
১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর কখনোই নিজেদের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগ হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জিততে হলে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের ফেরাতে হতো প্রায় ৫৬ বছর আগের স্মৃতি। তবে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার রাতটি ছিল কেবলই বাভারিয়ানদের। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ গোলে এগিয়ে আরও একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউসিএলের ফিরতি লেগে গোল বন্যা হয়েছে। ৫ গোলের পাগলাটে প্রথামার্ধে এগিয়ে ছিল রিয়াল। আর দ্বিতীয়ার্ধ ছিল বাভারিয়ানদের। এই অর্ধে মোট তিনটি গোল করেন কেইনরা।
ম্যাচ ঘড়ির মাত্র ৪৬ সেকেন্ডে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানুয়েল নয়্যার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো বিড়ম্বনা বাড়ান। ফার্স্ট লেগের ম্যাচসেরা এই জার্মানি গোলকিপারের দূর্বল শট ২৫ গজ দূর থেকে জালে লক্ষ্যবেদ করেন আর্দা গুলের। তাতে মাদ্রিদ ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। আর দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতায় ফেরে আলভারো আরবেলোয়ার দল!
বায়ার্ন শোধ নিতে বেশি সময় নেয়নি। প্রথম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর চতুর্থ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন করে বাভারিয়ানরা। বাঁ পাশের কর্নার থেকে জশুয়া কিমিখের নেওয়া ডেলিভারিটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। পেনাল্টি বক্স তখন খেলোয়াড়দের ভিড়ে ঠাসা, আর বলের গতি এতই বেশি ছিল যে আন্দ্রি লুনিন কেবল ঠায় দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি। আলেকজান্ডার পাভলোভিচ গোললাইনের একদম কাছ থেকে আলতো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।
১৯তম মিনেটর ঘটনা চাইলেও ভুলতে পারবেন না কিলিয়ান এমবাপে। মিডফিল্ড থেকে ধেয়ে আসা একটি ক্রসের সূত্র ধরে বায়ার্নের হাই লাইন ডিফেন্স বেধ করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে ফিনিশিং শটের আগে গড়বড় করে ফেলেন। তার ডান পায়ের শট এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। লিগের সর্বোচ্চ গোলধারীর (১৪টি) সুযোগ ছিল দ্বিতীয় স্থানে থাকা হ্যারি কেইন থেকে দুরত্ব আরও বাড়াতে।
২৪তম মিনিটে জশুয়া কিমিখ আরও একটি দৃষ্টিনন্দন শট নেন। ডি বক্সের বাইর থেকে নেওয়া তার বুলেট গতির শট অবশ্য বিপদ বাড়াতে দেননি আন্দ্রে লুনিন। ফাঞ্চ করে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন এই ইউক্রেন গোলকিপার।
২৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে ফ্রি কিকে নয়্যারকে বোকা বানান গুলের। গুলের যেন একাই বায়ার্নকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পণ করেছেন আজ। ম্যাচের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ডি-বক্সের বেশ বাইরে গুলেরকে ফাউল করে বসেন লাইমার। সেই সুযোগটিই কাজে লাগালেন এই তরুণ তুর্কি। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া তার ট্রেডমার্ক বাঁকানো ফ্রি-কিকটি বায়ার্নের রক্ষণ দেয়াল টপকে টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে আছড়ে পড়ে। নয়্যারের তাকিয়ে দেখা ছাড়া ছিল না কোনো উপায়। এই চোখধাঁধানো গোলের সুবাদে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। আর দুই লেগ মিলিয়ে ফিরল ৩-৩ সমতায়।
আর্দা গুলেরের দ্বিতীয় গোলের পর যখন রিয়াল মাদ্রিদ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হ্যারি কেইন। দায়ো উপামেকানোর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লুনেনকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরলেও, এগ্রিগেটে বায়ার্ন এখন ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
গোল কনসিভের পরের মিনিটে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি এদার মিলিতাও। ব্রাজিল সেন্টারব্যাক টেনে ফেলে দেন কেইনকে। রেফারিও হলুদ কার্ড দেখাতে ভুল করেননি।
৪০তম মিনেট ভুলের প্রায়ঃশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমবার ভুল করলেও এবার আর ভুল করেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। বা প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠে সতীর্থ ভিনিকে ক্রস দেন ভিনি। সে শট থেকে গোল আদায় করেন এমবাপে। লিগে এটি তার ১৫তম গোল। লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে মাথায় আঘাত পাওয়া ফরাসি ডিফেন্ডার মোটেও বুঝতে দিচ্ছেন না দূর্বলতা। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই শোধের নেশায় মরিয়া হয়ে ওয়ে বায়ার্ন। তবে রিয়ালের ইস্পাত-লৌহ ডিফেন্স ফাটল ধরাতে ব্যর্থ হচ্ছিল তারা। উল্টো ৫৪ মিনিটে সহজ গোল মিস করে বসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের ক্রস খুঁজে নেয় ফাঁকায় থাকা ব্রাজিল লেফটব্যাক। ভিনির নেওয়া বুলেট গতির ভলিটি জালে জড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে অতিমানবীয় ক্ষিপ্রতায় এক হাত দিয়ে তা রুখে দেন বায়ার্ন প্রাচীর ম্যানুয়েল ন্যয়ার। নিশ্চিত গোল হজম থেকে বায়ার্নকে রক্ষা করে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
এ ঘটনার ঠিক ৮মিনিট পর ভিনি আরও একটি সহজ সুযোগ মিস করেন। ড্রিবলিং করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড। তার সামনে ছিলেন কেমন নয়্যার। তবে ভিনির শট বারের বেশ বাইর দিয়ে চলে যায়।
৬৭ মিনিটে ওলিসের র্কাল শট রিয়ালের বারের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে চলে গেলে বেচে যায় রিয়াল। গুলেরের সঙ্গে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে ছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে সেটপিস থেকে তার বাঁকানো শট শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
৮৫তম মিনিটে জটলা থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুর্বণ সুযোগ পায় বায়ার্ন। প্রথমে লুইস দিয়াস আক্রমণ শানান রিয়াল গোলবারে। সুবিধা করতে না পেরে তিনি বল পাঠান কেইনকে। কিন্তু ডিফেন্স বাঁধায় সুবিধা করতে পারেননি তিনি।
পরের মিনিটে দুঃস্বপ্ন নেমে আসে রিয়াল শিবিরে। কেইনকে ফাউল করে দ্বিতীয় কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। বদলি হিসেবে নামার পর ৭৬তম মিনিটে জামাল মুসিয়ালাকে ফাউল করে প্রথম কার্ড দেখেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এরপর ৮৬তম মিনিটে কেইনকে।
৮৮তম মিনিটে সুযোগ বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগান দিয়াস। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বায়ার্ন ওয়ান টু ওয়ানে ব্যস্ত ছিল। দিয়াস ও মুসিয়ালার দুর্দান্ত রসায়নের পর ২০ গজ দূর থেকে এক চোখধাঁধানো শট নেন দিয়াস। মিলিতাওয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় বলটি লুনিনের নাগালের বাইরে চলে যায় এবং টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে জড়ায়। তাতে এগ্রিগেটে এখন ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে বায়ার্ন!”
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন ওলিসে। রিয়ালের সব প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিলেন ফরাসি রাইট উইঙ্গার। ম্যাচের শেষ দিকে রিয়াল যখন মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাদ্রিদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন তিনি।
ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে অলিসের নেওয়া বাঁকানো শটটি গোলপোস্টের কোণা দিয়ে যখন জালে জড়ায়, তখন বার্নাব্যু জুড়ে শুধুই বায়ার্নের জয়গান। এই গোলের সুবাদে ৪-৩ ব্যবধানে জয় এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ এগ্রিগেটে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করল বায়ার্ন।
লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আরেক ম্যাচে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনাল ও স্পোর্টিংয়ের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতায় পরের ধাপে পৌঁছে গেছে আর্সেনাল।
No posts available.

অলিম্পিক লিওঁতে সফল লোন স্পেল কাটিয়ে এই গ্রীষ্মেই রিয়াল মাদ্রিদে ফিরছেন এনড্রিক। এবার আর কোনো লোন নয়, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর মূল দলে স্থায়ী জায়গা করে নিতে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
ফরাসি সংবাদ মাধ্যম লেকিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনড্রিক আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার পর স্ট্রাইকার হিসেবে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে ক্লাব তাকে ডান উইঙ্গার হিসেবে খেলানোর পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন
| ইরানের ৯ কোটি মানুষই বিপ্লবী গার্ড- মেহেদি তাজ |
|
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাস থেকে রিয়ালে যোগ দেন এনড্রিক। সেই সময় কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে ৩৭ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ৭ গোল। তবে চলতি মৌসুমে রিয়ালের বরখাস্ত হওয়া সাবেক কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে মাঠে সময় পান মাত্র ১৪ মিনিট।
রিয়ালে নিয়মিত ব্রাত্য হয়ে পড়ায় গত ডিসেম্বরের শেষদিকে অলিম্পিক লিঁওতে লোনে যোগ দেন এনড্রিক। ফরাসি ক্লাবটিতে গিয়েই নিজের ঝলক দেখাতে শুরু করেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ।
লিঁওতে এখন পর্যন্ত ১৭ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এনড্রিক, সতীর্থদেরকে দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও ৬ টি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে নিজের জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন এই ফরোয়ার্ড।
লিঁওতে এনড্রিকের খেলায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াল। লস ব্ল্যাঙ্কোসদের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপে এবং ভিনিসিউস জুনিয়রের সাথে এনড্রিককে দেখা যেতে পারে থ্রি-ম্যান অ্যাটাকিং লাইনের ডানপ্রান্তে।
তবে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে এই ব্রাজিলিয়ানকে লড়াই করতে হবে চোট কাটিয়ে ফেরা রদ্রিগো গোয়েস, ব্রাহিম দিয়াজ এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোর সঙ্গে।
এনড্রিকের পেছনে রিয়াল প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার ট্রান্সফার ফি, বেতন ও কমিশনসহ) ব্যয় করেছে। ভবিষ্যতে এমবাপের বিকল্প হিসেবে ৯ নম্বর পজিশনে এই ব্রাজিলিয়ানকে দেখছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।

আর্জেন্টাইনদের কাছে লিওনেল মেসি কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি এক আবেগের নাম। সেই আবেগের দেখা পেয়ে এবার নিজের আজীবনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করলেন ফর্মুলা ওয়ান (এফ-ওয়ান রেসিং) তারকা ফ্রাঙ্কো কোলাপিন্তো। মায়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্স শুরুর আগে ইন্টার মায়ামির অনুশীলন মাঠে গিয়ে নিজের আইডল মেসির সঙ্গে একান্ত সময় কাটিয়েছেন আলপাইন দলের এই তরুণ ড্রাইভার।
আর্জেন্টাইন এই দুই তারকার মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন মেসির জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো দি পলও। কোনো ক্যামেরা বা প্রচারণার আলো ছাড়াই তিন দেশি মিলে আড্ডায় মেতেছিলেন অনেকটা সময়।
আরও পড়ুন
| রিয়াল ইস্যুতে নীরবতা ভাঙলেন মরিনিয়ো |
|
গত বছরের জুন মাসে কোলাপিন্তো তাঁর নিজের স্বাক্ষর করা একটি রেসিং হেলমেট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন মেসির কাছে। এবার মায়ামিতে আসার সুযোগে মেসি নিজেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। বুয়েনস আইরেসে এক প্রদর্শনী দৌড়ের সময় কোলাপিন্তো প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর জীবনে যদি একজনের সঙ্গেই দেখা করার প্রবল ইচ্ছা থাকে, তবে তিনি মেসি।
মেসির সঙ্গে সেই বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কোলাপিন্তোনবলেন, 'যেকোনো আর্জেন্টাইনকে জিজ্ঞেস করলে সে বলবে মেসির সঙ্গেই দেখা করতে চায়। আমি সেই সুযোগ পেয়েছি। এটি আমার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল। কোনো ক্যামেরা ছিল না, কোনো মার্কেটিং ছিল না; শুধু আমি, লিও আর রদ্রিগো—আমরা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গল্প করেছি। খেলাধুলার বাইরের সেই আলাপচারিতা আমার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল।'
বোকা জুনিয়র্সের কট্টর সমর্থক কোলাপিন্তো বর্তমানে ফর্মুলা ওয়ান ড্রাইভারদের তালিকায় ১৬তম স্থানে রয়েছেন। সৌদি আরব এবং বাহরাইনের রেস বাতিলের কারণে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের বিরতির পর মায়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্সের মাধ্যমে আবারও ট্র্যাকে ফিরছে ফর্মুলা ওয়ান।
আলপাইনের এই তরুণ তুর্কি আশা করছেন, স্বদেশের মহানায়কের কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা তাঁকে ফ্লোরিডার হাই-প্রেশার স্ট্রিট সার্কিটে ভালো পারফর্ম করতে সহায়তা করবে। বর্তমানে তিনি তাঁর অভিজ্ঞ সতীর্থ পিয়েরে গ্যাসলি থেকে ১৪ পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন।

ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে কানাডায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ। সেখানে আইআরজিসি (ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) নিয়ে কানাডিয়ান কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়েছেন ইরানের সবাই এই বাহিনীর সদস্য।
বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র অনুপস্থিত দেশ ছিল ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজসহ একটি প্রতিনিধি দলের এই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে সীমান্ত থেকেই ফিরে যেতে হয় তাদের।
শুক্রবার ইরান ফেরার পর সংবাদমাধ্যমকে তাজ জানান, কানাডার টরন্টো বিমানবন্দরে তাকে ও তাঁর সফরসঙ্গীদের দুই ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাজ কানাডীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেও জানান তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়নি।
আরও পড়ুন
| দুই দশকের ভালোবাসার ইতি টানলেন মামুনুল |
|
কানাডার কতৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে চেয়েছিল তারা আইআরজিসি সদস্য কি না। জবাবে তাজ বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি—ইরানে আমরা ৯ কোটি মানুষই আইআরজিসির সদস্য।‘
বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তাজ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে আলোচনার পর বলেছিল সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর। এরপর আমরা দলগতভাবে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেই। কাগজে-কলমে আমাদের বহিষ্কার করা হয়নি ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমনই ছিল।‘
এদিকে ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ইরানি প্রতিনিধিদলকে ২০ মে-র মধ্যে ফিফা সদর দপ্তরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হবে। তাজ বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, খুব শীঘ্রই আমরা ফিফার সঙ্গে বৈঠক করব। অনেক বিষয়ে আলোচনার আছে।‘
এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক হামলা চালায়। এরপর থেকে পর থেকে দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন
| মামুনুলের বিদায়ী ম্যাচ রাঙাল ফর্টিস, বসুন্ধরা কিংসের আরও কাছে আবাহনী |
|
নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তাতে সায় দেয়নি। কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।‘
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ 'জি'-তে রয়েছে ইরান। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

হোসে মরিনিয়ো আবারও ফিরছেন সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে! বেশ ক’দিন ধরেই এমন সংবাদে সয়লব সর্বত্র। স্প্যানিশ মিডিয়াগুলো আগ বাড়িয়ে দরদাম, এমনকী চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত উল্লেখ করছেন প্রতিবেদনে। মূলত রিয়ালের বস ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে পর্তুগিজ মাস্টার মাইন্ডের সুসম্পর্ক এবং সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবের জন্য একজন সুদক্ষ গুরুর চাহিদার প্রেক্ষিতেই এমন সংবাদ বেশ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। যদিও অবশেষে বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন খোদ মরিনিয়ো।
রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ আউটে ফেরা নিয়ে বেনফিকার কোচ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ করেনি সাবেক ক্লাব। এমনকী তিনি নিজেও আগ বাড়িয়ে যোগাযোগ করেননি।
২০২৫-২৬ মৌসুমটা শূন্য হাতে শেষ হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। এখনও খাতা কলমে লা লিগা টিকে আছেন লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে আলভারো আরবেলোয়ার দল শীর্ষস্থানে থাকা বার্সেলোনা থেকে ঢের পিছিয়ে। কোনোরকম অঘটন না ঘটলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিততে চলেছে কাতালান ক্লাব।
চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই লেগেই বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরেছেন কিলিয়ান এমবাপেরা। যে কারণে একজন সিনিয়র এবং চ্যাম্পিয়ন লিগ জেতাতে সক্ষম এমন ম্যানেজারের খোঁজে রিয়াল।
যখনই রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ইস্যু আসে, স্বাভাবিকতই নাম আসে ক্লাবটি থেকে ২০১৩ সালে দায়িত্ব ছাড়া মরিনিয়োর নাম। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে নিশ্চুপ ছিলেন তিনি। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে যখন জানতে চাওয়া হয়, রিয়ালের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে কি না, তখন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ৬৩ বছর বয়সী কোচ।
তিনি বলেন, ‘না, রিয়াল মাদ্রিদের কেউ আমার সঙ্গে কথা বলেনি। এটা আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি। ফুটবলের সঙ্গে বহু বছর ধরে আছি আমি, ঠিক যেমন আপনারা সাংবাদিকতায়। এসবের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে কিছুই আসেনি।’
২০২১ সালে কার্লো আনচেলত্তিকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে চমক উপহার দিয়েছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব। তিনি তখন ক্যারিয়ারের এক সন্ধিক্ষণে ছিলেন এবং এভারটনের মতো ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। সময় প্রমাণ করেছে সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন মামুনুল ইসলাম। ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্রের দীর্ঘ দুই যুগের ক্যারিয়ারের ইতি ঘটেছে আজ। বিএফএলে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সব ধরণের ফুটবলকে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক।
শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতে বাংলাদেশ সময় পৌনে তিনটার ম্যাচে ফর্টিস এফসির বিপক্ষে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জিতেছে ফর্টিস। জয়-পরাজয় চাপিয়ে এই ম্যাচে আলোচনায় ছিলেন মামুনুল। বৃহস্পতিবার ফর্টিসের ক্লাব হাউসে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিজেই বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন ৩৭ বর্ষী মিডফিল্ডার।
২০০৮ সালে অভিষেক হওয়া মামুনুল সবশেষ ২০২০ সালে বুরুন্ডির বিপক্ষে সবশেষ দেশের জার্সিতে খেলেছেন। তবে তার আগে অর্থাৎ ২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে ক্লাব ফুটবলে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এই-ওই মিলিয়ে প্রায় ১০টি ক্লাব মাড়িয়ে ফর্টিসের হয়ে করেন শেষটা।
এক যুগেরও বেশি সময়কালে ফুটবল থেকে অর্জন ও প্রাপ্তিও কম নয়। লাল-সবুজ জার্সিতে ৬৭ ম্যাচের এক লম্বা জার্নি নিয়ে বিদায় বেলায় মামুনুল বলেন, ‘ফুটবল থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। নাম বলেন, খ্যাতি বলেন, অর্থ বলেন, ট্রফি বলেন, অর্জন বলেন—অনেক কিছু। এখন শুধু ঋণ শোধের পালা।’
ঘরোয়া ফুটবলে ১৬টি ট্রফি জিতেছেন মামুনুল। এছাড়া ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার (এডিকে) হয়েও লিগ শিরোপা আছে তার। আবাহনী ও মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবেও খেলেছেন তিনি।
বর্ণিল ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচে ২৪ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন মামুনুল। এ সময় দুই দলের প্লেয়াররা তাকে গার্ড অব অনার প্রধান করেন। সারিবদ্ধ হয়ে দুই দলের খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে তার ইতিকাব্য আরও রঙিন করে তোলেন। এসময় বাফুফে কর্তারা মামুনুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দেশের ফুটবলের মহানায়ককে হাস্যজ্জ্বল মুখে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে মামুনুলের হাতে স্মারক ও বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় ফর্টিস এফসির পক্ষ থেকে। সতীর্থদের স্বাক্ষর সংবলিত ৮ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়া হয় মামুনুলের হাতে। তার বিদায়ী সংবর্ধনায় শরিক হতে হাজির হয়েছিলেন স্ত্রী-সন্তান। এমনকী জন্মস্থান চট্টগ্রাম থেকেও ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা হাজির হন কিংস অ্যারেনাতে।
মামুনুল বিদায়টা জাতীয় দলের হয়েই নিতে চেয়েছিলেন। সেই সুযোগ হয়নি। এ নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছিল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। তবে ফর্টিসের হয়ে তার যে স্মরণীয় বিদায়টা হয়েছে, তা কতজনেরই বা ভাগ্যে জোটে। এই ভেবে নিশ্চয়ই কিছুটা হলেও নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের এই গুণী ফুটবলার।