২২ মে ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

সবুজ গালিচার বুকে ফুটবল যদি হয় কোনো মহাকাব্য, তবে পেপ গার্দিওলা সেই কাব্যের সবচেয়ে দূরদর্শী কবি। কেবল একজন চেনা ঘরানার কোনো কবি নন; যিনি শুধু ছন্দ মিলিয়ে যান। তিনি তো সেই রূপকার, যিনি প্রতিটি ম্যাচের ক্যানভাসে জন্ম দিয়েছেন সম্পূর্ণ নতুন এক ব্যাকরণের, নতুন এক জীবনবোধেরও। ফুটবলকে স্রেফ একটা খেলা থেকে শিল্পের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়া এই কিংবদন্তি আজ বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য সম্পদও।
ম্যানচেস্টারে এক সোনালী দশকের অবসান ঘটিয়ে এই কিংবদন্তি যখন বিদায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে, তখন চারিদিকের সবুজ ঘাসও যেন তাঁর চলে যাওয়ার বেদনায় ভারী হয়ে উঠছে। ফুটবল বিশ্ব যখন তাঁর এই মহিমান্বিত বিদায়লগ্নে তাঁকে 'সর্বকালের সেরা'র সিংহাসনে বসাতে ব্যস্ত, তখন স্বয়ং এই কিংবদন্তি সব কোলাহল পেরিয়ে মেতেছেন অন্য এক পরম শান্তিতে। ‘সর্বকালের সেরা’র এই অন্তহীন বিতর্ক নিয়ে নিজের শেষ সংবাদ সম্মেলনে এক বুক সততা আর আবেগ জড়ানো কণ্ঠে যা বললেন গার্দিওলা, তা হয়তো ছুঁয়ে গেছে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়।
টানা এক দশক ধরে ম্যানচেস্টারের আকাশে সাফল্যের নীল রং ছড়িয়ে ২০টি ট্রফি জেতা গার্দিওলা আজ এক বিষাদময় বিদায়ের সুর ধরেছেন। গ্যারি নেভিল থেকে শুরু করে জেমি ক্যারাঘের—সমালোচকদের তীক্ষ্ণ কলমও আজ নতজানু হয়ে তাঁকে ‘সর্বকালের সেরা’র স্বীকৃতি দিচ্ছে। কিন্তু ট্রফি আর রেকর্ডের পাহাড় ডিঙিয়ে, ফুটবলের এই পরম ‘পূজনীয়’ ব্যক্তিত্ব বিদায়ের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কতটা নির্ভার?
সাফল্যের গাম্ভীর্য ঝেড়ে ফেলে ম্যানচেস্টার সিটির অন্যরকম সংবাদ সম্মেলনটাকে পেপ আজ রূপ দিয়েছিলেন এক আড্ডার আঙিনায়, যেখানে ট্রফির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেল ফেলে আসা স্মৃতি। ইতিহাসের সেরা হওয়ার গুরুগম্ভীর প্রশ্নে তাই কোনো অহংকার নয়, বরং এক অদ্ভুত নির্ভার ভঙ্গিতে ধরা দিলেন। মুচকি হেসে স্বভাবসুলভ রসবোধে তিনি উত্তর দিলেন—
‘তাদের সঙ্গে বসে একদিন বিয়ার খেতে খেতে আড্ডা দেওয়া যাবে! সত্যি বলতে, আমি নিজেই জানি না। তবে এটুকু জানি যে ম্যানেজার হিসেবে আমার ক্যারিয়ারে অবিশ্বাস্য কিছু সাফল্য এসেছে এবং এই তালিকায় নিজের নাম দেখাটা অবশ্যই আনন্দের।’
ফুটবল পণ্ডিতদের তৈরি করা ‘সেরা’র কৃত্রিম দাঁড়িপাল্লায় নিজের নাম মাপা হোক, তা কখনই চাননি গার্দিওলা। তাঁর কাছে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটের চেয়েও বরাবরই দামি ছিল মানুষের নিখাদ ভালোবাসা আর মাঠের ভেতরের আত্মিক মেলবন্ধন। আর তাই কে সেরা—সেই অন্তহীন বিতর্ককে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে গার্দিওলা যোগ করলেন—
‘আমার পাওয়া অন্যতম সেরা স্বীকৃতিগুলোর একটা ছিল দুদিন আগে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের পাঠানো একটা খুদে বার্তা। এছাড়া আজ কেভিন (ডি ব্রুইনা) আর মানু আকানজির কাছ থেকেও বার্তা পেয়েছি। এই ভালোবাসাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয় এবং ভাগ্যবান মনে করায়। কে সেরা—এইসব বিতর্ক আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ এবং এখানে নিজের কাজটা আনন্দের সাথে করেছি, নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছি, শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়েছি। আজ আমি মনে মনে এক অবিশ্বাস্য শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যে, এই ক্লাবের জন্য আমি আমার সবকিছু দিয়ে গেছি। গত ১০ বছরে আমরা এখানে যা করেছি, মানুষ তা প্রাণভরে উপভোগ করেছে; তবে এই পুরো যাত্রায় কিন্তু আরও অনেকেই জড়িয়ে ছিলেন।’
ফুটবল বিশ্ব যখন ইতিমধ্যেই গার্দিওলার পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে হাজারো গুঞ্জন আর সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত, স্প্যানিশ এই কোচ তখন নিজেই টেনে দিলেন সব জল্পনা-কল্পনার শেষ সীমারেখা। কোটি ভক্তের বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাসকে সঙ্গী করে,নিজের চিরবিদায়ের সুরটা বাঁধলেন এক অদ্ভুত মায়াবী নির্লিপ্ততায়। আপাতত পরের অধ্যায়টা ‘শুধুই বিশ্রাম’।
গার্দিওলা বলেন,
‘আপাতত শুধুই বিশ্রাম। নিকট ভবিষ্যতে ডাগআউটে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই; তেমন কিছু থাকলে তো আমি এখানেই থেকে যেতাম। আমার এখন একটু আড়ালে যাওয়া দরকার। বেশ কিছু দিন আমি কোনো দলের কোচের দায়িত্বে থাকছি না।’
সিটিজেনদের সঙ্গে কিছুটা সম্পর্ক অবশ্য রাখছেন গার্দিওলা। নিজেদের ইতিহাসের সেরা কোচকে ‘সিটি ফুটবল গ্রুপ’-এর গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর (বিশ্ব দূত) বানাচ্ছে তারা। তবে ইংলিশ ক্লাবটির দেওয়া ‘বিশ্ব দূত’ তকমাটি পেপ গার্দিওলার নামের পাশে তো বড্ড ছোট দেখায়; যিনি মাঠের খেলায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তিনি তো আসলে বিশ্ব ফুটবলেরই এক পরম দূত।
No posts available.
২২ মে ২০২৬, ৭:১০ পিএম
২২ মে ২০২৬, ৬:২৭ পিএম
২২ মে ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম

বাংলাদেশ ফুটবল দলের ডাগআউটে অবশেষে অবসান হলো দীর্ঘ অপেক্ষার। দুই বছরের চুক্তিতে আজ সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন লাল-সবুজের নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। ঢাকায় পা রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের নতুন কোচ হিসেবে সবার সামনে হাজির হলেন টমাস ডুলি।
আজ সকালে বাংলাদেশে এসে বিকেলেই তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে। বাফুফের নবনির্বাচিত সভাপতি তাবিথ আউয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে জামাল-হামজাদের নতুন এই কোচের পরিচয় করিয়ে দেন।
বাফুফের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে ঢাকায় থাকা নতুন মার্কিন কোচ টমাস ডুলি মঞ্চে দাঁড়িয়েই শোনালেন তাঁর পরিকল্পনার কথা। মাঠের কৌশল নিয়ে ডুলির চিন্তাভাবনা একেবারেই স্পষ্ট; বল তাড়া করার চেয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখাই তাঁর মূল মন্ত্র।
লাল-সবুজের ফুটবলারদের নান্দনিক ফুটবলের দীক্ষা দিতে চাওয়া টমাস ডুলির ভাষায়,
‘দলকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া যেখানে তারা সুন্দর ফুটবল খেলে সবার নজর কাড়বে। আমি নিজে ফুটবল খেলতেই ভালোবাসি, বলের পেছনে দৌড়াতে পছন্দ করি না। আমি আমার খেলোয়াড়দেরও এটাই বলি। বলের পেছনে শুধু শুধু দৌড়ানো মানে কোনো লাভ ছাড়াই শক্তি নষ্ট করা। বেশির ভাগ সময় আপনি বল কেড়ে নিতেও পারবেন না। আমি মাঠে বল পায়ে রেখে নান্দনিক ফুটবল খেলা পছন্দ করি। আর আমি খেলোয়াড়দের ভেতর সেই জেদটা তৈরি করতে চাই। এখানে উপস্থিত সব চ্যাম্পিয়নরা জানেন, এই পর্যায়ে আসতে তাদের কতটা কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।’
১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ডুলি নিজের লক্ষ্য নিয়ে স্পষ্ট করেই বলেন,
‘আমার লক্ষ্য হলো র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা।’
তবে বর্তমান বাস্তবতাও ভুলে যাননি এই মার্কিন কোচ। বাংলাদেশের ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে ১৮০–এর আশপাশে ঘোরাঘুরি করায়, রাতারাতি যে এই র্যাঙ্কিংয়ে বড় কোনো লাফ দেওয়া সম্ভব নয়, সেই বাস্তব সত্যটাও সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের সমর্থকদের ফুটবলীয় উন্মাদনা ও মাঠের বাইরের 'লাখ লাখ কোচের' চাপ সামলাতে নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত দাবি করেছেন টমাস ডুলি। জার্মানির ফুটবল সংস্কৃতির উদাহরণ টেনে বাফুফের এই নতুন কোচ গত দুই দশকের ট্রফি খরা কাটানোর তাগিদ দিয়ে বলেন,
‘বাংলাদেশে মাঠের বাইরে হয়তো প্রায় ১০ লাখ কোচ আছেন, তারা সবাই ফুটবলটা খুব ভালো বোঝেন... তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা গত ২৩ বছরে কি কোনো বড় ট্রফি জিতেছি? আমার মনে হয়, এবার সেই খরা কাটানোর সময় এসেছে।’

মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি অনন্য, তবে মাঠের বাইরে মানবিক রূপ যেন তাঁকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেল। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের রূপকথা সবারই জানা। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের পেছনে থাকা মানুষদের প্রতি লিওনেল মেসি যে উদারতা দেখিয়েছেন, তা এত দিন আড়ালেই ছিল। বিশ্বজয়ী এই অধিনায়ক তাঁর পাওয়া বোনাসের পুরো অর্থ ভাগ করে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন রেডিও লা রেডের ‘এমপি৯১০’ নামক একটি অনুষ্ঠানে এই তথ্য ফাঁস করেছেন দেশটির জাতীয় দলের সাবেক ফিটনেস কোচ জেরার্ডো সালোরিও। ইন্টার মায়ামির বর্তমান এই ফরোয়ার্ডের মহানুভবতার কথা উল্লেখ করে সালোরিও বলেন,
‘সে কমপ্লেক্সের প্রত্যেকের মাঝে এটি সমানভাবে ভাগ করে দিয়েছিল—পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রাঁধুনি থেকে শুরু করে প্রত্যেক সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে।’
পেছনের সারির এই কর্মীদের মেসি যে পরিমাণ অর্থ দিয়ে সম্মানিত করেছেন, তা সত্যিই আকাশচুম্বী। সালোরিও রেডিওতে আরও খোলাসা করে বলেন,
‘যদিও এটা দিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য যথেষ্ট টাকা নাও হয়ে থাকে, তবে এটি তার খুবই কাছাকাছি ছিল।’
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশে একটি মাঝারি মানের ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের গড় দাম প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার মার্কিন ডলার। এর থেকেই ধারণা করা যাচ্ছে, মাঠের পেছনের সেই মানুষগুলোর প্রতি মেসির অবদানের অঙ্কটা ঠিক কতটা বড় ছিল।
সালোরিও জানান, মেসি কিংবা আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের পক্ষ থেকে এজেইজা সেন্টারের কর্মীদের এভাবে পুরস্কৃত করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। তবে তিনি এর চেয়ে বেশি বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। মেসির প্রশংসা করে তিনি বলেন,
‘লিও আরও অনেক কিছুই করেছে... মানুষ শুধু সেগুলো সম্পর্কে জানে না।’
কাতারে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের পর বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আর্জেন্টিনাকে প্রায় ৪ কোটি ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার দিয়েছিল। পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন বা কনমেবল আরও ১ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করে।
কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবেন লিওনেল মেসি। এটি হতে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দল এবার পাবে রেকর্ড ৫ কোটি মার্কিন ডলার।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে আগামী জুনে টেক্সাসে হন্ডুরাস ও আলাবামায় আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের কোচিং স্টাফদের জন্য গুগল জেমিনির আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। গত বুধবার টাইমস স্কয়ারের বিশাল পর্দায় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত খেলোয়াড়দের চোট প্রতিরোধ এবং ম্যাচ বিশ্লেষণের কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কমার্শিয়াল ডিরেক্টর লিয়ান্দ্রো পিটারসেন বলেন,
‘এই প্রযুক্তি আমাদের খেলোয়াড়দের চোট প্রতিরোধ, ম্যাচের কৌশল বিশ্লেষণ এবং রিয়েল-টাইমে ম্যাচ চলাকালীন কোচিং স্টাফদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে।’
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক তিন সপ্তাহ আগে, নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের প্রাণকেন্দ্রে গত বুধবার গুগল জেমিনির সাথে এই অংশীদারিত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে এএফএ।
গুগলের সঙ্গে এই চুক্তির আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে পিটারসেন বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন,
‘এটি এএফএ-র ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি।’
পিটারসেন আরও যোগ করেন,
‘সমর্থকেরা জেমিনি এআই ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার সময় তাদের প্রিয় তারকা, গান এবং অন্যান্য কনটেন্ট যুক্ত করে দারুণ সব ছবি তৈরি করতে পারবেন। যারা সশরীরে বিশ্বকাপে থাকতে পারছেন না, তারা এর মাধ্যমে জাতীয় দল এবং লিওনেল মেসির মতো বৈশ্বিক তারকাদের একদম কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পাবেন।’
ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি, অ্যানথ্রোপিকের ক্লদ, এক্স-এর গ্রক এবং গুগলের জেমিনির মতো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লবের পর, ছেলেদের ফুটবলে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ।
গুগলের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর ফ্লোর সাবাতিনি বলেন,
‘আমরা অতীতে যত বিশ্বকাপ দেখেছি, এবারের আসরটি তা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে যাচ্ছে। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি এবার সরাসরি সমর্থক, খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের হাতের মুঠোয় থাকবে... এটি সবকিছু বদলে দেবে।’
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দলগুলোর পাশাপাশি অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আলবিসেলেস্তেরা ২০২২ কাতারে বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যেই মিশন শুরু করবে।

এক দশকের সেই চেনা ডাগআউট, সেই চিরপরিচিত ইতিহাদ স্টেডিয়াম—সবকিছুকে পেছনে ফেলে এবার বিদায়ের সুর। ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে ১০টি বছর যিনি শুধু ট্যাকটিকসের ছক আঁকেননি, ফুটবলকে রূপ দিয়েছেন এক জীবন্ত শিল্পে, সেই পেপ গার্দিওলা যুগের অবসান ঘটছে। সিটিজেনদের হয়ে ডাগআউটে কখনও মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়া, কখনও বা সাফল্যের আনন্দে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠার সেই চেনা পাগলামিগুলো আর দেখা যাবে না।
চলতি মৌসুমের শেষ ম্যাচের পর ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ছেন পেপ গার্দিওলা। আজ আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে কিংবদন্তি এই কোচের বিদায় নিশ্চিত করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। আগামী রোববার সিটির ডাগআউটে শেষবারের মতো দাঁড়াবেন তিনি।
ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ স্তরে ১০ মৌসুমের দায়িত্বে সিটিকে ১৭টি বড় ট্রফি জিতিয়েছেন গার্দিওলা, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাও। ৫৫ বছর বয়সী এই কোচের শেষ ম্যাচটি হবে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে, অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে।
নিজের বিদায় প্রসঙ্গে গার্দিওলা বলেন,
‘আমি কেন চলে যাচ্ছি, সেই কারণ দয়া করে আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই, তবে মনের ভেতর থেকে আমি জানি যে এটাই চলে যাওয়ার সঠিক সময়।’
স্প্যানিশ এই কোচ আরও যোগ করেন,
‘কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়; যদি হতো, তবে আমি এখানেই থেকে যেতাম। তবে ম্যানচেস্টার সিটির জন্য আমার যে অনুভূতি, এখানকার মানুষ, স্মৃতি আর ভালোবাসা—সেগুলো চিরকাল টিকে থাকবে।’
৫৫ বছর বয়সী গার্দিওলার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছেন চেলসির সাবেক ম্যানেজার এনজো মারেস্কা, এর আগে সিটিতে গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন যিনি।
আর্সেনালের কাছে ২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা হারানোর ঠিক তিন দিন পরই গার্দিওলার ক্লাব ছাড়ার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলো। গত মঙ্গলবার বোর্নমাউথের বিপক্ষে সিটি ড্র করায় দীর্ঘ ২২ বছর পর লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে গানার্সরা।
ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০১৬-১৭ মৌসুমের শুরুতে সিটির দায়িত্ব নিতে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার তিন বছরের চুক্তি সই করেছিলেন গার্দিওলা। সিটির হয়ে তাঁর প্রথম মৌসুমটি কেটেছিল কোনো ট্রফি ছাড়াই—যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারেরই প্রথম কোনো ট্রফিশূন্য বছর।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে এক মৌসুমে ১০০ পয়েন্ট পাওয়ার কীর্তি গড়েছিল গার্দিওলার সিটি। ২০১৭-১৮ মৌসুমের সেই রেকর্ড যাত্রায় এক আসরে সর্বোচ্চ ১০৬টি গোল করার রেকর্ডও নিজেদের করে নেয় তারা। ২০২২-২৩ মৌসুমে ১৯৯৮-৯৯ সালের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ‘ট্রেবল’ জয়ের অনন্য ইতিহাস গড়ে সিটি; একই মৌসুমে ঘরে তোলে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি। এরপর ২০২৩-২৪ মৌসুমে লিগ শিরোপা জিতে প্রথম ইংলিশ ক্লাব হিসেবে টানা চারবার প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড গড়ে গার্দিওলার সিটি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়েছিলেন, যার মেয়াদ ছিল ২০২৬-২৭ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, ক্লাবের ওপর গার্দিওলার এক ‘যুগান্তকারী প্রভাব’ রয়েছে এবং ম্যানেজারের পদ থেকে বিদায় নিলেও তিনি গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর (বৈশ্বিক দূত) হিসেবে ‘সিটি ফুটবল গ্রুপ’-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় রাখবেন।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রধান কোচ হিসেবে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাইকেল ক্যারিক। ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর আগামী দুই বছরের জন্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী এই ইংলিশ কোচ ২০২৮ সাল পর্যন্ত রেড ডেভিলদের ডাগআউটে থাকবেন। পাশাপাশি চুক্তিতে আরও এক মৌসুমের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ বা বিকল্প ধারা রাখা হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রুবেন আমোরিম বরখাস্ত হওয়ার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ক্যারিক। তাঁর অধীনে ক্লাবটি দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং আগামী মৌসুমের জন্য ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা নিশ্চিত করে। মূলত এই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবেই তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখল ক্লাব প্রশাসন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১৬টি ম্যাচের মধ্যে ১১টিতে জিতেছে। তাঁর জাদুকরী ছোঁয়ায় ক্লাবের ভাগ্যের চাকেই যেন ঘুরে যায়, যা সমর্থকদের মাঝে আবার নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
জানা গেছে, ক্যারিক এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা বেশ সহজ ও মসৃণভাবেই এগোচ্ছিল। তবে কারিকের সহকারী কোচ ও পর্দার পেছনের কর্মকর্তাদের চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলার কারণে ঘোষণা আসতে কিছুটা দেরি হয়। বর্তমানে সহকারী কোচ স্টিভ হলান্ড ও জোনাথন উডগেটকে ক্যারিকের কোচিং প্যানেলে স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কাজ চূড়ান্ত করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।