
২০২৫-২৬ ফুটবল মৌসুমের পর্দা নামতে আর খুব বেশি দেরি নেই। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের শিরোপা নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার পথে, ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের দিকে। মৌসুমের শেষ অংশে এসে আলোচনায় ফুটবলারদের জন্য সবচেয়ে মর্যাদার পুরষ্কার ব্যালন ডি’অর। ক্লাব ফুটবলের অর্জনের পাশপাশি বিশ্বকাপের বছরে ব্যালন ডি’অরের লড়াই পাবে নতুন মাত্রা পায়।
মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে ব্যালন ডি’অরের এই নতুন মোড় মূলত বড় ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সের ফল। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল এবং কোয়ার্টার ফাইনালের পারফরম্যান্স অনেক ফেভারিটকে তালিকার নিচে ঠেলে দিয়েছে, আবার কাউকে এক লাফে নিয়ে এসেছে প্রথম তিনে। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে, তবে ক্লাব ফুটবলের এই শেষ মুহূর্তের দৌড় সেই ভিত্তিটা তৈরি করে দিচ্ছে। এখন কেবল অপেক্ষা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল আর বিশ্বকাপের ময়দানে কার পায়ের জাদু শেষ পর্যন্ত সোনালি বলের ঠিকানা নির্ধারণ করে দেয়।
গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন ও পিএসজির সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ বদলে দিয়েছে অনেক সমীকরণ। এই ম্যাচের পারফরম্যান্সের প্রভাবে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে থাকা দুই দলের একাধিক তারকার অবস্থানে বড় ওলটপালট হয়েছে—কেউ এগিয়ে গেছেন, আবার কেউবা অনেকটা পেছনে পড়ে গেছেন।
ওসমান দেম্বেলে
চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে যখনই দলের প্রয়োজন হয়েছে, তখনই জ্বলে উঠেছেন দেম্বেলে। কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলার পর সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। যদিও গত মৌসুমের তুলনায় এবার তার সামগ্রিক পরিসংখ্যান খুব বেশি চোখধাঁধানো নয়, তবে ম্যাচের গুরুত্ব এবং গোল করার মোক্ষম সময়—এসবই তাকে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে।
এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে পিএসজির হয়ে গোল এবং অ্যাসিস্টের হিসেবে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাকেও ছাড়িয়ে গেছেন দেম্বেলে। মৌসুমে এখন পর্যন্ত সাবেক বার্সেলোনা উইঙ্গারের ৪০ ম্যাচে ২১ গোলের সঙ্গে করেছেন ১১ অ্যাসিস্ট। এরমধ্যে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্যের প্রতিযোগিতায় তাঁর গোল ৭টি।
সামনেই বিশ্বকাপ, যেখানে ফ্রান্স অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। বিশ্বসেরার মঞ্চে যদি দেম্বেলে তাঁর ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হবে তাঁর সামনে।
হ্যারি কেইন
চ্যাম্পিয়নস লিগ পিএসজির কাছে হেরে বায়ার্নের যাত্রা শেষ চারে থামলেও, হ্যারি কেনের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান এখনও অবিশ্বাস্য। ইংলিশ এই অধিনায়ক আবারও নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন।
কেবল ঘরোয়া লিগেই নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগেও তিনি সমান উজ্জ্বল ছিলেন। এই আসরে বায়ার্নের ইংলিশ ফরোয়ার্ড ১৩টি গোল করেছেন, যার মধ্যে ছিল সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে পিএসজির বিপক্ষে বায়ার্নের সমতাসূচক গোলটিও। এই মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মোট ৬০টি গোল করে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর একটি অনন্য মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন কেইন। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তিনি ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এখনো শক্ত অবস্থানে আছেন।
তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বায়ার্নের বিদায় কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে; কারণ সাধারণত বড় আসরে ট্রফি জেতা বা বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করা খেলোয়াড়রাই এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান। এমতাবস্থায়, কেইনের হাতে সোনালি বল উঠবে কি না, তা নির্ধারণে ইংল্যান্ডের হয়ে তাঁর বিশ্বকাপ অভিযান এখন সবচেয়ে বড় নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়াবে।
মাইকেল ওলিসে
মাইকেল অলিসে ইউরোপে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা একটি ব্যক্তিগত মৌসুম কাটিয়েছেন। বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরাসি ফরোয়ার্ড পুরো মৌসুম জুড়েই ছিলেন দুর্দান্ত; গোল করা এবং করানো—উভয় ক্ষেত্রেই দেখিয়েছেন অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে ছাড়া কিংবা শূন্য থেকে সুযোগ তৈরি করা—সব মিলিয়ে অলিসে এখন বুন্দেসলিগার অন্যতম সেরা ফুটবলার।
বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ওলিসের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো; দুই লেগেই রিয়ালের রক্ষণভাগকে রীতিমতো তটস্থ করে রেখেছিলেন। ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টাল প্যালেসের সাবেক এই উইঙ্গার ৪৯ ম্যাচে ২১টি গোল এবং ৩০টি অ্যাসিস্টসহ মোট ৫১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। বায়ার্নের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার আশা শেষ হলেও, আসন্ন বিশ্বকাপে ফ্রান্স ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে, আর সেখানে অলিসে যদি ছন্দ ধরে রেখে জাতীয় দলের হয়ে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারেন, তবে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ব্যালন ডি’অর নিজের করে নেওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন ফরাসি উইঙ্গার।
লামিনে ইয়ামাল
লামিন ইয়ামালের উল্কার বেগে উত্থান ফুটবল বিশ্বকে এখনও প্রতিনিয়ত অবাক করে। বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার আরও একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। গত মৌসুমে ইউরোপের মঞ্চে জাদুকরী পারফরম্যান্সে ব্যালন ডি’অরের তালিকায় ছিলেন দুই নম্বরে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সার হয়ে ইয়ামালের দুটি শিরোপা জেতা প্রায় নিশ্চিতই। স্প্যানিশ সুপার কাপের সঙ্গে লা লিগা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আছে তাঁর ক্লাব। মৌসুমের শেষ অংশে চোটে পড়লেও দলের সাফল্যে দারুণ ভূমিকা রাখা ইয়ামাল সব প্রতিযোগিতায় মিলিয়ে ক্লাবের হয়ে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হয়েই অংশগ্রহণ করবে স্পেন। আর স্পেনের হয়ে যদি ইয়ামাল তাঁর পায়ের জাদু দেখাতে পারেন, তাহলে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে পারেন তিনি।
ডেকলান রাইস
আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর থেকে ডেকলান রাইস নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। মাঠের উভয় প্রান্তেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ আর অফুরন্ত প্রাণশক্তি দিয়ে তিনি এখন মিকেল আরতেতার দলের হৃদস্পন্দনে পরিণত হয়েছেন।
আর্সেনালের চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রায় রাইস ধারাবাহিকভাবে অসামান্য সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে তাঁর অটুট মানসিকতা এবং রক্ষণাত্মক দূরদর্শিতা সবার নজর কেড়েছে। ক্লাব ফুটবলের বাইরেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
আর্সেনাল যদি প্রিমিয়ার লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ—এর যেকোনো একটি কিংবা দুটি শিরোপাই জিততে পারে এবং থ্রি লায়ন্সরা (ইংল্যান্ড) বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে পারে, তবে ব্যালন ডি’অরের র্যাঙ্কিংয়ে রাইসের অবস্থান আরও উঁচুতে উঠে আসা কেবল সময়ের ব্যাপারই হবে।
অবশ্য লড়াইয়ের এখানেই শেষ নয়। লুইস দিয়াজ, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিতিনিয়া কিংবা ভিনিসিউস জুনিয়ররা এখনও সমানে সমান টেক্কা দিচ্ছেন। বিশেষ করে সামনে যখন বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ প্রস্তুত—যারা নিজের দেশের হয়ে নায়ক হতে পারবেন, ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শেষ হাসিটা সম্ভবত তারাই হাসবেন। এমনকি পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনার জার্সিতে যদি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বা লিওনেল মেসি জাদুকরী কোনো বিশ্বকাপ কাটাতে পারেন, তবে বর্ষসেরার এই দৌড়ে তারাও ফিরে আসতে পারেন প্রবলভাবে।
আপাতত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি-র টিকিট নিশ্চিত হওয়াতে পাল্লাটা উসমানে দেম্বেলের দিকেই বেশি হেলে আছে। তবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলো এখনও বাকি। তাই সোনালি বলের চূড়ান্ত মালিক কে হচ্ছেন, তা দেখার আগে ব্যালন ডি’অরের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আরও অনেক নাটকীয় মোড় যে অপেক্ষা করছে, তা বলাই বাহুল্য।
No posts available.
৭ মে ২০২৬, ১০:১৯ এম
৬ মে ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

মৌসুমের শেষভাগে এসে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কেই বেশি খবরের শিরোনামে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার খবর, অনুশীলনের সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন দুই মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং অরেলিয়ান চুয়ামেনি।
ঘটনার শুরু ভ্যালদেবেবাসে ক্লাবটির অনুশীলন সেশনে। সাধারণ একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে তর্কে জড়ান ভালভার্দে ও চুয়ামেনি। অনুশীলনের সময় পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটে যে তারা একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। বিষয়টি লকার রুম পর্যন্ত গড়ায়। সতীর্থরা তাদের সরিয়ে নিলেও দলের ভেতরের বিষাক্ত পরিবেশ এখন ওপেন সিক্রেট।
সম্প্রতি অনুশীলনের সময় আন্তোনিও রুডিগার ও আলভারো কারেরাসসের হাতাহাতির খবর চাউর হয়। গুঞ্জন উঠেছিল, রুডিগার কারেরাসকে থাপ্পড় মেরেছেন। জার্মানির এই তারকার নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও মঙ্গলবার কারেরাস স্বীকার করেছেন, এক সতীর্থের সঙ্গে ঝামেলার ঘটনা ঘটেছিল।
দলের অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে কিলিয়ান এমবাপের আচরণ। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এমবাপে বর্তমানে অসন্তুষ্ট এবং খিটখিটে মেজাজে আছেন। জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করার ঘটনায় তিনি এখনও ক্ষুব্ধ।
এমবাপের আচরণে নাকি তাঁর সতীর্থরা খুশি নন। এই সপ্তাহের শুরুতে তাঁর নেওয়া বিরতি নিয়ে দলের ভেতর অসন্তোষ রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, অনেক খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছেন।
দলের এই অস্থিরতার মধ্যেই রোববার এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল। এই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পেলেই লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করবে কাতালানরা।
.jpeg)
২০২৫ সালের এপ্রিলের পর থেকে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকা কোনো ম্যাচে হারেনি প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগেও সেই ধারার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। এর মাধ্যমে বিরতিতে এগিয়ে থাকা ম্যাচে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডটিকে ৩৮ ম্যাচে উন্নীত করল লুইস এনরিকের দল।
লিগের প্রথম সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। এই জয়ে ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে মিকেল আরতেতার দল। ফলে আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পুসকাস স্টেডিয়ামে পিএসজির বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি গানারররা।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে এদিন পিএসজি ও বায়ার্নের দুই গোলকিপার সেভ করেছেন মোট ৯টি নিশ্চিত থাকা গোল। দুই গোলকিপার একটি করে গোল কনসিভ করেছে ঠিকই, তবে ম্যাচজুড়ে আক্রমণের পসরা বিপরীতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তারা। ম্যাচে ১৮টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখে বাভারিয়ানরা। ১৫টি শটের ৭টি লক্ষ্যে রাখে পিএসজি। ম্যানুয়েল নয়্যার ও সাফোনভ বীরত্ব দেখালেও ফার্স্ট লেগের ফলে ফাইনালে পৌঁছেছে পিএসজি।
বাংলাদশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের তৃতীয় মিনিট পিএসজিকে লিড উপহার দেন উসমান দেম্বেলে। মাইকেল ওলিসের আক্রমণ পরাস্ত করে পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ফাবিয়ান রুইজ ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার মধ্যে ওয়ান-টু পাসের পর বল চলে যায় কাভারাস্কেইয়ার পায়ে। জর্জিয়া লেফট-ব্যাক বাঁ প্রান্ত দিয়ে বাইলাইন পর্যন্ত পৌঁছান এবং ডি-বক্সে নিচু ক্রস করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দৌড়ে এসে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের পর থেকে কাভারাস্কেইয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলে সরাসরি অবদান রাখা খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। ১৩টি গোল এবং আটটি অ্যাসিস্টসহ মোট ২১টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। যা হ্যারি কেইনের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আর চ্যাম্পিয়ন লিগে অষ্টম গোলের দেখা পেলেন দেম্বেলে।
২৭তম মিনিটে ওলিসের বাম পায়ের দৃষ্টিনন্দন শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। মিডফিল্ড থেকে কেইনের ক্রস রিসিভ করেন ওলিসে। তারপর ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে থাকা নুনেসকে ড্রিবলিং করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন বায়ার্ন উইঙ্গার। এরপর নেন বুলেট গতির শট। তার কার্ল শট ব্রেক করে চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।
তার ঠিক দুই মিনিট পর হ্যান্ডবল বিতর্ক তৈরি হয়। লাইমারের ফ্লিক থেকে আসা বলটি পিএসজির লেফট-ব্যাক মেন্দেসের হাতে স্পষ্টভাবে আঘাত করে। তবে রেফারি তাকে পেনাল্টি দেওয়া কিংবা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পরিবর্তে উল্টো লাইমারের বিরুদ্ধেই ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে ফ্রি-কিক দিয়েছেন! এতে ক্ষিপ্ত হতে দেখা যায় ভিনসেন্ট কোম্পানিকে।
হ্যান্ডবল বিতর্কের রেষ না কাটতেই ৩১তম মিনিটে একটি ঘটনা ঘটে। লুইস দিয়াস মার্কিনিয়োস থেকে বল বাগিয়ে ডি-বক্সে পাস দেওয়ার চেষ্টা করলে বলটি ডিফ্লেক্টেড হয়। এরপর পাভলোভিচ জাইরে-এমেরিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন। স্তানিসিচের পাঠানো ক্রসটি গোলমুখে অগোছালোভাবে ক্লিয়ার করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। কিন্তু এরপর ভিতিনিয়ার ক্লিয়ারেন্সটি জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে বলে মনে হয়। এই ঘটনায় বায়ার্নের খেলোয়াড় ও কোচ পেনাল্টির দাবিতে চিৎকার করতে থাকেন।
৪২তম মিনিটে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান বানিয়ে নেন মুসিয়ালা এবং ভিতিনিয়াকে পরাস্ত করে ডি-বক্সের মাঝখানে একটি নিচু কাটব্যাক করেন। কিন্তু সাফোনভ মাটিতে ঝাঁপিয়ে বল পাঞ্চ করেন এবং ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন রুইজ।
বিরতির পর খেলা শুরু না হতেই হ্যারি কেইনের বুটের আঘাতে পাচো মাথায় আঘাত পান এবং মাটিতেই লুটিয়ে পড়েন পিএসজি সেন্টার-ব্যাক। কিছুক্ষণ সময়ক্ষেপন করে তাঁকে মাঠেই চিকিৎসা দিতে হয়।
৬২তম মিনেট সাফোনভ পিএসজিকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান। ডি-বক্সের ভেতর দারুণভাবে ঘুরে বলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন পাভলোভিচ। এরপর কিমিখের কাছ থেকে বলটি ফেরত নিয়ে তিনি আড়াআড়ি পাস দেন। ২২ গজ দূর থেকে প্রথম সুযোগেই শট নেন স্তানিসিচ। কিন্তু বায়ার্ন রাইট-ব্যাকের নেওয়া সেই নিচু ও সাইড-ফুটেড শটটি সরাসরি গিয়ে জমা হয় গোলরক্ষক সাফোনভের হাতে।
ম্যাচের সময় যত পুরোনো হতে থাকে ততই গোলনেশায় বুঁদ হয়ে পড়ে বায়ার্ন। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে কোম্পানির শিষ্যরা। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয় অল্প সময়ের ব্যবধানে। বিশেষ করে ৬৭-৬৯ মিনিটের মধ্যে গোলের উদ্দেশ্যে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।
বিশেষ করে ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই মুসিলার সাথে ওয়ান-টু পাস খেলে পিএসজির ডান দিকের ডিফেন্সের পেছনে ঢুকে পড়েন ডেভিস। এরপর কানাডিয়ান এই খেলোয়াড় মাঝমাঠের দিকে বল কাটব্যাক করেন লুইস দিয়াসের উদ্দেশ্যে। দিয়াসের প্রথম টাচ এবং শটটি একদম লক্ষ্যে ছিল, কিন্তু পিএসজি গোলকিপার অসাধারণ এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন!
৯১তম মিনেট আরও একবার কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে বল বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। এরপর কাভারাস্কেইয়া মাঝমাঠে বলের দখল নেন এবং উপামেকানোর পাসটি আটকে মেন্দেসকে বাড়ান। কিন্তু মেন্দেসের দূরপাল্লার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাঁ পায়ের জাদু দেখান হ্যারি কেইন। আসরের সর্বোচ্চ এই স্কোরার যেন সব ধরণের নাটকীয়তা জমিয়ে দেন। তবে ফার্স্ট লেগের ফলে শেষটা সুন্দর হয়নি জার্মানি জায়ান্টদের।
.jpeg)
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে দর্শকেরা তখনও আয়েশ করে বসেননি! বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগের বাঁশি বাজার মিনিট তিনেক পেরিয়েছে কি পেরোয়নি, তখনই স্তব্ধতা ভেঙে এগিয়ে যায় পিএসজি! দুদল বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই স্কোর ধরে রাখে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে পিএসজির মোট ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৬-৪।
ম্যাচ ঘড়ির তৃতীয় মিনিট মাইকেল ওলিসের একটি আক্রমণ ভেস্তে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে পিএসজি। ফাবিয়ান রুইজ ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার মধ্যে ওয়ান-টু পাসের পর বল চলে যায় কাভারাস্কেইয়ার পায়ে। জর্জিয়া লেফট-ব্যাক বাঁ প্রান্ত দিয়ে বাইলাইন পর্যন্ত পৌঁছান এবং ডি-বক্সে নিচু ক্রস করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দৌড়ে এসে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান উসমান দেম্বেলে।
ফরাসি ফরোয়ার্ডের চমৎকার ফিনিশিংয়ে প্রথমার্ধে পিএসজি ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এ গোলের সুবাদে দুই লেগ মিলিয়ে লুইস এনরিকের দলের মোট ব্যবধান দাঁড়ায়েছে ৬-৪।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের পর থেকে কাভারাস্কেইয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলে সরাসরি অবদান রাখা খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। ১৩টি গোল এবং আটটি অ্যাসিস্টসহ মোট ২১টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। যা হ্যারি কেইনের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আর চ্যাম্পিয়ন লিগে অষ্টম গোলের দেখা পেলেন দেম্বেলে।
২৭তম মিনিটে ওলিসের বাম পায়ের দৃষ্টিনন্দন শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। মিডফিল্ড থেকে হ্যারি কেইনের ক্রস রিসিভ করেন ওলিসে। তারপর ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে থাকা নুনেসকে ড্রিবলিং করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন বায়ার্ন উইঙ্গার। এরপর নেন বুলেট গতির শট। তার কার্ল শট ব্রেক করে চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।
তার ঠিক দুই মিনিট পর হ্যান্ডবল বিতর্ক তৈরি হয়। লাইমারের ফ্লিক থেকে আসা বলটি পিএসজির লেফট-ব্যাক মেন্দেসের হাতে স্পষ্টভাবে আঘাত করে। তবে রেফারি তাকে পেনাল্টি দেওয়া কিংবা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পরিবর্তে উল্টো লাইমারের বিরুদ্ধেই ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে ফ্রি-কিক দিয়েছেন! এতে ক্ষিপ্ত হতে দেকা যায় ভিনসেন্ট কোম্পানিকে।
হ্যান্ডবল বিতর্কের রেষ না কাটতেই ৩১তম মিনিটে একটি ঘটনা ঘটে। লুইস দিয়াস মার্কিনিওস থেকে বল বাগিয়ে ডি-বক্সে পাস দেওয়ার চেষ্টা করলে বলটি ডিফ্লেক্টেড হয়। এরপর পাভলোভিচ জাইরে-এমেরিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন। স্তানিসিচের পাঠানো ক্রসটি গোলমুখে অগোছালোভাবে ক্লিয়ার করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। কিন্তু এরপর ভিতিনিয়ার ক্লিয়ারেন্সটি জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে বলে মনে হয়। এই ঘটনায় বায়ার্নের খেলোয়াড় ও কোচ পেনাল্টির দাবিতে চিৎকার করতে থাকেন।
৪২তম মিনিটে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান বানিয়ে নেন মুসিয়ালা এবং ভিতিনিয়াকে পরাস্ত করে ডি-বক্সের মাঝখানে একটি নিচু কাটব্যাক করেন। কিন্তু সাফোনভ মাটিতে ঝাঁপিয়ে বল পাঞ্চ করেন এবং ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন রুইজ।
২০২৫ সালের এপ্রিলে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে সবশেষ বিরতিতে এগিয়ে থাকা কোনো ম্যাচে হেরেছিল পিএসজি। ওই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে হেরেছিল ফরাসি জায়ান্টরা। তবে এরপর থেকে এ ধরনের ৩৭টি ম্যাচের কোনোটিতেই তারা হারেনি। অর্থাৎ ৩৭টি ম্যাচেই অপরাজিত রয়েছে।

টানা দ্বিতীয় মৌসুমে বাজে সময় পার করা রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। শেষ হতে চলা ২০২৫-২৬ লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে ১১ পয়েন্টে পিছিয়ে আলভারো আরবেলোয়ার দল। আর ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হয়েছে তাদের স্বপ্নভঙ্গ।
বেহাল অবস্থা থেকে উত্তরণে এখন থেকে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রিয়াল ম্যানেজমেন্ট। ইতালীয় ক্রীড়া দৈনিক গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত-এর তথ্য অনুযায়ী, জুভেন্টাসের তুর্কী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কেনান ইলদিজকের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।
ইলদিজ ২০২৫-২৬ সিরি’আ মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে ১০ গোলের বিপরীতে ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ৩১ ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে রেখেছে জুভেন্টাস। তাতেই ২১ বর্ষী তরুণের প্রতি পূর্ণ নজর রিয়ালের।
যদিও ইলদিজ বারবার জুভেন্টাসের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা বলে আসছেন। তিনি বলেছেন, বায়ার্ন মিউনিখের অনূর্ধ্ব-১৯ দল ছেড়ে তুরিনের ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তা সত্ত্বেও, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাদ্রিদের একটি প্রস্তাব শীঘ্রই সেই আনুগত্যের পরীক্ষা নিতে পারে।
সিরি’আতে ইন্টার মিলান এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে এবং তুরিনের দলটি বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে—তাদের ম্যাচ আছে আরও তিনটি। পঞ্চমে থাকা রোমার চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে জুভেন্টাস। আর তিনে থাকা এসি মিলান থেকে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। শেষ দিকে নাটকীয়তা না হলে ঠিকই জুভেন্টাস চ্যাম্পিয়নস লিগে যাচ্ছে। তাতে ইলদিজকে নতুন করে ভাবতে নাও হতে পারে।
রেজেনসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ইলদিজ বায়ার্নের বয়সভিত্তিক দলে দশ বছর কাটিয়েছেন। কিন্তু চুক্তি নবায়নের বিষয়ে একমত হতে না পেরে ১৭ বছর বয়সে জুভেন্টাসে পাড়ি জমান। ইতালির ক্লাবে দ্রুতই মূল দলে নিজের জায়গা পাকা করে নেন। তাঁর বর্তমান বাজারমূল্য এখন ৭৫ মিলিয়ন ইউরো। এখন দেখার বিষয়, হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আর্দা গুলেরের পর এই তুর্কী মিডফিল্ডারের প্রতি কতটা আস্থা রাখে রিয়াল মাদ্রিদ।

কিছু জিনিসের কোনো আর্থিক মূল্য হয় না; লিওনেল মেসি তেমনই একজন ধ্রুবতারা। আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তিকে কি শুধু টাকার অঙ্কে মাপা যায়? বার্সেলোনার সবুজ গালিচায় ‘এলএম টেন’ যখন বাঁ পায়ের জাদু দেখাতেন, পুরো স্টেডিয়ামের নিশ্বাস যেন থমকে যেত। ফুটবলের অমূল্য এই ‘রত্ন’ পুরো ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো ক্লাবে 'বিক্রি' হননি। সেই জাদুকরকে ছিনিয়ে নিতে একবার নাকি অঢেল অর্থ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক রহস্যময় ক্লাব।
৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা—হ্যাঁ, এই অংকটিই খরচ করতে চেয়েছিল এক রহস্যময় ক্লাব লিওনেল মেসিকে দলে ভেড়াতে। নেইমারের বিদায়ের পর বার্সেলোনা যখন দিশেহারা, তখন টাকার বস্তা নিয়ে কোনো এক ক্লাব মেসির জন্য এই অবিশ্বাস্য জাল বিছিয়েছিল। সাবেক বার্সা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে সেই অবিশ্বাস্য দিনগুলোর কথা। কে ছিল সেই রহস্যময় ক্লাব যারা রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়ে মেসিকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল?
'কাদেনা সার'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোমেউ তার সভাপতিত্বের সবচেয়ে উত্তাল সময়গুলোর একটি নিয়ে মুখ খুলেছেন। ২০১৭ সালে নেইমারের প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) চলে যাওয়ার সেই আকস্মিক ধাক্কার পর, ক্লাবটি বেশ সতর্ক ছিল যে তাদের আরেকজন সুপারস্টারকেও হয়তো ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে। ন্যু ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কীভাবে মেসিকে স্পেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি বিশাল আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বার্তোমেউ।
কীভাবে এই গুঞ্জন প্রথম ছড়িয়েছিল তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘নেইমারের প্রস্থানের কয়েক সপ্তাহ পরেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, একটি ক্লাব মেসির জন্য ৪০ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি) প্রস্তুত করছে—যা ছিল মেসির রিলিজ ক্লজের সমান অঙ্ক।’ এই পরিমাণ অর্থ নেইমারের জন্য দেওয়া রেকর্ড ২২ কোটি ইউরোর প্রায় দ্বিগুণ ছিল, যা বাস্তবে রূপ নিলে ইউরোপীয় ফুটবলের পুরো দৃশ্যপটই আমূল বদলে যেত।
পেপ গার্দিওলার উপস্থিতির কারণে সেই সময় মেসির সঙ্গে বারবার ম্যানচেস্টার সিটির নাম জড়িয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও, বার্তোমেউ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এই নির্দিষ্ট ঘটনার পেছনে ইংলিশ জায়ান্টদের হাত ছিল না। বরং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বিশাল অর্থের জোগান আসছিল কোনো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের উৎস থেকে, যা এই রহস্যময় ক্লাবের পরিচয় নিয়ে কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বার্তোমেউ দাবি করেন, ‘একটি আরব দেশ থেকে বড় অংকের তহবিল ইউরোপের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।’ যখন তাকে এই দুঃসাহসী তহবিলের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না করে বলেন, ‘এখন আর সেসবের গুরুত্ব নেই... ওটা অনেক পুরনো খবর; বহু বছর আগের কথা। ইংল্যান্ডে খুব কম ক্লাব আছে, কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত এমন ক্লাব খুব বেশি নেই, যারা এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা রাখে।’
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা মেসিকে হারানোর এই হুমকি বার্সেলোনাকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছিল। বার্তোমেউ সেই সময়ের অভ্যন্তরীণ আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন কীভাবে মেসিকে কাতালুনিয়ায় ধরে রাখতে তারা তাঁর চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিলেন। এর ফলে যে চুক্তিটি হয়েছিল, তা ছিল ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল চুক্তি; যা প্রতিদ্বন্দ্বী যেকোনো ক্লাবের জন্য টক্কর দেওয়া প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল।
বার্তোমেউ ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা যা করেছিলাম তা হলো—লিওনেল মেসি এবং তাঁর বাবার সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের রিলিজ ক্লজ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সেই সময় ক্লজটি ছিল ৪০ কোটি ইউরো যা আমরা বাড়িয়ে ৭০ কোটিতে নিয়ে যাই—এটি ছিল একটি বিশাল অংক। আর যদি আপনি রিলিজ ক্লজ বাড়ান, তবে খেলোয়াড়ের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়িয়ে দিতে হবে।’ এই পদক্ষেপটি কার্যত অন্য ক্লাবগুলোর মেসিকে পাওয়ার দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত এটিই বার্সার ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ তৈরি করেছিল—যার ফলে শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত ক্লাব থেকে ২০২১ সালে বিদায় নিতে হয় ইন্টার মায়ামি তারকাকে।