
প্রিমিয়ার লিগে আবার কিসের ফাইনাল? ২০ দলের ৩৮টি করে ম্যাচ। যে দল টেবিলের শীর্ষে থাকবে, তাদের শোকেসে উঠবে ট্রফি। তবে এমন কিছু ম্যাচ এবং তথা বাঁক থাকে, যা ফাইনালতুল্য । ২০২৫-২৬ মৌসুমে আর্সেনাল-ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচটি অনেকটা তেমনই। ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচটি ২-১ গোলের ব্যবধানে জয়ে রাঙিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। তাতে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে সিটিজেনদের পয়েন্ট ব্যবধানে কমে দাঁড়াল কেবল তিন।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টার হাই ভোল্টেজ ম্যাচের আগে ২২ কঠিন এক সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যানসিটি। হারের কোনো অপশনই ছিল, না জিতলে আর্সেনাল থেকে পয়েন্ট ব্যবধানে দুরত্ব আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হতো। এমন এক নির্দয় লক্ষ্যের ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছেন রায়ান চেরকি ও আর্লিং হলান্ডরা।
প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট এখন ৭০। ৩৩ ম্যাচ অর্থাৎ একটি কম খেলা সিটিজেনদের ৬৭। তিনে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৫৮ পয়েন্ট। রাতের অন্য ম্যাচে এভারটনের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের গোলে লিভারপুল পোক্ত করেছে পঞ্চম স্থান। কাজের কাজ করেছে অ্যাস্টন ভিলা। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় এক জয়ে ম্যান ইউনাইটেডের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ভিলা পার্কের ক্লাব।
ইতিহাদে ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন রায়ান চেরকি। মিডফিল্ড থেকে ম্যাথিয়াস নুনেসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে জাদুকরে পরিণত হন ফরাসি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তার সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রতিপক্ষের তিন-তিনজন ডিফেন্ডার। চোখের পলকে শরীরের নিখুঁত মোচড়ে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গোলের উদ্দেশ্যে ছুটে যান তিনি।
বক্সের ভেতরে ঢুকেই নিলেন এক মাপা শট—বলটি নিখুঁত নিশানায় আছড়ে পড়ে গোলপোস্টের নিচের বাঁ- কোণে। গোলরক্ষক ডেভিড রায়া ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগাল পাননি বল। আসলে কিছুই করার ছিল না তার। এই অবিশ্বাস্য গোলের সৌজন্যে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালকে ১-০ গোলে পেছনে ফেলে লিড নেয় ম্যানসিটি!
সুখ বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি সিটি শিবিরে। লিড নেওয়ার মিনিটে দুয়েক পর সব আলো কেড়ে নেন কাই হার্ভাটজ। সিটির গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুমা বল নিয়ে নিজের সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের ভেতর একটু বেশিই সময় অপচয় করে ফেললেন। আর সেই সুযোগটি নিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি হার্ভাটজ।
চিতার গতিতে স্প্রিন্ট টেনে হার্ভাটজ যখন দোনারুমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, তখন ইতালিয়ান গোলকিপারের আর কিছুই করার ছিল না। হার্ভাটজের দুর্দান্ত স্লাইডিং ব্লকে বলটি সরাসরি আছড়ে পড়ে সিটির ফাঁকা জালে! চোখের পলকে ১-১ সমতায় ফিরে গানাররা।
৪৮তম মিনিটে সাড়াষি আক্রমণের শিকার হয় আর্সেনাল। রায়া যেন নিজের পরিচয়টাই প্রদর্শন করলেন একের পর এক শট ঠেকিয়ে। শেষ পর্যন্ত বারের একদমই সামনে থেকে আর্লিং হালান্ডের শটটি ছিল প্রায় নিশ্চিত গোলের। তবে রায়া ছিলেন যেন লড়াকু এক যোদ্ধা।
রায়ার পর বীরত্ব দেখালেন ম্যানচেস্টার গোলকিপার। শাপমোচনও হলো তার! মিডফিল্ডে এজে এবং ওডেগার্ডের দারুণ মেলবন্ধনে বল পান হার্ভাটজ। একদম কাছ থেকে শট নিয়েছিলেন এই আর্সেনাল ফরোয়ার্ড—যা হতে পারত প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণী গোল। কিন্তু চিতার মতো ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে গোললাইন থেকে বল রুখে দেন দোনারুমা!
কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পোস্টে লেগে ফিরে আসে বল। অল্পের জন্য গোল পেল না আর্সেনাল! বক্সের ঠিক বাইরে ওডেগার্ডের পাস থেকে বল পান এজে। নিখুঁত দুটি টাচে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে পোস্টের নিচের বাঁ কোণ লক্ষ্য করে বুলেট গতির এক নিচু শট নেন তিনি। দুর্ভাগ্য গানারদের। বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ইতিহাদে হঠাৎ করেই যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে আর্সেনাল। আক্রমণের পর আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে সিটি ডিফেন্স।
মিনিট দুয়েক পর হলান্ড লিড উপহার দেন ম্যানসিটিকে। দোনারুমার হাত দিয়ে ছুঁড়ে মারা বল নিয়ে ছুটে যান বার্নাদো। তিনি পাস দেন এজেকে। সুযোগ বুঝে এজে বল পাঠান নরওয়েজিনা স্ট্রাইকারের কাছে। এক মুর্হূত দেরি না করে জাল কাঁপান হালান্ড। লিগে এটি তার ২৩তম গোল। শেষ পর্যন্ত এই স্কোর লাইনে শেষ হয় খেলা।
ম্যাচে ৫৯ শতাংশের মতো বল নিজেদের দখলে রেখেছ সিটি। ১৫টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে রেখেছে তারা। বিপরীতে ৯টি শটের মধ্যে তিনটি লক্ষ্যে রাখে আর্সেনাল। সিটি বড় সুযোগ তৈরি করে ৫টি। সমপরিমান সুযোগ তৈরি করে গানাররা। বড় ৪টি সুযোগ মিস করে সফরকারীরা, তিনটি স্বাগতিকরা।
No posts available.
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ‘সুপারক্লাসিকো’। রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্সের এই লড়াই ঘিরে যেমন উত্তেজনা, তেমনি রয়েছে নানা বিতর্কিত ঐতিহ্যও। এর মধ্যে অন্যতম ছিল মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বোকা জুনিয়র্সকে উদ্দেশ্য করে ‘শূকর’ প্রদর্শনের ঘটনা।
এক সময় রিভার প্লেটের মাঠে সুপারক্লাসিকো মানেই ছিল প্রতিপক্ষকে উসকে দিতে নানান অভিনব কাণ্ড। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমদিকে জীবন্ত শূকর মাঠে ছেড়ে দেওয়া হতো, পরে তা রূপ নেয় বিশাল ফোলানো (বেলুনাকৃতির) শূকরের প্রতীকী প্রদর্শনীতে। শূকরগুলোর গায়ে পরানো থাকত বোকা জুনিয়র্সের নীল-হলুদ জার্সি।
এই বিতর্কিত প্রথার সূচনা হয়েছিল মূলত বোকা জুনিয়র্সের এক খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে। ১৯৭৫ সালের এক ম্যাচে রিভার সমর্থকেরা একটি শূকর মাঠে ছেড়ে দেয়, যার গায়ে ছিল ১০ নম্বর জার্সি। তখনকার বোকা মিডফিল্ডার ওসভালদো পতোতা পোটেন্তের জার্সি নম্বর। ধারণা করা হয়, এটি ছিল ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে করা এক প্ররোচনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পুরো বোকা জুনিয়র্স দলকে লক্ষ্য করে সাধারণ প্রতীকে পরিণত হয়।
সত্তরের দশক থেকে শুরু হয়ে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত এই প্রবণতা বিভিন্ন সময় দেখা গেছে। কখনো জীবন্ত শূকর, কখনো ব্যানার কিংবা প্রতীকী উপস্থাপনা—সবই ছিল প্রতিপক্ষকে বিদ্রূপ করার অংশ। তবে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে ধীরে ধীরে সমালোচনা বাড়তে থাকে, বিশেষ করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার কারণে।
এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। ১৯৯২ সালে একটি ম্যাচে শূকর মাঠে নিক্ষেপের ঘটনায় কয়েকজন সমর্থককে গ্রেপ্তারও করা হয়। তারপর ধীরে ধীরে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারের প্রবণতা কমে আসে।
সবশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ২০১২ সালে। সে সময় জীবন্ত প্রাণীর বদলে একটি বিশাল ফোলানো শূকর স্টেডিয়ামে উড়ানো হয়, যা বিখ্যাত সংগীতদল পিংক ফ্লয়েডের কনসার্টে ব্যবহৃত ভাসমান শূকরের আদলে তৈরি করা হয়েছিল। ম্যাচের আগে সেটি স্টেডিয়ামের একাংশে ভাসিয়ে রাখা হয়, যা নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দেখা যায়।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই ফোলানো শূকরটিও পুলিশ জব্দ করে নিয়ে যায় এবং কেউ তা আর ফেরত নিতে আসেনি। এর মাধ্যমে এক অর্থে শেষ হয় এই বিতর্কিত ‘ঐতিহ্য’।
বর্তমান সময়ে ফুটবলে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর দেখা যায় না। তবু অতীতের এই ঘটনাগুলো সুপারক্লাসিকোর উন্মাদনা ও অদ্ভুত সব প্রথার এক ভিন্ন অধ্যায় হিসেবে এখনও আলোচিত।
আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথ ‘সুপারক্লাসিকোয়’ আজ লড়াইয়ে মাঠে নামছে রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্স। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে এবং ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের চালু করা ‘ক্রীড়া ভাতা’ কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে ১৭১ জন খেলোয়াড়কে এই ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ সরকারের এই বিশেষ সুবিধার আওতায় এলেন।
পল্টনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৭১ জন খেলোয়াড়ের হাতে আজ রোববার ক্রীড়া কার্ড ও এক লাখ টাকা করে ভাতা তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এই ধাপে সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের ৩৬ জন সদস্য।
ভাতা পাওয়ার পর নিজেদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয় দলের তারকা ফুটবলাররা। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রতি চার মাস অন্তর এই ভাতার তালিকা হালনাগাদ করার যে নিয়ম করা হয়েছে, সেটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তারা।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই মাসিক ভাতার আওতায় আনা হবে। গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২৯ জন খেলোয়াড়ের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন।

আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথ ‘সুপারক্লাসিকোয়’ আজ লড়াইয়ে মাঠে নামছে রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্স। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।
দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তীব্র লড়াইয়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। রিভার প্লেট টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে, কোচ এদুয়ার্দো কৌদেত দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলটি হারেনি। বোকা জুনিয়র্সও রয়েছে দারুণ ছন্দে, তাদের টানা ১২ ম্যাচে হার নেই।
দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব প্রতিযোগিতায়ও ভালো করছে রিভার। কনমেবল সুদামেরিকানায় সবশেষ ম্যাচে তারা ভেনেজুয়েলার ক্লাব কারাবোবোকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে এই ম্যাচে চোটের কারণে দলটি পাচ্ছে না মিডফিল্ডার ফাউস্তো ভেরা ও কলম্বিয়ান তারকা হুয়ান ফের্নান্দো কুইন্তেরোকে। ভেরার অনুপস্থিতিতে একাদশে জায়গা পেতে পারেন তরুণ হুয়ান ক্রুস মেসা।
আক্রমণভাগে ফাকুন্দো কোলিদিও ও সেবাস্তিয়ান দ্রিউসির খেলা প্রায় নিশ্চিত। আক্রমণভাগের আরেকটি পজিশন নিয়ে লড়ছেন ইয়ান সুবিয়াব্রে ও কেন্দ্রি পায়েজ, যেখানে তরুণ সুবিয়াব্রে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।
কনমেবল লিবার্তাদোর্সে বোকা জুনিয়র্স সবশেষ ম্যাচে বার্সেলোনা এসসিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে এবং নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করেছে। তবে বড় ধাক্কা হিসেবে গোলরক্ষক আগুস্তিন মার্চেসিনের গুরুতর চোটে ছিটকে যাওয়ায় এই ম্যাচে গোলবার সামলাবেন লিয়ান্দ্রো ব্রেই।
কোচ ক্লাউদিও উবেদা সাধারণত তাঁর মূল একাদশের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই মাঠে নামাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুপারক্লাসিকোর আগে সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ডার্বি ম্যাচগুলোয় বোকা জুনিয়র্সের পারফরম্যান্স। শেষ ১২টি ডার্বির মধ্যে তারা জিতেছে মাত্র একটিতে। ডার্বিতে খেলেছে রিভার প্লেট, রেসিং ক্লাব, ইনদেপেন্দিয়েন্তে ও সান লরেঞ্জোর বিপক্ষে। তবে দারুন ব্যাপার রিভার প্লেটেরে বিপক্ষে সবশেষ দেখায় ২-০ গোলে জিতেছিল বোকা।
সুপার ক্লাসিকোয় দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
রিভার প্লেট
গোলকিপার: সান্তিয়াগো বেলত্রান
ডিফেন্ডার: গনসালো মন্তিয়েল, লুকাস মার্তিনেস কুয়ার্তা, লাউতারো রিভেরো, মার্কোস আকুনিয়া
মিডফিল্ডার: আনিবাল মোরেনো, হুয়ান ক্রুস মেসা, তোমাস গালভান
ফরোয়ার্ড: ইয়ান সুবিয়াব্রে বা কেন্দ্রি পায়েজ, ফাকুন্দো কোলিদিও, সেবাস্তিয়ান দ্রিউসি
বোকা জুনিয়র্স
গোলকিপার: লিয়ান্দ্রো ব্রেই
ডিফেন্ডার: মার্সেলো ওয়েইগান্দ, লাউতারো দি লোলো, আইর্টন কোস্তা, লাউতারো ব্লাঙ্কো
মিডফিল্ডার: লিয়ান্দ্রো পারেদেস, মিলতন দেলগাদো, সান্তিয়াগো আসকাসিবার, তোমাস আরান্দা
ফরোয়ার্ড: মিগেল মেরেন্তিয়েল, আদাম বারেইরো

প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে হেরে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে গেছে লিভারপুল। তবে এই হারকে ইতিবাচকভাবে দেখতে চাইছেন অল রেডদের প্রধান কোচ আর্নে স্লট। তিনি বিশ্বাস করেন, ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর থেকে বিদায়ের ফলে এখন প্রিমিয়ার লিগে তাঁর দলের ফর্ম আরও উন্নত হতে পারে।
গত মঙ্গলবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে ইউয়েফার এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় অল রেডরা। লিগের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচ থেকে লিভারপুল মাত্র ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে, যদিও গত সপ্তাহে ফুলহ্যামের বিপক্ষে তারা জয় পেয়েছে।
স্লট যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন, কিন্তু ডাচ কোচ মনে করছেন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক চাপ কমবে, যা তাদের জন্য কল্যাণকর হতে পারে। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের মধ্যে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ভার্জিল ফন ডাইক (৪,৪০১ মিনিট) এবং ডোমিনিক সোবোসলাই (৪,১৯৬ মিনিট) সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে ছিলেন। এমনকি সর্বাধিক সময় খেলা শীর্ষ ১৫ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় চেলসির পরেই (৪ জন) লিভারপুলের সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় (৩ জন) রয়েছে।
আর্নে স্লট বলেন,
‘চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি মিনিট মাঠে থাকা ১৫ বা ২৫ জন খেলোয়াড়ের দিকে তাকালে দেখবেন, তাদের অনেকেই আমাদের দলের। এটি অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়, হয়ত এটিই আমাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা না থাকার অন্যতম কারণ। কেন আমরা শেষ মুহূর্তে এত গোল হজম করছি, তার কারণও হতে পারে একই খেলোয়াড়দের বেশি সময় মাঠে থাকা।’
‘সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আর না থাকাটা হয়ত ভালো। তবে আমি অবশ্যই ইউরোপে খেলা চালিয়ে যেতে পছন্দ করতাম। কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে খেলা পুরো দলকে ভিন্ন শক্তি জোগায়। আমি এই বাদ পড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি না, তবে এটিই এখন বাস্তবতা এবং এখন আমরা অনুশীলনের জন্য কিছুটা বেশি সময় পাব।’
যোগ করেন লিভারপুল কোচ।
আজ রাতে হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো এভারটনের মুখোমুখি হবে লিভারপুল। ১৩৩ বছর ধরে এভারটনের হোম গ্রাউন্ড ছিল গুডিসন পার্ক। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তারা হিল ডিকিনসনকে নিজেদের হোম মাঠ বানিয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ৬১টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ৫৯টিতেই জয়ের রেকর্ড আছে লিভারপুলের। আজকের ম্যাচে জিতলে তারা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দল হিসেবে ৬০টি ভিন্ন স্টেডিয়ামে জয়ের কীর্তি গড়বে।
এভারটনের বিপক্ষে গত দুটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেই জিতেছে লিভারপুল। যদিও দুটি জয়ই এসেছিল নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে। এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে টানা তিনটি মার্সিসাইড ডার্বি জয়ের রেকর্ড গড়েছিল তারা।

মাঠের বাইরে ভিন্ন এক উদ্যোগে নজর কাড়ছেন বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালা। এই মিডফিল্ডার শিশুদের জন্য নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরে দুটি বই রচনায় যুক্ত হয়েছেন।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের প্রতিবেদন, মুসিয়ালা সাংবাদিক জুলিয়েন উলফের সঙ্গে যৌথভাবে দুটি শিশুতোষ বই লিখেছেন। বই দুটির নাম ‘আমার ফুটবল যাত্রার শুরু’ এবং ‘বায়ার্নে আমার পথচলা’। এগুলো প্রকাশ করেছে ওয়েটিঙ্গার।
প্রতিটি বইয়ের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ইউরো। সাত বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে বই দুটি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশু পড়তে একটু অসুবিধা বোধ করে, তাদের কথা মাথায় রেখে বড় অক্ষর ও ছোট ছোট অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছে বইগুলো।
বইয়ে ২৩ বছর বয়সী মুসিয়ালা নিজের শৈশব, ফুটবলে শুরুর দিন এবং মিউনিখে প্রথম সময়গুলোর নানা অভিজ্ঞতা সহজ ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। গল্পগুলোকে আরও প্রাণবন্ত করতে কমিক ধারার উপস্থাপনাও রাখা হয়েছে।
সাধারণত ফুটবলারদের আত্মজীবনী প্রকাশ পায় ক্যারিয়ারের শেষভাগে বা অবসরের পর। তবে ক্যারিয়ারের মাঝপথেই নিজের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিশুদের জন্য তুলে ধরা—এটি তুলনামূলকভাবে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এমন সৃজনশীল কাজে যুক্ত হয়ে মুসিয়ালা নতুন এক পরিচয়ে হাজির হলেন। তরুণ এই তারকার উদ্যোগটি পাঠকমহলে কেমন সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার ব্যাপার।