
প্রথম পর্বের খেলা শেষে বিরতি চলছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল)। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়ানোর কথা ছিল লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ। আর ৩ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ফেডারেশন কাপের খেলা সপ্তম দিনের খেলা। তবে আসন্ন নির্বাচনের কারণে লিগ এবং ফেডারেশন কাপের ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে।
ক্লাবগুলোকে আজ সোমবার খেলা স্থগিত করা নিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের সাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে লিগ এবং ফেডারেশন কাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্লাবের অনুরোধ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে আগামী ৩ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি হতে পরবর্তী খেলাসমূহ পূনঃ আরম্ভ হচ্ছে না।’
তবে ফেডারেশন কাপের সপ্তম দিনের খেলা এবং লিগের ১০ম রাউন্ডের খেলার সূচি নতুন করে সাজানো হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়। বলা হয় প্রতিযোগিতাসমূহের পরবর্তী সময় যথাশিগগির জানানো হবে।
প্রথম পর্ব শেষে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছে বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি। বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অবস্থান ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে।
No posts available.
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৮ এম

অনেকের চোখে এটি ফুটবল ইতিহাসে বড় কোনো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিশৃঙ্খল ফাইনালগুলোর একটি হয়ে থাকবে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) গতকাল রাতে মরক্কোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। তবে ‘লায়ন্স অব তেরেঙ্গাদের’ মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতা জয়ের চেয়ে তুমুল আলোচনায় ফাইনালে দলটির ফুটবলারদের মাঠ ছাড়ার ঘটনা। বিতর্কিত এই কাণ্ডে শাস্তির খড়গ নেমে আসতে পারে সাদিও মানেদের ওপর।
মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে পাপে গেয়ির চোখধাঁধানো গোলে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতে নেয় সেনেগাল। তাতে এবারের আসরের আয়োজক মরক্কোর ৫০ বছর পর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়। রেফারির একটি পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরেই সেনেগালের ফুটবলাররা নজিরবিহীন ঘটনা ঘটায়। পরিস্থিতি চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ১৬ মিনিট থেমে থাকার পর আবার শুরু হয় ম্যাচ।
বিতর্কিত এই ঘটনায় নিজের আচারণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও। তিনি বলেন, ‘আমি পুরোপুরি ঠিক মতো বুঝতে পারিনি যে খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে বলাই সঠিক ছিল কিনা। ফুটবলের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কিছু মুহূর্তে উত্তেজনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আমরা রেফারির ভুল মেনে নিচ্ছি এবং ফুটবলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
এরপরও অবশ্য শাস্তি থেকে নিস্তার মিলবে কি না সন্দেহ। রাবাতের পুরো ঘটনাটি নিশ্চিতভাবেই পর্যালোচনা করবে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)। ফাইনালের উত্তপ্ত মুহূর্তে প্রধান কোচ পাপে থিয়াওকে খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে ইশারা করতে দেখা গেছে—যা আফকনের নিয়মাবলির ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।
নিয়ম অনুযায়ী, রেফারির অনুমতি ছাড়া ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে কোনো দল মাঠ ছেড়ে দিলে, সেই দলকে পরাজিত হিসেবে গণ্য করা হবে। আফকনের নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা আছে—‘যেকোনো কারণে যদি কোনো দল প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়, ম্যাচে উপস্থিত না হয়, খেলতে অস্বীকৃতি জানায় অথবা রেফারির অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে মাঠ ত্যাগ করে, তবে সেই দলকে পরাজিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং চলমান প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হবে। সিএএফ-এর সিদ্ধান্তে আগে যারা অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।’
এই ঘটনার পর সেনেগালের জন্য সবচেয়ে কড়া তাৎক্ষণিক শাস্তি হতে পারতো টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার। তবে—সেনেগাল শেষ পর্যন্ত মাঠে ফিরে এসে ম্যাচটি সম্পন্ন করেছিল। সে কারণে তাদের শাস্তির বিষয়টি কিছুটা ভিন্নভাবে দেখা হতে পারে। এরপরও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সিএএফ-এর শৃঙ্খলা কমিটি হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং তেরাঙ্গা লায়ন্সের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। নিয়মে যা বলা আছে, তা হলো— ‘কোনো দলকে স্থায়ীভাবে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হবে। ম্যাচটি ৩-০ ব্যবধানের হার ধরে নিয়েপরাজিত দল হিসেবে গণ্য করা হবে, যদি না ম্যাচ স্থগিত হওয়ার মুহূর্তে প্রতিপক্ষ এর চেয়ে বেশি ব্যবধানে এগিয়ে থাকে—সে ক্ষেত্রে সেই স্কোরই বহাল থাকবে। এ ছাড়া আয়োজক কমিটি প্রয়োজন মনে করলে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।’
অর্থাৎ, সেনেগাল যেহেতু মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে খেলা শেষ করেছে, তাই সরাসরি বহিষ্কারের বদলে জরিমানা, আনুষ্ঠানিক সতর্কতা, ম্যাচের ফল নিয়ে পুনর্বিবেচনা বা ভবিষ্যৎ ম্যাচে শাস্তি—এ ধরনের সিদ্ধান্তও আসতে পারে। এখন সব কিছুই নির্ভর করছে সিএএফের-এর তদন্ত ও চূড়ান্ত রায়ের ওপর। সেনেগাল শাস্তির হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হতে পারে তাদের সমর্থকরা ম্যাচের মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষেও লিপ্ত হয়েছিল।

সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে একটি করে গোল করেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী ও লিপি আক্তার।
থাইল্যান্ডের ননথাবুরি হলে আজ সোমবার বাংলাদেশকে মোকাবিলা করে নেপাল। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোল করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সুমাইয়া মাতসুশিমার বাড়ানো বল গোলমুখে ফাঁকায় পেয়েও জালে জড়াতে পারেননি সাবিনা।
খানিক পর বাংলাদেশকে লিড এনে দেন সেই সাবিনাই। ১৩ মিনিটে কৃষ্ণার পাসে বল পেয়ে নেপালি গোলকিপারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি।
পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান ২-০ করেন কৃষ্ণা। এক ডিফেন্ডারের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল কাটিয়ে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।
গোলকিপার পরিবর্তন করেও বাংলাদেশের গোলের জোয়ার ঠেকাতে পারেনি নেপাল। ৩৩ মিনিটে সুমাইয়ার অ্যাসিস্টে বক্সের ভেতর জায়গা করে নিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন লিপি আক্তার।
তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় এক ড্রয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। ২১ জানুয়ারি লিগ পর্বে চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার।

পানেনকা পেনাল্টি নিতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেনেগালের গোলকিপার এদুয়ার্দ মেন্দির হাতে ধরা পড়েন ব্রাহিম দিয়াজ। নিঃসন্দেহে এমন মুহূর্ত দিয়াজকে বছরের পর বছর তাড়া করবে। হয়ত ভুলে যেতে চাইবেন, কিন্তু নিজেকে কি ক্ষমা করতে পারবেন ২৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকার? কেননা তাঁর ওই গোল মিসের পর পেপ গুইয়ের একমাত্র গোলে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের শিরোপা উল্লাস করে সেনেগাল।
রোববার রাতের ফাইনালে ৯০ মিনিট শেষে কোনো দল পায়নি গোলের দেখা। ইনজুরি সময়ে সেই সুযোগ আসে মরক্কোর সামনে; অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি পায় মরক্কো। ইতিহাসে নাম লেখানোর সুযোগ আসে দিয়াজের সামনে। আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদার এই ট্রফি পাওয়ার আক্ষেপ মরক্কোর ৫০ বছরের। হয়ত একটি সফল স্পট কিকেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারতেন দিয়াজ।
টুর্নামেন্টেও দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটির তারকা। দলকে ফাইনালে তুলতে অবদান রেখেছেন ৫ গোল করে। কিন্তু এদিন ‘পানেনকা’ শট নিতে গিয়ে ধরা পড়েন মেন্দির হাতে। পেনাল্টি শুটের সময় নিজের অবস্থান থেকে সরেননি মেন্দি, যে কারণে খুব সহজে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন ভিয়া রিয়ালের এই গোলকিপার।
পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারার পর বিচলিত ছিলেন দিয়াজ। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা গেছে মরক্কোর বেঞ্চে চোখ ছলছল করছিল কারও কারও। ফাইনাল শেষে শিশুর মতো কেঁদেছেন দিয়াজও। টুর্নামেন্টের সেরা গোলস্কোরারের পুরস্কার যখন নিতে যাচ্ছিলেন পা এগোচ্ছিলো না যেন; দুই দলের খেলোয়াড়েরা করতালি দিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান, ঠোট চেপে কান্না লুকানোর চেষ্টাই কেবল করেছেন দিয়াজ।
ওই পেনাল্টি নিয়ে আপত্তি ছিল সেনেগালের। বেশিরভাগ খেলোয়াড় মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। স্পট কিক নিতে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা দিয়াজকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ১৭ মিনিট। ম্যাচ শেষে ওই ঘটনাকে ইঙ্গিত করে মরক্কোর ম্যানেজার ওয়ালিদ রেগ্রাগুই বলেন, ‘পেনাল্টি নেওয়ার আগে অনেক সময় পার হয়েছে, যা তাঁকে (দিয়াজ) বিরক্ত করেছিল। কিন্তু যা ঘটেছে তা আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। এভাবেই সে পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে।’
খেলোয়াড়দের এসব নিয়ে পড়ে থাকার সময় নেই। অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে চাইবেন দিয়াজ। তবে সেটি মোটেও সহজ হবে না তা বলাই যায়। তাঁর জন্য কী অপেক্ষা করছে সেসবের কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে মরক্কোর সাবেক মিডফিল্ডার হাসান কাচলুলের কথা থেকে, ‘আমি মনে করি ব্রাহিম দিয়াজ আগামী দিনে অনেক দুঃস্বপ্ন দেখবেন।’
নাইজেরিয়ার সাবেক ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল আমোকাচি বলেন, ‘ব্রাহিম দিয়াজ এই টুর্নামেন্টে ৫টি গোল করা সত্ত্বেও নিজের সমস্ত গৌরবময় মুহূর্ত নষ্ট করে দিয়েছেন।’আরেক নাইজেরিয়ান সাবেক মিডফিল্ডার জন ওবি মিকেল বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে দিয়াজের যত কিছু ভালো ছিল সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে বিধ্বস্ত। সামনের সময়টা তাঁর জন্য কঠিন হতে চলেছে- কয়েক সপ্তাহ, হয়ত মাসের পর মাস ধরে।’
নাইজেরিয়ার আরেক সাবেক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইফান একোকু বলেন, ‘এটা এমন একটি মুহূর্ত যা ব্রাহিম দিয়াজ কখনই কাটিয়ে উঠতে পারবে না।’

লক্ষ্যে শট ছিল নয়টি, গোলপোস্টে লেগে ফিরে এসেছে পাঁচবার, তিনটি গোল বাতিল হওয়া পাশপাশি প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিপক্ষের গোলকিপার সেভ করলেন গুনে গুনে আটবার। গোলের জন্য সবটুকু ঢেলে দেওয়া বার্সেলোনার জন্য এমনই দুর্ভাগ্যের ম্যাচ ছিল এটি। বৃথা যায় কাতালান ক্লাবটির সব চেষ্টা। থামে তাদের টানা ১১ ম্যাচের দারুণ জয়রথ।
লা লিগায় গতকাল রিয়াল সোসিয়েদেদের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারসাবাল দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে সমতা ফেরান বার্সার ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ড। ঠিক পরের মিনিটেই গন্সালো গেদেসের গোল শেষ পর্যন্ত গড়ে দেয় ব্যবধান।
লিগে টানা নয় ম্যাচে জয় পাওয়া বার্সা রীতিমতো উড়ছিল। হান্সি ফ্লিকের দল লিগে সবশেষ হেরেছিল এল ক্লাসকোতে। প্রায় তিন আগে সেই হারের পর এবার সোসিয়েদেদের কাছে হোঁচট খেল লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়রা।
এই হারের পরও অবশ্য পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই আছে বার্সেলোনা। তবে দুইয়ে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারাল তারা। ২০ ম্যাচে ১৬ জয় এক ড্র ও তিন হারে ৪৯ পয়েন্ট বার্সার। আর এক পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে রিয়াল। ২৪ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে আট নম্বরে রিয়াল সোসিয়েদাদ।
প্রতিপক্ষের মাঠে গোল করার জন্য যা যা করা দরকার তার সবটাই করেছে বার্সা। ৭০ শতাংশের বেশি বল দখলে রেখে ২৫টি শট নিয়েছে তারা, যার মধ্যে নয়টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীকে ৭টি শট নিয়ে ছয়টি গোলমুখে রাখে রিয়াল সোসিয়েদাদ।
ঘরের মাঠে প্রথম মিনিটেই বার্সার জালে বল পাঠায় রিয়াল সোসিয়েদাদ। তবে অফসাইডে বাতিল হয় গোল। বিপরীতে সফরকারী বার্সার ফারমিন লোপেজ এবং লামিন ইয়ামালের গোলও ভিএআরের যাচাইয়ের পর অফসাইড কাটা পড়ে।
৩২ মিনিটে লিড নেয় স্বাতগতিক সোসিয়েদাদ। গুয়েডেসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলি করে গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টিও পেতে পারত বার্সা। তবে ইয়ামাল অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় আবারও সুযোগ হারায় তারা। এরপর দানি অলমো এবং রবার্ট লেভানডোভস্কির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বার্সেলোনা। ভাগ্য বিধাতা অবশেষে বার্সার দিকে চোখ তুলে তাকায় ৭০ মিনিটে। ইয়ামালের ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন মার্কাস রাশফোর্ড। কিন্তু সমতায় ফেরার স্বস্তি স্থায়ী হয়নি ৬০ সেকেন্ডও। সোসিয়েদের মিডফিল্ডার গুয়েডেস গোলমাউথের ভিলতে ব্যবধান হয় ২-১।
দুর্ভাগ্যকে সঙ্গী করে মাঠে নামা বার্সার আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জুলস কুন্ডের হেড অল্পের জন্য জড়ায়নি জালে। ৮৮ মিনিটে বার্সার মিডফিল্ডার পেদ্রিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সোসিয়েদেদের মিডফিল্ডার কার্লোস সোলার। তবে শেষদিকে একজন কম নিয়ে খেলা প্রতিপক্ষের জালে আর বল পাঠাতে পারেনি বার্সা।
এই ম্যাচে বার্সা কতটা হতভাগা ছিল সেটা একটি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে দ্বিতীয় দল হিসেবে এক ম্যাচে অন্তত পাঁচবার তাদের শট পোস্টে লেগে ফিরে এসেছে।এর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল ব্রাইটনকে।

রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, বিতর্ক, নাটকীয়তা এমন সব শব্দও যেন অপ্রতুল হয়ে গেল। অবিশ্বাস্য আর নজিরবিহীন ঘটনার স্বাক্ষী হলো আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন)। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্যের মহারণের আগেই উত্তাপ ছড়ায় সেনেগালের অভিযোগে। শিরোপার মঞ্চে নেমে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সেনেগালের মাঠ ছাড়া, তারপর একজন আর্দশ নেতার ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে দলকে ফিরিয়ে আনা সাদিও মানে, মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে মরক্কোর ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজের পেনাল্টি মিস, সবশেষ পাপ গেয়ির গোলে স্বাগতিকদের হতাশার মহাসমুদ্রে ভাসিয়ে সেনেগালের চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আফ্রিকার সঙ্গে ফুটবলবিশ্ব দেখল এমনই এক মহাকাব্যিক ফাইনাল।
মরক্কোর রাজধানী রাবাতে নাটকীয়তার সব সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য সমতার পর অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে একমাত্র গোলটি করে আফকনে সেনেগালের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের নায়ক বনে যান ভিয়ারিয়ালের মিডফিল্ডার পাপ গেয়ি।
দ্বিতীয়বার আফকনের শিরোপা জিতল সেনেগাল। ২০২১ সালে সাদিও মানের দল প্রথমবার এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়। আর ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার সেরা হওয়ার পর আর এই ট্রফি জেতা হলো না মরক্কোর। মাঝে ২০০৪ আসরের ফাইনালে তিউনিসিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় মরক্কোর। এবার নিজেদেরে উঠানে ট্রফি জয়ের সবধরনের প্রস্তুতিই যেন সেরে নিয়েছিল আশরাফ হাকিমিরা। তবে তাদের পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘই হলো।
ঘটনাবহুল ফাইনালের বর্ণনার শুরুটা ৯০ মিনিটের পর থেকেই করা যাক। প্রায় সমানতালে লড়ে যাওয়া মরক্কো-সেনেগাল গোলশূন্য থেকে নির্ধারিত সময় শেষ করে। অনেকেই তখন ধরে নিয়েছিলেন ম্যাচ গড়াচ্ছে অতিরিক্ত সময়ে। তবে যোগ করা সময়ের ৯৮ মিনিটে ঘটে বিপত্তি। পেনাল্টি পেয়ে যায় মরক্কো। মরক্কোর নেওয়া কর্নারে বল উড়ে যাচ্ছিল দূরের পোস্টে, সেখানেই ফাউলের শিকার হন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড দিয়াস।
রেফারি জ্যাঁ জাক নডালা ভিএআরের পরামর্শে সাইডলাইন মনিটরে গিয়ে রিপ্লে দেখে ব্রাহিম দিয়াজকে ফাউল করার দায়ে ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিয়ুফের বিরুদ্ধে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। আর রেফারির এই সিদ্ধান্তই শুরু হয় নাট্যমঞ্চের প্রথম পর্ব।
কিছুক্ষণ আগেই সেনেগালের একটি গোল বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ থাকা প্রধান কোচ পাপে থিয়াও নিজের খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে বলেন। সেনেগালের অর্ধেকের বেশি খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তবে তারপর দেশটির ‘নেশনাল হিরো’ মানে সবশেষ হয়ে যাওয়ার আগেই বুঝিয়ে শুনিয়ে ফিরিয়ে আনেন সতীর্থদের। প্রায় ১৭ মিনিটের বিরতির পর শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়রা আবার মাঠে ফেরেন।
রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড দিয়াজ, যিনি পাঁচ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন, তাকেই দেওয়া হলো পেনাল্টিতে গোল করার গুরুদায়িত্ব। তবে পুরো গ্যালারিকে থমকে দিয়ে একটি ‘পানেনকা’ শট নেন তিনি। রিয়ালের এই ফরোয়ার্ডের শট আটকাতে তেমন নড়ারই প্রয়োজন হয়নি সেনেগালের গোলকিপার এদুয়ার মেন্দির। এরপরই বাজল সঙ্গে পূর্ণ সময় শেষের বাঁশি।
এরপর অতিরিক্ত সময়ের ৪ মিনিটে সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ের গোল করেন। ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো নাটকের সূচনা না হওয়ায় শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গাদের’।
এর আগে শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে বিভোর সেনেগালের প্রথম এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে ৫ মিনিটে। সতীর্থের দারুণ একটি ক্রস গোলমুখে পেয়েও জালে পাঠাতে পারেননি পাপ গেয়ি। ৩৭ মিনিটে প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি পায় সেনেগাল। গোলকিপারকে একা পেয়ে যান ইলিমান; তবে তার কোনকুনি শট এগিয়ে এসে পা বাড়িয়ে আটকে দেন ইয়াসিন বোনো।
এর চার মিনিট পর দারুণ এক সুযোগ পায় মরক্কোও। কিন্তু বাঁ দিক থেকে ইসমায়েল সাইবারির দুর্দান্ত ক্রস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেলেও, বলে মাথা ছোঁয়াতেই পারেননি নায়েফ।
প্রথমার্ধে গোলের জন্য মাত্র দুটি শট নেওয়া মরক্কো বিরতির পরের প্রথম ১৫ মিনিটে আরও চারটি শট নেয় কিন্তু এর কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। ৫৮তম মিনিটে এল কাবির কাছ থেকে বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের কয়েক মিনিটে আরও তিনবার শট নেয় মরক্কো, এবং প্রতিবারই লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৬৭তম মিনিটে এক দুর্ঘটনারও শিকার হয় তারা; কর্নারে হেড করতে লাফিয়ে ওঠেন এল আইনাউই, প্রতিপক্ষের একজনের মাথায় লেগে চোখের ওপরের অংশে আঘাত পান তিনি, রক্তও ঝরে; কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। মাঠেই কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে, কপালে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলা চালিয়ে যান।
৮১ মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে সক্ষম হয় মরক্কো, তবে আব্দেলের দুর্বল ভলি সরাসরি যায় সেনেগারের গোলকিপারের গ্লাভসে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে সেনেগাল; জোরাল কোনাকুনি শটে বোনোকে পরাস্ত করতে পারেননি ইব্রাহিম। খানিকটা পর ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লাগলে, ফিরতি বল হেডেই জালে পাঠান ইসমাইল সার; তবে গোল মেলেনি আগেই রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজানোয়। এরপর পর ভরপুর নাটকীয়তার যোগ করা সময় আর পরিশেষে সেনেগালের স্বরণীয় চ্যাম্পিয়নের মুকুট পাওয়া।