্য আমার ওপর দৃষ্টিপাত করা হোক। আমি এখানে থাকতে চাই আমি এই ক্লাবের জন্য যা করেছি তার জন্য।’
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাত ম্যাচে এক গোলের সঙ্গে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস। লা লিগায় ২০ ম্যাচে সমান পাঁচটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস। বিদায়ী কোচ জাবি আলোনসোর কোচিংয়ে একেবারেই নিজের ছায়া হয়েছিলেন। এবার নতুন কোচের অধীনে চিরচেনা রূপে ফেরার দারুণ বার্তাই যেন দিলেন ভিনি। মাঠের এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটাই এখন সাম্বা তারকার আসল চ্যালেঞ্জ।

সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে এবার শ্রীলঙ্কাকে বাগে পেয়েছে বাংলাদেশ। লঙ্কান নন্দিনীদের উড়িয়ে টুর্নামেন্টে তৃতীয় জয় পেল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি হলে বুধবার শ্রীলঙ্কাকে ছয় ৬-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে চার ম্যাচে সাঈদ খোদারাহমির দলের পয়েন্ট ১০।
ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র করেছিল। তৃতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে জিতেছিল ৩-০ গোলে।
দ্বাদশ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বাংলাদেশ। একটু পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় শ্রীলঙ্কা।
অষ্টাদশ মিনিটে ম্যাচে ফেরার গোল পায় বাংলাদেশ। কৃষ্ণার সঙ্গে দুবার বল দেওয়া নেওয়া করে নিখুঁত শটে গোল করেন সাবিনা খাতুন।
প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে বাইলাইনের ওপর থেকে কৃষ্ণার কাটব্যাক থেকে সাবিনার গোলে সমতার স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য করা বাংলাদেশ তৃতীয় গোল পায় মাতসুশিমা সুমাইয়ার নৈপুণ্যে। ২৮তম মিনিটে সাবিনার কর্নারে সুমাইয়া বা পায়ে প্লেসিং শটে জাল কাঁপান।
৩৫ মিনিটে সাবিনার পাসে গেলমুখে আলতো টোকায় কৃষ্ণা রানী সরকার জাল খুঁজে নেন। তিন মিনিট পর সাবিনার বা প্রান্তে ক্রসে গোলকিপার সেভ করলে ফিরতি বলে মাসুরা পারভীনের প্লেসিং শটে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ।
শেষ মিনিটে ষষ্ঠ সাবিনার পাসে কৃষ্ণা দারুণ গোল করলে নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়।
রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় শুক্রবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।