৩ মার্চ ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

চীনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের উদ্বোধনী ম্যাচে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে নিয়েও। কখন সুইডেনপ্রবাসী ফুটবলারের অভিষেক হয় তা নিয়ে ছিল জল্পনা। অপেক্ষার অবসান ঘটে নির্ধারিত সময়ের খেলা ৪ মিনিট বাকি থাকতে। ৮৬ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলে অভিষেক হয় এই উইঙ্গারের।
শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আনিকা। ৯ নম্বর জার্সি পড়ে নামবেন এটা জানাই ছিল। শেষ পর্যন্ত তাই হলো বাংলাদেশ দলে ৯ নম্বর জার্সি পেলেন অভিষেকের আগেই জনপ্রিয়তা পাওয়া প্রবাসী এই ফুটবলার।
এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে আনিকা যখন মাঠে নামেন তখন হারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকার পর তাঁকে মাঠে নামান কোচ পিটার বাটলার।
নির্ধারিত সময়ের ৪ মিনিট এবং ইনজুরি টাইমের ৮ মিনিট, সর্বসাকুল্যে ১২ মিনিট মাঠে ছিলেন আনিকা। এইটুকু সময়ে একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্স বিবেচনার সুযোগ হয় না।
তবে যতক্ষণ মাঠে ছিলেন নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে খেলা শেষে আনিকা জানান টি-স্পোর্টসকে,
'অনেক ভালো লাগছে। লড়াই করেছি, দৌড়েছি এবং নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।'
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৬ মার্চ, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় ৯ মার্চ উজবেকিস্তানকে মোকাবিলা করবে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়নরা।
পরবর্তী ম্যাচগুলোয় বেশি মিনিট সুযোগ পেলে দলে অবদান রাখতে চান আনিকা। বলেন,
'পরের ম্যাচে যদি বেশি মিনিট খেলার সুযোগ পাই অবশ্যই আমি পারফর্ম করতে চাই এবং দলে অবদান রাখতে চাই।'
No posts available.
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২:০১ এম

ডমিনিক সোবোসলাইয়ের কথাই ধরুণ। অ্যানফিল্ডে নিজেদের জয়ের জন্য মরে যেতেও প্রস্তুত ছিলেন লিভারপুল মিডফিল্ডার। ঘরের মাঠে জয়ের সব উপকরণ জমা ছিল আর্নে স্লটের কোষাগারে। নিজেদের শতভাগ নিংড়ে দেওয়ার পিএসজির বিপক্ষে সুবিধা করতে পারেনি অল রেডরা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনারের দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ফার্স্ট লেগে ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর ফিরতি লেগেও একই ব্যবধানে জিতেছে তারা। আজ দুটি গোলই করেছেন দেম্বেলে।
সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত
করতে অবশ্য ঘরের মাঠে লিভারপুলকে পাড়ি দিতে হতো এক বিশাল পর্বত, জিততে হতো অন্তত ৩
গোলের ব্যবধানে। অন্যদিকে, প্রথম লেগের ২-০ ব্যবধানের জয় পিএসজিকে সুবিধাজনক অবস্থানে
রেখেছিল। আজ তারা জিতলে বা ড্র করলে তো বটেই, এমনকি ১ গোলের ব্যবধানে হারলেও শেষ চারে
জায়গা করে নিতো। যদিও পিএসজি জিতেছে ২-০ ব্যবধানে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে বল দখলে রাখার পাশাপাশি আক্রমণে আধিপত্য ধরে রাখে পিএসজি। অবশ্য পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে ভুগছিল দুই দলই। ঘড়ির কাঁটা আধা ঘণ্টা ছোঁয়ার আগে ধাক্কা লাগে লিভারপুলে। চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন হুগো একিটিকে। বদলি নামেন মোহামেদ সালাহ।
দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক
আক্রমণ করতে থাকে লিভারপুল। ৬৮ মিনিটে দারুণ এক গোলে পিএসজিকে লিড এনে দেন দেম্বেলে।
সতীর্থের পাস ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে, এক পলকে সামনে দেখে নিখুঁত শট নেন ফরাসি তারকা,
ঝাঁপিয়ে নাগাল পাননি গোলকিপার।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আরেকটি পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান
বাড়ান দেম্বেলে। বারকোলার পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে নিচু শটে জালে লক্ষ্যবেদ
করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

প্রাণপন চেষ্টা, মাঠজুড়ে দাপট আর ২-১ ব্যবধানের জয়—সবই পেল বার্সেলোনা। তাতেও কাটল না প্রথম লেগের আক্ষেপ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছে বার্সা। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনাল জিতেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
অন্যদিকে, প্রথম লেগের সেই ২-০ ব্যবধানের জয়ই শেষ পর্যন্ত আতলেতিকো মাদ্রিদকে পৌঁছে দিল সেমিফাইনালের মঞ্চে। ২০১৪ ও ২০১৬ সালের পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে গেল বার্সা।
মাদ্রিদের মেত্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ফিরতি লেগের কিক অফের ৩০ সেকেন্ডে জাত চেনান লামিন ইয়ামাল। আতলেতিকোর ডি-বক্সের দিকে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যান স্পেন ফরোয়ার্ড। এরপর বুলেট গতির শট নেন এবং বলটি পোস্টের একদম কোণা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছিল, কিন্তু গোলকিপার হুয়ান মুসো হাত বাড়িয়ে কোনোমতে রুখে দেন তা।
ভক্তদের অবশ্য বেশিক্ষণ আফসোসে রাখেননি ইয়ামাল। চতুর্থ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ফেরান তোরেসের দেওয়া ক্রসের সূত্র ধরে আবারও গর্জন তোলেন তিনি। এরপরন মুসোকে বোকা বানিয়ে জালে বল পাঠান। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ইয়ামালের ষষ্ঠ গোল।
অষ্টম মিনিট শোধের উপলক্ষ্য পায় আতলেতিকো। তবে আদেমোলা লুকমানের বাঁ-পায়ের শটে ছিল না গতি। তার চেয়েও বড় হুলিয়ান আলভারেজের পাস পড়তে পারেননি নাইজেরিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
নবম মিনিটের আগে বার্সা আবারও আতলেতিকোর রক্ষণভাগ চিরে ভেতরে ঢুকে পড়ে। রক্ষণভাগের পেছন দিয়ে আসা বলটি তাড়া করছিলেন দানি ওলমো। গোলরক্ষক মুসো শুরুতে কিছুটা পিছলে গেলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে (ইন দ্য নিক অফ টাইম) নিজেকে সামলে নেন এবং ওলমোর চিপ করা শটটি (ডিনকড অ্যাটেম্পট) রুখে দেন দারুণ দক্ষতায়।
২৩তম মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। এবারের নায়ক ফেরান তোরেস। ওলমোর ক্রস থেকে বাঁ পায়ের ঝলক দেখান স্পেন ফরোয়ার্ড। রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের মাঝে সামান্য ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ওলমো। এরপর দুর্দান্ত এক পাসে বল বাড়িয়ে দেন তোরেসের দিকে। যিনি তরতরিয়ে চলে যান পোস্টের কাছে। গোলপোস্ট থেকে কিছুটা কোণাকুণি অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও তোরেস নিখুঁতভাবে পায়ের জাদুতে বলটি বাঁক খেয়ে গোলরক্ষক মুসোকে পরাস্ত করে। মুহূর্তেই টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ায় বল। তাতেই মেত্রোপলিটানো স্টেডিয়াম যেন নিস্তব্ধতায় জমে যায়।
আগের ম্যাচে লা লিগায় জোড়া গোল আদায় করা এই ফরোর্য়াড এবার সাফল্য পান চ্যাম্পিয়নস লিগে। লিগে এটি তার তৃতীয় গোল।
২৪তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বার্সেলোনার। লামিন ইয়ামালের ট্রাভেলা শট থেকে গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন ফেরমিন লোপেজ। উল্টো বিপত্তি বাঁধে মুসোর পা সারাসরি তার মুখে আঘাত করলে। তখন ফেরমিনের নাক দিয়ে ঝরঝরিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।
৩০তম মিনিটে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। ডান প্রান্ত দিয়ে একাই বল দিয়ে আক্রমনে ওঠেন ইয়োরেন্তে। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ বুদ্ধিমত্তার সাথে তিনি বল বাড়িয়ে দেন দ্রুত গতিতে ছুটে আসা লুকমানের দিকে। লুকমান অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক গার্সিয়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনে শেষ হয় প্রথামার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা মুহূর্তে সুবিধা আদায় করে অতিথিরা। ৫৪তম মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল খুঁজে পান গাভি। গোল লক্ষ্য করে নেওয়া তার শটটি রক্ষণভাগে বাধা পেয়ে সরাসরি চলে যায় তোরেসের কাছে। কোনো কিছু না ভেবেই সহজাত ভঙ্গিতে দুর্দান্ত এক ভলিতে টপ কর্নার দিয়ে জালে লক্ষ্যবেদ করেন তিনি। তবে দুর্ভাগ্য বলতেই হয় বার্সেলোনাকে। ভিএআর চেকে অফসাইট ধরা পড়ে এবং বাতিল হয় এই গোল।
৬৮ মিনিটে ফেরান তোরেস ও ফারমিন লোপেজকে উঠিয়ে রবার্ট লেভানডফস্কি ও মার্কাস রাশফোর্ডকে নামা ফ্লিক। পরের মিনিটেই রুগিরিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড কনসিভ করেন গাভী। ম্যাচে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো রক্তঝরার মতো ঘটনা ঘটে।
৭৩তম মিনিটে গার্সিয়া বড় বিপদ থেকে বাঁচান কাতালানদের। লে নরম্যান্ডের জোরাল শট ঠেকিয়ে দেন স্পেন গোলকিপার। এরপর আরও একটি আক্রমণ প্রতিহত করেন গার্সিয়া।
৭৫তম মিনেট গ্রিজম্যানকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। বদলি হিসেবে সরলথকে নামান থিয়াগো সিলভা। ভাগ্যদেবী সহায় করেই হয়তো নেমেছিলেন সরলথ। নরয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডকে ফাউল করার কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এরিক গার্সিয়াকে। ফার্স্ট লেগেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ দশজন নিয়েই খেলে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় লেগেও একই পরিণতি হলো তাদের।
দশ জনের সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগায় আতলেতিকো। মুর্হুমুহু আক্রমণ শানায় তারা। ৮৭তম মিনিটে মোলিনা গোলের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একাই আক্রমণে ওঠেন তিনি। তার ফিনিশিং সুন্দর না হলেও আতলেতিকোর শেষটা অবশ্য সুন্দর হয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে অ্যাগ্রিগেট বিচারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে সিমিওনের দল।
.jpeg)
চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে দুই লেগ মিলিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদকে কখনোই হারাতে পারেনি বার্সেলোনা। কিন্তু মাদ্রিদের মেত্রোপলিটানোতে লামিন ইয়ামালরা যেন পণ করেই নেমেছেন। ইতিহাস নতুন করে লেখবার তাড়নায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকা বার্সেলোনা ফিরতি লেগের প্রথমার্ধ শেষে ২-১ গোলে (অ্যাগ্রিগেটে ৩-২) এগিয়ে।
মাদ্রিদের মেত্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ফিরতি লেগের কিক অফের ৩০ সেকেন্ডে জাত চেনান লামিন ইয়ামাল। আতলেতিকোর ডি-বক্সের দিকে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যান স্পেন ফরোয়ার্ড। এরপর বুলেট গতির শট নেন এবং বলটি পোস্টের একদম কোণা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছিল। কিন্তু গোলকিপার হুয়ান মুসো হাত বাড়িয়ে কোনোমতে তা রুখে দেন।
ভক্তদের অবশ্য বেশিক্ষণ আফসোস করতে দেননি ইয়ামাল। চতুর্থ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ফেরান তোরেসের ক্রসের সূত্র ধরে আবারও আক্রমণে ওঠেন তিনি। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে মুসোকে বোকা বানিয়ে জালে বল পাঠান। লিগে এটি ইয়ামালের ষষ্ঠ গোল।
অষ্টম মিনিট শোধের উপলক্ষ্য পায় আতলেতিকো। তবে আদেমোলা লুকমানের বাঁ-পায়ের শটে ছিল না গতি। তার চেয়েও বড় হুলিয়ান আলভারেজের পাস পড়তে পারেননি নাইজেরিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
নবম মিনিটের আগে বার্সা আবারও আতলেতিকোর রক্ষণভাগ চিরে ভেতরে ঢুকে পড়ে। রক্ষণভাগের পেছন দিয়ে আসা বলটি তাড়া করছিলেন দানি ওলমো। গোলরক্ষক মুসো শুরুতে কিছুটা পিছলে গেলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে (ইন দ্য নিক অফ টাইম) নিজেকে সামলে নেন এবং ওলমোর চিপ করা শটটি (ডিনকড অ্যাটেম্পট) রুখে দেন দারুণ দক্ষতায়।
২৩তম মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। এবারের নায়ক ফেরান তোরেস। ওলমোর ক্রস থেকে বা পায়ের ঝলক দেখান স্পেন ফরোয়ার্ড। রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের মাঝে সামান্য ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ওলমো। এরপর দুর্দান্ত এক পাসে বল বাড়িয়ে দেন তোরেসের দিকে। যিনি তরতরিয়ে চলে যান পোস্টের কাছে। গোলপোস্ট থেকে কিছুটা কোণাকুণি অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও তোরেস নিখুঁতভাবে পায়ের জাদুতে বলটি বাঁক খেয়ে গোলরক্ষক মুসোকে পরাস্ত করে। মুহূর্তেই টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ায় বল। তাতেই মেত্রোপলিটানো স্টেডিয়াম যেন নিস্তব্ধতায় জমে যায়।
আগের ম্যাচে লা লিগায় জোড়া গোল আদায় করা এই ফরোর্য়াড এবার সাফল্য পান চ্যাম্পিয়নস লিগে। লিগে এটি তার তৃতীয় গোল।
২৪তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বার্সেলোনার। লামিন ইয়ামালের ট্রাভেলা শট থেকে গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন ফেরমিন লোপেজ। উল্টো বিপত্তি বাঁধে মুসোর পা সারাসরি তার মুখে আঘাত করলে। তখন ফেরমিনের নাক দিয়ে ঝরঝরিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।
৩০তম মিনিটে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। ডান প্রান্ত দিয়ে একাই বল দিয়ে আক্রমনে ওঠেন ইয়োরেন্তে। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ বুদ্ধিমত্তার সাথে তিনি বল বাড়িয়ে দেন দ্রুত গতিতে ছুটে আসা লুকমানের দিকে। লুকমান অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক গার্সিয়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনে শেষ হয় প্রথামার্ধ।

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইন্টার মায়ামির কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন হাভিয়ের মাসচেরানো। মঙ্গলবার বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে মায়ামির কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মাসচেরানো। ৪১ বছর বয়সী এই কোচের অধীনে খেলা ৪৭টি ম্যাচের মধ্যে ২৭টিতেই জিতেছে মায়ামি। গত বছর ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপের শিরোপা এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন মাসচেরানো।
মাসচেরানোর অধীনে ২০২৪-২৫ মৌসুমে রেকর্ড ১০১টি গোল করেছে মায়ামি। যা এমএলএস-এর ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এর মধ্যে শুধু প্লে-অফেই এসেছিল ২০টি গোল।
মাসচেরানো মায়ামিকে ক্লাব বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও নিয়ে গিয়েছিলেন। গ্রুপ পর্বে পোর্তোকে হারালেও শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তারা পিএসজির কাছে হেরে বিদায় নেয়।
বিদায়বেলায় মাসচেরানো বলেন,
“আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, ব্যক্তিগত কারণে ইন্টার মায়ামির কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য ক্লাবকে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য প্রতিটি কর্মীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে বিশেষ ধন্যবাদ খেলোয়াড়দের, যাদের কারণে আমরা অবিস্মরণীয় কিছু মুহূর্ত কাটাতে পেরেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“ভক্তদেরও অনেক ধন্যবাদ। আমাদের জেতা প্রথম শিরোপার স্মৃতি আমি সবসময় সাথে রাখব। আমি যেখানেই থাকি না কেন, ক্লাবের মঙ্গল কামনা করব। আমার বিশ্বাস, এই ক্লাব ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য পাবে।”
বর্তমানে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে মায়ামি। মাসচেরানো চলে যাওয়ায় আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করবেন গুইলার্মো হোয়োস। আগামী শনিবার কলোরাডো র্যাপিডস-এর বিপক্ষে মাঠে নামবে মায়ামি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সর্বাধিক শিরোপাধারীরা এখন কষছে নানা ছক। বারবার হট ফেভারিটের তকমা লাগিয়ে দাপট দেখানো রিয়াল মাদ্রিদ এবার সমীকরণ ও যদি-কিন্তুর মারপ্যাঁচে। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা বুধবার রাতে ফিরতি লেগে খেলতে নামবে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে।
ঘরের মাঠে কঠিন লড়াইয়ের আগে ভক্তদের সুসংবাদ দিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। তিনি নিশ্চিত করেছেন, জামাল মুসিয়ালা শুরুর একাদশে থাকার জন্য ফিট আছেন। এছাড়া সার্জ গ্রানব্রিকে এই ম্যাচে পাওয়া যাবে।
মুসিয়ালা প্রসঙ্গে কোম্পানি বলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। তার উন্নতি সঠিক পথেই আছে।’ অন্যদিকে গ্রানব্রি সম্পর্কে জানান,
‘সেন্ট পাউলির বিপক্ষে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তবে কালকের জন্য সবাই প্রস্তুত।’
প্রথম লেগে বার্নাব্যুতে দুর্দান্ত খেলা মাইকেল ওলিস সম্পর্কেও উচ্চ প্রশংসা করেন কোম্পানি। তিনি বলেন,
‘সবাই দেখছি সে (ওলিসে) কতটা ফর্মে। আমি নিশ্চিত ও একদিন সেরাদের একজন হবে। তবে এই মুহূর্তে ও সঠিক পথেই আছে।’
সমর্থকদের ভূমিকা নিয়ে বায়ার্ন বস বলেন,
‘আমি এই স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলেছি এবং জানি এই গ্যালারি কী করতে পারে। আমার চাওয়া, কাল যেন সব সমর্থক আমাদের পাশে থাকে।’