১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:১০ পিএম

বাংলাদেশে নারী ফুটবল লিগের নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে চলতি মাসের শেষ দিকে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে এবারের নারী ফুটবল লিগ, চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। লিগ শুরুর আগে আগামীকাল রোববার থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে খেলোয়াড় দলবদল কার্যক্রম।
আজ বুধবার বাফুফে ভবনে অংশগ্রহণকারী ১১টি ক্লাবের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান নারী ফুটবল উইংয়ের চেয়ারম্যান ও বাফুফে সদস্য মাহফুজ আক্তার কিরণ। তিনি জানান, সময় স্বল্পতা থাকলেও প্রতিটি ম্যাচের পর দুই দিনের বিরতি রেখে সূচি সাজানো হয়েছে, যাতে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক বিশ্রাম নিশ্চিত করা যায়।
এবারের লিগে বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধনের সুযোগও থাকছে। প্রতিটি ক্লাব সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে, তবে ম্যাচে একসঙ্গে খেলানো যাবে তিনজনকে। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন একটি নিয়ম যুক্ত করেছে বাফুফে। প্রতিটি দলে বাধ্যতামূলকভাবে চারজন অনূর্ধ্ব-১৭ এবং চারজন অনূর্ধ্ব-২০ খেলোয়াড় থাকতে হবে। ম্যাচের শুরুর একাদশেও অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায় থেকে দুজন করে খেলোয়াড় মাঠে নামাতে হবে। পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই বয়সভিত্তিক নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
খেলোয়াড় পুল গঠনের গুঞ্জন নাকচ করে কিরণ স্পষ্ট করে বলেন,
'এবার কোনো পুল ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সব খেলোয়াড়ই ফ্রি থাকবে এবং তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো ক্লাবে খেলতে পারবে। একইভাবে ক্লাবগুলোও ইচ্ছামতো খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে পারবে।'
দল নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্লাব ন্যূনতম ২৩ জন এবং সর্বোচ্চ ৩৫ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে কমলাপুর স্টেডিয়ামে।
লিগের স্পন্সরশিপ প্রসঙ্গে কিরণ জানান,
'ওয়ালটনের সঙ্গে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয়েছে। তবে এই অর্থ লিগ আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ক্লাবগুলোর জন্য অংশগ্রহণ ফি দেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তিনি।'
সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে লিগ শেষ করার কারণ ব্যাখ্যা করে কিরণ বলেন,
'ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাবে। বছরে একবার হওয়া লিগ থেকে খেলোয়াড়দের আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করতেই জানুয়ারির মধ্যেই লিগ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
লিগ চলাকালীন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি। জাতীয় দলের কোচ পিটার বাটলার ও ফিটনেস ট্রেনার ক্যামেরনের তত্ত্বাবধানে জিপিএস ডাটা ব্যবহারের পাশাপাশি বাফুফের ফিজিওথেরাপিস্টরাও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবেন।
সব মিলিয়ে সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নারী ফুটবলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বয়সভিত্তিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েই নতুন মৌসুমের লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাফুফে।
No posts available.

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সদের কোচ টমাস টুখেল যে স্কোয়াড প্রকাশ করেছেন, তাতে ইংলিশ ফুটবল মহলে বইছে আলোচনার ঝড়।
চেলসির কোল পালমার ও ম্যানচেস্টার সিটির ফিল ফোডেনের বাদ পড়াটা টুখেলের স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক। চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকার পরও এই দুই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারকে দলে রাখা হয়নি। প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমে পালমার ২৫ ম্যাচে ৯ গোল করেছেন। ৩২ ম্যাচে ৭ গোল ও ৭টি অ্যাসিস্ট করে অবদান রেখেছেন ফোডেনও।
এছাড়া বাদ পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুইয়ার এবং নটিংহ্যাম ফরেস্টের তারকা মরগান গিবস-হোয়াইট।
দলে জায়গা পেয়েছেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ৩৪ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন। ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসে জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ খেলার ডাক পেয়েছেন তিনি।
তাঁর এই অর্জনে নিউক্যাসলের কোচ এডি হাউ বলেন, ‘ড্যান বার্নের পুরো ক্যারিয়ারের গল্প যেকোনো তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য এক দারুণ উদাহরণ। জীবনের নানা কঠিন মোড় ও ধাক্কা সামলে আজ ও নিজের পুরস্কার পেয়েছে।‘
২০২৬ বিশ্বকাপ দিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন জর্ডান হেন্ডারসন। অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার মাঠে নামলেই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চারটি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়বেন।
আক্রমণভাগে টুখেলের বড় চমক আল আহলির স্ট্রাইকার ইভান টোনি। টুখেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে মাত্র দুই মিনিট খেলার সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির নিকো ও'রাইলি এবং বায়ার লেভারকুসেনের জ্যারেল কুয়ানসাদের মতো তরুণরা ডাক পেয়েছেন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আক্রমণভাগে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অ্যাস্টন ভিলার ওলি ওয়াটকিন্স, বার্সেলোনার মার্কাস রাশফোর্ড।
১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ‘এল’ গ্রুপে ইংল্যান্ড। ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৯৬৬ চ্যাম্পিয়নদের। এরপর ২৩ জুন ঘানা ও ২৭ জুন পানামার বিপক্ষে মাঠে নামবে থ্রি লায়ন্সরা।
ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল:
গোলকিপার: জর্ডান পিকফোর্ড (এভারটন), ডিন হেন্ডারসন (ক্রিস্টাল প্যালেস), জেমস ট্রাফোর্ড (ম্যানচেস্টার সিটি)।
রক্ষণভাগ: জন স্টোনস (ম্যানচেস্টার সিটি), ড্যান বার্ন (নিউক্যাসল), মার্ক গুয়েহি (ম্যানচেস্টার সিটি), রিস জেমস (চেলসি), এজরি কোনসা (এস্টন ভিলা), তিনো লিভরামেন্টো (নিউক্যাসল), নিকো ও'রাইলি (ম্যানচেস্টার সিটি), জ্যারেল কুয়ানসা (বায়ার লেভারকুসেন), জেদ স্পেন্স (টটেনহ্যাম)।
মধ্যমাঠ: জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ), ডেক্লান রাইস (আর্সেনাল), ইবেরেচি ইজে (আর্সেনাল), জর্ডান হেন্ডারসন (ব্রেন্টফোর্ড), কোবি মাইনো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), এলিয়ট অ্যান্ডারসন (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), মরগান রজার্স (অ্যাস্টন ভিলা)।
আক্রমণভাগ: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ), বুকায়ো সাকা (আর্সেনাল), মার্কাস রাশফোর্ড (বার্সেলোনা), অ্যান্থনি গর্ডন (নিউক্যাসল), ননি মাদুয়েকে (আর্সেনাল), ইভান টোনি (আল আহলি), ওলি ওয়াটকিন্স (অ্যাস্টন ভিলা)
জাতীয় ফুটবল দলের জন্য নতুন কোচ খুঁজে পেল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দু্ই বছরের জন্য বাফুফের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জার্মান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অধিনায়ক টমাস ডুলি। এখন ঢাকায় আছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৮১ ম্যাচ খেলা ডুলির এশিয়ায় কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে এক দশকের। তাঁর অধীনে ফিলিপাইন প্রথমবারের মতো নাম লেখায় এশিয়ান কাপে। এবার বাংলাদেশকেও একই মঞ্চে নিয়ে যেতে চান তিনি। খুদে বার্তায় ডুলি বলেন,
‘ফিলিপাইনের মতো বাংলাদেশকে (এশিয়ান কাপে নিতে) সফল করতে আমি আশাবাদী। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
কাবরেরার অধীনে দুবার এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু মূলপর্বে খেলার স্বাদ পায়নি। এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছিল ১৯৮০ সালে। এরপর নারী দল এশিয়ান কাপেও খেললেও ছেলেদের দল আর পারেনি। সেই সম্ভাবনার দুয়ার খুলতেই বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান ডুলি।
খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বুন্দেসলিগা ও ইউয়েফা কাপ জিতেছেন ডুলি। কোচিং ক্যারিয়ারে ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী কোচ ছিলেন।
পরবর্তীতে ফিলিপাইনকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে তোলেন ডুলি। সর্বশেষ গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। সেই দায়িত্ব ছেড়ে এখন তিনি দাঁড়াবেন জামাল - হামজাদের ডাগ আউটে।
৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ডুলির বাংলাদেশ অধ্যায়। ইউরোপ সফরের আগে ২৪ মে থেকে ঢাকায় ক্যাম্প করবে জাতীয় দল। এরই মধ্যে দেশের বাইরে থাকা ফুটবলাররা আসতে শুরু করেছেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে নরওয়ে। কোনো সংবাদ সম্মেলন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট নয়, খোদ নরওয়ের রাজা হারাল্ড ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দলটির খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করেছেন।
রাজার মুখ থেকে এমন অভিনব উপায়ে দল ঘোষণার এই নাটকীয়তা খেলোয়াড়দের মধ্যেও ব্যাপক রোমাঞ্চ ও বিস্ময় তৈরি করেছে। দলে ডাক পাওয়া ডার্বি কাউন্টির ডিফেন্ডার সন্ড্রে ল্যাঙ্গাস দেশটির জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনআরকে কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে বলেন,
‘ভিডিওটি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সত্যি বলতে, আমি রাজাকেও এক সেকেন্ডের জন্য বিশ্বাস করিনি যে আমার নাম থাকবে!’
নরওয়ের মূল চালিকাশক্তি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন নিজের প্রথম বিশ্বকাপকে রাঙাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আক্রমণভাগে তাকে সহায়তার জন্য থাকছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের আলেকজান্ডার সরলথ, সেল্টা ভিগোর জোর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন এবং ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ উইঙ্গার অস্কার বব।
মাঝমাঠের সেনাপতি এবং দলের অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন আর্সেনালকে ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জেতানো মার্টিন ওডেগার্ড। রক্ষণভাগে আর্সেনালের ক্রিস্টোফার আয়ের এবং বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জুলিয়ান রিয়েরসন দলের রক্ষণের মূল দেয়াল।
নরওয়ের এই দল ঘোষণায় সবচেয়ে বড় চমক ও নাটকীয়তা ছিল গোলকিপার পজিশন নিয়ে। এসকে ব্রানের গোলকিপার মাথিয়াস ডিনজিল্যান্ড চোটের কারণে বিবেচনায় ছিলেন না। এছাড়া সাবেক রাশিয়া অনূর্ধ্ব-২১ দলের কিপার নিকিতা হাইকিনকে নরওয়েজিয়ান নাগরিকত্ব দেওয়ার আবেদন ফিফা নাকচ করায় তীব্র গোলকিপার সংকটে পড়েছিল সোলবাকেনের দল।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে হ্যামবার্গ এসভির গোলকিপার স্যান্ডার ট্যাংভিককে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতীয় দলের হয়ে এখনো অভিষেক করেননি ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ।
বাছাইপর্বে পরাশক্তি ইতালিকে হারিয়ে চমকে দেওয়া নরওয়েকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ডার্ক হর্স হিসেবে ধরা হচ্ছে। যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সব রকম অস্ত্র রয়েছে তাদের।
১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’-তে নরওয়ে। ১৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নরওয়ে। ২২ জুন সেনেগাল ও ২৬ জুন তাদের লড়তে হবে ফ্রান্সের বিপক্ষে।
ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের ২৬ সদস্যের দল
গোলকিপার: ওরিয়ান ন্যাল্যান্ড, এগিল সেলভিক, স্যান্ডার ট্যাংভিক।
রক্ষণভাগ: ক্রিস্টোফার আয়ের, ফ্রেডরিক আন্দ্রে বিয়োরকান, সোন্দ্রে ল্যাঙ্গাস, হেনরিক ফালচেনার, তোর্বিওর্ন হেগেম, মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসেন, জুলিয়ান রিয়েরসন, লিও স্কিরি ওস্টিগার্ড, ডেভিড মোলার উলফ।
মাঝমাঠ: থেলো আসগার্ড, স্যান্ডার বার্গ, প্যাট্রিক বার্গ, ফ্রেডরিক আওয়ার্সনেস, মর্টেন থরসবাই, ক্রিস্টিয়ান থর্স্টভেড, মার্টিন ওডেগার্ড।
আক্রমণভাগ: আন্তোনিও নুসা, জেনস পেটার হাউগে, আন্দ্রেয়াস শিয়েল্ডারআপ, আর্লিং হালান্ড, আলেকজান্ডার সরলথ, জোর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন, অস্কার বব।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন টমাস ডুলি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এই কোচ।
খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে ৪৩ বছর ধরে ফুটবলের সাঙ্গে যুক্ত আছেন ডুলি। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেন এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে কাজ করেন ডুলি।
আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ারে ডুলি এর আগে ফিলিপাইন জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর ফিলিপাইন দল অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন, যেখানে তার অধীনে দল চার ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে।
বাফুফে জানায়, বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি দল গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দলের ফলাফল উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে টমাস ডুলি তার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ অধ্যায়ে ডুলির প্রথম কাজ হবে সান মারিনো ম্যাচ দিয়ে। আগামী ৫জুন ইউরোপের দেশটির বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে একটি ফিফা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলবেন হামজা চৌধুরীরা। এর আগে ঢাকায় হবে ফুটবলারদের নিয়ে ক্যাম্প। এই ক্যাম্প পরিচালনা করবেন ডুলি।
আক্ষেপ ঘুচল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেওয়ার পর অবশেষে প্রথমবারের মতো সৌদি প্রো লিগের শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
বৃহস্পতিবার রাতে লিগের শেষ দিনে দামাক এফসিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ট্রফি নিশ্চিত করেছে আল নাসর। জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন রোনালদো।
এটি আল নাসরের ক্লাব ইতিহাসের ১১তম লিগ শিরোপা, তবে ২০১৯ সালের পর ঘরোয়া লিগে এটিই তাদের প্রথম ঘরোয়া লিগ জয়।
লিগ শিরোপা জিততে এই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না আল নাসরের। ড্র করলে বা হারলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত আল হিলাল। তবে সময় মতই জ্বলে উঠল আল নাসর। দামাকের বিপক্ষে জয়ে ৩৪ ম্যাচে ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে মৌসুম শেষ করল তারা। দুইয়ে থাকা আল হিলালের পয়েন্ট ৮৪।
গত সপ্তাহে ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার বেন্তোর শেষ মুহূর্তের ভুলে আল হিলালের সঙ্গে ১-১ ড্র করে শিরোপা নিশ্চিতের সুযোগ হাতছাড়া করেছিল আল নাসর। এরপর শনিবার জাপানি ক্লাব গাম্বা ওসাকার কাছে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ ২-এর ফাইনালে হেরে ধাক্কা খায় তারা। তবে ঘরের মাঠ আল আউয়াল পার্কে সব হতাশা ঝেড়ে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখেই মাঠ ছাড়ে রিয়াদের ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দামাককে চেপে ধরে আল নাসর। ৩৩ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে দলকে এগিয়ে দেন সাদিও মানে। এই এক গোলের লিডে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বায়ার্ন মিউনিখ ও চেলসির সাবেক ফরোয়ার্ড কিংসলে কোমান। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বা পায়ের নিচু শটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নাসর।
৫৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দামাকের মরলে সিলা একটি গোল শোধ করলে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফেরে। তবে এর পরেই শুরু হয় সিআর সেভেন শো। ৬২ মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন রোনালদো। এরপর ৮০ মিনিটে দামাকের রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বক্সে চমৎকার ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন।
চলতি লিগ মৌসুমে নাসরের হয়ে ২৮ গোল করেছেন রোনালদো। লিগে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় তিন নম্বরে পর্তুগিজ তারকা। দামাকের বিপক্ষে জোড়া গোলে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ৯৭৩।
ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে রোনালদোকে তুলে নেন নাসর কোচ হোর্হে জেসুস। এ সময় পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে হাততালির মাধ্যমে অভিবাদন জানায় তাকে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয়ে শিরোপা উল্লাস করে আল নাসর।
সৌদি আরবে নিজের তৃতীয় মৌসুমে এসে শিরোপা জিতলেন রোনালদো। এর আগে আল নাসরের হয়ে ২০২৩ সালে আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জিতেছিলেন। তবে সেটি ফিফা স্বীকৃত কোনো টুর্নামেন্ট ছিল না। তাই এটিই সৌদি আরবের মাটিতে রোনালদোর প্রথম আনুষ্ঠানিক বড় ট্রফি।