১৮ মার্চ ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ দল। দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র তিন দিনের পর্যবেক্ষণেই ফুটবলারদের মধ্যে দারুণ সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন নতুন আইরিশ কোচ মার্ক কক্স। তাঁর বিশ্বাস, মানসিক দৃঢ়তা ও ট্যাকটিক্যাল বোঝাপড়া আরও উন্নত করতে পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই তরুণরা নিজেদের প্রমাণ করবে।
ইউয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই কোচ বাফুফের (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় খেলোয়াড়দের সক্ষমতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
‘এই দলের সঙ্গে মাত্র তিন দিন কাজ করেছি। এর আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে কিছুটা গবেষণা করেছি এবং অন্যান্য কোচদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। তাদের পারফরম্যান্স দেখে মনে হয়েছে, এই দল এবং বাংলাদেশের ফুটবলে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।‘
খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়েও সন্তুষ্ট কক্স,
‘ওরা দল হিসেবে ভালো খেলছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো ওদের টেকনিক্যাল দক্ষতার সঙ্গে কৌশলগত বোঝাপড়াটা ঝালিয়ে নেওয়া। শারীরিকভাবে যথেষ্ট ফিট; তবে আমি এটাও দেখতে চাই তারা সামাজিকভাবে কেমনভাবে একে অপরের সঙ্গে মিশে, কারণ দল হিসেবে সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মানসিক দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ। ওদেরকে এই পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে প্রয়োজনীয় সেই অতিরিক্ত ১০ শতাংশ উন্নতিটুকু এনে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।‘
সাফের শিরোপা ধরে রাখার মিশন বাংলাদেশের। সেই লক্ষ্যেই কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। মিডফিল্ডার মোলতাজিম আলম হিমেল জানিয়েছেন, কোচদের নির্দেশনায় প্রতিদিনই অনুশীলনে বাড়তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
হিমেল বলেন,
‘দলের অবস্থা বর্তমানে অনেক ভালো। গত তিন দিন খুব ভালো ট্রেনিং করেছি। ২৪ মার্চ আমাদের প্রথম ম্যাচ, সে অনুযায়ী কোচেরা আমাদের দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। সবাই খুব পরিশ্রম করছে এবং ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছে।'
২৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মালদ্বীপে হবে এবারের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ। গ্রুপ ‘বি’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত ও পাকিস্তান। ২৪ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার পর ২৮ মার্চ ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে।
No posts available.
১৮ মার্চ ২০২৬, ১:৩৭ পিএম

২০২৬ এএফসি নারী এশিয়ান কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে উঠেছে জাপান। সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রলিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেল ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা।
প্রায় ১৭ হাজার দর্শকের সামনে আজ জাপানের গতির কাছে পাত্তাই পায়নি গত আসরের রানার্স আপরা। ১৫ মিনিটে ফুকা নাগানোর দারুণ পাস থেকে রিকো উয়েকি গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। এই টুর্নামেন্টে এটি ছিল তাঁর ষষ্ঠ গোল। এরপর ২৫ মিনিটে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় ব্যবধান বাড়ান মাইকা হামানো।
দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ কোরিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও জাপানের আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি। ৭৫ মিনিটে কর্নার থেকে সাকি কুমাগাইয়ের হেডে আসে তৃতীয় গোল। তিন মিনিট পর ক্যাং চা-রিম একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল সান্ত্বনাই হয়ে থাকে। ম্যাচের ৮১ মিনিটে রেমিনা চিবা গোল করে জাপানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের ফলে পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠল জাপান। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। গতকাল প্রথম সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

মাঠের লড়াইয়ে জেতা মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এখন টেবিলের সিদ্ধান্তে হাতছাড়া। মঙ্গলবার রাতে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) সেনেগালের জেতা শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সেনেগালের তারকা সাদিও মানে এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
নিজের ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মানে,
‘যা ঘটেছে তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এটি সেই ফুটবল নয় যার জন্য আমরা লড়াই করি, কিংবা সেই আফ্রিকা নয় যাকে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের খেলায় দুর্নীতির প্রভাব অনেক বেশি, যা মহাদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগ ও ভালোবাসাকে মেরে ফেলছে।‘
আল নাসর ফরোয়ার্ড আরও বলেন,
‘খেলোয়াড়রা মাঠে তাদের সবটুকু উজাড় করে দেয়, কিন্তু মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তগুলো ম্যাচের ফলাফল ও শিরোপা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। আফ্রিকান ফুটবল এবং সমর্থকরা এর চেয়ে ভালো কিছু, স্বচ্ছতা ও সম্মান পাওয়ার যোগ্য।‘
মাঠের লড়াইয়ে জয়ী হওয়া সেনেগালিজ ফুটবলাররা সিএএফের এই সিদ্ধান্তকে উপহাস করতেও ছাড়েননি। দলটির মিডফিল্ডার পাথে সিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের মেডেল ও ট্রফিসহ ছবি পোস্ট করে ব্যাঙ্গাত্মক সুরে লিখেছেন,
‘ওই কান্নাকাটি করাদের (মরক্কো) চাইলে আরও তিন গোল দিয়ে দাও।‘
গত ১৮ জানুয়ারি ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে পরাজিত করে সেনেগাল। চরম নাটকীয়তায় ঠাসা সেই ফাইনালের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি পায় মরক্কো। প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান সেনেগালের ফুটবলাররা। প্রায় ১৭ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর সাদিও মানের অনুরোধে তারা মাঠে ফেরেন।
পুনরায় শুরু হলে ব্রাহিম দিয়াজ সেই পেনাল্টি মিস করেন। অতিরিক্ত সময়ে পেপ গুইয়ের জয় নিশ্চিত করে শিরোপা উল্লাস করেছিল সেনেগাল।
তবে দুই মাস পরে এসে আফ্রিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখন সেই ফলাফল পাল্টে দিয়েছে। সিএএফ তাদের রায়ে জানিয়েছে, পেনাল্টির আগে সেনেগাল দলের আচরণ টুর্নামেন্টের ৮২ ও ৮৪ নম্বর ধারার লঙ্ঘন। ফলে ম্যাচটি সেনেগালের জন্য পরিত্যক্ত ধরা হয়েছে এবং মরক্কোকে ৩-০ ব্যবধানে বিজয়ী ও চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে।
সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ) এই রায়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুলায়ে সিদু সো বলেন,
‘আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ করছি। আমরা থামব না, কারণ আইন আমাদের পক্ষেই আছে।‘

আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফুটবলের শিরোপা নিয়ে নজিরবিহীন বিতর্কে জড়িয়েছে সেনেগাল ও মরক্কো। টুর্নামেন্টের ফাইনালের ফলাফল পাল্টে দিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ক্যাফ)। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে সেনেগাল।
মঙ্গলবার রাতে ক্যাফ জানায়, ফাইনালে বিতর্কিত একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে মাঠ ছাড়ায় সেনেগালকে ম্যাচটি ‘ফরফিট’ করা হয়েছে। এর ফলে ম্যাচের ফল ৩-০ ব্যবধানে মরক্কোর পক্ষে দেওয়া হয়। দুই মাস আগে সেই ফাইনালের পর্যালোচনা করে ক্যাফের আপিল বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেয়, যা আফকনের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
এই সিদ্ধান্তকে 'অন্যায্য, নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য' বলে উল্লেখ করেছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আফ্রিকান ফুটবলের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় তারা দ্রুতই কোট অব অরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (সিএএস) আপিল করবে।
সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুলায়ে সেইদু সো দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, 'আমরা পিছু হটব না। আইন আমাদের পক্ষেই আছে।' তিনি এই রায়কে 'আফ্রিকার জন্য লজ্জাজনক' বলেও মন্তব্য করেন।
ফাইনাল ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে মরক্কো পেনাল্টি পায়, যা ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে গেলে ম্যাচে দীর্ঘ সময়ের বিরতি পড়ে। পরে খেলা পুনরায় শুরু হলে মরক্কোর পেনাল্টি নিতে গিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন, তার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক । এরপর অতিরিক্ত সময়ে গোল করে সেনেগালকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন । তবে ম্যাচের পর থেকেই উত্তেজনা ও বিতর্ক চলতে থাকে।
ঘটনার পর সেনেগালের খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। সেনেগালের তারকা ফুটবলার সাদিও মানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, 'বিশ্ব জানে প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন কারা।' অন্য খেলোয়াড়রাও বিভিন্ন পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ক্যাফের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, প্রতিযোগিতার নিয়মকানুনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে তারা আফকনের এই আসরে অংশ নেওয়া সব দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে ফাইনালের ফল পাল্টে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত আফ্রিকান ফুটবলে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, সিএএসে আপিলের পর এই নাটকীয় ঘটনার শেষ পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

পুনঃনির্মিত ক্যাম্প ন্যু’র আলোয় ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে মুখোমুখি বার্সেলোনা ও নিউক্যাসল ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে দুই দল। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে।
শেষ ষোলোর প্রথম লেগে সেন্ট জেমস পার্কে দারুণ ছিল নিউক্যাসল। কিন্তু ম্যাচে আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও তারা লিড নিতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে বার্সেলোনাকে ১–১ ড্র এনে দেন লামিন ইয়ামাল।
এরপর দুই দলই এ সপ্তাহের শুরুর দিকে আত্মবিশ্বাসী জয় পেয়েছে। নিউক্যাসল অ্যাওয়ে ম্যাচে ১–০ গোলে হারিয়েছে চেলসিকে। আর বার্সেলোনা ৫–২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সেভিয়াকে। লা লিগার শীর্ষে নিজেদের দাপট বজায় রেখেছে কাতালুনিয়ারা।
আরও পড়ুন
| বোদো/গ্লিমটের রূপকথা থামিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পোর্টিং লিসবন |
|
বুধবার রাতের দ্বিতীয় লেগটি হবে এই মৌসুমে বার্সেলোনা-নিউক্যাসলের তৃতীয় মুখোমুখি। ইংলিশ ক্লাবটির আত্মবিশ্বাস আর ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনা একেবারেই ভিন্ন এক দল; শেষ পর্যন্ত কে জিতবে সেটিই দেখার অপেক্ষা। স্টেডিয়াম পুনরায় খোলার পর এটিই এখানে হতে চলা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ম্যাচ।
বার্সার ঘরের মাঠের প্রতিকূল পরিবেশে জিততে হলে নিউক্যাসলকে নিখুঁত পারফরম্যান্স করতে হবে। কিছু ইনজুরি সমস্যা থাকলেও নিজেদের মাঠে বার্সেলোনা সব সময় ভয়ঙ্কর। যে কোনো দলকে মুহূর্তে উড়িয়ে দিতে পারে তারা। সম্প্রতি আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সেটিই দেখা গেছে। এখানে টানা ১২টি ম্যাচ জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল। ২০২৬ সালের শুরু থেকে ঘরের মাঠে তাদের শেষ ৭টি জয়ের প্রতিটিতেই করেছে অন্তত ৩টি করে গোল।
নিউক্যাসল সুযোগ পাবে ঠিকই; তবে ম্যাচের চিত্র প্রথম লেগের সম্পূর্ণ উল্টোও হতে পারে। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণের সামনে তাদের রক্ষণভাগকে বড় পরীক্ষায় পড়তে হবে। যা সামাল দেওয়া এডি হাওয়ের দলের জন্য কঠিন হবে। সম্প্রতি চেলসির বিপক্ষে নিউক্যাসল ক্লিনশিট পেলেও, সেটি ছিল গত জানুয়ারির পর প্রথম। তার আগে ১২ ম্যাচে তারা হজম করেছে ২৫ গোল। যা বার্সার আক্রমণের সামনে বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
এছাড়া প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে ৩৭ ম্যাচের মধ্যে স্রেফ দুটিতে হেরেছে বার্সেলোনা। সবশেষ পরাজয় ছিল ২০০৬-০৭ মৌসুমে, লিভারপুলের বিপক্ষে। সেদিক থেকেও এগিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

ডেকলান রাইসকে তাঁর আর্সেনাল সতীর্থরা ডাকেন ‘দ্য হর্স’ নামে। বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও তিনি আবার প্রমাণ করেছেন, কেন এই ডাকনাম তাঁর প্রাপ্য।
মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ফাইনাল লেগের জয়ে জার্মান জায়ান্টদের মোট এগ্রিগেটে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। দুই গোলের একটি করেন এবেরেচি এজে, অন্যটি রাইস।
পুরো মৌসুমজুড়েই আর্সেনালের হয়ে ডেকলান রাইস খেলছেন অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায়। ৯০ মিনিটজুড়ে নিরলস পরিশ্রেই যার পারফরম্যান্সের মূল বৈশিষ্ট্য। চারটি ভিন্ন প্রতিযোগিতায় শিরোপার লড়াইয়ে দারুণভাবে টিকে আছে আর্সেনাল। প্রায় প্রতি ৩ দিন পর পরই এমন পারফরম্যান্স দিয়ে যাচ্ছেন ২৭ বছর বয়সি মিডফিল্ডার।
আরও পড়ুন
| ফুটবল লিগ খেলতে নেপাল গেলেন সানজিদা |
|
মঙ্গলবার রাতে দারুণ এক কার্লিং শটে বল জালে জড়ান রাইস। এটি ছিল আর্সেনালের দ্বিতীয় গোল। এতে করে দুই লেগ মিলিয়ে দলটি দুই গোলের লিড পায়। ম্যাচ শেষ হতে তখনও বাকি প্রায় ৩০ মিনিট। এই লিডের কারণে একাধিক খেলোয়াড় তুলে নেন কোচ মিকেল আর্তেতা। সামনে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কারাবাও কাপের ফাইনাল রয়েছে গানারদের। কিন্তু ইংলিশ তারকা রাইস খেলেছে ঠিকই পুরো ৯০ মিনিট।
এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্সেনালের আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ মিনিট খেলেছেন রাইস। তাঁর চেয়ে বেশি খেলেছেন মিডফিল্ড সঙ্গী মার্টিন জুবিমেন্ডি এবং বর্তমানে ইনজুরিতে থাকা জুরিয়েন টিম্বার। এখন পর্যন্ত মৌসুমে আর্সেনালের খেলা ৪৩ ম্যাচের মধ্যে ৩৭টিতেই একাদশে ছিলেন ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ওয়েস্টহ্যামে খেলা রাইস।
লেভারকুসেনের বিপক্ষে রাইসের গোলটি ছিল এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পঞ্চম। পাশাপাশি তাঁর অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১১। বিশেষ করে কর্নার থেকে তাঁর নিখুঁত ডেলিভারি আর্সেনালের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এই মৌসুমে সেট পিস থেকে যে কারণে বেশ কিছু গোল পেয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি।
ম্যাচ শেষে টিএনটি স্পোর্টসকে রাইস বলেন, ‘আমি একেবারে ক্লান্ত। এটা যেন থামছেই না। অক্টোবর থেকে আমরা প্রতি ৩ দিন পরপর ম্যাচ খেলছি। কারণ এখনো সব প্রতিযোগিতাতেই আছি। আমরা যতটা পারি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু এটা কঠিন। তবুও জয়ের পথ খুঁজে নিই। সবাই জানতে চায়, আমি এতো শক্তি কোথা থেকে পাই। কিন্তু আমি যেন হঠাৎ করেই আরেকটা এনার্জি পেয়ে যাই।’
আরও পড়ুন
| চেলসিকে হারিয়ে শেষ আটে পিএসজি |
|
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুটি অসাধারণ ফ্রি-কিক গোল করেছিলেন রাইস। লেভারকুসেনের বিপক্ষে তাঁর মঙ্গলবার রাতের গোলটিও এসেছে বক্সের বাইরে থেকে। গানারদের জার্সিতে তাঁর ২১ গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে বক্সের বাইরে থেকে। যার মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে করা শেষ তিনটি গোলও রয়েছে।
নিজের সবশেষ গোল নিয়ে রাইস বলেন, ‘আমি তার (ডিফেন্ডারের) সামনে ঢুকে পড়েছিলাম। প্রথম টাচটাই আমাকে সেটআপ করে দেয়। অন্য কোনো অপশন ছিল না, তাই শট নিয়েছি। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে, ট্যাকল করতে, বল জিততে— এই শক্তিটা ভেতর থেকেই খুঁজে নিতে হয়।’