
মুখ ফসকে বলা এক কথায় এখন পস্তাতে হচ্ছে এনজো ফার্নান্দেজকে। রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে পেয়েছেন নিষেধাজ্ঞার শাস্তি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমাও চেয়েছেন চেলসির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তবে তাতেও শাস্তি কমছে না—ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রোববারের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারের পর ইএসপিএন আর্জেন্টিনা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদের যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ফার্নান্দেজ। এরপর আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনি বলেন, ‘আমি স্পেনে থাকতে চাই, মাদ্রিদ শহরটা আমার খুব পছন্দ।’ তাঁর এমন চাওয়া সহজভাবে নেয়নি চেলসি— দেওয়া হয় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি।
প্রিমিয়ার লিগে ম্যান সিটির মুখোমুখি হওয়ার আগে চেলসির কোচ লিয়াম রোসেনিওর জানিয়েছেন, ‘ফার্নান্দেজ ইতোমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবে ক্লাবের দেওয়া দুই ম্যাচের অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।’ এর আগে পোর্ট ভেলের বিপক্ষে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল মিস করেছেন এনজো। আর রোববার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে না।
রোসেনিওর যোগ করেন ,
‘এনজোর সঙ্গে আমার তিন-চারবার খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। সে আমার কাছে এবং ক্লাবের কাছেও ক্ষমা চেয়েছে। রোববারের বড় ম্যাচের পর আমরা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
শিষ্যর ভুলকে খুব বড় করে দেখছেন না রোসেনিওর। তবে একবার ভুল করলে শাস্তি এড়ানোরও যে সুযোগ নেই সেটাও মনে করিয়ে দিলেন চেলসি কোচ,
‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ছিল, তাই সিরিয়াসভাবে আলোচনা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমি কখনোই এনজোর চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ ভুল করতেই পারে। তবে ভুলের জন্য নির্ধারিত শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।’
শেষে চেলসি কোচ বলেন, ‘আমি চাই, এখান থেকে এনজো এগিয়ে যাক এবং অসাধারণ একটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলুক। রোববারের ম্যাচের পর চেলসির মৌসুমে এনজো ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখবে বলেই আশা করছেন তিনি। তবে দলে ফেরার আগে তাকে এখনও কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবে বলছেন রোসেনিওর।
চেলসির মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এনজো। ইংলিশ ক্লাবটি কি দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতি করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোসেনিওর বলেন,
‘না। আমার দলে অসাধারণ স্কোয়াড আছে, অসাধারণ সব খেলোয়াড়ে ভরা। শুরুর একাদশ ঠিক করা এখনও খুব কঠিন কাজ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমাকে সেটা ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। ফুটবল একটা দলীয় খেলা। এখানে ব্যক্তি নয়, দলই আসল। এটা নিজের পায়ে কুড়াল মারা নয়। কিছু মূল্যবোধ আর সংস্কৃতি আছে, যেগুলোতে আমি বিশ্বাস করি, ক্লাবও বিশ্বাস করে। এগুলো ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হয়।’
লিগে পয়েন্ট টেবিলে ছয় নম্বরে থাকা চেলসি শেষ ১৮ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ৫ পয়েন্ট পেয়েছে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আবার ছন্দে ফেরাই এখন তাদের লক্ষ্য। আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে পাঁচটি দল ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাবে। সিটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে আছে ‘ব্লুজরা’।
No posts available.

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) ঢাকা ডার্বিতে দ্বিতীয় দেখায় ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে আবাহনী স্পোর্টিং ক্লাব। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের বিপক্ষে এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস থেকে মারুফুল হকের দলের পয়েন্ট ব্যবধান কেবল ২।
শুক্রবার কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অঘটন ঘটে। ৪৬তম মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হাসান মুরাদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় মিতুল মারমার। মাঝমাঠ থেকে ভেসে আসা ক্রস লক্ষ্য করে বক্সে ঢুকে পড়েন মুরাদ। মুহূর্তেই লাফ দিয়ে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন মিতুল। তবে মাটিতে পড়ার সময় মোহামেডানের গোলকিপারের পায়ের আঘাতে চোয়ালে ব্যথা পান আবাহনী সেন্টারব্যাক।
মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় হাসান মুরাদকে। যা পর্যাপ্ত ছিল না। দেরি না করে তাৎক্ষণিক স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয় মুরাদকে। এরপরই অ্যাম্বুলেন্সে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। পরবর্তীতে মুরাদের বদলি হিসেবে নামেন সবুজ হোসাইন।
আবাহনী টিম সূত্রে জানা গেছে, স্ক্যানে মুরাদের চোয়ালে কোনোরকম ফাটল বা চিড় ধরা পড়েনি। তবে আঘাতের কারণে দুইটি দাঁতের কোনা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) ঢাকা ডার্বিতে দ্বিতীয় দেখায় শোধ নিয়েছে আবাহনী স্পোর্টিং ক্লাব। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে প্রথম দেখায় হারের পর আজ ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে মারুফুল হকের দল। এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো আকাশি-নীল জার্সিধারীরা
বিএফএলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বসুন্ধরা স্পোর্টিং ক্লাব। ১১ ম্যাচে ৭ জয়ে ক্লাবটির পয়েন্ট ২৪। আর আবাহনীর ১২ ম্যাচে ৬ জয়ে পয়েন্ট দাঁড়াল ২২। তৃতীয়স্থানে থাকা ফর্টিসের পয়েন্ট ২১। ষষ্ঠ নম্বরে থাকা মোহামেডা অবনমন হয়ে এখন সপ্তম নম্বরে। ১২ ম্যাচে সাদা-কালোদের জয় কেবল দুটি।
শুক্রবার কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বিকাল সাড়ে তিনটায় বিএফএলে প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে সুলেমান দিয়াবাতের গোলে এগিয়ে থেকে স্কোরবোর্ডে জয় লেখায় আবাহনী।
ম্যাচ ঘড়ির তৃতীয় মিনিটে কর্ণার থেকে গোল আদায় করে মোহামেডানকে এগিয়ে নেন উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার মুজাফফর মুজাফফরভ। দুরুহ কোন থেকে তার হাওয়ায় ভাসানো ইনসুইং শট বেশ দৃষ্টিনন্দন ছিল। যা সরাসরি টপ কর্ণার দিয়ে জালে জড়ায়।
সপ্তম মিনিটে শোধের সুযোগ পায় মারুফুল হকের দল। সুলেমান দিয়াবাতের ক্রস থেকে বল রিসিভের পর ডান প্রান্ত ধরে সোজা বক্সে ঢুকে পড়েন মিরাজুল। তবে পা দিয়ে সে বল ঠেকিয়ে দেন হোসেন সুজন। এক্ষেত্রে দায় ছিল মূলত মিরাজুলেই। আরেকটু পাওয়ার জেনারেট করলে হয়তো ভিন্ন কিছু হতে পারত।
প্রথম ভুলের পর ষোড়শ মিনিটে মিরাজুল অবশ্য আর হতাশ করেননি আবাহনীকে। মধ্যমাঠ থেকে এমেকা ইউজিগোর বুদ্ধিদৃপ্ত শট হালকা ছোঁয়ায় তরুণ মিডফিল্ডার মিরাজুলের কাছে পৌঁছে দেন হাসান মুরাদ। ডি বক্সের বাইরে থাকা মিরাজুল সে বল নিয়েই ক্ষিপ্তগতিতে ঢুকে পড়েন বক্সে। দারুণ টার্ন এবং সে সঙ্গে ফিনিশিং টাচে আবাহনীকে ফেরান সমতায়। লিগে এটি তার দ্বিতীয় গোল।
বিরতিতে যাওয়ার আগে হলুদ কার্ড দেখেন মোহামেডানের সেন্টারব্যাক শাকিল আহাদ তপু। আর ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের ৪৬ মিনিটে ঘটে অঘটন। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হাসান মুরাদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় মিতুল মারমার। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা ক্রস লক্ষ্য করে বক্সে ঢুকে পড়েন মুরাদ। লাফ দিয়ে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন মিতুল। তবে মাটিতে পড়ার সময় মোহামেডান গোলকিপারের পায়ের আঘাতে চোয়ালে ব্যথা পান মোহামেডান সেন্টারব্যাক।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয় মুরাদকে। এরপরই অ্যাম্বুল্যান্সে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় আবাহনী সেন্টারব্যাককে। তার বদলি হিসেবে নামেন সবুজ হোসাইন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬তম মিনিটে মোরছালিনের ফ্রি কিক দারুণ হেডারে লক্ষ্যভেদ করেন ইয়াসিন। তবে সে শট পাঞ্চ করে বাইরে পাঠান আবাহনীর বদলি গোলকিপার সাকিব আল হাসান। এরপরও আরও একবার সুযোগ হাতছাড়া করে মোহামেডান। ডানপ্রান্ত থেকে কর্ণার কিক নিয়েছিলেন মোরছালিন। দ্বিতীয় সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেননি সবুজ। তার শট বারে লেগে ফেরত আসে।
আবাহনী লিড দ্বিগুণ করে ৬৫তম মিনিটে। মোহামেডানের হয়ে ৯৬ গোল করা এমেকার ক্রস কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করেন দিয়াবাতে। আবাহনীতে এটি তার নবম গোল। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে খেলা শেষ করে আবাহনী।

ফুটবল মাঠের `বাজপাখি’ খ্যাত এমিলিয়ানো মার্তিনেজের জীবনের গল্প এবার দেখা যাবে রুপালি পর্দায়। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই গোলকিপারের জীবন নিয়ে অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স।
মার্তিনেজকে নিয়ে বানানো সিনেমাটির নাম দেওয়া হয়েছে 'দিবু মার্তিনেজ: এল পিবে কে আতাজা এল তিয়েম্পো' যার বাংলা অর্থ ‘যে শিশুটি সময় থামিয়ে দেয়।’ মার্তিনেজের ছোটবেলার ডাকনাম ‘দিবুর সাথে মিল রেখেই এই নামকরণ।
মার দেল প্লাতা থেকে উঠে আসা মার্তিনেজ সাধারণ থেকে কিভাবে বিশ্বসেরা গোলকিপার হয়ে উঠলেন সেই গল্প ফুটিয়ে তোলা হবে সিনেমাটিতে। এতে অ্যানিমেশনের পাশাপাশি মার্তিনেজের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার এবং দুর্লভ ভিডিও ফুটেজও ব্যবহার করা হবে।
মুক্তির সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো না হলেও, চলতি বছরের শেষ দিকে এটি প্রিমিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গুস্তাভো কোভার পরিচালনায় সিনেমাটি লিখছেন হার্নান কাসিয়ার।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, ‘এই খবরটি গোল সেভ করার মতোই রোমাঞ্চকর। এমন এক কিশোরের গল্প এটি, যে গোলকিপার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় নায়কে পরিণত হয়েছে।’
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গোলপোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান মার্তিনেজ। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মার্তিনেজ।
মার্তিনেজ বর্তমানে ব্যস্ত আছেন তাঁর ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার হয়ে। ইউরোপা লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বৃহস্পতিবার রাতে বোলোনিয়ার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলকিপার। প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঠিক নিচেই চতুর্থ স্থানে রয়েছে মার্তিনেজের দল।

তারকা ফুটবলের কোনো কমতি নেই। ইউরোপের জায়ান্ট সব ক্লাবে সেলেসাও তারকাদের ছড়াছড়ি। মাঠে নিয়মিত দূত্যিও ছড়ান তাঁরা। সবমিলিয়ে বিশ্বসেরা হওয়ার মতো সবকিছুই আছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ালেই যেন অনেকেই খেলা ভুলে যান।
একসময় বিশ্বকাঁপানো বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটির সাফল্যে এখন শুধুই গল্প। পেলে থেকে রোনালদো-রোনালদিনহো-রোমারিওর সোনালি সেই ব্রাজিলকে কি আর ফিরে পাওয়া যাবে? দীর্ঘ দুই যুগ বিশ্বকাপের শিরোপার স্বাদ না পাওয়া এই দলের সমস্যা আসলে কোথায়? দলীয় রসায়নের অভাব, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নাকি মাত্রাতিরিক্ত চাপ?
বিশ্বকাপের দুই মাস আগে ব্রাজিল কিংবদন্তি রোমারিও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের ক্রমাগত পিছিয়ে পড়া নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ’কে ব্রাজিলের পিছিয়ে পড়ার পেছনে একাধিক কারণ তুলে ধরেন ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড।
রোমরিওর মুখ থেকেই শুনে নেওয়া যাক ব্রাজিলের সমস্যাটা আসলে কোথায়, ‘কারিগরি দিক থেকে ব্রাজিল সত্যিই অনেকটা পিছিয়ে গেছে। রোনালদো, রোনালদিনহো আর রিভালদোর প্রজন্মের পর থেকেই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
রোমারিও যোগ করেন, ‘এরপর আমরা পুরোপুরি একজন খেলোয়াড়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লাম — নেইমার। আর আমাদের তরুণরা অনেক আগেই ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছে, ছোট ছোট ক্লাবে গিয়ে নিজেদের ডিএনএ-ই হারিয়ে ফেলছে।’
রোমারিও আরও জানান, ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে জাতীয় দলের প্রতি উৎসাহ-উদ্দীপনাও আগের মতো আর নেই। তবে হতাশার মাঝেও আশার কথা শোনালেন তিনি। রোমারিওর মতে, ‘ব্রাজিল এখনও চ্যাম্পিয়ন হতে পারে — তাদের ইতিহাস আছে, অভিজ্ঞতা আছে। আর নেইমার যদি আবার ফর্মে ফিরে আসে, তাহলে তো কথাই নেই।’
ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে রোমারিও ১৯৯৪ সালের ব্যালন ডি'অর না পাওয়ার আক্ষেপও প্রকাশ করেন। সেবার ইউরোপীয়রাই কেবল পুরস্কারের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন, ফলে পুরস্কারটি তাঁর বার্সেলোনা সতীর্থ ক্রিস্টো স্তোইচকভের হাতে যায়, ‘আমি জানি না ১৯৯৪-এর ব্যালন ডি'অর সহজেই জিততাম কি না। তবে আমি যে একজন খুব শক্তিশালী দাবিদার হতাম, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
তবে স্তোইচকভের প্রতি কোনো বিরক্তি নেই রোমারিওর। তাঁর ভাষায়, ‘স্তোইচকভও সেটা পাওয়ার যোগ্য ছিল’ — আর আজও তিনি তাঁর আজীবনের বন্ধু।

ক্লাবের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্পোর্টিং ডিরেক্টর পদ পুনরায় চালুর যে খবর স্পেনের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে দাবি করেছে ক্লাবটি।
গত বৃহস্পতিবার স্পেনের একটি জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রিয়াল মাদ্রিদ তাদের প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। সেখানে স্পোর্টিং ডিরেক্টর পদটি আবার চালু করার পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজতে একটি বহিরাগত সংস্থাও কাজ শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী মৌসুমকে সামনে রেখে দলবদলের বাজারে নতুন একজন মিডফিল্ডার এবং সম্ভব হলে একজন মানসম্পন্ন সেন্টার-ব্যাক দলে ভেড়াতে পারে রিয়াল। তবে এসব পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনিক পর্যায়েও বড় রদবদলের সম্ভাবনার কথা শোনা যায়।
রিপোর্টে দাবি করা হয়, ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের নেতৃত্বে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যেখানে হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজ, জুনি কালাফাত ও সান্তিয়াগো সোলারির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে এসব গুঞ্জনের জবাবে শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। সেখানে ক্লাবটি স্পষ্টভাবে জানায়, স্পোর্টিং ডিরেক্টর নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, এ সংক্রান্ত সব খবরই ভিত্তিহীন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার কাজকে ক্লাব অত্যন্ত মূল্যায়ন করে। এই কাঠামোর কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবটি ইতিহাসের অন্যতম সফল সময় পার করেছে। গত এক দশকে ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের কথাও তুলে ধরে ক্লাবটি জানায়, তারা কোনো পরিবর্তনের কথা ভাবছে না।
এরই মধ্যে মাঠের লড়াইয়েও ব্যস্ত সময় পার করছে রিয়াল মাদ্রিদ। আজ রাতে স্প্যানিশ লিগে নিজেদের মাঠে জিরোনার মুখোমুখি হবে তারা। তারপর চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে জার্মানিতে গিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে খেলবে দলটি।