১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৮ পিএম

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ জমে ক্ষীর। শেষ মুহূর্তের হিসাব নিকাশ চলছে অন্তিম মুহূর্তে। পরতে পরতে উত্তেজনা আর গুমোট পরিবেশ প্রতিটি ড্রেসিংরুমে। চায়ের টেবিলেও আড্ডা—কারা এগিয়ে, কতটুকুই-বা কার দম।
প্রিমিয়ার লিগ থেকে লা লিগা, কি চলছে সিরি’আতে? বুন্দেসলিগার কি হালচাল, সিরি'আতে কার দাপট, লি আঁতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি? জানার চেষ্টা করবো ২০২৫-২৬ ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে শেষটা রাঙাতে যাচ্ছে কারা।
প্রিমিয়ার লিগে লেজগোবরে অবস্থা আর্সেনালের। গানারদের বিপদ শাপেবর হয়ে এলো ম্যানচেস্টার সিটির জন্য। লা লিগায় চালকের আসনে বার্সেলোনা। সিরি ‘আ’তে বড় কোনো নাটকীয়তা না হলে ইন্টার মিলানের শিরোপা একরকম নিশ্চিত। বুন্দেসলিগায় নাটাই বায়ার্ন মিউনিখের হাতে। ফরাসি লিগ ‘আঁ’তে পিএসজিই রাজা।
প্রিমিয়ার লিগ: আর্সেনাল ও ম্যানসিটির ইঁদুর-বিড়াল দৌড়
গাছের মগডালে একটি হাতি বসা। সেই হাতির গায়ে আর্সেনালের লোগো। ইংলিশ লিগের ক্লাবটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কম ট্রল হচ্ছে না।
আর্সেনাল অনেক সময় মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত খেলতে থাকে, শিরোপার দৌড়ে এগিয়েও থাকে। কিন্তু শেষদিকে ঘটে ছন্দপতন—যেন ‘গাছের মাথায় উঠে যাওয়া হাতি’ শেষে নামতেই পারে না বা পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।
২০২৫-২৬ মৌসুমে কী তেমনটা দেখা যাচ্ছে না? ২০০৩-৪ মৌসুমে ইনভিনসিবলস হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা গানারদের গৌরব অনেকটাই অস্তমিত। লিগ টাইটেল রেসে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে ছিল মিকেল আরতেতার দল। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়েও ছিল তারা। শেষ দিকে সব এলোমেলো।
গত পরশু বোর্নমাউথের বিপক্ষে আর্সেনালের ২–১ গোলে হার আর রবিবার রাতে চেলসির বিপক্ষে ম্যানসিটির জয়ে জমে ওঠেছে লড়াই। চেলসির মাঠে পাওয়া ৩–০ গোলের জয়ে এখন দারুণভাবে লড়াইয়ে ফিরেছে পেপ গার্দিওলার দল। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের ৩২ ম্যাচে পয়েন্ট ৭০। এক ম্যাচ কম খেলে সিটির পয়েন্ট ৬৪।
লিগে আর্সেনালের হাতে ৬টি ম্যাচ, ম্যানসিটির ৭টি। তারমধ্যে দুই নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে একে অন্যের মুখোমুখি হবে। ইতিহাদে গানারদের আসন্ন লড়াই কার্যত ‘ফাইনাল’ । এই ম্যাচে গার্দিওলার দল জিতলে পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়াবে মাত্র তিন।
লা লিগা (আবারও ফেভারিট বার্সেলোনা): লা লিগায় ৭টি করে ম্যাচ বাকি শীর্ষের লড়াইয়ে থাকা তিন দলের। ভিয়ারিয়ালের হিসাবটা একটু একপাশে রাখা উচিত। কারণ, শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা থেকে ১৮ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। আর দুইয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে হান্সি ফ্লিকের দল।
লা লিগায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা বিশেষ করে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ সবশেষ ম্যাচে জিরোনার বিপক্ষে ড্র করলে, আর এস্পোনিওলের বিপক্ষে বার্সা পূর্ণ তিন পয়েন্ট বাগালে। ৩১ ম্যাচ শেষে বার্সার পয়েন্ট ৭৯, সমান ম্যাচে রিয়ালের ৭০।
সিরি ‘আ’ (নাপোলির অসহায়ত্বে শীর্ষে ইন্টার): সিরি’আতে এখনও ৬ ম্যাচ বাকি। তবে ইন্টার মিলান চাইলেও শিরোপা উৎসব শুরু করে দিতে পারে। কারণ, তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাপোলি থেকে তাদের দুরত্ব ৯ পয়েন্টের।
কোমোর বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেছে ইন্টার। আর নাপোলি তাদের শেষ ম্যাচে করেছে ড্র। ফলে দুরত্বটা বাড়ে আরও।
৩২ ম্যাচে ইন্তারের পয়েন্ট ৭৫। নাপোলির ৬৬, আর এসি মিলানের ৬৩। শেষ দিকে অলৌকিক কিছু না ঘটলেও ইন্টারের ঘরেই যাচ্ছে শিরোপা।
বুন্দেসলিগা (রাজার মতোই ছুটছে বাভারিয়ানরা): চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা বুন্দেসলিগা—সবজায়গাতেই আধিপত্য ধরে রেখেছে বাভারিয়ানরা। চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
বুন্দেসলিগায় এখনও ৫ ম্যাচ বাকি। তবে দ্বিতীয়তে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে বায়ার্ন যে পরিমান (১২ পয়েন্ট) আগানো, তাতে পুনরায় বায়ার্নের ঘরে শিরোপা যাচ্ছে তা হলফ করে বলা যায়।
লিগে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে সেন্ট পাউলির বিপক্ষে বায়ার্ন জিতেছে ৫–০ গোলে। এই জয়ের পর বায়ার্নের পয়েন্ট ২৯ ম্যাচে ৭৬। আর লেভারকুসেনের কাছে ১–০ গোলে হারা ডর্টমুন্ডের পয়েন্ট সমান ম্যাচে ৬৪। তবে সামনের দিনে মুছে যেতে পারে এই ব্যবধান।
লিগ ‘আঁ’ (যেখানে পিএসজিই সব): লিগ আঁ’তে ১৪তম শিরোপা প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের ঘরে যাচ্ছে, তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লিগে ২৭ ম্যাচে পিএসজির পয়েন্ট ৬৩। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঁসের পয়েন্ট ৫৯। এক ম্যাচ বেশি খেলেছে দলটি।
পয়েন্ট ব্যবধান কম মনে হলেও লাঁস একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে পিএসজি থেকে। তার মধ্যে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হটিয়ে অলৌকিক কিছু ঘটানো মোটেও সহজ হবে না লাঁসের জন্য।
No posts available.

ফুটবল থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাওয়া আর্জেন্টাইন তারকা গনজালো হিগুয়েইন আবারও আলোচনায় এসেছেন। তবে এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং নতুন লুকের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি তাঁকে ঘিরে কৌতূহল তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে এক ভক্তের সঙ্গে তোলা ছবিটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় আলোচনা। ছবিতে ঘন দাড়ি আর স্বাভাবিক, নির্ভার উপস্থিতিতে সাবেক এই স্ট্রাইকারকে অনেকেই প্রথম দেখায় চিনতেই পারেননি। এমনকি অনেকের মনে সংশয় ছিল, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কি না।
তবে ছবিটি তোলা সেই ভক্তই স্পষ্ট করে করেছেন, ‘এটি কৃত্রিম (এআই) কিছু নয়।’ তাঁর দাবি, হিগুয়াইন সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং খুব সহজ-সরল পোশাকে ছিলেন, ফলে আশপাশের অনেকেই তাঁকে চিনতে পারেননি।
এর আগেও চেহারার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় এসেছেন হিগুয়েইন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কোঁকড়ানো চুলের যে তরুণকে দেখা গিয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চেহারায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন দাড়ি ও ভিন্ন স্টাইল তাঁকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে।
বর্তমানে ফুটবলজীবন থেকে বেশ দূরে আছেন হিগুয়েইন। কিছুদিন আগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্লাবে খেলোয়াড় উন্নয়ন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খবর শোনা গেলেও এখন তিনি সেই কাঠামোর অংশ নন। মাঠের বাইরে তাঁর এই নিরিবিলি জীবনই যেন এখন বেশি আলোচনায় আসছে।
লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলেছিলেন হিগুয়েইন। রিয়াল মাদ্রিদ, নাপোলি, এসি মিলান, চেলসির মতো ক্লাবে খেলেছেনে এই স্ট্রাইকার। তবে ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে সহজ গোল হাতছাড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুনতে হয়, সেখান থেকেই তাঁর জীবনের দৃশ্যপট কিছুটা বদলে যায়। ২০২২ সালে ৩৪ বছর বয়সে পেশাদার ক্যারিয়ার থেকে বিদায় নেন হিগুয়েইন।

রিয়াল মাদ্রিদের জন্য দুঃসংবাদ। অনুশীলনের সময় চোটে পড়েছেন দলটির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানি কারভাহাল। তাঁর ডান পায়ের হাড়ে ফাটল ধরা পড়েছে। ৩৪ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ তারকা কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন, সে বিষয়ে রিয়াল নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, মৌসুমের শেষ ম্যাচে ২৫ মে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে দলে ফিরবেন কারভাহাল। ফলে ১০ মে এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার বিপক্ষে এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের।
রিয়ালের সঙ্গে কারভাহালের চুক্তি শেষ হবে চলতি বছর জুনে। ক্লাবের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিতে তাই কারভাহালকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হতে পারে।
গত দুই মৌসুম ধরে চোট কারভাহালকে বারবার পিছিয়ে দিয়েছে। চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড যোগ দেওয়ার পর থেকেই শুরুর একাদশে নিজের নিয়মিত জায়গা হারান।
কারভাহালের অনুপস্থিতিতে স্পেন দলে পেদ্রো পোরো ও মার্কোস ইয়োরেন্তের মতো খেলোয়াড়রা নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন। ফলে সুস্থ হয়ে উঠলেও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বকাপ দলে কারভাহালকে ডাকবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
আগামী ১৫ জুন আটলান্টায় কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। সেই দলে অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার জায়গা পান কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ইন্টার মায়ামির হয়ে শততম ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচের ৩৩ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ গোলের বড় লিড নিয়ে সমর্থকদের উৎসবের উপলক্ষও তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি অরল্যান্ডো সিটি।
মেজর লিগ সকারে আজ ভোরে হওয়া ম্যাচে মায়ামিকে স্তব্ধ করে ৪-৩ ব্যবধানের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে অরল্যান্ডো। এই হারের ফলে নিজেদের নতুন ভেন্যু নু স্টেডিয়ামে টানা চার ম্যাচ জয়হীন রইল মায়ামি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল ইন্টার মায়ামির। মাত্র চার মিনিটের মাথায় ইয়ান ফ্রের গোলে এগিয়ে যায় তারা। এরপরই শুরু হয় মেসি ম্যাজিক। ২৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে গিয়ে লুইস সুয়ারেজকে পাস দেন মেসি। সুয়ারেজ ফিরতি পাসে বক্সের ভেতর বল বাড়ান মেসিকে। আর্জেন্টাইন তারকার নিখুঁত পাসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তেলাসকো সেগোভিয়া।
৩৩ মিনিটে এবার নিজেই গোলের খাতায় নাম লেখান মেসি। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বা পায়ের শটে ব্যবধান ৩-০ করেন। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে এটি ছিল মেসির ৮৬তম গোল।
৩৯ মিনিটে অরল্যান্ডোর মার্তিন ওজেদা এক গোল শোধ করলে নাটকের শুরু হয়। ৬৮ মিনিটে ওজেদা নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-২। ৭৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি ম্যাচে ৩-৩ সমতা ফেরান এই আর্জেন্টাইন। ইনজুরি টাইমে টাইরেস স্পাইসার জয়সূচক গোলটি করলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্যালারি।
এমএলএসের ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা যেখানে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও কোনো দল ম্যাচ জিতল। এর আগে ২০১৭ সালে সিয়াটল সাউন্ডার্স এবং ২০১৮ সালে এলএ গ্যালাক্সি এই কীর্তি গড়েছিল। অথচ এই ম্যাচের আগে গত ১৫ ম্যাচের মাত্র দুটিতে জিতেছিল অরল্যান্ডো।
এই হারে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মায়ামির টানা ১১ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রাও থেমে গেল। ১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে ইন্টার মায়ামি। ১০ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ন্যাশভিল এসসি। ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ১৩ নম্বরে অরল্যান্ডো।
লা লিগায় শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেল বার্সেলোনা। শনিবার রাতে ওসাসুনাকে হারিয়ে টানা দশম জয় তুলে নিয়েছে কাতালানরা। আজ রিয়াল মাদ্রিদ পয়েন্ট খোয়ালেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুলবে বার্সেলোনা।
প্রতিপক্ষের মাঠে হান্সি ফ্লিকের দলের জয় ২-১ ব্যবধানে। এই জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে গেল কাতালান ক্লাবটি।
আজ রাতে এস্পানিওলের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ যদি জয় না পায়, তবে মাঠের লড়াইয়ে না নেমেই চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত হয়ে যাবে বার্সেলোনার। রিয়াল জিতলে আগামী ১০ মে ঘরের মাঠে এল ক্লাসিকোতে হার এড়ালেই শিরোপা ঘরে তুলবে কাতালানরা।
শনিবার রাতে পুরো ম্যাচ জুড়ে ওসাসুনার রক্ষণে বারবার হানা দিলেও গোলের দেখা পেতে বার্সাকে অপেক্ষা করতে হয় ৮১ মিনিট পর্যন্ত। মার্কাস রাশফোর্ড নিখুঁত এক ক্রস বাড়ান রবার্ট লেভানডফস্কির দিকে, জোরালো হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই পোলিশ স্ট্রাইকার।
পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। মাঝমাঠ থেকে ফারমিন লোপেজের পাস ধরে ওসাসুনা গোলকিপারকে পরাস্ত করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
৮৯ মিনিটে দুর্দান্ত হেডে ওসাসুনার রাউল গার্সিয়া একটি গোল শোধ করলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ঘামঝরানো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্লিকের দল।
৩৪ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৮৮, এক ম্যাচ কম খেলা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৪। লিগে আর মাত্র চারটি রাউন্ড বাকি। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের হাতে থাকা সব ম্যাচ জিতলেও বার্সেলোনাকে ছোঁয়া এখন প্রায় অসম্ভব। রিয়ালের আজকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে বার্সার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষণ।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটির ওপর আরও চাপ বাড়াল আর্সেনাল। শনিবার রাতে ঘরের মাঠে ভিক্টর ইয়োকেরেসের জোড়া গোলে ফুলহ্যামকে সহজেই হারিয়েছে মিকেল আরতেতার দল।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের জয় ৩-০ ব্যবধানে। ইয়োকেরেসের সঙ্গে গোলের তালিকায় নাম লেখান বুকায়ো সাকা।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে গেল গানাররা। অবশ্য আর্সেনালের চেয়ে ম্যানচেস্টার সিটি দুই ম্যাচ কম খেলেছে। সোমবার এভারটনের বিপক্ষে মাঠে নামবে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফুলহ্যামকে চেপে ধরে আর্সেনাল। চোট কাটিয়ে দীর্ঘ সময় পর একাদশে ফেরা বুকায়ো সাকা নবম মিনিটেই ডান প্রান্ত দিয়ে ফুলহ্যাম ডিফেন্ডার রাউল জিমেনেজকে পরাস্ত করে বক্সে ক্রস বাড়ান। নিখুঁত ট্যাপ-ইনে বল জালে পাঠিয়ে গানারদের এগিয়ে নেন ইয়োকেরেস। এটি ছিল মৌসুমে এই সুইডিশ স্ট্রাইকারের ২০তম গোল।
বিরতির পাঁচ মিনিট আগে সাকা ও ইয়োকেরেসের রসায়ন আবারও দেখা যায়। এবার ইয়োকেরেসের পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করেন সাকা। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রসে দর্শনীয় হেডে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন ইয়োকেরেস।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতে থাকায় প্রথমার্ধের পরেই সাকা এবং ৬৪ মিনিটে ইয়োকেরেসকে তুলে নেন আরতেতা। চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কথা ভেবেই দলের মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ।
দ্বিতীয়ার্ধে রিকার্ডো ক্যালাফিওরোর একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান আর বাড়েনি। এর আগে প্রথমার্ধে অফসাইডের কারণে তাঁর একটি গোল বাতিল হয়েছিল।
৩৫ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আর্সেনাল, সমান ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দশ নম্বরে ফুলহ্যাম। আর্সেনালের চেয়ে দুই ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৭০।
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদকে আতিথ্য দেবে আর্সেনাল। আতলেতিকোর ঘরের মাঠে প্রথম লেগ ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল।