
মুখ ফসকে বলা এক কথায় এখন পস্তাতে হচ্ছে এনজো ফার্নান্দেজকে। রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে পেয়েছেন নিষেধাজ্ঞার শাস্তি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমাও চেয়েছেন চেলসির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তবে তাতেও শাস্তি কমছে না—ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রোববারের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারের পর ইএসপিএন আর্জেন্টিনা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদের যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ফার্নান্দেজ। এরপর আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনি বলেন, ‘আমি স্পেনে থাকতে চাই, মাদ্রিদ শহরটা আমার খুব পছন্দ।’ তাঁর এমন চাওয়া সহজভাবে নেয়নি চেলসি— দেওয়া হয় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি।
প্রিমিয়ার লিগে ম্যান সিটির মুখোমুখি হওয়ার আগে চেলসির কোচ লিয়াম রোসেনিওর জানিয়েছেন, ‘ফার্নান্দেজ ইতোমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবে ক্লাবের দেওয়া দুই ম্যাচের অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।’ এর আগে পোর্ট ভেলের বিপক্ষে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল মিস করেছেন এনজো। আর রোববার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে না।
রোসেনিওর যোগ করেন ,
‘এনজোর সঙ্গে আমার তিন-চারবার খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। সে আমার কাছে এবং ক্লাবের কাছেও ক্ষমা চেয়েছে। রোববারের বড় ম্যাচের পর আমরা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
শিষ্যর ভুলকে খুব বড় করে দেখছেন না রোসেনিওর। তবে একবার ভুল করলে শাস্তি এড়ানোরও যে সুযোগ নেই সেটাও মনে করিয়ে দিলেন চেলসি কোচ,
‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ছিল, তাই সিরিয়াসভাবে আলোচনা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমি কখনোই এনজোর চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ ভুল করতেই পারে। তবে ভুলের জন্য নির্ধারিত শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।’
শেষে চেলসি কোচ বলেন, ‘আমি চাই, এখান থেকে এনজো এগিয়ে যাক এবং অসাধারণ একটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলুক। রোববারের ম্যাচের পর চেলসির মৌসুমে এনজো ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখবে বলেই আশা করছেন তিনি। তবে দলে ফেরার আগে তাকে এখনও কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবে বলছেন রোসেনিওর।
চেলসির মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এনজো। ইংলিশ ক্লাবটি কি দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতি করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোসেনিওর বলেন,
‘না। আমার দলে অসাধারণ স্কোয়াড আছে, অসাধারণ সব খেলোয়াড়ে ভরা। শুরুর একাদশ ঠিক করা এখনও খুব কঠিন কাজ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমাকে সেটা ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। ফুটবল একটা দলীয় খেলা। এখানে ব্যক্তি নয়, দলই আসল। এটা নিজের পায়ে কুড়াল মারা নয়। কিছু মূল্যবোধ আর সংস্কৃতি আছে, যেগুলোতে আমি বিশ্বাস করি, ক্লাবও বিশ্বাস করে। এগুলো ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হয়।’
লিগে পয়েন্ট টেবিলে ছয় নম্বরে থাকা চেলসি শেষ ১৮ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ৫ পয়েন্ট পেয়েছে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আবার ছন্দে ফেরাই এখন তাদের লক্ষ্য। আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে পাঁচটি দল ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাবে। সিটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে আছে ‘ব্লুজরা’।
No posts available.
১৫ মে ২০২৬, ১০:৪৩ এম
ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির ওপরই দীর্ঘমেয়াদী আস্থা রাখল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই ইতালিয়ান কোচের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সিবিএফ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে সেলেসাওদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আনচেলত্তি। গত এক বছরে তাঁর অধীনে ১০ ম্যাচ খেলেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যার মধ্যে ৫ জয়, ২ ড্র এবং হেরেছে ৩ ম্যাচে।
আনচেলত্তির অধীনেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ব্রাজিল। বৈশ্বিক এই মঞ্চে সেলেসাওদের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম বিদেশি কোচ হতে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ মাস্টারমাইন্ড।
চুক্তি নবায়নের পর সিবিএফের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন,
‘এক বছর আগে ব্রাজিলে এসেছিলাম। প্রথম মিনিট থেকেই বুঝতে পেরেছি এ দেশে ফুটবল মানে কী। এক বছর ধরে আমরা ব্রাজিলকে বিশ্বের শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছি। কিন্তু সিবিএফ এবং আমি আরও বেশি জয়, আরও সময় এবং আরও কাজ করতে চাই।‘
সিবিএফ সভাপতি সামির জউদ এই চুক্তি নবায়নকে ঐতিহাসিক দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন,
‘কার্লো আনচেলত্তির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো আমাদের সেই অঙ্গীকারেরই অংশ, যেখানে আমরা বিশ্বসেরা এই দলকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো দিতে চাই।‘
সোমবার বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। খেলোয়াড় ও সহকারী কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রধান কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই হবে তাঁর প্রথম টুর্নামেন্ট।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’ তে ব্রাজিল। ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সেলেসাওরা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গ্রুপে অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি এবং স্কটল্যান্ড।
বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তপ্ত বিতর্ক। স্প্যানিশ লিগ জয়ের উদযাপনে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করায় এই ফুটবলারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তাঁর মতে, ইয়ামালের এই কাজ ‘ঘৃণা ছড়ানোর' শামিল।
গত সোমবার লিগ জয় উপলক্ষে বার্সেলোনা শহরজুড়ে একটি ছাদখোলা বাস প্যারেডের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের সেই ভিড়ে ১৮ বছর বয়সী ইয়ামালকে একটি বড় আকারের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে দেখা যায়। পরে মুসলিম এই ফুটবলার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও সেই ছবি পোস্ট করেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ (সাবেক টুইটার) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ লেখেন,
'লামিন ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। যখন আমাদের সৈন্যরা হামাসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে—যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইহুদি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছে।'
ইসরায়েলি মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর চুপ থাকেনি স্পেন সরকারও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইয়ামালের এই কাজকে সমর্থন জানিয়ে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। সানচেজ বলেন, ইয়ামাল কেবল সেই সংহতিই প্রকাশ করেছেন যা লাখ লাখ স্প্যানিশ নাগরিক ফিলিস্তিনের প্রতি অনুভব করেন।
ইসরায়েল কাটজের নাম উল্লেখ না করে সানচেজ লেখেন,
'যারা মনে করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো মানেই ঘৃণা ছড়ানো, তারা হয় কাণ্ডজ্ঞান হারিয়েছে নতুবা নিজেদের হীনমন্যতায় অন্ধ হয়ে গেছে।'
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গনেও। স্পেনের সরকার এবং সাধারণ মানুষ প্রথম থেকেই ইসরায়েলের এই অভিযানের কড়া সমালোচক।
বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক এ বিষয়ে সরাসরি তর্কে না জড়িয়ে জানিয়েছেন, পতাকা ওড়ানোর বিষয়টি ইয়ামালের একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল।
আগামী মাসে উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে মাঠে নামবেন ইয়ামাল। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক ইস্যু নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালো।
চলতি মৌসুমে ৪২ ম্যাচে ৪১ গোল-একজন ফরোয়ার্ডের জন্য এর চেয়ে ভালো পরিসংখ্যান আর কী হতে পারে? কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে যে মাদ্রিদিস্তাদের মন জয় করা যাচ্ছে না, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। বৃহস্পতিবার রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার সময় নিজের ক্লাবের সমর্থকদের কাছ থেকেই দুয়ো শুনতে হয়েছে ২৭ বছর বয়সী এই তারকাকে।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে এমবাপে যখন বদলি হিসেবে মাঠে নামছিলেন, গ্যালারি থেকে ধেয়ে আসে কানফাটানো বিদ্রুপ আর শিস। ক্লাবের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিতর্কেরই যেন বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়।
এমবাপে আউট শিরোনামে সম্প্রতি একটি অনলাইন পিটিশনে কোটি কোটি সমর্থক স্বাক্ষর করেছেন। চোট থেকে সেরে ওঠার ছুটিতে যখন রিয়াল মাদ্রিদ এস্পানিওলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলছিল, তখন এমবাপের সার্ডিনিয়া দ্বীপে ইয়টে সময় কাটানোর ছবি ভাইরাল হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে এমবাপের দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে।
এমবাপে অবশ্য এই বিদ্রূপ হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
‘শিস বা দুয়ো... এটাই জীবন। মানুষ যখন রেগে থাকে, আপনি তাদের মতামত বদলাতে পারবেন না। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে এবং আমার মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়দের জীবনে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। ফুটবলারদের সবকিছু বুঝলে চলে না, তাদের পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে সামনে তাকাতে হয়।‘
মাঠের পরিবেশ কেবল এমবাপের বিরুদ্ধেই ছিল না। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের বিরুদ্ধেও ‘পেরেজ এখনই বিদায় হও’ লেখা ব্যানার দেখা গেছে গ্যালারিতে। পরে অবশ্য নিরাপত্তারক্ষীরা সরিয়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলেন। চলতি সপ্তাহে পেরেজ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, ক্লাবের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করতে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে।
মাঠের বাইরের উত্তাপ থাকলেও ওভিয়েদোর বিপক্ষে জয় তুলে নিতে ভুল করেনি রিয়াল। প্রথমার্ধের ঠিক আগে গঞ্জালো গার্সিয়ার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে এমবাপের অ্যাসিস্ট থেকে জুড বেলিংহ্যাম দ্বিতীয় গোল করে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
দেড় দশক পর বিশ্বফুটবলের মহোৎসবে ফিরছে নিউ জিল্যান্ড। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন দলটির প্রধান কোচ ড্যারেন বেজলি। প্রত্যাশিতভাবেই এই অভিযাত্রায় ‘অল হোয়াইটস’দের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ক্রিস উড।
দল ঘোষণার মধ্যমে দিয়ে নিউ জিল্যান্ড ফুটবলে এক নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে। অধিনায়ক ক্রিস উড ও রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী টমি স্মিথ হতে যাচ্ছেন দেশটির প্রথম ফুটবলার, যারা দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করবেন। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে এই দুজন নিউ জিল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন।
কোচ বেজলির ঘোষিত এই দলে অভিজ্ঞতার প্রাধান্য স্পষ্ট। দলের অর্ধেকের বেশি সদস্যের ঝুলিতে রয়েছে অন্তত ২৫টি বা তাঁর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। মাত্র পাঁচজন ফুটবলার এমন আছেন যাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ১০ এর নিচে।
দল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কোচ ড্যারেন বেজলি বলেন,
'গত তিন বছর ধরে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৫০ জন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করেছি। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে আমরা এই ২৬ জনকে বেছে নিয়েছি। সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া সহজ ছিল না, বিশেষ করে যারা সুযোগ পাননি তাদের বাদ দেওয়াটা ছিল অত্যন্ত কঠিন।'
বেজলি বলেন,
'এটি অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই দল নিউজিল্যান্ডবাসীকে গর্বিত করবে এবং বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে।'
নিউ জিল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস উড দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে রোমাঞ্চ অনুভব করছেন। স্টিভ সামনার এবং রায়ান নেলসনের পর তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের আর্মব্যান্ড পরবেন তিনি। উড বলেন,
'১৬ বছর পর আমরা বিশ্বকাপে ফিরেছি। অধিনায়ক হিসেবে দলকে মাঠে নামানো আমার জন্য এক বিশাল সম্মানের বিষয়। আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই নিউ জিল্যান্ড ফুটবল কী করতে সক্ষম।'
ওশেনিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে লড়বে নিউ জিল্যান্ড। ‘জি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ইরান, মিশর ও শক্তিশালী বেলজিয়াম।
নিউ জিল্যান্ডের বিশ্বকাপ সূচি:
১৫ জুন: ইরান (লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম)
২১ জুন: মিশর (বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার)
২৬ জুন: বেলজিয়াম (বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার)
নিউ জিল্যান্ডের চূড়ান্ত স্কোয়াড
গোলকিপার:
ম্যাক্স ক্রোকোম্ব, অ্যালেক্স পলসেন, মাইকেল উড।
ডিফেন্ডার:
টাইলার বিন্ডন, মাইকেল বক্সাল, লিবারেটো কাকাস, ফ্রান্সিস ডি ভ্রিস, ক্যালান এলিয়ট, টিম পেইন, নান্দো পিজনেকার, টমি স্মিথ, ফিন সারম্যান।
মিডফিল্ডার:
লাচলান বেলিস, জো বেল, ম্যাট গারবেট, এলি জাস্ট, ক্যালাম ম্যাককওয়াট, বেন ওল্ড, অ্যালেক্স রুফার, মার্কো স্ট্যামেনিক, সারপ্রীত সিং, রায়ান থমাস।
ফরোয়ার্ড:
কোস্টা বারবারুসেস, জেসি র্যান্ডাল, বেন ওয়েন, ক্রিস উড।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফ্রান্সের ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন দিদিয়ের দেশম। সবাইকে চমকে দিয়ে দেশমের চূড়ান্ত এই স্কোয়াডে জায়গা পাননি বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্যারিসে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) সদর দফতরে দেশম স্কোয়াড ঘোষণা করেন। বাদ পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল কামাভিঙ্গার বাদ পড়া। স্কোয়াড ঘোষণার আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল যে ২৩ বছর বয়সী এই তারকা থাকছেন না, আর শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।
আবার ক্রিস্টাল প্যালেসের স্ট্রাইকার জিন ফিলিপ মাতেতা তাঁর ক্যারিয়ারের মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েই বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েছেন। অন্যদিকে টটেনহ্যামে ধারে খেলতে গিয়ে বাজে মৌসুম কাটানো পিএসজি ফরোয়ার্ড কোলো মুয়ানি দল থেকে বাদ পড়েছেন।
স্কোয়াডে কিলিয়ান এমবাপে যথারীতি মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন। তবে তাঁর পাশাপাশি মাইকেল অলিসে, দেজিরে দুয়ে এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রায়ান শেরকি এবার ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে নতুন ধার দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এন'গোলো কান্তে বর্তমানে তুরস্কের ক্লাবে খেললেও নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলার জন্য ডাক পেয়েছেন অভিজ্ঞতার বিচারে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পরই ফ্রান্সের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন দেশম। টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ 'আই'-তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ ইরাক এবং নরওয়ে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের ফরাসি স্কোয়াড:
গোলকিপার: মাইক মাইনান (এসি মিলান), রবিন রিসার (লেন্স), ব্রাইস সাম্বা (রেন)।
রক্ষণভাগ: লুকা দিনিয়ে (অ্যাস্টন ভিলা), মালো গুস্তো (চেলসি), লুকা হার্নান্দেজ (পিএসজি), থিও হার্নান্দেজ (আল-হিলাল), ইব্রাহিম কোনাতে (লিভারপুল), জুলেস কুন্দে (বার্সেলোনা), ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোয়া (ক্রিস্টাল প্যালেস), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল), দায়ো উপামেকানো (বায়ার্ন মিউনিখ)।
মধ্যমাঠ: এন'গোলো কান্তে (ফেনারবাচে), মানু কোনে (এএস রোমা), আদ্রিয়েন রাবিয়ত (এসি মিলান), অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি (রিয়াল মাদ্রিদ), ওয়ারেন জাইরি এমেরি (পিএসজি)।
আক্রমণভাগ: মাগনেস আকলিউশ (মোনাকো), ব্র্যাডলি বারকোলা (পিএসজি), রায়ান শেরকি (ম্যানচেস্টার সিটি), উসমান দেম্বেলে (পিএসজি), দেজিরে দুয়ে (পিএসজি), ফিলিপ মাতেতা (ক্রিস্টাল প্যালেস), কিলিয়ান এমবাপে (রিয়াল মাদ্রিদ), মাইকেল অলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ), মার্কাস থুরাম (ইন্টার মিলান)।