
ভিয়েতনামের বিপক্ষে ২৬ মার্চ প্রীতি ম্যাচে এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ খেলায় ৩১ মার্চ মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচ সামনে রেখে আজ সোমবার থেকে ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় ক্যাম্পের জন্য ২৮ জন খেলোয়াড়কে ডেকেছেন প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। যেখানে নেই অভিজ্ঞ গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা বসুন্ধরা কিংসের এই গোলকিপারের না থাকা নিয়ে সমালোচনার মুখে আজ নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ।
আজ টিম হোটেল গুলশানের রেনেশায় রিপোর্ট করেছেন ২৭ জন ফুটবলার। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কোচ কাবরেরা। চলমান বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) বসুন্ধরা কিংসের হয়ে দারুণ ছন্দে আছেন জিকো। ১১ ম্যাচে ৩ ড্রয়ের সঙ্গে কেবল এক ম্যাচ হেরেছে টেবিলের শীর্ষে থাকা জিকোর দল। তারপরও জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে তাঁর না থাকা নিয়ে কোচ বলেন,
‘ক্লিন শিট রাখা কেবল একজন গোলকিপারের একার সাফল্য নয়। আমরা সাধারণত একজন তরুণ গোলকিপারকে দলে ডাকার চেষ্টা করি। ইশাক আকন্দও ভালো করছে এবং আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে সে মানানসই। তবে এই ক্যাম্পের জন্য আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ডাক পাওয়া ২৮ ফুটবলার এবং ভিয়েতনামে যোগ দেওয়া হামজা চৌধুরীসহ ২৯ ফুটবলারের মধ্যে চারজন গোলকিপার। আছেন মিতুল মারমা, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, ইশাক আকন্দ ও মো. সুজন হোসেন। চারজনের মধ্যে শ্রাবণ এই মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে কেবল এক ম্যাচ মাঠে নেমেছেন। লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের এবার প্রথম ভরসা জিকোর ওপর। কিন্তু তারপরও চারজনের মধ্যে জিকোর না থাকায় বিস্ময় জন্মেছে সমর্থকদের মধ্যে। এ নিয়ে কাবরেরা বলেন,
‘দল নির্বাচন করা সব সময়ই কঠিন। জিকো শ্রাবণের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেললেও আমার কাছে শ্রাবণ বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময় গোলকিপার। তাঁকে জাতীয় দলে না নেওয়াটা আমার দিক থেকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হতো। আমি বলছি না যে জিকো যোগ্য নয়, কিন্তু আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
এদিকে ৩১ মার্চ বাফুফের সঙ্গে চুক্তি শেষ হবে হাভিয়ের কাবরেরার। নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী কি না জানতে চাইলে কাবরেরা বলেন,
‘অবশ্যই। আমি ফেডারেশনের কথা শুনতে চাই এবং তারাও নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
No posts available.
১৬ মার্চ ২০২৬, ৭:৫০ পিএম

রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ
মালিকানায় থাকতে চেলসি ফুটবল ক্লাব ৭৪টি নিয়ম ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ এনেছিল ইংলিশ ফুটবল
অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। ওই অভিযোগে বড় শাস্তি পেল ইংলিশ ক্লাবটি। ১ কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ড
জরিমানার পাশপাশি ক্লাবটিকে এক ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা
দেওয়া হয়েছে, যা দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগ কতৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,
‘চেলসি ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে দুটি আলাদা শৃঙ্খলামূলক তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ক্লাবটি স্বেচ্ছায় অতীতের সম্ভাব্য নিয়মভঙ্গের বিষয়গুলো জানানোয় এই তদন্ত শুরু হয়।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
‘একটি স্বাধীন কমিশনের অনুমোদনে দুটি শাস্তিমূলক চুক্তি কার্যকর করা হয়েছে। এর অধীনে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক প্রতিবেদন, তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগ এবং যুব উন্নয়ন সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের দায়ে চেলসি মোট ১০.৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা মেনে নিয়েছে।’
এছাড়া প্রিমিয়ার লিগ চেলসিকে
তাৎক্ষণিকভাবে নয় মাসের জন্য একাডেমি পর্যায়ে ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি
প্রথম দলের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এক বছরের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সেটি দুই
বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে,
তাদের তদন্তে দেখা গেছে যে ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চেলসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৃতীয়
পক্ষের মাধ্যমে খেলোয়াড়, নিবন্ধনহীন এজেন্ট এবং আরও কিছু তৃতীয় পক্ষকে গোপনে অর্থ প্রদান
করা হয়েছিল।
লিগের বিবৃতিতে বলা হয়,
‘সে সময় এসব অর্থপ্রদানের বিষয়টি প্রিমিয়ার লিগসহ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে প্রকাশ করা হয়নি। অথচ এসব অর্থ চেলসির স্বার্থেই দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলো ক্লাবের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছে বলে বিবেচিত হওয়া উচিত ছিল।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্লাবটি স্বীকার করেছে যে এই অর্থ প্রদান এবং সেগুলো লিগের কাছে প্রকাশ না করা—দুটিই লিগের প্রতি সৎ আচরণ বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের শামিল।
চেলসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর
মধ্যে ছিল এমন নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ও, যা ক্লাবগুলোকে এমন চুক্তি করা থেকে বিরত রাখে যাতে
তৃতীয় পক্ষ ক্লাবের নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কমিশনের কাছে ক্রীড়াসংক্রান্ত শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতাও ছিল—যার মধ্যে পয়েন্ট কাটা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত। তবে চেলসি ধারণা করেছিল তদন্তের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল ২০২৩ সালে ইউয়েফার সঙ্গে হওয়া সমঝোতার মতোই হবে। সে সময় ‘অসম্পূর্ণ আর্থিক প্রতিবেদন’ দেওয়ার অভিযোগে ক্লাবটিকে ১ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল।
এরপর চেলসি এক বিবৃতিতে জানায়,
‘প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই ক্লাবটি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে এবং সংশ্লিষ্ট সব নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। প্রিমিয়ার লিগ আমাদের অসাধারণ সহযোগিতা’কে স্বীকৃতি দেওয়ায় আমরা তা স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে লিগ স্বীকার করেছে যে আমাদের স্বেচ্ছায় তথ্য প্রকাশ ও আত্মপ্রতিবেদন না থাকলে প্রিমিয়ার লিগের নিয়মভঙ্গের বেশ কয়েকটি বিষয় হয়তো কখনোই তাদের নজরে আসত না।’
ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
উঠলেও রোমান আব্রামোভিচের সময়েই সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছে চেলসি। ২০০৩ থেকে ২০২২ সাল
পর্যন্ত ক্লাবটির মালিক ছিলেন এই ধনকুবের। তাঁর সময়কালে পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি
চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি ইউরোপা লিগ, একটি ক্লাব বিশ্বকাপসহ মোট ২১টি শিরোপা জিতেছে পশ্চিম
লন্ডনের ক্লাবটি।

প্রায়
১৬ বছর আগে হয়েছিল
ফুটসাল লিগ। ২০০৮ সালে হওয়া প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন
হয়েছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এরপর আর কোর্টে
গড়ায়নি এই লিগ। অবশেষে
আবার ফুটসাল লিগ আলোর মুখ
দেখতে পারে। নতুন করে এই
টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
এবারই
প্রথমবার ফুটসাল লিগ হবে নারী
এবং পুরুষ দুই ক্যাটাগরিতে। এজন্য
আগ্রহী ক্লাবগুলোতে লিগে অংশ নিতে
হলে একইসঙ্গে নারী এবং পুরুষ
দুই লিগেই দল দিতে বাধ্যতামূলক
করেছে ফেডারেশন। একই সঙ্গে কোনো
ক্লাব এই টুর্নামেন্টে অংশ
নিতে ৫ লাখ টাকা
বাফুফেকে পে-অর্ডার করতে
হবে। লিগের নিয়ম ও শর্তসাপেক্ষে
গ্যারান্টি মানি ফেরত পাবে
ক্লাবগুলো।
ফুটসাল
লিগ চালুর জন্য আগামী ২
মে সময় নির্ধারণ করেছে
বাফুফে। এখন পর্যন্ত কোনো
ক্লাব লিগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ
করেনি। কেউ আগ্রহ প্রকাশ
করলে ক্লাব এবং আনুষঙ্গিক বিষয়
পর্যালোচনা করবে ফেডারেশনের লাইসেন্সিং
কমিটি।
গেল
জানুয়ারিতে বাংলাদেশ
নারী ফুটসাল দল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে
সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
তার আগে অবশ্য তেমন
কোনো প্রস্তুতি ছিল না সাবিনা খাতুনদের। বাংলাদেশের ইরানি কোচ সাইদ খোদারাহমির
অধীনে কিছুদিন অনুশীলন ক্যাম্প করেই সাফে সাফল্য
নিয়ে আসেন সাবিনা, মাসুরা,
কৃষ্ণা রানী সরকাররা।
একই
সময়ে বাংলাদেশ পুরুষ দলও অংশ নেয়
ফুটসাল সাফে। তবে তারা সেভাবে
সাফল্য বয়ে আনতে পারেননি।
এবার দেশের ফুটসালকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং সাবিনা-মাসুরাদের লিগে ব্যস্ত রাখতে
চায় বাফুফে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের
হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়েছে ইরাকের ফুটবলেও।
যুদ্ধাবস্থায় বিমান চলাচল বন্ধসহ খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতেও বিগ্ন ঘটছে। মেক্সিকোর মন্টেরেতে
৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ প্লে-অফ ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার
কাছে আবেদন করেছিল ইরাক। তবে শেষ পর্যন্ত ফিফা জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ
খেলতে মেক্সিকো সফরে যাবে দলটি।
ইউরোপীয় প্লে-অফ থেকে ৪টি
ও আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে ২টি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। সেই প্লে–অফের বাধা পেরিয়ে
বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আছে ইরাকেরও। সূচি অনুযায়ী ইরাক ফুটবল দল আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর
মাটিতে সুরিনাম–বলিভিয়া ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচ জিততে পারলে ১৯৮৬
সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেবে দেশটি।
তবে ইরাকের প্লে-অফ খেলার
যাত্রায় বাধা হয়ে দাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এই সমস্যা সমাধানে প্রথমে ফিফা প্রস্তাব
দিয়েছিল—বাগদাদ থেকে ইরাকের উত্তরের পথ ধরে বাসে করে তুরস্কের ইস্তাম্বুল পর্যন্ত প্রায়
২৪ ঘণ্টার যাত্রা করবে ইরাকি দল। ওই অঞ্চলটিতে তখন ইরানের হামলা চলছিল। ইস্তাম্বুলে
পৌঁছে সেখান থেকে বিমানে মেক্সিকো যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু ইরাকি ফুটবল ফেডারেশন
জানায়, বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে এই যাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। এত দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ
ভ্রমণ শেষে মাঠে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পারফরম্যান্স করা কঠিন হবে বলেও তারা মনে
করে।
পরে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর
হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি বদলায়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইরাকি দল চার্টার্ড
বা ব্যক্তিগত বিমানে সরাসরি মেক্সিকো যাবে।
ইরাকি সংবাদ সংস্থা প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি আদনান দিরজাল জানান, চার্টার্ড বিমানে করেই মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেবে জাতীয় দল। তাঁর ভাষায়,
‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফার মহাসচিব মাত্তিয়াস গ্রাফস্ট্রোমকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমাদের জাতীয় দলকে মেক্সিকো পাঠাতে সব ধরনের জটিলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়।’
মাত্তিয়াস আরও বলেন,
‘সপ্তাহের শেষ দিকে ব্যক্তিগত বিমানে করে জাতীয় দল মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেবে। সবাইকে আমার বার্তা—এখন আমাদের পুরো মনোযোগ ম্যাচের প্রস্তুতিতে দিতে হবে। আমাদের একটাই লক্ষ্য, বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া।’
এর আগে ইরাক দলের কোচ আরনল্ড বিশ্বকাপ প্লে অফ ম্যাচের সূচি পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন,
‘এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ইরাকের বাইরে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। ফিফা যদি ম্যাচের সূচি পিছিয়ে দেয়, তাহলে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতির সময় পাব। সুরিনাম ও বলিভিয়া তাদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলবে। আমাদের জন্য ভালো বিকল্প হয় বিশ্বকাপের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচটি খেলা।’
বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে নিজেদের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে আরনল্ড আরও বলেন,
‘ইরাকের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কল্পনারও বাইরে। ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার সুযোগ পেতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

সামনের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ইরান- এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও পায়নি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের ফুটবল ফেডারেশন বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছে।
এএফসির সাধারণ সম্পাদক উইন্ডসোর জন সোমবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
“এখন অনেক আবেগঘন পরিস্থিতি চলছে। সবাই অনেক কথা বলছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেশনই। আজ পর্যন্ত তারা আমাদের জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।”
আগামী ফিফা বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১১ জুন, চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এরই মধ্যে এই আসরে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইরান।
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের দুটি ম্যাচ হওয়ার কথা লস অ্যাঞ্জেলসে আর অন্যটি সিয়াটলে।
তবে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেহরানে বিমান হামলা চালানোর পর দেশটির খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তবে তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে “তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই সেখানে থাকা ঠিক হবে না।”
এএফসির ভাষ্য, ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তাই সংস্থাটি আশা করছে, পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলটি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলতে পারবে।
ইরান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তা হলে আধুনিক যুগে প্রথমবার কোনো দল স্বেচ্ছায় এই আসর থেকে সরে দাঁড়াবে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প দল খুঁজে বের করার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

নতুন মেয়াদে আরও একবার বার্সেলোনার সভাপতির দায়িত্ব পেলেন হুয়ান লাপোর্তা। রোববার স্প্যানিশ ক্লাবটির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেলেন ৬৩ বছর বয়সী এই সংগঠক।
এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ও সব মিলিয়ে চতুর্থ মেয়াদে বার্সেলোনার সভাপতি হলেন লাপোর্তা। নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ৯৩৪ ভোট। যা মোট ভোটে ৬৮.১৮ শতাংশ।
সভাপতি পদে লাপোর্তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভিক্টর ফন্ট। যিনি লাপোর্তার অর্ধেক ভোটও পাননি। ফন্ট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৫ ভোট (২৯.৭৮ শতাংশ)।
এর আগে ২০২১ সালে ৩০ হাজার ১৮৪ ভোট (৫৪.২৮%) পেয়ে তৃতীয় মেয়াদে সভাপতি হয়েছিলেন লাপোর্তা। আর প্রথম দফায় ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন তিনি।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বার্সেলোনার নতুন সভাপতি।
“এটি সত্যিই এক জোরালো ফলাফল, যা আমাদের ভীষণ শক্তি জোগায়। এটি আমাদেরকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। সামনে অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চকর কিছু বছর- যা হবে আমাদের জীবনের সেরা সময়।”
“এটি একটি অসাধারণ ক্লাব, যেখানে সদস্যরাই তাদের সভাপতি এবং পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন করেন। পৃথিবীতে এমন অনন্য ও সত্যিই ব্যতিক্রমী ক্লাব খুব কমই আছে।”
“যেসব সদস্য ভোট দিতে এসেছেন, তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আজকের দিনটি ছিল গণতন্ত্র ও নাগরিক চেতনার এক উৎসব। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের কর্মকর্তারা ও কর্মীরা যে চমৎকার কাজ করেছেন, সেটিও আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই।”