
আসন্ন বিশ্বকাপে কী নেইমার খেলবেন? অমীমাংসিত এই প্রশ্ন বেশ পীড়া দিচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকদের। সান্তোসের এই তারকা নিজেও জানিয়েছেন, সম্ভবত শেষবারের মতো তিনি বিশ্বকাপে খেলতে চান। তবে সেলেসাওদের হয়ে তাঁর প্রত্যাবর্তন এখনো অনিশ্চিত, আর এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের এক কিংবদন্তি সোজাসাপ্টা মন্তব্য করে বলেছেন—নেইমার না থাকলে ব্রাজিল হয়ে যাবে ‘আর দশটা দলের মতোই সাধারণ একটি দল।’
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানো রোমারিও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক ব্যক্তিত্ব। দুইবার কোপা আমেরিকা ও একবার কনফেডারেশনস কাপজয়ী সাবেক বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়া ফরোয়ার্ডের বিশ্বাস, বর্তমান ব্রাজিল দলের কেন্দ্রবিন্দু এখনও নেইমারই। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়ার মতো উঠতি তারকা নয় বরং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন নেইমার, এমনটাই মনে করছেন রোমারিও।
ব্রাজিলের ম্যাগাজিন ‘ভেজা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বিশ্বকাপ মিস করলে তার প্রভাব কেমন পড়বে এ নিয়ে রোমারিও বলেন, ‘নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য অবশ্যই বড় ধাক্কা হবে। ষষ্ঠ শিরোপা তখন আরও দূরে সরে যাবে। আমরা শুধু আশা করতে পারি সে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে এবং নিজের সবটুকু দিতে পারবে।’
আরও পড়ুন
| বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় রোনালদো, আল নাসর ছাড়ার ইঙ্গিত |
|
নেইমারের ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা মেনে নিলেও রোমারিও জোর দিয়ে বললেন, শতভাগ ফিট না থাকলেও সাবেক বার্সেলোনা-পিএসজি তারকা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম, ‘সে পুরোপুরি ফিট থাকবে কি না জানি না, কিন্তু নেইমার যদি ৭০ শতাংশ ফিটও থাকে, তাতেই যথেষ্ট—সে তখনও দলকে সাহায্য করতে পারে, পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’
রোমারিও আরও যোগ করেন, ‘আর নেইমার ছাড়া জাতীয় দল দুর্ভাগ্যজনকভাবে আর দশটা দলের মতোই হয়ে যায়।’
এদিকে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, নেইমার বিশ্বকাপের জন্য বিবেচনায় থাকবেন কেবল তখনই, যখন তিনি পুরোপুরি ফিট থাকবেন। অবশ্য ব্রাজিলের কোচের সঙ্গে এ জায়গায় একতম নন রোমারিও, কিংবদন্তি এই ফুটবলার মনে করেন শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমার ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে প্রায় আড়াই বছর কেটে গেছে, নেইমারকে ব্রাজিলের জার্সিতে দেখার অপেক্ষা কেবলই বেড়েছে সমর্থকদের। এই সময়ে মাঠের ভেতরে-বাইরে সেলেসাও দলে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন—নেতৃত্বে বদল হয়েছে, আর আগের মতো আধিপত্যও অনেকটাই কমে গেছে।
নেইমারবিহীন সময়ে ব্রাজিল মোট ২৬টি ম্যাচ খেলেছে—প্রীতি ম্যাচ, ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব মিলিয়ে। এই সময়ের ফলাফল ছিল ১১টি জয়, ৮টি ড্র এবং ৭টি হার। পাশাপাশি কোপা আমেরিকায় উরুগুয়ের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিল শেষ করেছে পঞ্চম স্থানে; আগের ফরম্যাট হলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটির প্লে-অফ খেলতে হতো।
No posts available.
২১ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম

কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগে একই প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে হেরে অনেকটাই চুপসে আছে বার্সেলোনা। হান্সি ফ্লিকের দলের হাতে এখন অবশিষ্ট কেবল লা লিগা। বিরাট কোনো অঘটন না ঘটে, লা লিগা কাতালান শোকেসেই উঠছে। কারণ, দ্বিতীয় স্থানের দল রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে বার্সেলোনা।
লা লিগায় সাত রাউন্ড বাকি থাকলেও, এখনই শিরোপা ঘরে তুলতে চান বার্সা কোচ। বুধবার লা লিগায় সেলতা ভিগোর মুখোমুখির আগে ফ্লিক বলেন,
‘আমরা লা লিগায় মনোযোগী। আমরা এখানে কিছুটা ভালো অবস্থানে আছি। তবে এখনও লড়াই শেষ হয়নি। এটা সহজ হবে না। আমরা নিজেদের সেরা খেলা খেলতে চাই। আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিতে হবে। দলকে নিয়ে সবাই গর্বিত, কারণ ছেলেরা তাদের সবটা দিচ্ছে।”
দুটি বড় প্রতিযোগিতায় হারা বার্সেলোনার কাছে লা লিগাটাই একমাত্র সম্বল, যেখানে তাদের জয়ের সম্ভবনা প্রবল। ফ্লিক বলেন,
“কেবল লা লিগাতেই টিকে আছি আমরা। মাথা পরিষ্কার করার জন্য কয়েকদিন ছুটি পেয়েছি। আবহ দুর্দান্ত। এটাই মাঠে নিয়ে যেতে হবে এবং নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করতে হবে।”
৩১ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল।

প্রিমিয়ার লিগের অন্তিম মুহূর্ত জমে উঠেছে বেশ। বিশেষ করে, শনিবার রাতে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে আর্সেনালের ২-১ গোলের হারে লিগ হয়ে উঠেছে আরও রোমাঞ্চকর। শীর্ষে থাকা গানারদের পয়েন্ট ৭০। দ্বিতীয়স্থানে থাকা সিটিজেনদের ৬৭। মিকেল আরতেতার দলের চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। তাতেই নতুন জীবন পেয়েছে সিটিজেনরা।
লিগে পেপ গার্দিওলার দল আগামী বৃহস্পতিবার রাতে বার্নলির মাঠে আতিথ্য নেবে। রেলিগেশনের শঙ্কায় থাকা দলটির বিপক্ষে জয় তোলা যে সহজ হবে উড়তে থাকা সিটির, সেটা সহজেই অনুমেয়। পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জনে আর্সেনালের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলবে ম্যানসিটি। দু’দলের ম্যাচ এবং পয়েন্ট হবে সমানে সমান।
টার্ফ মুরে বাংলাদেশ সময় রাত একটার ম্যাচটির আগে গার্দিওলা আর্সেনালের বিপক্ষে শিরোপার লড়াই নিয়ে কথা বলেন। সিটিজেন কোচ বলেন,
‘দুই দলই (সিটি ও আর্সেনাল) জানে অতীতে কী ঘটেছে। উভয় পক্ষই জানে যে, এখন আর কোনো পয়েন্ট হারানো যাবে না। তা পুনরুদ্ধার করা খুব কঠিন। আমাদের খেলার সূচিও খুব ঠাসা, বিশেষ করে পরবর্তী প্রতিপক্ষ এভারটন—যাদের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই অনেক কঠিন।’
গার্দিওলার যোগ করেন,
‘লিগে যে দল পেছনে থেকে ধাওয়া করে, তাদের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে কাজটা বেশি কঠিন। আর্সেনালকে হারানোর পর এখন আমাদের বার্নলির মাঠে গিয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে।’
আর্সেনালের বিপক্ষে জয়ের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে গার্দিওলা বলেন,
‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তাদের বলেছি, আমাদের ফোকাস বা মনোযোগ নষ্ট করা যাবে না। আর্সেনাল এখনো লিগের শীর্ষে আছে এবং বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী তারাই চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে।’

এ বছরের মার্চে নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া ওই টুর্নামেন্টে অবশ্য কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি লাল সবুজের মেয়েরা। তবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা আজ মঙ্গলবার মেয়েদের র্যাঙ্কিং হালনাগাদ করেছে। র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ আগের মতোই ১১২ নম্বরে অবস্থান করছে। তবে তাদের রেটিং কমেছে ৪.৮৭ পয়েন্ট। বর্তমানে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ১১৬৫.৫৭।
এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপে মিলি আক্তার-আফঈদা খন্দকাররা খেলেছেন চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ১১ গোল হজম করেছে। বিপরীতে তারা কোনো গোল দিতে পারেনি।
আরও পড়ুন
| ‘মানুষের মধ্যে মেসি ১ নম্বর, কিন্তু আমার বাবা ঈশ্বর’ |
|
আজকের হালনাগাদে র্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ ১৭ ধাপ এগিয়েছে আমেরিকান সামোয়া। দলটির রেটিং বেড়েছে +০.৬২। ১১৩০.৪২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে তারা অবস্থান করছে ১২০ নম্বরে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে সুরিনামের। বর্তমানে ওশেনিয়া মহাদেশের এই দেশটি অবস্থান করছে ১৩৯ নম্বরে।
বরাবরের মতো সবার ওপরে স্পেন। ১.০৩ রেটিং বেড়ে দলটির রেটিং ২০৮৩.০৯। ২০৫৪.৬৫ রেটিং নিয়ে দুইয়ে যুক্তরাষ্ট্র। তাদেরও অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা নাকি লিওনেল মেসি—কে সেরা? ফুটবল বিশ্বের এই চিরন্তন বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ করলেন ম্যারাডোনার ছেলে দিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র। স্প্যানিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘লা রেভুয়েলতাতে’ অংশ তিনি এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে নিজের বাবার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মতে, সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষের তালিকায় মেসি এক নম্বর হলেও তাঁর বাবা ছিলেন ফুটবলের ‘ঈশ্বর’।
সোমবার রাতে প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ডেভিড ব্রোনকানোর আমন্ত্রণে হাজির হন ইতালিতে জন্ম নেওয়া ম্যারাডোনা জুনিয়র। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা যখন আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো এবং নাপোলিকে শিরোপা উপহার দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, সেই বছরই ক্রিস্টিনা সিনাগ্রার গর্ভে জন্ম নেন তিনি। ২০২০ সালের নভেম্বরে বাবার মৃত্যুর পর থেকে প্রতিটি শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন
| ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি |
|
অনুষ্ঠানে নিজের বাবার ঘটনাবহুল জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দিয়েগো জুনিয়র বলেন,
‘বাবার জীবন ছিল জটিল কিন্তু অত্যন্ত সুন্দর। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি জীবনকে সবটুকু দিয়ে উপভোগ করেছেন, যদিও তাকে অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। তিনি ভুল করেছিলেন এবং তার চড়া মূল্যও দিয়েছেন, কিন্তু তিনি কারো ক্ষতি করেননি।’
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিতর্ক—মেসি বনাম ম্যারাডোনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ কৌশলী অথচ স্পষ্ট জবাব দেন। মেসিকে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন,
‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে চিনি না, তার কাছের মানুষরা হয়তো পরিচয় করিয়ে দিতে চাননি। তবে এটা ঠিক, সাধারণ মানুষের মধ্যে মেসিই এক নম্বর। কিন্তু আমার বাবা তো মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন ফুটবলের ঈশ্বর।’
বাবার ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, ম্যারাডোনার নামের পাশে অন্তত তিনটি বিশ্বকাপ ট্রফি থাকা উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়,
‘আমার বাবার কাছ থেকে দুটি বিশ্বকাপ চুরি করা হয়েছিল। ১৯৯০ এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপের শিরোপা তার জেতা উচিত ছিল।’
বাবার সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্ব ঘুচিয়ে শেষ জীবনে কাছে আসার গল্পটিও শোনান দিয়েগো জুনিয়র। প্রায় ২৯ বছর পর বাবার সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন হয়েছিল। সেই স্মৃতি মনে করে বলেন,
‘টেলিভিশনে আমার একটি সাক্ষাৎকার দেখে বাবা আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। আমি যখন তার সঙ্গে রাতের খাবারে বসলাম, মনে হচ্ছিল আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি। আমরা অতীতের কোনো কটু স্মৃতি নিয়ে আলাপ করিনি, বরং বর্তমান নিয়েই কথা বলেছিলাম।’
আরও পড়ুন
| শিষ্যদের প্রতি একটাই পরামর্শ গার্দিওলার |
|
বাবার স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে দিয়েগো জুনিয়র আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
‘তিনি বর্তমানে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তবুও তিনি সবসময় আমার ভেতরে সবচেয়ে বেশি উপস্থিত। মাঠে এবং মাঠের বাইরে তিনি অজস্র মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। তার সাথে কাটানো অল্প সময়টুকুই আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন। আমার আনন্দের দিনগুলোর অধিনায়ক ছিলেন তিনি।’
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে উপহার বিনিময় এবং ব্যক্তিগত জীবনের মজার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিদায় নেন কিংবদন্তিপুত্র। বর্তমানে কোচিং পেশায় যুক্ত থাকা ডিয়েগো জুনিয়র জানান, বাবা বেঁচে না থাকলেও তাঁর আদর্শ আর ভালোবাসা প্রতি মুহূর্তে তাঁকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।

বেনফিকার সঙ্গে হোসে মরিনিয়োর চুক্তির মেয়াদ এখনও একবছরের বেশি সময় বাকি। এরইমধ্যে স্পেনের জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী রেডিও নেটওয়ার্ক ‘কাদেনা এসইআর’ জানিয়েছে, পুনরায় রিয়াল মাদ্রিদে ফিরতে মুখিয়ে মরিনিয়ো।
আগামী মৌসুমে আলভারো আরবেলোয়া হয়তো রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে থাকছেন না। যদিও ড্রেসিংরুমের একটি বড় অংশ তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেখিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ হার এই সাবেক রিয়াল তারকার কোচিং ক্যারিয়ারকে সংকটে ফেলে দিয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের বোর্ড এখন নতুন কোচের সন্ধানে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের মতে, শুধুমাত্র অভিজ্ঞ প্রার্থীদেরই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। জাবি আলোনসো এবং পরবর্তীতে আরবেলোয়াকে নিয়ে করা পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে ম্যানেজমেন্ট বুঝতে পেরেছে এখন ‘সুপ্রতিষ্ঠিত দক্ষতা’ সম্পন্ন কারো পেছনে বিনিয়োগ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুন
| ‘মানুষের মধ্যে মেসি ১ নম্বর, কিন্তু আমার বাবা ঈশ্বর’ |
|
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলো সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মরিনিয়োর ফেরার একটি চমকপ্রদ সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছে। পর্তুগালের জনপ্রিয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘রেকর্ড’ দাবি করেছে, ঘটনাপ্রবাহ এমন মোড় নেওয়া মোটেও অসম্ভব কিছু নয়।
প্রথমত, স্বয়ং ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ নিজেই মাদ্রিদে ফিরতে আগ্রহী। ‘কাদেনা এসইআর’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের পছন্দের তালিকায় মরিনিয়োর নাম থাকলেও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
রিয়াল মাদ্রিদে ঠিক একই রকম এক অবাক করা প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল। ২০২১ সালে ক্লাবটি কার্লো আনচেলত্তিকে পুনরায় নিয়োগ দেয় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব। তিনি তখন ক্যারিয়ারের এক সন্ধিক্ষণে ছিলেন এবং এভারটনের মতো ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। সময় প্রমাণ করেছে সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।
আরও পড়ুন
| ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি |
|
মরিনিয়ো এর আগে প্রায় ১৮০টি ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যেখানে তিনি লা লিগা এবং স্প্যানিশ কাপ জিতেছিলেন। তবে সে সময় তিনি মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মুকুট এনে দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
যদিও মরিনিয়োকে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রশ্ন করা হয়েছে। বেনফিকার বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে তাঁকে যখনই জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তিনি চূড়ান্ত উত্তর দেননি।