
আন্তর্জাতিক বিরতির মাঝেই ইগোর তুদোরকে বরখাস্ত করেছে টটেনহাম হটস্পার। ফেব্রুয়ারিতে থমাস ফ্রাঙ্কের জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন এই ক্রোয়েশিয়ান কোচ। দায়িত্বপ্রাপ্তির ৪৪ দিন অর্থাৎ ছয় সপ্তাহের মাথায় ছাঁটাই হলেন তিনি।
রবিবার এক বিবৃতিতে তুদোর ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে টটেনহাম। তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাওভাবে প্রচার হয় ক্রোয়াট কোচের চাকরি হারানোর খবর।
তুদোর অধীনে পাঁচটি লিগ ম্যাচে একটিও জয় পায়নি টটেনহাম। যার একটি ড্র ও চারটি হারে হতাশাজনকভাবে হেরেছে স্পার্স।
বিবৃতিতে টটেনহাম জানিয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতায় তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব ছেড়েছেন তুদোর। তার সঙ্গে গোলরক্ষক কোচ টমিস্লাভ রোগিচ ও ফিটনেস কোচ রিকার্দো রাগনাচ্চিও ক্লাব ছেড়েছেন। ক্লাব তাদের সবার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে।
সম্প্রতি ব্যক্তিগত দুঃসংবাদও পেয়েছেন তুদোর। নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পরই তিনি তার বাবার মৃত্যুসংবাদ পান, যার কারণে ম্যাচ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতায় থাকতে পারেননি। ক্লাব তার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার কথা বলেছে।
লিগে সাতটি ম্যাচ বাকি থাকতে কোচবিহীন হয়ে পড়ল টটেনহাম। দলটি অবনমন অঞ্চলের ঠিক ওপরে। মাত্র এক পয়েন্ট ব্যবধানে টিকে আছে।
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ৫:১০ পিএম

প্রায় চার দশক ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে নেই ইরাক। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর মিশনে নেমেছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি বুঝেছেন, কাজটা মোটেই সহজ নয়।
প্লে-অফে বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আর্নল্ড বলেছেন, ‘এই দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমাকে বলা হয়েছিল, এটা সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি।’
১৯৮৬ সালের পর আর কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি ইরাক। সেই হিসেবে প্রায় ৪০ বছর পর আবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে দেশটি। আর্নল্ড বলেন, ‘এটা বিশাল চ্যালেঞ্জ, প্রচণ্ড চাপের। ৪৬ মিলিয়ন মানুষের দেশ, যারা ফুটবল নিয়ে ভীষণ আবেগপ্রবণ।’
এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সাফল্য পেয়েছিলেন আর্নল্ড। প্লে-অফে পেরুকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপে তোলেন তিনি। এবার ইরাককে সফল করতে পারলে ইতিহাস গড়বেন—দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে তোলার প্রথম অস্ট্রেলিয়ান কোচ হবেন।
তবে ভাষাগত বাধা থাকলেও ইরাকের ফুটবল সংস্কৃতির গভীরতা তিনি বুঝতে পেরেছেন, ‘আমি আরবি বলতে পারি না, কিন্তু জানি এই সাফল্য দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইরাকের মানুষ ফুটবল নিয়ে একেবারেই পাগলপ্রায়।’
ইরাকের দীর্ঘদিন বিশ্বকাপের বাইরে থাকার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ-সংঘাত, সব মিলিয়ে দেশের ফুটবল পিছিয়ে পড়ে। যদিও ২০০৭ এশিয়ান কাপ জিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল দলটি।
বর্তমান বাছাইপর্বে নাটকীয়ভাবে প্লে-অফে উঠেছে ইরাক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করে তারা। সেই জয়ে রাজধানী বাগদাদসহ পুরো দেশে উদযাপনের ঢেউ নেমে আসে।
গত ১০ মাসে দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন আর্নল্ড, ‘আমি প্রায় সাত মাসই বাগদাদে ছিলাম, সংস্কৃতি বোঝার জন্য। এখানে কোথাও গেলে ব্যক্তিগত সময় পাওয়া কঠিন। সবাই ছবি তুলতে চায়, সবাই কাছে আসতে চায়।’
অর্নল্ড বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারানোর পর বাগদাদের রাস্তায় মানুষের উদযাপন দেখেছি। আবেগটা বিশাল ছিল। তবে আমি তখনও খেলোয়াড়দের বলেছি—আমরা এখনো যোগ্যতা অর্জন করিনি।’
ইরাকের ফুটবলারদের আবেগ ও দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন আর্নল্ড, ‘এই খেলোয়াড়রা দেশের জন্য কিছু করতে চায়। তাদের এই ইচ্ছাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
মঙ্গলবারের ম্যাচেই নির্ধারিত হবে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরতে পারবে কি না ইরাক।

৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিসরে শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের চুড়ান্ত পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে ৪২ দল। ইউরোপীয় ও আন্তমহাদেশীয় অঞ্চলের ৬ দল অধীর অপেক্ষায়। ৩১ মার্চ ফয়সালা হবে তাদেরও।
১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাওয়া বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও দুই মাসের বেশি সময় বাকি। অথচ ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ, আমেরিকার ভিসা নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ ৬ কারণে এই প্রতিযোগিতা অনিশ্চয়তার ছায়ায়।
ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ: বিশ্বকাপ যতই ঘনিয়ে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়। টুর্নামেন্টে ইরানের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ মার্কিন মুলুকে। তেহরান থেকে বারবার ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করা হলেও ফিফা এখনও পর্যন্ত ফিরতি উত্তর দেয়নি।
ইরানের ভেন্যু পরিবর্তনের বাহনার মূলে—আমেরিকা। তেল আবিব ও তেহরান যুদ্ধে ইসরায়েলের বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে ইসরায়েল। দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ইন্ধন ও সহযোগিতার কারণে প্রথম দিকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যু ব্যতিত যেকোনও ভেন্যুতে খেলতে রাজি। আর ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানলুইজি ইনফান্তিনো আশ্বাস দিয়েছেন, বিশ্বকাপে ইরানকে স্বাগত জানানো হবে। তবে ট্রাম্প নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেননি। সবকিছু বিবেচনায় বিষয়টি আরও জটিলতার দিকে যাচ্ছে, যা প্রভাব ফেলতে পারে বিশ্বকাপে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত। অবৈধ অভিবাসন রোধ ছাড়াও ইরানের বিপক্ষে ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না আমেরিকার অনেক রাজনীতিবিদ। ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ইউএস ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জানুয়ারিতে আইস হেফাজতে ছয়জনের মৃত্যুরে ঘটনা ঘটে।
ড্রাগ কার্টেল সহিংসতা: মেক্সিকোতে জালিস্কো ড্রাগ কার্টেলের সহিংসতা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বকাপের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এটি। কার্টেল নেতা নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী ও কার্টেলের মধ্যে বেশ কয়েকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
যদিও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য ১ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা: ‘বিশ্বকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত’— ফিফা প্রেসিডেন্ট এমন ঘোষণা দিলেও বাস্তবতার নিরিখে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক ভক্তই সমস্যায় পড়ছেন। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যা বেআইনি অভিবাসন রোধের চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ফলস্বরূপ, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের ভক্তদের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। আর ইরান ও হাইতির ভক্তরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ঝামেলায় পড়তে পারেন। তাছাড়া ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’ অনুযায়ী কয়েকটি দেশের ভক্তদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য।
টিকিটের উচ্চ দাম: বিশ্বকাপে সবচেয়ে কমদামি টিকিটের মূল্য ৬০ মার্কিন ডলার। এ নিয়ে আন্দোলন কম হয়নি। ফ্যান গ্রুপগুলোর অভিযোগ—টিকিটের আসল দাম অনেক বেশি এবং সাধারণ ভক্তদের জন্য এটি বহনযোগ্য নয়।
ফিফা অভিযোগ তুলেছে, এই টিকিটগুলো অনেক আগে বিক্রি হয়ে গেছে এবং বিজ্ঞাপনে দেখানো দাম আসলেই পাওয়া যায় না। এছাড়া পুনঃবিক্রয় বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও আছে। টিকিটের দাম বিশ্বকাপ থামিয়ে দেওয়ার মতো বড় ঘটনা না হলেও, সমালোচনা তীব্র হতে পারে বিশ্বকাপ চলাকালীন।
মাঠ ও আবহাওয়া: যেসব ভক্ত যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন, তাদের জন্য মাঠের পরিস্থিতি এবং আবহাওয়া একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে কয়েকটি মাঠ খারাপ অবস্থায় ছিল। এ নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচরা অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছিলেন। গরমের কারণে বিরতি বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছিল। ফিফা তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি ঘোষণা দিয়েছিল। তবে কিছু সমালোচক মনে করেন এটি শুধুমাত্র টিভি বিজ্ঞাপনের সুবিধার জন্য।

স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা যেন আরও উগরে উঠেছে। বিশেষ করে ‘নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি’ ঘিরে দুই ক্লাবের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বার্সেলোনার পুনর্নির্বাচিত সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা। দায়িত্বে ফিরেই আবারও রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাপোর্তা বলেন, ‘নেগ্রেইরা মামলায় তাদের সম্পৃক্ততার পর থেকেই আমাদের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। অনেক দিন ধরেই তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’
এর আগে নেগ্রেইরা ইস্যুতে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। তদন্ত প্রক্রিয়াতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখে ক্লাবটি। সেই ঘটনার জেরেই দুই ক্লাবের সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়েও দুই ক্লাবের অবস্থান ভিন্ন হয়ে যায়। একসময় যৌথভাবে এই প্রকল্পে থাকলেও পরে সরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা সুপার লিগ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি হচ্ছিল না। আগেই আমরা বিষয়টি জানিয়েছিলাম।’
বার্সেলোনা সভাপতি যোগ করেন, ‘উয়েফা ইউরোপীয় ফুটবলের স্থায়িত্ব বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটাও আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।’
তবে সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন রেফারিং প্রসঙ্গে। লাপোর্তার দাবি, রেফারিরা বার্সেলোনাকে সুবিধা দেন না, বরং রিয়াল মাদ্রিদই বেশি সুবিধা পায়। তাঁর ভাষায়, ‘আমার সবসময়ই মনে হয়েছে আমাদের অনেক ভালো খেলতে হয়, কারণ রেফারিরা আমাদের পক্ষে থাকে না। এখানে মনে হয় সবসময় রিয়ালকেই সহায়তা করা হয়। তাদের বার্সেলোনা-ইটিস আছে, এটা স্পষ্ট।’
নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন লাপোর্তা। তাঁর দাবি, বার্সেলোনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে পাল্টা অভিযোগ তুললেন, ‘আমরা এমন একজনকে নিয়োগ দিয়েছিলাম, যিনি আগে রেফারি কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন—এ নিয়ে আমাদের সমালোচনা করা হচ্ছে। অথচ তাদের সঙ্গেই রেফারি কমিটির সভাপতিদের যোগসূত্র ছিল।’
লাপোর্তার এই মন্তব্য স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই ক্লাবের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের দাগ এখনও দগদগে। এরই মধ্যে রাফিনিয়ার চোট বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে ব্রাজিলকে। বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ার মুহূর্তেই জানা গেল, ডান পায়ের বাইসেপস ফেমোরিসে চোট পেয়েছেন বার্সেলোনা উইঙ্গার। তাঁর মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করেনি ব্রাজিল। তবে সত্যিকার অর্থে চোট গুরুতর হলে একমাসের বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে রাফিনিয়াকে।
রাফিনিয়া ইস্যুতে খারাপ সংবাদ মিললেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে বার্সেলোনা ও ব্রাজিলের আকাশে যে মেঘ জমেছিল তা ধীরে ধীরে সরে গেছে। ফরাসিদের বিপক্ষে ম্যাচে চোটের শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত গুরুতর কিছু হয়নি এই তারকা লেফট উইঙ্গারের। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে না থাকলেও, দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে না ভিনিকে।
১ এপ্রিল ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রীতি ম্যাচের অনুশীলনে ভিনিকে রাখেননি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অরল্যান্ডোতে দলের অনুশীলনে না থাকলেও একাকী জিমে ঘাম ঝরাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ লেফট উইঙ্গার। ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচের পর পেশিতে টান অনুভব করায় শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এখন আর সে ভয় নেই
স্প্যানিশ ক্রীড়া সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মিগুয়েল এঞ্জেল দিয়াজ জানিয়েছেন,
“ভিনিসিয়ুস ভালো আছেন” এবং “ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে না খেললেও সেটা শুধু সতর্কতার জন্য।”
আগামী সপ্তাহে মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচে ভিনির খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বড় স্বস্তির কারণ হবে কোচ আলভারো আরবেলার জন্য। যিনি আগেই কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোটে দুশ্চিন্তায় আছেন।
চোট গুরুতর না হওয়ায় ক্লাবের ম্যাচের দিকে নজর ভিনিসিয়ুয়েসের। লা লিগায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছেন আরবেলা। সে জায়গায় ভিনির উপস্থিতি হতে পারে বড় নিয়ামক।

জিনেদিন জিদান ও মার্কো মাতেরাজ্জি—ফুটবল ইতিহাসের আলোচিত সেই মুহূর্তের পর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ‘হেডবাট’ ঘটনার পর আজ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে কোনো কথা বলেননি তাঁরা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতেরাজ্জি নিজেই জানিয়েছেন এই তথ্য। তাঁর ভাষায়, ‘এই গ্রীষ্মে ২০ বছর হয়ে যাবে জিদানের সেই হেডবাটের। কিন্তু এখনো আমাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। আমার কোনো আক্ষেপও নেই।’
২০০৬ সালে জার্মানির বার্লিনে বিশ্বকাপ ফাইনালে দেখা হয়েছিল ফ্রান্স ও ইতালি। ম্যাচটি টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা ঘরে তোলে ইতালি। তবে শিরোপার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষদিকে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা—মাতেরাজ্জির বুকে মাথা দিয়ে আঘাত করেন জিদান। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ফরাসি কিংবদন্তিকে।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে এখনো সেই ঘটনাটি আলোচিত। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কখনো আলোচনা হয়নি দুজনের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে কখনো কথাও হয়নি।
মাতেরাজ্জি বলেন, ‘আমি কি জিদানের সঙ্গে কথা বলেছি? এখনো না। আমার জন্য এটা কোনো সমস্যা নয়। ফুটবলে ৯০ মিনিটের মধ্যে আপনি দলের জন্য সবকিছু করতে পারেন। কিন্তু রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর আমার কাছে সব শেষ।’
সে ঘটনা মনে রাখেননি মাতেরাজ্জি। বলেছেন জিদানের প্রতি সম্মানের কথাও, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট পরই আমার কাছে বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছিল। জানি না জিদানের কাছে কেমন ছিল। তবে তার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে। রিয়াল মাদ্রিদে কোচ হিসেবেও সে অনেক চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে। সে আমার কাছে একজন কিংবদন্তি।’
ঘটনার পেছনের কারণ নিয়েও কথা বলেছেন মাতেরাজ্জি। তিনি স্বীকার করেন, জিদানকে উসকানি দিতে গিয়ে তিনি তার বোন সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘সে আমাকে তার জার্সি দিতে চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, ‘না, আমি তোমার বোনকে পছন্দ করি।’
এই বর্ণনা জিদানের আগের বক্তব্যের সঙ্গেও মিলে যায়। জিদান একসময় বলেছিলেন, মাতেরাজ্জি তাঁর বোনকে অপমান করেছিলেন, যা তাঁকে উত্তেজিত করে তোলে। পরে নিজের আচরণের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন ফরাসি তারকা।
ক্যারিয়ারে ফিফা বিশ্বকাপ ২০০৬ ফাইনালের সেই লাল কার্ডের ঘটনা জিদানের উজ্জ্বল সাফল্যকেও আড়াল করে দেয়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
মাতেরাজ্জিও ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মিলানের হয়ে একাধিক সিরি আ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফুটবল ইতিহাসের সেই মুহূর্ত এখনো অমলিন। আর জিদান ও মাতেরাজ্জি নীরবতাও যেন সেই স্মৃতিকে আরও রহস্যময় করে রেখেছে।