.jpeg)
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে ছাদঢাকা সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে ফিরেছিল ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। সেই ঘটনার রেশ ধরে ফিরতি লেগের আগে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার ছবি পোস্ট করে রিয়ালকে খোঁচা দিয়ে বায়ার্ন লেখে, ‘ছাদ কিন্তু খোলাই আছে’। তবে মাঠের লড়াইয়ে বায়ার্নের এই রসিকতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে ও আর্দা গুলেররা। যাদের একের পর এক আক্রমণে প্রথমার্ধে বেশ কোণঠাসাই ছিল বুন্দেসলিগা জায়ান্টরা।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউসিএলের ফিরতি লেগের প্রথমার্ধে গোল বন্যা হয়েছে। ৫ গোলের পাগলাটে প্রথামার্ধে এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ফার্স্ট লেগে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা লস ব্লাঙ্কোসরা ফিরতি লেগের প্রধমার্ধে এগিয়ে ৩-১ ব্যবধানে।
ম্যাচ ঘড়ির মাত্র ৪৬ সেকেন্ডে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানুয়েল নয়্যার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো বিড়ম্বনা বাড়ান। ফার্স্ট লেগের ম্যাচসেরা এই জার্মানি গোলকিপারের দূর্বল শট ২৫ গজ দূর থেকে জালে লক্ষ্যবেদ করেন আর্দা গুলের। তাতে মাদ্রিদ ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। আর দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতায় ফেরে আলভারো আরবেলোয়ার দল!
বায়ার্ন শোধ নিতে বেশি সময় নেয়নি। প্রথম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর চতুর্থ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন করে বাভারিয়ানরা। বাঁ পাশের কর্নার থেকে জশুয়া কিমিখের নেওয়া ডেলিভারিটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। পেনাল্টি বক্স তখন খেলোয়াড়দের ভিড়ে ঠাসা, আর বলের গতি এতই বেশি ছিল যে আন্দ্রি লুনিন কেবল ঠায় দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি। আলেকজান্ডার পাভলোভিচ গোললাইনের একদম কাছ থেকে আলতো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।
১৯তম মিনেটর ঘটনা চাইলেও ভুলতে পারবেন না কিলিয়ান এমবাপে। মিডফিল্ড থেকে ধেয়ে আসা একটি ক্রসের সূত্র ধরে বায়ার্নের হাই লাইন ডিফেন্স বেধ করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে ফিনিশিং শটের আগে গড়বড় করে ফেলেন। তার ডান পায়ের শট এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। লিগের সর্বোচ্চ গোলধারীর (১৪টি) সুযোগ ছিল দ্বিতীয় স্থানে থাকা হ্যারি কেইন থেকে দুরত্ব আরও বাড়াতে।
২৪তম মিনিটে জশুয়া কিমিখ আরও একটি দৃষ্টিনন্দন শট নেন। ডি বক্সের বাইর থেকে নেওয়া তার বুলেট গতির শট অবশ্য বিপদ বাড়াতে দেননি আন্দ্রে লুনিন। ফাঞ্চ করে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন এই ইউক্রেন গোলকিপার।
২৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে ফ্রি কিকে নয়্যারকে বোকা বানান গুলের। গুলের যেন একাই বায়ার্নকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পণ করেছেন আজ। ম্যাচের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ডি-বক্সের বেশ বাইরে গুলেরকে ফাউল করে বসেন লাইমার। সেই সুযোগটিই কাজে লাগালেন এই তরুণ তুর্কি। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া তার ট্রেডমার্ক বাঁকানো ফ্রি-কিকটি বায়ার্নের রক্ষণ দেয়াল টপকে টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে আছড়ে পড়ে। নয়্যারের তাকিয়ে দেখা ছাড়া ছিল না কোনো উপায়। এই চোখধাঁধানো গোলের সুবাদে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। আর দুই লেগ মিলিয়ে ফিরল ৩-৩ সমতায়।
আর্দা গুলেরের দ্বিতীয় গোলের পর যখন রিয়াল মাদ্রিদ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হ্যারি কেইন। দায়ো উপামেকানোর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লুনেনকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরলেও, এগ্রিগেটে বায়ার্ন এখন ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
গোল কনসিভের পরের মিনিটে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি এদার মিলিতাও। ব্রাজিল সেন্টারব্যাক টেনে ফেলে দেন কেইনকে। রেফারিও হলুদ কার্ড দেখাতে ভুল করেননি।
৪০তম মিনেট ভুলের প্রায়ঃশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমবার ভুল করলেও এবার আর ভুল করেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। বা প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠে সতীর্থ ভিনিকে ক্রস দেন ভিনি। সে শট থেকে গোল আদায় করেন এমবাপে। লিগে এটি তার ১৫তম গোল। লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে মাথায় আঘাত পাওয়া ফরাসি ডিফেন্ডার মোটেও বুঝতে দিচ্ছেন না দূর্বলতা। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।
No posts available.
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফ্রান্সের ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন দিদিয়ের দেশম। সবাইকে চমকে দিয়ে দেশমের চূড়ান্ত এই স্কোয়াডে জায়গা পাননি বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্যারিসে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) সদর দফতরে দেশম স্কোয়াড ঘোষণা করেন। বাদ পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল কামাভিঙ্গার বাদ পড়া। স্কোয়াড ঘোষণার আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল যে ২৩ বছর বয়সী এই তারকা থাকছেন না, আর শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।
আবার ক্রিস্টাল প্যালেসের স্ট্রাইকার জিন ফিলিপ মাতেতা তাঁর ক্যারিয়ারের মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েই বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েছেন। অন্যদিকে টটেনহ্যামে ধারে খেলতে গিয়ে বাজে মৌসুম কাটানো পিএসজি ফরোয়ার্ড কোলো মুয়ানি দল থেকে বাদ পড়েছেন।
স্কোয়াডে কিলিয়ান এমবাপে যথারীতি মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন। তবে তাঁর পাশাপাশি মাইকেল অলিসে, দেজিরে দুয়ে এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রায়ান শেরকি এবার ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে নতুন ধার দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এন'গোলো কান্তে বর্তমানে তুরস্কের ক্লাবে খেললেও নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলার জন্য ডাক পেয়েছেন অভিজ্ঞতার বিচারে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পরই ফ্রান্সের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন দেশম। টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ 'আই'-তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ ইরাক এবং নরওয়ে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের ফরাসি স্কোয়াড:
গোলকিপার: মাইক মাইনান (এসি মিলান), রবিন রিসার (লেন্স), ব্রাইস সাম্বা (রেন)।
রক্ষণভাগ: লুকা দিনিয়ে (অ্যাস্টন ভিলা), মালো গুস্তো (চেলসি), লুকা হার্নান্দেজ (পিএসজি), থিও হার্নান্দেজ (আল-হিলাল), ইব্রাহিম কোনাতে (লিভারপুল), জুলেস কুন্দে (বার্সেলোনা), ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোয়া (ক্রিস্টাল প্যালেস), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল), দায়ো উপামেকানো (বায়ার্ন মিউনিখ)।
মধ্যমাঠ: এন'গোলো কান্তে (ফেনারবাচে), মানু কোনে (এএস রোমা), আদ্রিয়েন রাবিয়ত (এসি মিলান), অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি (রিয়াল মাদ্রিদ), ওয়ারেন জাইরি এমেরি (পিএসজি)।
আক্রমণভাগ: মাগনেস আকলিউশ (মোনাকো), ব্র্যাডলি বারকোলা (পিএসজি), রায়ান শেরকি (ম্যানচেস্টার সিটি), উসমান দেম্বেলে (পিএসজি), দেজিরে দুয়ে (পিএসজি), ফিলিপ মাতেতা (ক্রিস্টাল প্যালেস), কিলিয়ান এমবাপে (রিয়াল মাদ্রিদ), মাইকেল অলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ), মার্কাস থুরাম (ইন্টার মিলান)।

বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এমন কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে, যা কেবল ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেনি, স্থান করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই অবিশ্বাস্য 'সোলো রান' থেকে শুরু করে ব্রাজিলের মাঠে হামেস রদ্রিগেসের সেই চোখধাঁধানো ভলি—এই গোলগুলো ফুটবলপ্রেমীদের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আজও সমানভাবে রোমাঞ্চিত করে। দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের সেরা ১০টি জাদুকরী।
১. ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম ইংল্যান্ড (১৯৮৬)
বিশ্বকাপের সেরা গোলের তালিকা করলে সবার আগেই আসবে এই গোলটির নাম। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের অর্ধে বল পেয়েছিলেন ম্যারাডোনা; এরপর শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিস্মরণীয় 'সোলো রান'। মাত্র ১১ সেকেন্ডের জাদুকরী ছন্দে ইংল্যান্ডের পাঁচজন ডিফেন্ডার এবং গোলকিপারকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ফুটবল ইতিহাসে এই গোলটি 'গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি' বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত, যা আজও ম্যারাডোনার ফুটবলীয় মস্তিস্ক ও শ্রেষ্ঠত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
২. কার্লোস আলবার্তো বনাম ইতালি (১৯৭০)
ম্যারাডোনার গোলটি যদি হয় একক নৈপুণ্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, তবে ১৯৭০-এর ফাইনালে কার্লোস আলবার্তোর করা এই গোলটি ছিল দলগত ফুটবলের এক অনন্য মহাকাব্য। ব্রাজিলের সেই কিংবদন্তি দলটি পুরো মাঠজুড়ে অসাধারণ পাসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল, যার শেষ প্রান্তে পেলের বাড়ানো এক মাপা পাস খুঁজে নেয় আলবার্তোকে। ব্রাজিলের অধিনায়ক বুলেট গতির এক শটে বল জালে জড়ান, যা ইতালির বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটির ইতি টানে। আজও ফুটবল বিশ্বের অনেকে এটিকে ইতিহাসের সেরা ‘দলগত গোল’ হিসেবে বিবেচনা করেন।
৩. হামেস রদ্রিগেস বনাম উরুগুয়ে (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে এই চোখধাঁধানো ভলি দিয়েই বিশ্বমঞ্চে নিজের রাজকীয় আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন হামেস রদ্রিগেস। পেনাল্টি বক্সের বাইরে বুক দিয়ে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বাঁ-পায়ে এক দুর্দান্ত শট নেন এই কলম্বিয়ান তারকা; বলটি ক্রসবারে লেগে সজোরে জালে আছড়ে পড়ে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকা এই গোলটি পরবর্তীতে ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জয় করে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি আজও অন্যতম নান্দনিক গোল হিসেবে স্বীকৃত।
৪. পেলে বনাম সুইডেন (১৯৫৮)
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে পেলে এমন এক কীর্তি গড়েছিলেন, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত হয়ে আছে। ডি-বক্সের ভেতর এক ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বলটি আলতো করে তুলে দিয়ে , অসামান্য ক্ষিপ্রতায় এবং শান্ত মাথায় ভলিতে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন এই ব্রাজিলিয়ান ‘কালো মানিক’। সেই মুহূর্তেই ফুটবলবিশ্ব বুঝতে পেরেছিল, তারা যুগের সেরা এক মহাতারকার জন্ম হতে দেখল।
৫. রবিন ফন পার্সি বনাম স্পেন (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হয়ে আছে রবিন ফন পার্সির সেই 'ফ্লাইং ডাচম্যান' গোলটি। ডেলি ব্লিন্ডের লম্বা পাস যখন স্পেনের বক্সের দিকে আসছিল, ফন পার্সি নিজেকে শূন্যে ভাসিয়ে এক অবিশ্বাস্য ডাইভিং হেডে বলটি গোলকিপার ইকার ক্যাসিয়াসের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। সেই ম্যাচে তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল নেদারল্যান্ডস, তবে ফন পার্সির সেই উড়ন্ত ফিনিশিংটিই পুরো ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছিল।
৬. সাঈদ আল-ওয়াইরান বনাম বেলজিয়াম (১৯৯৪)
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো আন্ডারডগ বা কম শক্তির দলের অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোর কথা বললে সাঈদ আল-ওয়াইরানের এই গোলটি সবার উপরে থাকবে। নিজেদের সীমানার অনেক ভেতর থেকে বল পেয়ে তিনি বেলজিয়ান ডিফেন্সকে তছনছ করে এক জাদুকরী 'সোলো রান' শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন। এই অসাধারণ গোলটি সৌদি আরবকে নকআউট পর্বে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল এবং এর শৈল্পিকতা ম্যারাডোনার ৮৬-র সেই বিখ্যাত গোলের সঙ্গে তুলনা কুড়িয়েছিল।
৭. ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম বেলজিয়াম (১৯৮৬)
সেরা গোলের তালিকায় ম্যারাডোনার নাম দুইবার থাকাই স্বাভাবিক। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেমিফাইনালের এই গোলটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সেই মহাকাব্যিক গোলের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেলেও, এটি ছিল ভারসাম্যের এক অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী। চারজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ের ছন্দে নাচিয়ে ম্যারাডোনা নিজের ট্রেডমার্ক ভঙ্গিতে বলটি গোলকিপারের পাশ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন।
৮. রবার্তো ব্যাজিও বনাম চেকোস্লোভাকিয়া (১৯৯০)
১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো বাজ্জিওর ফুটবলীয় প্রতিভা বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দারুণ ড্রিবলিং আর গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে তিনি এগিয়ে যান। ডি-বক্সের ভেতর আঁকাবাঁকা পথে ঢুকে পড়ার পর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তিনি আক্রমণটির ইতি টানেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি আজও অন্যতম নান্দনিক ‘সোলো গোল’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৯. ডেনিস বার্গক্যাম্প বনাম আর্জেন্টিনা (১৯৯৮)
নিখুঁত কারিগরি দক্ষতার এক অসাধারণ নিদর্শন হয়ে আছে এই গোল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের একদম শেষ মুহূর্তে ফ্রাঙ্ক ডি বোয়ারের বাড়ানো একটি লম্বা ডায়াগোনাল পাস খুঁজে নেয় ডেনিস বার্গক্যাম্পকে। ডাচ এই জাদুকর প্রথম স্পর্শেই বলটি অবিশ্বাস্যভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন, দ্বিতীয় টাচে ডিফেন্ডার রবার্তো আয়ালাকে ছিটকে দেন এবং তৃতীয় টাচে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ভলিতে গোল করেন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই শৈল্পিক গোল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হয়ে আছে।
১০. বেঞ্জামিন পাভার্ড বনাম আর্জেন্টিনা (২০১৮)
২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বেঞ্জামিন পাভার্ডের সেই সমতাসূচক গোলটি মুহূর্তেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দৃশ্যে পরিণত হয়। বক্সের বাইরে থেকে আসা একটি বাউন্সিং বলকে ফরাসি এই ডিফেন্ডার নিখুঁত এক হাফ-ভলিতে বাঁক খাইয়ে পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। সাত গোলের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ফ্রান্স ৪-৩ ব্যবধানে জিতে এবং শেষ পর্যন্ত সেবার তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নই হয়।

জানুয়ারিতে রুবেন আমোরিম বরখাস্ত হওয়ার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নেন মাইকেল ক্যারিক। ৪৪ বছর বয়সী এই কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর দারুণ ছন্দে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাব। লিগ রেস শেষ হওয়ার আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে ম্যান ইউনাইটেড।
সুসময় ফেরোনোর কারণে স্থায়ী কোচ হিসেবে ক্যারিককে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ম্যান ইউনাইটেড। এই ইংলিশ কোচকে প্রাথমিকভাবে দুই বছরের চুক্তির প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ক্লাব। চুক্তিতে মেয়াদ আরও ১২ মাস বাড়ানোর সুযোগও রাখা হবে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ক্যারিকের সঙ্গে চুক্তি পোক্ত করার দিকে যাচ্ছে ইউনাইটেড। যদিও আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। তবে ম্যান ইউনাইটেড জোর দিয়ে বলছে, যে অন্য প্রার্থীদেরও তারা বাতিলের খাতায় রাখেনি।
রেড ডেভিলদের দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ১৫টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ পরিচালনা করলেও তিনি প্রিমিয়ার লিগের ‘ম্যানেজার অফ দ্য সিজন’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। সেই ১৫ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় পাওয়ায় ইউনাইটেড আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিয়েছে।
স্কাই স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ম্যাচের আগেই সব পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ক্যারিকই এই চাকরিটি পাবেন—এমন কোনো নিশ্চয়তা এখনো নেই। কারণ ইউনাইটেড অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথেও যোগাযোগ করেছে।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ক্যারিক স্থায়ী দায়িত্ব পেলে তার বর্তমান কোচিং প্যানেলকেও রেখে দেওয়া হবে। যার মধ্যে রয়েছেন স্টিভ হল্যান্ড, জোনাথন উডগেট, জনি ইভান্স এবং ট্র্যাভিস বিনিয়ন।

ফুটবল ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনার রূপ ভিন্ন ভিন্ন—কেউ গ্যালারিতে বসে টানটান উত্তেজনায় প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন, কেউবা মেতে থাকেন জার্সি আর স্মারক সংগ্রহের নেশায়। ফুটবল সংস্কৃতির প্রতি এই ভালোবাসাগুলো এতদিন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও, এবার সেগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে একীভূত এক অভিজ্ঞতা দিতে যাচ্ছে ফিফা
'ফিফা রিওয়ার্ডস' চালুর মাধ্যমে ভক্তদের এই সক্রিয়তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এক নতুন পদ্ধতি নিয়ে আসছে ফিফা। এখন থেকে ফিফার বিভিন্ন ইভেন্টে ভক্তদের অংশগ্রহণ কেবল ভালো লাগার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তাদের এই কার্যক্রমের জন্য ফিফা থেকে মিলবে বিশেষ পুরস্কার ও স্বীকৃতি।
এই উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল ২০২৫ ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের সময় একটি পরীক্ষামূলক প্রোগ্রামের মাধ্যমে। সেখানে ভক্তদের ব্যাপক আগ্রহ দেখে ফিফা এখন এটিকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এবারের ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলো এই প্রোগ্রামের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেও, 'ফিফা রিওয়ার্ডস' শুধু বিশ্বকাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বছরজুড়ে ফিফার সব ধরনের প্রতিযোগিতা, কন্টেন্ট এবং ভক্তদের সাথে মিথস্ক্রিয়ার একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
ফিফা রিওয়ার্ডস মূলত একটি পয়েন্ট-ভিত্তিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।
ভক্তরা ফিফার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট দেখা, ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে সরাসরি ইভেন্টে উপস্থিত থাকা—এমন সব ধরণের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ফিফা পয়েন্ট অর্জন করতে পারেন। এই পয়েন্টগুলো সময়ের সঙ্গে জমা হতে থাকে এবং বিভিন্ন স্তরের সুবিধা আনলক করে। পয়েন্ট যত বেশি হবে, ভক্তরা তত বেশি মূল্যবান পুরস্কার এবং অভিজ্ঞতার সুযোগ পাবেন।
জমানো পয়েন্ট দিয়ে ডিজিটাল পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে থাকছে ২০২৬ বিশ্বকাপের পানিনি ডিজিটাল স্টিকার প্যাক, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বা ভিআর প্রযুক্তিতে ম্যাচ উপভোগের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, ফিফা স্টোর ভাউচার, ফিফা মিউজিয়ামের ভার্চুয়াল ট্যুর।
অবশ্য ফিফা রিওয়ার্ডস কেবল ডিজিটাল পুরস্কারেই সীমাবদ্ধ নয়; সময়ের সঙ্গে এখানে যুক্ত হবে নতুন সব এক্সক্লুসিভ অফার। খুব শীঘ্রই এখানে ম্যাচ টিকিট জেতার সুযোগ এবং প্রিমিয়াম সব অভিজ্ঞতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফিফার মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ লেনদেনের ঊর্ধ্বে উঠে ভক্তদের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা তাৎক্ষণিক আনন্দের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে।

ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যখন বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’কে বরণ করে নিতে তখন অনন্য এক উদ্যোগ নিয়েছে ম্যাসাচুসেটস পোর্ট অথরিটি (ম্যাসপোর্ট)। বোস্টনের ওয়াটারফ্রন্টে দারুণ একটি বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল তৈরির মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর পরিকল্পনা করেছে ম্যাসপোর্ট।
ম্যাসপোর্ট সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, আগামী জুনে পূর্ব বোস্টনের পিয়ার্স পার্ক-২-এ তারা বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল প্রদর্শনী করতে যাচ্ছে। মূলত আসন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উদযাপনের অংশ হিসেবে এবং বোস্টন হারবারের দুই পাড় থেকে পর্যটকদের আকর্ষণ করতেই এই বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই ফুটবলটির উচ্চতা হবে ৪৫ ফুট। এর মাধ্যমে ২০১৩ সালে কাতারের দোহায় গড়া ৩৮ ফুট ১১.৮ ইঞ্চির বর্তমান গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডটি টপকে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গিনেস কর্তৃপক্ষ এটি যাচাই করলে এটিই হবে ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল।
আগামী ১২ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত বিশাল এই ফুটবলটি বোস্টনে প্রদর্শিত হবে। আর ১৩ জুন আয়োজন করা হয়েছে একটি বিশেষ 'কমিউনিটি ডে' ইভেন্ট। ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের যে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে, সেগুলোকে উদযাপন করতেই এই বিশাল রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দর্শনার্থীরা পূর্ব বোস্টনের মনোরম দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি এই ফুটবলটির সঙ্গে ছবি তোলা ও দেখার সুযোগ পাবেন। এই আয়োজনে পরিবার নিয়ে উপভোগ করার মতো বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে সরাসরি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকবে না।
ম্যাসপোর্টের সিইও রিচ ডেভি এক বিবৃতিতে বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন,
‘ম্যাসাচুসেটস যখন ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমরা বোস্টনে পুরো বিশ্বকে স্বাগত জানাতে পেরে গর্বিত। পূর্ব বোস্টনের এই আইকনিক প্রদর্শনী মানুষকে একত্রিত করবে এবং বিশ্বকাপের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।’
এবারের বিশ্বকাপে ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে মোট সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করতে চায় ম্যাসপোর্ট।