ফুটবল

১০ শর্তে রিয়ালের কোচ হতে রাজি মরিনিয়ো, দাবি সংবাদমাধ্যমের

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

৬ মে ২০২৬, ৮:৩২ পিএম

news-details

মৌসুম শেষেই রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট ছাড়ছেন আলভারো আরবেলোয়া—এটি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। মাঠের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা ফেরাতে এখন একজন অভিজ্ঞ ও পোড়খাওয়া মাস্টারমাইন্ড খুঁজছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। রিয়ালের সম্ভাব্য কোচের তালিকায় অনেক নাম থাকলেও ফুটবল পাড়ায় গুঞ্জন— আবারও রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে হোসে মরিনিয়োর।


অবশ্য কদিন আগে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হওয়ার প্রসঙ্গ একেবারেই উড়িয়ে দেন মরিনিয়ো। বেনফিকার কোচের মতে তাঁর সঙ্গে নাকি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটির কোনো কথাই হয়নি। কিন্তু স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ এর প্রতিবেদন, রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নাকি সম্প্রতি মরিনিয়োর সঙ্গে একটি ভিডিও বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে মরিনিয়োর এজেন্ট হোর্হে মেন্ডেসও উপস্থিত ছিলেন।


এএস-এর প্রতিবেদন জানিয়েছেন, কোচিংয়ের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মরিনিয়ো বেশ কিছু স্পষ্ট ও চূড়ান্ত শর্ত দিয়েছেন। মূলত ক্লাব প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করতেই তাঁর এই কঠোর অবস্থান। যেখানে কেবল মাঠের কৌশলই নয়, বরং ক্লাবের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও দলবদলের ক্ষেত্রেও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দাবি করেছেন এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড। রিয়ালের ড্রেসিংরুমে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই মরিনিয়ো শুরু থেকে এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছেন। মরিনিয়োর দেওয়া ১০টি শর্তে বিশেষ শর্তে কী বলা আছে দেখে নেওয়া যাক।


১. চুক্তির মেয়াদ: মরিনিয়ো ঠিক দুই বছরের চুক্তিতে সই করতে চান—এর কমও নয়, বেশিও নয়। শুরুতেই এক মৌসুমের স্বল্পমেয়াদী চুক্তি বা খুব লম্বা সময়ের কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি দিতে রাজি নন। কোচ চান এই দুই বছর ক্লাব এবং তাঁর নিজের মধ্যে একটি ‘পারস্পরিক মূল্যায়নের’ সুযোগ হোক, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা থাকবে।


২. সংবামাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ: আগেরবার রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন মিডিয়া সামলাতে গিয়ে যে ভুলগুলো হয়েছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি চান না মরিনহো। তাঁর শর্ত হলো—তিনি সংবাদমাধ্যমে কেবল ‘ফার্স্ট টিম’ বা মূল দলের ফুটবলীয় বিষয় নিয়েই কথা বলবেন। ক্লাবের অন্যান্য প্রজেক্ট বা প্রশাসনিক বিষয়ে তাকে জড়ানো যাবে না; সেসব বিষয় সামলানোর জন্য ক্লাবের আলাদা একজন অফিশিয়াল মুখপাত্র থাকতে হবে।


৩. দল নির্বাচনে পূর্ণ স্বাধীনতা: পর্তুগিজ এই কোচ এই শর্তটিকে ‘নন-নেগোশিয়েবল রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাঁর টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ তিনি বরদাস্ত করবেন না। রক্ষণভাগে অবদান রাখতে অনিচ্ছুক কিংবা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে ব্যর্থ হওয়া খেলোয়াড়কে তিনি দলে রাখবেন না, তার নাম যতই বড় হোক না কেন। এই বিষয়ে তিনি ভবিষ্যতে কোনো চাপ বা আপস করতে রাজি নন।

৪. টেকনিক্যাল স্টাফ: মরিনিয়ো তাঁর বর্তমান পুরো কোচিং প্যানেল নিয়েই মাদ্রিদে আসতে চান। এই তালিকায় থাকছেন প্রথম সহকারী হিসেবে জোয়াও ত্রালাও, এছাড়া রিকার্ডো ফরমোসিনহো, পেড্রো মাচাদো, রিকার্ডো রোচা, ভিডিও অ্যানালিস্ট হিসেবে রুবেন সুয়ারেজ, ফিটনেস ট্রেইনার আন্তোনিও দিয়াজ এবং গোলকিপিং কোচ নুনো সান্তোস। আলোচনার সময় ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সাবেক রিয়াল তারকা আলভারো আরবেলোয়াকে এই স্টাফে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিলে মরিনহো তাতে কোনো আপত্তি জানাননি।


৫. আন্তোনিও পিন্টাসের বিদায়:
ফিটনেস কোচ আন্তোনিও পিন্টাসকে ক্লাব থেকে বিদায় করার বিষয়ে মরিনিয়ো অনড়। গত কয়েক বছরে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বারবার ইনজুরি বা শারীরিক সমস্যার বিষয়টি তাঁর কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া কেবল তার নিজের বিশ্বস্ত স্টাফদের নিয়েই কাজ করতে চান।


৬. চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রোটোকল: খেলোয়াড়দের চোট নির্ণয়ে আগের ভুলগুলো এড়াতে মরিনিয়ো একটি স্পষ্ট প্রোটোকল তৈরির দাবি জানিয়েছেন। কোনো খেলোয়াড় যদি চায় বা পরিস্থিতির প্রয়োজনে যেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ‘সেকেন্ড অপিনিয়ন’ বা দ্বিতীয়বার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ থাকে। এছাড়া মেডিকেল টিমের সঙ্গে কোচের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকতে হবে।


৭. খেলোয়াড় ছাঁটাইয়ের তালিকা: মরিনিয়ো মনে করেন, বর্তমান স্কোয়াড থেকে অন্তত ৭ জন খেলোয়াড়কে এই গ্রীষ্মেই বিদায় করে দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, তারা দলের বর্তমান মান বা তার টেকনিক্যাল প্রজেক্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলা ডেভিড আলাবা, দানি কারভাহাল এবং ফ্রান গঞ্জালেসের মতো খেলোয়াড়রা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নন।


৮. প্রশাসনিক যোগাযোগ কাঠামো: মরিনিয়োর দাবি হলো—প্রশাসনিক যেকোনো প্রয়োজনে তিনি কেবল ক্লাব সভাপতির সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ করবেন। সাধারণ ব্যবস্থাপক বা প্রশাসনের অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে না। অতীতে এ ধরনের একাধিক স্তরের যোগাযোগের ফলে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এই শর্ত।


৯. প্রাক-মৌসুম সফর বাতিল: দল গোছানোর সময় বিশেষ করে আমেরিকা বা এশিয়ায় বাণিজ্যিক সফরগুলো করতে আপত্তি জানিয়েছেন মরিনিয়ো। এই দীর্ঘ ভ্রমণগুলো খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন তিনি। বরং মনিরিয়ো নিজের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রীতি ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি নিতে বেশি আগ্রহী।


১০. শর্তগুলো নিয়ে কোনো আপস নয়: মরিনহো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই সবকটি শর্ত একটি ‘প্যাকেজ’ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এখানে কোনো একটি শর্ত পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো একটি শর্ত পূরণ না হলে তিনি রিয়ালের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবেন।


No posts available.

bottom-logo

ফুটবল

বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ প্রেস্তিয়ান্নি

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

৬ মে ২০২৬, ৭:৩১ পিএম

news-details

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার আগেই দুই ম্যাচ নিষিদ্ধের খবর শুনতে হলো জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নিকে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেলে বেনফিকার এই ফরোয়ার্ড মিস করতে পারেন দুটি ম্যাচ। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণের দায়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবলার।


প্রেস্তিয়ান্নি গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে তর্কে জড়ান। সে সময় ভিনিসিয়ুস তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ আনলেও প্রেস্তিয়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২৪ এপ্রিল প্রেস্তিয়ানিকে তাঁর আচরণের জন্য ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয় ইউয়েফা।


ছয় ম্যাচের এই শাস্তির মধ্যে তিনটি ম্যাচ আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। শুরুতে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল উয়েফার প্রতিযোগিতার জন্য কার্যকর ছিল। উয়েফার অনুরোধে ফিফা এই নিষেধাজ্ঞা এখন বিশ্বজুড়ে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে, আর্জেন্টিনার এই তরুণ ফরোয়ার্ডের আসন্ন বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


এর আগে গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি মাদ্রিদের বিপক্ষে প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে তদন্ত চলাকালীন ‘সতর্কতামূলক’ ব্যবস্থার কারণে প্রেস্তিয়ানি খেলতে পারেননি—যাকে শাস্তির এক ম্যাচ হিসেবে ধরা হয়েছে।


নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর উয়েফা জানায়, তারা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে এই শাস্তি বিশ্বব্যাপী কার্যকর করার অনুরোধ করেছে। বুধবার ফিফার এক মুখপাত্র জানান, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি বেনফিকা খেলোয়াড় জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানির ওপর উয়েফার দেওয়া ছয় ম্যাচের এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’


এই নিষেধাজ্ঞার শাস্তির ফলে আর্জেন্টিনা যদি প্রেস্তিয়ান্নিকে আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখে, তবে আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারবেন না। ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হয়ে এ খন পর্যন্ত মাত্র এক ম্যাচ খেললেও গত মার্চে মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দলের সঙ্গে ছিলেন।


অবশ্য ‘বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা’ কেবল ফিফার অফিশিয়াল বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ায় প্রেস্তিয়ানি তাঁর ক্লাব বেনফিকার হয়ে পর্তুগিজ লিগের শেষ দুই ম্যাচ (ব্রাগা ও এস্তোরিল প্রেইয়ার বিপক্ষে) খেলতে পারবেন। এমনকি আগামী ৭ই জুন হন্ডুরাসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচেও তার অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।


বর্ণবাদের ওই ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, বেনফিকার মাঠ এস্তাদিও দা লুজ-এ চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফ রাউন্ডের প্রথম লেগের ম্যাচে। ম্যাচ শেষে এক বিবৃতিতে প্রেস্তিয়ানি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি কখনোই ভিনি জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে কোনো বর্ণবাদী গালি দিইনি। দুর্ভাগ্যবশত সে যা শুনেছে বলে মনে করছে, তা ভুল বুঝেছে। আমি কারোর সাথেই কখনো বর্ণবাদী আচরণ করিনি। উল্টো রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আমি যে ধরনের হুমকি পেয়েছি, তার জন্য আমি লজ্জিত।’


মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার পর রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার তার দুই হাত মাথার ওপর আড়াআড়ি করে ফিফার ‘বর্ণবাদ বিরোধী প্রোটোকল’ শুরুর সংকেত দেন। এর ফলে ম্যাচটি প্রায় আট মিনিট বন্ধ থাকে। ম্যাচ শেষে রিয়ালের কিলিয়ান এমবাপে দাবি করেন, তিনি নিজে প্রেস্তিয়ানিকে অন্তত পাঁচবার ভিনিসিউসকে ‘বানর’ বলতে শুনেছেন।


বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে ইউয়েফার নিয়ম বেশ কঠোর। ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিমালায় বলা আছে— গায়ের রঙ, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে কেউ যদি কোনো ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেন, তবে তাকে কমপক্ষে ১০ ম্যাচ বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে।


bottom-logo

ফুটবল

প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নেইমার বললেন, ‘ভুল তো মানুষেরই হয়’

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

৬ মে ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম

news-details

সান্তোসের অনুশীলন মাঠে সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর ঘটনায় মুখ খুলেছেন নেইমার। নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।


গত মঙ্গলবারের দেপোর্তিভো রিকোলেতার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে সান্তোস। ম্যাচে গোল করার পর সাইডবেঞ্চে থাকা রবিনহো জুনিয়রকে জড়িয়ে ধরে সেই গোলের উদযাপন করেন নেইমার। ম্যাচ শেষে সাংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমার নিজের ভুল স্বীকার করেন। পাশপাশি সবকিছু মিটমাট করার কথাও বললেন।


নেইমার বলেন, ‘তারা (রবিনহো জুনিয়রের প্রতিনিধিরা) যদি সংবাদমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে থাকে, তবে এই যে আমি ক্ষমা চাইছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইতিমধ্যেই রবিনহো এবং তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। স্বীকার করছি, সেদিন আমি একটু বেশিই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলেছিলাম; পরিস্থিতিটা অন্যভাবেও সামলানো যেত, কিন্তু আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলাম।’


নেইমার আরও যোগ করেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে; এটা আমার ভুল ছিল, তারও ভুল ছিল, তবে আমার ভুলের পাল্লাটা একটু বেশিই ভারী ছিল। গত সোমবার আমরা আবারও সবাই একত্রিত হয়েছিলাম। আমি পুরো দলের সামনে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, সবার সঙ্গে কথা বলেছি। সে-ও ক্ষমা চেয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম বিষয়টি সেখানেই মিটে গেছে।’


গত রবিবারের অনুশীলন সেশনে নেইমারকে ড্রিবল করে কাটিয়ে যাওয়ায় রবিনহো জুনিয়রকে শারীরিক লাঞ্ছনা করেছেন—এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে সান্তোস। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড রবিনহোর ছেলে রবিনহো জুনিয়র গত মঙ্গলবার জানান, এজেন্টের উপস্থিতিতে 'প্রচণ্ড রাগের মাথায়' তিনি নেইমারের বিরুদ্ধে ক্লাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, নেইমার তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ করেন, ল্যাং মেরে ফেলে দেন এবং সজোরে গালে চড় মারেন।


ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রবিনহো জুনিয়র বলেন, ‘হ্যাঁ, এটাই ঘটেছিল (গালে চড় মারার ঘটনা)। তবে সে তখনই বুঝতে পেরেছিল যে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এরপর সে বারবার আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং আমি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছি যে আমি তার ক্ষমা গ্রহণ করেছি।’


১৮ বছর বয়সী রবিনহো জুনিয়র অবশ্য এই অভিযোগের পেছনে ক্লাব ছাড়ার কোনো উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। নিজের আইডল বা শৈশবের নায়কের কাছ থেকে এমন আচরণ পেয়ে রবিনহো জুনিয়র যে বেশ মর্মাহত, তা তার কথাতেই স্পষ্ট, ‘বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে, কারণ ছোটবেলা থেকেই নেইমার আমার আদর্শ। আমাদের আশেপাশের মানুষ এমন অনেক কথা বলছে যা সত্যি নয়; পুরো বিষয়টা এই পর্যায়ে গড়িয়েছে দেখে খারাপ লাগছে। তবে আমি এখন ঠিক আছি। আমি তাকে খুব পছন্দ করি, আমাদের কথা হয়েছে এবং সব মিটে গেছে।’

বিপরীতে নেইমার মনে করেন, তাঁর নামের ভারের কারণেই বিষয়টিকে তিল থেকে তাল করা হয়েছে, ‘অবশ্যই এটি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। বিশেষ করে এখানে ব্রাজিলে, যেখানে প্রতিদিন আমার নাম আলোচিত হয়। যারা ফুটবল খেলে তারা জানে যে এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটে—ঝগড়া, হাতাহাতি বা চড়-থাপ্পড়, যা-ই বলুন না কেন। এটাই ফুটবল, এটা খেলারই অংশ। মাঝে মাঝে বাইরের মানুষ যখন নাক গলায়, তখন তারা বিষয়টিকে বাস্তবতার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে... যা শেষ পর্যন্ত নেতিবাচকভাবে বড় আকার ধারণ করে।’


সান্তোস কোচ কুকা অবশ্য দুই খেলোয়াড়ের এই দ্বন্দ্বে ক্লাবের মনোযোগ নষ্ট হওয়ায় বেশ বিরক্ত। গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে তা ঠিক হয়নি। যদিও এমনটা হতে পারে, তবে এটি এড়ানো যেত। আমরা এটাকে ফুটবলের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে পারি না, কারণ এটি মোটেও স্বাভাবিক নয়। এখানে কে সঠিক? কেউ না। এমন পরিস্থিতিতে আসলে সবারই ক্ষতি হয়।’


কোচ আরও যোগ করেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে সান্তোসের, যার নাম ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমর্থকরা চায় দল জিতুক, ভালো খেলুক এবং গোল করুক; তারা এসব নেতিবাচক খবর অনুসরণ করতে চায় না।’


বিতর্কের মধ্যে সাম্প্রতিক মাঠের পারফরম্যান্সও যাচ্ছেতাই নেইমারের দলের। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি সান্তোস।


ফুটবল থেকে আরও পড়ুন

bottom-logo

ফুটবল

‘কেউ ভালো খেললে অনেক প্রশংসা করা হয়, একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা হয়’

 
ফুটবল করেসপন্ডেন্ট
ফুটবল করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা

৬ মে ২০২৬, ৬:০৪ পিএম

news-details

আসন্ন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এবার লাল-সবুজের দলকে নেতৃত্ব দেবেন আফঈদা খন্দকার প্রান্তি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের প্রস্তুতি, প্রত্যাশা এবং সাম্প্রতিক সমালোচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিজের ফর্ম এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আফঈদা বলেন, 

‘আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাঁর অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা হয়।’

সিনিয়র পর্যায়ে নিজের পারফরম্যান্সের উত্থান-পতন এবং ফর্মে ফেরার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আফঈদা বলেন, 

'আসলে একজন খেলোয়াড়ের সব সময় ভালো সময় যায় না। আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাঁর অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা করা হয়। আমি চাই মানুষের এই চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসুক, তারা যেন খেলোয়াড়দের সবসময় উৎসাহিত করেন।’

এবারের সাফের দলে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছে। তার মধ্যে আছেন মমিতা খাতুন এবং অর্পিতা বিশ্বাস অর্পিতা। গত সাফের ২৩ জনের স্কোয়াডে থাকা এবারের সফরে এসেছে বড় পরিবর্তন। নতুন করে এই সাফে যাচ্ছেন ১০জন ফুটবলার। বড় মঞ্চে এই তরুণদের নিয়ে প্রত্যাশার চাপ কতটা, এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, দলে নতুন বলতে আসলে কিছু নেই। খেলোয়াড়রা অনেকদিন ধরে একসঙ্গে নিবিড় অনুশীলন করছেন এবং নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াও দারুণ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।


টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার ভারতের গোয়ায় মাঠে নামবে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। স্বাগতিক ভারত নিজেদের মাটিতে নিশ্চিতভাবেই চাইবে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা রুখে দিতে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার। ভারত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আফঈদা জানান, 

‘সাফে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল তিনটি দলই অনেক শক্তিশালী। ভারত চাইবে না বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক করুক, তবে দল তাদের হারানোর পুরো প্রস্তুতি নিয়েই যাচ্ছি আমরা। যেকোনো দেশের মাটিতেই হোক না কেন, নিজেদের সেরাটা দিয়ে জেতার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’

শিরোপা ধরে রাখার বাড়তি কোনো মানসিক চাপ নেই জানিয়ে আফঈদা বলেন,

‘মাঠে নামার পর হ্যাটট্রিকের চিন্তা মাথায় থাকে না। প্রত্যাশার চাপ ওরকম কিছু না। আমরা যখন মাঠে নামি তখন আমাদের মাথায় থাকে না যে হ্যাটট্রিক করতে হবে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামি। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।’

সম্প্রতি এএফসি কাপে দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে ৩ গোল হজম করার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে আফঈদা বলেন, 

‘হার-জিত খেলার অংশ এবং এএফসিতে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে দল শিখেছে যে, এই পর্যায়ের ফুটবলে পুরোটা সময় একাগ্রতা ধরে রাখা কতটা জরুরি। একাগ্রতা হারানোর কারণেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোলগুলো হজম করতে হয়েছিল।’

এবার ছোট ছোট ভুল শুধরে সাফের মঞ্চে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ।

bottom-logo

ফুটবল

গোল মহোৎসবের অপেক্ষায় মিউনিখ, শেষ হাসি কার

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

৬ মে ২০২৬, ৫:১৮ পিএম

news-details

ইউরোপীয় ফুটবলের মানচিত্রে আজ রাতটি হয়তো হতে যাচ্ছে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী। পার্ক দে প্রাঁসে ফুটবলপ্রেমীরা যা দেখেছি, তাকে ফুটবল নয় বরং এক রোলারকোস্টার রাইড বলাই শ্রেয়। ৫-৪ গোলের সেই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই কেবলই ছিল এক রোমাঞ্চকর নাটকের প্রথমাংশ।

 

চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগের সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতি সতেজ থাকতেই আজ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফিরতি লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি। মাত্র ৬৮ মিনিটে ৯ গোলের সেই মহোৎসব ফুটবল বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে, রক্ষণের খোলসে বন্দি না থেকে বুক চিতিয়ে আক্রমণ করাই বায়ার্ন মিউনিখ-পিএসজির ডিএনএ। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্যের প্রতিযোগিতায় গোল উন্মাদনায় মেতেই ফাইনাল নিশ্চিতের মঞ্চ কাঁপাতে মুখিয়ে আছে দুই দল।


২০২২ সাল থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে কোনো ‘অ্যাওয়ে গোল’ নিয়ম নেই। এর অর্থ হলো, ফাইনালে যেতে বায়ার্নকে দ্বিতীয় লেগে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে জিততে হবে; অথবা এক গোলের ব্যবধানে জিতে টাইব্রেকারে পিএসজিকে হারাতে হবে। যদি ম্যাচটি ড্র হয় কিংবা বায়ার্ন হেরে যায়, তবে পিএসজি সরাসরি ফাইনালে পৌঁছে যাবে এবং বিদায়ঘন্টা বাজবে বায়ার্নের।


দ্বিতীয় লেগ কি প্রথম লেগের মতোই আক্রমণাত্মক হবে? ভিনসেন্ট কম্পানির বার্তা ছিল বেশ ভীতিকরই— ‘আরও বেশি, আরও আক্রমণাত্মক।’ বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা মূলত অন্য কোনো ঢঙে খেলতে অভ্যস্তই নয়; প্রতি ম্যাচেই তারা তাদের আক্রমণভাগের পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্যদিকে, পিএসজিও তাদের ধরনে খুব একটা বদল আনবে বলে মনে হয় না। এগিয়ে থাকায় লুইস এনরিকের শিষ্যরা কিছুটা রক্ষণাত্মক হওয়ার বিলাসিতা দেখাতে পারলেও, মিউনিখে তারা যে বিধ্বংসী গতিতেই খেলবে তা নিশ্চিত।


ফাইনালে যাওয়ার এই লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও বায়ার্নকেই অনেকে এগিয়ে রাখছেন। ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার গগনবিদারী সমর্থন বড় প্রভাব ফেলবে, যেখানে চলতি মৌসুমে মাত্র তিনটি ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি বাভারিয়ানরা। বুধবারের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দুই দলের মধ্যে এই হোম অ্যাডভান্টেজই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।


প্রথম লেগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পিএসজি জয় পেলেও মাঠের পরিসংখ্যানে কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখের দাপটই ছিল বেশি স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে ৫৭ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা বাভারিয়ানরাই গোলের সুযোগ বেশি তৈরি করেছে। বিশেষ করে পিএসজির রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে রেকর্ড ৫২ বার বল স্পর্শ করেছে বায়ার্ন। 


মিউনিখের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা তাদের ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত ২৯টি হোম ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হারের রেকর্ড থাকা বায়ার্ন নিজেদের দুর্গে এক অদম্য শক্তি। যেখানে চলতি মৌসুমের ২৩ ম্যাচের ২০টিতেই তারা মাঠ ছেড়েছে বিজয়ী বেশে। 

বায়ার্নের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস হতে পারেন হ্যারি কেইন। ইউরোপীয় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার শীর্ষে থাকা এই ইংলিশ স্ট্রাইকার চলতি মৌসুমে ৪৭ ম্যাচে করেছেন অবিশ্বাস্য ৫৪ গোল। বিপরীতে পিএসজির হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা মাত্র ১৮। পাশপাশি ডানপাশে ঝড় তোলার জন্য মাইকেল ওলিসে তো আছেনই। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৫২ গোলে অবদান রাখা ফরাসি এই উইঙ্গার মুহূর্তেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে একাই তছনছ করে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।


লিগ শিরোপা আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায়  বুন্দেসলিগায় হেইডেনহাইমের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া গত ম্যাচে মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার বিলাসিতা দেখাতে পেরেছে বায়ার্ন। পিএসজির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে নতুন কোনো চোটের সমস্যাও নেই তাদের শিবিরে।


অবশ্য রাফায়েল গেরেইরো এবং সার্জ গ্যানাব্রি এখনও মাঠের বাইরে রয়েছেন। গ্যানাব্রি তো ছিটকে গেছেন পুরো মৌসুম এবং এমনকি বিশ্বকাপ থেকেও। এছাড়া তরুণ উদীয়মান প্রতিভা লেনার্ট কার্লের খেলা নিয়ে পেশির চোটের কারণে কিছুটা সংশয় রয়েছে। প্যারিসে হারের তেতো স্বাদ পাওয়া সেই একাদশে খুব একটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই ছয়বারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ীদের। তাদের সেই বিধ্বংসী আক্রমণভাগ আরও একবার রক্ষণভাগে ত্রাস ছড়াতে পুরোপুরি প্রস্তুত।


তবে পিএসজি প্রথম লেগ থেকে পুরোপুরি অক্ষত ফিরতে পারেনি। ম্যাচের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন আশরাফ হাকিমি, আর এই চোটই মরক্কোর এই ফুল-ব্যাককে মিউনিখ সফর থেকে ছিটকে দিয়েছে। এই মরক্কান তারকার জায়গায় দেখা যেতে পারে মাঝমাঠের ওয়ারেন জায়ের-এমেরি খেলবেন, এই মৌসুমে নিয়মিতই রাইট ব্যাক পজিশনের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

জায়ের-এমেরি রক্ষণভাগে চলে আসলে মাঝমাঠ ফিরছেন ফাবিয়ান রুইজ। চোট কাটিয়ে ফেরা এই স্প্যানিশ তারকা গত সপ্তাহে লরিয়েন্টের বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। এছাড়া প্রথম লেগের একাদশে আর কোনো বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, ফলে পিএসজির সেই তারকাখচিত আক্রমণভাগ অপরিবর্তিতই থাকছে।


বায়ার্ন মিউনিখ বনাম পিএসজি—লড়াইটা এখন আভিজাত্যের। ২০১৯-২০ এর ফাইনালে পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়ে বায়ার্ন জয়োল্লাস করলেও, পিএসজি এখন আর সেই 'আন্ডারডগ' দল নেই। গত বছরের মে মাসে মিউনিখের এই মাঠেই ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে প্যারিসের ক্লাবটি। অনেক ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, এই সেমিফাইনালটি কার্যত 'অঘোষিত ফাইনাল'; কারণ আজ যারা শেষ হাসি হাসবে, তাদের হাতেই টুর্নামেন্টের শিরোপা দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

bottom-logo

ফুটবল

সবার আগে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা উজবেকিস্তানের

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

৬ মে ২০২৬, ৪:৫২ পিএম

news-details

২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ৪০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন উজবেকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার ফ্যাবিও ক্যানাভারো। বিশ্বকাপের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন ক্যাম্পের জন্য এই দল চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৬ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তাসখন্দে তিন সপ্তাহের ক্যাম্প হবে।


তালিকায় থাকা ১১ জন খেলোয়াড় রয়েছেন যাঁরা রাশিয়ার প্রিমিয়ার লিগ বা রুশ ক্লাবগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাঁদের মধ্যে আছেন তারকা ফরোয়ার্ড এলদোর শমুরোদভ, আব্বোসবেক ফয়জুল্লায়েভ ও ওস্টন উরুনভ। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভও আছেন স্কোয়াডে। অধিনায়ক এলদোর শোমুরোদভ। 


২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড নোদির আবদুরাজ্জাকভ ও প্রতিভাবান মিডফিল্ডার শেরজোদ এসানভসহ বেশ কয়েকজন অনভিষিক্ত খেলোয়াড় চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবেন।


চোট কাটিয়ে ফেরার পথে থাকা কয়েকজন খেলোয়াড়কেও দলে রেখেছেন ক্যানাভারো। যার মধ্যে ফরোয়ার্ড খুসাইন নরচায়েভ ও জালোলিদ্দিন মাশারিপভও আছেন।


কোচ ক্যানাভারো আপাতত হাতে থাকা সব বিকল্প যাচাই করে দেখার সুযোগ নিতেই এই বড় তালিকার করেছেন। তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যাওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী এই তালিকা থেকে ২৩ থেকে ২৬ জন খেলোয়াড়কে চূড়ান্ত স্কোয়াডের জন্য রাখা হবে। বর্তমান দলের একটি বড় অংশকে মূল টুর্নামেন্টের আগে বাদ পড়তে হবে।


উজবেকিস্তানের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৭ জুন মেক্সিকো সিটিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে। এরপর ছয় দিন পর হিউস্টনে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে তারা এবং ২৭ জুন আটলান্টায় কঙ্গো ডিআরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে।


কোচ: ফ্যাবিও ক্যানাভারো


গোলকিপার

ভ্লাদিমির নাজারভ, উৎকির ইউসুপভ, বতিরালি এরগাশেভ, আবদুভোখিদ নেমাতভ


ডিফেন্ডার

ইব্রোখিমখালিল ইউলদোশেভ, আভাজবেক উলমাসালিয়েভ, জাখঙ্গির উরোজভ, রুস্তমজন আশুরমাতভ, মুখাম্মাদকোদির হামরালিয়েভ, উমারবেক এশমুরোদভ, আবদুকোদির খুসানভ, আবদুল্লাহ আবদুল্লাহয়েভ, ফারুখ সায়ফিয়েভ, খোজিয়াকবার আলিজোনভ, শেরজোদ নাসরুল্লায়েভ, মুহাম্মাদরাসুল আবদু মাজিদভ, বেহরুজ করিমভ, দিয়র ওরতিকবোয়েভ


মিডফিল্ডার

কুভান্দিক রুজিয়েভ, শেরজোদ এসানভ, নদিরবেক আবদুরজোকভ, ওদিলজন খামরোবেকভ, উমারালি রাখমোনালিয়েভ, আলিশের ওদিলভ, সাদরোরবেক বাখরোমভ, আকমাল মজগোভয়,  ওতাবেক শুকুরভ, জামশিদ ইস্কান্দারভ, জাসুরবেক জালোলিদ্দিনভ, আজিজজন গানিয়েভ


ফরোয়ার্ড

আব্বোসবের ফায়জুল্লায়েভ, জালোলিদ্দিন মাশারিপভ, দোস্তনবেক খামদামভ, ওস্টন উরুনভ, রুসলানবেক জিয়ানভ, আজিজবেক আমোনভ, খুসাইন নরচায়েভ, শেরজোদ তেমিরভ, ইগর সের্গিয়েভ, এলডোর শমুরোদভ।

bottom-logo