১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১২ পিএম

ফুটবলে এমন মুহূর্তের স্বাক্ষী হওয়াটাও ভাগ্যের ব্যাপার। বেনফিকার গোলকিপার আনাতোলি ট্রুবিন তো এই ঘটনার নির্মাতা। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ইউক্রেনের গোলকিপারের হেডে করা সেই গোল এই খেলার ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি মুহূর্ত হয়ে থাকবে। দলকে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা ট্রুবিনের কাছে ওই সময়টা এখনো যেন স্বপ্ন। যেন পরাবাস্তব কোনো ঘটনা। যেভাবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে গোল করে পুরো ফুটবলবিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন, এখনো তাঁর বিশ্বাস হয় না।
চ্যাম্পিয়নস লিগ রিয়ালকে দুঃস্বপ্ন উপহার দেওয়া বেনফিকা এই প্রতিযোগিতার প্লে অফে আবার মুখোমুখি হচ্ছে। মঙ্গলবার ঘরের মাঠে শেষ ষোলো নিশ্চিতের লড়াইয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টদের আতিথেয়তা দেবে হোসে মরিনহোর ক্লাব। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বেনফিকার গোলকিপার ট্রুবিন স্মৃতিচারণ করলেন স্বরণীয় সেই গোলের।
গোলকিপার থেকে হঠাৎ গোলদাতা হয়ে ওঠার অনুভূতি নিয়ে বেনফিকার গোলকিপার বলেন,, ছয় বছর বয়স থেকে ফুটবল খেলছি, সব সময় কঠোর পরিশ্রম করেছি গোল ঠেকানোর জন্য। এখন এক মুহূর্তের জন্য অনেক মানুষ আমাকে চেনে, কারণ আমি একটি গোল করেছি।’
ওই গোল করে হঠাৎ জনপ্রিয়তা পাওয়া ট্রুবিনের এখনো বিশ্বাসই হয়না। সমথর্কদের প্রতিক্রিয়ায় এখনো বিস্মিত এই ইউক্রেনের গোলকিপার বলেন,
‘এখনো আমার কাছে বিষয়টা পাগলাটে মনে হয়। কখনো কখনো বিশ্বাসই করতে পারি না যে ঘটনাটা সত্যি ঘটেছে। আজ অনুশীলন শেষে এক সমর্থক ছবি তুলতে এসে বলল, “দারুণ গোল”। আগে এমন কখনো হয়নি। সেই মুহূর্তটা সব সময় মনে থাকবে।’
ঘটনার নাটকীয়তা আরও বেড়ে যায় কারণ শুরুতে খেলোয়াড় কিংবা কোচ কেউই বুঝতে পারেননি যে আরেকটি গোল প্রয়োজন। ডাগআউটে প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন কোচ মরিনহো। প্রথমে ৩–২ ব্যবধানই যথেষ্ট মনে করে তিনি ট্রুবিনকে সময় নষ্ট করতে বলেন। পরে যখন সমর্থক ও ক্লাব প্রেসিডেন্ট রুই কস্তা হতাশ হয়ে চিৎকার শুরু করেন, তখনই বিষয়টি পরিষ্কার হয়।
স্বরণীয় ওই মুহূর্তের বর্ণনা দেওয়া ট্রুবিন হাসতে হাসতে বলেন,
‘আমরা এগিয়ে ছিলাম, তাই তাড়াহুড়ার দরকার নেই ভাবছিলাম। হঠাৎ দর্শকরা কেন চিৎকার করছে বা সতীর্থরা কেন ‘একটা, একটা’ বলে ইশারা করছে—কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। পরে যখন ফ্রি-কিক পেলাম, তখন কোচ আমাকে সামনে যেতে ইশারা করলেন। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আরেকটা গোল দরকার?’
শেষ মুহূর্তে বেনফিকার গোলকিপার উপরে উঠে এলে সতীর্থ ফ্রেডরিক অরনেস দারুণ একটি ক্রস দেন, যাকে ত্রুবিন ‘পারফেক্ট’ বলে বর্ণনা করেন,
‘খেলার সময় আপনি বেশি ভাবেন না, শুধু করেন। মুহূর্তটা খুব দ্রুত ঘটেছে। হয়তো ক্রসটা এত নিখুঁত ছিল বলেই, হয়তো গোলটা হওয়ারই ছিল—আমার কাছে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হয়েছে। ওই মুহূর্তে ঝুঁকি নিতেই হয়, সব কিছু উজাড় করে দিতে হয়। যদি গোল করতে হয়, সামনে যেতেই হবে—সমর্থকদের খুশি করতে, বেনফিকাকে আরও শক্তিশালী করতে। আমি দৌড়ালাম, তারপর মাথা দিয়ে বলটা ছুঁই—মনে হচ্ছিল আমি যেন একজন স্ট্রাইকার। সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
No posts available.
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:০৫ পিএম

কার্লো আনচেলোত্তি ডাগ-আউটের দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘হেক্সা’ স্বপ্নের পুনঃজাগরণ ঘটেছে ব্রাজিলে। অভিজ্ঞ এই কোচ আবারও সেলেসাওদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবেন, আশায় বুক বেধেছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটির সমর্থকরা।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ নিয়ে যখন নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে ব্রাজিল, তখন দলটির তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কথায় খানিকটা মন খারাপ হতে পারে সমর্থকদের। বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে চারটি দলকে বেছে নিলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফুটবলার, যেখানে নেই নিজের দলই।
স্প্যানিশ ইউটিউবার ইবানি লানোসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ, কার্লো আনচেলোত্তির কোচিং নিয়ে কথা বলেন ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিলের কোচ আনচেলোত্তিকে ‘দাদা’ সম্বোধন করা রিয়ালের তারকা উইঙ্গার জোর গলায় বলেন, আনচেলোত্তি ব্রাজিলকে ষষ্ঠবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে সাহায্য করতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে আনচেলোত্তি থাকা পুরোপুরি ভিন্ন অভিজ্ঞতা। আমার জন্য, এটা সবচেয়ে ভালো ঘটনা যা ঘটেছে। তিনি আমার দাদার মতোই!’
অবশ্য বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ফেবারিট হিসেবে রাখছেন না ভিনি, ‘বিশ্বে কিছু চমৎকার দল আছে। তবে আমি পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা নিয়ে মুগ্ধ। আমি মনে করি এই চারটি দলের সেরা লাইনআপ আছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে খেলছে, শেষ বিশ্বকাপের পর খুব কম পরিবর্তন এসেছে, এবং সেটাই বড় পার্থক্য তৈরি করছে।’
রিয়ালে থাকতে ভিনিকে নিজ হাতে গড়েছেন আনচেলোত্তি। এই গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক যে দুর্দান্ত সেটা না বললেই নয়। প্রায় নাকি সাম্বা তারকাকে ফোন দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের আত্মবিশ্বাস যোগান ৬৬ বছর বয়সী কোচ। ভিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের সঙ্গে খুবই ভালো আচরণ করেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্ক চমৎকার, তিনি দারুণ কাজ করছেন। আশা করি তিনি এই বিশ্বকাপ জিততে পারবেন। প্রতিবার যখন তিনি আমাকে ফোন করেন, বলেন, “তুমি জানো আমরা বিশ্বকাপ জিতব, তাই না?”
আনচেলোত্তিকে নিয়ে ভিনি আরও বলেন, ‘তিনি ইতোমধ্যেই পর্তুগিজ খুব ভালোভাবে শিখেছেন; খুব দ্রুত আয়ত্ত করেছেন। পুরো কোচিং স্টাফ পর্তুগিজে কথা বলেন। প্রথম দিনেই, তার পরিচিতির সময়, তিনি পর্তুগিজে কথা বলেছেন। তিনি আমাদের খেলার ধারা বদলে দিয়েছেন, তার আগমনের পর থেকে আমরা অনেক ভালো খেলছি, খুশি ও শান্ত।’
আনচেলোত্তিকে পেয়ে যে আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ব্রাজিল, সেটা শোনা গেল ভিনির কণ্ঠেও, ‘তিনি আমাদের প্রয়োজনীয় প্রশান্তি নিয়ে আসেন। ব্রাজিলে সবসময় উত্তেজনা থাকে, কারণ এতদিন আমরা বিশ্বকাপ জিতিনি, সমর্থকরা আবার জেতার আশা রাখে। ব্রাজিলে বিশ্বকাপ একেবারে আলাদা—স্কুল নেই, কাজ নেই, কিছুই চলে না, পুরো দেশ থেমে যায়!’
আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে আছে ব্রাজিল। গ্রুপপর্বে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। এর আগে মার্চ ও এপ্রিলের শুরুতে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা।

লিভারপুল অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক তাঁর বন্ধু মোহামেদ সালাহকে অনুরোধ জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমেও যেন তিনি লিভারপুলে থেকে যান। সেটা যদি পূর্ণতা পায়, তবে একই সময় অ্যানফিল্ডের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে দুজনের।
গতবছরের ডিসেম্বরে ম্যানেজার আর্নে স্লটের সঙ্গে প্রকাশ্যে মনোমালিন্যের কারণে সালাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। লিভারপুল ক্যারিয়ারে প্রথমবার বেঞ্চে বসানো হয় মিসরীয় ফুটবল রাজপুত্রকে। জানুয়ারিতে দল ছাড়ার ইঙ্গিতও দেন সালাহ। পরে বিষয়টি মিটে যায় এবং আফ্রিকা কাপ অব নেশনস থেকে ফিরে প্রতি ম্যাচে লিভারপুলের শুরুর একাদশে খেলছেন তিনি।
সালাহ দলে নিয়মিত হলেও তাঁর ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন থামেনি। ক্লাব যদি নতুন করে চুক্তি না বাড়ায়, তাহলে এটাই হবে শেষ গ্রীষ্ম। তখন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকার জন্য ট্রান্সফার ফি পেতে পারে লিভারপুল। ভ্যান ডাইকও একই অবস্থায় আছেন—২০২৫ সালের এপ্রিলে সালাহর এক সপ্তাহ পর তিনি দুই বছরের চুক্তি নবায়ন করেছিলেন।
শনিবার ব্রাইটনের বিপক্ষে ৩–০ জয়ের পর সাংবাদিকদের ভ্যান ডাইক বলেন,
“সালাহ আর আমি একই অবস্থায়—ওরও চুক্তিতে আর এক বছর আছে। তাই কী হয়, দেখা যাক।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি সব সময়ই চাই সালাহ থাকুক। ও আমার ভালো বন্ধু। এত বছর ধরে আমরা একসঙ্গে ভালো সময় দেখেছি, কিছু কঠিন সময়ও গেছে—আমি সেগুলোকে ‘খারাপ’ বলতে চাই না। মো লিভারপুলের খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং সে মানদণ্ডটা অনেক উঁচুতে তুলেছে। আমাদের দিক থেকে কিছুই বদলায়নি।
ভ্যান ডাইক বলেন,
“একটা দলকে সফল করতে অনেক বিষয় থাকে, যেগুলো মানুষ বাইরে থেকে দেখতে পায় না। মৌসুমের বাকি সময়ে সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সেটাই এখন দেখার।”

জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে চেলসির সঙ্গে চুক্তি শেষ করে গত সপ্তাহে চমকপ্রদভাবে ফেয়েনুর্ডে যোগ দেন রহিম স্টার্লিং। ডাচ ক্লাবটির কোচ রবিন ফন পার্সি জানিয়েছেন, নতুন দলে যোগ দেওয়া স্টার্লিংয়ের অনুশীলন সমস্যা সমাধানে দ্রুত বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অনুমতিসংক্রান্ত জটিলতায় আপাতত দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারছেন না এই ইংলিশ উইঙ্গার।
জানা গেছে, নতুন ক্লাব বাছাইয়ের আগে তিনি ১৮টি ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেন। তবে অনুমতিপত্র জটিলতার কারণে এখনো দলের সঙ্গে মাঠে নামা তো দূরের কথা, অনুশীলনও শুরু করতে পারেননি।
রোববার গো অ্যাহেড ঈগলসের বিপক্ষে ১–০ গোলের জয়ে ফেয়েনুর্ড মাঠে নামলেও স্টার্লিং ছিলেন গ্যালারিতে। এই পরিস্থিতি কাটাতে দল সোমবার বেলজিয়ামে একটি বিশেষ ক্যাম্পে যাচ্ছে, যেখানে তাঁরও যোগ দেওয়ার কথা।
ফন পার্সি জানিয়েছেন, নেদারল্যান্ডসে এখনো অনুশীলনের সংকেত পাননি, তবে দেশের বাইরে করতে সমস্যা নেই। ফেয়েনুর্ড কোচ বলেন, ‘বিদেশে এটা অনুমোদিত। আমরা এটা করছি ওর জন্য, তবে একই সঙ্গে দলীয় উন্নয়নেও কাজ করতে চাই। আমরা ভালো আলোচনা করতে পারব, একসঙ্গে সময় কাটাতে পারব।’
পার্সি বলেন, ‘সে পরশু দিন থেকে অনুশীলন শুরু করবে। ম্যাচ ফিট হতে কত সময় লাগবে, সেটা সপ্তাহ ধরে দেখব। ছয় মাস খেলেনি, তাই সময় লাগাটা স্বাভাবিক।’স্টার্লিং নিজের ট্রান্সফার নিয়ে বলেন, ‘ফ্রি এজেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন পর নিজের ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপ নিজে বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন ক্লাব ও কোচদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে চেয়েছি তারা আমাকে কী ভূমিকায় দেখতে চায় এবং আমি কীভাবে অবদান রাখতে পারি। ফেয়েনুর্ড এমন জায়গা যেখানে আমি সুখে থাকতে পারব এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হতে পারব।’
পার্সির মতে, স্টার্লিং এই ক্লাব বেছে নিয়েছেন ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে। তাঁর ভাষায়, ‘রহিম দারুণ খেলোয়াড় ও অসাধারণ চরিত্রের মানুষ। সে খেলাটার প্রতি ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে চায়, আর আমরা তাকে সেটা পেতে সাহায্য করব।’
নেদারল্যান্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনিং করতে হলে বিদেশি খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন দরকার। সেই অনুমোদন এখনো মেলেনি, তাই ক্লাবের সঙ্গে মাঠে নামতে বা অনুশীলনে অংশ নিতে পারছেন না স্টালিং।
পার্সি জানিয়েছেন, দলকে অস্থায়ীভাবে বিদেশে (বেলজিয়ামে) ট্রেনিং ক্যাম্পে নেওয়া হচ্ছে—কারণ সেখানে আইনগতভাবে স্টার্লিং অনুশীলন করতে পারবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রেনিং শুরু করবেন, তবে ম্যাচ ফিট হতে সময় লাগবে, কারণ তিনি প্রায় ছয় মাস কোনো ম্যাচ খেলেননি।
বেলজিয়ামে ফেয়েনুর্ড অস্থায়ী ট্রেনিং ক্যাম্প করছে। সেখানে স্টার্লিং স্থানীয় ক্লাবের কর্মী হিসেবে নিবন্ধিত নন, বরং বিদেশি ক্যাম্পে অংশ নেওয়া খেলোয়াড় হিসেবে থাকবেন।
অনেক দেশে স্বল্পমেয়াদি স্পোর্টস ট্রেনিং বা ক্যাম্পের জন্য কঠোর কর্ম অনুমতির দরকার পড়ে না, বিশেষ করে অল্প সময়ের জন্য)।

চ্যাম্পিয়নস লিগে আরেকটি রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বেনফিকা ম্যাচের আগে সতর্ক হোসে মরিনহো। বেনফিকা কোচ নিজ দলের খেলোয়াড়দের সতর্ক করে বলেছেন,
‘রিয়াল মাদ্রিদ আহত এবং আরও বিপজ্জনক হয়ে আসবে। আর আহত রাজা সবসময়ই ভয়ংকর।’
গত মাসে বেনফিকার কাছে ২-৪ গোলে নাটকীয় হারের পর চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় সরাসরি জায়গা পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপের রাজাদের শেষ ষোলোয় খেলতে এখন উতরে যেতে হবে প্লে-অফ ম্যাচ। আশ্চর্যজনকভাবে সেই প্লে-অফে আবারও রিয়ালের সামনে পর্তুগিজ জায়ান্ট বেনফিকা।
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বেনফিকার মাঠে আতিথেয়তা নেয় রিয়াল। অবিশ্বাস্যভাবে যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে গোলকিপার আনাতোলিয়ে তুরবিনের হেডে জয়ের পাশাপাশি প্লে-অফও নিশ্চিত করে বেনফিকা। কেননা ৩-২ গোলে জিতলেও গোল গড়ে পিছিয়ে থাকায় বাদ পড়তো বেনফিকা। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় ৪-২ গোলের জয় নিয়ে তারা জায়গা করে নেয় প্লে-অফে। আর লিসবনে ওই হারে তৃতীয় স্থান থেকে নেমে নবমে চলে যায় ১৫ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা রিয়াল। এবং সরাসরি নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ হারায়।
সাবেক রিয়াল কোচ মরিনহো এখন বেনফিকার দায়িত্বে। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে সেটি ছিল তার প্রথম জয়। আগামীকাল রাতে বেনফিকার মাঠে প্রথম লেগে ফের মুখোমুখি হবে দুই দল। এই ম্যাচের আগে মরিনহো বলেছেন, ‘
তারা (রিয়াল) আহত। আর আহত রাজা বিপজ্জনক। আমরা প্রথম লেগ খেলব মাথা ঠান্ডা রেখে, এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে। জানি চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজাদের সঙ্গে আমরা কী করেছি।’
রিয়ালের বিপক্ষে আরেকটি লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে মরিনহো বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে খুব কঠিন লড়াই হবে।’ লিসবনের লুজ স্টেডিয়ামে প্রথম লেগে যাই ফলাফল হোক দ্বিতীয় তথা ফাইনাল লেগ হবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। অনেকেই মনে করেন প্রথম লেগের ফলাফল যাই হোক, পরের লেগে মিলিয়ে নেবে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
কেউ কেই মনে করেন নকআউট পর্বে যেতে প্রথম লেগেই এগিয়ে থাকতে হবে বেনফিকাকে। যদিও এমনটা মনে করেন না স্বয়ং বেনফিকা কোচ,
‘এ ধরনের ম্যাচে আমি অভ্যস্ত। সারাজীবন এমন পরিস্থিতি সামলেছি। অনেকে মনে করেন, প্রথম লেগে নির্দিষ্ট ফল দরকার। আমি বলি, কোনো ফলই চূড়ান্ত নয়।’

আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রতিপক্ষ যেকোনো দলের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা লিওনেল মেসি। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে ঠেকাতে কত কোচই তো কত ধরনের ফন্দি এঁটেছেন, তবে এরমধ্যে সফলতার মুখ দেখা কোচের সংখ্যা হাতে গোনাই। এবার এই আর্জেন্টিনাকেই বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে আটকানোর ছক কষতে হচ্ছে। স্পেনের তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালই যে যেকোনো দলের জন্যই হুমকি, সেটা নতুন করে বলারও কিছু নেই।
আগামী ২৭ মার্চ ফিনালিসিমায় স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে লাতিন আমেরিকার চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের এই মহারণ নিয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা। নিঃসন্দেহে এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ প্রথমবার মুখোমুখি হওয়া লিওনেল মেসি-লামিনে ইয়ামাল।
ফিনালিসিমা শিরোপা ধরে রাখতে হলে আলবিসেলেস্তাদের ঠেকাতে হবে ইয়ামালকে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মেসি যেমন যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারেন, তেমনি স্পেনের হয়ে একই ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ামালকে। তাতে স্প্যানিশদের এই তুরুপের তাসকে আটকাতে আঁটসাঁট বেধে নামছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।
স্কালোনি ইতোমধ্যেই ম্যাচের জন্য তাঁর হোমওয়ার্ক শুরু করেছেন। স্প্যানশি সংবাদ মাধ্যম ‘ডোবলে আমারিয়ার’ একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ামালকে ঠেকানোর মূল ভূমিকা থাকবে নিকোলাস টাগলিয়াফিকোর। ফরাসি ক্লাব লিঁওর এই লেফট-ব্যাককের সঙ্গে দলগত প্রচেষ্টায় বার্সার তারকা ফুটবলারকে ‘বোতলবন্দি’ করার চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি অতিরিক্ত একজন মিডফিল্ডার খেলাতে পারে। মূলত মাঝমাঠে শারীরিকভাবে শক্তিশালী একজন এই দায়িত্ব পালন করবেন যিনি প্রতিনিয়ত নিচে নেমে রক্ষণে সাহায্য করবেন, যাতে ইয়ামালের খেলার জায়গা সীমিত হয়ে যায়। এতে তাত্ত্বিকভাবে ডান প্রান্তে ইয়ামালের বিপক্ষে ২ বনাম ১ পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা তার প্রভাব কমিয়ে দেবে।
লা লিগায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা নিয়মিতই ইয়ামালকে বিশেষ নজরে রাখলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে থামানো যায়নি। চলতি মৌসুমে এই স্প্যানিশ ইতোমধ্যে ১০ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন।